Joy Bhaiya Youtube Channel

পাশের বাড়ির মেয়ে

পাশের বাড়ির মেয়ে


----সকালে বুকের উপর ভারী কোন কিছুর

চাপে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেলো।

চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি কেউ

একজন আমার বুকের উপর শুয়ে আছে।

আমি কি স্বপ্ন দেখছি নাকি এটা

বাস্তব? কে হতে পারে?

ভূত নয় তো আবার!!!

না না ভূত না পেত্নী হবে,,

ভূত তো ছেলে হয়।

কিন্তু যে আমার বুকের

উপর শুয়ে আছে সেটা তো একটা

মেয়ে।

মেয়ে বুঝতে পারছি এই কারণে যে

তার লম্বা চুলে তার মুখটা ডাকা।----

তারপর আমি ভালো করে চেয়ে দেখি

রুপন্তী আমার বুকের উপর শুয়ে আছে।

কিন্তু ও এখানে?

আরো গল্প পড়ুন:গল্প বাড়িওয়ালার রাগী মেয়ে Balobasar Golpo Bariwalar Ragi meye
ওর তো এখানে থাকার কথা না।

ও ত তার বাপের বাড়িতে থাকার কথা।

এখানে কিভাবে আসলো?

আসছে যখন ভালোই হয়েছে।

কি সুন্দর করে আমার বুকের উপর মাথা রেখে

ঘুমুচ্ছে,আমি একটুও নড়তে পারছি

না,নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে

আমার।

Share:

বাংলার সেরা গল্প কিশোরী বউ। Bangla Golpo KISHORI bou

......কিশোরী বউ......
------------------------------
S A Shahinul Akash

ভাইয়া আমার না তুমাকে অনেক ভালো লাগে তুমি আমাকে বিয়ে করবে..
বলে কি এই মেয়ে মাত্র ক্লাস এইটে পড়ে আর এই মেয়ে আমাকে বলে কিনা ভাইয়া আমাকে বিয়ে করবে  আল্লহ আমাকে তুইলা নাউ না কেনোকি কি জিনিস তুমি জানো  আমার এতো জানতে হবে না এই পিচ্চি মেয়ের কথা শুনে আমার হার্ট অ্যাটাক করার অবস্থা
আগে আমার পরিচয় টা দিয়ে নেই আমি আকাশ আব্বু আম্মুর একমাত্র ছেলে। আমি পড়াশুনা শেষ করে আব্বুর ব্যবসা দেখা শুনা করছিআর জার সাথে কথা বলছিলাম অর নার প্রিয়া আমাদের পাসের বাসায় থাকেএবার ক্লাস এইটে পড়ে আমার আম্মু প্রিয়া অনেক আদর করে তার জন্য আমি কিছু বললেই আম্মুর কাছে বলে দিবে তার জন্য কিছু বলতেও পারি না প্রিয়া দেখতে অনেক কিউট একদম পরির মতো জেনো একটা পরির বাচ্চা।।

প্রিয়াঃকি হলো বলো না ভাইয়া আমাকে বিয়ে করবে না......
আমিঃ দেখ প্রিয়া তুই আগে বড়ো হয়ে নে তার পর ভাববো
প্রিয়াঃনা আমার এখনি উত্তর চাই
আল্লাহ রসি ফালাও আমি উপরে উঠে যাই। কি যুগ  আসলো এই পিচ্চি পিচ্চি বাচ্চা কাচ্ছা পুলাপান ও এসে বলছে ভাইয়া আমাকে বিয়ে করবা..
প্রিয়াঃকি হলো ভাইয়া বলছো না কেনো
আমিঃ কি বলবো...
প্রিয়াঃএই যে তুমি আমাকে বিয়ে করবা নাকি না
আমিঃআপু আমি তো তুমাকে বিয়ে করতে পারবো না
প্রিয়াঃকেনো ভাইয়া তুমার গার্ল ফ্রেন্ড আছে নাকি
আমিঃ এই তুই গার্লফ্রেন্ড এর কি বুজিস
প্রিয়াঃসবি বুঝি এখন বলো কি কারনে আমাকে বিয়ে করবে না
আমিঃআসলে তুই এখনো ছোট তো তাই বিয়ে করতে পারবো না।
প্রিয়া কান্না করছে। কি রে তুই কান্না করছিস কেনো
প্রিয়াঃতুমি আমাকে বিয়ে করবা না তাই তো হ্যা!!
প্রিয়াঃআমি এখনি আন্টির কাছে গিয়ে বলে দিবো। আমার আম্মুর কথা বলছে আচ্ছা জা বল।
প্রিয়া চলে গেছে  আর আমি শুয়ে আছি
প্রিয়া কান্না করতে করতে আম্মুর কাছে চলে গেলো আম্মুঃকি হয়েছে আমার প্রিয়া মা কেউ কি বকেছে?

প্রিয়াঃনা
আম্মুঃতা হলে আমার মা টা কান্না করছে কেনো
প্রিয়াঃতুমার ছেলের নামে বিচার আছে
আম্মুঃকি বিচার আকাশ কি করেছে
প্রিয়াঃআগে আমাকে বলো তো আমি কি ছোট নাকি
আম্মুঃনা আমার আমার প্রিয়া মা অনেক বড়ো। কেনো মা আকাশ কি তকে কিছু বলেছে নাকি
প্রিয়াঃআমি তুমার ছেলেকে বলছি ভাইয়া তোমাকে আমার অনেক ভালো লাগে আমাকে বিয়ে করবে
আম্মু প্রিয়ার কথা শুনে হেসে গরাগুরিখাউয়ার অবস্থা
প্রিয়াঃআন্টি তুমি হাসছো কেনো।আমি কি কিছু ভূল বলেছি নাকি
আম্মুঃনা তো মা তুই তো ভুল বলিস নি। তা আকাশ কি বললো
প্রিয়াঃতুমার ছেলে বলে কিনা তুই তো এখনো পিচ্চি আমি তর মতো পিচ্চি কে বিয়ে করতে পারবো না
আম্মুঃআচ্ছা আমি আকাশ কে বলে দিবো
প্রিয়াঃনা তুমি আমার সাথে এসে তুমার ছেলেকে বলবে
আচ্ছা ঠিক আছে চল
আমি শুয়ে আসি এমন সময় আম্মু আর প্রিয়া আমার রুমে আসলো
কি ব্যাপার আম্মু তুমি আমার রুমে কিছু লাগবে
আম্মুঃনা কিছু লাগবে না তুই প্রিয়া কে কি বলেছিস
কই আমি তো প্রিয়া কে কিছুই বলি নি।
আম্মুঃতুই প্রিয়া কে বলেছিস প্রিয়া পিচ্ছি,, প্রিয়া কে বিয়ে করতে পারবি না
আমিঃ হ্যা বলেছি
আম্মুঃকেনো বলেছিস
কেনো আম্মু আমি কি এই পিচ্চিটাকে বিয়ে করবো নাকি
প্রিয়াঃদেখেছো আন্টি তুমার ছেলে আমাকে আবারো পিচ্চি বললো
পিচ্চি কে তো পিচ্চিই বলবো
আম্মুঃতকে প্রিয়া কেই বিয়ে করতে হবে
কিন্তু আম্মু
আম্মুঃএখানে কোনো কিন্তু নেই।আমি যা বলছি এটাই শেষ কথা।
প্রিয়া মা এবার হয়েছে
প্রিয়াঃহ্যা হয়েছে আমি তা হলে এখন বাসায় যাই
আম্মুঃচলে যাবি
প্রিয়াঃএকটু পর আবার আসবো
আম্মুঃআচ্ছা ঠিক আছে যা
প্রিয়া চলে গেছে
আম্মু আমি এই পিচ্চি কে বিয়ে করবো
আম্মুঃহ্যা
কিন্তু
আম্মুঃতকে একটা কথাটা আমার আগেই জানানো উচিত ছিলো
কি কথা আম্মু
আম্মুঃআগে বল আমার কথা তুই রাখবি
আচ্ছা আম্মু রাখবো এখন বলো কথাটা কি
তর আর প্রিয়ার বিয়ে অনেক আগে থেকেই ঠিক করা ছিলো
কি বলো আম্মু
হ্যা আমি ঠিকি বলছি
কিন্তু আমি এই পিচ্চি মেয়েকে বিয়ে করতে পারবো না
দেখ বাবা আমার মান সম্মার টা তো রাখ
আচ্ছা আম্মু ঠিক আছে তুমি যখন বলছো তা হলে আমি প্রিয়া কে বিয়ে করবো।কিন্তু আরো এক বছর পর
আম্মুঃআচ্ছা ঠিক আছে করিস আমি জানতাম আমার আকাশ আমার কথা কোনো দিনি ফেলতে পারবে না।।

(চলবে.........)
Share:

What's on your mind?গল্পঃ*মাইশা* লেখকঃRaj KhAn (পর্বঃ০৫)

What's on your mind?গল্পঃ*মাইশা*
লেখকঃRaj KhAn
(পর্বঃ০৫)
৪র্থ পর্বের পরে থেকে শুরু...
সারা রাত ভেবেও কোনো কুল-কিনারা পেলাম না।
আমার কি এটা করা সত্যিই উচিত হয়েছে?
এই সময় নিজেকে খুব অসহায় লাগছে।
ভালো লাগছে না কিছুই।
ইচ্ছে করছে চিৎকার করে কাঁদতে।
দরজা খুলে বাহিরে চলে গেলাম একটু মন খুলে কাঁদবো বলে।
নিজের মধ্যে এসব যন্ত্রণা আর ধরে রাখতে পারছি না।
হাটতে হাটতে ছোট্ট পুকুরের ঘাটে এসে বসলাম।
আজকের চাঁদটায় কোনো উজ্জ্বল আলো নেই,
ক্ষীণ আলোতে সব কিছু আরো অন্ধকার লাগছে।
মেঘের সাথে কাটানো দিন গুলোর স্মৃতি মনে পড়ছে।
কত তাড়াতাড়ি আপন হয়ে গিয়ে ছিলো ও,
আবার কত দ্রুতই না দূরে চলে গেলো।
হঠাৎ পুকুরের অপর পাড় থেকে কারো পানিতে নামার শব্দ পেলাম।
পদ্ম ফুলের কলি আর পাতা গুলো কেমন জানি নড়ে উঠলো,
মাছ গুলো খুব তড়পাচ্ছে মনে হলো।
ধ্যান ভঙ্গ করে চিৎকার করে উঠলাম,
-- কে ওখানে?
সাথে সাথে শব্দ থেমে গেলো।
কেউ পিছন থেকে আমার গলাটা শক্ত করে চেঁপে ধরলো।
আমি বারবার ছাড়ানোর চেষ্টা করছিলাম,
আর চিৎকার করছিলাম।
হঠাৎ কানে ফিসফিস আওয়াজ এলো মিনমিনে গলার,
-- একদম শব্দ করবি না।
তাহলে কিন্তু ছাড়নো না।
-- কে আপনি?
এত রাতে এখানে কি করছেন?
এত বড় সাহস হয় কি করে আপনার?
কথা গুলো শুনে খ্যাক খ্যাক করে একটা বিশ্রী হাসি দিলো ওটা।
-- আমি আসবো নাতো কে আসবে?
আহ,তোর চুলের আর শরীরের ঘ্রাণ আমায় বড্ড টানে।
তোর এতটা কাছে আসার কত চেষ্টাই না করেছি আমি।
আজ তুই নিজেই আমাকে সেই সুযোগ করে দিলি।
-- আপনি আমাকে ছাড়ুন বলছি,
নাহলে আমি চিৎকার করবো।
আমার বোন তানিশা যদি জানে,
আপনি কিছুতেই রেহাই পাবেন না।
নিজের ভালো চান তো,
আমাকে ছেড়ে দিন।
এইবারও সে তার বিশ্রী হাসিটা হাসলো।
তার গায়ে থেকে প্রচন্ড আশটে গন্ধ আসছে,
আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে তার হাতের চাঁপে।
-- কেউ আমার কিচ্ছু করতে পারবে না। কেউ না.....
-- ছাড়ুন বলছি।
তানি...?
বুড়ি মা...?
এত জোরে জোরে চিৎকার করছি,
কিন্তু কেউ মনে হয় শুনতেই পাচ্ছে না।
এমন সময় হাতটা নিজে থেকে আমার গলা ছেড়ে দিলো,
ছায়া মানবটা ছুঁড়ে পড়লো পুকুরে।
দেখে আমি বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে রইলাম।
মেঘ ফিরে এসেছে!
মেঘ এক দৃষ্টিতে পুকুরের দিকে তাঁকিয়ে আছে।
খুব জোরে শ্বাস নিচ্ছে,
মনে হচ্ছে প্রচন্ড রেগে আছে সে।
পুকুর থেকে সে ছায়া মানবটা এক লাফে উঠে আসলো আবার।
আর খুব বিশ্রী ভাবে হাসতে লাগলো।
মেঘ হাতে কিছুটা মাটি নিয়ে কি জানি পড়ে,
তার দিকে ছুঁড়ে মারলো।
সাথে সাথে ছায়া মানবটা আর্তনাদ করে গায়েব হয়ে গেলো।
মেঘ এসে আমার সামনে দাঁড়ালো,
জানি না কিসের বশে আমি ওকে জড়িয়ে ধরে বললাম,
-- মেঘ?
আমি আপনার সাথে যেতে চাই।
দয়া করে আমাকে নিয়ে চলুন।
আমি আপনার সব শর্তে রাজি,
সব মেনে চলবো।
তাও আপনি আমাকে একা করে যাবেন না।
নিয়ে চলুন আপনার সাথে।
মেঘ শুধু একটা কথাই বললো,
-- কথার নড়চড় করবেন না।
আর হ্যা,
ওই জগত আপনার জন্য মোটেও সহজ হবে না।
খুব কঠিন হবে ওখানে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে আপনার।
-- সব পারবো আমি,
ইনশা'আল্লাহ।
শুধু আপনি আমার পাশে থাকবেন।
-- ঠিক আছে,
কাল রাতে আমি আপনাকে এসে নিয়ে যাবো।
তৈরী থাকবেন।
এখন বাসায় যান,
এখানে আপনার থাকাটা নিরাপদ নয়।
মেঘের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রুমে চলে এলাম।
এখন শুধু ভাবছি কিভাবে জ্বীন জগতে নিজেকে টিকিয়ে রাখবো।
এটা একদমই সহজ হবে না আমার জন্য,
সেটা বুঝতে পারছি।
সারাদিন নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলাম।
কোনো রকম উদ্বেগ বা অস্বাভাবিক দুশ্চিন্তা করতে চাইলাম না,
তানিশার চোখকে ফাঁকি দেওয়া বড্ড কঠিন।
ও যদি একবার বুঝে ফেলে মেঘকে তো হারাবোই,
সেই সাথে আমার বিয়ের দিন এগিয়ে আসবে।
তানিশাকে চা দিয়ে আসার সময় সে আমাকে ডাকলো।
-- কিছু বলবি তানি?
-- হুম বলবো।
তুই কি কোনো ভাবে আমাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিস?
সকাল থেকে লক্ষ করলাম,
তুই আমার সামনে খুব একটা আসছিস না,
দুই-তিন বার ডাকলে তবে একবার আসিস।
কি হয়েছে তোর?
-- কই তেমন কিছুই না।
-- শোন?
এসব রাগ-অভিমান যতই করিস।
তোর বিয়েটা আমি দেবোই।
অতএব, নিজেকে তৈরী কর।
সব মেনে নিতে শিখ,
আমি তো তোকে নদীতে ভাসিয়ে দিচ্ছি না।
আর মেরেও ফেলছি না।
বুড়ি মা?
আপনি তো একটু বুঝাতে পারেন।
সংসার জীবনে সবারই যেতে হয়,
আজীবন এভাবে থাকবে কি করে ও?
দয়া করে ওকে আপনি একটু ভালো করে বলে দিন,
আমি যা করছি মুশুর ভালোর জন্যই।
বলে তানিশা বাহিরে চলে গেলো।
বুড়ি মা আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে,
আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো,
-- আমি তোকে এসব নিয়ে কিছু বলতে চাই না।
আমি জানি তুই আজীবন তোর বোনের মতকেই প্রাধান্য দিয়ে এসেছিস।
সেটা তোর জন্য কতটা ভালো হয়েছে,
সেটা তুইই ভালো জানিস।
শুধু এই টুকুই বলবো,
এইবার নিজের মনের কথা শোন।
যেটা তোর মনে আছে সেটাকে চেঁপে রেখে,
সব কিছু মেনে নিস না।
অনেক হয়েছে মুশু,
এবার অন্তত নিজের ভালোটা নিজে বুঝতে শিখ।
নিজের জীবনে অন্য কারো হস্তক্ষেপ আর কত বল?
যা করবি ভেবে চিনতেই করিস।
আল্লাহ তোর সহায় হোক।
বুড়ি মার কথা শুনে অনেকটা জোর পেলাম।
মনে হচ্ছিলো আমি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি,
সেটা ভুল নয়।
এবার মন যেটা বলে সেটাই শুনবো।
বারবার ঘড়ির দিকে তাঁকাচ্ছিলাম,
১২টার উপরে বাজতে চললো।
এখনো মেঘ এলো না,
তবে কি উনি আজ আসবেন না?
নিজের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে গেলো নাতো উনি?
ভাবতে ভাবতে কখন যে চোখ লেগে গেলো,
টেরই পেলাম না।
উনি আমাকে ডাকলেন,
-- মাইশা...???
আমি ধড়পড়িয়ে উঠে চারিদিকে তাঁকালাম,
কিন্তু কোথাও উনি নেই।
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
-- কোথায় আপনি?
আপনাকে কোথাও দেখতে পাচ্ছি না কেনো?
-- আমি আয়নার ভিতরেই আছি।
-- আয়নার ভিতরে?
আপনি বেরিয়ে আসছেন না কেনো?
আমাকে আপনার সাথে নিবেন কি করে তাহলে?
-- আপনি আমার সাথে আসতে পারবেন না।
আপনাকে একাই জ্বীন জগতে আসতে হবে।
-- আমি একা চিনবো কি করে?
আর জ্বীনরাজ্যে আমাকে ঢুকতেই দিবে বা কেনো?
-- আমি আপনাকে যেভাবে বলছি সেভাবে আসুন।
এটা আপনার জন্য ১ম এবং কঠিন এক পরীক্ষা।
জ্বীনরাজ্যে যদি একবার ঢুকতে পারেন,
কেউ আপনাকে কিচ্ছু বলতে পারবে না।
-- কিন্তু আমি কি করে যাবো?
-- একটু বাদেই আয়নায় একটা তীক্ষ্ণ রেখা ফুঁটে উঠবে,
সেটায় বিসমিল্লাহ বলে আঙ্গুল রাখার সাথে সাথে,
আপনি আয়না জগতে প্রবেশ করতে পারবেন।
এর জন্য আপনাকে সময় দেওয়া হবে মাত্র ১২ সেকেন্ড।
এর মধ্যে না পারলে আর কখনোই আপনি ঢুকতে পারবেন না।
তারপরের গুলো আপনাকে আমি সময় করে বলে দেবো।
আর একটা কথা,
যতই যা হোক, পিছনে ফিরে তাঁকাবেন না।
মেঘের কথা শেষ হতেই,
আমার দরজায় কেউ কড়া নাড়লো।
বাহিরে থেকে বোনের গলা শুনলাম,
-- মুশু?
দরজাটা খোল।
তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে।
আয়নার দিকে তাঁকিয়ে দেখলাম,
লাল রঙ্গের রেখা ফুঁটে উঠেছে।
এদিকে তানিশাও খুব জোরে জোরে কড়া নাড়ছে,
ওর হয়তো খুব বেশী জরুরী আমার সাথে কথা বলাটা।
দরজা খুলবো নাকি রেখায় হাত রাখবো বুঝতে পারছিলাম না।
তানিশা এত জোরে ধাক্কাচ্ছে,
যে মনে হচ্ছে দরজাটাই ভেঙ্গে ফেলবে।
হাতে সময়ও বেশী নেই,
এক্ষুনি রেখাটায় আঙ্গুল না রাখতে না পারলে,
আমি আর আয়না জগতে প্রবেশ করতে পারবো না।
তানিশা বাহির থেকে চিৎকার করছে,
-- মুশু?
কোথায় তুই?
এত জোরে ধাক্কাচ্ছি,
শুনতে পাচ্ছিস না?
তুই দরজা খুলবি?
নাকি আমি দরজাটা ভাঙ্গবো?
আমাকে যদি দরজা ভাঙ্গতে হয়,
তাহলে তোর কপালে অনেক দুঃখ আছে।
কয়েক বার জোরে ধাক্কা দেওয়ার সাথে সাথে,
দরজাটার ছিটকানিটা ভেঙ্গে গেলো।
তানিশা সাথে সাথে আমার রুমে ঢুকে পড়লো।
এদিকে আঙ্গুল রাখার সাথে সাথে,
কি যেনো আমাকে টেনে আয়নার ভিতরের দিকে নিয়ে গেলো,
তখন মনে হচ্ছিলো আয়নাটা এক ধরণের পাতলা পর্দা।
যাই হোক,
ভিতরে প্রবেশ করার সাথে সাথে,
তীব্র আলোর ঝলকানি আমার চোখে লাগলো।
আমি তাঁকাতেই পারছিলাম না।
একটু বাদে আস্তে আস্তে আলো ক্ষীণ হয়ে উঠলো।
ভালো করে চারপাশটা তাঁকিয়ে দেখলাম,
চারদিকে ছোট-বড় আয়না দেয়ালে গেথে আছে।
মেঝেটা পর্যন্ত স্বচ্ছ আয়না।
মনে হচ্ছে এটা কোনো আয়না ঘর।
এখন আমি কি করবো ঠিক বুঝতে পারছি না।
মেঘের পরবর্তী নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করবো?
নাকি নিজেই সামনের দিকে এগিয়ে যাবো?
পরক্ষণেই ভাবলাম,
না উনার নির্দেশ ছাড়া এক পাও এগোনো ঠিক হবে না।
উনি আমাকে যেহেতু বারবার সর্তক করেছেন,
সেহেতু এখানে কোনো না কোনো বিপদ ঠিক-ই আছে।
এমন সময় মেঘের ক্ষীণ কন্ঠ শুনতে পেলাম,
কথা গুলো এত অস্পষ্ট ভাবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিলো,
যে আমার বুঝতে কষ্ট হচ্ছে।
তাও মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করলাম।
অস্পষ্ট ভাবে যা শুনতে পেলাম তা হচ্ছে,
-- খুব সাবধানে বুঝে শুনে পা ফেলবেন।
এখানের শেষ সীমানায় দুটো দরজা দেখবেন,
বুদ্ধি-বিবেচনা করে বেছে নিবেন সঠিক দরজাটা।
এরপর আর উনার কন্ঠস্বর শুনতে পেলাম না।
আল্লাহর নাম নিয়ে সামনের দিকে পা বাড়ালাম।
তার আগে গায়ের ওড়না দিয়ে চোখ-মুখ ভালো করে ঢেকে নিলাম।
যত সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি,
ততই ক্ষীণ আলো প্রখর হচ্ছে।
চোখ ঝলসে যাওয়ার মত অবস্থা।
আগে থেকে চোখ ঢেকে ভালোই করেছি,
নতুবা চোখ ঝলসে যেত।
যদিও হাটতে একটু কষ্ট হচ্ছে।
অনেকটা আসার পর আলোর ঝলকানি কমে এলো।
দেখা গেলো দুটি দরজা।
একটা খুবই সুন্দর এবং পরিষ্কার ,
আরেকটা খুবই জীর্ণ,
জায়গায় জায়গায় দাগ এবং শ্যাওলায় ভর্তি।
দুটোর উপরেই আরবিতে লেখা আছে,
এখানে প্রবেশ করো।
কনফিউজড হয়ে গেলাম কোনটায় ঢুকবো?
বাহিরে থেকে বোঝার উপায় নেই কোনটা কেমন।
একবার ভাবলাম,
জ্বীনরাজ্য হয়ত অনেক সুন্দর হবে,
অতএব সুন্দর দরজাটার পিছনেই,
জ্বীনরাজ্যে যাওয়ার পথ থাকতে পারে।
এই ভেবেই যেই দরজা খুলতে যাবো,
অন্য একটা চিন্তা মাথায় এলো।
উপরের আরবি লেখাটার দিকে তাঁকালাম।
দুটো মিলানোর চেষ্টা করলাম,
সুন্দর দরজাটার উপরের লেখাটায় ভুল রয়েছে।
আর বুঝতে বাকি রইলো না,
কোনটায় প্রবেশ করা ঠিক হবে আমার পক্ষে।
আল্লাহর নামে দরজাটা খুলে প্রবেশ করতেই,
ঝাকে ঝাকে বাদুর এসে আমার উপর ঝাপিয়ে পড়লো।
ক্রমান্বয়ে খামচি দিতে লাগলো আমার শরীরের বিভিন্ন অংশে।
ওড়নাটা ঝেড়ে ঝেড়ে তাড়াতে চেষ্টা করলাম,
কিন্তু কাজ হচ্ছে না।
একটাকে তাড়ালে আরো তিনটা এসে ঘিরে ধরছে।
উপায়ান্তর না দেখে সামনের দিকে ছুটতে লাগলাম।
এরা কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না,
ছুটতে ছুটতে খোলা প্রান্তরে চলে এলাম।
এখানে ঘাসের ডগায় ডগায়,
বড় বড় জোঁকের দল আস্তানা গেড়ে আছে।
কি এক উভয় সংকটে পড়লাম?
পিছনে বাদুর আর সামনে জোঁক।
আমি কি ভুল দরজায় প্রবেশ করেছি?
কিন্তু সেটা কি করে হয়?
আল্লাহ আপনি আমার সহায় হোন।
বাদুর গুলো তেড়ে আসছে।
দুটো রাস্তা আমার জন্য খোলা আছে।
হয়ত পিছু হটে বাদুরের সাথে লড়াই করা,
নতুবা জোঁক ভর্তি খোলা মাঠে নেমে যাওয়া।
কোনোটাতেই বাঁচার উপায় নেই।
বাদুরের ঝাক যেভাবে তেড়ে আসছে,
আমি কিছুতেই এদের সাথে পারবো না।
জোঁকে ধরলেও সেটাকে পড়ে ছাড়ানো যাবে হয়তবা।
আর দেরী না করে খোলা মাঠে নেমে গেলাম।
জোঁক গুলো যেনো আমার নামার অপেক্ষা করছিলো।
চারদিক থেকে ঘিরে ধরে এগিয়ে আসছে আমার দিকে।
পিছনে তাঁকিয়ে দেখলাম,
বাদুর গুলো সব এক লাইনে বসে আছে আমার অপেক্ষায়।
কি করবো মাথায় ধরছে না!
-- নাহ থামলে চলবে না,
হয়ত জানে বাঁচবো,
নয়ত এদের হাতেই মরবো।
যা থাকে কপালে,
আল্লাহ রক্ষা করুন।
সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি,
জোঁক গুলোকে পা দিয়ে সরাতে সরাতে। দু-একটা কামড় ইতিমধ্যে পায়ে পড়ে গেছে,
এত যন্ত্রণা হচ্ছে।
তাও থামছি না,
জোরে জোরে পা চালিয়ে খোলা প্রান্তর পেরিয়ে,
উচু ঢালুতে উঠে বসলাম।
পা থেকে রক্ত বের হচ্ছে,
দু-একটা জোঁক এখনো কামড়ে ধরে আছে।
ব্যথায় দাঁতে দাঁত চেঁপে আছি।
চারিদিকে তাঁকিয়ে দেখি,
এখানে অসংখ্য কাঁটাগাছ রয়েছে।
কয়েকটা ভাঙ্গা ডাল জড়ো করে নিয়ে,
জোকের পেটের ধরে সজোড়ে টান দিলাম।
মূহুর্তে দ্বিখন্ডিত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলো জোঁক গুলো।
রক্ত পড়া জায়গা গুলোতে মাটি লাগিয়ে,
ওড়নার টুকরো দিয়ে বেঁধে নিলাম।
এখানেই লক্ষ্যে পৌছার লড়াই শেষ হয়নি বলে ধারণা করছি।
এবার কোন দিকে যাবো বুঝতে পারছি না,
এটাও নিশ্চিত হতে পারছি না যে,
আদৌ আমি সঠিক পথে এসেছি নাকি?
এতক্ষণে মেঘের সাথে আমার একবারো যোগাযোগ হয়নি,
উনি কি আমার অবস্থান সম্পর্কে অবগত নন?
তবে কি আমার জ্বীনরাজ্যে যাওয়া হবে না?
এসব ভাবতে ভাবতে হেটে চলেছি,
কাঁটা গাছ গুলো কোনো রকমে সরিয়ে।
নিজের পুরো শরীরকে ক্ষত-বিক্ষত লাশ মনে হচ্ছে।
ব্যথায় হাটার জোরও পাচ্ছি না,
গলাটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।
অদূরে একটা ঝর্ণা দেখতে পেয়ে বেশ খুশিই হলাম।
ঝর্ণার কাছে এসে যেই এর পানি পান করতে গেলাম,
প্রচন্ড তান্ডবে সব কিছু কাঁপতে লাগলো।
বেশ ভয় পেয়ে গেলাম,
আবার কোন বিপদ ডেকে আনলাম আমি?
ঝর্ণার পানির ভিতর থেকে বেশ বড় বড় পা ফেলে,
এক থুড়থুড়ে অদ্ভুত চেহারার বুড়ি আমার সামনে এসে দাঁড়ালো।
এর গায়ে সাদা কাপড় এলোমেলো ভাবে পেঁচানো।
চেহারায় বেশ রাগ রাগ ভাব,
শরীর এতটাই পাতলা যে বাতাসের সাথে মিশে যেতে পারবে।
রাগান্বিত কন্ঠে বললো,
-- তুই কে?
এত বড় সাহস তোর কি করে হয়,
যে তুই আমার পানি স্পর্শ করিস?
-- ভুল মার্জনা করবেন বুড়ি মা।
আমি ইচ্ছে করে করিনি,
তেষ্টায় বড্ড কাহিল হয়ে এসে ছিলাম।
নিষেধাজ্ঞা আছে জানলে আমি স্পর্শ করতাম না।
বুড়ি আমার দিকে ভালো করে তাঁকিয়ে বললো,
-- তুই কে?
এখানে কিভাবে এলি?
-- আমি একজন মনুষ্য কন্যা,
নাম মাইশা।
আমি জ্বীনরাজ্যের উদ্দেশ্যে এসেছি।
বুড়ি বিকট শব্দে হেসে উঠে বললো,
-- মানুষ হয়ে জ্বীনরাজ্যে যেতে চাস?
নিজের মৃত্যু ডেকে আনার খুব শখ হয়েছে?
জানিস এর ফল কি হতে পারে?
-- জানি বুড়ি মা।
কিন্তু নিজের ভালোবাসার জন্য সব করতে রাজি আমি।
-- জ্বীন আর মানুষের মিলন কখনোই সম্ভব না জেনেও এখানে এসেছিস?
এক ধাপে না হয় বেঁচে গেলি,
কিন্তু কয়বার বেঁচে ফিরবি এভাবে?
-- জীবন-মরণ আল্লাহর হাতে।
তার ভরসায় আমার এতদূর আসা।
আপনি আমাকে বলতে পারবেন,
আমি সঠিক রাস্তায় এসেছি কি না?
বুড়ি একটু নরম হয়ে বললো,
-- হুম,
সঠিক রাস্তায়ই এসেছিস।
তোর মনের জোর অনেক বেশী বটে।
-- আমি বুঝতে পারছি না আমি কোনদিকে কিভাবে এগোবো?
অসহায় হয়ে পড়েছি বড্ড।
-- আমি তোকে জ্বীনরাজ্যে পৌছানোর পথ দেখিয়ে দিতে পারি।
-- সত্যিই দেখাবেন বুড়ি মা?
-- হুম,
তবে এর বিনিময়ে আমার কিছু প্রাপ্য রয়েছে।
-- কি প্রাপ্য চান আপনি?
আমার কাছে তো কিছুই নেই,
তবে আমার সাধ্যের মধ্যে থাকলে অবশ্যই দেবো।
-- ঠিক আছে।
আমি সময়মত ঠিক চেয়ে নেবো।
নিজের অঙ্গীকার ভুলে যাস না কিন্তু।
-- না বুড়ি মা।
কথা দিচ্ছি আপনাকে,
আপনি যা চান আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করবো,
আপনাকে সেটা দেওয়ার।
বুড়ি মা তার হাসি প্রসারিত করে পথ দেখিয়ে দিলেন।
বুড়ি মার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আবার হাটতে লাগলাম।
হাটতে হাটতে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন সংকীর্ণ গুহাতে ঢুকে পড়লাম।
কোনো রকম হাতড়ে হাতড়ে পথ চলছি,
এমন সময় পিছন থেকে তানিশার গলায় ডাক এলো,
-- "মুশু"
জবাব দিয়ে যেই পিছনে ফিরতে যাবো,
তখনই মেঘের সর্তকবাণী মনে পড়ে গেলো।
-- নাহ,
কোনো ভাবেই পিছনে তাঁকানো যাবে না।
মনে হচ্ছে কেউ আমার পিছু পিছু আসছে,
চারপাশ থেকে বিশ্রী গন্ধ আর হাড় চিবানোর শব্দ আসছে।
ভয় লাগছে খুব,
খুব ভয়ংকর গলায় আমার নাম ধরে ডাকছে কেউ।
দেয়ালে হাতড়ে হাতড়ে হাটতে হাটতে,
হঠাৎ কিছু একটা হাতে উঠে এলো।
স্বল্প আলোয় দেখলাম এটা একটা কাঁটা মাথা,
যার চোখ গুলো ঠেলে বের হয়ে এসেছে,
সাথে জিহবা ঝুলে পড়েছে।
চিৎকার দিয়ে সেটা ফেলে দৌড়াতে লাগলাম।
ভয়ে প্রায় আধমরা হয়ে গেছি,
পদে পদে হোচট খেয়ে পড়ে যাচ্ছি।
তাও উঠে ছুটে চলেছি।
ভয়ংকর শব্দ গুলো আমার পিছু পিছু আসছে।
অনেকটা দৌড়ে একটা আলোকিত জায়গায় এলাম।
এখানে চারিদিকে মশাল জ্বলছে,
সামনে বিশাল একটা দরজা।
তাতে চোখ ধাঁধানো সজ্জা।
সম্ভবত এটাই জ্বীনরাজ্যের প্রবেশদ্বার।
উপরে আরবিতে কিছু লেখা আছে।
যার অর্থ আমার ঠিক জানা নেই।
কিন্তু আমি এই দরজা দিয়ে ঢুকবো কি করে?
কয়েক বার ধাক্কা দিলাম দরজায়।
কিন্তু কোনো ভাবেই খুললো না।
বিকট হাসির শব্দ শুনে পিছনে তাঁকালাম,
অনেক গুলো ভয়ংকর কাটা মাথা,
লাফাতে লাফাতে আমার দিকে তেড়ে আসছে।
একটা আরেকটার চেয়েও বিভৎস দেখতে।
এখন দরজা না খুললে আমি এদের হাতেই মারা পড়বো।
আরো কয়েকবার দরজা ধাক্কালাম,
কিন্তু কোনো লাভ হলো না।
উপায়ান্তর না দেখে আল্লাহর নাম জপতে লাগলাম।
হঠাৎ বুড়ি মার বলা একটা কথা মনে পড়ে গেলো।
সেখানে ঢুকতে হলে সেখানকার সম্পর্কিত আয়াত তোকে জানা লাগবে।
কিন্তু কোনো আয়াত বা কি?
সেটা আমাকে বিস্তারিত বলেননি।
এখন আমি কি করবো?
কোনো সূরা বা কোন আয়াত পড়বো?
কিছুটা সময় ভেবেও কিছু মনে করতে পারলাম না।
হঠাৎ আল্লাহর রহমতে আমার মাথায় একটা ধারণা এলো,
এটা যেহেতু জ্বীনরাজ্য,
জ্বীনের জগৎ,
তাহলে এটার সম্পর্কিত কেবল সূরা জ্বীনই আছে।
ঝটপট সূরা জ্বীন এর প্রথম কয়েকটি আয়াত পড়তেই,
হাট করে দ্বার খুলে গেলো।
চারিদিক থেকে সূরা তিলওয়াত কানে আসতে লাগলো,
যা শুনে কাটা মাথা গুলো পালিয়ে গেলো।
আল্লাহর নাম নিয়ে নির্বিঘ্নে দ্বারের ভিতর প্রবেশ করলাম।
অবশেষে আমি সক্ষম হলাম জ্বীনরাজ্যে ঢুকতে।
কিন্তু মেঘ কোথায় আছেন?
.
(চলবে)
গল্পটা কেমন লাগছে সবাই না জানালে,
গল্পই আর লিখবো না...
Share:

রহস্যময়_গ্রহ (Mysterious Plannet) পর্ব - ৫ (পাচ)

#রহস্যময়_গ্রহ (Mysterious Plannet)
 পর্ব - ৫ (পাচ)
লেখা : A R Shipon

আরাধ্য কাঠ হয়ে পাশে সুয়ে আছে। মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না। হাত পা নাড়াতে পারছে না। ঠিক এমন সময় পেছন থেকে ঘরে ঢুকে নুবহা। নুবহা এলিয়েনটিকে দেখে চিৎকার দেয়, সেই সাথে পাশে থাকা একটি লোহার খুনতি দিয়ে এলিয়েনটির মাথায় বাড়ি দেয়। এলিয়েনটি জ্ঞ্যান হারিয়ে ফেলে।
নুবহাঃ আরাধ্য, এই এলিয়েন টি তো তোর কোন ক্ষতি করে নাই?
আরাধ্য ধিরে ধিরে স্বাভাবিক হয়ে উঠে। দীর্ঘ নিঃস্বাস নেয়। তারপর নুবহার প্রশ্নের উত্তর দেয়।
আরাধ্যঃ তুই মারলি কেনো? এ আমার কোন ক্ষতিই করেনি। আমার পাশে সুয়ে ছিলো। দেখে ভয়ে চিৎকার করি। তখন বলে
নুবহাঃ কি বলে?
আরাধ্যঃ এই যে সে আমাদের কোন ক্ষতি করবো না, আমাদের সাহায্য দরকার তাদের। বন্ধু হতে চায়। এই বলে অনুরোধ করে।
নুবহাঃ তাহলে তো মারা ঠিক হয়নি।
নুবহা এলিয়েন এর বুকের উপর কান রেখে বেচে আছে কিনা শব্দ শুনতে চায়। কিন্তু কোন শব্দ বা নাড়াচাড়া নেই।
নুবহাঃ দোস্ত। নিস্তেজ। মরে গেছে মনে হয়।
আরাদ্যঃ দেখ মাথার পেছনের দিকে গোল একটা অংশে আলো জ্বলছে হলুদ রং এর।
নুবহা তাকিয়ে দেখে। ওয়াশরুম থেকে পানি এনে মাথায় ঢালে। কিন্তু কোন কাজ হয় না। হলুদ রং ধিরে ধিরে লাল হয়ে যাচ্ছে।
নুবহাঃ দোস্ত এটা মনে হয় মারা যাচ্ছে।
আরাধ্যঃ মুভিতে দেখেছিলাম সূর্যের আলোয় ওরা শক্তি সঞ্চার করে।
নুবহা দ্রুত গিয়ে জানালার পর্দা সরিয়ে দেয়। জানালা দিয়ে সূর্যের আলো এলিয়েন এর মাথার উপর পরে। মিনিট পাচেক পর এলিয়েন টি চোখ খুলে। আবার চোখ বন্ধ করে। আরাধ্য এলিয়েন এর মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। এলিয়েনটি নিজের হাত তার মাথার রাখা আরাধ্যের হাতের উপর রাখে। চোখ খুলে।
এলিয়েনঃ ধন্যবাদ।
নুবহাঃ আমি দূঃক্ষিত। আমি বুঝতে পারি নাই।
এলিয়েনটি উঠে বসে।
এলিয়েনঃ ইট'স ওকে।
নুবহাঃ বাহ, এলিয়েন বাংলা, ইংরেজি বলতে পারে।
এলিয়েনঃ হাহাহাহাহহাহা। এলিয়েন আবার আমাকে বলে এলিয়েন। আমরা ডেয়ার্থ আর তোমরা এলিয়েন, মানে তোমরা এলিয়েন।
নুবহাঃ হাহাহা। আমরা মানুষ আর তোমতা ভিনগ্রহের প্রানী এলিয়েন।
আরাধ্যঃ আচ্ছা হয়েছে। আসলে আমরা একে অপরের কাছে এলিয়েন। আমরা আমাদের মানুষ বলি আর তোমরা ডেয়ার্থ বলো। এই আর কি। আমি আরাধ্য, তুমি?
এলিয়েন ঃ আমার নাম পিলু। আমি সাইন্সটিস্ট। তোমাদের এই প্ল্যানেট থেকে আমাদের ডাকা হয়েছে।
নুবহাঃ আমি নুবহা। আচ্ছা তোমাদের প্ল্যানেট এর নাম কি?
পিলুঃ Mysterious Plannet বা রহস্যময় গ্রহ। আমরা সহজ করে ডোয়ার্থ বলি। আর ডোয়ার্থের বাসিন্দাদের ডেয়ার্থ বলি।
আরাধ্যঃ Mysterious Plannet কেন তোমাদের গ্রহ?
পিলুঃ সৌরজগতের সবচেয়ে ছোট গ্রহ আমাদের। সম্পর্ন গ্রহটাই ইউরোনিয়াম দিয়ে তৈরি।
নুবহাঃ ইউরোনিয়াম তো অনেক মূল্যবান।
পিলুঃ আগে জানাছিলো না। এখানে এসে জেনেছি। ইউরোনিয়াম তোমাদের কাছে অনেক মূল্যবান। কিন্তু আমাদের কাছে না। আর এই ইউরোনিয়ামই এখন আমাদের কাল হয়ে দারিয়েছে।
আরাধ্যঃ মানে?
পিলুঃ তোমাদের পৃথিবীর একজন সাইন্সটিস্ট স্পেসে ছিলো। তখন সে আমাদের এই Mysterious Plannet  আবিস্কার করে। সেখানে গিয়ে গবেষণা করে। আরো আবিস্কার করে যে সেখানে তোমাদের মত এলিয়েনদের বসবাসযোগ্য।
নুবহাঃ বাহ ভালো তো। আমাদের পৃথিবীর জনসংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। আমরা তোমাদের ঐখানে গিয়ে থাকতে পারবো।
পিলুঃ তুমিও তার মত কথা বলছো। আমাদের ধংশ করে ডোয়ার্থ করতে চাইছো? এটা কি ঠিক?
আরাধ্যঃ মোটেও ঠিক না। যার যার জায়গায় সে সে থাকবে।
পিলুঃ কিন্তু আমাদের ধংশ করা হচ্ছে। এরপর সে আমাদের আলোচনার জন্য ডেকে নিয়ে আসে। আমাদের সাথে আসে আমাদের মোহাম এর কন্যা। কিন্তু সে আমাদের সবাইকে আটক করে। আমি কোন রকম পালিয়ে আসি।
নুবহাঃ মোহাম কে?
পিলুঃ তোমদের যেমন দেশের প্রধান আছে। ঠিক আমাদের ও আছে। তোমরা প্রধানমন্ত্রী বলো, আমরা মোহাম বলি।
আরাধ্যঃ আচ্ছা সেটাকে?  যে তোমাদের সাথে এই রকম করছে?
পিলু উঠে ছাদের দরজার কাছে এসে হাত দিয়ে ঈশারায় নাওয়াল দের ছাদের চিলেকোঠা দেখিয়ে দেয়। আরাধ্য আর নুবহার বুঝতে বাকি থাকে না যে পিলু কার কথা বলছে। ওর দুজন এসেও পিলুর পাসে এসে দাড়ায়। তখন নুবহা এর ফোন বেজে উঠে। নাওয়াল এর কল। সে কল রিসিভ করে। নাওয়াল নুবহাকে বলে আরাধ্যকে নিয়ে দ্রুত তাদের বাড়িতে আসতে, আরেকটা অঘটন ঘটেছে।
আরাধ্য আর নুবহা পিলুকে সেফ একটা জায়গায় রেখে ঘড় তালা দিয়ে নাওয়াল দের বাসায় উপস্থিত হয়। বাসার নিচে পুলিশ। স্কেচে করে একটা লাশ নিয়ে গেলো। লাশটা এই বাড়ির ড্রাইভারের।
দুজন ভিতরে ঢুকে।
নুবহাঃ কিভাবে মারা গেলো ড্রাইভার?
নাওয়ালঃ জামানের মত ছাদ থেকে লাফ।
আরাধ্যঃ এখানেক কোন রহস্য আছে।
নাওয়ালঃ রহস্য তো আছেই। আর সে রহস্য  ড্রাইভার জেনে ফেলায় তাকে খুন করা হয়।
আরাধ্যঃ নিশ্চয় খুনটা ঐ এরিক করে। কি ঠিক বলছি না?
নাওয়ালঃ হুম। তবে নিজেকেক দোষী মনে হচ্ছে। ও আমাকে প্রথমে বলার পর কেনো আমি যে ওকে আবার পাঠালাম।
ছাদের বাগানে প্রতিদিন সকাল আর সন্ধ্যের আগে গাছে পানি দেয় ড্রাইভার। প্রতিদিনের মত গত সন্ধ্যেতেও গাছে পানি দিতে গিয়ে খেয়াল করে রক্তের দাগ। দাগ এর চিহ্ন দেখে দেখে চিলেকোঠার জানালার সামনে গিয়ে থ হয়ে যায় ড্রাইভার। এরিক একটা মৃত মানুষের শরীর থেকে পাইপের মাধ্যমে রক্ত নিয়ে সাদা কিছু রোবটের মধ্যে ঢোকাচ্ছে। এরিকের কাজ শেষ হয়ে গেলে সে লাশটা একটা লাগেজে করে নিয়ে বের হয়। ড্রাইভার তার আগেই নিচে নেমে আসে। সব খুলে বলে নাওয়াল কে। আর নাওয়াল ড্রাইভার কে বলে এরিকের দিকে খেয়াল রাখতে। কি হয় না হয় সব খবর দিতে। সেই অনুসারে রাতে এরিকের ঘরে উকি মারতে গিয়ে ধরা পরে ড্রাইভার। প্রমান লোপাট করতে আর এরিকের তৈরি রোবট আকৃতির জেনেটিক প্রানির খাদ্যের সঞ্চার করতে এরিক খুন করে ড্রাইভারকে। তারপর রক্ত নিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দেয়।
নাওয়ালঃ ড্রাইভারের মৃত্যুর জন্য সব দোষ আমার। আমি না বললে ওর হয়তো মরতে হতো না।
আরাধ্যঃ বিষয়টি দিনকে দিন জটিল হয়ে যাচ্ছে। এই বাসা সহ আসে পাসের সবাই বিপদে আছে। এমনকি তোমরাও। তোমাদের খুব সাবধানে থাকতে হবে। আর এরিকের একটা ব্যাবস্থা করতে হবে।
নুবহাঃ বদের হাড্ডিটা আরেকটা গ্রহ দখলের জন্য এই সব কাজ করছে।
নাওয়ালঃ মানে?  কোন গ্রহ?
নুবহাঃ ডোয়ার্থ নামে একটা রহস্যময় গ্রহ আছে। সেটা।
নাওয়ালঃ তোমরা জানলে কিভাবে?
আরাধ্যঃ আমার বাসায় চলো। সব খুলে বলছি।
এরপর তিনজন মিলে আরাধ্যের বাসায় আসে। সেখানে নাওয়ালকে পিলুর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। প্রথমে পিলুকে দেখে নাওয়াল অনেক ভয় পেয়ে যায়। ধিরে ধিরে সেও আরাধ্য আর নুবহার মত স্বাভাবিক হয়ে উঠে পিলুর সাথে। তারপর প্ল্যান করে যে আজ রাতে এরিকের কর্মকাণ্ড ভিডিও করে প্রমান নিয়ে পুলিশের কাছে যাবে এবং তাকে ধরিয়ে দিবে।
প্ল্যানের মাঝখানে উপস্থিত হয় প্রিয়ন্তি।
প্রিয়ন্তিঃ আমি কি মাঝখানে এসে তোমাদের  ডিস্টার্ব করলাম?
কথা শেষ করার পরপরই প্রিয়ন্তির চোখ পরে পিলুর দিকে। ঠাটিয়ে একটা চিৎকার, অতঃপর জ্ঞ্যান হারানো।
সবাই মিলে মাথায় পানি ঢালে। কিন্তু সহজে তার আর জ্ঞ্যান ফিরছে না। তখন পিলু এসে প্রিয়ন্তির মাথায় হাত রাখে। এরপর জ্ঞ্যান ফিরে পিলুকে দেখে আবার চিৎকার দিয়ে আরাধ্যকে জরিয়ে ধরে।
আরাধ্য প্রিয়ন্তিকে শান্ত করে সব খুলে বলে, খুলে বলে রাতের প্ল্যানের কথা। প্রিয়ন্তি রাতে ওদের সাথে থাকতে চায়। কিন্তু আরাধ্য রাখতে নারাজ। খালাখালু এমনিতেই ওকে সহ্য করতে পারে না। কখনই প্রিয়ন্তিকে রাতে আরাধ্যের সাথে থাকতে দিবে না।।
এখন অপেক্ষা রাত হবার। রাত হওয়ার আগ পর্যন্ত ওরা সবাই আরাধ্যের বাসাই থাকবে। সবার জন্য রান্না করে প্রিয়ন্তী আর নাওয়াল। আর পিলু? পিলু কি খাবে?
পিলু সুধু ডিম খায়। নুবহা নিচ থেকে পিলুর জন্য ডিম নিয়ে আসে। আর নিয়ে আসে ৩টি জাতীয় পত্রিকা। যার প্রতিটির হেড লাইনে " ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে রক্তশূণ্য লাগেজে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার"

চলবে.....
দয়াকরে যারা গল্পটি পরবেন তারা ভালো বা খারাপ লাগা কমেন্টস করে জানাবেন। শেয়ার করা মত হলে শেয়ার করবেন। আর ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ।
Share:

গল্পঃ পুনরাবৃত্তি! ,

গল্পঃ পুনরাবৃত্তি!
,
লেখকঃ রঙ্গন কানন!
,
**সংসার জীবন সুখের জীবন,
যদি না হয় প্রেমের ও মরণ!**
,
কথাটা আমার মুখে শোনা মাত্রই বন্ধু বলে উঠলো, রঙ্গন নতুন বিয়ে করেছিস বেশিদিন হয় নি!! এখন এসব কথা মুখে থাকবেই! কিছুদিন যাক যখন সংসারে অশান্তি শুরু হবে, শুরু হবে শশুড়-শাশুড়ি আর বৌমার মধ্যে যুদ্ধ! যখন না পরবি মা-বাবা কে সামলাতে আর না পারবি বউকে কিছু বুঝাইতে তখন বুঝবা চান্দু সুখ কারে কয়!! বন্ধুর কথাটা হেসে উড়িয়ে দিলাম! চলে আসলাম বাসার উদ্দেশ্যে!
বাড়িতে বাবা-মা, বড় ভাই-ভাবি, আর আমরা নতুন বিয়ে করা স্বামী-স্ত্রী এবং ছোট্টো মিষ্টি ভাতিজি মিলেই আমাদের দুই ভাইয়ের পরিবার!!
আব্বুর ছোট-খাটো একটা ব্যাবসা আছে!! সেটার হাল দুই ভাই মিলে ধরেছি!! সামান্য আয় আর অফুরন্ত ভালোবাসার মাঝে অভাবে টানা পোড়ানো দিনগুলো কোনরকমে কেটে যাচ্ছে!! দুবেলা দুমুঠো খেয়ে দিন পার করতেছি এতেই আল্লাহ্ র কাছে অসংখ্য শুকরিয়া জানাই! আমার স্ত্রীর নাম ইরা!
পুরো নাম ইরা মনি! পরিবারের পছন্দ অনুযায়ী সাত মাস পূর্বে আমাদের বিয়ে হয়! তারপর থেকে এ পর্যন্ত সবার সাথে ভালোই আছি!! ভাই, ভাবি ও তাদের ছোট্টো মেয়েকে নিয়ে তাদের মতো এবং আমি আর আমার স্ত্রী আমাদের মতো করে নিজেদের সংসার সাজাচ্ছি!!
আর আমাদের দুই ভাইয়ের পরিবারের সাথে বাবা-মা এখনো ছায়ার মতো সঙ্গী হয়ে আছে!! আমাদের কোন বোন নেই তাই আব্বু-আম্মু বলতো  দুটি বউ না তোরা দুজনে মিলে দুটি মেয়ে এনে দিস!!  তাদেরকে বউ হিসাবে নয় মেয়ে হিসাবে ভালোবেসে যাবো!! কিছু  না থাকলেই হয়তো মানুষ তাদের কদর একটু বেশি করে!
কিন্তু সব শশুড়-শাশুড়ি যদি পুত্রবধুকে মেয়ের চোখে দেখতো তাহলে হয়তো সংসারে নারী নির্যাতন অনেকাংশে কমে যেতো!! কিন্তু আফসোস বাংলাদেশের আজকের এই আধুনিক জীবনেও সেই মানসিকতা মানুষের মাঝে গড়ে উঠে নি!! তারা আপন-পর প্রভেদ করা বাদ দিতে পারে নি! যার জন্য এখনো মানুষ সংসারে পরিপূর্ণ শান্তি লাভ করতে সক্ষম হয় নি! আব্বু ছোট বেলায় বলতো কাউকে সুখি করতে না পারিস কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে এতটুকুও কষ্ট দিও না!!
বিয়ের পূর্বে আম্মু অামাদের দুই ভাইকেই এই একই কথা বলেছে যে, স্ত্রীকে কষ্ট দিয়ে, তার প্রতি অন্যায় করে কোনদিন কোন স্বামী সুখি হতে পারে না! বরং একজন আরেকজনকে খুশি রাখার চেষ্টাই পারে শত কষ্টের মাঝেও সুখি জীবন লাভ করার!
হয়তো কখনো একজন ভুল করতে পারে নতুবা ভুল পথে যেতে পারে কিন্তু ভালোবাসা দিয়ে বুঝিয়ে তাকে সঠিক পথে চালনা করা স্বামী-স্ত্রীর দুজনেরই সমান দায়িত্ব ও কর্তব্য! ভুল পথ থেকে সঠিক পথে আনার জন্য কখনো একজন আরেকজনের উপর জুলুম করিও না!
যাই হোক আমার আব্বু-আম্মুর চিন্তাধারা ও মন-মানসিকতাকে আমি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাই!!
আব্বু আম্মুর সেই শিক্ষায় আমাদের দুই ভাইয়ের সংসার জীবন সুখেই যাচ্ছে!! আমাদের দুই ভাইয়ের দুটি পরিবার হলেও একসাথে থাকার জন্য একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিতে পারি!! এতে আমাদের মানসিক শক্তি অনেকটা বেড়ে গেছে যার ফলে বাস্তবের কঠিন সত্যের মুখেও আমরা এখনো ঠিকে আছি!!
"একতাই বল" কথাটি হয়তো সেজন্যই প্রযোজ্য!
আর সবথেকে ভালো দিক হলো যদিও আমাদের দুই ভাইয়ের দুটি পরিবার কিন্তু আব্বু-আম্মু আমাদের দুটি পরিবারকে একটি পরিবার মনে করেই থাকে! তাদের জন্য কোন ধরা-বাধা নিয়ম আমি আর ভাই তৈরি করি নি!! কারণ সন্তান আমরা দুজন হলেও আমাদের বাবা-মা একজন!
পৃথিবীর সব সন্তানেররই তার পিতা-মাতার প্রতি ভালোবাসা থাকা দরকার! পিতা-মাতা যেমন তার একাধিক সন্তানকে সমানভাবে ভালোবাসে ঠিক তেমনি প্রতিটি সন্তানের উচিত তার ভালোবাসার কমতি না রাখা! বাবা- মা যেমন প্রতিটা দিন তার সন্তানের খাওয়া-দাওয়া, সুস্থতা সবকিছুর যত্ন সব সন্তানের প্রতি সমানভাবে নেয় ঠিক তেমনি একই বাবা-মায়ের ও একাধিক সন্তানকে আলাদা ভাবে নেওয়া উচিত! উদাহরণস্বরুপঃ যেমন ধরো কোন বাবা-মায়ের একাধিক সন্তানকে যেমন বন্টন করে বলে নাই যে, মাসের এই কয়দিন তোকে খাওয়াবো,এই কয়দিন আরেকজনকে খাওয়বো ঠিক তেমনি সন্তানদেরও উচিত নয় বাবা-মায়ের লালন- পালন বন্টন করার!! ভেবে দেখো সমস্ত সন্তানেরা যদি সেদিন তোমাদের মতো শিশুকালে লালন- পালনের দিন বন্টন করতো তবে তোমাদের কি অবস্থা হতো! তাহলে তোমরা কেনো তাদের বৃদ্ধাবস্থায় একে অপরে মিলে বন্টন করো!!
এটা কি উচিত???
আমার কাছে নিশ্চই না!!
শিশুকালে যেমন প্রতিটি বাবা মা তার প্রত্যেক সন্তানের দেখাশুনা করে ঠিক তেমনি তাদের বৃদ্ধাকালে আমাদেরও উচিত তাদের প্রত্যেকদিনের যত্ন ও দেখাশুনা এবং খোজ নেওয়া প্রতিটা সন্তানের দায়িত্ব!
,
এসবের বাহিরে আমি আর ইরা নিজেদের সংসার খুব যত্ন করে তিল তিল করে গড়ে তুলার চেষ্টা করতেছি!! সল্প আয়ের মধ্যেই নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য একটি সুখের নীড় গড়ে তুলছি দুজনের ভালোবাসায়!
আমাদের সংসার জীবন আস্তে আস্তে পুরোনো হতে থাকলো সাথে বাহ্যিক আচরণও! এখন ইরা আমাকে যথেষ্ট শাসন করে, কি করবো কি করবো না সব ইরা নিজের মতো করে আমাকে দিয়ে করাতে চায়! যার জন্য আমাদের মধ্যে ছোট-খাটো তর্ক, ঝগড়ি, অভিমান প্রায়ই হয়! কিন্তু এতে আমি কখনই এমনটা মনে করি না যে ইরা আমাকে ভালোবাসে না!
কারণ মানুষ যাকে যতটা বেশি আপন করে নেয় তার উপর ততটাই নিজের প্রভাব ফেলতে চায় এটাই স্বাভাবিক! আর এসব কিছু আপনজনের উপরই করা হয়! যেমন বাবা-মা সন্তানের উপর শাসন, যত্ন, বাধা-নিষেধ, শাস্তি সবকিছু এজন্যই প্রয়োগ করে যাতে সন্তানের মঙ্গল হয়! আর এটা ভালোবাসার ই আরেক বহিঃপ্রকাশ! এতে যদি কেউ মনে করে যে ভালোবাসা আগের মতো নেই বা কম-বেশি তাহলে তার মতো নির্বোধ দুনিয়াতে দুটি নেই!!
ইদানিং আব্বু-আম্মুর সাথেও ইরার সামান্য কাটাকাটি হয়! কিন্তু ভেবে দেখবেন নিজের বাবা-মায়ের সাথেও কিন্তু মেয়েদের এরকম সমস্যা হয়েই থাকে! কিন্তু আজকাল মেয়েরা শশুড়-শাশুড়ি কে নিজের বাবা-মায়ের চোখে আর শশুড়-শাশুড়িরা পুত্রবধুকে নিজের মেয়ের চোখে দেখে না বলেই এই সামান্য বিষয়টা জঠিল আকার ধারণ করে!
যাই হোক আমার বাবা-মা আর ইরার মধ্যকার এ সমস্যা আমি সবসময় দূরে সরিয়ে দেই যাতে সংসারে অশান্তি না হয়! আফসোস আজকের সমাজের ছেলেরা তা না করে হয় বাবা-মায়ের কথায় স্ত্রীকে নতুবা স্ত্রীর কথায় বাবা-মায়ের উপর একতরফা বিচার করে কষ্ট দেয়!
অথচ দু দিকের মানুষগুলোর সমস্যা দূর করে দিয়ে তাদের নিয়ে একসাথে শান্তিতে থাকার কথা ভাবে না! যার ফলেই আজকে মানুষ পূর্ণ সুখ লাভ করতে পারে না! কারণ একজন আপন মানুষকে কষ্ট দিয়ে কখনই আরেকজন আপন মানুষকে নিয়ে সুখে থাকা যায় না!
ইরাও এসব সামান্য বিষয়কে তুচ্ছজ্ঞান করে কারণ বিনিময়ে তার জন্য রয়েছে আমার অকৃত্রিম ভালোবাসা! আমার আব্বু-আম্মু ও ইরার ছোট-খাটো ভুল মেনে নেয় ইরাকে নিজের মেয়ে হিসেবে ভেবে! প্রতিটা পরিবারের প্রত্যেক সদস্য যদি এরকম করে ভাবতো তাহলে হয়তো পৃথিবীর কোন বাবা-মা তার সন্তান ও ছেলের বউয়ের থেকে কোন কষ্ট পেতো না আর কোন মেয়েকেই তার শশুড় -শাশুড়ির নির্যাতন ভোগ করতে হতো না!
,
আজকে অনেক গরম লাগতেছে তাই ভাবলাম দুপুরে বাসায় গিয়ে গোসল করে তারপর খাবো! তাই কাজগুলা তারাতারি করে শেষ করে দুপুরে বাসায় চলে আসলাম! গোসল করে খেতে বসবো দেখি ইরা তার প্রিয় চিনা মাঠির বাসন গুলো ধুয়ে পরিষ্কার করতেছে ময়লা জমে যাওয়াতে! 
আমি খেতে দিতে তাড়া দিলে বলে আমার হয়ে গেছে কিছুক্ষনের মধ্যে খাবার দিচ্ছি অপেক্ষা করো!
অপেক্ষা করতেছি আর ভাবতেছি মেয়েরা চাইলেই কত সুন্দর করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে সংসার সাজাতে পারে! এমন সময় আম্মু আমাকে বসে থাকতে দেখে ইরাকে বলে তুমি রঙ্গন কে খাবার দাও আমি বাসনগুলো যথাস্থানে রেখে দেই! ইরা বললো মা বেশিক্ষন লাগবে না আমি পারবো কিন্তু মা জোর করায় আমাকে খাবার পরিবেশন করে দিতে লাগলো! এমন সময় হঠাৎ ভাঙ্গার একটা বিকট শব্দ পেলাম! ইরা আর আমি লক্ষ্য করে দেখলাম মা বাসনগুলো রাখতে গিয়ে দূর্ঘটনা বশত বাসনগুলো ভেঙ্গে ফেলেছে!
ফলে ইরা আম্মুর উপর প্রচন্ড রেগে গেছে কিন্তু কিছুই বলতেছে না! আমি মায়ের কাছে গেলাম এবং মাকে সেখান থেকে খাবারের টেবিলে নিয়ে আসলাম!
জিজ্ঞাস করলাম খাইছে কিনা!!
না সূচক মাথা নাড়ানোর ফলে মাকে আমার পাশে বসিয়ে মাকে নিজ হাতে খাবার পরিবেশন করে দিলাম! বাসন গুলো মা'র দ্বারা ভেঙ্গে গেছে কিন্তু তবুও মাকে কিছু বলতেছি না দেখে ইরা রাগ দেখিয়ে নিজে না খেতে বসেই চলে যায়! ইরা চলে যাবার পর মা নিচু স্বরে আমাকে বললো বাবা বৌমা বোধ হয় খুব রাগ করেছে আমার উপর কিন্তু আমি.....
আমি মাকে চুপ করিয়ে দিয়ে বললাম থাক মা বাদ দাও! তুমিতো ইচ্ছে করে করো নি! অসাবধানতা বশত হয়ে গেছে! মাগো তুমিতো মা আর ইরা তো তোমার মেয়েরই মতো! সন্তান না বুঝে মায়ের উপর রাগ করতেই পারে কিন্তু তাই বলে মা কি পারে সন্তান কে দূরে সরিয়ে দিতে! তুমি  ওর ব্যাবহারে কষ্ট পেও না! আর নিজেকেও দোষী মনে করবে না! এরকম ছোট-খাটো দূর্গটনা জীবনে অনেকই হয় কিন্তু সেসব ধরে রাখলে কি চলে! মা ইরাকে নিজের সন্তানের মতো মনে করে সবসময় আপন করে রেখো! মা খাওয়া শেষ করে চলে যায় আর বলে যায় বৌমাকে একটু বুঝিয়ে বলিস! মাকে বুঝিয়ে রুমে ইরার কাছে গেলাম! মুখটা গুমরা করে বসে আছে! ইরার পাশে বসার সাথে সাথে ইরা উঠে বেরিয়ে আসবে তখন জোর করে ইরা কে আমার সামনে দাড় করালাম! ইরার হাত দুটি ধরে বললাম সামান্য বিষয়ে তুমি রাগ না করলেও পারতে! কথাটা বলা মাত্রই ইরা রাগে বললো তুমি সামান্য বলছো?? আমি কি মাকে বলেছিলাম বাসনগুলো রাখতে! আমিতো বলেছিলাম আমি করে নেবো! আর এখন কি বাসনগুলো ফিরে আসবে আর ফিরে আসলেও টাকা?? টাকাগুলো তো নষ্ট হলো! এমনিতেই আয়-রোজগার কম তোমার! সহজে পারবো আবার জিনসগুলো কিনতে???
ইরার কথা শুনে একটু হাসলাম!
তারপর ওকে কাছে টেনে বললাম তাহলে শুনো তোমাকে কিছু ঘটনা বলি! কাল্পনিক বা উদাহরণ নয়! একেবারে বাস্তব ঘটনা!
ছোটবেলা আমাদের অবস্থা ততটাও ভালো ছিলো না! পুরো সংসারটা চালাতে বাবার অনেক কষ্ট হতো! মা খুব হিসাব করে সংসারে খরচ করতো সেই দিনগুলোতে আমি আর আমার ভাই এরকম অনেক দূর্ঘটনা জাতীয় ঘটনা অনেক ঘটাইছি! বিশ্বাস করো ইরা আব্বু-আম্মু একটুও বকা দেয় নি মারবে তো দূরের কথা! শুধু সাবধান হতে বলেছে!! ওসব বাদ দাও! আচ্ছা তুমি ভেবে দেখো তো যখন তুমি ছোট ছিলে তখন এরকম হাজারো দূর্ঘটনা, হাজারো ক্ষতি,টাকা নষ্ট তোমার দ্বারা হইছে কি না?? তখন কি তোমার বাবা-মা শাসন করেছে আর করে থাকলেও সবক্ষেত্রেই কি শাসন করেছে?? নিশ্চই করে নি!! আমাদের ছোটকালে যদি তারা বিষয়টা সহজভাবে নিতে পারে, স্নেহ করে মাফ করে দিতে পারে, ভালোবেসে শাস্তি না দিতে পারে তবে তাদের বৃদ্ধাকালে কেনো আমরা পারবো না তাদের কে সেই দিনগুলির কথা মনে করে, তাদের সম্মান,শ্রদ্ধা করে বিষয়গুলো তুচ্ছ মনে করতে!!
আরেকটা কথা মানুষ কিন্তু টাকা-পয়সা, ধন-সম্পদ, দ্রব্য-সামগ্রী ব্যাবহার করে নিজেদের আপন মানুষগুলোকে নিয়ে সুখে থাকতে!
কিন্তু সেই আপন মানুষগুলো দ্বারা যদি উক্ত টাকা-পয়সা, ধন-সম্পদ, দ্রব্য-সামগ্রীর ক্ষতি সাধিত হয় তবে তাদের প্রতি কঠোর হওয়া নির্বোধ পশুর ন্যায় আচরণ করার সমতুল্য ছাড়া আর কিছুই না!!
ইরাকে বললাম এসব কথাও বাদ দাও! ইরার কানের কাছে মুখ নিয়ে বললাম যদি আল্লাহ্ মেহেরবানী করে সামনে তুমি মা হও আর আমি বাবা......
বলতেই ইরা লজ্জায় বুকে মাথা গুজলো! ইরাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললাম যখন আমরা বাবা-মা হবো তখন আমাদের সন্তান যদি ছোট ছোট ক্ষতি করে তবে তাদের উপর যেমন আমরা কঠোর হবো না ঠিক তেমনি আমাদের বৃদ্ধাকালে ও তো আমরা চাইবো যেনো এরকম ঘটনায় তারা আমাদের প্রতি রাগ না হয়! কি এটাই আশা করো তো! ইরা হ্যা সূচক মাথা নাড়লো! ইরার কপালে ভালোবাসার চুম্বন পরশ একেঁ বললাম, তোমার আর আমার প্রেমের ফলে গড়ে উঠবে আমাদের আজকের সুখি জীবন!
আমাদের প্রতি আমাদের সন্তানের প্রেমে গড়ে উঠবে আমাদের ভবিষ্যত সুখি জীবন যেমনটা এখন আমাদের বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসায় তারা সুখি জীবন ভোগ করতে পারবে!!
যুগ-যুগান্তর এভাবেই বারবার চক্রাকারে ঘুড়বে মানব জীবন!
আর সে জীবনটা সুখি করার জন্য দরকার একে অপরের প্রেম ভালোবাসা!!
কেনোনা,
*সংসার জীবন সুখের জীবন,
যদি না হয় প্রেমেরও মরণ!!*
,
তাই চলো সবার প্রেম দিয়ে যুগের পর যুগ,শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে করি অকৃত্রিম ভালোবাসার পুনরাবৃত্তি!!
Share:

পুলিশিনী_যখন_ক্রাস পর্ব :- ৫ । Golpo Police Jokhon Crush part 6

#পুলিশিনী_যখন_ক্রাস
😍😍😍😍
লেখক:- মো: আলাউদ্দিন শেখ (দুষ্টু ছেলে)
পর্ব :- ৫
:::
:::
:-তুই তো বলতি তোর একজন ভালোবাসার মানুষ দরকার আর ছেলেটিও তো অনেক ভালো ছিলো,,,
দেখতেও ভালো ছিলো,,,
তাহলে এভাবে মারলি কেনো? 😕  (মেয়েটি)
:-..........(শুরুভি পুলিশিনী চুপ করে আছে)
:-আরে পুলিশ তো অন্যায়কারীকেও এভাবে মারে না তুই যেভাবে ছেলেটিকে মেরেছিস? 😕😕  (মেয়েটি)
:-.........(টুটুটুটুটুটুটুটুটুটুটুটুটুটুটু,,,,,কিছু না বলে শুরুভি ফোনটি কেঁটে দিলো)
:;
::
পুলিশিনী ফোনটি কেঁটে দেওয়ার পর,,,,মাথায় হাত দিয়ে চুপ করে বসে রইলো!!
শুরুভি নিজে নিজেই ভাবতেছে!!
আমার এমন লাগছে কেনো? খারাপ লাগছে কেনো ছেলেটিকে মেরে? 
আমার তো খুঁশি হওয়ার কথা,,,কিন্তু তা হচ্ছে না কেনো?
তাহলে আমি কি ঠিক করিনন  ছেলেটিকে ওভাবে মেরে? 😟😟
কেনোই বা মারলাম ছেলেটিকে,,,ছেলেটির তো কোন দোষ ছিলো না,,আমাকে তো শুধু  ভালোবাসতো,,,আমাকে তো ভালোবাসতে জোর করেনি!!
নাহ্হ্,,,,রাগের ঘোরে অনেক বড় একটি অন্যায় করে ফেলেছি!! 😢😢😢
আমার এখন কি করা উচিত কিছুই বুঝছি না 😟😟
::
;:
এসব যখন বসে বসে পুলিশিনী  মনে মনে ভাবতেছে,,,
:-মেডাম আপনার কথা মতো হাসপাতালে গিছিলাম? (রুমে একটি কনেস্টেবল এসে বললো)
:-ওহো,,এসেছো!!  ছেলেটির খবর কি? 😟 (পুলিশিনী)
:-মেডাম বেশি ভালো না,,,,,ডান পাঁয়ের হাড্ডি ভেঙে!! অনেক বেশি মার হয়ে গিছে মেডাম! (কনেস্টেবল)
:-ওকে,,এখন তুমি যাও 😢😢 (শুরুভি পুলিশিনী)
::
(এখন শুরুভির কিছুই ভালো লাগছে,,,,,,তাই শুরুভি বাসায় চলে গেলো,,,,,,,বাসায় গিয়ে আনমনে বসে আমাকে মারার কথা চিন্তা করছে!!
আর এদিকে হাসপাতালে,,,
::
::
:-তোর হোন্ডা আমি বেঁচে দিবো?  (মা)
:-মা!! কি বলছো? (আমি)
:-হুমম,,,আমি ঠিকই বলছি!!
:-তাহলে আমি কলেজে যাবো কিভাবে?
:-আমি রিকাশা ঠিক করে দিবো?  তবুও তুই আর হোন্ডা চালাবি না!
:-আরে মা আর  কিছু হবে না,,,,তুমি ভয় পাচ্ছো কেনো?
:-তুই কোন কথা বলবি না,, তোর কিছু হলে গেলে আমি কি নিয়ে বাঁচবো বল? 😢😢😢
:-আমার লক্ষি মা,,,,তোমাকে প্রমিজ করছি আর কখনো জোরে হোন্ডা জোরে চালাবো না,, (মাকে জড়িয়ে ধরে)
:-হুমমম,,,,,,,মনে থাকবে তো?
:-হুমমম,,,মা মনে থাকবে!!  এখন খাবার খাইয়ে দেও? (আমি)
:-হুমমম,,,,,তোকে কবে বাসায় নিয়ে যেতে দিবে? (মা)
:-আগামিকাল বিকালে!!
:-হুমমম,,,,আর ঠিক হতে কতো দিন লাগবে?
:-দুই মাস লাগবে সম্পূর্ণ ঠিক হতে!!
:-তাহলে কয়দিন পর যে তোর পরীক্ষা!! 😟😟
:-সমস্যা নাই,,,আমি প্রিন্সিপালকে ফোন দিয়ে সব খুঁলে বলছি,,,
স্যার  বলছে,, তোমাকে দিতে হবেন না,,,তুমি সুস্থ হয়ে কলেজ এসো!
:-ওহো,,ঠিক আছে !! 
(রাত্রে পাশে মা ঘুমিয়ে ছিলো,,আমার ঘুম আসে নি তেমন একটি,,ব্যথা করতেছিলো বলে)
:::
:::
যাই হোক সকালে,,,,এদিকে পুলিশিনীর বাসার নিচে,,,পুলিশিনীর ঔই তিন বান্ধবী দাঁড়ায়ে শুরুভিকে ফোন দিচ্ছে,,,,
:-হ্যালো,,,তুই কোথায়? (বান্ধবী)
:-আমি তো বাসায়? (পুলিশিনী)
:-বাসার নিচে আয়,,,আর সিবিল ড্রেসে আসবি!!
:-কেনো? 😧😧 (অবাক হয়ে)
:-আসতে বলছি আসবি! এতো কথা বলিস কেনো? 😕
:-হুমম,,,আসতেছি!!;😟
::
::
১০মিনিট পর শুরুভি পুলিশিনী নিচে এসে দেখলো,,,ওর তিন বান্ধবী দাঁড়িয়ে আছে!!
:-তোরা এতো সকালে এখানে কেনো? (পুলিশিনী)
:-তোর ভুলের জন্য!! 😕😕
:-😒😒😒... (শুরুভি বুঝতে পেরে মাথা নিচু করে ফেললো)
:-মন খারাপ করে এখন কি হবে,,,,চল এখন আমাদের সাথে!!
(শুরুভি বুঝতে পারলো,,ওকে উরা আমার কাছে নিয়ে আসবে,, আর সরি বলতে বলবে,,,,তাই শুরুভি চুপ করে ওদের কথা মতো গাঁড়িতে চললো)
::
::
(কিছুটা পথ যাওয়ার পর,,,
:-ছেলেটিকে গিয়ে সরি বলবি,,,বলবি তোর ভুল হয়ে গিছে? (বান্ধবী)
:-😒😒😒....(নিচের দিকে তাকিয়ে চুপ করে বসে আছে)
:-কিরে কথা বল?
:-হুমম,,,বলবো!! (মাথা নিচু করে)
:-হুমমম,,,!!
(আরো কিছুটা পথ আসার পর,,,,,
সবাই যখন চুপপ,,,
তখন শুরুভি,,
:-আচ্ছা একটি কথা বলি? 😒😒 (পুৃলিশিনী)
:-কি বলবি!! 😕😕
:-বলছিলাম,,,একটি ফুলের তোরা নিলে ভালো হতো না? 😒😒  (মাথা নিচু করে বললো)
:-😲😲😲😲...(তুই বলছিস এই কথা)
:- 😞😞😞😞  (মাথা নিচু করেই আছে)
:-যাক তাহলে অবশেষে তোর মনে ছেলেটির জন্য কিছুটা দোয়া দেখা গেলো!!
:-........(চুপ করে বসে আছে)
:-বসে আছিস কেনো? যা ফুলের তোরা নিয়ে আয়?
:-😟😟😟😟...(শুরুভি ওদের দিকে তাঁকালো)
:-তাঁকিয়ে আছিস কেনো? যা?
(তারপর শুরুভি কিছু না বলে,,,ফুলের তোরা আনতে গেলো)
(ফুলের তোরা এনে শুলুভিকে কিছুটা খুঁশি লাগছিলো,,,
আর দেরি না করে,,,তারা সোজা হাসাপাতালে চলে আসলো)
::
:;
::
আমি আর মা যখন বসে বসে কথা বলছি,,,,তখন,,,
:-আসতে পারি? (শুরুভির বান্ধবী)
:-....(আমি আর মা দরজার দিকে তাঁকালাম)
:-হুমমম,,,,আসো? (মা আসতে বললো)
(তারপর তিনজন ভিতরে আসার পর,,,
সব শেষে দেখি হাতে ফুলের তোরা নিয়ে শুরুভি রুমে ঢুকলো)
:-😲😲😲😲😲😲...(আমি অবাক চোখে তাকিয়ে আছি শুরুভি আসছে দেখে)
(আর ওকে একদম পরীর মতো লাগতেছে,,,নীল ড্রেস পরে আসছে বলে একদম নীল পরী লাগতেছে!!
মনে বলছে ,,এক নজরে তাঁকিয়ে থাকতে কিন্তু পারছি না,,,,
তাঁকাতে পারছি না,,,দুটি কারণে,,  ১. রাগ এবং ২. ভয়
ভয় পাচ্ছি,,কারণ যদি তাঁকানোর জন্য আবার মারে!!
কিন্তু,,শুরুভি নিচের দিকে তাঁকিয়ে আছে,,মাথা নিচু করে আছে!!
মনটা খারাপ মনে হচ্ছে)
::
:-তোমাদের তো চিনলাম না,,, তোমরা কারা মা? (মা বললো)
:-জ্বি,,আন্টি আমরা #আলাউদ্দিনের পরিচিত!! (বান্ধবী)
(রুমে ঢুকার পর থেকে শুরুভি মাথা নিচু করে সবার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে) 
:-আচ্ছা তোমরা কথা বলো? আমি ডাক্তারের সাথে কথা বলে আসি? (মা এই বলে চলে গেলো)
::
::
(মা চলে যাওয়ার পর,,
:-ভাইয়া ভালো আছেন?  (শুরুভির বান্ধবী)
:-জ্বি,,,মোটামুটি!  আপনারা কেমন আছেন? (আমি)
:-জ্বি,,ভালো আছি!
ভাইয়া আপনাকে কিছু কথা বলতে চায় #শুরুভি 
:-😨😨😨😨😨 কি কথা (আমি অবাক চোখে)
:-শুরু বল? (শুরুভির সামনে থেকে বান্ধবীরা সরে গেলো)
:-😞😞😞😞😞....(পুলিশিনী মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে)
:-কিরে বল? (শুরুভির বান্ধবীরা)
:-😟😟😟😟😟😟..(অপরাধী চোকে শুরুভি এবার আমার দিকে তাঁকালো)
:-......(আমি অপলোক চোখে তাঁকিয়ে আছি শুরুভির দিকে,,,,সত্যি বলছি অসাধারণ সুন্দর লাগতেছে ওকে,,,,,তাঁকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করতেছে,,,
ওকে দেখার পর,,,আমার সব রাগ,,,অভিমান কোথায় যে হারিয়ে গেলো বুঝছি না)
:-সরি!! 😒😒😒😒 (তাঁকিয়ে আবার মাথা নিচু করে ছোট্ট করে সরি বললো)
:-আরে আপনি সরি বলছেন কেনো? অন্যায় করেছি মেরেছেন? 😥
(পুলিশিনীর মুখে তুমি শুনে,,অদ্ভুত একটি অনুভব হচ্ছে মনে)
:-আমার ভুল হয়ে গিছে,,,মাফ করে দেও?😟😟 (পুলিশিনী  আমার দিকে তাঁকিয়ে)
:-ভাইয়া,,,ও ওর ভুল বুঝতে পেরেছে,,,আপনি ওকে প্লিজ?   (শুরুভির বান্ধবী)
:-হুমমম, ভাইয়া,,,(বান্ধবী)
:-ওকে,,যাও মাফ করে দিলাম!! 😥😥  (মেরে পাঁ ভেঙে সরি বলতেছে,,,,, সরি বলে লাভ নাই,,,,মাফ করিনি,,,মনে মনে বললাম😕😕)
:-সত্যি,,,অনেক ধন্যবাদ!! এটি তোমার জন্য!! 💐 (ফুলের তোরাটি আমার হাতে দিয়ে)
:-ধন্যবাদ,,,,(আমি)
(যতই নরম হও,,লাভ নাই!! তোমার মতোতো গুন্ডি মার্কা মেয়ে থেকে আমি শত হাত দূরে থাকবো শিয়র)
::
::
(আপনারা কি ভাবছেন,,,পুলিশিনী আমাকে এখন ভালোবাসবে!!
জানি না ও কি করবে? হয়তো ভালোবাসবে/ কিন্তু ভাই আমি ওর থেকেকে দূরে দূরে থাকবো!!
এতো সহজে মেনে নিলে হবে,,,,,সুদে-আসলে সব হিসাব নেবো মনে মনে আমি)
:::
:::
:-দেখ,, যাকে এতো মারলি,,,বলার সাথে সাথে সব ভুলে গিয়ে মাফ করে দিলো? (বান্ধবী)
:-আরে কি বলছো তোমরা? (আমি)
:-হুমমম,,,,ঠিকই বলছি!! (বান্ধবী)
:-আমাকে সত্যি অনেক খারাপ করে ফেলছি!! 😒😒😒 (শুরুভি মন খারাপ করে)
:-আরে মন খারাপ করবেন না,,,আমি কিছু মনে করিনিনি!! (শা*লি মেরে এখন আদিকখিতা দেখাচ্ছে মনে মনে)
:::
হঠাৎ এর মাঝে মা রুমে ঢুকলো,,
:-আচ্ছা আন্টি ওকে কবেবে বাসায় নিবেন? আর সুস্থ হতে কতো দিন লাগবে? (বান্ধবী)
:-২ মাস লাগবে আর আজ বিকালে বাসায় নেবো!! (মা)
(আমার দিকে শুরুভি এক নজরে তাঁকিয়ে আছে,,,কিন্তু আমি ওর দিতে তাকাচ্ছি না)
:-মা তোমরা ওকে একটু বুঝাও? দেখো হোন্ডা চালাতে গিয়ে পাঁ ভেঙে নিলো,,,আমার কথা একটুও শোনে না!! (মা)
:-😲😲😲😲😲..(সকলে মার কথা শুনে অবাক,,কারণটা বুঝেছেন)
(শুরুভিও অবাক চোখে তাকিয়ে আছে মার দিকে,,,কারণ আমি তো পুলিশের মারের কথা বলি নাই,,,)
:-হুমম,,,আন্টি বুঝাবো!! আমরা আজ আসি!!   (শুরুভির বান্ধবী)
:-ওকে আসো মা!! বাসায় এসে ঘুরে যেও একদিন!! (মা)
:-আচ্ছা!! (এই বলে চলে গেলো))
::
::
::
বাইরে যাওয়ার পর,,
:-দেখছিস,,,তুই যে মারছিস তা না বলে,, বলছে #হোন্ডা থেকে পরে গিয়ে পাঁ ভাঙছে!! কতো ভালো ছেলেটি  (বান্ধবী)
:-হুমমম,,ছেলেটি যদি তোকে ভালো না বেসে আমাকে বাসতো,, আমি তো ওকে বিয়ে করে নিতাম!  (শুরুভির  বান্ধবী)
:-😕😕😕😕 (শুরুভি রাগি চোখে বান্ধবীর দিকে তাঁকালো)
:-রাগিস কেনো? তুই তো আর ভালোবাসিস না!
:-😕😕😕 চল বাসায় চল!! (শুরুভি কিছু না বলে, সকলে বাসায় চলে গেলো)
::
::
আর দেখতে দেখতে দুই মাস চলে গেলো,,,
আমি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ,,,,,
তবে এই দুই মাস,,,,বাসায় থাকতে থাকতে বরিং হয়ে গিছে।
আর এর জন্য শুরুভির উপর রাগটাও বেরেছে!
শা*লীর জন্য,,,আমার এই অবস্থা!!
 আর সেই যে সরি বলে গিছে,,, তার পরে আর খবরও নেয় নি!! 
::
::
দুই মাস পর,,,মাকে অনেক বুঝানোর পর,,,হোন্ডা নিয়ে বিকালে বের হলাম আমি আর কাব্য!!
:
(আর হে,,একটি কথা এই দুই মাসে,,,আমি গাড়ির লাইসেন্স করেছি,,ড্রাইভিং,লাইসেন্সও করেছি)
::
::
তো বিকালে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি,,,,
তো দেখি দূরে গাঁড়ি ধরতেছে,,, আর শুরুভিও আছে!
আমি কাছে যেতেই একটি পুলিশ আমাদের থামালো!!
:-হেলমেট তো পড়েছো,,,,এখন গাঁড়ির কাজ পাতি দেখাও,,ড্রাইভিং,লাইসেন্স দেখাও!! (পুলিশ)
:-......(আমরাও গাঁড়িড়ি থেকে নামলাম)
(আর আমাদের শুরুভি দেখার সাথে সাথে আমাদের কাছে আসলো)
কাছে এসে,,,
:-উনাদের যেতে দেও? (শুরুভি পুলিশিনী)
:-ওকে মেডাম,, আপনারা যান? (পুলিশটি)
(আমি,তাদের কথা না শুনে,,,,
গাঁড়ির সিট খুলে কাগজ বের করলাম,,,
:-ঔই তোমাদের তো বললাম,,,দেখাতে হবে না তোমাদের! (পুলিশটি)
(শুরুভি আমার দিকে তাঁকিয়ে আছে,,আমি একবারও ওর দিকে তাঁকায় নি)
:-এই যে আমার গাড়িন কাগজ,, আর আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স!! (আমি)
:-তারপর পুলিশটি কাগজ দেখলো!!
(তারপর আমরা আর কোন কথা না বলে,,,চলে আসলাম)
::
::
আমার দিকে তাঁকিয়ে ছিলো এক নজরে,,,,,আমি তাঁকায় নি!!
এত সহজে সব ভুলা যাবে না!!
যাই হোক,,,বাসায় আসতে আসতে রাত দশটা বাজলো,,
অনেক দিন পর বের হইছি তো,,
তাই আড্ডা দিতে দিতে দেরি হয়ে গিছে!!
::
::
শীতের রাত দশটা মানে অনেক রাত,,,দোকান পাট সব বন্ধ!!
আমি আর কাব্য হোন্ডা নিয়ে ফেরার পথে,,,রাস্তার মধ্যে দেখি পুলিশীর গাঁড়ি দাঁড়ানো!
কিন্তু গাঁড়ির ওপাশ থেকে শব্দ আসতেছে,,,,
:-বাঁচাও,,বাঁচাও!! কেও আমাকে বাঁচাও প্লিজ!! (মেয়েলি কন্ঠ)
(আমরা হোন্ডা জোরে টেনে গাঁড়ির পাশে দাঁড়াতেই দেখি,,,তিনটা যুবক একটি মেয়েকে জোর করে কোথাও নিয়ে যেতে চাচ্ছে)
:-ঔই কে রে/ (আমি)
(আমরা গাঁড়ি থেকে নেমে)
(আমাদের দেখেই উরা দৌড়ে পালালো)
(ছেলেগুলো পালানোর পর,,,,
গাঁড়ির অন্ধকার থেকে,,,,
আলোতে শুরুভি বেরিয়ে আসলো,,,,
:-😲😲😲😲..(আমরা দুজন তো অবাক চোখে তাঁকিয়ে আছি)
:-আপনি? (কাব্য)
(আমি ওকে দেখার পর,,ঘুড়ে দাঁড়িয়েছি)
:-আসলে,,আমার পিস্টলটা ভুল করে থানায় রেখে আসছি,,, আর শয়তান ছেলেগুলো আমার সাথে!  😥😥😥😥....(শুরুভি পুলিশিনী).
:-হুমমম,,,,বুঝলাম!! (কাব্য)
:-কাব্য চলে আয়? (আমি কাব্যকে ডাক দিলাম)
:-হুমমম!! (কাব্য)
(কাব্য যেই আমার হোন্ডায় উঠতে যাবে তখন,,,
:-বলছিলাম কি? আমার গাঁড়ির চাক্কা উরা লিক করে দিছে!! 😟 (শুরুভি বলে উঠলো)
(আমরা পিছনে তাকিয়ে গাঁড়ির চাক্কার দিকে তাঁকালাম,,,সত্যি দেখি চাক্কা লিক)
(আমরা গাঁড়ি থেকে নামলাম)
(শুরুভি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে)
:-কাব্য তুই উনাকে নামিয়ে দিয়ে আসেক? আমি এখানে অাছি!! (আমি)
:-বন্ধু তুই যা,,,আমি আছি এখানে!! (কাব্য)
:-তোকে যা বলছি তাই কর? (আমি)
:-ওকে!!  (কাব্য)
(তারপর কাব্য হোন্ডা ইস্টার দিলো,,,
:-আসুন, মেডাম? (কাব্য)
:-.....😟😟😟 শুরুভি হোন্ডায় না উঠে আমার দিকে তাঁকিয়ে আছে!! 
::
::
::
কেমন_হলো_জানাবেন? সারা পেলে পরের পর্ব লিখবো?
::
::
::
#চলবে
Share:

সিনিয়র বউ পর্ব ৬।Golpo Sinior Bow part 6

সিনিয়র বউ


লেখক-নাঈম আহাম্মেদ হৃদয়

পর্ব_০৬

(৫ম পর্বের পর থেকে)

আম্মুঃ না মানে তুই যদি দিয়ে আসতি তাহলে ভালো হতো।

আমিঃ আমি কিভাবে দিয়ে আসবো, অফিসের দেরি হয়ে যাবে।

আম্মুঃ হবে না, তামান্না রেড়ি আছে। প্লিজ বাবা না করিস না।

কি আর করা, আম্মুর কথা মতো তামান্নাকে নিয়ে বাসা থেকে বের হলাম। একটা CNG নিলাম, তামান্নার পাশাপাশি বসে আছি কিন্তু কোনো কথা বলছি না। তামান্না কি যেন বলবে, মুখ দেখে বুঝলাম, তারপর জিজ্ঞেস করলাম....

আমিঃ কি বলবেন?

তামান্নাঃ তোমার অফিস কখন শেষ হবে?

আমিঃ ৪.০০ টায়। কাজের চাপ থাকলে দেরি হতে পারে।

তামান্নাঃ ও আচ্ছা। একটা কথা বলতাম,,,,

আমিঃ হুম বলেন।

তামান্নাঃ তোমার অফিসে মেয়ে কলিগ আছে?

আমিঃ হুম আছে, ৫ জন আছে। ২ জন আমার পাশেই বসে।

তামান্নাঃ ও আচ্ছা। (মন খারাপ করে)

কথা বলতে বলতে তামান্নাদের বাসার সামনে চলে আসলাম, তামান্নাকে নামিয়ে দিয়ে চলে আসতে যাবো এমন সময়....

তামান্নাঃ বাসায় যাবে না?

আমিঃ না, আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।

তামান্নাঃ অফিস শেষে আসবে?

আমিঃ না, আর কারো আপমান সহ্য করবো না, এমনিতেই অনেক অপমানিত হইছি। কলেজে যাওয়াও বন্ধ করে দিছি। আপনি বাসায় চলে যান।

তামান্না কিছু একটা বলতে চাইছিলো সেদিকে না তাকিয়ে ড্রাইভারকে বললাম গাড়ি টান দিতে। তারপর সেখান থেকে সোজা অফিসে চলে গেলাম।

সারাদিন অফিস করে বিকালে আড্ডা দিয়ে বাসায় গেলাম।

আম্মুঃ কিরে তুই এখানে কেন?

আমিঃ তো কোথায় যাবো?

আম্মুঃ তুই তামান্নাদের বাসায় যাসনি?

আমিঃ আমারে কি পাগলা কত্তায় কামড়াইছে? খাবার দাও তো, এগুলো ভালো লাগছে না। তোমার কথা রাখতে গিয়ে আজকে আমার জীবনটা তেজপাতা হয়ে গেলো।

আম্মিঃ কিহ!

আমিঃ কিছু না, খাবার দাও। আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।

আম্মুঃ আচ্ছা আয়।

খাওয়া দাওয়া করে রুমে গিয়ে খাটে শুয়ে পড়লাম, আহ কি শান্তি। আজকে কতোদিন পর শান্তিতে ঘুমাবো। এতো দিন এই ফকিন্নির জন্য খাটে ঘুমাতে পারিনি। মনে হচ্ছে ২০ বছর খাটে ঘুমাই না।

শুয়ে শুয়ে গান শুনছি এমন সময় একটা নতুন নাম্বার থেকে কল আসে।

আমিঃ হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম! কে বলছেন?

ওপাশ থেকেঃ আমি!

আমিঃ আরে আমিটা কে?

ওপাশ থেকেঃ আমি তামান্না বলছি।

আমিঃ ও আচ্ছা, এটা কার নাম্বার?

তামান্নাঃ কাজিন একটার। তুমি ঠিক মতো খাইছো?

আমিঃ হুম, আপনি খাইছেন?

তামান্নাঃ হুম।

আমিঃ আপনার আম্মু কেমন আছে?

তামান্নাঃ জ্বি ভালো।

আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে রাখি, ঘুমাবো।

তামান্নাঃ ওকে।

কল কেটে দিয়ে ভাবছি হঠাৎ এতো কেয়ার নিতেছে কেন? মাইয়া মানুষের বিশ্বাস নাই। এদের মনে কখন কি চলে এরা নিজেরাই জানে না।

যাই করুক তামান্না যে আমাকে আস্তে আস্তে ভালোবেসে ফেলেছে সেটা আমি ঠিকই বুঝতে পেরেছি।

এভাবে ১ সপ্তাহ চলে গেলো, আমিও আরামে ঘুমাই, খায়দাই আর অফিস করি। তামান্নার সাথে কথা হয়না। যদি সে কল দে তাহলে জাস্ট হাই/হ্যালো ছাড়া তেমন কোনো কথা হয় না।

সেদিন অফিসে কাজ করছি এমন সময় সানি কল দিলো...

সানিঃ কিরে কি অবস্থা?

আমিঃ এই তো মোটামুটি। তোর?

সানিঃ আছি বেকার মানুষের আর কিসের অবস্থা। আচ্ছা শোন যে জন্য কল করেছিলাম।

আমিঃ হুম বল।

সানিঃ তোর ডিভোর্স পেপার রেড়ি হয়ে গেছে। আমি বিকালে নিয়ে আসবো, তুই দিঘীর পাড়ে আসিস।

আমিঃ thanks dost.

সানিঃ ধন্যবাদ দিয়ে হবে না, ট্রিট দিতে হবে।

আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে। আয়মানকে বলে দিস।

সানিঃ আচ্ছা ঠিক আছে।

যাক অবশেষে, পেপারটা রেড়ি হলো, এটা নিয়ে এতো দিন কি যে প্যারায় ছিলাম তা বলে বুঝানো যাবেনা।

বিকালে অফিস শেষ করে দিঘীর ওখানে গেলাম, সানি আর আয়মান বসে আছে।

ওদের সাথে অনেকক্ষন আড্ডা দিলাম, তারপর বাসায় আসলাম। এসে দেখি আম্মু রেগে আছে,,,

আমিঃ কি হইছে? এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?

আম্মুঃ তোর মোবাইল কই?

আমিঃ আছে তো। (পকেটে হাত দিয়ে)

যাহ শালা! মোবাইলতো বন্ধ হয়ে আছে।

আম্মুঃ তোরে কল দিলে কল যায় না কেন?

আমিঃ আম্মু চার্জ নেই, শেষ হয়ে গেছে।

আম্মুঃ টিপতে ভালো লাগে, চার্জ দিতে ভালো লাগে না???

আমিঃ আচ্ছা বাদ দাও। কেন কল দিছো।

আম্মুঃ তামান্নাকে নিয়ে আসার জন্য।

আমিঃ তো ও নিজে আসুক। আমি ওর বডিগার্ড নাকি?

আম্মুঃ এ কেমন কথা। মেয়েটা একা একা আসবে কি করে? যা নিয়ে আয়।

আমিঃ নিয়ে আসবো মানে?

আম্মুঃ হুম যা, এখন নিয়ে আয়। না হলে ঘরে জায়গা নেই তোর।

কি করা আবারও তামান্নাদের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।

ওখান এসে দেখি ৮.৩০ বাজে। কলিং বেল বাজালাম। অনেকক্ষণ পর তামান্নার আম্মু এসে দরজা খুলে দিলো।

আমিঃ আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন?

শাশুড়িঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো। তুমি কেমন আছো বাবা?

আমিঃ জ্বি আমিও ভালো আছি।

শাশুড়িঃ তামান্না উপরে আছে যাও।

ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও যাওয়া লাগলো, গিয়ে দেখি তামান্না রেড়ি হয়ে বসে আছে, আমি বললাম....

আমিঃ রেড়ি হয়েছেন?

তামান্নাঃ হুম রেড়ি। আম্মা কল করেছিলো,, তুমি এতো দেরি করলে যে?

আমিঃ অফিস থেকে আসতে একটু দেরি হয়ে গেছে। আচ্ছা চলুন।

তামান্নাঃ এখন না, খাওয়া দাওয়া করে যাবো।

আমিঃ বাসায় গিয়ে খাবো।

তামান্নাঃ না, এখান থেকে খেয়ে যাবো। আম্মু সব রান্না করে বসে আছে।

কি আর করা, খাওয়াদাওয়া করে তারপর বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। CNG তে আর কোনো কথা হয়নি। ভিতরে ভিতরে টেনশনে আছি আজ থেকে আবার শান্তি মতো ঘুমাতে পারবো না।

একটু পর বাসায় চলে আসলাম, এসে দেখি বাসার লাইট সব বন্ধ। দরজা টোকা দেওয়ার আগেই খুলে গেলো, পুরো বাসা অন্ধকার। আমি আম্মুকে কয়েকবার ডাকলাম, কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ নাই। খুব ভয় পেয়ে গেছি। কোনো অঘটন ঘটলো না তো? তামান্না ভয়ে আমার হাত ছেপে ধরে দাঁড়িয়ে রইলো। বুঝলাম ওর হাত কাঁপতেছে।

আমি পকেট থেকে মোবাইলটা বের করবো এমন সময় আমাদের দুজনকে অবাক করে দিয়ে অনেক গুলো লাইট একসাথে জ্বালিয়ে দিয়ে সানি, আয়মান, আম্মু সবাই একসাথে বলে উঠলো,,,, Happy birthday, Happy Birthday Dear Tamanna. many many returns of day.

আমি তো পুরা টাসকি খেয়ে গেলাম, এগুলো কে করলো? কখন করলো, কিভাবে করলো? আমি তো এই ২ ঘন্টা আগেই বাসায় ছিলাম, তখন তো তেমন কিছুই ছিলো না।

আমি ভাবছি আর তামান্না আম্মুকে বললো....

তামান্নাঃ আম্মু আপনি কি করে জানলেন আজকে আমার জন্মদিন? আর এতো কিছু কে করেছে?

সবাই একসাথে আমাকে দেখিয়ে দিলো, আমি আরো একটা টাস্কি খেলাম।

যাইহোক সবাই মিলে কেক কাটলাম, তামান্না প্রথমে আমাকে খাইয়ে দিলো, আমিও খাইয়ে দিলাম। একে একে সবাই খাওয়া দাওয়া করে অনেক মঝা করলাম। সানি আর আয়মান তামান্নাকে অনেক গুলো গিফট দিলো, আম্মু একটা রিং দিলো। বাকী শুধু আমি আছি। সানি হঠাৎ করে বললো,,, জুয়েল তার গিফট কালকে সকালে দিবে। আমি নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।

পরে আমি সানি আর আয়মান ছাদে চলে গেলাম।

আমিঃ কিরে তোরা এতো কিছু কি করে জানিস?

আয়মানঃ আমরা জানতাম না, আন্টি (আম্মু) আমাদের বলেছে। আর তোকে কিছু বলতে নিষেধ করেছে।

আমিঃ ও আচ্ছা। এই সানি তুই যে বললি সকালে গিফট দিবো? কি গিফট দিবো?

সানিঃ আরে ব্যাটা তামান্না তোর কাছে ডিভোর্স চাইছে না? ডিভোর্স পেপার তো রেড়ি। সকালে দিয়ে দিবি আর এটা হবে তামান্নার জন্য সবচেয়ে বড় উপহার।

আমিঃ হুম ঠিক, চল অনেক রাত হইছে ঘুমিয়ে যাই।

আয়মানঃ হুম চল।

এরপর বাসায় চলে আসলাম, সানি আর আয়মানকে রুম দেখিয়ে দিয়ে আমি আমার রুমে গেলাম। দেখলাম তামান্না বসে বসে মোবাইল টিপতেছে। আমি যাওয়ার পর,,,,

তামান্নাঃ Thanks!

আমিঃ কেন?

তামান্নাঃ এতো বড় সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য।

আমিঃ ঘুমিয়ে যান, অনেক রাত হইছে।

তারপর বিছানা থেকে বালিশ নিয়ে সোফায় যাচ্ছি এমন সময় তামান্না বললো...

তামান্নাঃ আমার গিফট?

আমিঃ কালকে অফিসে যাওয়ার আগে টেবিলের উপর রেখে যাবো।

তামান্নাঃ ওকে, একটা কথা বলার ছিলো।

আমিঃ হুম বলেন!

তামান্নাঃ সোফায় না ঘুমালে হয় না?

আমিঃ তো কোথায় ঘুমাবো?

তামান্নাঃ খাটে ঘুমাও।

আমিঃ No Thanks. আপনি ঘুমিয়ে যান।

আর কোনো কথা না বলে ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে উঠে দেখি তামান্না আমার আগেই উঠে গেছে। আমি ফ্রেশ হয়ে ডাইনিং রুমে গিয়ে দেখি আম্মু রান্না করছে আর তামান্না সেগুলো টেবিলের উপর সাজিয়ে দিচ্ছে।

তারপর নাস্তা করে রেড়ি হয়ে, ডিভোর্স পেপারটা হাতে নিলাম। অনেক কষ্ট হচ্ছে সাইন করতে, অনেক ভালোবেসে ফেলেছি মেয়েটাকে। কিন্তু কিছু করার নাই, হয়তো সে অন্য কারো কাছে আমার থেকেও বেশি ভালো থাকবে। আমি চাই সে সব সময় ভালো থাকুক। মনকে শক্ত করে সাইনটা করে দিলাম। আরো ছোট একটা চিরকুট লিখলাম।

"" আজকে আপনাকে মুক্ত করে দিলাম, আপনার জন্মদিনে আপনার বেস্ট চাওয়াটাই আমি পূরণ করার চেষ্টা করেছি। আশা করি আপনি সাইনটা করে দিবেন। অনেক বেশি ভালো থাকবেন। আল্লাহ যেন আপনাকে অনেক ভালো রাখে সেই দোয়াই রইলো""

চিরকুট আর ডিভোর্স পেপার টেবিলের উপর রেখে চলে গেলাম।
তারপরেই.....

চলবে.....

সবাই মুনাজাত ধরেন গোসল করতে জাইতেছি বেছে থাকলে পরবতী পর্ব দিবো আমর জন্য একটু  দুআ করুন

আগের পর্ব এই গ্রুপে দেওয়া হয়েছে
https://www.facebook.com/groups/3279333408804494/
Share:

শূন্য_থেকে_ভালোবাসা #পর্ব_১৪_এবং_শেষ

#শূন্য_থেকে_ভালোবাসা
#লেখক_অাকাশ_মাহমুদ
#পর্ব_১৪_এবং_শেষ

অাকাশ ময়নাকে মারতে থাকে,একটা সময় ময়না অার সহ্য করতে না পেরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে,অার ফ্লোরে ছিটিয়ে পড়া অনেক গুলো কাঁচের টুকরো ময়নার হাতে ঢুকে যায়,অাকাশের সে দিকে কোন খেয়াল নাই,

অাকাশ,থাক তুই এভাবে,তুই অাজ থেকে অার অামার কাছে অাসতে পারবি না,বলে অাকাশ ময়নাকে রুমে অাটকে সে বের হয়ে চলে যায়,বেশ অনেকটা সময় পর রুমে অাসে,অার রুমে এসে দেখে সারা ফ্লোর রক্তে লাল হয়ে অাছে,পাশেই ময়না অজ্ঞান হয়ে পড়ে অাছে,
ময়নার দিকে নজর পড়তেই দেখে,ময়নার হাত কেটে রক্ত বেয়ে পড়তেছে,অাকাশ পাগলের মত হয়ে যায়,ইশ মেয়েটাকে তখন মনে হয় বেশিই মেরে ফেলেছি,
ময়না..?
এই ময়না,

ময়নার কোন রেসপন্স নাই,

অাকাশ,ঘাবরে যায়,অাল্লাহ ওর কিছু হয়ে গেলো নাতো,
ওর কিছু হয়ে গেলে অামি শেষ,রোহান.....?
এই রোহান..?
রোহানকে ডাক দেয়,

রোহান,অাকাশের ডাক শুনে রুমে দৌড়ে অাসে,
ভাইয়া কি হয়েছে..?

অাকাশ,ময়না...!

রোহান, ময়নার অবস্থা দেখে ওহ সিট,ভাই এভাবে না মারলেও পারতি,
রোহান অাগেই জানতো এমন কিছু হবে,কারন অাকাশের রাগ সম্পর্কে সে অবগত,

অাকাশ,দেখ মাথায় রাগ ছিলো, পুরা রাগ ওর উপরে ঝেড়েছি,তখন এতকিছু মাথায় ছিলো না,ভাই তুই একটা কাজ কর, ডাক্তার করিম সাহেবকে ফোন কর, অার এখনি বাসায় অাসতে বল,

রোহান,অাচ্ছা দাড়া দেখছি কি করা যায়,অার এখন তো অনেক রাত অাসে কিনা কো জানে...!
রোহান ডক্টর করিমকে ফোন করে,এটা অাকাশদের ঘরোয়া ডাক্তার,

রোহান,হা ভাইয়া ফোন করেছি উনি অাসছে,

একটু পর
ডক্টর করিম সাহেব এসে,দেখি কি হয়েছে,
দেখার পড়ে,এই ওষুধ গুলো লেখে দিয়ে গেলাম সেগুলো খাইয়ে দিবেন,

অার রোহান তুমি একটু বাহিরে যাও,তোমার ভাইয়ার সাথে একটু কথা অাছে,রোহান বাহিরে চলে যায়,
মিস্টার অাকাশ,এখন তো একটু অন্তত রাগটা কমাও বিয়ে করেছো,
ঘরের বউকে কেউ এভাবে মারে,
অাকাশ মাথা নিচু করে অাছে,
হাতের অবস্থাটা দেখেছো তুমি,কাঁচের টুকরো গুলো যেভাবে বিঁধেছে অার একটু হলে রগ কাটা যেত,অার সারা শরীর এ মাইরের দাগ,প্লিজ এবার একটু অন্তত রাগটাকে দমিয়ে ফেলো,

অাকাশ,ক্ষমা করবেন স্যার, এমনটা অার হবে না,

ডক্টর, মেডিসিন গুলো সময় মত খাইয়ে দিও,  অামি ঘুমের ঔষধ দিয়ে গেছি,এখন অাপাদত ভালো অাছে,বলে ডক্টর সাহেব চলে যায়,

অাকাশ,নিজের উপরেই রাগ হচ্ছে কেন যে মেয়েটাকে এভাবে মারলাম,
রোহান...?

রোহান,হা ভাইয়া..?

অাকাশ,মেডিসিন গুলো একটু নিয়ে অায় এখনো বেশি রাত হয়নি,

রোহান,মেডিসিন,অানতে যায়,একটু পর,ধর ভাইয়া মেডিসিন,
অামি রুমে অাছি কিছু লাগলে অামায় ডাক দিস,বলে রুমে চলে যায়

অাকাশ,অাচ্ছা,
ময়নাকে খাটে শুইয়ে রাখা হয়েছে,
অাকাশ গিয়ে ময়নার পাশে বসে,
ময়নার চেহারার দিকে নজর পড়তেই অাকাশ লক্ষ করে ময়নার চেহারাটা কেমন ফেকাসে হয়ে অাছে,মেয়েটাকে অামি এই ভাবে মারলাম, নিজেকে নিজে ধিক্কার জানায়,হাতটা কতখানি কেটে গেছে,
ময়নার হাতটা অাস্তে অাস্তে উপরে তুলে,
তারপর ময়নার ক্ষতস্থান টাতে অালতো করে একটা চুমু খায়,অাবার যায়গাতে রেখে দেয়,তারপর ময়নার বুকে হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে ঘুমাই পড়ে,

সকাল,বেলা ময়নার ঘুম ভাংতেই দেখে,শরীরটা ভাড় ভাড় লাগছে,
কি হলো,শরীরটা ভাড় ভাড় লাগতেছে কেনো,
ভালো করে খেয়াল করে দেখে কেউ একজন তাকে জড়াই ধরে অারামে ঘুম যাইতেছে,

হুহ,বদ লোক দেখো না,রাতে অামাকে মেরে এখন অাবার অামাকেই জড়িয়ে ধরে ঘুম যাচ্ছে,😐
ডাইনোসর,একটা

ময়না,চুপ করে শুয়ে অাছে,একটু পর অাকাশের ঘুম ভাঙ্গে,
দেখে ময়না তার দিকে ড্যাবড্যাব করে চেয়ে অাছে,এই তুমি কখন উঠেছো,

ময়না,অনেক অাগে..?

অাকাশ,তাহলে অামাকে ডাকলে না কেন..?

ময়না,হুহ ডাকতে অামার বয়েই গেছে,
অাপনি কে যে অাপনাকে ডাকতে যাবো,

অাকাশ,কে মানি জানো না,অামি তোমার হাসবেন্ড..!

ময়না,হুহ অাসছে,কালকে অামাকে কি ভাবে মারছে,
এখন অাসছে হাসবেন্ড,

অাকাশ,অামার বউটা খুব ব্যথা পাইছে তাই না,
অাচ্ছা দেখি এখন অাদর করে দিচ্ছি,

ময়না,লাগবে না অামাদ অাদর😏

অাকাশ,তোমার না লাগলেও অামার লাগবে,
বলে ময়নাকে কাছে টেনে নেয়,তারপর অাস্তে অাস্তে ময়নার ঠোঁটের দিকে এগোতে থাকে,ময়নার ঠোঁট জোড়া অনবরত কাঁপতেছে,
অাকাশ,ময়নার ঠোঁট জোড়া নিজের দখলে করে নেয়,
বেশ অনেকটা সময় পড়ে ছাড়ে...!

দুজনেই হাপাইতেছে,😪

ময়না,অাচ্ছা অামি ভুল করলে অাপনি কি সব সময় অামাকে এ ভাবে মারবেন...?😔

অাকাশ,নাহ কখনোই না,কালকে একটু বেশি রাগ উঠে গেছিলো,তাই  মাথা ঠিক ছিলো না,অার অামি অামার সোনা বউকে কখনোই মারবো না,বলে জড়িয়ে ধরে,
কিন্তু কখনো যদি অামাকে ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করো জানে মেরে দিবো,

ময়না, নাহ কখনো যাবো না,
তারপর অাকাশ ময়নাকে ছেড়ে উঠে পড়ে,
উঠে ফ্রেশ হয়ে নেয়,পরে নাস্তা এনে ময়নাকে নাস্তা খাইয়াই দেয়,কারন ময়না অসুস্থ, নিজের হাতে খেতে পারবে না,
অাকাশ,ময়না সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত অফিস যায় না,
এভাবে কিছুদিন কেটে যায়,ময়না এখন পুরোপুরি ভাবে সুস্থ, হটাৎ একদিন, অাকাশ রোহানকে ডাক দেয়...?

রোহান,হা ভাইয়া বল কি জন্য ডেকেছিস,

অাকাশ,রুমে বসে অাছে পাশে ময়নাও,
দেখ তোকে যে জন্য ডেকেছি,ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিস,

রোহান,হা ভাইয়া বল...!

অাকাশ,দেখ জীবন টা তোর তাই ডিসিশন টাও তুই নিবি,
তুই যদি ময়নার মিতাকে সত্যি ভালোবেসে থাকিস তাহলে তুই ময়নার মিতাকে জীবন সঙ্গী করে নিতে পারিস,
ময়না তো অাকাশের কথা শুনে অাকাশ থেকে পড়ছে মত অবস্থা,

এদিকে অাকাশের কথা শুনে,রোহানের যেন গলার পানি শুখিয়ে গেছে,
রোহান চুপ করে অাছে,

অাকাশ,কিরে কথা বলছিস না কেন...?

রোহান,ভাইয়া, অামি সত্যি মেয়েটাকে ভালোবাসি,মেয়েটা কি করে তা নিয়ে অামার মাথা ব্যথা নেই,শরীর যদি সব হয়, তাহলে বিয়ে না করে পতিতালয় গিয়ে চাহিদা মিটালেই হয়,অামার শরীর চাইনা,অামার ভাবীর মিতাকে চাই,
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে,ভাবির মিতা কি অামাকে মেনে নিবে নাকি,
অার তা ছাড়া পল্লী থেকে ওকে ছাড়বে কিনা...!

অাকাশ,এটা তুই অামার অার তোর ভাবির উপরে ছেড়ে দে,
তুই রেডি হয়ে নে বাকিটা অামারা সামলে নিচ্ছি,

রোহান,অাচ্ছা ভাইয়া,রোহান রুমে চলে যায়,

অাকাশ,অার ময়না গিয়ে ময়নার মিতাকে নিয়ে অাসে,মোটা অংকের একটা টাকা দিয়ে,

অাগামী শুক্রবারে রোহান অার ময়নার মিতার বিয়ে,
দেখতে দেখতে সময় প্রায় চলে এসেছে,
অার মাত্র দুই দিন বাকি অাছে,
হটাৎ অাকাশের মা অার বাবা লাগেজ নিয়ে হাজির,

রোহান,বাবা তোমারা..?

বাবা,হা তো অাসবো না,তোরা দুই ভাই তো অামাদেরকে পর মনে করিস,তাই বিয়ে করবি বলিস নি,তাই তোরা অামাদেরকে ভালো না বাসতে পারিস, কিন্তু তোরা তো অামাদের সন্তান, অামরা তোদের ভালোবাসি,অার ছেলের বিয়ে বলে কথা,মিস করা যায় নাকি.,

রোহান,হা বাবা ভালো করেছো,
বাবা,কিরে অাকাশ কোথায়..?

রোহান,ভাইয়া উপরের রুমে অাছে,
বাবা,তুই দারা অামি যাচ্ছি,

অাকাশ, হটাৎ চমকে যায়,বাবা তুমি..?
বাবা,কেন অাসতে পারিনা নাকি,অামার ছেলের বিয়ে অামাদের কি অধিকার নাই,ছেলের বিয়েতে অাসার..?

অাকাশ,বাবা কি বলছো তুমি এসব,অামি তোমাকে এমনিতে অাজ ফোন দিতাম,

 ময়না এসে অাকাশের বাবাকে ছালাম করে,
অাকাশের বাবা,মা বেচে থাকো,
অাকাশ,তোর মাও এসেছে,প্লিজ অামার দিকে তাকিয়ে অন্তত কোন রাগারাগি করিস না,মাত্র দুইদিন এই তো তারপর অামরা চলে যাবো,

ময়না,বাবা চলে যাবেন মানি,
কোথাও যেতে পারবেন না অাপনি,
এখানেই থাকতে হবে অাপনাদের,

বাবা,মা রে অামাদের কি সেই কপাল অাছে নাকি যে ছেলে সন্তান নিয়ে এক সাথে শুখে শান্তিতে থাকবো,

ময়না,না বাবা যাওয়া চলবে না,

বাবা,অাকাশ অামার বউমা একদম তোর মায়ের মত হয়েছে,
বিনয়ী, মানে অাকাশের অাসল মার কথা বলছে,
কথা বলে বাপ ছেলে বউমা মিলে নিচে নামে,

ময়না, গিয়ে মা কে সালাম করে,
মা,জড়িয়ে ধরে,শুখি হও মা তোমরা,

অাকাশ,অন্যদিকে মুখ ফিরে দাড়িয়ে অাছে,মহিলাটাকে সে মার চোখে কখনোই দেখতে পারে না,

অাকাশের মা,অাকাশের কাছে গিয়ে,হটাৎ
অাকাশ, কি করছো কি তুমি,পা ছাড়ো,

অাকাশের মা,না অামি পা ছাড়বো না,তুই যতক্ষন না অামাকে মা বলে বুকে টেনে নিবি কান্না করতে করতে,

অাকাশ,ময়নার দিকে তাকায়,ময়না চোখের ভাষায় করুন শুরে  অনুরোধ করছে,

অাকাশ,মা পা ছাড়ো প্লিজ বলে, মা কখনো সন্তানের পায়ে পড়তে হয়না,মা যা হয়েছে হয়েছে,অামি সব ভুলে গিয়েছি,
বলে বুকে টেনে নেয়,অার কান্না করে দেয়,

অাকাশের বাবা,বাহ মা ছেলের কি মোহাব্বত, অামরা তো পর অামাদের কেউ বুকে টেনে নেয় না,

বাবা তুমিও অাসো,অাকাশ তারপর তার বাবা মাকে জড়াই ধরে,

অাকাশের বাবা,সবাই অাছে কিন্তু অামার ছোট বউমা কই..?

রোহান,বাবা ও উপরের রুমে অাছে,অাপনারা এসেছেন সে জানেনা,
পড়ে রোহান গিয়ে ডেকে নিয়ে অাসে,
ময়নার মিতা অাই মিন রোহানের বউ
হবে কিন্তু হয় নাই,
সে এসে বাবা -মা দুজনকেই সালাম করে,

পড়ে অাকাশের মা,, তোমরা একটু দাড়াও অামি অাসছি বলে লাগেজটা খুলে দুইটা বক্স অানে,তারপর বক্স থেকে গলার হাড় বের করে দুই বউকেই দুইটা দেয়,
এগুলা তোদের জন্য,

সবাই তো মহাখুশী, সবার মধ্যে মিল মোহাব্বত হয়ে গেছে,

অাকাশ,বাবা অাজ থেকে তোমরা দুজন ও এই বাড়িতে থাকবে,

অাকাশের,বাবা তা না হয় থাকবো,কিন্তু একটা শর্ত অাছে,
অাকাশ,কি শর্ত..?
অামার বড় ছেলের বিয়ে অামি অাবার দেখবো,

অাকাশ,বাবা অামরা তো একবার বিয়ে করেছি,

অাকাশের বাবা,তা না হয় করেছিস,কিন্তু অনুষ্ঠান তো করিস নি,অাত্নিয় সজন কাউকে তো দাওয়া দিস নি,শুক্রবারে অাবার বিয়ে হবে তোদের,দুই ছেলের বিয়েই অামি একসাথে ধুমধাম করে দিবো,

অাকাশ,অাচ্ছা বাবা,তোমার যা ভালো লাগে,
পরে শুক্রবার চলে অাসে,অনেক অাত্নিয় সজন অাসে,রোহান অার অাকাশের ধুমধাম করে বিয়ে হয়,

(অার একটা কথা, ময়না অার ময়নার মিতার পরিচয় হাইড রাখে তারা তাদের বাবা মার কাছে,এবং সবার কাছেও,এতিম বলে চালিয়ে দেয়)

বাসর রাতে,রোহান রুমে ধুকে পড়ে,

অন্যদিকে অাকাশ ও রুমে ধুকে ময়না বউ সেজে ইয়াাা বড় একটা ঘোমটা দিয়ে খাটে বসে অাছে,

অাকাশের উপস্থিতি টের পেয়ে ময়না খাট থেকে নেমে এসে সালাম করে,
অাকাশ,এই এই কি করছো,তোমার স্থান অামার বুকে,পায়ে নয়,
যাও অজু করে এসো দুজনে মিলে নামাজ পড়বো,
তারপর দুজনে মিলে অজু করে নামাজ পড়ে,নামাজ পড়া শেষে অাকাশ ময়নাকে কোলে করে খাটে নিয়ে যায়,
এই অামার না অনেক দিনের স্বপ্ন,অামার একটা রাজকন্যা হবে,
ময়না,সরম পেয়ে,তো অামি কি করতে পারি..?😇

অাকাশ,তোমার কিছু করতে হবে না,সব অামিই করছি,
বলে ময়নার দিকে এগোতে থাকে,
তারপর কি অার ভাই জয় বাংলা কনসার্ট হবে অারকি😃

যান ভাই অার কত শুনতে ইচ্ছে হয় অন্যের ইতিহাস,
নিজে বিয়ে করে ইতিহাস তৈরি করুন,

সমাপ্ত,

ধন্যবাদ সকলকে এতদিন পাশে থেকে সাপোর্ট করার জন্য,
কাল থেকে এমপির মেয়ে নতুন গল্প অাসছে,
এ পর্য়ন্ত সবাই ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন,খোদা হাফেজ...!
Share:

👉👉Collage first love story 👈👈 Part:01

👉👉Collage first love story 👈👈
Writter: Ayman Hridoy (davil boy )
Part:01
ঐ ওঠ ৯টা বেজে গেছে কলেজে যাবি না (আম্মু  )
যাব তো আর একটু ঘুমায় না ।(আমি)
তুই ওঠবি কয়টা বাজে দেখছস তুই  দাড়া আমি  তুর আব্বুকে ডাকে আনি
আমি : আমার লক্ষী আম্মু আমি তো মজা করছিলাম আমি তো ওঠো গেছে ।।   আম্মু তুমি যাও আমি রেডি হয়ে আসতেছি
আম্মু : হুম তাড়াতাড়ি আয় ।।।।
আমি:ওকে তুমি যাও ।।।।
আমি রেডি হতে গেলাম । আপনাদের তো আমার পরিচয় দিতে ভূলে গেছি ।।
ফ্রেশ হতে হতে আমার পরিচয় টা দিয়ে দি ।।
আমি আইমান ।। মা বাবার একমাত্র ছেলে ।।
এবার ২য় বষের ছাত্র।।এই যা কথা বলতে বলতে দেরি হয়ে গেল বাকি পরিচয় কলেজে  যেতে যেতে দিব ।।
ফ্রেস হয়ে হালকা নাস্তা করে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম ।।
 হ্যা এবার আপনাদের আমার কিছু কথা বলি ।। আমি  কলেজে  তেমন কারো সাথে কথা বলি না ।। আমার স্কুল লাইফের হারামী গুলা ছাড়া । এবং বিশেষ করে আমি মেয়েদের সাথে তো আমি কথায় বলি না ।।।
আপনাদের সাথে কথা বলতে বলতে কলেজে চলে আসলাম ।। এসে দেখি ক্লাস শুরু হয়ে গেছে ।।
তাড়াতাড়ি  করে ক্লাসে গেলাম ।।
সব ক্লাস করে বের হলাম  ।।
এমন সময়  একটা মেয়ে ডাক দিয়ে আমার সামনে এসে দাড়াল
মেয়ে :ওয়ে হ্যাল ,,, এত্তভাব কিসের আপনার ???
আমি:ঠিক বুঝলাম না আমি ???
মেয়ে:কলেজের সেই প্রথম দিন থেকেই খেয়াল করছি মেয়েদের কে এড়িয়ে চলেন  প্রব্লেমটা কি???
আমি :এত্ত কিছুর কইফিয়ত আপনাকে দেয়ার প্রয়োজন মনে করি না 😕😕
মেয়ে :আমি তো এর রহস্যটা জানার প্রয়োজন মনে করি ।।।।।
আমি:বাসায় যেতে  লেট হয়ে যাচ্ছে ভালো থাকেন বাই .....
মেয়ে:না বললে আমি আপনার পিছু পিছু আপনার বাসায়  চলে যাবো।।।।
আমি:আজব মেয়ে তো আপনে বিদেয় হনতো
মেয়ে:এই যে মিষ্টার আপনার জায়গায় দড়িয়ে নেই ,,, হুহ
আমি :ধুরর
মেয়ে: কি হলো বলেন
আমি :এমনি
মেয়ে:এমনি তো হতেই পারে না কোন মেয়ে স্যাকা দিছে নাকি।।। হা হা হা হা
আমি:আপনার যেটা ইচ্ছে ভাবতে পারেন ।।।
আমি সেখান থেকে কোন ভাবে চলে আসলাম ..  আসলে মেয়েদের থেকে দূরে থাকার রহস্য একটা আছে ।।
যেদিন  চারিদিকে ফ্রেন্ডদের স্যাকা খাওয়ার গল্প শুনলাম । সেদিন শপথ করছি জিএফ তো দূরের কথা  মেয়েদের আশেপাশে ও ভিড়বো না । তাই সেদিন থেকে আজ পযন্ত বিন্দাস একটা সিংগেল লাইফ ইনজয় করছি....
পরের দিন
জাহিদ:মামা  কাল দেখলাম একটা মেয়ের সাথে কথা  বলছিস  ব্যাপার কি তুই কি  ফেসে গেলি নাকি
আমি :ধুরর ওই সব প্রেম তুরা কর  আমার স্যাকা  খাওয়া শখ নাই ....
জাহিদ :হুম মামা ডুবে ডুবে জল খেতে চাও ।।।।
ইমন :মামা দেখ এই মেয়েটা না
আমি: may be
 হামারজাদা গুলো চিল্লান দিয়ে বলে উঠলো মামা দেখ ভাবি যাচ্ছে।।
মেয়েটা সাথে সাথে দাড়িয়ে গেলো। অবস্খা খারাপ হতে পারে ভেবে সবগুলো দিয়ে বগার পাড় হলো রয়ে গেলাম শুধু আমি । মেয়েটা সামনে এসে . ।।
মেয়ে :ওরা কি বললো
আমি : ক্যানো শুনতে পাননি,,, কাল পযন্ত তো ভালো ভাবেই শুনতে পাচ্ছিলেন
মেয়ে :ওরা আমাকে ভাবি বললো ক্যান
আমি:ওদের গিয়ে জিঙ্গাস করেন ।।।
মেয়ে:বলার আগে আপনায় তো মামা বলে ছিলো।।
আমি:হ্যা তো
মেয়ে:ওরা আমাকে আপনার সু বাদে ভাবি বলছে ।।।
আমি : একটু ভেবে দেখেন তো ।ওরা আমাকে মামা বলছে । তাহলে আমার সুবাদে বললে অবশ্যই আপনায় মামী বলতো ভাবি না ।।।।
মেয়ে:ধ্যাত
মেয়েটা মুচকি হাসি দিয়ে চলে গেলো সাথে সাথে হারামজাদা গুলো আবার ভীড় জমালো
ইমন :কি মামু কাহিনী কি সেট নাকি .।।
আমি :সালা বিপদে ফেলে পালাস আবার দূর থেকে মজা নিস  না ... ।।।
জাহিদ:হু প্রেম করবা আবার কাওরে জানাবা না ,,,,,, এহন থিকা  রাস্তায়  দেখলেই ভাবী কমু,,,,  এটাই তুর শাস্তি
আমি:কসম দোস্ত মেয়়েটাকে আমি চিনি ও না..
ইমন :এমন কসম ডেইলি খাটি মামু
তারপর সালারা আরো কিছুক্ষণ পচালো আমাকে ,,, আমি নিরীহ ছেলের মতন শুধু শুনলাম
তার পরের দিন দুই ক্লাস করে বেড় হয়েছি আর মেয়েটা ডাক দিল................
চলবে
#ভূল ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন ভালো লাগলে লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন।।  আপনাদের মন্তব্য পেলে nxt  part dibo##ভালো থাকবেন।।।
Share:

ফুফাতো বোন যখন বউ । পর্বঃ ৬। Fubato Bon Jokhon Bow part 6

ফুফাতো বোন যখন বউ
লেখকঃ Rabi Al Islam
পর্বঃ ৬
সাকিবঃ ডোস্ত যা হয়েছে সব কিছু ভুলে তুই নতুন ভাবে শুরু কর??

----- তোর কি মনে হয় আমি দেবদাস হয়ে থাকবো??

সাকিবঃ মানে??

------ আমার মনে এখন আদিবার জন্য কোনো ভালোবাসা নেই।। তাই এখন আর ওর কথা ভেবে কষ্ট পাবো না।।

আমি যেমন ছিলাম তেমনই থাকবো।।

আগের মতনই সবার সাথে আড্ডা দিব।।

সাকিবঃ ভালো বলছিস।। ওই মেয়ের জন্য তুই কেনো কষ্ট পাবি??

---- আচ্ছা এখন চল ক্লাসে যাই।।

সাকিবঃ চল।।

আমাকে দেখে সবাই অনেক অবাক হয়েছে!!

গতকালকে এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল

আর আজকেই আমি কলেজে এসেছি।।

ক্লাস করে কলেজ ক্যাম্পাসে আড্ডা দিচ্ছি তখনই দেখলাম আদিবা আর তার বন্ধুরা আমাদের সামনে দিয়ে বাইকে করে যাচ্ছে।।

আড্ডা দিয়ে বাসায় আসলাম।।

এভাবে চলছিল কলেজে আমি আদিবার দিকে তাকাই ও না।।

এভাবে পাঁচ মাস চলে গেল।।

ডিবোর্সের আর মাএ এক মাস বাকি আছে।।

এতদিন যতটা সম্ভব পেরেছি আদিবা ভুলে থাকার চেষ্টা করেছি।।

এখন আর আদিবার প্রতি কোনো ভালোবাসা নেই।।

আমি ভেবেছিলাম রবি আমার জিবনে না থাকলে হয়তো আমি অনেক সুখি থাকবো।।

সত্তি কথা বলতে প্রথম তিন চাঁর মাস ওর কথা একদমই মনে হয় নি।।

কিন্তু আস্তে আস্তে রবিকে ভিষন মিস করা শুরু করি।।

যতই ডিবোর্সের দিন ঘনিয়ে আসছে, ততই মনে হচ্ছে কি যেন একটা আমার কাছ থেকে চলে যাচ্ছে।।

এখন রাত করে বাসায় ফিরলেই রবির সেই কথাগুলো মনে পড়ে।।

বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতেও ভালো লাগে না।।

কেমন যানি সবকিছু বিরক্তকর লাগছে।।

কলেজে ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি।।

আড্ডা দিচ্ছি বললে ভুল হবে,, ওরা কথা বলছে আর আমি ওদের কথা শুনছি।।

কেনো যানি আমার কিছুই ভালো লাগছে না।।

যানি না এমন কেনো হচ্ছে??

রাব্বিঃ কি হয়েছে আদিবা??

আদিবাঃ আমার আবার কি হবে!!

রাব্বিঃ না। বেশ কিছুদিন ধরে দেখছি তুমি আগের মত আর নাই।। পরিবর্তন হয়ে গেছো।।

আদিবাঃ ফালতু কথা বলো না তো?? আমি কোনো পরিবর্তন হয় নি।।  আগের মতই আছি।।

আর সবসময় যে সবার মন একরকম থাকবে তা তো না।।

রাব্বিঃ রাগ কেনো করছো?? আমি তো জাস্ট এমনিতেই বললাম।।

আচ্ছা তুমি কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তিত??

আদিবাঃ না।। আর তোমার এইসব ফালতু কথা বাদ দেও।।  আমার ভালো লাগছে না।।

রাব্বিঃ আচ্ছা বাদ দিলাম।। তারপরও রাগ কইরো না।।

চলো কোথাও থেকে ঘুরে আসি??

আদিবাঃ না। আমার ভালো লাগছে না।।

মিমঃ চল আদিবা সবাই যাবো??

আদিবাঃ আচ্ছা।।

ইচ্ছা না থাকা সত্তেও ওদের সাথে ঘুরতে গেলাম।।

রাব্বির কথাগুলো ভাবতে থাকলাম।।

আমি কি সত্তিই পরিবর্তন হয়ে গেছি??

কিন্তু কেনো??

আর কিছুদিন ধরে দেখছি আমি রবিকে নিয়ে খুব বেশিই ভাবছি।।

যতই ওকে ভুলে থাকার চেষ্টা করি ততই আরও বেশি মনে পড়ছে ওকে।।

উফফ!! আর কিছুই ভাবতে পারছি না।।
মনে হয় পাগল হয়ে যাবো।।

মিমঃ দেখ আদিবা জায়গাটা কত সুন্দর।। সবাই কত আনন্দ ফূর্তি করছে।।

আর তুই পাগলের মত আচরন কেনো করছিস??

আদিবাঃ যানি না আমি কিছুদিন ধরে আমার কিছুই ভালো লাগছে না।।

অনেক চেষ্টা করি ওকে ভুলে থাকার কিন্তু পারি না।।

মিমঃ কার কথা বলছিস??

আদিবাঃ রবি।।

মিমঃ কি বলছিস এসব!!

আদিবাঃ হ্যা।  আমি ঠিকই বলছি।।
অনেক চেষ্টা করি ওকে ভুলে থাকার কিন্তু তারপরও কেনো যানি ও চোখের সামনে চলে আসে??

যানি না আমার এই রকম কেনো মনে হচ্ছে??

মিমঃ তুই রবিকে ভালোবেসে ফেলেছিস।।

আদিবাঃ কি বলছিস এসব!! আমি ওকে কখনই ভালোবাসবো না।। আমি রাব্বিকে ভালোবাসি।।

মিমঃ তুই মুখে বলছিস এই কথা।। কিন্তু তোর পরিবর্তনই তোকে বলে দিচ্ছে তুই রবিকে ভালোবাসিস।।

আদিবাঃ না এটা কখনও হতে পারে না।।

মিমঃ তুই বিশ্বাস না করলেও এটাই সত্তি।।

অনেকসময় ওইখানে থাকার পর সবাই চলে আসলাম।।

রাব্বিঃ আদিবা চলো তোমাকে বাসায় দিয়ে আসি??

আদিবাঃ চলো??

রাব্বির বাইকে করে বাসায় চলে আসলাম।।

রাব্বিঃ আদিবা সন্ধ্যায় তৈরি থেকো?? আমি তোমায় নিয়ে যাবো।।

আদিবাঃ কোথায়??

রাব্বিঃ পার্টিতে।।

আদিবাঃআচ্ছা

বাসার ভিতরে চলে আসলাম।।

এতখন যাও ভালো ছিলাম বাসায় আসার পর আবার মন খারাপ হয়ে গেল।।

---- তুই কোনো কিছু নিয়ে চিন্তিত মা??

আদিবাঃ না বাবা আমার কিছুই  হয় নি।। আমি রুমে গেলাম।।

---- আচ্ছা যা।। রুমে গিয়ে বিশ্রাম নে।। ভালো লাগবে।।

সন্ধ্যায় পার্টিতে যাওয়ার জন্য তৈরি হলাম।।

এর ভিতরে রাব্বি ফোন দিল।। নিচে নেমে ওর সাথে পার্টিতে গেলাম।।

চলবে--------
Share:

বসের অহংকারী মেয়ে ৫ম পর্ব. Bosser ohonkari meye golpo

বসের অহংকারী মেয়ে
৫ম পর্ব
লেখকঃCursed king Anik Hasan
খেয়ে দেয়ে যার যার রুমে শুয়ে পড়লাম..
কিন্তু ঘুম আসছে না,,শীতকাল হলে কি হবে আব্বু আম্মুর কথা মনে পড়ছে,,এমন সময় চা খেতে খুব ইচ্ছা করছে,,কিন্তু এতো রাতে আমাকে চা বানিয়ে খাওয়াবে কে??
আমি নিজেই করে খেতে পারবো..
রুম থেকে বের হলাম..তিশার রুমের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম,তিশার রুম থেকে ফিসফিস শব্দ আসছে.কার সাথে যেনো কথা বলছিলো..
আমি কান পেতে শুনার চেষ্টা করলাম।
যা বলছিলো
হ্যারে দোস্ত একটু বেশি করে ফেলছি.কিন্তু আমি কি করবো বল?আমার কেনো জানি ওকে দেখলেই রাগ উঠে যায়..তাই তো অইসব আবোল তাবোল করে ফেলি..
হুম বিয়ে যখন হয়েছে মানিয়ে তো নিতেই হবে.।
তবে এতো সহজে আমি মানছি না..
দেখি আগে আমাকে কতটুকু ভালোবাসে তারপর নাহয় সংসার শুরু করবো.।
নাহ ওকে তো আমার খুব ভালো লাগে..স্বামী হিসেবে একদম ঠিক..তবে ওকে দেখে বুঝেছি আমার থেকে বেশি রাগি..এমনি তো শান্তশিষ্ট পিচ্চি ছেলের মত থাকে.।কিন্তু রেগে গেলে ওর দিকে তাকানো যায় না..I
পোষাকের ব্যাপারে আমি বুঝতেই পারেনি এতো বড় ঝামেলা হয়ে যাবে..
আসলে আমার কাজিনরা হা করে তাকিয়ে ছিলো আমার খুব রাগ হচ্ছিলো তাই তো..হ্যা আমি নিয়ে এসেছিলাম.বাদরটাকে খুব কিউট লাগছিলো তো তাই
জানতাম এমন কিছু একটা হবে
আরে এখানে কেনো থাকতে যাবো.আমার শশুর বাসা আছে না আর ওর আব্বুকে আমি এইসব করতে বলেছিলাম..
না মানে অইখানে থাকলে
দুজন দুজনকে বুঝতে বেশি অসময় লেগে যেত..
আচ্ছা রাখিরে..
এই কথা কাওকে বলিস না কিন্তু,,
তিশার কথা শুনে হা করে ছিলাম..তখন একটা মশা পেটে চলে গেছে..
মাইয়া ভালো নাটক জানে..
দাড়াও দেখাচ্ছি মজা।।
তবে আজ না সময় আসলে.
আমার চা খাবার ইচ্ছাটা সেই অনেক আগেই চলে গেছে.
রুমে গিয়ে ভাবছি তিশার জালে পা দিবো না..
আমি আমার মত করেই চলতে শুরু করবো..
ঘুমিয়ে গেলাম..
এই উঠ আর কত ঘুমাবি?অফিস যেতে হবে..রান্না করতে হবে(তিশা)
এই সরো তো ঘুমাতে দাও..
তিশা আমাকে ধাক্কা মারতে লাগলো..
আমার মাথায় দুষ্টুমি বুদ্ধি ভর করলো.
তিশাকে কাছে এনে আরে মিথিলা জানু তুমি?আসো কাছে আসো বুকে টেনে এনে..
তিশা মনে হয় অবাক হয়েছে.।
এই উঠ উঠ আমাকে টেনে তুলে..
অই মিথিলা কে?
আমিঃসেটা তোমাকে বলতে যাবো কেনো??
তিশাঃদেখ যা জিজ্ঞাস করছি তাড়াতাড়ি সেটার উত্তর দে বলছি।
আমিঃকি জেনো জানতে চাচ্ছ তুমি?
তিশাঃএই মিথিলাটা কে??
আমিঃআমার জানু আমার প্রান.গার্লফ্রেন্ড.
তিশাঃকিহ তোর গার্লফ্রেন্ড আছে?আর সেটা তুই বউয়ের সামনে বলছিস??
আমিঃবউ কিসের বউ?তুমি না বলেছিলে তুমি আমাকে স্বামী হিসাবে মানো না...
মিথিলাকে এই কথা বলার পর বললো ওর সাথে রিলেশিন কন্টিনিউ করতে..
আর আমিও মিথিলাকে খুব ভালোবাসি..
আমি নিচের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলছিলাম..
তিশার দিকে তাকাতে দেখি গাল দুটো লাল হয়ে আছে..
আচ্ছা এখানে কিছু পোড়ার গন্ধ পাচ্ছি মনে হয় কিছু পুড়ছে..
তিশাঃঅই দেখ একদম বেশি কথা বলবি না..উঠ আর যা রান্না কর..
আমি কোনো রান্না করতে পারবো না..
তুমি যদি না পারো আমাকে বলো আমি মিথিলাকে নিয়ে আসছি..
তিশাঃঅই একদম অই মেয়ের নাম আমার সামনে বলবি না..
যা ফ্রেশ হতে যা.।অফিস যাবি না
আমিঃআচ্ছা আমি ফ্রেশ হতে গেলাম..
হাহাহা ওষুধে কাজে দিছে.।
ভাগ্যিস কাল আমি সব শুনছিলাম তা নাহলে তো আমাকে আরো অপমান সহ্য করতে হতো.।
ফ্রেশ হয়ে রেডি হলাম..কিচেনে দেখি তিশা রান্না করছে..
মনে হয় সময়
লাগবে..
আমি যাচ্ছি,,সাবধানে থেকো।
তিশাঃআরে না খেয়ে বের হবি নাকি??
আমিঃহুম লেট হয়ে যাচ্ছে..
তিশাঃআচ্ছা একটু অপেক্ষা কর আমি বিস্কিট নিয়ে আসছি..
তিশা প্লেটে কতগুলো বিস্কিট নিয়ে আসলো
নে এগুলো খেয়ে পানি খেয়ে তারপর অফিস যাবি..
আমি;নাহ হাত আর ভিজাবো না,,আর হাত মোজা খুলবো না.
তিশাঃআচ্ছা হা কর,,
হাাাা
তিশাই খাইয়ে দিতে শুরু করলো
হাহাহা ডোজ ছোট,,তবে সেটার একশন অনেক বড়..
আর মেয়েরা নিজের অধিকার কাওকেই দিবে না সেটা ভালো করেই জানা আছে.।
দুইটা বিস্কিট খেয়েছি..
আচ্ছা আমি আসছি..
তিশাঃমাত্র দুইটা বিস্কুট খেয়ে পেট ভরে নাকি?
অফিসের লেট হয়ে যাচ্ছে
তিশাঃআচ্ছা যা তাহলে..
আমিঃহুম তুমিও সাবধানে থাকবা.
আমি অফিস চলে গেলাম..খুব হাসি পাচ্ছে
লাঞ্চ টাইম,,
তিশাকে ফোন দিলাম..
হ্যালো.।
তিশাঃহুম
আমিঃকি করো,লাঞ্চ করছ?
তিশাঃহুম করেছি,,
আমিঃআচ্ছা আমি রাখছি.
কেমন লাগে নিজে থেকে কিছু জিজ্ঞাস করলো না.।
এটার জন্য কোন ডোজ দিবো..
বিকেলবেলা কাজ প্রায় শেষ তখন ডাক আসলো শশুরের
হ্যা আংকেল বলুন কি বলবেন?
শশুর;আরে আগে আংকেল বলা বাদ দিয়ে আব্বু বলো,,
হ্যা না মানে??
আরে কি মানে মানে করছো.
বাবা বলে ডাকবা.।
শুনো যেটার জন্য ডাকলাম..আমি সব দায়িত্ব তোমাকে বুঝিয়ে দিতে চায়..
আর বুড়ো হয়ে গেছি
আর আমার একমাত্র মেয়ের জামাই তুমি.
আমিঃনাহ আংকেল,,থুক্কু আব্বু,,যেহেতু তিশার সম্পত্তি তাই তিশাকেই দিয়ে দিন..
শশুরঃএই ব্যাপার তিশাই আমাকে বলেছে.
আমি ওকে বিয়ের আগেই সব দিয়ে দিতে চেয়েছিলাম,,কিন্তু ও বলছে ওর যে স্বামী হবে তাকে দিতে.।
আমিঃতাও আব্বু তিশার সাথে কথা বলুন..
শশুরঃআরে সেটা তো একটু আগেই হলো,,ও নিজেই বললো তোমার সাথে কথা বলতে..
আমিঃআব্বু আমি কিছু নিতে পারবো না,,যতদিন আপনারা বেচে আছেনন ততদিন সব আপনাদের,,যদি আপনার নাতি নাতনী হয় তাদের
দিয়েন,,কিন্তু আমার কিছু লাগবে না.।
শশুরঃআচ্ছা সেটা নাহয় হোলো,,কিন্তু কাল থেকে তুমি আমার চেয়ারে বসবে..
আমি;কেনো আমি আপনার চেয়ারে বসবো কেন?
আর আপনি কোথায় বসবেন..
শশুরঃআপতত কিছুদিন তোমার পাশে একটা চেয়ারে বসবো সব তোমাকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য..তারপর যখন সব বুঝে যাবে আমার ছুটি..
আমিঃকিন্তু আমি পারবো না এতো বড় দায়িত্ব নিতে..
শশুরঃআরে আমি আছি তো..
আরো কিছু কথা হলো
বাসায় ফেরার পর
তিশাঃঅইই তোকে দেখে তো মনে হয়না,তুই এতো সৎ?
আমি;কেনো আমি আবার কি করলাম?
তিশাঃআরে আব্বু তোকে সব দিতে চায়লো আর তুই নিলি না..
আমিঃপরের সম্পত্তি কেনো নিবো..আর আমি তো মিথিলার আব্বুর সম্পত্তিতে ভাগ বসাবো..
তিশাঃআবার মিথিলা..তোকে কিন্তু একদম শেষ করে ফেলবো..
আমিঃকেনো আমি ভুল কি বলছি?
তিশাঃনাহ কিছু না,,চল খেতে চল..
আমিঃহুম চলো আমার খুব ক্ষুধা লাগছে..
খাবার খেলাম,,বেশ ভালো রান্না করতে পারে.
আমিঃআচ্ছা আমি ঘুমাতে গেলাম..
তিশাঃতা যাবি যা,,কিন্তু তোর ফোন আমার কাছে রেখে যাবি..
আমিঃকেনো আমি তোমার কাছে আমার ফোন কেনো রাখবো.আর তুমি আমাকে তুই করে বলছো কেনো?জানো মিথিলা কত ভালোবেসে আমায় তুমি বলে ডাকে..
তিশাঃআমি তোকে ভালোবাসি না তাই ডাকি না,,ফোন দে
আমিঃআচ্ছা সিম রেখে দেই..
তিশাঃকিচ্ছু রাখা চলবে না ফোন দে বলছি..
আমি তিশাকে ফোন দিয়ে দিলাম..
ফোন লক করা আছে চাইলেই কিছু বের করতে পারবে না.।
আমি ঘুমিয়ে গেলাম..
আজ দরজা আটকিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম..
সকালে উঠে দেখি সুন্দর একটা ঘ্রান আসছে..
মনে হয় মাংস রান্না হচ্ছে..
আমি তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে বের হলাম..দেখি রান্না প্রায় শেষ.
আমি টেবিলে বসে গেছি।।
তিশা কিছুক্ষণ পর পর একটা করে আইটেম এনে সামনে রাখছে.।
আমি আর তিশা একসাথেই খাওয়া শুরু করছি..
বাহ তুমি তো দারুণ রান্না করতে পারো।।
তিশাঃএতো কষ্ট করে
রান্না করে খাওয়াই..তার জন্য আমার কিছু প্রাপ্য কিন্তু.
আমিঃকি চাই তোমার বলো..
তিশাঃআমি বলবো না,,তোমাকে আনতে হবে.
আমি;আচ্ছা আসার সময় নিয়ে আসবো..
অফিস শেষ এখন আগে মার্কেট যাবো.
কালো দেখে একটা শাড়ি কিনলাম
আর আসার সময় চকলেট আমি জানি তিশার চকলেট পছন্দ না..ওর ডাইরি চুরি করেছি
হাহাহা
বাসায় আসার পর
এই নাও তোমার গিফট
কি আছে এতে??
আমিঃখুলেই দেখো..
তিশা হাসি মুখে খুললো কিন্তু খোলার পর আমার দিকে রাগি মুডে চেয়ে আছে..
আমিঃআরে রাগ করছো কেনো?
তিশা চকলেট গুলো রেখে চলে গেলো..
তিশার রুমে চলে গেছে,,
আমি গিয়ে দেখি শুয়ে আছে অন্যপাশ ঘুরে.।
আমিঃএই খাবো চলো,,
তিশাঃআমি খাবো না,,
আমিঃআমার খুব ক্ষুধা লেগেছে..
তিশাঃযাও ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নাও(হঠাৎ তুমি)
আমিঃতুমি খাবে না??
তিশাঃনাহ,,
আমি তিশার রুম থেকে চলে এলাম..
শাড়ির প্যাকেট আর দিলাম না,,ভাবছিলাম একটু মজা করবো সেটা আর হলো না..
আমি শাড়ির প্যাকেট আমার আলমারি তে রেখে খেয়ে দেয়ে শুয়ে পরলাম,,পরদিন সকালে তিশা আর রান্না করেনি..
তাই না খেয়েই যেতে হলো
অফিস থেকে বাসায় ফেরার পর দেখি
তিশা আমার আনা শাড়ি পরে আছে..
একদম কালো পরি।
কাল মজা করতে পারি নাই তাই আজ মজা করবো
আমিঃএই তুমি এই শাড়ি আমার আলমারি থেকে নিয়ে এসেছ কেনো?
তিশাঃবারে আমার জন্য আনা শাড়ি আর আমি আনবো না.
আমিঃকে বলেছে এটা তোমার শাড়ি এই শাড়ি আমি মিথিলার জন্য কিনেছি
To Be Continue
Share:

গল্প বসন্তের ছোয়া golpo boshonter chowa

❤🔥❤ গল্প : বসন্তের ছোয়া ❤🔥❤

        ❤🌹💞 1st parT 🌹❤🌷

wriTeR : Ahmed

রাজ গাড়ি থেকে নেমে মাতাল অবস্থায় হাটছে,,, একটু পর একটা রুমে গিয়ে টুকা দিল,,,দরজা খুলে দিল মধ্যবয়সী একটা মেয়ে,,, আজ রাতটা এই মেয়েটার সাথেই কাটাবে ও,,,,নেশাধরা দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে,,, শয়তানি হাসি দিয়ে কিছু না বলে,,,, ভোগ করতে শুরু করল,,,মেয়ে টাকে,,,,,,
,
 রাজ চৌধুরী বড় লোক বাবার উচ্ছন্নে যাওয়া ছেলে,,,,ওর মা বাবা কেউ ই বেঁচে নেই, ,,, নিজের বিজন্যাস সামলায় এবং রাত হলে মেয়েদেরকে ভোগ করা,,,ওর নেশা,,,কত মেয়ের সাথে যে রাত কাটিয়েছে,,,সেটা বলা বাহুল্য,,,যাকে পছন্দ হয়েছে তাকেই অফার দিয়েছে ওর সাথে রাত কাটানোর জন্য,,, রাজি না হলে তুলে নিয়ে রেপ করেছ,,,,কিন্ত আজ পর্যন্ত কারো সাহস হয়নি ওর বিরুদ্ধে রেপ কেইস করার,,,অগণিত মেয়েরা কেঁদে কেঁদে বুক ভাসায়,,,ওর নির্মম অত্যাচারের কারনে,,,,, মেয়েদেরকে ব্যবহার করে টিস্যুর মত ছুড়ে ফেলে দেয়,,,, তবে সকালে সূর্য উঠার সাথে সাথেই নেশাটা কেটে যায়,,,,বাড়িতে শুধু ওর ফুফু আর ফুপাত বোন ছাড়া আর কেউ নোই,,,,,,
,,,,,,,রাজের গার্ল ফ্রেন্ড আছে মেহেরিমা সুলতানা,,,কিন্ত মেয়েটা শুধু ওকে ব্যবহার করে,,, রাজের নামে সম্পত্তি নেই বলে,,বিয়ের কথা বললে,,,কিছু একটা বলে এড়িয়ে যায়,,,,
,
,
রাজের ফুপিঃ দেখ তো রেহেনা রাজ কেন এখনো আসছে না,,,
,
রেহেনাঃ উফফ মা তুমি কি ভুলে গেলে,,, তোমার গুণধর ভাইয়ের ছেলে,,, কি কাজ করে রাত হলে,,, প্রতিদিন তোমার এক কথা আমার ভালো লাগে না।
,
রাজের ফুপি আর কিছুই বলল না,,,চুপচাপ রাজের বাবার ছবির সামনে দাড়িয়ে,,,
রাজের ফুপিঃ আমাকে মাফ করে দে ভাই,,,তোর ছেলটাকে আমিও মানুষ করতে পারলাম না,,,আমার হাতে শপে দিয়ে গিয়েছিলি,,কিন্ত পারলাম না আমি,,,ক্ষমা করে দিস।
চোখের পানি মুছতে মুছতে ভদ্র মহিলা খাটে গা টা এলিয়ে দিল,,,
,
,
সকালে
ঘুম থেকে উঠেই নিজের বুকে কারো নিশ্বাসের ছোঁয়ায় চোখ খুলে তাকাল,,,,,মেয়ে টাকে এত কাছে দেখে এক ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে,,,,,
,
রাজঃ এই মেয়ে তোর সাহস কি করে হয় রাজ চৌধুরীর বুকে শুয়ে আছিস,,,যা ভাগ এখান থেকে ( রাগী গলায়)
,
মেয়েটি জামা কাপড় নিয়ে এক দৌড়,,, রাজ নিজে জামা কাপড় পড়ে,,চলে আসল বাড়িতে।
,
রাজের ফুপিঃ দাড়া রাজ।
,
রাজঃ বলো( ওর ফুপিকে অনেক ভালোবাসে এবং প্রচুর ভয় পাই)
,
 রাজের ফুপিঃ কোথায় ছিলি কালকে সারা রাত।
,
রাজঃ জানোই যখন তখন কেন জিজ্ঞেস করছ( মাথা নিচু করে)
,
রাজের ফুপিঃ তোকে আর কত বুঝাব বল,,,আমি একটা মেয়ে দেখেছি,,, কালকেই তোর বিয়ে আশাকরি চুপচাপ রাজি হয়ে যাবি।
,
রাজঃ ফুপি কি বলছ এসব আমি মেহেরকে ভালোবাসি কেন বুঝতে চাইছ না,,,এই বিয়ে আমি করতে পারব না।
,
রাজের ফুপিঃ আমার মুখে মুখে তর্ক,,,ঐ শঙ্খনির কথা মুখেও আনবি না,,,,ভুলে যাস না তোর সব সম্পত্তি আমার নামে,,, আমার কথা না শুনলে,,, সব সম্পত্তি বিদ্যাশ্রমে দিয়ে দিব,,,,আর ঐ মেয়ে টা তোকে ভালোবাসে না,,,তোর সম্পত্তি কে ভালো বাসে,,, না হলে বিয়ে তে রাজি হয় না,,,কেন। ( চোখ রাঙিয়ে)
,
রাজঃ আচ্ছা তুমি যা বুঝ তাই,,, আমি রাজি।
,
রেহেনাঃ ইয়াহু আম্মু তুমি শেষ পর্যন্ত রাজি করিয়েই ছাড়লে।
,
রাজের ফুপিঃ ওর ভালোর জন্য  আমি,,, নরম ও হতে পারি কঠোর ও হতে পারি।
,
রাজঃ (রুমে গিয়ে)  ফুপি বিয়ে তো করবই,,, ঐ মেয়ে কে দেখ কি হাল করি,,, তোমার কাছ থেকে সম্পত্তি নেওয়াই আমার আসল কাজ,,,কিন্ত মেহেরকে কি করে বুঝাব।
,
,
,
শেষ মেশ বিয়ে টা হয়েই গেলো,,,একেবারে সিম্পল ভাবে রাজ কোন ভাবেই রুমে ঢুকছে না দেখে,,,
রাজের ফুপিঃ এখনো দাড়িয়ে আছিস,,যা মেয়ে টা কখন থেকে তোর জন্য অপেক্ষায় আছে।
,
 বিছানায় বসে আছে,,,মেয়েটি,, রাজ রুমে ঢুকা মাত্রই,,, খাট থেকে উঠে  এগিয়ে গিয়ে,,,  সালাম করতে গেলেই,,,
,
রাজঃ একদম না,,,তোমাকে বিয়ে করেছি শুধু ফুপির কথা রাখতে,,,, আমার থেকে স্বামীর অধিকার আশা করবে না,,,কারণ আমি মেহেরকে ভালোবাসি,,,ফুপির নামে সব সম্পত্তি,,,,তাই কথামত রাজি হয়েছি,,, আমার নামে নিয়েই যা করার করব,,,,,দুদিন পর আমি তোমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিব।
,
মেয়েটিঃ তাহলে  তো আমাকে বলতে পারতেন,,, আমি নাহয় বিয়ে টা ভেঙে দিতাম( কেঁদে কেঁদে)
,
রাজঃ (ভয়েস টা এত চেনা চেনা লাগছে কেন,,, কে এই মেয়ে)  তোমার নাম কি।
,
মেয়েটিঃ আগ্গে রহিমা।
,
রাজ ওহহহ আচ্ছা কান্নাকাটি করো,,,যাও খাটের এককোনে যেয়ে ঘুমিয়ে পড়,,,আর শুন আমি তোমাকে এসব কথা বলেছি,,,  ফুপিকে বলো না কেমন,,,( ভালো ব্যবহার করাই ভালো তা না হলে সব বলে দিবে ফুপিকে)
,
মেয়েটিঃ আইচ্ছা।
,
,
রাজঃ ( বেলকনিতে গিয়ে)  মেহের প্লিজ আমাকে ভুল বুঝ না,,,আমি তোমাকেই ভালোবাসি।
,
মেহেরিমাঃ,,,,,,,,,,,।
,
রাজঃ আরে কি বলছ আমি মিষ্টি খেতে যাব কেন আজব,,,মেয়ে টাকে বলেছি সব,,,ও নিজের থেকেই নাকি চলে যাবে ( মিথ্যা কথা)
,
মেহেরিমাঃ,,,,,,,,,,,।
,
রাজঃ লাভ ইউ টু কলিজা উম্মাহ( যাক মেহেরকে বুঝানো গেছে)
,
,
রাজ এসে শুয়ে পড়ল,,,আজকে আর কাউকে ভোগ করতে পারল না বেচারা,,,ওর ফুপির অর্ডার গেলে খবর আছে,,,, ,চোখে ঘুম নেই মেয়েটির,,,রাজ কে দেখে শয়তানি হাসি দিল,,,
,
সারাঃ কি ভেবেছ রাজ তোমাকে আমি ছেড়ে দিব,,,ফিরে এসেছি আমি,,,শুধুমাত্র তোমার কারনে,,,আমার দুই বছরের চোখের পানির জবাব তোমাকে দিতে হবে,,,, আজ ঘুমাও কিচ্ছু বলব না,,,কাল থেকে শুরু হবে আমার মিশন,,,সামলাতে পারবে তো,,,আজ খুব মনে পড়ছে সেই দিনের কথা,,কি ভাবে ভুলে গেলে,,,,,
,
সারার মনে পড়ছে সেই দিনের কথা যেদিন রাজের সাথে প্রথম দেখা হয়েছিল,,,,,
,
,
ভার্সিটিতে নতুন ভর্তি হয়েছে সারা,,, প্রথম দিন আসতে না আসতেই থামতে হলো ওকে সামনে কিছু ছেলেরা রেগিং করছে,,, সারা এসব তোয়াক্কা করে যেতে নিলেই বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় কিছু ছেলে,,, সারা কিছু কড়াকড়া কথা শুনিয়ে ক্লাসের দিকে পা বাড়ায়,,,নতুন কয়েকটা বন্ধু হয়,,, ভালোই কাটল প্রথম দিন,,,কিন্ত চোখ  আটকে যায় রাজের,,, যেভাবেই হোক ওকে একরাতের জন্য হলেও চাই,,,প্রথমে প্রপোজ করে,,, সারা সাথে সাথে না করে,,দেয়,,,মাঠে হাত ধরে ফেললে,,,ঠাটিয়ে একটা থাপ্পড় মারে,,,রাজের জেদটা একশত গুণ বেড়ে যায়,,,বন্ধুরা ট্রল করত থাকে সামান্য একটি মেয়ের হাতে মাইর খাইছে,,,তাও রাজ চৌধুরী,,, জেদ করে,,, সারাকে ওর নিজের ইচ্ছায় প্রেমে ফেলবে এবং নিজ থেকে ওর সাথে ডেটে যেতে রাজি হবে,,,, সারা মাঠে দাড়িয়ে আছে,,, এমন সময় রাজ ছাঁদে উঠে বলে,,,
,
রাজঃ সারা আই লাভ ইউ,,,তুমি যদি আমাকে এখন ভালোবাসি কথাটা না বলো তো আমি ছাঁদ থেকে ঝাঁপ দিব।
,
সারাঃ পাগলামো করবেন না নিচে নেমে আসুন।
,
অবশেষে হার মানতেই হলো,,,রাজের সাথে জরিয়েছে রিলেশনে,,,,রাজ বৃষ্টির দিন রাতে বাহিরে দাড়িয়ে থাকে সারাকে এক নজর দেখবে বলে,,,ভালোবাসা একেবারে গভীর থেকে গভীরতম হয়,,,স্বপ্ন দেখায় বিয়ে পর এমন করবে,,, সব সুখ সারার পায়ে এনে ফেলব,,,
,একদিন রাজ অফার করে রুমডেটের সারা মানা করে,,,কারণ সারা রাজের সব কৃতকর্ম জেনে ফেলেছে,,, রাজ প্রচুর ক্ষেপে গেছে,,, সারা কে ডেটের জন্য রাজি করাতে যতটানা কষ্ট করেছে,,, অন্য কোন মেয়ের জন্য চুল পরিমাণ করেনি,,,দুজনের সম্পর্ক ইতি টানে এখানেই,,,,কিন্ত সারা কে পাওয়ার লোভ যায়নি,,,একদিন প্রজেক্টের কাজ করত করতে সন্ধ্যা হয়ে যায়,,,হোস্টেলে ফিরতে,, এই সুযোগে রাজ সারাকে তুলে নিয়ে রেপ করে,,, অতপর ভিডিও করে সকল বন্ধ বান্ধবদের দেখায়,,,প্রমাণ করে রাজ চৌধুরী যা চায় তা না পেলে কেড়ে নেয়,,,থেমে যায় সারার জীবন এমনই শতশত মেয়ের জীবন নষ্ট করেছে,,,রাজ,,,,হোস্টেল থেকে বের করে দোওয়া হয় সারা কে,,,,চলে যায় অনেক দূরে ,,,, গত দুই বছরে কেউ সারার কোন হদিস পায়নি,,,গুজব বেরিয়েছে সারা আত্মহত্যা করেছে,,,, কিন্ত    আত্মহত্যা করেনি,,,নিজেকে প্রস্তুত করেছে রাজের জন্য।
,
,অতীত মনে করে  কষ্টে ভিতরটা ফেটে যাচ্ছে সারার,,,তবে ও কাঁদবে না,,,
,
সারাঃ আজকে ঘুমাও মানা করব না,,,কাল থেকে তোমার সব স্বপ্ন আশা,,, তোমার সুখ সবকিছু কেড়ে নিব আমি,,,আমি সারা,,,সারামনি।
অতপর বেডের এক কোণায় গুটিশুটি মেরে ঘুমিয়ে পড়ল,,,,
,
,
,
সকালে
ঠাসসসস ঠাসসসসস
লাফ মেরে উঠল রাজ,,,, চোখের সামনে ও কাকে দেখছে,,, সদ্য গোসল করে এসেছে,,, সামনে দাড়িয়ে থাকা মেয়েটি,,,, চুল থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে,,,,,, সামন থাকা মেয়েটাকে দেখে ভূত দেখার মত চমকে উঠেছে রাজ,,,,,,এটা কি করে সম্ভব,,, না এ হতে পারে না,,,কিছুতেই না,,,,
রাজঃ সা,,,,রা,,,,তু,,,,মি।
,
সারাঃ তো কি ভেবেছিলে  কলিজা,,, অন্য কেউ,,,সোনা,,, কালকেই তো আমাদের বিয়ে হলো,,,, ( রাজকে বালিশে শুইয়ে ঠোঁটে গভীর ভাবে কিস করে)
,
রাজঃ তুমি বেঁচে আছ,,,এটা কি করে সম্ভব তাহলে সুইসাইড করল কে,,,
,
সারাঃ আমি তো রহিমা কলিজা,,, বলেছিলে না আমার সাথে ঘর করবে,,,, আমাদের দুই  দুইটা বাচ্চা হবে,,, সে কারনেই তো আমি তোমাকে বিয়ে করলাম( গালে ঠোঁটে মুখে চুমু দিয়ে) মর্নিং কিস সোনা।
,
রাজঃ( চোখ কচলিয়ে) ভূত।
,
সারাঃ (হাসতে হাসতে)  আমি ভূত হা হা হা হাসালে,,,চুপচাপ উঠে গোসল করে আস যাও,,,,তোমার জন্যই তো আমি ফিরে এসেছি,,,শুধু তোমার জন্য।
,
রাজঃ ( ধাক্কা দিয়ে)  ফুপি ফুপি তুমি কাকে বউ বানিয়ে এনেছ হ্যা এই মেয়েটা কোথা থেকে এলো।
,
রাজের ফুপিঃ ও তো সারা তোর সাথে কালকে বিয়ে হলো,,,কেন রে মেয়ে টাকে তুই রাতে দেখিস নি,,,কত সুন্দর মেয়ে।
,
রাজঃ এই মেয়ের সাথে আমি থাকব না,,,বলে দিলাম কালকেই ডিভোর্স দিব।
,
সারাঃ কলিজা এমন কথা বলে না সোনা,,,তুমি না আমাকে ভালোবাস আমি তো তোমাকে ভালোবাসি তাই আমাদের বিয়ে হলো।
,
রাজ হাত তুলে থাপ্পড় দিতে চাইলেই,,,,,হাত ধরে ফেলে সারা,,,,
সারাঃ তোমার সাহস কি করে হয়,,, মিস্টার প্লেবয় আমাকে থাপ্পড় দেওয়ার জন্য হাত তোলার,,,তুমি জানোনা,,,তোমার সব সম্পত্তি এখন আমার নামে আমি চাইলে যা কিছু করতে পারি,,,তুমি কিছুই করতে পারবে না,,,আমার গায়ে একটা আঁচড় পড়লে তোমার বিশ বছরের জেল হবে,,,, তুমি নিজেই সই করে দিয়েছ,,,কাঁচা খেলোয়াড় ভাব আমাকে।
,
রাজঃ ফুপি কি বলছে ও এসব।
,
রাজের ফুপিঃ ও যা বলেছে সব সত্যি এই দেখ পেপারস( সই করা পেপারস গুলা দেখিয়ে)
,
রাজঃ এটা হতে পারে না,,,ফুপি তুমি আমার সাথে গেইম খেললে।
,
রাজের ফুপিঃ হ্যা খেললাম,,,একটা মেয়ের জীবন নষ্ট করে,,, তুই সুখী হবি ভেবেছিস,,,কোন দিনও না তাই,,, সারা কে তোর সাথে বিয়ে দিয়েছি,,,এবং সব সম্পত্তি আমি ওর নামে লিখে দিয়েছি।
,
সারাঃ ( কলার চেপে ধরে)  আমাকে জোর করে তুলে নিয়ে রেপ করে,,, সেটা ভিডিও করে  সবাইকে দেখিয়েছ তুমি,,,আমার লাইফটা শেষ করে দিয়েছ তুমি,,,কি দোষ করেছিলাম,,,,আমি হ্যা যে এমন করলে,,,ভালোই বেসেছিলাম,,,, আমি ফিরে এসেছি রাজ তোমার জন্য,,, তোমার সব খেলা শেষ এবার শুরু হবে আমার খেলা,,,শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবে,,,কিন্ত কিছুই বলতে পারবে না,,,,,।
,
রাজঃ আমার সাথে পাঙ্গা লড়তে এসে,,, অনেক বড় ভুল কেরেছ,,,সারা এর পরিনাম খুব খারাপ হবে ( দাঁতে দাঁত চেপে)
,
সারাঃ দুই টা বছর শুধুমাত্র তোমার জবাব দিব বলে,,,নিজেকে প্রস্তুত করেছি,,,আমি কাউকে ভয় পাইনা,,,আজকের পর থেকে শুধু দেখবে,,,তোমার সাথে কি কি হয়।
,
রাজ রাগের চোটে ধাক্কা দিতেই,,,,সারা ছিটকে গিয়ে,,, দেওয়ালে লেগে যাওয়ার আগেই নিজেকে সামলে নেয়,,,
,
সারাঃ বুনো ওলের সাথে লড়তে গেলে,,, বাঘা তেঁতুল তো হতেই হয়,,,আমি ও বাঘা তেঁতুল হয়েই এসেছি,,,চিন্তা করো না জান তোমাকে তোমার যোগ্য জবাব দিয়েই ছাড়ব তা না হলে আমার নামও সারা না,,,আর কি যেন বলেছিলে স্ত্রীর অধিকার দিবানা,,,, ওকে তোমাকে দিতে হবে না,,,আমি নিজেই নিয়ে নিব।
,
বলেই রাজকে বেডে ধাক্কা দিয়ে ফেলে,,, কিছু বুঝে উঠার আগেই ঠোঁটে গভীর ভাবে কিস করল,,,রাজ সারাকে নিজের উপর থেকে সরিয়ে জামা কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে গিয়ে শাওয়ার টা ছেড়ে দাড়িয়ে ভাবছে,,
,
রাজঃ না এ হতে পারে না,,,এটা কি করে সম্ভব সারা বেঁচে আছে।
,
সারা রাজের অবস্থা দেখে বিশ্ব জয় করা হাসি দিয়ে,,,ঠোঁট মুছতে মুছতে,,,,
,
সারাঃ চিন্তা করো না জান,,, Just wait and see,, তোমার সাথে আমি আর কি কি করি,,, আমার সাথে  হওয়া এমনকি প্রত্যেকটা মেয়ের সাথে হওয়ার সব হিসেবে আমি কড়াই গন্ডায় শোধ করব,,,সো নো টেনশন আই লাভ ইউ রাজ ,,,কষ্ট ও দিব আদরও করব,,,,, বিয়ে যেহেতু একবার হয়ে,,,গেছে তাহলে আমি আমার অধিকার নিয়েই ছাড়ব।

❤সকলেই পাচ ওয়াক্ত নামায পরবেন প্লিস ❤

চলবে,,,,,,,,,❤❤
Share:

মজার মজার ২০২০ সালের জোকস ফটো

মজার মজার ২০২০ সালের জোকস ফটো
 মজার মজার ২০২০ সালের জোকস ফটো

 মজার মজার ২০২০ সালের জোকস ফটো

 

 মজার মজার ২০২০ সালের জোকস ফটো


Share:

ফুফাতো বোন যখন বউ লেখকঃ Rabi Al Islam পর্বঃ ৫

ফুফাতো বোন যখন বউ
লেখকঃ Rabi Al Islam
পর্বঃ ৫
রাব্বি আমাকে বললো
রাব্বিঃ এই ছোটলোকের বাচ্চা তুই আদিবাকে বিরক্ত কেনো করিস?. 

আদিবা তো তোকে ভালোবাসে না।। আর ছয় মাস পরেই তো তোকে ডিবোর্স দিয়ে দিবে

তারপরও তুই কেনো আদিবার পিছু ছাড়ছিস  না.?

----- মুখ সামলিয়ে কথা বল রাব্বি। আদিবাকে ভালোবাসি বলে ওর করা অপমান সয্য করি।।

কিন্তু তুই কিন্তু সেই সুযোগ পাবি  না??

রাব্বিঃ ছোটলোককে ছোটলোক বলবো না তো কি বলবো?? তোর মত ছেচরা আমি আর কখনও দেখি নাই।।

আমার মাথায় রক্ত চলে আসলো

সাথে সাথেই রাব্বিকে ঠাসসসস, ঠাসসসস  মারতে শুরু করলাম।।

এর মধ্যেই আমার বন্ধুরা সহ কলেজের সবাই চলে এসেছে।।

তারা এসে আমাকে আর রাব্বিকে ছাড়িয়ে দুইপাশে নিয়ে গেল।।

আদিবাঃ ঠাসসসস,, ঠাসসসস, ঠাসসসস কুত্তার বাচ্চা তুই কোন সাহসে রাব্বির গায়ে হাত তুলেছিস???

----- রাব্বি আমার বাবা-মাকে নিয়ে কথা বলছে তাই তো মেরেছি??

আদিবাঃ রাব্বি যা বলেছে তা তা ঠিকই বলেছে।।

তোর বাবা-মা যদি ভালোই হতো তাহলে তোর সাথে আমার বিয়ে দিত না।।

আমার তো মনে হয় তোর বাবা- মা টাকার লোভে তোকে আমার পিছু লাগিয়ে দিছে।।

মনে হয় তোর বোনকেও কোনো বড়লোকের ছেলেদের পিছনে লাগিয়ে দিছে।।

তোদের চরিএই তো এমন।।

আমি আর নিজেকে সয্য করতে পারলাম না।।

----- ঠাসসসস, ঠাসসসস,ঠাসসসস, ঠাসসসস  তোর সাহস কি করে হয় আমার বাবা-মা, বোনের সম্পর্কে বাজে কথা বলার??

এর ভিতরে প্রিন্সিপাল স্যার চলে এসেছে।।

প্রিন্সিপালঃ কি হচ্ছে কি এখানে??

তোমাদের সাহস তো কম না কলেজ ক্যাম্পাসে মারামারি করো??

আদিবাঃ স্যার রবি আমাকে অনেকদিন থেকেই বিরক্ত করছে।।

আর আজকে আমার গায়েও হাত দিয়েছে।।

তারপর রাব্বি কিছু বলতে গেলে রাব্বিকেও মারে।।

ঘটনার সময় যারাই ঠিল তারা সবাই আদিবার বন্ধু তাই তারা সবাই আদিবার কথায় সায় দিচ্ছে।।

প্রিন্সিপালঃ রবি আমি তোমাকে অনেক ভালো জানতাম।।  কারন তুমি অনেক ভালো ছাএ।।

কিন্তু তোমার কাছ থেকে এইটা আমি আসা করিনি।।

------ স্যার আমাকে মাফ করে দিন।। আমি আর কখনও মারামারি করবো না?? তারপরও আমাকে কলেজ থেকে বের করে দিবেন না??

প্রিন্সিপালঃ তুমি ভালো ছাএ বলে তোমাকে একটা সুযোগ দিচ্ছি।। কিন্তু মনে রেখো এটাই লাস্ট।।

এই বলে স্যার চলে গেলো।।

তারপর আমি আদিবাকে বললাম--

------ তোকে অনেক ভালোবাসতাম বলে এতদিন তোর করা অপমান সয্য করেছি।।

কিন্তু আজকে তুই আমার বাবা-মা, বোনকে অপমান করেছিস।।

তোকে আমি কোনোদিনও মাফ করবো না।।

এখন তোর প্রতি আমার কোনো ভালোবাসা নেই আছে শুধু ঘৃনা।।

একটা কথা মনে রাখিস,, তোকে একদিন আমার জন্য কাঁদতে হবে??

আদিবাঃ আফসুস সেই দিনটা কখনও আসবে  না।।

---- দেখা যাবে।। ছয় মাস পর তোর কাছে ডিবোর্স লেটার পাঠিয়ে দিব।।

এই বলে চলে আসলাম।।

আমার বাসায় চলে আসলাস গিয়ে আমার বাবা-মাকে সব বললাম।।

মাঃ তুই এতদিন এতো কষ্টে ছিলি আমাদের বলিস নি কেনো??

বাবাঃ চিন্তা করিস না, দেখবি একদিন ঠিকই ও ওর ভুল বুজতে পারবে।।

তারপর রুমে এসে শুয়ে পড়লাম।।

যাক এতদিনে ছোটলোকটা পিছু ছাড়লো।।

এখন থেকে শান্তিতে থাকতে পারবো।।

বাসায় চলে গেলাম।।

বাসায় গিয়ে তো অবাক।। দেখি বাবা চলে এসেছে।।

আদিবাঃ কেমন আছো বাব??

বাবাঃ ভালো আছি মা।। তুই কেমন আছিস??

আদিবাঃ ভালো বাবা।। তা তোমার তো আরও কিছুদিন পরে আসার কথা ছিল??

বাবাঃ কাজ তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল তাই চলে আসলাম।।

তা তুই একা কেনো?? রবি কোথায়??

আদিবাঃ ও চলে গেছে।।

বাবাঃ চলে গেছে মানে??

তারপর বাবাকে সব বললাম।।

বাবাঃ এ তুই কি করেছিস?? তুই ওর সাথে এমনটা কিভাবে করতে পারলি??

আদিবাঃ বাবা আমি ওকে ভালোবাসি না।।শুধু তোমার মান সম্মানের কথা ভেবে ওকে বিয়ে করেছি??

আর ও রাব্বির গায়ে হাত তুলেছে।।

বাবাঃ ভুলে যাস না ও এখন তোর স্বামী??

আদিবাঃ শুধু ছয় মাসের।।তারপর ওকে ডিবোর্স দিয়ে দিব।।

বাবাঃ তুই আবারও ভুল করবি মা।। মেয়েদের বিয়ে একবারই হয়।।

আদিবাঃ ওর বিষয়ে আমি আর কথা বলতে চাচ্ছি না।। আর তুমি কি চাওনা আমি সুখে থাকি??

বাবাঃ সব বাবাই চায় তার মেয়ে সুখে থাকুক।। আমি শুধু তোকে তোর ভুলটা ধরিয়ে দিচ্ছি।।

আদিবাঃ আমি কোনো ভুল করছি না বাবা।।আমি রাব্বির সাথেই সুখে থাকবো??

বাবাঃ যা সিদ্ধান্ত নিবি বুজে শুনে নিস।। পরে যাতে পস্তাতে না হয়??

তারপর ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নিলাম।।

রাতে শুয়ে শুয়ে ভাবছি কিভাবে পারলো আদিবা আমাকে এতটা অপমান করতে??

পরেরদিন কলেজে গেলাম।। যাওয়ার পর সাকিব বললো---

চলবে-------
Share:

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label