This Product More details and Order Now
| List Price | $36.00 |
| With Deal: | $14.41 |
| You Save: | $21.59(60%) |
Joy Bhaiya Youtube Channel
| List Price | $36.00 |
| With Deal: | $14.41 |
| You Save: | $21.59(60%) |



♥চমৎকার সেই মেয়েটি♥
লেখক,,♠তানভীর হাসান হেলিম♠
[[[সম্পর্ন গল্প]]]
ওপাশ থেকে সামান্য ফুঁপানির আওয়াজ আসে।মেজাজ আমার আরো কয়েক ডিগ্রি খারাপ হয়।ঠাসিয়ে এক ধমক দিয়ে বলি,
– এই মেয়ে!সমস্যা কি তোমার। নিজের কান্না শুনানোর জন্য ফোন করেছো তুমি?
ঈশিতার কান্নার বেঁগ যেনো আরো কিছুটা এগিয়ে যায়।আমি চুপ করে থাকি!খানিকবাদে ঈশিতা নিজেই ভাঙ্গা গলায় বলে,
– আমি সত্যিই সরি!আমার জন্যই আজ আপনাকে এতগুলো কথা শুনতে হয়েছে!আমি সত্যিই বুঝতে পারি নি এমন কিছু ঘটে যাবে!আমাকে আপনি মাফ করে দিন।
এটুকু বলেই ঈশিতা আবার হুহু করে কেঁদে উঠে।
কথা খানিক না,পুরোপুরিই সত্য।আজ এই মেয়ের জন্যই আমায় নিজের ক্যারেক্টার
নিয়ে কথা শুনতে হয়েছে!নিজের শিক্ষা,দীক্ষা নিয়ে কথা শুনতে হয়েছে!আরো কতো
কথাই না শুনতে হয়েছে,যার
অনেকগুলো এখন মনেও করতে পারছি না।
আপনার উপর যদি কেউ সহায় না হয়, তবে ঢাকা শহরে একটা টিউশনি পাওয়া মানে খড়ের
মধ্যে সুঁচ খুজে পাওয়ার সমান!যখন, গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করার পরও শত চেষ্টা
করে নিজের মন মতো একটা জব পাচ্ছিলাম না,তখন আমার এক পাতানো ফ্রেন্ড আমার
উপর সহায় হয়েছিলো।পাতানো ফ্রেন্ডের বিষয়টা অন্য আরেকদিন ক্লিয়ার করবো।আজ
আসল গল্পটা বলা যাক।তো সেই পাতানো ফ্রেন্ডের কৃপাতেই ঈশিতাকে পড়ানোর
দায়িত্বটা পেয়ে যাই আমি।
প্রথম যেদিন ঈশিতাকে পড়াতে যাই, সেদিন
ঈশিতাদের বাসার সামনে দাঁড়িয়ে কয়েকবার কলিংবেল টিপতেই দরজা খুলে যায়।আমি
স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকি সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটির দিকে।একে তো দুধে আলতা
গায়ের রং তার উপর সাদা চুরিদার পড়ায় মেয়েটিকে কোনো এক অপ্সরা বলে মনে
হয়েছিলো আমার।সেদিন আমিই প্রথমে নিরবতা ভেঙ্গে বলেছিলাম,
– আমার নাম তানভীর হাসান, ঈশিতার নতুন টিচার।ঈশিতাকে ম্যাথ পড়ানোর জন্য আমাকেই ঠিক করা হয়েছে।
সামনে থাকা মেয়েটি তখন আমায় সালাম দিয়ে বলেছিলো,
– ভেতরে আসুন স্যার!আমিই ঈশিতা।
এমন কথায় আমি খানিকটা থমথম খেয়ে যাই।ভ্রু কুচকে তাকিয়ে থাকি।একটু আগেই যার
শারীরিক গঠন, মোহনীয় সুন্দর্য আমায় প্রায় গ্রাস করে নিয়েছিলো,সে মুহুর্তেই
আমার চোখে পিচ্চি মেয়েতে পরিনত হয়।
ঈশিতা মেয়েটাকে প্রথম দিকে বেশ
চুপচাপ স্বভাবেরই মনে হয়েছিলো।কিন্তুু যত দিন যেতে থাকলো মেয়েটার চঞলতা ততই
বাড়তে থাকলো।মাঝেমাঝে মেয়েটা এমন বাচ্চা সুলভ আচরন করতো খুব কষ্টে নিজের
হাসিকে চেপে রাখতে হতো।নিজের গাম্ভীর্য প্রকাশ করতে কন্ঠে খানিকটা গম্ভীরতা
এনে বলতাম, “চুপকরে পড়ো মেয়ে।এতো কথা কিসের।”
এমন কথায় সে কিছুটা
ভেঙচিয়ে উঠতো।আমি অনুমান করতাম,সে মনে মনে বলতো, “হুহ!আপনি একটা পঁচা
লোক।আপনি সব সময় আমার সাথে এমন করে কথা বলেন”।
তার বাচ্চা সুলভ আচরন
গুলো যে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ছিলো সেটা আমার কাছে পরিষ্কার হয় আরো কিছুদিন
বাদে।সেদিন বাহিরে খুব করে বৃষ্টি হচ্ছিলো।কেমন এক অদ্ভুত শীতলতায় ছেঁয়ে
গিয়েছিলো চারোদিক।হঠাৎ করেই আমার তৃষ্ণার্ত পুরুষালি চোখ জোড়া তার চোখে চোখ
রাখে।আমি চমকে উঠি সেই চোখের দিকে তাকিয়ে।কি গভীর চাহনি!কি ভয়ঙ্কর
ভালোবাসাই না ফুটে উঠেছিলো তার চোখে।আমি দ্রুত নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে
নিয়েছিলাম সেদিন।আমি জানি এমনটা সম্ভব না।একে তো মেয়েটা কেবল ইন্টারমিডিয়েট
পড়ছে!প্রাপ্ত বয়স্কের ছোঁয়া সে এখনো পেয়ে উঠে নি,তার উপর তার ফ্যামিলি
স্ট্যাটাস!এ ব্যাপারে চিন্তা করাও আমার তখন অপরাধ!
ঈশিতার আচার-আচরন
দিনকে দিন বিগড়ে যেতে থাকে।সে কিভাবে আমার বাড়ির ফোন নাম্বার জোগার করেছিলো
আমি তা বলতে পারি না।তবে আমি তাকে পড়িয়ে আসার পরপরই সে ছোট করে মেসেজ
করতো। বলতো,”আজকে যে শার্ট টা পড়েছিলেন এই শার্ট টা আর পড়বেন না।এই শার্টে
আপনাকে একদম মানায় না।আর হ্যাঁ,আপনার রিসেন্ট পোষ্টে দেখলাম কয়েকটা পেত্নী
লাভ রিয়েক্ট দিয়েছে।এদের আজই লিষ্ট থেকে বের করবেন!এমন ক্যারেক্টারহীন
পেত্নীদের লিষ্টে রাখার কোনো দরকার নেই।
এইতো কিছুদিন আগে মেয়েটাকে বেশ
কঠিন এক ম্যাথ বুঝাচ্ছিলাম।তখন সে আমার দিকে কিছুসময় এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে
থেকে আহ্লাদমাখা কন্ঠে বলেছিলো,”জানেন আপনার চুলগুলো না খুব সুন্দর।আমার না
সব সময় ইচ্ছে করে আপনার চুলে একটু ছুঁয়ে দিতে।দিবেন একটু ছুঁয়ে দিতে?দেই
না একটু ছুঁয়ে।প্লিজ?
সেদিন আমি সব রাগ একসাথে ঝেড়েছিলাম।পড়ানো ম্যাথই ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে করতে দিয়েছিলাম তাকে।
না পাড়ায় স্টীলের স্কেল দিয়ে সবটুকু শক্তি নিয়ে দুটো মেরেছিলাম তার বাম
হাতের তালুতে।সাথেসাথেই তার মসৃণ সাদা ধবধবে হাতের তালুতে স্কেলের দাগ বসে
গিয়েছিলো।মনে হচ্ছিলো,আর একটু জোড়ে মারলে বোধহয় হাতের তালুর চামড়া ভেদ করে
রক্ত বেরিয়ে আসতো।হাতের তালুর মতো তার চোখও লাল হয়ে উঠেছিলো
মুহুর্তেই।নিচের দিকে তাকিয়ে বেশ কিছুক্ষন নিশ্চুপ কান্না কেঁদেছিলো সে।তার
চোখের জল টপ টপ করে পড়ছিলো!আমার মন খারাপ হয়ে যায়।অপরাধবোধ কাজ করে
মনে।মেয়েটার নিশ্চুপ কান্না আমাকেও পীড়া দিতে থাকে।সেদিন পড়ানো শেষে বাসায়
এসে আমি নিজেই তাকে ছোট করে মেসেজ করে বলেছিলাম,”সরি”!
আমার ম্যাসেজে সে সাথে সাথেই প্রত্তুত্যরে বলেছিলো, “আই লাভ ইউ”!
এমন প্রত্তুত্যরে আমি একটু ধাক্কার মতো খাই।এমন প্রত্তুত্যরের জন্য আমি
একটুও প্রস্তুুত ছিলাম না!যদিও কোথাও না কোথাও ভালো লাগার শীতল হাওয়া আমায়
গ্রাস করতে চেয়েছিলো।আমি প্রশ্রয় দেই নি।রেগে গিয়ে বলেছিলাম,
“বেয়াদপ মেয়ে!তোমাকে আরো কয়েক ঘাঁ বেশি দেওয়া উচিত ছিলো!”
এরপর থেকে মেয়েটা যেনো আরো বেশি সাহসী হয়ে উঠে।পড়াতে গেলেই নানা রকম বায়না
ধরে আহ্লাদি হয়ে বলে,”আজ আর না পড়লাম প্লিজ।চলুন না,আজ একটু গল্প করি!
তার কথার প্রত্তুত্যরে আমি বলি,”তোমার বাবা-মা মাস গেলেই আমাকে টাকা
দেয়।সেটা এমনি এমনি না।আর আমরা গরীব মানুষেরা টাকা হালাল করে খাই।হারাম
টাকা আমাদের সয় না।
এমন কথায় মেয়েটা মুখ গোমরা করে বলে,”আপনি সব সময়
এমন কঠিন করে কথা বলেন।মানুষের মন খারাপ করে দিতে আপনার দু-দন্দ সময়ও লাগে
না।নিন পড়ান!যত ইচ্ছে পড়ান!
এসব পর্যন্তই ঠিকই ছিলো,তবে আজ মেয়েটা যে এমন কিছু করে বসবে আমি স্বপ্নেও তা ভাবতে পারি নি।
খাতায় ম্যাথ করে দিচ্ছি আর বুঝাচ্ছি,এমন সময় সে হঠাৎ সামান্য ঝুঁকে এসে
টুক করে আমার গালে চুমু খেলো।আমি অবাক হওয়ারও সময় পেলাম না।তাকিয়ে দেখি
দরজার সামনে ঈশিতার মা বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছেন!
ঈশিতার কথায় আমার ভাবনার সুঁতো কাটা পড়ে।সে নাকের সর্দি টানতে টানতে বলে,
– কি হলো!কথা বলছেন না কেনো?আমি সত্যিই অনেক সরি।প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দিন।
আমি শীতল কন্ঠে ছোট করে বলি,
– হুম।
সে নাকের সর্দি টেনে ফুঁপাতে ফুঁপাতে বলে,
– আম্মু এমন করবে জানলে আমি কখনোই ওমন কিছু করতাম না বিশ্বাস করুন!আমি তো ভেবেছিলাম…….।
আমি অবাক হই।অবাক হয়ে বলি,
– যা বলবে পরিষ্কার করে বলো মেয়ে!
সে ভীত কন্ঠে বাচ্চা বাচ্চা ভঙ্গিতে বলে,
– দেখলেন তো!আপনি সব সময় আমায় ধমকিয়ে কথা বলেন।আমার কি দোষ! আমি তো
ভেবেছিলাম আম্মু আমাদের ওভাবে দেখলে আব্বুকে বলে আপনার সাথে আমার সম্পর্ক
পাকাপুক্ত করার ব্যাবস্থা করবেন।তাই দরজার সামনে আম্মুর উপস্থিতি টের পেয়েই
আমি…..!
ঈশিতার এমন কথায় আমি হতভম্ব হয়ে রই কিছুক্ষন!হাসবো না কাঁদবো কিছুই বুঝে আসে না।একরাশ বিস্ময় নিয়ে বলি,
– তারমানে তুমি বুঝে শুনে ইচ্ছে করে এটা করেছো?
সে খানিকসময় চুপ করে থাকে।বলে,
– আমি সরি তো!
আমি ভেবে পাই না।এই মেয়েকে কি বলা উচিত।কিছুসময় চুপ থেকে থমথম গলায় বলি,
– আসলে কি জানো, সবকিছুই পূর্বনির্ধারিত ঠিক করা থাকে।যা আমরা চাইলেও
আটকাতে পারি না, আবার না চাইলেও না!আমি জানি না সামনে কি হবে বা হতে
চলেছে।শুধু জানি তুমি যেমনটা ভাবো এমনটা কখনো সম্ভব নয়।তোমার জীবন আর আমার
জীবন চুম্বকের দুই প্রান্তের মতো।যা একে অপরকে আকর্ষণ নয় বিকর্ষণ করে।
ঈশিতা আবার ফুঁপিয়ে উঠে।কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলে,
– যত যাই বলুন,আপনাকে আমি কখনোই ছাড়বো না!কোনো দিনও না।এক মুহুর্তের জন্যও
না!আপনাকে নিয়ে আমি কাব্য রচনা করবো।আমার মনের সমস্ত অনুভূতিগুলোকে আপনার
রঙে রাঙ্গাবো।আপনাকে নিয়ে মনে যত সুপ্ত ইচ্ছেগুলো সব একে একে পূরণ করবো।
এইটুকু বলে সে একটু চুপ করে।কিছুটা কতৃত্বের সুর তুলে বলে,
– আর হ্যাঁ,কাল আপনি হলুদ পান্জাবি পড়ে আমাদের বাসার সামনের যে মোড় টা আছে
ওখানে বসে আমার জন্য অপেক্ষা করবেন।আমি কলেজে যাওয়ার নাম করে রিকশায় আপনার
সাথে পুরো শহর ঘুরবো।নতুন এক গল্পের শুরু করবো।আপনি যদি না আসেন,আমি
কিন্তুু সোজা আপনার বাসায় গিয়ে হাজির হবো হুহ!তখন আবার আপনি আমার দিকে চোখ
রাঙ্গিয়ে তাকাতে পারবেন না!!
আমি চুপ করে থাকি।মেয়েটার এমন কতৃত্বের
সুরের কথাবার্তা বড় ধরনের নাড়া দিয়ে যায় মনে!সব পুরুষেরাই চায় কেউ না কেউ
এমন একজন থাকুক যে তাকে প্রধান্যের শেখড়ে বসিয়ে রাখবে।আচ্ছা আমার তো হলুদ
পান্জাবি নেই।আমি যদি গাঢ় নীল রঙা পান্জাবি পড়ে অপেক্ষা করি তবে কি মেয়েটা
রাগ করে গাল ফুলিয়ে থাকবে?পরক্ষনেই আমি অশ্চর্য হই নিজের চিন্তা-ভাবনা
দেখে।তবে কি আমি সত্যিই বাচ্চা বাচ্চা স্বভাবের চমৎকার এই মেয়েটির প্রেমে
পড়ে গেলাম!!
——————————
♦♦সমাপ্ত♦♦

#পার্ট_১
"রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছেলেদের সাথে নষ্টামি করতে লজ্জা লাগে না,তোর এতোটা অধপতন হয়েছে। আজকে তুই বাড়ি চল তারপর দেখবি তোর হাল কি করি "
"স্যার আপনি ম্যাডামকে ভুল বুঝছেন, উনি তো ফুল কিনতে এসেছে "
"কতো টাকায় তোর ম্যাডামকে কিনেছিস যে দরদ উথলায় পড়ে "
"না স্যার এমন কিছু না, সত্যি উনি ফুল কিনতে এসেছে "
আমার হাত টেনে নিয়ে রিকশা উঠালো। আমি ভয়ে ভয়ে বললাম,
-তুমি আমাকে যা বলার বাসায় এসে বলতে বা কি হয়েছে যেটা জেনে নিয়ে,,,,,,,
-একদম চুপ তোর মতো মেয়েকে আমি খুব ভালো করে চিনি।
আমি সাহস করে আর কিছু বলতে পারলাম না। বাসায় এসে রোহন ওর প্যান্টের বেল্ট
খুলে আমাকে খুব মারলো। রুমের একটা কোনায় শুয়ে রয়েছি, ব্যাথার যন্ত্রণায়
নড়তে পারিনি।
আমার চার বছরের পিচ্চি মেয়েটা আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে,"
আম্মু আমি দুষ্টুমি করি বলে আব্বু তোমাকে মেরেছে তাই না? আমি আর দুষ্টুমি
করবো না। "
মেয়েটাকে শক্ত করে বুক জড়িয়ে বললাম,
"না মা তুমি তো আমার লক্ষী সোনা, চলো এখন খেয়ে নিবে"
"না আম্মু আামার ক্ষুধা নেই, আমি ঘুমাই"
"না একটু খেতে হবে"
মেয়েটাকে খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিলাম। রোহানকে খেতে ডাকার জন্য ওর কাছে গিয়ে বললাম,
-খেতে এসো।
-তুই যা আমি আসছি
-আচ্ছা
রোহানকে খেতে দিয়ে আমি টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে আছি।
-তুই কি এবোয়শন করবি না?
-না
-তোকে ভালো মতো বলেছি এবোয়শন কর নয়তো বাঁচতে পারবি না।
-মরে যাবো তাও আমার সন্তানকে মেরে ফেলতে দিবো না।
-অন্যের সন্তান আমার নামে চালিয়ে দিবি সেটা আমি মেনে নিবো না
-নিজের সন্তানকে অন্যের সন্তান বলতে লজ্জা লাগে না? কেমন বাবা তুমি?
-মুখে মুখে এতো কথা বলে খাওয়া ছেড়ে রোহান আমার গালে ঠাসসসস্ ঠাসসস্ কয়েকটা থাপ্পড় মেরে চলে গেলো।
রাতে আমার খাওয়া হলো না। ব্যাথার যন্ত্রণায় জ্বর খুব জ্বর হলো।
সকালে এক গ্লাস পানি আমার মুখের উপর ছুঁড়ে মারলো।
-নবাবজাদী তুই এখনও ঘুমাস? রাতে কি অন্য কারো কাছে গিয়েছিলি
আমার মেয়ে "রাফিসা" বললো,
-আব্বু দেখো আম্মু গায়ে অনেক জ্বর, ডক্টরের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
-ওসব জ্বর টর কিছু না, যত্তসব ঢং।
আমার হাত ধরে টেনে উঠিয়ে বললো,
-যা গিয়ে আমার জন্য নাস্তা রেডি কর।
আমি কিছু বলতে পারলাম না শুধু চোখ থেকে পানি পরতে থাকলো। কোনো মতো রুটি আর ডিম ভেজে দিলাম। রোহান খেয়ে অফিসে যাওয়ার আগে বললো,
-সন্ধ্যা রেডি থাকিস তোকে হসপিটালে নিয়ে যাবো।
-এবোয়শন করবো না
দরজায় লাথি মেরে রোহান চলে গেলো।
মনে পরে গেলো পাঁচ বছর আগে আমি প্রথম মা হওয়ার খরব রোহানকে দেই তখন ও
খুশিতে সারা বাড়ি আমাকে কোলে তুলে নিয়ে ঘুরছে। আমার মা-বাবা, শশুড়-শাশুড়ি
তাদেরকে আমার কাছে এনে রেখেছে। ওর একটাই কথা ছিলো যে "পুরো একবছর আমাদের
সাথে থাকতে হবে "। আমার বাবা মা রোহানকে খুব ভালোবাসতো তাই ওর কথা ফেলতে
পারে নি৷ আর ওর বাবা মা গ্রামে থাকতে পছন্দ করে তাও ছেলের খুশির জন্য
থেকেছে।
রোহান অফিসে গেলে একটু পর পর কল করে বলতো, আমার অসুস্থ লাগছে
কি না?খাবার খেয়েছি কি না? বাবু নড়াচড়া করছে কি না?আরও কতো কিছু। আবার
ভিডিও কল দিতো। অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময় খাবার নিয়ে আসতো৷
প্রতিদিন
আমার পছন্দের খাবার রান্না করতো আমার মা আর শাশুড়ী। আমাকে রান্না ঘরে যেতে
দিতো না। আমি ওয়াস রুমে গেলে রোহান বাইরে দাড়িয়ে থাকতো। এমন কি সকালে আমাকে
ঘুৃম থেকে তুলে ব্রাশ করিয়ে দিতো। আমি কিছু চাওয়ার আগে আমার সামনে হাজির
করতো। সবাই আমাকে বলতো আমি অনেক ভাগ্য করে রোহানের মতো স্বামী পেয়েছি ।
এখন রোহান কেনো এমন করছে? কেনো আমাদের সন্তানকে পৃথিবীতে আসতে দিতে চায়
না? যে রোহান আগে কখনও আমারকে ঝাড়ি মেরে কথা বলে নি আর সে এখন আমার গায়ে
হাত তুলে।
পুরোনো কথা মনে পরায় বেশ কিছুক্ষণ কেঁদে মন হাল্কা করলাম।
রাফিসা আমাকে এসে বলে,
-আম্মু তুমি কেঁদো না। আমি বড় হয়ে ডাক্তার হবো তখন তোমার জ্বর হলে আমি ওষুধ দিবো
-হ্যাঁ মা তুই বড় হলে আমার আর কোনো কষ্ট থাকবে না।
-আচ্ছা আম্মু জ্বর হলে কি ওষুধ জেনে খায়?
-কেনো? তুই জেনে কি করবি?
-আহ্ এতো কথা বলো না তো, যা জিজ্ঞেস করছি তা বলো।
-নাপা ওষুধ
রাফিসা দৌড়ে গিয়ে ফাস্টবক্স এনে বললো,
-N A P A. নাপা ওষুধ তাই না
-হুম
আবার দৌড়ে গিয়ে বিস্কুট আর কলা এনে বললো,
-আম্মু এগুলো খেয়ে নেও তারপর ওষুধ খেতে হবে
মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরে বললাম,
-তুই অনেক বড় হয়ে গিয়েছিস
-হুম। আমার জ্বর হলে তুমি তো আমাকে কিছু খাইয়ে দিয়ে ওষুধ খাওয়াও।
-হুম।
রাফিসাকে রুটি কলা খাইয়ে দিলাম তারপর নিজে একটু খেয়ে ওষুধ খেয়ে দুপুরের
জন্য রান্না করলাম। মাথাটা প্রচন্ড ব্যাথা করছে তাই গোসল করেছি।
রাফিসা আগের মতো আর দুষ্টুমি করে না। অনেক শান্ত হয়ে গেছে। সারাক্ষণ বই নিয়ে থাকতে পছন্দ করে।
সন্ধ্যায় রোহান বাসায় এসে আমাকে বললো,
-এই কাগজ টা দেখ।
#ভালোবাসার_পরিনত
#পার্ট_২
"তুই আমাকে ডিভোর্স দিবি নয়তো এবোয়শন করবি, এখন তুই ডিসিশন নে কি করবি"
"তুমি কেনো এমন করো? কি সমস্যা আমাকে খুলে বলো?
" আমার সমস্যা তুই। তোকে আমার ভালো লাগে না "
"সত্যি কি আমাকে ভালো লাগে না আমাকে ভালোবাসো না? "
"তোকে আর কতো বার বলবো, যে তোকে আমি ভালোবাসি না "
"আচ্ছা, আমি তোমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবো তাও এবোয়শন করবো না "
"রাফিসার দায়িত্ব আমি নিতে পারবো না যাওয়ার সময় ওকে ও নিয়ে যাবি। তোর দুটা বাচ্চার দায়িত্ব কে নিবে?"
"আমার বাচ্চাদের দায়িত্ব আমি নিতে পারবো "
"ডিভোর্স পেপারে সিগনেচার করে এখনই আমার বাসা থেকে বের হ্ "
"দুটো দিন তোমার কাছে সময় চাই তারপর আমি চলে যাবো "
"দুটো দিন পরে আবার কোনো যাবে না করবি না "?
" কথা দিচ্ছি কোনো ঝামেলা করবো না, তুমি শুধু মেয়েটার সামনে কোনো খারাপ আচরণ করো না। "
"তোর মেয়েকে তুই সামলে রাখবি আমার কাছে জেনো না আসে "
"ও তো ছোটো বাচ্চা, তোমার সন্তান তাহলে ওর সাথে কেনো খারাপ ব্যবহার করো? "
"তোর এতো কথা শুনতে আমার ভালো লাগে না। যা গিয়ে আমার জন্য চা বানিয়ে নিয়ে আয়"
"হুম"
আমি চা বানিয়ে টেবিলের উপর রেখে দিলাম তখন কলিং বেল বাজে। আমি দরজা খোলার
আগে রোহান দরজা খুললো। ডেলিভারি ম্যান একটা পার্সেল নিয়ে এসে বললো,
-ইভা ইসলামের নামে একটা পার্সেল এসেছে, উনাকে ডেকে দিবেন।
-জ্বি আমি ওর হ্যাসবেন্ড আমাকে পার্সেলটা দিতে পারেন
-আচ্ছা
পার্সেলটা নিয়ে দরজা লাগিয়ে দিয়ে আমাকে বললো,
"আজকাল তোর অনেক লোক হয়েছে বাসায় পার্সেল পর্যন্ত পাঠিয়েছে "
"ওটা আমি অনলাইন ওর্ডার করেছি"
"আমাকে একদম মিথ্যা বলবি না তোর যে আরও প্রেমিক পুরুষ আছে তা জানি "
"আমার প্রেমিক পুরুষ থাকলে তোমার কি? তুমি তো ডিভোর্স পেপার সিগনেচার করে
দিয়েছো শুধু আমার সিগনেচার করা বাকি তারপর তো আমাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক
নেই "
"তুই আমার বাড়িতে থেকে আমার সাথে মুখে মুখে তর্ক করবি এটা হতে পারে না খুব বার বেড়েছিস "
"দুটো দিন আমাকে সহ্য করে নেও তারপর তো আমি চলে যাবো "
রাফিসা দরজার কোনায় দাঁড়িয়ে আমাদের কথা শুনে বললো,
"আম্মু আমার দু দিন পর কোথায় যাবো "
"সুখের দেশে যাবো "
"তুই আর তোর মেয়ে আমার চোখের সামনে থেকে সরে যা "
রাফিসা নিয়ে অন্য রুমে চলে গেলাম। চার মাস ধরে আমরা আলাদা ঘুমাই। মাঝে
মাঝে রোহান আমার রুমে এসে ওর শারীরিক চাহিদা মিটিয়ে চলে যেতো। এখন পর্যন্ত
জানতে পারি নি কেনো রোহান পাল্টে গেলো? আমাকে সন্দেহ করে মারধর করা শুরু
করলো তখন থেকে প্রতিবাদ করা শুরু করি কিন্তু প্রতিবাদ করতে গেলে বেশি মারধর
করে তাই নিরবে সহ্য করি। বেশি মারধর করা শুরু করে দ্বিতীয় সন্তানের কথা
শুনে। আগে ও বলতো আল্লাহ চাইলে আমি চার সন্তানের বাবা হতে চাই আর এখন কোনো
সন্তানই চায় না।
মেয়েটা আমাকে জড়িয়ে ধরে চুপ করে শুয়ে আছে। আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললাম,
-তুমি কি তোমার বাবার সাথে থাকতে চাও নাকি আমার সাথে থাকতে চাও?
-দুজনের সাথে থাকতে চাই
-সেটা তো হবে না মা যে কেনো একজনের সাথে থাকতে হবে।
-তাহলে আমি তোমার সাথে থাকবো। আব্বু আমাকে একটুও ভালোবাসে না শুধু বকে
-বাবা মা সব সময় সন্তানদের ভালোবাসে। বাবা সারাদিন অফিস থেকে কষ্ট করে তো তাই একটু রাগ দেখায়
-পাশের বাসার ইরার বাবাও তো অফিসে যায় তাও ওকে কতো ভালোবাসে চকলেট কিনে দেয়
-তোমার বাবাও দিবে।
বাইরে চিৎকার চেচামেচির শব্দ শুনে গিয়ে দেখি রোহান একটা গ্লাস ভেঙ্গেছে।
আর হাতে একটা কাগজ নিয়ে আরেক হাত দিয়ে আমার চুলের মুঠো ধরে বললো,
"আমাকে ডিভোর্স দিতে না দিতে অন্য কারো জন্য লেখালিখি শুরু করেছিস এতো প্রেম "
"আমার চুলে ব্যাথা লাগছে ছাড়ো "
"না বল তোর প্রেমিক কে?"
"সত্যি বলছি কেউ নেই "
"তাহলে এসব কি?"
"আমি তোমার জন্য তোমাকে নিয়ে লিখেছি "
রাফিসা দৌড়ে এসে রোহানের হাতে কামড় দিলো তাতে রোহানের রাগ আরও বেড়ে গেলো। রাফিসাকে দুটো থাপ্পড় দিলো।
"তুই যেমন ডাইনি রাক্ষসী তোর মেয়েও তেমন। এখন তো মনে হয় এটা অন্যের পাপ আমার ঘাড়ে চাপিয়েছিস "
"ছিঃ নিজের সন্তানকে নিয়ে এই নোংরা কথাটা বলতে মুখে বাজলো না "
"না না না তোরা যতোদিন আমার বাসা থেকে না যাবি ততোদিনে আমার শান্তি হবে না আর তোরাও শান্তি পাবি না "
"দয়া করে দুটো দিন আমাকে ভিক্ষা দেও দুটো দিন আমাকে শান্তি দেও "
ওর সামনে যতো থাকবো ততো আমাকে কষ্ট দিবে তাই রুমে চলে যাবার জন্য পা বাড়ালাম কিন্তু আমাকে আটকে দিয়ে বললো,
-টেবিলে খাবার দে
-হুম দিচ্ছি
রোহানের খাওয়া শেষে কোনো মতে রাফিসাকে খাইয়ে দিলাম। আমার খাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই তাই শুয়ে পরলাম । অনেক ঘুমানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু কিছুতে ঘুম এলো না তাই রোহানের রুমের কাছে গিয়ে দাড়াতে শুনে পেলাম কার সাথে যেনো হেসে হেসে কথা বলছে।
[গল্পটা কেমন হচ্ছে তা গঠন মূলক কমেন্ট করে জানাবেন এবং ভুলত্রুটি হলে দুঃখিত ]
চলবে,,,,,
#ভালোবাসার_পরিনত
আমি বুঝতে পেরেছি আমার ভালোবাসার মানুষটি আর আমার নেই সে অন্য জনের হয়ে
গেছে।কেনো আমাকে ঠকালো? আমি তো ভালোবাসার কমতি রাখি নি। সব সময় ওকে খুশি
করার জন্য যা করতে হয় তাই করেছি তাহলে কেনো এমন করলো?একটা বারও কি আমাদের
সন্তানের কথা ভাবলো না?
মনের মধ্যে হাজারো প্রশ্ন কথা ঘুরপাক খাচ্ছে, কোনো কিছুর হিসেব মেলাতে পারছি না। কেঁদে কেঁদে সারারাত পাড় করলাম।
সকালে রান্নাঘরে বসে রুটি বানাচ্ছি তখন কলিং বেলের আওয়াজ শুনে দরজা খুলে দেখি অনেক সুন্দরী একটা মেয়ে।
"রোহান কোথায়?"
"ও ঘুমাচ্ছে কিন্তু আপনি কে? "
"আমি ওর হবু বৌ"
আমাদের কথা শুনে রোহন এসে বললো,
"নিশিতা তুমি আজকে আমার বাসায় আসবে তা জানিয়ে আসবে তো"?
" ভাবলাম তোমাকে সারপ্রাইজ দেই তাই না জানিয়ে চলে এসেছি "
"আচ্ছা ভিতরে এসে "
"হুম, এই মেয়েটি কে?"
"ও আমাদের বাসার কাজের লোক, বাবা মা কিছু দিন পরে আসবে তাই পরিচিত মেয়েটিকে আগে পাঠিয়ে দিয়েছে "
"মেয়েটি বেশ সুন্দরী কিন্তু "
"তোমার থেকে বেশি সুন্দরী না"
"হাহাহাহা"
"ইভা তুই গিয়ে আমাদের জন্য নাস্তা নিয়ে আয়"
নিজের কানকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে, আমি কি ঠিক শুনেছি যে আমার স্বামী
আমাকে কাজের লোক বানিয়ে দিলো। এতোটা কিভাবে পরিবর্তন হলো? শুধু মাত্র
মেয়েটা সুন্দরী বলে ও সুন্দরের পূজারী হয়ে গেলো? ভালোবাসার পরিনতি কি এমন
কষ্টের হয়? আমি ঠায় দাঁড়িয়ে আছি হেঁটে রান্না ঘরে যাবো তার শক্তিটুকু
পাচ্ছি না।
রোহান এসে বললো,
"তোকে সেই কখন থেকে ডেকেছি কথা কি কানে যায়?"
"না মানে আর কি, বলো কি লাগবে?"
"নিশিতার সামনে আমাকে তুমি করে বলবি না আপনি বলবি, তুই আমার বৌ ছিলি এখন আর না। তুই ডিভোর্স পেপারে সিগনেচার করে বিদায় হ্ "
"কালকেই চলে যাবো আর তুমি নিশ্চিত থাকো নিশিতা আমাদের সম্পর্কে কিছু জানতে পারবে না"
"হ্যাঁ বিদায় হলে ভালো, এখন যা নাস্তা রেডি কর"
"হুম"
নাস্তা রেডি করে টেবিলে রেখে রোহানের রুমের দরজায় টোকা দিলাম। নিশিতা বিরক্তি নিয়ে বললো,
"প্রাইভেট টাইমে কাউকে ডিসটার্ব করতে হয় না তা জানো না?"
"নাস্তা রেডি করেছি তাই আপনাদের ডেকেছি"
"হ্যাঁ যাও আসছি কিন্তু আর নেক্সট টাইম আমাদের রুমে নক দিবে না, প্রয়োজন হলে আমি তোমাকে ডেকে নিবো"
"আচ্ছা "
দৌড়ে নিজের রুমে এসো কান্না করতে লাগলাম। মেয়েরা আর যাই হোক নিজের স্বামীর
সঙ্গে অন্য কোনো মেয়েকে সহ্য করতে পারে না। রোহানের এতো টা নিচে নামতে
একটুও রুচিতে বাঁধলো না, ঘরে বৌ বাচ্চা থাকতে অন্য মেয়েকে নিয়ে রুমে সময়
কাটায়। রাফিসা ঘুম থেকে উঠে আমাকে কাঁদতে দেখে বললো,
-আম্মু তুমি কাঁদছো কেনো? কি হয়েছে?
-কিছু হয় নি
-ও আম্মু বলো না কি হয়েছে? তুমি তো বলেছিলে আমরা সুখের দেশে যাবো তাহলে এখন কেনো কাঁদছো?
-সুখের দেশে গেলে আর কাঁদতে পারবো না তাই এখন একটু কেঁদে নিচ্ছি
রোহান আমাকে ডাকছে,
-ইভা এই ইভা, খাবার টেবিলে আয়
-আসছি
-খাবার টেবিলে রেখে দিয়ে চলে গিয়েছিস কেনো?খাবার বেড়ে দিবে কে?
-আপনারা এখানে ছিলেন না তো তাই আর কি
-কথা কম বলে প্লেটে খাবার দে।
-হুম।
রাফিসা এসে বললো,
-আব্বু আমাকে একটু খাইয়ে দেও।
রোহান রাফিসাকে ধাক্কা মেরে ফ্লোরে ফেলে দিয়ে বললো,
-তোকে কতো দিন বলেছি তোর মেয়ে আমাকে যেনো আব্বু না বলে।
- আহ্ রোহান ও বাচ্চা মানুষ না বুঝে বলে ফেলেছে (নিশিতা)
-বাচ্চা বলে তো অন্যায় মেনে নেওয়া যায় না
আমি রাফিসাকে কোলে নিয়ে বললাম,
-স্যার ও ভুল করে বলে ফেলেছে, ক্ষমা করবেন
-আম্মু আমি ভুল কিছু বলি নি তো (রাফিসার)
আমি রাফিসার গালে একটা থাপ্পড় দিয়ে বললাম,
-তোর বাবা মরে গিয়েছে, উনি তোর বাবা না আর কোনোদিন কাউকে বাবা বলবি না
-উফফফ্ রোহান তোমার বাসায় তো একটুও শান্তি নেই, ওদের কাজে রাখতে হবে না (নিশিতা)
-আচ্ছা তুমি না চাইলে ওদের রাখবো না
-কিন্তু মেয়েটার রান্না খুব ভালো করে
-এমন ভালো রান্না অনেকে করতে জানে, তুমি চিন্তা করো না নতুন কাজের লোক রাখবো।
-হুম
রোহান, নিশিতা খেয়েদেয়ে বাইরে চলে গেলো। সারাদিন মা,মেয়ে মিলে অনেক কেঁদেছি। চোখের পানি একটা বেইমানের জন্য কেনো পরে? কেনো আমি ওর মতো ভালো থাকতে পারি না? উফফ ওর কথা ভাবতে ভাবতে মাথা ব্যাথা হয়ে গেছে।
রাতে রোহান ড্রিংক করে বাসায় ফিরে এসে আমাকে খুব মারলো তার কারন কেনো রাফিসা ওকে বাবা বলেছে? নিশিতার নাকি একটু সন্দেহ হয়েছে যে আমাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না? এতো মার খাওয়ার পরও আমি সকালে উঠে রোহানের জন্য ওর সব পছন্দের রান্না করেছি।
[গল্পটা কেমন হচ্ছে তা গঠন মূলক কমেন্ট করে জানাবেন। আপনাদের কমেন্টে লেখার আগ্রহ পাই ]
চলবে,,,,
#ভালোবাসার_পরিনতি
#
#পার্ট_৪
আজ রোহানের জন্মদিনে ওর বেস্ট গিফট হবে ডিভোর্স। দুটো দিন সময় চাওয়ার কারন
ছিলো ওর জন্মদিনে শেষ বারের মতো নিজে ওর পছন্দ মতো সব রান্না করে খাওয়াবো
আর কোনোদিন তো সুযোগ পাবো না । বরাবর ও যা চেয়েছে তাই দিয়েছি ওর সুখে আমি
সুখ পেয়েছি কিন্তু ও আমাকে নিয়ে কোনোদিন সুখী হতে পারবে না । প্রিয় মানুষটি
যে আমার নেই।রোহান দ্বিতীয় সন্তান কেনো চাইছে না তা এখন আমার কাছে স্পষ্ট।
আমি যদি এখন ডিভোর্স না দিয়ে দেই তাহলে যেকোনো মূল্যে আমার সন্তানকে
পৃথিবীর আলো দেখতে দিবে না, মা হয়ে সন্তানকে মেরে ফেলতে পারবো না। যাই হোক
আমার ভালোবাসার মানুষ তো আমার সন্তানদের বাবা তো তাই রোহানের পছন্দের একটা
শাড়ি পরলাম। ও রুমের দরজা লক করে ঘুমায় যাতে আমি বা রাফিসা কেউ ডিসটার্ব
করে না পারি কিন্তু আজকে দরজা লক করে নি রাতে ড্রিংক করে এসেছিলো তাই আমি
রুমে ঢুকে ডাক দিলাম,
-রোহান এই রোহান উঠো
-সাতসকালে তোর হয়েছে কি? চিল্লাছিস কেনো?
-Many Many Happy Returns Of The day Happy BirthDay To U Rohan
কথাটা শুনে রোহান আমার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে রইল তারপর বললো,
-এভাবে রংচং লাগিয়ে সেজে দাড়িয়ে আছিস কেনো? তোকে কে বলেছে আমার জন্মদিনে
উইস করতে? তোর মুখ দেখলে এমনি দিন খারাপ যায় আজকে না জানি কি হবে?
- আমাদের এতো দিনের ভালোবাসা আর সন্তানদের জন্য কি আমরা একসাথে থাকতে পারি না? তুমি চাইলে সব হবে।
-না না না পারি না তোকে চাই না,আমি ডিভোর্স চাই।
কিছু না বলে রোহানের রুম থেকে বেরিয়ে গেলাম।আমার রুমে এসে নিজেকে আয়নায়
ভালো করে দেখতে লাগলাম, যে আমি দেখতে খুব খারাপ তাই স্বামীর মন পাই নি।এর
মধ্যে রাফিসা ঘুম থেকে উঠে আমাকে বলে,
"আম্মু তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে, প্রতিদিন তুমি এমন সুন্দর শাড়ি পরবে।
" হ্যাঁ মা পড়বো, তুমি এখন যাও ব্রাশ করে এসো তারপর একটা জায়গায় নিয়ে যাবো"
"আচ্ছা "
রাফিসাকে রেডি করে নিজে রেডি হয়ে রোহানের রুমের কাছে গিয়ে বললাম,
"টেবিলে খাবার বেড়ে রেখেছি খেতে এসো "
"যা আসছি"
রোহান ডাইনিং টেবিলে এসে বললো,
"তুই যতোই আমার মন পাওয়ার জন্য এসব নেকামি করিস কোনো লাভ হবে না, আমি
নিশিতাকে বিয়ে করবো। তুই আজকে ডিভোর্স পেপারে সিগনেচার করে বিদায় হ্"
রোহানের সামনে ডিভোর্স পেপার এনে সিগনেচার করে দিলাম৷ সিগনেচার করার সময়
ভেবেছিলাম রোহান বলবে সিগনেচার করো না, আমাকে ক্ষমা করে দেও আবার নতুন করে
সব শুরু করবো। কিন্তু না আমি বার বার ভুল করি।
"সিগনেচার করে দিয়েছি এবার খুশি তো?"
"হুম "
"এখন তোমাকে কিছু কথা বলি,মনে আছে আমি ফুল কিনতে গিয়েছিলাম সেদিন আমাকে
নষ্টা মেয়ে বলেছো কিন্তু সেটা আমি তোমার জন্য হয়েছি। তোমাকে আজকের দিনে
ফুলেরতোড়া দিবো তাই সেদিন ওই ছেলেটাকে বলেছিলাম আজকে যেনো বাসায় ফুলেরতোড়া
দিয়ে যায়।
আবার ডেলিভারি ম্যান বাসায় পার্সেল দিয়ে গিয়েছিলো সেটা আমি
তোমার জন্য কয়েকটা জিনিস অনলাইনে ওর্ডার দিয়েছিলাম কিন্তু তুমি আমাকে বললে
আমার প্রেমিক দিয়েছে একটা বার যদি পার্সেলটা খুলে দেখতে তাহলে আমাকে খারাপ
কথা বলতে রুচিতে বাজতো। আর দুটো দিন সময় চাওয়ার কারন ছিলো আজ তোমার
জন্মদিনে তোমার বেস্ট গিফট দিবো দেখো তোমার বেস্ট গিফট দিয়ে দিয়েছি "
"ইভা তুমি আমার জন্য এতোকিছু করেছো আর আমি তোমার সাথে কি না খারাপ ব্যবহার
করেছি হাহাহাহা তুই কি ভাবলি আমি এখন তোকে মেনে নিবো? তা কখনো ভাবিস না। "
রোহানের কথা শুনে চোখের পানি পড়তে লাগলো। প্রিয় মানুষের খারাপ রুপ সহ্য করা যায় না।
"আমাকে ভোলানোর জন্য এসব নাটক করার কোনো দরকার নেই, এখন তোরা মা মেয়ে আমার বাসা থেকে চলে যা"
"হুম চলে যাবো, এখন তুমি খেয়ে নেও "
"তোদের যতো যা কিছু আছে সব নিয়ে যাস "
"আচ্ছা "
আমার আর রাফিসার সব কিছু প্যাক করে নিলাম। আড়াল থেকে দেখলাম রোহান তৃপ্তি
সহকারে আমার রান্না করা খাবার খাচ্ছে। ঘুম থেকে উঠে মেয়েটা কিছু খায় নি তাই
আমাকে বললো,
-আম্মু আমার ক্ষিদে পেয়েছে
-বাইয়ে গিয়ে খেয়ে নিবে এখন চলো।
-আচ্ছা
রোহানের খাওয়া শেষ তখন আমি গিয়ে বললাম,
-আমরা চলে যাচ্ছি, তুমি নিজের খেয়াল রেখো
-হুম যা
রাফিসা রোহানের হাত ধরে বললো,
-আব্বু তোমাকে আমি খুব জ্বালিয়েছি এখন থেকে আর কেউ তোমাকে জ্বালাবে না
কিন্তু আব্বু তোমাকে ছেড়ে থাকতে আমার খুব কষ্ট হবে। তুমি আমাদের সাথে থাকো
-তোদের মা, মেয়ের নাটক আর সহ্য হচ্ছে না
-ও বাচ্চা মানুষ ওর কথায় রাগ করো না আমরা চলে যাচ্ছি।
পাঁচ বছরের সংসার শেষ করে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলাম। ছোটো মেয়েকে নিয়ে বাবার
বাড়ি যাওয়া ছাড়া আর কোনো জায়গা নেই তাই বাবার বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দিলাম।
রাফিসাকে পথে খাওয়ানোর জন্য কেক,কলা পানি কিনে নিয়েছি। মেয়েটা বাসে উঠলে
ঘুমিয়ে পড়ে কিন্তু আমার যে ঘুম আসে না। পুরোনো স্মৃতি বার বার মনে পড়ে যায়।
রোহানের সাথে বিয়ের পর থেকে আমি বাবার বাড়িতে দু তিনদিনের বেশি থাকতে
পারতাম না। একবার ও আমাকে বাসস্টপে পৌঁছে দিতে কান্না শুরু করলো আমাকে ছাড়া
থাকতে পারবে না তাই ও আমার সাথে বাবা বাড়ি এলো। একটু চোখের আড়াল হলে ইভা
ইভা বলে চিল্লাপাল্লা শুরু করতো আর আজ সারাজীবনের জন্য ওকে ছেড়ে চলে এলাম
তাও কষ্ট পেলো না ভালোবাসার পরিনতি কি শুধু একতরফা কষ্ট পায়, অন্য জন সুখে
থাকে এটা কেমন নিয়তি?
ওর হাজারো স্মৃতি ভাবতে ভাবতে বাবার বাসায় পৌঁছে
গেলাম । কলিং বেল বাজাতে মা দরজা খুললো, মাকে দেখে নিজেকে কন্ট্রোল করতে
পারি নি। মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলাম।
-কি হয়েছে মা তোর? তুই কাঁদছিস কেনো?
বাবা এসে রাফিসাকে কোলে নিয়ে বললো,
-নানু ভাই তোমার আম্মু এতো কাঁদছে কেনো?
-আমরা বাবাকে ছেড়ে চলে এসেছি
মা আমাকে ভিতরে নিয়ে গিয়ে সোফায় বসালো। আমি শুধু কেঁদে যাচ্ছি কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই। মা এক গ্লাস পানি খাইয়ে বললো,
-একটু শান্ত হ্ মা তারপর খুলে বল তোর কি হয়েছে?
নিজেকে একটু শান্ত করে রাফিসাকে বললাম,
-তুমি একটু নানুর রুমে গিয়ে শুয়ে থাকো নয়তো ক্লান্ত হয়ে পরবে
রাফিসা বাধ্য মেয়ের মতো চলে গেলো তারপর মা বাবাকে সবকিছু বললাম৷ বাবা মা
দুজনেই খুব কষ্ট পেয়েছে আমি তাদের আদরের একমাত্র মেয়ে আমার সব কথা শুনেছে
কোনো দিন আমার অমতে কিছু করে নি এবং আমিও তাদের সব কথা শুনে -মেনে চলেছি আর
আমি আজ সুখী হতে পারি নি। আমার দু ভাই আছে তারাও বিয়ে করে সুখী আছে। আমার
বাবা মায়ের সাথে থাকে। একজন শশুড় বাড়িতে গিয়েছে আর অন্য জন আমার ফুপির
বাসায় গিয়েছে আমি এসেছি শুনে ওরা কালকে চলে আসবে কিন্তু আমি ভাবতেছি কি করে
দুটো সন্তান নিয়ে থাকবো? কি করে খরচ চালাবো? সারাদিন রাত বাবা মা আমাকে
অনেক বুঝিয়েছে তারা আমার পাশে আছে। পরের দিন ভাইয়া ভাবিরা বাসায় আসলো।
[গল্পটির মধ্যে তুলে ধরা হয়েছে আমাদের দেশে এখনও হাজার হাজার নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তারপরও তারা সন্তানদের কথা ভেবে সহ্য করার ক্ষমতা রাখে এবং সমাজেরহীন দৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য স্বামীর সংসার করে যায় কিন্তু শেষ রক্ষা হয় না।
যাদের গল্পটা ভালো লাগবে না তারা ইগনোর করুন। ভুলত্রুটি হলে দুঃখিত]]
চলবে
"তোদের সংসারে এতো ঝামেলা হয়েছে যে শেষ পর্যন্ত ডিভোর্স দিয়ে দিয়েছিস আর আমাদের জানানোর প্রয়োজন বোধ মনে করিস নি" (বড় ভাই)
"হ্যাঁ আমরা সবাই বুঝিয়ে বললে হয়তো রোহান তোর সাথে থাকতো " (ছোট ভাই)
"কম চেষ্টা তো করি নি ওর সাথে থাকার জন্য আর তোমরা যেনো ওর সাথে এসব নিয়ে
কথা না বলো তা আমাকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে তাই তোমাদের অপমান করতে চাই
নি" (ইভা)
"একমাত্র আদরের বোন তোকে কোনো দিন একটা থাপ্পড় পর্যন্ত দেই
নি আর ও তোর সাথে এতো নিষ্ঠ ব্যবহার করেছে আর তুই আমাদের অপমানের কথা
চিন্তা করে কিছু না জানিয়ে ভুল করেছিস " (বড় ভাই)
"আমি মনে করি ইভা
তোমাদের না জানিয়ে কোনো ভুল করে নি কারন কোনো মেয়ে চায় না তার বাবার বাড়ির
লোকজনকে শশুড় বাড়ির কেউ অপমান করুক " (বড় ভাবি)
"তোমাদের কিছু বলতে গেলে আমার উপর, রাফিসার উপর নির্যাতন বেশি হতো। তোমার ভাবতে পারবে না রোহানের খারাপ রুপ কতোটা ভয়ানক " (ইভা)
"রোহানের বাবা মায়ের সাথে কথা বললো, ওনার ছেলের এতো সাহস হয় কিভাবে যে
আমার মেয়ের গায়ে হাত তুলে এমন কি দুধের বাচ্চার গায়ে হাত তুলতেও ছাড়ে
নি(বাবা)
" না বাবা ওর বাবা মা এসব কিছু জানে না আর ওনারা খুব ভালো। তাদের ছেলে খারাপ হয়ে থাকলে তাদের তো কোনো দোষ নেই (ইভা)
"ওদের তো ডিভোর্স হয়ে গেছে এখন আমাদের কোনো অধিকার নেই রোহান ভাইয়ের সাথে
এসব বিষয়ে কথা বলার আর যে নিজে থেকে সংসার করতে চায় না তাকে হাজার বার
বুঝিয়ে কোনো লাভ হয় না। এখন থেকে ইভা শুধু ওর সন্তানদের কথা ভেবে নিজেকে
শক্ত করবে (ছোট ভাবি)"
আমি ওদের কথা শুনে কান্না করে দিলাম, আল্লাহ বোধহয় আমাকে পুরোপুরি একা করে দেয় নি আমার পরিবার আমার পাশে আছে। মা আমাকে বুকে জড়িয়ে বললো,
"মা তুই কোনো চিন্তা করিস না আল্লাহ যা করে ভালো জন্যই করে, আমরা সবাই তোর সাথে আছি "
"সকাল থেকে এসে শুধু কথা শুনে যাচ্ছি, খাওয়া দাওয়া যে করতে হবে তা কি কারো মনে আছে? সবাই খেতে এসো " (বড় ভাবি)
"আমি কিছু খাবো না এখন একটু ঘুমাবে " (ইভা)
"শোনো বাপু আমাদের বাসায় থাকতে হলে আমাদের কথা শুনে চলতে হবে, এখন খেতে চলো (ছোট ভাবি)
" তুই বিকেলে রেডি হয়ে থাকিস ডক্টরের কাছে নিয়ে যাবো "(ছোট ভাই)
" না ভাইয়া দু দিন পরে যাবো মন মেজাজ একদম ভালো লাগছে না "(ইভা)
" এবার তোর কথা শুনলাম এর পরে আর না "(ছোট ভাই)
আমার খাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই তাও মা জোর করে খাইয়ে দিলো।
রাফিসার খেলার সাথী তিন্নি, তিয়াসকে পেয়ে খুব খুশি। ও ভাবে ওর বাবা কিছু
দিন পরে আমাদের নিতে আসবে কিন্তু ওর ভাবনা যে সত্যি হওয়ার না।
তিন্নি বড় ভাইয়ের মেয়ে, চতুর্থ শ্রেনীতে পড়ে আর তিয়াস ছোট ভাইয়ের ছেলে, দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়ে।
আমি শুয়ে শুয়ে ভাবতেছি রোহানের সাথে প্রথম দেখা। ওর বাবা- মা, কাকা- কাকি,
মামা-মামি, বন্ধুরা, কাজিনরা আর ও আমাকে দেখতে এসে এনগেজমেন্ট হলো।
বাবা-মাকে বলেছিলাম তাদের পছন্দ করা ছেলেকে বিয়ে করবো তাই দেখতে এসে
এনগেজমেন্টে কোনো আপত্তি করি নি। সেদিন আমি লাল রংয়ের শাড়ি পরে ছিলাম আর ও
কালো রংয়ের শার্ট। সুন্দর মানুষদের কালো রংয়ে বেশি সুন্দর লাগে।
দুজনে আলাদা ভাবে কথা বলতে গেলাম তখন ও বললো,
-আপনি পরিবারের চাপে পড়ে বিয়ে করবে না, যদি নিজের ইচ্ছে থেকে বিয়ে করতে চান তাহলে আমার সাথে বিয়ে হবে নয়তো না।
-না আমি কারো চাপে পড়ে বিয়ে করতে যাচ্ছি না। নিজের ইচ্ছে
-তাহলে আমারও বিয়ে করতে সমস্যা নেই।
-আপনার পছন্দের কেউ আছে নাকি?
-আরে না না আপনাকে পছন্দ করে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছি
-আমাকে আপনি আগে থেকে চিনেন কিভাবে?
-আপনি কলেজ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তখন আপনাকে দেখে ভালো লাগে তারপর আপনি যে রিকশায় ছিলেন ওটা ফলো করে আপনার বাড়ির ঠিকানা পেয়ে যায়।
-হাহাহাহ্ হতেও তো পারতো আমি বাসায় না এসে অন্য কোথাও গেলাম সেখানেও কি আপনি আমাকে ফলো করে যেতেন??
-যাওয়ার দরকার হতে অবশ্যই যেতাম।
-ওহ্ আচ্ছা (একটু মুচকি হেসে)
-ওভাবে হাসবেন না বুকে লাগে, এতো সুন্দর হাসি
-হাহাহাহ্
দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ওর একটা বন্ধু বললো,
-আর কতো কথা বলবি, বাসার রাতের জন্য কিছু কথা তুলে রেখে এখন চল। সবাই তোদের জন্য অপেক্ষা করছে।
-হুম চল।
কয়েক দিনের মধ্যে আমাদের বিয়ে হয়ে গেলো। কতো সুন্দর ছিলো পাঁচ বছরের
স্মৃতিগুলো, ভালোবাসাও কোনো কমতি ছিলো না। একে অপরের ছায়া হয়ে থাকতাম সব
সময়। বাসর রাতে ও আমাকে একটা ব্রেসলেট দিয়ে বলেছিলো সারাজীবন যেনো হাতে
রাখি। আমার হাতে এখনও আছে শুধু মানুষটি নেই ।
রাফিসা আমার কাছে এসে বললো,
-আম্মু দেখো আমাকে এতোগুলো চকলেট, চিপ দিয়েছে
-কে দিয়েছে?
-তাকে চিনি না তো
-তোমাকে বলেছি না যে অপরিচিত কেউ কিছু দিলে নিবে না
-উনি তো নানাদের বাসায় এসেছে তারপর আমাকে দেখে এসব দিয়েছে
-এমন কে এসেছে, চলো তো গিয়ে দেখি।
চলবে,,,,,

বাসর ঘরে একটি গোলাকার আধুনিক কারুকাজের বিছানায় বসে আছি আমি।ঘরে তেমন
আলো নাই টিপ টিপ লাইটের আলো আবছা দেখা যাচ্ছে সবকিছু। শুনতে শোনা যাচ্ছে
এটা বাসর ঘর কিন্তু এটা কি আদও বাসর ঘর এটা ভেবে আমি অস্থির। আসলে এই ঘরে
কোন ফুল নেই ঘরটা এক দমি সাধারন ভাবে আছে। সাধারন যেমন একটা ঘর সাজানো
থাকে ঠিক তেমন। আমার পরনেও সাধারন একটা লাল রং এর কাতানের সারি৷ কোন রকম
সাজ। বাসর রাতে মেয়েদের যেমন সাজ থাকে তেমন নয়।আমি আবছা আলোতে কিছুটা ভয়
পাচ্ছি কিন্তু বুঝতে পারছি যে, অবিশ্বাস ভাবে এই ঘরের প্রতিটা জিনিস
আধুনিক আমার কথা শুনে অবাক হবেন না এই জিনিস গুলো একটু অত্যধুনিক বলা যায়।
দেখেই বোঝা যাচ্ছে আমার স্বামীর আপডেট জীবনের সাথে গভীর সম্পর্ক।তাইতো সব
অত্যাধুনিক আসবার পত্র।
কিন্তু এতকিছুর মধ্যে আমার বাসর ঘরে কোন রকম সাজ নেই,
অবশ্য তাতে কোন রকম অনুভুতি হচ্ছে না আমার কারন বিয়েটা আমার কাছে একটা অপ্রতাশিত ঘটনা।
চমার বিয়ের ৫ মিনিট আগে অবদি আমি জানতাম না আজ আমার বিয়ে।
আমি এখনো তাকে দেখিনি সে কেমন দেখতে আমি কিছু জানি না।
জিনি আমার স্বামী তিনি সাকাল পর্যন্ত আমার হবু দুলাভাই ছিলো। শুনতে অবাক
শোনালেও এটাই সত্যি আজ আমার স্বামীর সাথে আমার ফুপাত বোনের বিয়ে হবার কথা
ছিলো৷ আমার একমাত্র ফুপাতো বোন। আমিও বাবর এক মাত্র মেয়ে, ছোট থেকে এক
সাথে বড়ো হয়েছি। আমার আব্বু আর ফুপি দুই ভাই বোন। আর আমি আর বন্যা আপুও
দুই বোন। আমার ফুপাতো বোনের নাম বন্যা। আজ সকালে আমি বাবা মা ফুপি বাসায়
আসি বোনের বিয়েতে, আমি বোনের বিয়েতে যেভাবে সাজতে হয় তেমনি করে সেজেচিলাম।
আমি বন্যা আপুকে সাজিয়ে দি নিজের হাতে আমি খুব ভালে সাজাতে পারি তাই
পার্লার এর লোক না আমি নিজে আপুকে সাজাি৷ এরি মধ্যে বরের গাড়ি চলে আসে সবাই
বর দেখতে ব্যাস্ত তখনি আমি আপুকে রেখে একটু পানি খেতে যায়৷ আমি খেয়ে আসার
সময় আম্মু বলেন আপুকে নিয়ে নিচে নামতে আমি আপুর রুমে গিয়ে অবাক, আপু নেই
ওখানে কই গেল মেয়েটা আমি সারা বাড়ি তন্ন তন্ন করে খুঁজি কোথাও নেই আজব আপু
কই গেল। আপুর তো কোন রিলেশন ছিলো না, না ওর জীবনের সবটা আমার জানা।
কিন্তু গেল কই আমি আম্মু, বাব, ফুপি, ফুপাকে ডাক দিয়ে ঘরে আনি,
-আমি আপুকে খুঁজে পাচ্ছি না কোথাও।
ফুপি আমার কথা শুনে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছে।
ফুপা বললেন,
-যা ভেবেচিলাম তাই হলো। আপজাল আমি কি করি এখন। (আফজাল রহমান আমার বাবা)
-চিন্তা করবেন না। আমার মেয়ে এই বিয়ে করবে।
আমি বাবার দিকে হা করে তাকিয়ে আছি কি বলছে বাবা আপু চলে গেছে কোথায় তাকে
খুজবে আর কিসের ভয় পেয়েছিলো আমি কি বলবো ভাষা নেই৷ হটাৎ ফুপা আমার হাতটা
ধরে বলতে লাগলেন,
-মারে আমি জীবনে তোর কাছে কিছু চায় নি। আমি জানি
হাজারো প্রশ্ন তোর মনে। কিন্তু এখন তুই একটা প্রশ্নও করিস না বিয়েটা করে নে
মা। (আমার হাতটা ধরে ফ্লোরে বসে পরলেন ফুপা)
আমি কি বলবো মনে তো
হাজারটা প্রশ্ন কিন্তু ফুপার কথাটা শুনে শরীরটা কেমন অবস হয়ে আসলো মাইন্ড
কাজ করা ওফ করে দিসে জেন মাথায় শুধু একটা কথা ফুপা বলেছে বিয়েটা করতে হবে।
আমি চুপচাপ কথা না বাড়িয়ে বিয়েটা করে নিলাম।
আমি জেন নিজের
মধ্যে নাই।আমার বিয়ে ঠিকই হলো ওনার সাথে কিন্তু ওনাকে দেখার সৌভাগ্য টা হলো
না কারন আমাকে যে যা বলছে আমি সেটাি অক্ষরে অক্ষরে আদেশের মতো পালন করে
যাচ্ছি। আমি বিয়ে করে এই বাড়িতে আসার পর আমাকে এই টিপ টিপ আলোর রুমে এনে
রাখা হলো। আমাকে এি বিছনায় বসানোর পর আমার শরীরটা ছেড়ে দিলো আমার মাইন্ড
কাজ করতে লাগলো । আমার এসব ভাবনার আবসান ঘটল, হটাৎ মনে হচ্ছে এক হিম সিতল
বাতাস বয়ে চলেছে কিন্তু এ ঘরে যতোটা বোঝা যাচ্ছে তাতে জানলা দরজা সব তো
দেওয়া৷ তাও ঠান্ডা একটা বাতাস আর অসম্ভব সুন্দর একটা ঘ্রান আমার নাকে আসছে
মাতাল করা ঘ্রান। দরজায় শব্দ হতে আমি পাশে তাকায় আৃার চোখদুটো আটকে গেছে,
তিনি দরজা দিয়ে আমার কাছে আসতে লাগলো,
অসম্ভব সুন্দর তিনি৷ এই
অন্ধকার ঘরে জেন আলোকিত হয়ে গেলো তার পা পরতে তিনিতো লাইট জ্বালান নি। তাও
ঘরটা আলোকিত। তির শরীর গ্লো করছে এতো সুন্দর পুরুষ আমি জীবনে দেখিনি
পৃথিবীর সমস্তটা সৌন্দর্য আল্লাহ -তায়লা যেন তাকে দিয়েছে। এরকম মানুষ আমি
আগে কখনো দেখিনি চোখটা যেন কোন স্বপ্ন দেখছে।
আমার ভাবনায় আবার অবসান ঘটিয়ে তিনি শুকনো কাশি দিলেন,
-খুহুম। আমি আমান খান। আমার নাম।আপনার নামটা?
-জী আমি মেঘ, জন্নাতুল মেঘ।
-মাসআল্লহ খুব সুন্দর নাম।
দেখুন আমি জানি এভাবে হটাৎ করে বিয়েটা হলো, আপনি অপ্রস্তুত ছিলেন। আপনার নিজেকে সামলে আমাকে মেনে নিতে সময় লাগবে। তাই তো।
আমি মাথা নিচু করে আছি তার কথায় হ্যা সুচোক ভাবে মাতা নারালাম।
-হ্যা আমাদের দুজনেরই কিছুটা সময় প্রয়োজন। তো আপনি কি আমার সাথে নামাজ
আদায় করবেন। বাসর রাতে নফল নামাজ পরতে হয় স্বামী -স্ত্রী এর।
-জী আমি ওজু করে আসছি।
আমি উঠে যেতে গেলে খেলাম বাড়ি খাটের কোনায়। তিনি আস্থির হয়ে বললেন,
-ব্যাথা পান নি তো ক্ষমা করবেন আমারি লাইট টা জ্বালিয়ে দেওয়া উচিত ছিলো। আমারি ভুল
ওনি বেশ উত্তেজিত হয়ে পরছেন৷
-আমার লাগে নি আপনি হাইপার হবেন না।
-কই লাগছে তো। একটু মন দিয়ে পড়ুন--পরবর্তী পর্ব অর্থাৎ শেষ পর্ব অন্য
আরেকটি গ্রুপে দেয়া আছে, পুরো গল্পটি পড়তে চাইলে নিচের (See More) এ ক্লিক
করে ওই গ্রুপে জয়েন হয়ে পড়েনিন-ধন্যবাদ.....See More
⚠অতি ভদ্র পোলাপাইন😊এই
গ্রুপে দেয়া আছে, জয়েন হয়ে পড়েনিন।-আমি ঠিক আছি আপনি লাইটা জ্বালিয়ে দিন।
(কি করে বলবো ওনার শরীরের অদ্ভুত আলোতে আমি সবটা বুঝতে পারছি কিন্তু ওনাকে
দেখতে গিয়ে গুতা খাইছি)
উনি গিয়ে লাইটা জ্বালিয়ে দেয়।
আমি গিয়ে ওজু করে ফ্রেস হয়ে আসি৷
ওনার সাথে নামাজ পরে নি।
তার পর উনি বলেন,
-আপনাকে তুমি করে বলতে পারি।
-জী।
-আচ্ছা চলে শোবে চলো।
-কি।
-না মানে ঘুমাবা না। তাই বলছি।
উনি আমাকে নিয়ে শুয়ে পরলেন।
অনেকটা কাছাকাছি আমরা, কেমন একটা পাগল করা ঘ্রান পাচ্ছি আমি সাথে শীতল করা অনুভুতি।
তিনি আমাকে প্রশ্ন করে উঠলেন।
-আচ্ছা মেঘ তুমি কিসে পরো।
-জী অনার্স ১ম বর্ষে।
-ভালো তোমার ঘুম আসছে না।
-জী একটু ক্লান্ত
-ঘুমাও।
আমি কেমন যেন ওনার কথাটা শুনা মাত্র ঘুমিয়ে পরলাম৷
মঝ রাতে মনে হচ্ছে কেমন একটা শীতল স্পর্শ আমার পেটে পরেছে। চোখ খুলতে দেখি,

#পর্বঃ সপ্তম এবং অষ্টম 🥀💝🥀
রুমি আমাকে পিছনে থেকে জড়িয়ে ধরে আমার ঘাড়ে অনবরত চুমু দিয়েই যাচ্ছে...
আমি প্রথমে ভেবেছিলাম এটা হয়তো জারা ছিলো কিন্তু যখন পিছন থেকে টেনে সামনে
আনি দেখি এটা রুমি....
।
।
।
আমার যেনো মুহূর্তেই রাগ
উঠে গেলো... আমি রুমির গালে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলাম... থাপ্পড় টা এত জোরে
দিলাম যে রুমি নিজেকে সামলাতে না পেরে বিছানায় লুটিয়ে পড়লো...আমি বললাম
।
।
।
।
- রুমি তোকে বার বার বলছি আমার বিয়ে হয়ে গেছে.. আর তুই এখনো সেই
ছোট রসনি... আমি আমার জারাকে নিয়েই খুব ভালো আছি বুঝেছিস....
।
।
।
।
রুমি আমার কথা গুলো শুনে চুপ করে চলে গেলো... আর এদিকে কেউ এসব হয়তো এখনো
জানতে পারেনি.... নাহলে কেলেঙ্কারি হয়ে যেতো.... তাই ভাবলাম যেহেতু কেউ
জানে না তাই নিজ থেকে কাউকে এসব বলার দরকার নেই......
এসব ভাবনা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি... তখনই পিছন থেকে জারা বলে উঠলো
।
।
।
।
।
- কি হলো এইভাবে দাঁড়িয়ে কি ভাবছো? রেডি হয়ে অফিস যেতে হবে না?
।
।
।
- হ্যাঁ তাই তো... আমিও না? .. হাহাহাহা.... কখন যে কোথায় হারিয়ে যাই?
।
।
।
- আমি একটু আগে কিসের যেনো শব্দ পেলাম?
।
।
।
- কো কোথায়? তুমি কাজের চাপে ভুল শুনেছো হয়তো...
।
।
।
।
- তাই হবে হয়তো ...
।
।
।
জারা চলে গেলো..আমিও কিছুটা হাব ছেড়ে উঠলাম.... কিছুই জানতে পারে নি....
সব কিছু বাদ দিয়ে যেনো আমি রেডি হয়ে বাহিরে গেলাম.... আগে যেখানে সব
বন্ধুরা বসে আড্ডা দিতাম সেই করিম চাচার দোকানে আজকেও বসে আছি আর চা
খাচ্ছি... এটা যেনো নেশা তে পরিনত হয়েছে... এই জায়গায় টায় না আসলে যেনো
ভালোই লাগে না....
একটু পর সবাই মানে বন্ধুরা দল বেঁধে চলে আসলো..আমার
পাশে বসলো... সবাই মিলে চা-এ চুমুক দিচ্ছি আর গল্প গুজব এ হারিয়ে
যাচ্ছি...কিন্তু হঠাৎ শিশির একটা শয়তানী রূপের হাসি দিয়ে বললো
।
।
।
- তোরা সবাই একটা জিনিস খেয়াল করেছিস... বিয়ে করলে কেউ রুম থেকে
বউ কে রেখে বের হতে চায় না... কিন্তু বিপ্লব তো আমাদের সাথে বেশ সময়
কাটাচ্ছে....
।
।
।
- হ্যাঁ... তাই তো... তোদের ছাড়া থাকি কি করে বল
।
।
।
- যতোই ইমোশনাল কথা বলো না কেন মামা সত্যি টা আমি জেনে গেছি?
।
।
।
- কিসের সত্যি? আর তুই কি বা জানলি?
।
।
।
- এই যে তুই বিছানায় কাচা খেলোয়াড় তাই বউয়ের ভয়ে আমাদের সাথে সময় কাটাস...
।
।
।
।
শিশির এর কথা শুনে সবাই অট্ট হাসিতেতে মেতে উঠলো.. সাথে আমিও... পুরোনো দিনের সেই স্মৃতি গুলো jeno পুনরায় উজ্জীবিত হতে লাগলো....
হঠাৎ শাকিল বলে উঠলো
।
।
।
- আচ্ছা আজকে একটা পার্টি এরেন্জ করলে কি হয়? কতদিন হয়ে গেলো সবাই মিলে কোনো পার্টি করি না
।
।
- হ্যাঁ তাই তো.... ভালো বুদ্ধি বের করেছিস.... চল আজকেই করব...
।
।
।
।
সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে পার্টির আয়োজন করলাম... সারাদিন বাসায় ও
যায়নি... হয়তো খুব চিন্তা করছে সবাই... ব্যস্ততার কারণে বাসায় ফোন দিয়ে
জানানোও হয়নি... এখন তো সন্ধ্যা ও হয়ে গেছে... ভাবলাম একটু পর ফোন দিবো এই
কাজটা শেষ করে....
।
।
।
বলতে না বলতেই আমার শান্ত ফোন টা কেঁপে উঠলো ফোন টা হাতে নিয়ে দেখি আম্মু ফোন দিয়েছে.. ফোন টা তুলে বললাম
।
।
।
।
- হ্যাঁ মা বলো...
।
।
।
।
- কোথায় তুই
।
।
।
- মা আজকে বাড়ি ফিরতে দেরি দেরি হবে.. বন্ধুরা আজকে একটা পার্টির আয়োজন করেছে তাই.... তোমরা খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ো..
।
।
।
।
- আমরা তো বাসায় থাকবো না... আমাদের আজকে একজনের বিয়ের দাওয়াত এ
যেতে হবে... তোর বাবার অফিসের কলিগ এর মেয়ের বিয়ে... বউ মা কেও সাথে নিয়ে
যাচ্ছি কিন্তু.... তুই বাসায় এসে খেয়ে শুয়ে পড়িস....
।
।
।
- ঠিক আছে
।
।
।
ফোন টা কেটে দিলাম.... আমি বন্ধুদের পার্টিতে আবার যোগ দিলাম... এদিকে বাসায় মা সবাইকে জানিয়ে দিলো যে আমি আজকে
।
।
খাওয়া দাওয়া বেশ জম জমাট ছিলো.... পার্টি তে থাকতে থাকতে কখন যে রাত গভীর
হয়ে গেলো বুঝতেই পারলাম না... সবাই বললো এবার বাসায় ফেরা যাক রাত অনেক
হয়েছে... সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় এসে পড়লাম....
।
।
।
।
গেট আগে থেকেই খোলা ছিলো... আমি একটু ধাক্কা দিতেই গেট খুলে গেলো... আমি
ভিতরে গিয়ে আমার রুমের ভিতর ঢুকে পড়লাম.... কাপড় গুলো খুলে শুয়ে পড়ব....
।
।
।
হঠাৎ মনে হচ্ছে পিছে কেউ দাঁড়িয়ে আছে... বাড়িতে তো এখন কারো থাকার কথা
না... আর ভূত টুথ ও তো হবে না...জলদি করে পিছনে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি রুমি
দাঁড়িয়ে আছে..... আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম কিছুক্ষণের জন্য.... সবাই তো
বিয়েতে গেছে তাহলে রুমি একাই এই বাড়িতে কি করছে... ব্যপার টা কিছুটা হজম
হলো না... আমি এর মূল রহস্য জানার জন্য বললাম
।
।
।
।
।
- কি ব্যাপার রুমি.? তুমি সবার সাথে বিয়েতে যাওনি?
।
।
।
।
- না... খালা মণি আমাকে যেতে বলেছিলো কিন্তু আমি তাদেরকে মিথ্যে বলি যে আমার শরীর খারাপ....
।
।
।
- তাদের কে মিথ্যে বলার দরকার কি ছিলো এমনিতে বললেই তো কেউ আর জোর করত না....
।
।
।
।
- সত্যি বললে যে আর তোমাকে পাওয়া হতো না আমার জান.... সেই কতদিন ধরে এই রাত টার অপেক্ষা করছি...
।
।
।
।
- রুমি আবার কি পাগলামি শুরু করলি?
।
।
।
।
রুমি আমার কথা কানে না নিয়ে নিজের গায়ের কাপড় সব খুলে ফেলছে.... আমি ওকে
বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছি কিন্তু শুনছে না... আমি উল্টো দিকে মুখ ফিরিয়ে
ওকে অনবরত না করেই যাচ্ছি....
হঠাৎ ও আমার উপর হুমরী খেয়ে পড়ে...
জবরদস্তি শুরু করে... সিনেমায় যেমনটা হয় আর কি.... আমার কোনো বাধা যেনো সে
মানছে না... নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে কেউ যখন নিজের শরীর টা চায় তখন বুঝি
এমনি লাগে... যেটা হতে চলেছে এটাকেই বুঝি ধর্ষন বলে..... না জানি একটা মেয়ে
এর চেয়ে আরো কত বেশি কষ্ট সহ্য করে....
।
।
।
।
হঠাৎ দরজায় কলিং বেল এর আওয়াজ পড়লো... রুমি যেনো আচমকা চমকে উঠলো... আমি
যেনো এবার কিছুটা ভরসা পেলাম... মা বাবা আর জারা হয়তো এসে গেছে.... এদেরকে
আজ সব খুলে বলবো... আমি দরজা খুলতে বাহিরে যাবো.... তার আগেই রুমি আমার আগে
দরজা খুলে দিয়ে ওর মাকে জড়িয়ে ধরে ন্যাকা কান্না শুরু করে দেয়... আর বলে
।
।
।
- মা তোমরা বাসায় ছিলে না এই সুযোগে বিপ্লব আমার সাথে 😭😭😭
।
।
।
।
।
এমনিতেই তখন রুমি উপরিপৃষ্ঠে কাপড় ছিলো না বলা যায়... তার উপর আমিও
বাড়িতে একাই ছিলাম... বাঁছ সবার যা বুঝার বুঝে নিলো.... আমি বাবা কে গিয়ে
বলবো যে "না বাবা এটা মিথ্যে কথা " তার আগেই বাবা রুমে ঢুকে আমার কলার টেনে
হিসরে দরজার সামনে আনল...
দরজার সামনে এনে আমার গালে দিলো একটা থাপ্পড়....
।
।
।
থাপ্পড় এর আঘাতে আমি বাহিরে গিয়ে পড়লাম.... আমার চোখ বেয়ে অনবরত টপ টপ করে
অশ্রু ঝড়ছে... আমি জারা দিকে তাকালাম.. ও নিজেও কান্না করছে.... ওর চোখে
মুখে ঘৃণার ছাপ স্পষ্ট.... আমি ওর সামনে গিয়ে বললাম
।
।
।
।
- জারা অন্তত তুমি তো আমাকে একটু বিশ্বাস করো... আমাকে একবার কথা বলার সুযোগ দেও.... আমার কোনো দোষ নেই.. 😭
।
।
।
বাবা আমাকে বললো
।
।
- আজকে খুব কষ্ট হচ্ছে এটা জেনে যে তুই আমার সন্তান..... তোকে জন্ম
দিয়ে আমি সবচেয়ে বড় ভুল করেছি...এখান থেকে চলে যা আমি কিছুই বলব না.
কিন্তু যদি আর কোনোদিন এই বাড়ির ত্রিশ সীমানায় আশিস তাহলে তোকে আমি খুন
করব....
।
।
।
।
বাবার রাগ করাটা খুব স্বাভাবিক...
কোনো পিতাই তার সন্তানের এমন অধঃপতন দেখতে পারবে না.. কিন্তু অন্তত আমাকে
কথাটা বলার তো সুযোগ দিবে.... আঘাত তখনই পেলাম যখন জারা বললো
।
।
।
।
- বাবা ওকে চলে যেতে বলুন... আমি কোনো চরিত্রহীন এর সাথে কথা বলতে চাই না.
।
।
।
বলেই কাঁদতে কাঁদতে জারা হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়লো... আমি দৌড়ে ওকে তুলতে যাবো... তার আগেই বাবা আমাকে কঠিন সুরে বললেন
।
।
।
।
- খবরদার তোর মতো কুলাঙ্গার যেনো আমার ফুলের মতো বউ মা কে না ধরে...
।
।
।
আমি চাইতেও যেনো আমার জারা কে স্পর্শ করতে পারলাম না... ভাবতেও পারছি না
আজকে আমার বাবা আমার সাথে এমন করলো.... রুমির কথা মনে পড়তেই আমার অশ্রু
ঝড়া দু চোখ যেনো রক্ত লালে পরিনত হলো...
।
।
।
।
আমি চলে আসলাম বাহিরে..... এই রাতে কোথায় থাকবো চিন্তায় পড়ে গেলাম.. কোনো
উপায়ান্তর না পেয়ে নুরু কে ফোন দিলাম.... সে বললো ওর বাসায় যেতে....
রাত টা ওর বাসায় কাটালাম.... অনেক চেষ্টা করেছি ঘুমানোর কিন্তু কিছুতেই
ঘুমাতে পারছি না.... দুচোখ যেনো এক হচ্ছে না... শুধু পানি পড়ছে.... সবার
কথাও খুব মনে পড়ছে.....নুরুর কাছ থেকে কয়েকটা ঘুমের ট্যাবলেট নিয়ে খেতেই
যেনো ঘুম আমার দুনয়নে ভর করলো....
।
।
।
এদিকে মা বাবা সবাই চিন্তিত... জারাও ভাবতে পারছে না আমি তাকে এভাবে ধোকা দিবো.. হঠাৎ মা বললো বাবাকে
।
।
।
।
।
- ওগো আমার মনে হচ্ছে আমার ছেলে নির্দোষ... ও এই কাজ করতে পারে
না... প্লিজ তুমি ওর সাথে একটু কথা বলে দেখো... তুমি তো ওকে কিছু বলার
সুযোগ ই দিলে না....
।
।
।
- চুপ করো.... ওর দোষ না থাকলে কি রুমি এসব এর নাটক করছে? কোনো মেয়ে নিজের ইজ্জত নিয়ে নিজেই কেনো ছিনিমিনি করবে...
।
।
।
।
- তাও তো ঠিক... কিন্তু আমার কেনো মন বলছে আমার ছেলে এসব করবে না...
আচ্ছা তুমি এখানে বসো আমি বউ মা কে দেখে আসি... এমনিতেও কাল রাত থেকেই
কিছুই খায়নি..
।
।
।
।
বউমার রুমে গেলাম কিন্তু
পেলাম না.. ভাবলাম মন খারাপ তাই হয়তো বাড়ির পিছন টায় দাঁড়িয়ে আছে...
বাড়ির পিছনে গেলাম কিন্তু বউ মা কে পেলাম না... কিন্তু কিছু আওয়াজ
পাচ্ছি.. খুব আস্তে আওয়াজ গুলো তবুও যেনো কিছুটা হলেও শুনতে পাচ্ছি..
আওয়াজ টার কিছুটা কাছে যেতেই দেখলাম সামনে আমার বোন আর ভাগ্নি রুমি.. আমার
মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো ওদের কথা গুলো শুনে.... আমার বোন বলছে
।
।
।
- তুই একদম ঠিক মতো কাজ টা করেছিস মা.... কারো কোনো সন্দেহ হয় নি
যে এসব আমাদের প্ল্যান ছিলো... কিন্তু আমি ভেবেছিলাম বিপ্লব দুলাভাই বিপ্লব
এর এই পরিস্থিতির দেখে তোর সাথে ওর বিয়ে দিয়ে দিবে আর আমিও আমার সেই
সারাজীবন এর পরিকল্পনা মতো ওদের সকল সম্পত্তি পেয়ে যাবো.... কিন্তু এরা তো
সবাই মিলে বিপ্লব কে বাড়ি থেকে বের করে দিলো...
।
।
।
।
- তা এখন কি করব মা?
।
।
- আমি এখন গিয়ে দুলাভাই কে বলবো যে তোর সাথে এই ঘটনার পর কোন ছেলে আর
তোকে বিয়ে করতে চাইবে না... যদি বিপ্লব ওকে বিয়ে না করে তাহলে তুই সুইসাইড
করবি.... আর এতেই আমরা আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে...
।
।
।
।
আমার বোনের এসব কথা যেনো আমি বিশ্বাস ই করতে পারছিলাম না.... তার মানে
আমার ছেলে একদম নির্দোষ... আমরা শুধু শুধু তাকে ভুল বুঝেছি.... ওদের কথা
শুনে আমি ওদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম.... এতে যেনো আমার বোন কিছুটা চমকে
উঠছে... আর আমাকে বলে
।
।
।
- আ আ আপু তুই এখানে?
।
।
।
- হ্যাঁ রে ডাইনি... তবে তুই যে পরিকল্পনা করেছিস তা কোনোদিন পূরণ হবে না...
।
।
।
।
এই বউমা, বিপ্লব এর বাবা কোথায় তোমরা এদিকে আসো... আমার কথা শুনে দুইজনই
এসে হাজির.. আমায় জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে... আমি ওদের কে সব কিছু খুলে
বললাম... বউ মা এবার যেনো আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যুতপাত এর মতো ফেটে উঠলো....
।
।
।
আর রীতি মতো আমাকে অবাক করে দিয়ে রুমির চুলে টেনে ধরে ওকে অনবরত থাপ্পড়
দিতে লাগলো.. আর আমি যেনো বউ মার এমন রূপ দেখে নিজেই ভয় পেয়ে গেছি... আসলে
যেকোনো মেয়ে হলেই এটা করত... কোনো মেয়েই তো আর চাইবে না তার স্বামী অন্য
কারো হোক.... রুমি মার খাচ্ছে এটা দেখে আমার বোন আমাকে বলে
।
।
।
- আপু আমার মেয়েকে বাচা... ওই ডাইনি মেয়েটা আমার মেয়েকে মেরে ফেলবে...
।
।
।
- আমার বউ মা ডাইনি নারে... ডাইনি হচ্ছিস তুই আর তোর মেয়ে...
।
।
।
এই বলে আমিও আমার ছোটো বোনকে কয়েকটা থাপ্পড় মারলাম... ওদের বাড়ি থেকে বের করে দিলাম.... বউ মা এবার আমাকে এসে বললো
।
।
।
।
- মা ওনাকে একটু ফোন দিন না.. আমার খুব কষ্ট হচ্ছে ওনাকে না দেখে থাকতে...
।
।
।
- হ্যাঁ মা এখনই দিচ্ছি....
।
।
।
বলেই আমার ছেলে কে ফোন দিয়ে ডাকলাম...
।
।
।
এদিকে আমি প্রায় আধমরা হয়ে ছিলাম ঘুমে তখনই আমার ফোন টা বেজে উঠলো... দেখি মা ফোন করেছে... জলদি করে ফোনটা ধরে বললাম
।
।
।
- মা বিশ্বাস করো আমি এসব কিছুই করি নি.. এসব কিছু ওই রুমির কারসাজি..
।
।
।
- হ্যাঁ বাবা আমি আমি সব জানতে পেরেছি তুই চলে আয় এখনই ...
।
।
।
আমি তাড়াতাড়ি করে বাসায় চলে আসলাম... দেখি বাবা সামনে আমি বাবাকে কিছু বলার আগেই বাবা বলা শুরু করলো
।
।
।
।
- বাবা তুই আমাকে ক্ষমা করে দে... আমি অনেক বড় ভুল করেছি... আমার উচিত ছিলো এই বিষয়ে তোর সাথে কথা বলার...
।
।
।
- ঠিক আছে বাবা... জারা কোথায়
।
।
।
- বউ মা ভিতরে... তোর জন্য অপেক্ষা করছে..
।
।
[ আগের পর্ব গুলো এই গ্রুপে আছে, যারা পড়েন নাই রিকোয়েস্ট দিয়ে ইনবক্স করুন, লিঙ্ক দিয়ে দেব]
।
।
আমি ভিতরে গিয়ে দেখি দেখি জারা দাঁড়িয়ে আছে... আমি পিছন থেকে জড়িয়ে
ধরলাম... কিন্তু ও কোনো রিয়েক্ট করছে না... ওকে ঘুরিয়ে আমার দিকে করলাম
দেখি কান্না করছে... আমি বললাম
।
।
।
- কি হলো আবার কেনো কাঁদছো
।
।
।
- আমাকে তুমি ক্ষমা করে দেও..আমি তোমাকে ভুল বুঝেছি..
।
।
।
- এসব বাদ দেও... চলো না এখন একটু রোমাঞ্চ করি... আমার না ভীষণ জোর পাচ্ছে....
।
।
।
- যাহ দুষ্টু... আমার বুঝি লজ্জা করে না
।
।
বলেই জড়িয়ে ধরলাম..
।
।
।
সমাপ্ত_______🖤🥀🖤

# Prostitute_girlfriend (পতিতা প্রেমিকা)
,
# লেখক_স্বপ্নীল !
# পর্ব_1
/
,-বুকের উপর থেকে কাপড় সরাতেই মেয়েটার চোখ দিয়ে টপাটপ পানি ঝরে পরতে থাকে!!
কিন্তু কেঁদে কী হবে? তাঁকে তো কিনে নেওয়া হয়েছে এক রাতের জন্য! কাদলে
হবেনা তার তাঁকে সব মেনে নিতেই হবে!! সব সহ্য করতেই হবে তাঁকে!
,,,
,-হুম আমি স্বপ! বড়লোক বাবা মা এর একমাত্র বিগড়ে যাওয়া সন্তান!!
আমি নিজেই বুঝি আমি যা করি ঠিক করিনা কিন্তু এসব নিতী কথা আমার সহ্য হয়না নিজে বুঝলেও আমার এসব কথা মানতে ইচ্ছা করেনা!!
,-আর আজকে যে মেয়ে কে আমি ভাড়া করেছি সে দেখতে এক কথায় অসাধারণ!
মেয়েটার চোখ এর মণি বাদামি !! ভ্রুগুলো সুন্দর টানা টানা!!
ঠোটগুলো লাল টূকটুকে,,,,
গা এর রং ধবধবে ফর্সা একদম দুধের মতো!!
,-আমি রুমে বসে আছি!! রুমের এক কোণে আপনমনে সিগারেট টানছি!!
এই রুমটা আজকের ভাড়া নিয়েছি সারারাত এর জন্য!
আর এই মেয়ে কে একরাতে 15 হাজার টাকায় ঠিক করেছি!!
,-মেয়েটার ঠোঁটে আঙুল এর স্পর্শ করতেই পাশে কী যেন বেজে উঠলো!!
চমকে গেলাম কী হলো?
পাশে তাকিয়ে দেখি মেয়েটার ফোন বাজছে!!
,-আমি রেগেই বললাম কী রে? আজকের রাতে আরো কতোজনকে ঠিক করে রাখছিস? যা আমি তোর সাথে থাকবোইনা!!
,-মেয়েটি: প্লিজ আপনি এমন করবেন না,,,, আপনি আমাকে ছেড়ে দিলে আমি কোথায় যাবো এতো রাতে?
নতুন কাস্টমার তো পাবোনা এতো রাতে আর আমার টাকার খুব দরকার!
,-আমি : তোর কী মনে হয় আমি এসব মানবো? আজকের রাত তোকে আমার সাথেই থাকতে হবে মানতে পারলে আমার সাথে থাক না হলে এখুনি বেরিয়ে যা!!
,-মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে বলছে: আমি কাউকে ঠিক করিনি আমার মা ফোন করেছে,,,
আপনি যদি অনুমতি দেন আমি একটু কথা বলতাম তা হলে যদি না দেন তাহলে থাক লাগবেনা!!
,-আমি অবাক হয়ে গেলাম,,,,এর মা মানে? তোর মা আছে?
তুই তাহলে এই রাস্তায় কেন?
,-মেয়েটি:পরে বলি? একটু কথা বলি প্লিজ?
বলবো,,,?
,-আমি :হুমম বলে নে !!
,-মেয়েটি:হ্যালো মা!!
,-মা তুই কোথায়? এতো রাত হলো বাড়ি ফিরবি কখন,,,?
আমি তোর জন্য অপেক্ষা করছি তো!!
,-মেয়েটি :মা আমি আজ রাতে বাড়ি ফিরতে পারবোনা,,,
আজকে পার্ট টাঈম কাজ করছি কাজের অনেক চাপ তোমরা খেয়ে ঘুমিয়ে পরো!! আর সোনিয়াকে বলো খেয়ে ঘুমিয়ে পরতে!!
,-সোনিয়া কী তোকে ছাড়া কখনও খাবার খায়,,,!
ও তো তোকে না পেলে ঘুমায়না আমি কী করবো মা?
,-মেয়েটি: মা ওকে বুঝিয়ে ঘুম পাড়িয়া দাও আর তুমিও ঘুমিয়ে পরো,,,
আচ্ছা মা রাখছি আমি পরে কথা বলবোনি!!
টুট টুট টুট!!!,,,,
,-আমি সত্য অবাক,, এরকম মেয়ের ও পরিবারের সাথে সম্পর্ক থাকতে পারে? আবার
সেই মা রাতে মেয়ের খবর নিচ্ছে সেই মেয়ে কোথায় আছে? এখনো বাসায় ফিরছেনা
কেন?
,-আমি বিস্ময় নিয়ে মেয়েটিকে জিঙ্গাসা করলাম তুমি এইপথে কেন এসেছো?
,-মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে বলল: আমি আগে এমন ছিলাম না টাকার প্রোয়োজনে বাধ্য হয়ে এই রাস্তায় নেমে এসেছি!!
আমি আগে টিউশনি করে যে টাকা পেতাম তা দিয়ে কোনোমতে আমাদের সংসারটা ভালোই চলে যেত!!
কিন্তু ইদানীং এসে মা খুব অসুস্থ থাকতো তাই আমি একদিন মা কে নিয়ে ডক্টর এর কাছে যাই!!
সেখানে গিয়ে জানতে পারি আমার মা এর দুটো কিডনি ড্যামেজ হয়ে গেছে!!
ইমার্জেন্সি একটা কিডনী রিপ্লেস না করতে পারলে মা বাচবেনা আর তাই আমার অনেক টাকার দরকার পরে গেল!!
আমি একটা সংস্থা থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ঝৃণ করি কিন্তু আমাদের এমন সামর্থ্য ছিলোনা যে আমি সেই টাকা সুদে আসলে পরিশোধ করতে পারবো!!
দিন যেতে থাকে আমাদের ঝৃণের বোঝা বাড়তে থাকে!!
একদিন ওনারা পুলিশ নিয়ে আসেন আর বলেন,, ওনাদের টাকা পরিশোধ না করলে ওনারা আমাদেরই বাড়ি ঘর সব নিজেদের দখলে নিয়ে নেবেন,,,
আমাকে প্রতিসপ্তাহে দশ হাজার টাকা করে জমা দিতে হবে তাঁদের তাই আমি বাধ্য হয়ে এই পথে এসেছি আমার কাছে কোনো উপায় ছিলোনা,,,,
আপনিই প্রথম যার কাছে আমি আমার সর্বম্ম আজ বিলিয়ে দেবো,,,
মেয়েটি কথা বলছে আর নিজের শাড়ির ভাঁজ খুলছে সাথে অজস্র অদেখা বেদনার কান্না যা সে কাউকে বলতে পারছেনা!!
,-স্বপ্ন রাগান্বিত হয়ে বলল আমি তোমার সাথে রাত কাটাবোনা তাই বলেই বাহিরে যেতে লাগলো,,,
মেয়ে টি এসে সোজা স্বপ্নের পা এ ধরলো,,,
কান্না কারতে করতে বলতে লাগলো,,
প্লিজ আমাকে রেখে যাবেন না !! আমি এতো রাতে নতুন কাকে পাবো,,?
আমিতো কাউকেই পাবোনা আর আমি এখনো ভার্জিন!!
আপনি আমাকে যা চান করতে পারেন আমি আপনাকে বাধা দেবোনা,, কিন্তু আমার টাকাটা লাগবে!!
,-স্বপ্ন: তুমি চিন্তা কর না আমি তোমাকে টাকা দিয়ে দেবো,,,
বলে বেলকুনিতে চলে গেল স্বপ্ন!!
স্বপ্ন একটা সিগারেট জ্বালিয়ে ভাবছে,,,
কতোটা না অসহায় হলে এমন হতে পারে একটা মেয়ে যে নিজের সবকিছু একটা ছেলেকে দেওয়ার জন্য পা ধরছে!!
আমিতো আগে এমন ছিলাম না আমি এমন কী করে হলাম,,,??
,-স্বপ্ন সিগারেট শেষ করে রুমে এসে দেখে মেয়েটি এখনো শাড়ি ওমনি অর্ধেক
পরে বিছানার উপরে পা তুলে বসে বসে কাঁদছে! হাঁটুতে মুখ গুঁজে রেখেছে যেন
সেই কান্নার আওয়াজ কেঊ শূনতে না পারে,,, তার গা এ আজকে রাতে একটা নতুন নাম
লেগে গেল একটা কলঙ্কিত নাম তার গা এ লেগে গেল পতিতা!!
তাঁকে সবাই এইনামেই চিনবে আজ হয়তো আমি ওকে কিছূ করবোনা কিন্তু কালকে? ও তো টাকার জন্য আরেকজনের কাছে ঠিকি যাবে!!
,-আমি আমার বোনকে তো হারিয়েছী আমার সামনে আর কারো বোন কে কষ্ট দিচ্ছি আমি!!
বোনের কথাটা মনে আসতেই স্বপ্ন কষ্ট আটকে রাখতে পারলোনা চোখ দিয়ে ঝরঝর করে পানি পরছে তার!! কি করে সহ্য করবে সে এই যন্ত্রণা!
চোখে হাত দিয়ে চোখের পানি মুছছে স্বপ্ন এমন সময় কে যেন গা এ হাত রেখেছে!!
মাথা উঁচু করে তাকিয়ে দেখি মেয়েটি আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে আছে!!
আমি বললাম: শাড়ি ঠিক করে পরে নাও আমি তোমাকে কিছু করবোনা,,, তুমি ফ্রেশ হয়ে এসো আমরা আজ গল্প করবো সারারাত!!
,-আমার কথা শুনে মেয়েটা হতভম্ব হয়ে গেল আমি জানি সে এমন কোনো কথার সামনে পরতে পারে সেটি সে কল্পনা করেনি কখনও কিন্তু এমনি হলো,,,,
মেয়েটির মুখের কোণে এক চিলতি হাসি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম,,,,
,-মেয়েটি ফ্রেশ হয়ে এসেছে,,, শাড়ি পরেছে তাকে এতো সুন্দর লাগছে এতো সুন্দর লাগছে বুঝাইতে পারবোনা,,,
এমনিতেই তার চোখ গুলো দেখলে সব ছেলেই হাজার বার মরতে রাজি হয়ে যাবে তার জন্য!!
(ইসসহ যদি কোনো এমন মেয়ে আমি পেতাম)
,-মেয়েটি: আপনাকে একটা কথা বলতে পারি?
(আমার ভাবনার ছেদ ঘটিয়ে কথাটি বলল মেয়ে টা)
,-আমি: হুমম বলো কী বলবে?
,-মেয়েটি:আপনার মতো ধনী ছেলের কীসের কষ্ট?
আপনি কাদছিলেন কেন তখন?
,-স্বপ্ন :টাকা দিয়ে কী সুখ কেনা যায়? আমার টাকা আছে কিন্তু ভালোবাসার কেঊ নেই!!
,-মেয়েটী: মানে আপনার বাবা মা তারা কোথায়?
,-স্বপ্ন: আছে কিন্তু আলাদা,,, আমি যখন বুঝতে শিখলাম আমার বাবা মা বলল তারা আলাদা থাকতে চান,,, তাদের নাকি একসাথে থাকা সম্ভব না!
যদিও তারা ভালোবেসে বিয়ে করেছিল একে অপরকে,,,
পরিবারের সম্মতি ছাড়া আর তারাও সবার সাথে সব শেষ করে এসেই এই বিয়ে করেছে
আমাদের কোনো আত্মীয় স্বজন ছিলোনা,,, আমার একটা ছোট্ট বোন ছিল মাহিয়া!!
তাঁকেও হারিয়ে ফেলেছি আমি!!
,-মেয়েটি:কীভাবে হারালেন আপনি আপনার বোনকে?
,-আমি: হুহ!! এক লোক একদিন আমার বোনকে বাবা মা এর কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে নিয়ে যায় আর পতিতাদের মাঝে বীক্রি করে দেয়!!
তারপরে তাঁকে আর আমি কোথাও খুঁজে পাইনি হয়তো সে আর বেঁচে নেই!!
কথা বলতেই চোখ থেকে অঝোরে পানি পরছে আমার!!
বূঝতেই পারিনি আর মেয়ে টা তাক লাগিয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে!!
তাই আমি এমন হয়ে যায় আর আমার মন এ এখন পতিতারাই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ অপরাধী
তার জন্য আমি মেয়েদের কিনে নিয়ে এসে শাস্তি দেবো ঠিক করি!! তাদের সাথে
আমি রাত কাটাতে এখানে নিয়ে আসিনা!!
,-মেয়েটি: মানে কী বলছেন আপনি,,, আপনি কী করেন তাদের সাথে,,,?
,
,
,
,
,
,
,
চলবে?
প্রথম পর্ব দিলাম জানিনা কেমন হলো!! কিছু ভুল বললে সরি!

কিছু কিছু ছেলে আছে যারা মেয়েদের ভালোবাসে
তাদের দেহটার জন্যে। দেহটা পাওয়া হয়ে গেলে
আস্তে করে সেই মেয়ের কাছ থেকে সরে যায়...
আবার কিছু মেয়ে আছে যারা ছেলেদের ভারী
মানিব্যাগটাকে ভালোবাসে, যখন ভারী মানিব্যাগটা
হালকা হয়ে যায় তখন মেয়ের ভালোবাসাটাও
ফুরিয়ে যায়, ভালোবাসা ফুরিয়ে যায় বললে ভুল
হবে, তখন তাদের অভিনীত ভালোবাসা নামক
নাটকের সমাপ্তি ঘটে...
.
এই ধরনের ছেলে,মেয়ে কিন্তু সবাই না,
সবার মনোভাব কিন্তু এমন না,
এমন অনেক ছেলে আছে যারা ভালোবাসার
মানুষটার হাত ধরতে গেলেও হাত কাঁপাকাপি
শুরু হয়ে যায়, তারা সব সময় চায় ভালোবাসার
মানুষটা থেকে ভালোবাসা পেতে,
দেহটা তাদের কাছে কিছুই না...
আবার এমন অনেক মেয়ে আছে যারা
ভালোবাসা মানুষটার মানিব্যাগ
আছে কি নেই সেইটা নিয়ে মাথাই ঘামায় না,
বরং ছেলেটাকে প্রায়ই একই টি- শার্ট
পরে আসতে দেখে একদিন নিজেই
একটা টি-শার্ট কিনে এনে বলে দেখিতো
আমার বাবুটাকে কেমন মানায়
তাদের কাছে মানিব্যাগ হালকা না
ভারী সেটা মূখ্য নয়, তারা সব সময় চায়
ভালোবাসাটা যেন সব সময় ভারী থাকে,
এই ভালোবাসার হালকা হয়ে যাওয়া
তাদের কাছে নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার মতো..
.
তাই ভাইয়া ও আপুদের প্রতি অনুরোধ,
আর কখনো বলবেন না "সব ছেলেরা
এমন অথবা সব মেয়েরাই এক রকম"
সবাই এক রকম না,সবাই যে যার মতন




