Joy Bhaiya Youtube Channel

সিনিয়র বউ পর্ব ৬।Golpo Sinior Bow part 6

সিনিয়র বউ


লেখক-নাঈম আহাম্মেদ হৃদয়

পর্ব_০৬

(৫ম পর্বের পর থেকে)

আম্মুঃ না মানে তুই যদি দিয়ে আসতি তাহলে ভালো হতো।

আমিঃ আমি কিভাবে দিয়ে আসবো, অফিসের দেরি হয়ে যাবে।

আম্মুঃ হবে না, তামান্না রেড়ি আছে। প্লিজ বাবা না করিস না।

কি আর করা, আম্মুর কথা মতো তামান্নাকে নিয়ে বাসা থেকে বের হলাম। একটা CNG নিলাম, তামান্নার পাশাপাশি বসে আছি কিন্তু কোনো কথা বলছি না। তামান্না কি যেন বলবে, মুখ দেখে বুঝলাম, তারপর জিজ্ঞেস করলাম....

আমিঃ কি বলবেন?

তামান্নাঃ তোমার অফিস কখন শেষ হবে?

আমিঃ ৪.০০ টায়। কাজের চাপ থাকলে দেরি হতে পারে।

তামান্নাঃ ও আচ্ছা। একটা কথা বলতাম,,,,

আমিঃ হুম বলেন।

তামান্নাঃ তোমার অফিসে মেয়ে কলিগ আছে?

আমিঃ হুম আছে, ৫ জন আছে। ২ জন আমার পাশেই বসে।

তামান্নাঃ ও আচ্ছা। (মন খারাপ করে)

কথা বলতে বলতে তামান্নাদের বাসার সামনে চলে আসলাম, তামান্নাকে নামিয়ে দিয়ে চলে আসতে যাবো এমন সময়....

তামান্নাঃ বাসায় যাবে না?

আমিঃ না, আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।

তামান্নাঃ অফিস শেষে আসবে?

আমিঃ না, আর কারো আপমান সহ্য করবো না, এমনিতেই অনেক অপমানিত হইছি। কলেজে যাওয়াও বন্ধ করে দিছি। আপনি বাসায় চলে যান।

তামান্না কিছু একটা বলতে চাইছিলো সেদিকে না তাকিয়ে ড্রাইভারকে বললাম গাড়ি টান দিতে। তারপর সেখান থেকে সোজা অফিসে চলে গেলাম।

সারাদিন অফিস করে বিকালে আড্ডা দিয়ে বাসায় গেলাম।

আম্মুঃ কিরে তুই এখানে কেন?

আমিঃ তো কোথায় যাবো?

আম্মুঃ তুই তামান্নাদের বাসায় যাসনি?

আমিঃ আমারে কি পাগলা কত্তায় কামড়াইছে? খাবার দাও তো, এগুলো ভালো লাগছে না। তোমার কথা রাখতে গিয়ে আজকে আমার জীবনটা তেজপাতা হয়ে গেলো।

আম্মিঃ কিহ!

আমিঃ কিছু না, খাবার দাও। আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।

আম্মুঃ আচ্ছা আয়।

খাওয়া দাওয়া করে রুমে গিয়ে খাটে শুয়ে পড়লাম, আহ কি শান্তি। আজকে কতোদিন পর শান্তিতে ঘুমাবো। এতো দিন এই ফকিন্নির জন্য খাটে ঘুমাতে পারিনি। মনে হচ্ছে ২০ বছর খাটে ঘুমাই না।

শুয়ে শুয়ে গান শুনছি এমন সময় একটা নতুন নাম্বার থেকে কল আসে।

আমিঃ হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম! কে বলছেন?

ওপাশ থেকেঃ আমি!

আমিঃ আরে আমিটা কে?

ওপাশ থেকেঃ আমি তামান্না বলছি।

আমিঃ ও আচ্ছা, এটা কার নাম্বার?

তামান্নাঃ কাজিন একটার। তুমি ঠিক মতো খাইছো?

আমিঃ হুম, আপনি খাইছেন?

তামান্নাঃ হুম।

আমিঃ আপনার আম্মু কেমন আছে?

তামান্নাঃ জ্বি ভালো।

আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে রাখি, ঘুমাবো।

তামান্নাঃ ওকে।

কল কেটে দিয়ে ভাবছি হঠাৎ এতো কেয়ার নিতেছে কেন? মাইয়া মানুষের বিশ্বাস নাই। এদের মনে কখন কি চলে এরা নিজেরাই জানে না।

যাই করুক তামান্না যে আমাকে আস্তে আস্তে ভালোবেসে ফেলেছে সেটা আমি ঠিকই বুঝতে পেরেছি।

এভাবে ১ সপ্তাহ চলে গেলো, আমিও আরামে ঘুমাই, খায়দাই আর অফিস করি। তামান্নার সাথে কথা হয়না। যদি সে কল দে তাহলে জাস্ট হাই/হ্যালো ছাড়া তেমন কোনো কথা হয় না।

সেদিন অফিসে কাজ করছি এমন সময় সানি কল দিলো...

সানিঃ কিরে কি অবস্থা?

আমিঃ এই তো মোটামুটি। তোর?

সানিঃ আছি বেকার মানুষের আর কিসের অবস্থা। আচ্ছা শোন যে জন্য কল করেছিলাম।

আমিঃ হুম বল।

সানিঃ তোর ডিভোর্স পেপার রেড়ি হয়ে গেছে। আমি বিকালে নিয়ে আসবো, তুই দিঘীর পাড়ে আসিস।

আমিঃ thanks dost.

সানিঃ ধন্যবাদ দিয়ে হবে না, ট্রিট দিতে হবে।

আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে। আয়মানকে বলে দিস।

সানিঃ আচ্ছা ঠিক আছে।

যাক অবশেষে, পেপারটা রেড়ি হলো, এটা নিয়ে এতো দিন কি যে প্যারায় ছিলাম তা বলে বুঝানো যাবেনা।

বিকালে অফিস শেষ করে দিঘীর ওখানে গেলাম, সানি আর আয়মান বসে আছে।

ওদের সাথে অনেকক্ষন আড্ডা দিলাম, তারপর বাসায় আসলাম। এসে দেখি আম্মু রেগে আছে,,,

আমিঃ কি হইছে? এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?

আম্মুঃ তোর মোবাইল কই?

আমিঃ আছে তো। (পকেটে হাত দিয়ে)

যাহ শালা! মোবাইলতো বন্ধ হয়ে আছে।

আম্মুঃ তোরে কল দিলে কল যায় না কেন?

আমিঃ আম্মু চার্জ নেই, শেষ হয়ে গেছে।

আম্মুঃ টিপতে ভালো লাগে, চার্জ দিতে ভালো লাগে না???

আমিঃ আচ্ছা বাদ দাও। কেন কল দিছো।

আম্মুঃ তামান্নাকে নিয়ে আসার জন্য।

আমিঃ তো ও নিজে আসুক। আমি ওর বডিগার্ড নাকি?

আম্মুঃ এ কেমন কথা। মেয়েটা একা একা আসবে কি করে? যা নিয়ে আয়।

আমিঃ নিয়ে আসবো মানে?

আম্মুঃ হুম যা, এখন নিয়ে আয়। না হলে ঘরে জায়গা নেই তোর।

কি করা আবারও তামান্নাদের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।

ওখান এসে দেখি ৮.৩০ বাজে। কলিং বেল বাজালাম। অনেকক্ষণ পর তামান্নার আম্মু এসে দরজা খুলে দিলো।

আমিঃ আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন?

শাশুড়িঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো। তুমি কেমন আছো বাবা?

আমিঃ জ্বি আমিও ভালো আছি।

শাশুড়িঃ তামান্না উপরে আছে যাও।

ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও যাওয়া লাগলো, গিয়ে দেখি তামান্না রেড়ি হয়ে বসে আছে, আমি বললাম....

আমিঃ রেড়ি হয়েছেন?

তামান্নাঃ হুম রেড়ি। আম্মা কল করেছিলো,, তুমি এতো দেরি করলে যে?

আমিঃ অফিস থেকে আসতে একটু দেরি হয়ে গেছে। আচ্ছা চলুন।

তামান্নাঃ এখন না, খাওয়া দাওয়া করে যাবো।

আমিঃ বাসায় গিয়ে খাবো।

তামান্নাঃ না, এখান থেকে খেয়ে যাবো। আম্মু সব রান্না করে বসে আছে।

কি আর করা, খাওয়াদাওয়া করে তারপর বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। CNG তে আর কোনো কথা হয়নি। ভিতরে ভিতরে টেনশনে আছি আজ থেকে আবার শান্তি মতো ঘুমাতে পারবো না।

একটু পর বাসায় চলে আসলাম, এসে দেখি বাসার লাইট সব বন্ধ। দরজা টোকা দেওয়ার আগেই খুলে গেলো, পুরো বাসা অন্ধকার। আমি আম্মুকে কয়েকবার ডাকলাম, কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ নাই। খুব ভয় পেয়ে গেছি। কোনো অঘটন ঘটলো না তো? তামান্না ভয়ে আমার হাত ছেপে ধরে দাঁড়িয়ে রইলো। বুঝলাম ওর হাত কাঁপতেছে।

আমি পকেট থেকে মোবাইলটা বের করবো এমন সময় আমাদের দুজনকে অবাক করে দিয়ে অনেক গুলো লাইট একসাথে জ্বালিয়ে দিয়ে সানি, আয়মান, আম্মু সবাই একসাথে বলে উঠলো,,,, Happy birthday, Happy Birthday Dear Tamanna. many many returns of day.

আমি তো পুরা টাসকি খেয়ে গেলাম, এগুলো কে করলো? কখন করলো, কিভাবে করলো? আমি তো এই ২ ঘন্টা আগেই বাসায় ছিলাম, তখন তো তেমন কিছুই ছিলো না।

আমি ভাবছি আর তামান্না আম্মুকে বললো....

তামান্নাঃ আম্মু আপনি কি করে জানলেন আজকে আমার জন্মদিন? আর এতো কিছু কে করেছে?

সবাই একসাথে আমাকে দেখিয়ে দিলো, আমি আরো একটা টাস্কি খেলাম।

যাইহোক সবাই মিলে কেক কাটলাম, তামান্না প্রথমে আমাকে খাইয়ে দিলো, আমিও খাইয়ে দিলাম। একে একে সবাই খাওয়া দাওয়া করে অনেক মঝা করলাম। সানি আর আয়মান তামান্নাকে অনেক গুলো গিফট দিলো, আম্মু একটা রিং দিলো। বাকী শুধু আমি আছি। সানি হঠাৎ করে বললো,,, জুয়েল তার গিফট কালকে সকালে দিবে। আমি নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।

পরে আমি সানি আর আয়মান ছাদে চলে গেলাম।

আমিঃ কিরে তোরা এতো কিছু কি করে জানিস?

আয়মানঃ আমরা জানতাম না, আন্টি (আম্মু) আমাদের বলেছে। আর তোকে কিছু বলতে নিষেধ করেছে।

আমিঃ ও আচ্ছা। এই সানি তুই যে বললি সকালে গিফট দিবো? কি গিফট দিবো?

সানিঃ আরে ব্যাটা তামান্না তোর কাছে ডিভোর্স চাইছে না? ডিভোর্স পেপার তো রেড়ি। সকালে দিয়ে দিবি আর এটা হবে তামান্নার জন্য সবচেয়ে বড় উপহার।

আমিঃ হুম ঠিক, চল অনেক রাত হইছে ঘুমিয়ে যাই।

আয়মানঃ হুম চল।

এরপর বাসায় চলে আসলাম, সানি আর আয়মানকে রুম দেখিয়ে দিয়ে আমি আমার রুমে গেলাম। দেখলাম তামান্না বসে বসে মোবাইল টিপতেছে। আমি যাওয়ার পর,,,,

তামান্নাঃ Thanks!

আমিঃ কেন?

তামান্নাঃ এতো বড় সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য।

আমিঃ ঘুমিয়ে যান, অনেক রাত হইছে।

তারপর বিছানা থেকে বালিশ নিয়ে সোফায় যাচ্ছি এমন সময় তামান্না বললো...

তামান্নাঃ আমার গিফট?

আমিঃ কালকে অফিসে যাওয়ার আগে টেবিলের উপর রেখে যাবো।

তামান্নাঃ ওকে, একটা কথা বলার ছিলো।

আমিঃ হুম বলেন!

তামান্নাঃ সোফায় না ঘুমালে হয় না?

আমিঃ তো কোথায় ঘুমাবো?

তামান্নাঃ খাটে ঘুমাও।

আমিঃ No Thanks. আপনি ঘুমিয়ে যান।

আর কোনো কথা না বলে ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে উঠে দেখি তামান্না আমার আগেই উঠে গেছে। আমি ফ্রেশ হয়ে ডাইনিং রুমে গিয়ে দেখি আম্মু রান্না করছে আর তামান্না সেগুলো টেবিলের উপর সাজিয়ে দিচ্ছে।

তারপর নাস্তা করে রেড়ি হয়ে, ডিভোর্স পেপারটা হাতে নিলাম। অনেক কষ্ট হচ্ছে সাইন করতে, অনেক ভালোবেসে ফেলেছি মেয়েটাকে। কিন্তু কিছু করার নাই, হয়তো সে অন্য কারো কাছে আমার থেকেও বেশি ভালো থাকবে। আমি চাই সে সব সময় ভালো থাকুক। মনকে শক্ত করে সাইনটা করে দিলাম। আরো ছোট একটা চিরকুট লিখলাম।

"" আজকে আপনাকে মুক্ত করে দিলাম, আপনার জন্মদিনে আপনার বেস্ট চাওয়াটাই আমি পূরণ করার চেষ্টা করেছি। আশা করি আপনি সাইনটা করে দিবেন। অনেক বেশি ভালো থাকবেন। আল্লাহ যেন আপনাকে অনেক ভালো রাখে সেই দোয়াই রইলো""

চিরকুট আর ডিভোর্স পেপার টেবিলের উপর রেখে চলে গেলাম।
তারপরেই.....

চলবে.....

সবাই মুনাজাত ধরেন গোসল করতে জাইতেছি বেছে থাকলে পরবতী পর্ব দিবো আমর জন্য একটু  দুআ করুন

আগের পর্ব এই গ্রুপে দেওয়া হয়েছে
https://www.facebook.com/groups/3279333408804494/
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label