#রহস্যময়_গ্রহ (Mysterious Plannet)
পর্ব - ৫ (পাচ)
লেখা : A R Shipon
আরাধ্য কাঠ হয়ে পাশে সুয়ে আছে। মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না। হাত পা নাড়াতে পারছে না। ঠিক এমন সময় পেছন থেকে ঘরে ঢুকে নুবহা। নুবহা এলিয়েনটিকে দেখে চিৎকার দেয়, সেই সাথে পাশে থাকা একটি লোহার খুনতি দিয়ে এলিয়েনটির মাথায় বাড়ি দেয়। এলিয়েনটি জ্ঞ্যান হারিয়ে ফেলে।
নুবহাঃ আরাধ্য, এই এলিয়েন টি তো তোর কোন ক্ষতি করে নাই?
আরাধ্য ধিরে ধিরে স্বাভাবিক হয়ে উঠে। দীর্ঘ নিঃস্বাস নেয়। তারপর নুবহার প্রশ্নের উত্তর দেয়।
আরাধ্যঃ তুই মারলি কেনো? এ আমার কোন ক্ষতিই করেনি। আমার পাশে সুয়ে ছিলো। দেখে ভয়ে চিৎকার করি। তখন বলে
নুবহাঃ কি বলে?
আরাধ্যঃ এই যে সে আমাদের কোন ক্ষতি করবো না, আমাদের সাহায্য দরকার তাদের। বন্ধু হতে চায়। এই বলে অনুরোধ করে।
নুবহাঃ তাহলে তো মারা ঠিক হয়নি।
নুবহা এলিয়েন এর বুকের উপর কান রেখে বেচে আছে কিনা শব্দ শুনতে চায়। কিন্তু কোন শব্দ বা নাড়াচাড়া নেই।
নুবহাঃ দোস্ত। নিস্তেজ। মরে গেছে মনে হয়।
আরাদ্যঃ দেখ মাথার পেছনের দিকে গোল একটা অংশে আলো জ্বলছে হলুদ রং এর।
নুবহা তাকিয়ে দেখে। ওয়াশরুম থেকে পানি এনে মাথায় ঢালে। কিন্তু কোন কাজ হয় না। হলুদ রং ধিরে ধিরে লাল হয়ে যাচ্ছে।
নুবহাঃ দোস্ত এটা মনে হয় মারা যাচ্ছে।
আরাধ্যঃ মুভিতে দেখেছিলাম সূর্যের আলোয় ওরা শক্তি সঞ্চার করে।
নুবহা দ্রুত গিয়ে জানালার পর্দা সরিয়ে দেয়। জানালা দিয়ে সূর্যের আলো এলিয়েন এর মাথার উপর পরে। মিনিট পাচেক পর এলিয়েন টি চোখ খুলে। আবার চোখ বন্ধ করে। আরাধ্য এলিয়েন এর মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। এলিয়েনটি নিজের হাত তার মাথার রাখা আরাধ্যের হাতের উপর রাখে। চোখ খুলে।
এলিয়েনঃ ধন্যবাদ।
নুবহাঃ আমি দূঃক্ষিত। আমি বুঝতে পারি নাই।
এলিয়েনটি উঠে বসে।
এলিয়েনঃ ইট'স ওকে।
নুবহাঃ বাহ, এলিয়েন বাংলা, ইংরেজি বলতে পারে।
এলিয়েনঃ হাহাহাহাহহাহা। এলিয়েন আবার আমাকে বলে এলিয়েন। আমরা ডেয়ার্থ আর তোমরা এলিয়েন, মানে তোমরা এলিয়েন।
নুবহাঃ হাহাহা। আমরা মানুষ আর তোমতা ভিনগ্রহের প্রানী এলিয়েন।
আরাধ্যঃ আচ্ছা হয়েছে। আসলে আমরা একে অপরের কাছে এলিয়েন। আমরা আমাদের মানুষ বলি আর তোমরা ডেয়ার্থ বলো। এই আর কি। আমি আরাধ্য, তুমি?
এলিয়েন ঃ আমার নাম পিলু। আমি সাইন্সটিস্ট। তোমাদের এই প্ল্যানেট থেকে আমাদের ডাকা হয়েছে।
নুবহাঃ আমি নুবহা। আচ্ছা তোমাদের প্ল্যানেট এর নাম কি?
পিলুঃ Mysterious Plannet বা রহস্যময় গ্রহ। আমরা সহজ করে ডোয়ার্থ বলি। আর ডোয়ার্থের বাসিন্দাদের ডেয়ার্থ বলি।
আরাধ্যঃ Mysterious Plannet কেন তোমাদের গ্রহ?
পিলুঃ সৌরজগতের সবচেয়ে ছোট গ্রহ আমাদের। সম্পর্ন গ্রহটাই ইউরোনিয়াম দিয়ে তৈরি।
নুবহাঃ ইউরোনিয়াম তো অনেক মূল্যবান।
পিলুঃ আগে জানাছিলো না। এখানে এসে জেনেছি। ইউরোনিয়াম তোমাদের কাছে অনেক মূল্যবান। কিন্তু আমাদের কাছে না। আর এই ইউরোনিয়ামই এখন আমাদের কাল হয়ে দারিয়েছে।
আরাধ্যঃ মানে?
পিলুঃ তোমাদের পৃথিবীর একজন সাইন্সটিস্ট স্পেসে ছিলো। তখন সে আমাদের এই Mysterious Plannet আবিস্কার করে। সেখানে গিয়ে গবেষণা করে। আরো আবিস্কার করে যে সেখানে তোমাদের মত এলিয়েনদের বসবাসযোগ্য।
নুবহাঃ বাহ ভালো তো। আমাদের পৃথিবীর জনসংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। আমরা তোমাদের ঐখানে গিয়ে থাকতে পারবো।
পিলুঃ তুমিও তার মত কথা বলছো। আমাদের ধংশ করে ডোয়ার্থ করতে চাইছো? এটা কি ঠিক?
আরাধ্যঃ মোটেও ঠিক না। যার যার জায়গায় সে সে থাকবে।
পিলুঃ কিন্তু আমাদের ধংশ করা হচ্ছে। এরপর সে আমাদের আলোচনার জন্য ডেকে নিয়ে আসে। আমাদের সাথে আসে আমাদের মোহাম এর কন্যা। কিন্তু সে আমাদের সবাইকে আটক করে। আমি কোন রকম পালিয়ে আসি।
নুবহাঃ মোহাম কে?
পিলুঃ তোমদের যেমন দেশের প্রধান আছে। ঠিক আমাদের ও আছে। তোমরা প্রধানমন্ত্রী বলো, আমরা মোহাম বলি।
আরাধ্যঃ আচ্ছা সেটাকে? যে তোমাদের সাথে এই রকম করছে?
পিলু উঠে ছাদের দরজার কাছে এসে হাত দিয়ে ঈশারায় নাওয়াল দের ছাদের চিলেকোঠা দেখিয়ে দেয়। আরাধ্য আর নুবহার বুঝতে বাকি থাকে না যে পিলু কার কথা বলছে। ওর দুজন এসেও পিলুর পাসে এসে দাড়ায়। তখন নুবহা এর ফোন বেজে উঠে। নাওয়াল এর কল। সে কল রিসিভ করে। নাওয়াল নুবহাকে বলে আরাধ্যকে নিয়ে দ্রুত তাদের বাড়িতে আসতে, আরেকটা অঘটন ঘটেছে।
আরাধ্য আর নুবহা পিলুকে সেফ একটা জায়গায় রেখে ঘড় তালা দিয়ে নাওয়াল দের বাসায় উপস্থিত হয়। বাসার নিচে পুলিশ। স্কেচে করে একটা লাশ নিয়ে গেলো। লাশটা এই বাড়ির ড্রাইভারের।
দুজন ভিতরে ঢুকে।
নুবহাঃ কিভাবে মারা গেলো ড্রাইভার?
নাওয়ালঃ জামানের মত ছাদ থেকে লাফ।
আরাধ্যঃ এখানেক কোন রহস্য আছে।
নাওয়ালঃ রহস্য তো আছেই। আর সে রহস্য ড্রাইভার জেনে ফেলায় তাকে খুন করা হয়।
আরাধ্যঃ নিশ্চয় খুনটা ঐ এরিক করে। কি ঠিক বলছি না?
নাওয়ালঃ হুম। তবে নিজেকেক দোষী মনে হচ্ছে। ও আমাকে প্রথমে বলার পর কেনো আমি যে ওকে আবার পাঠালাম।
ছাদের বাগানে প্রতিদিন সকাল আর সন্ধ্যের আগে গাছে পানি দেয় ড্রাইভার। প্রতিদিনের মত গত সন্ধ্যেতেও গাছে পানি দিতে গিয়ে খেয়াল করে রক্তের দাগ। দাগ এর চিহ্ন দেখে দেখে চিলেকোঠার জানালার সামনে গিয়ে থ হয়ে যায় ড্রাইভার। এরিক একটা মৃত মানুষের শরীর থেকে পাইপের মাধ্যমে রক্ত নিয়ে সাদা কিছু রোবটের মধ্যে ঢোকাচ্ছে। এরিকের কাজ শেষ হয়ে গেলে সে লাশটা একটা লাগেজে করে নিয়ে বের হয়। ড্রাইভার তার আগেই নিচে নেমে আসে। সব খুলে বলে নাওয়াল কে। আর নাওয়াল ড্রাইভার কে বলে এরিকের দিকে খেয়াল রাখতে। কি হয় না হয় সব খবর দিতে। সেই অনুসারে রাতে এরিকের ঘরে উকি মারতে গিয়ে ধরা পরে ড্রাইভার। প্রমান লোপাট করতে আর এরিকের তৈরি রোবট আকৃতির জেনেটিক প্রানির খাদ্যের সঞ্চার করতে এরিক খুন করে ড্রাইভারকে। তারপর রক্ত নিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দেয়।
নাওয়ালঃ ড্রাইভারের মৃত্যুর জন্য সব দোষ আমার। আমি না বললে ওর হয়তো মরতে হতো না।
আরাধ্যঃ বিষয়টি দিনকে দিন জটিল হয়ে যাচ্ছে। এই বাসা সহ আসে পাসের সবাই বিপদে আছে। এমনকি তোমরাও। তোমাদের খুব সাবধানে থাকতে হবে। আর এরিকের একটা ব্যাবস্থা করতে হবে।
নুবহাঃ বদের হাড্ডিটা আরেকটা গ্রহ দখলের জন্য এই সব কাজ করছে।
নাওয়ালঃ মানে? কোন গ্রহ?
নুবহাঃ ডোয়ার্থ নামে একটা রহস্যময় গ্রহ আছে। সেটা।
নাওয়ালঃ তোমরা জানলে কিভাবে?
আরাধ্যঃ আমার বাসায় চলো। সব খুলে বলছি।
এরপর তিনজন মিলে আরাধ্যের বাসায় আসে। সেখানে নাওয়ালকে পিলুর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। প্রথমে পিলুকে দেখে নাওয়াল অনেক ভয় পেয়ে যায়। ধিরে ধিরে সেও আরাধ্য আর নুবহার মত স্বাভাবিক হয়ে উঠে পিলুর সাথে। তারপর প্ল্যান করে যে আজ রাতে এরিকের কর্মকাণ্ড ভিডিও করে প্রমান নিয়ে পুলিশের কাছে যাবে এবং তাকে ধরিয়ে দিবে।
প্ল্যানের মাঝখানে উপস্থিত হয় প্রিয়ন্তি।
প্রিয়ন্তিঃ আমি কি মাঝখানে এসে তোমাদের ডিস্টার্ব করলাম?
কথা শেষ করার পরপরই প্রিয়ন্তির চোখ পরে পিলুর দিকে। ঠাটিয়ে একটা চিৎকার, অতঃপর জ্ঞ্যান হারানো।
সবাই মিলে মাথায় পানি ঢালে। কিন্তু সহজে তার আর জ্ঞ্যান ফিরছে না। তখন পিলু এসে প্রিয়ন্তির মাথায় হাত রাখে। এরপর জ্ঞ্যান ফিরে পিলুকে দেখে আবার চিৎকার দিয়ে আরাধ্যকে জরিয়ে ধরে।
আরাধ্য প্রিয়ন্তিকে শান্ত করে সব খুলে বলে, খুলে বলে রাতের প্ল্যানের কথা। প্রিয়ন্তি রাতে ওদের সাথে থাকতে চায়। কিন্তু আরাধ্য রাখতে নারাজ। খালাখালু এমনিতেই ওকে সহ্য করতে পারে না। কখনই প্রিয়ন্তিকে রাতে আরাধ্যের সাথে থাকতে দিবে না।।
এখন অপেক্ষা রাত হবার। রাত হওয়ার আগ পর্যন্ত ওরা সবাই আরাধ্যের বাসাই থাকবে। সবার জন্য রান্না করে প্রিয়ন্তী আর নাওয়াল। আর পিলু? পিলু কি খাবে?
পিলু সুধু ডিম খায়। নুবহা নিচ থেকে পিলুর জন্য ডিম নিয়ে আসে। আর নিয়ে আসে ৩টি জাতীয় পত্রিকা। যার প্রতিটির হেড লাইনে " ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে রক্তশূণ্য লাগেজে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার"
চলবে.....
দয়াকরে যারা গল্পটি পরবেন তারা ভালো বা খারাপ লাগা কমেন্টস করে জানাবেন। শেয়ার করা মত হলে শেয়ার করবেন। আর ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ।
Home »
» রহস্যময়_গ্রহ (Mysterious Plannet) পর্ব - ৫ (পাচ)






No comments:
Post a Comment