>>তুমি ছুঁয়ে দিলে আমায়<<
Writter: #Rifatul_Islam_Siam
- এক্সকিউজ মি ম্যাম
> Yes
- জানালার পাশের সিটটা আমার
> তো কি?
- তো আপনি যদি এই পাশে বসেন
তাহলে খুব ভাল হয়
> দেখুন মিস্টার
আমি আগে বাসে ঊঠেছি,
তাই আগে সিট দখল করেছি,
আর আপনি
পরে এসে আপনার সিট বল্লেই হলো?
.
- আজব
আমার সিটে আমাকে বসতে দিবেন না?
> সিটে কি কারো নাম লেখা আছে?
- সিটে না তবে
টিকেটে লেখা আছে
> কই দেখি
- ওয়েট
*
ছেলেটি
অনেক খোজার পরেও টিকেটে
পেলোনা,
মেয়েটি বলল,
> কই টিকেট?
- মনে হয় বাসাতে ভূলে ফেলে এসেছি
> চাপাবাজি তাইনা?
- বিলিভ মি
আমি দুইদিন আগে টিকেট কেটেছিলাম
বাট ভূলে রেখে এসেছি
> হয়ছে
এখন আপনাকে এই পাশে
বসতে হবে,
নতুবা টিকেট না থাকার দায়ে,
কনটাক্টরকে ডেকে
আপনাকে নামিয়ে দেবো
.
- এই না না প্লিজ ম্যাডাম
এমনটা করবেন না,
আমার পাবনায় একজনের বাসায় যাওয়া খুব জরুরী
আমি এই পাশের সিটেই বসছি
> এইত গুড বয়
- শালি আমার (চুপিচুপি)
> কি বললেন? (রেগে)
- না ইয়ে মানে আমার চাচাতো ভায়ের
শালির অসুখ তো তাই দেখতে যাচ্ছি বল্লাম।
হেহেহে
> স্টুপিড
.
যাইহোক
পরে ছেলেটি মেয়েটির
পাশের সিটে বসে পড়লো।
.
ছেলেটি আড় চোখে
তাকিয়ে দেখলো
মেয়েটি সেই সুন্দরী. . .
এবার ছেলেটি
হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
- হাই আপনার সাথে
পরিচিত হই,
আমি মোহান। আপনি?
> আমি কেন
আপনার সাথে পরিচিত হবো?
- না মানে
দুজনে একই সাথে বসেছি,
তাছাড়া একসাথেই
জার্নি করছি তাই বল্লাম আর কি
> নো নিড
- ওকে ছরি
বাট আপনার নামটা তো বলবে
> প্রয়োজন মনে করছিনা
- এজন্যই লোকে বলে সুন্দরী মেয়েদের
অহংকার বেশি (চুপচুপি বলল)
> কিছু বললেন?
- নাহ
*
এমন এময়
মেয়েটি কোথাও ফোন দিচ্ছিলো,
ওপাশ থেকে ফোনটা
রিসিভ করেই,
> হ্যালো কে?
> হ্যালো আন্টি আমি মিতু,
বাবা মা আপু পৌছেছে?
> হ্যা কিন্তু তুই কোথায় মা?
> এইত আন্টি
আর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই পৌছে যাব।
> আচ্ছা সাবধানে আয়
*
কথা বলা শেষ হলে
ছেলেটি বলল,
- তাহলে আপনার নাম মিতু
> নাম জানার জন্য ওত পেতে
ছিলেন তাইনা?
- হাহাহা
> ছ্যাছড়া ছেলে
- কি বল্লেন?
> ঠিকি বলেছি Huh
- আপনি না পাবনায় যাচ্ছেন?
তো পাবনার মেন্টালে ভর্তি হইয়েন ওকে?
> স্যাট আপ
আপনি গিয়ে ভর্তি হন
- আমি আপনার মতো এত হট টেম্পারি আর বদমেজাজি না
> কি বল্লেন আপনি?
আমি বদমেজাজি?
- Yes Mam
> আপনাকে আমি . . .
- কি
> আপনার মুন্ডু
- হা হা হা
*
দুজনে চুপচাপ
হঠাত মেয়েটি বলল,
> আচ্ছা
আপনি কিভাবে জানলেন আমি
পাবনা যাচ্ছি?
- সিম্পল,
পাবনা না গেলে কি আর পাবনার
বাসে ওঠেন?
> হুম
- তা কোথায় যাচ্ছেন বলবেন না?
> জীবনেও না
- বাই দ্য ওয়ে,
আপনি কিন্তু অনেক সুন্দরী
> সরি
আমার বয়ফ্রেন্ড আছে
- মানে?
> বলছি আমাকে
ইমপ্রেস করে লাভ নেই,
আমার বয়ফ্রেন্ড আছে
- তাই
তা কি করে আপনার বিএফ
> তা আপনাকে বলবো কেন?
- আচ্ছা আপনি এমন কেন?
> কেমন?
- রগচটা
> জী আমি এমনি,
এবার দয়া করে চুপ থাকুন।
*
যাইহোক
মোহানের মনটা খারাপ
হয়ে গেলো।
আসলে সুন্দরী মেয়েরা কখনও
সিংগেল থাকেনা,
সে ভাবছিল মেয়েটির সাথে প্রেম
করবে বাট
তা আর হলোনা।
*
এদিকে মিতুও
বুঝতে পারলো যে,
তার বিএফ আছে বলাতে, ছেলেটি
হার্ট হয়েছে,
আসলে মিতুর কোনো বিএফ নেই,
মোহান তাকে বিরক্ত করছিলো,
তাই বলেছে যে তার বিএফ আছে।
.
মোহানের গোমরা মুখ দেখে,
এবার মিতু
মুখে হাত দিয়ে হাসছে।
আর ভাবছে,
চান্দু মিঞা প্রোপোজ করার আগেই ছ্যাকা খেলো
*
যাইহোক
এদিকে মোহান ভাবছে,
সুন্দরি মেয়ের বিএফ থাকতেই পারে,
এতে মন খারাপ করার
কিছু নেই,
তাই বলে কি সে কথা বলা বন্ধ রাখবে?
.
পরে মোহান
মেয়েটির সাথে কথা বলার জন্য
তার দিকে তাকাতেই দেখলো,
মিতু সিটে হেলনা দিয়ে
ঘুমিয়ে পড়েছে,
কি অপূর্ব লাগছে তার
ঘুমন্ত মুখখানা . . .
মায়াবী চোখ, গোলাপের পাপড়ির মতো ঠোট আর চাদের মত মুখ
.
মোহান অবাক
দৃষ্টিতে মিতুকে দেখছে
হঠাত মিতুর ঘুম ভেঙ্গে গেলো
> এই যে মিষ্টার
কি দেখেন এভাবে?
- আপনাকে
> What?
- না মানে বাইরের প্রকৃতি
> তা আমার দিকে
তাকিয়ে কেন?
- ভাবছি
> কি?
- আপনি কানে এত বড় লম্বা দুল পড়েছেন কেন?
> কেন প্রোবলেম কি?
- যদি কান ছিড়ে পড়ে যায়?
> সে চিন্তা আপনার করতে হবেনা
- ওকে
> আচ্ছা আপনি এসব
ফালতু কথা বন্ধ করবেন?
- ওকে করলাম
> দয়া করে এবার একটু মুখটা
বন্ধ রাখুন
- ওকে ছরি
*
দুজনে এবার চুপচাপ
দ্রত গতিতে বাস এগিয়ে চলছে,
জানালা দিয়ে বাতাস এসে,
মিতুর খোলা চুল গুলো উড়িয়ে নিয়ে
মোহানের মুখ
স্পর্শ করাচ্ছে।
মোহান মিতুর চুলের মিষ্টি ঘ্রাণে যেন পাগলপারা।
.
বিষয়টা দেখে
মিতু বলল,
> এটা কি হচ্ছে?
- কি হচ্ছে?
> এখানে কি সিনেমার সুটিং হচ্ছে?
- হাহাহা
আপনার চুল যদি উড়ে আমার মুখে এসে
পড়ে তাতে আমার কি?
ফুলের সুভাস কে না নিতে চায়?
> আহা
বিয়ে করে তারপর যত পারেন
নিয়েন
- ফ্রি পেলে আর বিয়ে করার
কি দরকার
.
মিতু এবার
রেগে গিয়ে জানালাই বন্ধ করে দিলো।
এতে মিতুর খোলা চুল উড়া বন্ধ হলো
.
- এই এই এটা কি করলেন?
> বেশ করেছি
আপনি অনেক শয়তান
- হাহাহা
আমার পরিবারের সবাই তাই
বলে
> একদম হাসবেন না,
আপনার হাসিতে গা জ্বলে
- তাহলে পানি ঢেলে দিই?
> উফ আল্লাহ!
কার পাল্লায় যে পড়লাম আজ
- মোহানের পাল্লায়
> আর একটা কথা বললে,
আপনাকে আমি খুন করবো
.
মোহান আর ভয়ে কথা বললো না।
এদিকে
কন্টাক্টর এসে টিকেট চাইলো।
টিকেট দেখাতে না পারায়,
মোহানকে ডাবল ভাড়া দিতে হলো।
*
যাইহোক
বাস দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে,
একটুপর
ছোট একটা দুর্ঘটনা ঘটলো,
বিপরীতমুখী একটা ট্রাক কন্টোল হারিয়ে,
বাসের ডান সাইডে,
আঘাত করলো,
ভাগ্যিস হালকা ভাবে আঘাত লাগাতে, বাসের মধ্যে যাত্রীরা হালকা
আঘাত পেলো,
ড্রাইভার কোনোভাবে বাসটিকে কন্টোল করে, খাদে পড়া থেকে বাচালো।
*
মিতু ছিটকে বাম সাইডে
পড়ে যাচ্ছিল,
তখনই মোহান তাকে ধরে ফেললো,
মিতু অনেকটা ভয়
পেয়ে গেছে।
.
এদিকে
বাসের মধ্যে পেছনে চিৎকার
শুরু হলো,
মোহান আর মিতু পেছনে
গিয়ে দেখলো,
এক বৃদ্ধ লোক আঘাত পেয়ে
তার হার্টবিট প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
মিতু বলল
> প্লিজ আপনারা সরুন
আমি দেখছি,
.
মিতু এবার বৃদ্ধ লোকটির হাত চেপে ধরে পালস্ চেক করে বলল,
> ভয়ের কিছু নেই
এখনই সব ঠিক হয়ে যাবে
.
কথাটি বলেই মিতু
বৃদ্ধ লোকটির বুকে হাত দিয়ে কয়েকবার চাপ দিতেই,
বৃদ্ধ লোকটির জ্ঞান ফিরে এলো।
.
এবার মিতু
ব্যাগ থেকে কিছু ট্যাবলেট বের করে
বৃদ্ধ লোকটিকে খাইয়ে দিলো।
সবাই মিতুর প্রশংসা করতে লাগলো
.
পরে মিতু
নিজের সিটে গিয়ে বসল।
মোহান বল্ল
- আচ্ছা আপনি কি ডক্তর?
.
মিতু উত্তর দিতে যাবে,
ঠিক তখনই লক্ষ্য করে দেখল,
মোহানের আঙুল কেটে রক্ত বের হচ্ছে।
.
> আরে আরে আপনার আঙুল কেটে রক্ত বের হচ্ছে তো?
- হোক
> হোক মানে?
পাগল আপনি? দেখি আমি ব্যান্ডেজ করে দিই
- না
> না কেন?
- আগে আপনি আমার প্রশ্নের উত্তর দেবেন, তারপর ব্যান্ডেজ,
নতুবা সব রক্ত বের হয়ে যাক
> আচ্ছা কি প্রশ্ন বলুন
- আপনি কি ডাক্তার?
> হ্যা
পাবনার সরকারী হাসপাতালে আমার
পোষ্টিং হয়েছে
- তো সরাসরি কি এখন হাসপাতালেই যাচ্ছেন?
> না
- তাহলে?
> আমার কাজিনের বিয়ে শেষ করে,
জয়েন্ট করবো
- ওহ
তো আপনি কি একাই যাচ্ছেন বিয়েতে?
> হুম
আমার বাবা মা আপু আগে চলে গেছে
- তো আপনি এখন একা একা যাচ্ছেন যে?
> আসলে একটা কাজে আটকে গেছলাম তাই
- ওহ তো
আপনার বিএফ কি করে?
.
মিতু এবার মুচকি হেসে বলল,
> সরি আমার বিএফ নেই,
তখন বিরক্ত হয়ে বলেছিলাম
- ইয়েএএএ
> এতে খুশি হবার কি আছে?
আমি কারো সাথে প্রেম করবো না।
আর ভূলেও আমার প্রেমে পড়বেন না।
- হাহাহা
ব্যান্ডেজ করে দিন এবার
*
পরে মিতু
মোহানের আঙুল ব্যান্ডেজ করে দিল
আর একটা ইনজেকশান
লিখে দিয়ে বলল,
> বাস থেকে নেমে ইনজেকশানটা করিয়ে নিবেন
- ওরে বাবা
> কি হলো
- আমি ইনজেকশান ভয় পাই
> হিহিহি
আপনি দেখছি মেয়েদের থেকেও
বেশি ভীতু
হিহিহি
- আপনার হাসিটা অনেক সুন্দর
> মিতু লজ্জা পেলো
*
- থ্যাংক্স মিতু
> কেন?
- ব্যান্ডেজের জন্য
> আপনিও তো আমাকে তখন
আঘাত থেকে বাচিয়েছেন
আপনাকেও থ্যাংক্স
.
পরে দুজন
বাস থেকে নামলো।
যাবার সময়,
মোহান বলল,
- আপনার ফোন নাম্বারটা
দেয়া যাবে?
> এজন্য লোকে বলে
মানুষকে প্রশয় দিতে নেই, তাহলে মাথায় ওঠে
- ছরি ছরি লাগবেনা
বাই
আবার দেখা হবে।
*
দুজনে দুদিকে চলে গেলো।
মোহান প্রথম দেখাতেই মিতুকে ভালবেসে ফেলেছে।
যে করেই হোক মিতুকে তার চাই ই চাই।
.
যাইহোক
মোহান প্রতিদিন হাসপাতালে গিয়ে খোজ নেই,
কবে মিতু জয়েন্ট করবে,
কবে তাকে ভালবাসার কথাটা বলবে।
.
১ সপ্তাহ পর
মিতু হাসপাতালে জয়েন্ট করলো।
দুর থেকে মোহান মিতুকে দেখে খুশিতে ফেটে পড়লো।
.
পরে মিতু
তার কেবিনে এক এক করে রোগী দেখছে . .
মিতু বলল,
> Next রোগী আসুন
.
মোহান প্রবেশ করতেই
মিতু বলে উঠলো,
> আরে আপনি
কি সমস্যা আপনার?
- ডাক্তার আমি না আপনি হ্যা?
কি সমস্যা সেটা আপনি জানেন
> ও তাইনা?
হ্যালো নার্স
> জী ম্যাম
> ইনাকে OT তে নিন, ইনার দুটো কিডনী নষ্ট হয়ে গেছে
.
মোহান এবার বলল
- এ.এ.এসব কি ব.ব.ব.বলছেন ম্যাডাম? আমার কিডনি নষ্ট হয়নি
> একদম চুপ
ডক্তর আমি না আপনি?
.
> নার্স,
মোটা সুচের গরুর ইনজেকশানটা বের করুন .
মোহান ছুটে পালাতেই
মিতু কলার ধরে বলল
> আরে আরে পালাচ্ছেন কই?
- আমাকে ছেড়ে দিন ম্যাম, আমার অপারেশন করা লাগবেনা,
আ.আ.আ.আমি ঠিক আছি
> তাহলে কেন এখানে এসেছেন?
- আসলে আমার বুকের
বা পাশের হাড় নেই
> তা কই আছে শুনি
- আপনার কাছে?
> মানে?
- হ্যা ম্যাম,
আমাকে গরুর ইনজেকশান না দিয়ে,
আই লাভ ইউ ইনজেকশান দিন,
তাহলে হাড় ফিরে আসবে
.
বলেই মহান ছুটে পালালো
*
রুমের নার্স ডাক্তার সব হাসতে লাগল।
*
পরের দিন
মিতু রাস্তা দিয়ে হাটছে।
মোহান পেছন থেকে এসে, মিতুকে চমকে দিল
.
> উহ আপনি?
- হুম আমি
> কি চাই
- লাভ ইনজেকশান
> পাগল
- ফর ইউ
.
কথাটি বলেই
মোহান এক গুচ্ছ লাল গোলাপ মিতুকে দিলো।
ফুল গুলো নিয়ে
মিতু হাটতে লাগল।
.
মোহান বলল,
> এই মিতু দাড়াও
.
দৌড়ে গিয়ে
মিতুর সাথে হাটতে লাগল,
আর আলতো করে
তার হাত ধরলো।
.
মিতু কিছুই বললনা
শুধু লজ্জা পেয়ে মুচকি হেসে মাথা নিচু করে রইলো।
*
মোহান তার উত্তর
থুক্কু ইনজেকশান পেয়ে গেছে।
তাছাড়া
কিছু কথা বা উত্তর মুখে বলতে হয়না অনুভবে বুঝে নিতে হয়
*
সমাপ্ত
Home »
» তুমি ছুঁয়ে দিলে আমায়<< Writter: #Rifatul_Islam_Siam - এক্সকিউজ মি ম্যাম






No comments:
Post a Comment