Joy Bhaiya Youtube Channel

ফুফাতো বোন যখন বউ লেখকঃRabi Al Islam পর্বঃ ২

ফুফাতো বোন যখন বউ
লেখকঃRabi Al Islam
পর্বঃ ২
ঠাসসসস,, ঠাসসসস ঠাসসসস।।
তোর সাহস কি করে হয় আমাকে স্পর্শ করার?

তোর মত চরিএহীন ছেলে আমি জিবনেও দেখি নি।।

কথাগুলো বলেই আদিবা  চলে গেল।।

আর আমি রাস্তার পাশে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছি।।

আদিবাকে বাঁচাতে গিয়ে আমার অনেক জায়গায় কেঁটে গেছে।।

অনেক রক্তও বের হচ্ছে।। ওর থাপ্পরের কারনে ঠোট কেঁটেও রক্ত পরছে।।

এর থেকেও বেশি কষ্ট হচ্ছে আদিবার কথা শুনে।।

আমার কাজিনরা এসে আমাকে পাশের একটা ঔষধের দোকানে নিয়ে গিয়ে ব্যান্ডেজ করিয়ে দিল।।

তারপর বাসায় চলে আসলাম।।

সবাই জিগ্গেস করছিল যে, আমার শরীরে ব্যান্ডেজ কেনো??

তাদের বললাম রাস্তায় পড়ে গিয়ে ব্যাথা পেয়েছি।।

রাতে সবাই খাওয়ার জন্য ডাকলো।।

তাদের বললাম খেতে ভালো লাগছেনা।।

আসলে আদিবার থাপ্পরের কারনে ঠোট কেঁটে অনেক ঘা হয়ে গেছে তাই খেতে পারছি না।।

রুমে সুয়ে আছি।।  তখনই জান্নাত আসলো

জান্নাতঃ ভাইয়া তুমি খাবে না কেনো?? আর তোমার ঠোট কেঁটে গেছে কিভাবে??

----- আদিবাকে বাচানোর জন্য ওকে স্পর্শ করেছিলাম। তাই ও থাপ্পর মেরেছে।।

জান্নাতঃ এর জন্যই তুমি ভাত খেতে পারছো না।।

----- হুম।।

জান্নাতঃ তোমার খুব কষ্ট হচ্ছে তাই না ভাইয়া??

------ আরে আমার কোনো কষ্ট হচ্ছে না।। তুই মন খারাপ করিস না।।

জান্নাতঃ আচ্ছা তুমি এখন ঘুমাও।। আমি গেলাম।।

----- আচ্ছা।।

জান্নাতঃ আপু তুমি ভাইয়াকে শুধু শুধু মারলা কেন??

আদিবাঃ ওই লুইচ্চা টা আমায় স্পর্শ করেছে তাই মারছি।।

জান্নাতঃ আমার ভাইয়ের সম্পর্কে আর একটাও বাজে কথা বলবা না।। সে তোমার জিবন বাচিয়েছে।।

আদিবাঃ এখন তো কতো মিথ্যা কথাই বলবি তোরা। এই বিষয়ে আমি আর কথা বলতে চাই না।। তুই যা।।

জান্নাতঃ যাচ্ছি।। তবে একদিন আমার ভাইয়ের জন্যই তোমাকে কাঁদতে হবে।।

আদিবাঃ হা হা হা।। সেই দিনটা কখনও আসবে না।।

সকালে ঘুম থেকে উঠলাম।।

তখনই রুমের ভিতর সব কাজিনরা আসলো

আমাদের মাফ করে দাও ভাইয়া।।  আসলে আমারা ওই সময় ওই জাগায় ছিলাম না তাই আদিবা আপুকে কিছু বলতে পারি নাই।।

----- তোদের কোনো দোষ নাই।। আসলে আদিবা আমাকে অনেক ঘৃনা করে তাই ও এইরকম করেছে।।

হাত-মুখ ধুয়ে কিছু খেয়ে নিলাম।।

আজকে বড় আপুর বিয়ে তাই অনেক কাজ করতে হবে।।

বড় পক্ষ চলে এসেছে।।

আদিবার দিকে খেয়াল করে দেখলাম অনেক সুন্দর করে সেজেছে।।

ভাবছি কবে যে আদিবা আমার ভালোবাসা বুজবে।।

বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হলো।।

সব কাজিনরাই দুই একদিনের ভিতরে চলে যাবে।।

সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম যাওয়ার আগে গ্রামটা ঘুরে দেখবো।।

তাই রাতে সবাই ঘুরতে বের হলাম।।

সবাই যার যার মত আড্ডা দিচ্ছে।।

আর আমি শুধু আদিবাকে দেখছি।।

হঠাৎ দেখলাম আদিবা মোবাইলে কথা বলতে বলতে অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছে।।

সবাই যাচ্ছে এক রাস্তায় আর ও যাচ্ছে অন্য  রাস্তায়।।

আমিও আদিবার পিছু নিলাম।।

অনেক দুর হাটার পর আদিবার মনে হলো যে ও অন্য রাস্তায় চলে এসেছে।।

পিছনে আমাকে দেখেই বলতে লাগলে।।

আদিবাঃ তুই আমার পিছু কেনো নিয়েছিস??

----- তুমি একা একা অন্য রাস্তা দিয়ে হাঁটতেছিলে।। তাই তোমার পিছু নিয়েছি।।
যদি তোমার কোনো বিপদ হয়??

আদিবাঃ তুই সাথে আছিস বলেই তো বিপদের ভয় হচ্ছে।।

 এর ভিতরে হঠাৎ করেই কিছু একটার শব্দ শুনে আদিবা আমাকে জরিয়ে ধরলো।।

আমার তো কারেন্টের শক খাওয়ার মত মনে হলো।।

আমি কোনোদিন কল্পনাই করি নাই যে আদিবা আমাকে জরিয়ে ধরবে।।

তখনই সেই রাস্তা দিয়ে একজন লোক যেতে ছিল।।

সে আমাদের ওই অবস্থায় দেখেই চেচিয়ে লোক জড়ো করলো।।

তারা আমাদের ওই অবস্থায় দেখে সবাই ভুল বুজলো।।

আমারা তাদের বোঝাতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলাম।।

অনেক লোক জড়ো হলো।।

আমাদের বাসায় ও খবর দেওয়া হলো।।

বড় চাচা, আমার বাবা,আদিবা বাবা, বাসার সবাই এসেছে।।

বড় চাচা, আমার বাবা, আদিবার বাবা তাদের মান - সম্মানের ব্যাপার।।

তাই তারা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিল যে, আমাদের বিয়ে দিয়ে দেবে।।

কিন্তু আদিবা আমাকে কিছুতেই বিয়ে করতে রাজি হচ্ছে না।।

তখন আদিবার বাবা আদিবাকে বললো,,

----- দেখ মা, তুই যদি এই বিয়ে না করিস তাহলে আমার মান- সম্মান বলতে কিছুই থাকবে না।।

আর তাছাড়া আমি এতদিন শুধু শুধুই রবির বাবাকে অপমান করে এসেছি।।

তাকে এত অপমান করার পরও সে আমাকে তার বোন জামাই বলে সম্মান করে।।

আর রবি অনেক ভালো ছেলে।। দেখবি ও তোকে অনেক সুখে রাখবে।।

আদিবাঃ বাবা আমি ওকে কিছুতেই বিয়ে করতে পারবো না।।

----- তুই যদি এই বিয়ে না করিস তাহলে আমার আত্তহত্তা ছাড়া কোনো পথ থাকবে না।।

তারপর আদিবা বাধ্য হয়েই বিয়েতে রাজি হলো।।

কাজি ডেকে আমাদের বিয়ে পড়ানো হলো।।

কাজিনরা সবাই মিলে আমাদের বাসর ঘর সাজিয়ে দিল।।

রাত ১২ টার সময় বাসর ঘরে প্রবেশ করলাম---

চলবে-----
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label