Joy Bhaiya Youtube Channel

Car Windshield Sun Shade - Blocks UV Rays Sun Visor Protector, Sunshade To Keep Your Vehicle Cool And Damage Free, Easy To Use, Fits Windshields of Various Sizes 2020

This Product More details and Order Now
List Price$36.00
With Deal:$14.41
You Save:$21.59(60%)

Sweat-soaked OR MISERABLE? Ever made your way for an impact of hot air in your face? Our windshield sun conceal shields you from the sun's warmth and hurtful UV radiation beams 

Secure YOURSELF AND CAR: High quality and tough sun blocker screen defender to keep up your vehicle inside temperature, so your vehicle's seats remain cool, and without getting your hands consumed on guiding wheel 

Simple SETUP! Awning effectively jumps out and overlays back in seconds making it helpful for every day use. Intended to be put away in the entryway pockets of your auto vehicle 

Measurements: L = 68" (167cm), W = 35" (90cm), Ring Diameter = 31" (78cm)Adjustable and fits truly well with windshields that. Best for huge windshield Cars, SUV's, Trucks and Vans. Ensure you measure your windshield to guarantee you get the correct size. . 

NO HASSLE MONEY BACK GUARANTEE - We realize you'll cherish our sun conceal, that is the reason in the event that you aren't fulfilled, we offer 100% Risk Free User Satisfaction

Share:

Echo Dot (3rd Gen) - Smart speaker with Alexa..... Amazon.com 2020

Order Now 

Price:

$49.99 Buy 2, save $20 off original price with code DOT2PK. Discount reflected at checkout. Terms and conditions

Echo Dot (3rd Gen) - Smart speaker with Alexa - Color: Sandstone, Plum, Heather Gray, Charcoal

Echo Dot Terms and Conditions:

To recover this proposal on Amazon Echo Dot (third Generation) gadgets, you should enter the limited time code in the checkout outline. 

This is a restricted time offer. Amazon maintains whatever authority is needed to alter or drop the proposal whenever. 

Alexa

Offer great while supplies last. 

Offer legitimate for any two Amazon Echo Dot (third Generation) gadgets of the equivalent or various hues. 

Offer is non-adaptable, may not be exchanged, and may not be joined with different offers, limits or advancements (i.e., no promotion stacking). 

Offer just applies to new Echo Dot (third Generation) gadgets sold by Amazon Digital Services LLC (search for "sold by Amazon.com" or "sold by Amazon Digital Services LLC" on the item detail page). Items sold by outsider dealers or other Amazon substances won't fit the bill for this offer, regardless of whether "satisfied by Amazon.com" or "Prime Eligible". 

Offer restricted to one Amazon Echo Dot (third Generation) gadget two-pack per client. 

You should buy twonew Amazon Echo Dot (third Generation) gadgets to profit by this offer. 

Transportation charges and duties may apply to the full estimation of limited and free special things. 

Things must be bought in a solitary request and sent at a similar speed to a solitary location. 

Offer markdown will be designated relatively among all special things in your request. In the event that any of the items or substance identified with this offer are restored, your discount will approach the sum you paid for the item or substance, subject to appropriate discount strategies. 

On the off chance that you disregard any of these terms, the offer will be invalid. 

Utilization of Echo Dot is dependent upon the terms discovered here.


Configuration: Device only

Meet Echo Dot - Our most famous shrewd speaker with a texture structure. It is our most minimized keen speaker that fits consummately into little spaces. 

Improved speaker quality - Better speaker quality than Echo Dot Gen 2 for more extravagant and stronger sound. Pair with a subsequent Echo Dot for sound system sound. 

Voice control your music - Stream tunes from Amazon Music, Apple Music, Spotify, Sirius XM, and others. 

Prepared to help - Ask Alexa to play music, answer questions, perused the news, check the climate, set alerts, control viable brilliant home gadgets, and then some. 

Voice control your brilliant home - Turn on lights, change indoor regulators, lock entryways, and more with viable associated gadgets. Make schedules to begin and end your day. 

Interface with others - Call nearly anybody without hands. In a flash drop in on different rooms in your home or make a declaration to each live with a viable Echo gadget. 

Alexa has abilities - With a huge number of aptitudes and tallying, Alexa is continually getting more astute and including new abilities like following wellness, messing around, and that's only the tip of the iceberg. 

Intended to secure your security - Built with numerous layers of protection assurances and controls, including a mouthpiece off catch that electronically separates the receivers.

Share:

Education Board Short Code or Name Code

#Education Board Short Code or Name Code:
DHA = Dhaka Board | COM = Comilla Board | RAJ = Rajshahi Board | JES = Jessore Board | CHI= Chittagong Board | BAR = Barisal Board | SYL = Sylhet Board | DIN = Dinajpur Board | MAD = Madrasah Board....মোবাইলে JSC ,JDC ও PSC পরীক্ষার ফলাফল জানার নিয়ম
JSC রেজাল্ট জানতে,
JSC<>বোর্ডের নাম<> রোল নাম্বার<>Year লিখে পাঠিয়ে দিন 16222 নাম্বারে।
যেমন, JSC DHA 654321 2014 লিখে পাঠিয়ে দিন 16222 তে।
JDC রেজাল্ট জানতে,
JDC<>MAD<>Roll number<>2014 পাঠিয়ে দিন 16222 নাম্বারে।
যেমন,JDC MAD 654321 2014 পাঠিয়ে দিন 16222তে।
PSC রেজাল্ট জানতে,
DPE<>থানা/উপজেলা কোড<>রোল নাম্বার<>Year লিখে পাঠিয়ে দিন 16222 নাম্বারে।
যেমন,DPE 1234 654321 2014 লিখে পাঠিয়ে দিন 16222 তে।
এবতেদায়ী পরীক্ষার রেজাল্ট জানতে,
EBT<>থানা/উপজেলা কোড<>রোল নাম্বার<>Year লিখে পাঠিয়ে দিন 16222 তে।
যেমন,EBT 1234 654321 2014 লিখে পাঠান 16222তে।
Share:

♥চমৎকার সেই মেয়েটি♥


চমৎকার সেই মেয়েটি

লেখক,,তানভীর হাসান হেলিম

[[[সম্পর্ন গল্প]]]

ওপাশ থেকে সামান্য ফুঁপানির আওয়াজ আসে।মেজাজ আমার আরো কয়েক ডিগ্রি খারাপ হয়।ঠাসিয়ে এক ধমক দিয়ে বলি,
– এই মেয়ে!সমস্যা কি তোমার। নিজের কান্না শুনানোর জন্য ফোন করেছো তুমি?
ঈশিতার কান্নার বেঁগ যেনো আরো কিছুটা এগিয়ে যায়।আমি চুপ করে থাকি!খানিকবাদে ঈশিতা নিজেই ভাঙ্গা গলায় বলে,
– আমি সত্যিই সরি!আমার জন্যই আজ আপনাকে এতগুলো কথা শুনতে হয়েছে!আমি সত্যিই বুঝতে পারি নি এমন কিছু ঘটে যাবে!আমাকে আপনি মাফ করে দিন।
এটুকু বলেই ঈশিতা আবার হুহু করে কেঁদে উঠে।
কথা খানিক না,পুরোপুরিই সত্য।আজ এই মেয়ের জন্যই আমায় নিজের ক্যারেক্টার নিয়ে কথা শুনতে হয়েছে!নিজের শিক্ষা,দীক্ষা নিয়ে কথা শুনতে হয়েছে!আরো কতো কথাই না শুনতে হয়েছে,যার

অনেকগুলো এখন মনেও করতে পারছি না।
আপনার উপর যদি কেউ সহায় না হয়, তবে ঢাকা শহরে একটা টিউশনি পাওয়া মানে খড়ের মধ্যে সুঁচ খুজে পাওয়ার সমান!যখন, গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করার পরও শত চেষ্টা করে নিজের মন মতো একটা জব পাচ্ছিলাম না,তখন আমার এক পাতানো ফ্রেন্ড আমার উপর সহায় হয়েছিলো।পাতানো ফ্রেন্ডের বিষয়টা অন্য আরেকদিন ক্লিয়ার করবো।আজ আসল গল্পটা বলা যাক।তো সেই পাতানো ফ্রেন্ডের কৃপাতেই ঈশিতাকে পড়ানোর দায়িত্বটা পেয়ে যাই আমি।
প্রথম যেদিন ঈশিতাকে পড়াতে যাই, সেদিন ঈশিতাদের বাসার সামনে দাঁড়িয়ে কয়েকবার কলিংবেল টিপতেই দরজা খুলে যায়।আমি স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকি সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটির দিকে।একে তো দুধে আলতা গায়ের রং তার উপর সাদা চুরিদার পড়ায় মেয়েটিকে কোনো এক অপ্সরা বলে মনে হয়েছিলো আমার।সেদিন আমিই প্রথমে নিরবতা ভেঙ্গে বলেছিলাম,
– আমার নাম তানভীর হাসান, ঈশিতার নতুন টিচার।ঈশিতাকে ম্যাথ পড়ানোর জন্য আমাকেই ঠিক করা হয়েছে।
সামনে থাকা মেয়েটি তখন আমায় সালাম দিয়ে বলেছিলো,
– ভেতরে আসুন স্যার!আমিই ঈশিতা।
এমন কথায় আমি খানিকটা থমথম খেয়ে যাই।ভ্রু কুচকে তাকিয়ে থাকি।একটু আগেই যার শারীরিক গঠন, মোহনীয় সুন্দর্য আমায় প্রায় গ্রাস করে নিয়েছিলো,সে মুহুর্তেই আমার চোখে পিচ্চি মেয়েতে পরিনত হয়।
ঈশিতা মেয়েটাকে প্রথম দিকে বেশ চুপচাপ স্বভাবেরই মনে হয়েছিলো।কিন্তুু যত দিন যেতে থাকলো মেয়েটার চঞলতা ততই বাড়তে থাকলো।মাঝেমাঝে মেয়েটা এমন বাচ্চা সুলভ আচরন করতো খুব কষ্টে নিজের হাসিকে চেপে রাখতে হতো।নিজের গাম্ভীর্য প্রকাশ করতে কন্ঠে খানিকটা গম্ভীরতা এনে বলতাম, “চুপকরে পড়ো মেয়ে।এতো কথা কিসের।”
এমন কথায় সে কিছুটা ভেঙচিয়ে উঠতো।আমি অনুমান করতাম,সে মনে মনে বলতো, “হুহ!আপনি একটা পঁচা লোক।আপনি সব সময় আমার সাথে এমন করে কথা বলেন”।
তার বাচ্চা সুলভ আচরন গুলো যে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ছিলো সেটা আমার কাছে পরিষ্কার হয় আরো কিছুদিন বাদে।সেদিন বাহিরে খুব করে বৃষ্টি হচ্ছিলো।কেমন এক অদ্ভুত শীতলতায় ছেঁয়ে গিয়েছিলো চারোদিক।হঠাৎ করেই আমার তৃষ্ণার্ত পুরুষালি চোখ জোড়া তার চোখে চোখ রাখে।আমি চমকে উঠি সেই চোখের দিকে তাকিয়ে।কি গভীর চাহনি!কি ভয়ঙ্কর ভালোবাসাই না ফুটে উঠেছিলো তার চোখে।আমি দ্রুত নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়েছিলাম সেদিন।আমি জানি এমনটা সম্ভব না।একে তো মেয়েটা কেবল ইন্টারমিডিয়েট পড়ছে!প্রাপ্ত বয়স্কের ছোঁয়া সে এখনো পেয়ে উঠে নি,তার উপর তার ফ্যামিলি স্ট্যাটাস!এ ব্যাপারে চিন্তা করাও আমার তখন অপরাধ!
ঈশিতার আচার-আচরন দিনকে দিন বিগড়ে যেতে থাকে।সে কিভাবে আমার বাড়ির ফোন নাম্বার জোগার করেছিলো আমি তা বলতে পারি না।তবে আমি তাকে পড়িয়ে আসার পরপরই সে ছোট করে মেসেজ করতো। বলতো,”আজকে যে শার্ট টা পড়েছিলেন এই শার্ট টা আর পড়বেন না।এই শার্টে আপনাকে একদম মানায় না।আর হ্যাঁ,আপনার রিসেন্ট পোষ্টে দেখলাম কয়েকটা পেত্নী লাভ রিয়েক্ট দিয়েছে।এদের আজই লিষ্ট থেকে বের করবেন!এমন ক্যারেক্টারহীন পেত্নীদের লিষ্টে রাখার কোনো দরকার নেই।
এইতো কিছুদিন আগে মেয়েটাকে বেশ কঠিন এক ম্যাথ বুঝাচ্ছিলাম।তখন সে আমার দিকে কিছুসময় এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে আহ্লাদমাখা কন্ঠে বলেছিলো,”জানেন আপনার চুলগুলো না খুব সুন্দর।আমার না সব সময় ইচ্ছে করে আপনার চুলে একটু ছুঁয়ে দিতে।দিবেন একটু ছুঁয়ে দিতে?দেই না একটু ছুঁয়ে।প্লিজ?
সেদিন আমি সব রাগ একসাথে ঝেড়েছিলাম।পড়ানো ম্যাথই ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে করতে দিয়েছিলাম তাকে।
না পাড়ায় স্টীলের স্কেল দিয়ে সবটুকু শক্তি নিয়ে দুটো মেরেছিলাম তার বাম হাতের তালুতে।সাথেসাথেই তার মসৃণ সাদা ধবধবে হাতের তালুতে স্কেলের দাগ বসে গিয়েছিলো।মনে হচ্ছিলো,আর একটু জোড়ে মারলে বোধহয় হাতের তালুর চামড়া ভেদ করে রক্ত বেরিয়ে আসতো।হাতের তালুর মতো তার চোখও লাল হয়ে উঠেছিলো মুহুর্তেই।নিচের দিকে তাকিয়ে বেশ কিছুক্ষন নিশ্চুপ কান্না কেঁদেছিলো সে।তার চোখের জল টপ টপ করে পড়ছিলো!আমার মন খারাপ হয়ে যায়।অপরাধবোধ কাজ করে মনে।মেয়েটার নিশ্চুপ কান্না আমাকেও পীড়া দিতে থাকে।সেদিন পড়ানো শেষে বাসায় এসে আমি নিজেই তাকে ছোট করে মেসেজ করে বলেছিলাম,”সরি”!
আমার ম্যাসেজে সে সাথে সাথেই প্রত্তুত্যরে বলেছিলো, “আই লাভ ইউ”!
এমন প্রত্তুত্যরে আমি একটু ধাক্কার মতো খাই।এমন প্রত্তুত্যরের জন্য আমি একটুও প্রস্তুুত ছিলাম না!যদিও কোথাও না কোথাও ভালো লাগার শীতল হাওয়া আমায় গ্রাস করতে চেয়েছিলো।আমি প্রশ্রয় দেই নি।রেগে গিয়ে বলেছিলাম,
“বেয়াদপ মেয়ে!তোমাকে আরো কয়েক ঘাঁ বেশি দেওয়া উচিত ছিলো!”
এরপর থেকে মেয়েটা যেনো আরো বেশি সাহসী হয়ে উঠে।পড়াতে গেলেই নানা রকম বায়না ধরে আহ্লাদি হয়ে বলে,”আজ আর না পড়লাম প্লিজ।চলুন না,আজ একটু গল্প করি!
তার কথার প্রত্তুত্যরে আমি বলি,”তোমার বাবা-মা মাস গেলেই আমাকে টাকা দেয়।সেটা এমনি এমনি না।আর আমরা গরীব মানুষেরা টাকা হালাল করে খাই।হারাম টাকা আমাদের সয় না।
এমন কথায় মেয়েটা মুখ গোমরা করে বলে,”আপনি সব সময় এমন কঠিন করে কথা বলেন।মানুষের মন খারাপ করে দিতে আপনার দু-দন্দ সময়ও লাগে না।নিন পড়ান!যত ইচ্ছে পড়ান!
এসব পর্যন্তই ঠিকই ছিলো,তবে আজ মেয়েটা যে এমন কিছু করে বসবে আমি স্বপ্নেও তা ভাবতে পারি নি।

খাতায় ম্যাথ করে দিচ্ছি আর বুঝাচ্ছি,এমন সময় সে হঠাৎ সামান্য ঝুঁকে এসে টুক করে আমার গালে চুমু খেলো।আমি অবাক হওয়ারও সময় পেলাম না।তাকিয়ে দেখি দরজার সামনে ঈশিতার মা বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছেন!
ঈশিতার কথায় আমার ভাবনার সুঁতো কাটা পড়ে।সে নাকের সর্দি টানতে টানতে বলে,
– কি হলো!কথা বলছেন না কেনো?আমি সত্যিই অনেক সরি।প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দিন।
আমি শীতল কন্ঠে ছোট করে বলি,
– হুম।
সে নাকের সর্দি টেনে ফুঁপাতে ফুঁপাতে বলে,
– আম্মু এমন করবে জানলে আমি কখনোই ওমন কিছু করতাম না বিশ্বাস করুন!আমি তো ভেবেছিলাম…….।
আমি অবাক হই।অবাক হয়ে বলি,
– যা বলবে পরিষ্কার করে বলো মেয়ে!
সে ভীত কন্ঠে বাচ্চা বাচ্চা ভঙ্গিতে বলে,
– দেখলেন তো!আপনি সব সময় আমায় ধমকিয়ে কথা বলেন।আমার কি দোষ! আমি তো ভেবেছিলাম আম্মু আমাদের ওভাবে দেখলে আব্বুকে বলে আপনার সাথে আমার সম্পর্ক পাকাপুক্ত করার ব্যাবস্থা করবেন।তাই দরজার সামনে আম্মুর উপস্থিতি টের পেয়েই আমি…..!
ঈশিতার এমন কথায় আমি হতভম্ব হয়ে রই কিছুক্ষন!হাসবো না কাঁদবো কিছুই বুঝে আসে না।একরাশ বিস্ময় নিয়ে বলি,
– তারমানে তুমি বুঝে শুনে ইচ্ছে করে এটা করেছো?
সে খানিকসময় চুপ করে থাকে।বলে,
– আমি সরি তো!
আমি ভেবে পাই না।এই মেয়েকে কি বলা উচিত।কিছুসময় চুপ থেকে থমথম গলায় বলি,
– আসলে কি জানো, সবকিছুই পূর্বনির্ধারিত ঠিক করা থাকে।যা আমরা চাইলেও আটকাতে পারি না, আবার না চাইলেও না!আমি জানি না সামনে কি হবে বা হতে চলেছে।শুধু জানি তুমি যেমনটা ভাবো এমনটা কখনো সম্ভব নয়।তোমার জীবন আর আমার জীবন চুম্বকের দুই প্রান্তের মতো।যা একে অপরকে আকর্ষণ নয় বিকর্ষণ করে।
ঈশিতা আবার ফুঁপিয়ে উঠে।কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলে,
– যত যাই বলুন,আপনাকে আমি কখনোই ছাড়বো না!কোনো দিনও না।এক মুহুর্তের জন্যও না!আপনাকে নিয়ে আমি কাব্য রচনা করবো।আমার মনের সমস্ত অনুভূতিগুলোকে আপনার রঙে রাঙ্গাবো।আপনাকে নিয়ে মনে যত সুপ্ত ইচ্ছেগুলো সব একে একে পূরণ করবো।
এইটুকু বলে সে একটু চুপ করে।কিছুটা কতৃত্বের সুর তুলে বলে,
– আর হ্যাঁ,কাল আপনি হলুদ পান্জাবি পড়ে আমাদের বাসার সামনের যে মোড় টা আছে ওখানে বসে আমার জন্য অপেক্ষা করবেন।আমি কলেজে যাওয়ার নাম করে রিকশায় আপনার সাথে পুরো শহর ঘুরবো।নতুন এক গল্পের শুরু করবো।আপনি যদি না আসেন,আমি কিন্তুু সোজা আপনার বাসায় গিয়ে হাজির হবো হুহ!তখন আবার আপনি আমার দিকে চোখ রাঙ্গিয়ে তাকাতে পারবেন না!!
আমি চুপ করে থাকি।মেয়েটার এমন কতৃত্বের সুরের কথাবার্তা বড় ধরনের নাড়া দিয়ে যায় মনে!সব পুরুষেরাই চায় কেউ না কেউ এমন একজন থাকুক যে তাকে প্রধান্যের শেখড়ে বসিয়ে রাখবে।আচ্ছা আমার তো হলুদ পান্জাবি নেই।আমি যদি গাঢ় নীল রঙা পান্জাবি পড়ে অপেক্ষা করি তবে কি মেয়েটা রাগ করে গাল ফুলিয়ে থাকবে?পরক্ষনেই আমি অশ্চর্য হই নিজের চিন্তা-ভাবনা দেখে।তবে কি আমি সত্যিই বাচ্চা বাচ্চা স্বভাবের চমৎকার এই মেয়েটির প্রেমে পড়ে গেলাম!!
——————————

সমাপ্ত

Share:

ভালোবাসার_পরিনতি

 

#ভালোবাসার_পরিনতি

#পার্ট_১
"রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছেলেদের সাথে নষ্টামি করতে লজ্জা লাগে না,তোর এতোটা অধপতন হয়েছে। আজকে তুই বাড়ি চল তারপর দেখবি তোর হাল কি করি "
"স্যার আপনি ম্যাডামকে ভুল বুঝছেন, উনি তো ফুল কিনতে এসেছে "
"কতো টাকায় তোর ম্যাডামকে কিনেছিস যে দরদ উথলায় পড়ে "
"না স্যার এমন কিছু না, সত্যি উনি ফুল কিনতে এসেছে "

আমার হাত টেনে নিয়ে রিকশা উঠালো। আমি ভয়ে ভয়ে বললাম,
-তুমি আমাকে যা বলার বাসায় এসে বলতে বা কি হয়েছে যেটা জেনে নিয়ে,,,,,,,
-একদম চুপ তোর মতো মেয়েকে আমি খুব ভালো করে চিনি।
আমি সাহস করে আর কিছু বলতে পারলাম না। বাসায় এসে রোহন ওর প্যান্টের বেল্ট খুলে আমাকে খুব মারলো। রুমের একটা কোনায় শুয়ে রয়েছি, ব্যাথার যন্ত্রণায় নড়তে পারিনি।
আমার চার বছরের পিচ্চি মেয়েটা আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে," আম্মু আমি দুষ্টুমি করি বলে আব্বু তোমাকে মেরেছে তাই না? আমি আর দুষ্টুমি করবো না। "
মেয়েটাকে শক্ত করে বুক জড়িয়ে বললাম,
"না মা তুমি তো আমার লক্ষী সোনা, চলো এখন খেয়ে নিবে"
"না আম্মু আামার ক্ষুধা নেই, আমি ঘুমাই"
"না একটু খেতে হবে"

মেয়েটাকে খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিলাম। রোহানকে খেতে ডাকার জন্য ওর কাছে গিয়ে বললাম,
-খেতে এসো।
-তুই যা আমি আসছি
-আচ্ছা

রোহানকে খেতে দিয়ে আমি টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে আছি।
-তুই কি এবোয়শন করবি না?
-না
-তোকে ভালো মতো বলেছি এবোয়শন কর নয়তো বাঁচতে পারবি না।
-মরে যাবো তাও আমার সন্তানকে মেরে ফেলতে দিবো না।
-অন্যের সন্তান আমার নামে চালিয়ে দিবি সেটা আমি মেনে নিবো না
-নিজের সন্তানকে অন্যের সন্তান বলতে লজ্জা লাগে না? কেমন বাবা তুমি?
-মুখে মুখে এতো কথা বলে খাওয়া ছেড়ে রোহান আমার গালে ঠাসসসস্ ঠাসসস্ কয়েকটা থাপ্পড় মেরে চলে গেলো।
রাতে আমার খাওয়া হলো না। ব্যাথার যন্ত্রণায় জ্বর খুব জ্বর হলো।
সকালে এক গ্লাস পানি আমার মুখের উপর ছুঁড়ে মারলো।
-নবাবজাদী তুই এখনও ঘুমাস? রাতে কি অন্য কারো কাছে গিয়েছিলি
আমার মেয়ে "রাফিসা" বললো,
-আব্বু দেখো আম্মু গায়ে অনেক জ্বর, ডক্টরের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
-ওসব জ্বর টর কিছু না, যত্তসব ঢং।
আমার হাত ধরে টেনে উঠিয়ে বললো,
-যা গিয়ে আমার জন্য নাস্তা রেডি কর।

আমি কিছু বলতে পারলাম না শুধু চোখ থেকে পানি পরতে থাকলো। কোনো মতো রুটি আর ডিম ভেজে দিলাম। রোহান খেয়ে অফিসে যাওয়ার আগে বললো,
-সন্ধ্যা রেডি থাকিস তোকে হসপিটালে নিয়ে যাবো।
-এবোয়শন করবো না
দরজায় লাথি মেরে রোহান চলে গেলো।

মনে পরে গেলো পাঁচ বছর আগে আমি প্রথম মা হওয়ার খরব রোহানকে দেই তখন ও খুশিতে সারা বাড়ি আমাকে কোলে তুলে নিয়ে ঘুরছে। আমার মা-বাবা, শশুড়-শাশুড়ি তাদেরকে আমার কাছে এনে রেখেছে। ওর একটাই কথা ছিলো যে "পুরো একবছর আমাদের সাথে থাকতে হবে "। আমার বাবা মা রোহানকে খুব ভালোবাসতো তাই ওর কথা ফেলতে পারে নি৷ আর ওর বাবা মা গ্রামে থাকতে পছন্দ করে তাও ছেলের খুশির জন্য থেকেছে।
রোহান অফিসে গেলে একটু পর পর কল করে বলতো, আমার অসুস্থ লাগছে কি না?খাবার খেয়েছি কি না? বাবু নড়াচড়া করছে কি না?আরও কতো কিছু। আবার ভিডিও কল দিতো। অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময় খাবার নিয়ে আসতো৷
প্রতিদিন আমার পছন্দের খাবার রান্না করতো আমার মা আর শাশুড়ী। আমাকে রান্না ঘরে যেতে দিতো না। আমি ওয়াস রুমে গেলে রোহান বাইরে দাড়িয়ে থাকতো। এমন কি সকালে আমাকে ঘুৃম থেকে তুলে ব্রাশ করিয়ে দিতো। আমি কিছু চাওয়ার আগে আমার সামনে হাজির করতো। সবাই আমাকে বলতো আমি অনেক ভাগ্য করে রোহানের মতো স্বামী পেয়েছি ।
এখন রোহান কেনো এমন করছে? কেনো আমাদের সন্তানকে পৃথিবীতে আসতে দিতে চায় না? যে রোহান আগে কখনও আমারকে ঝাড়ি মেরে কথা বলে নি আর সে এখন আমার গায়ে হাত তুলে।
পুরোনো কথা মনে পরায় বেশ কিছুক্ষণ কেঁদে মন হাল্কা করলাম।
রাফিসা আমাকে এসে বলে,
-আম্মু তুমি কেঁদো না। আমি বড় হয়ে ডাক্তার হবো তখন তোমার জ্বর হলে আমি ওষুধ দিবো
-হ্যাঁ মা তুই বড় হলে আমার আর কোনো কষ্ট থাকবে না।
-আচ্ছা আম্মু জ্বর হলে কি ওষুধ জেনে খায়?
-কেনো? তুই জেনে কি করবি?
-আহ্ এতো কথা বলো না তো, যা জিজ্ঞেস করছি তা বলো।
-নাপা ওষুধ
রাফিসা দৌড়ে গিয়ে ফাস্টবক্স এনে বললো,
-N A P A. নাপা ওষুধ তাই না
-হুম
আবার দৌড়ে গিয়ে বিস্কুট আর কলা এনে বললো,
-আম্মু এগুলো খেয়ে নেও তারপর ওষুধ খেতে হবে
মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরে বললাম,
-তুই অনেক বড় হয়ে গিয়েছিস
-হুম। আমার জ্বর হলে তুমি তো আমাকে কিছু খাইয়ে দিয়ে ওষুধ খাওয়াও।
-হুম।

রাফিসাকে রুটি কলা খাইয়ে দিলাম তারপর নিজে একটু খেয়ে ওষুধ খেয়ে দুপুরের জন্য রান্না করলাম। মাথাটা প্রচন্ড ব্যাথা করছে তাই গোসল করেছি।
রাফিসা আগের মতো আর দুষ্টুমি করে না। অনেক শান্ত হয়ে গেছে। সারাক্ষণ বই নিয়ে থাকতে পছন্দ করে।

সন্ধ্যায় রোহান বাসায় এসে আমাকে বললো,
-এই কাগজ টা দেখ।
#ভালোবাসার_পরিনত
#পার্ট_২

"তুই আমাকে ডিভোর্স দিবি নয়তো এবোয়শন করবি, এখন তুই ডিসিশন নে কি করবি"
"তুমি কেনো এমন করো? কি সমস্যা আমাকে খুলে বলো?
" আমার সমস্যা তুই। তোকে আমার ভালো লাগে না "
"সত্যি কি আমাকে ভালো লাগে না আমাকে ভালোবাসো না? "
"তোকে আর কতো বার বলবো, যে তোকে আমি ভালোবাসি না "
"আচ্ছা, আমি তোমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবো তাও এবোয়শন করবো না "
"রাফিসার দায়িত্ব আমি নিতে পারবো না যাওয়ার সময় ওকে ও নিয়ে যাবি। তোর দুটা বাচ্চার দায়িত্ব কে নিবে?"
"আমার বাচ্চাদের দায়িত্ব আমি নিতে পারবো "
"ডিভোর্স পেপারে সিগনেচার করে এখনই আমার বাসা থেকে বের হ্ "
"দুটো দিন তোমার কাছে সময় চাই তারপর আমি চলে যাবো "
"দুটো দিন পরে আবার কোনো যাবে না করবি না "?
" কথা দিচ্ছি কোনো ঝামেলা করবো না, তুমি শুধু মেয়েটার সামনে কোনো খারাপ আচরণ করো না। "
"তোর মেয়েকে তুই সামলে রাখবি আমার কাছে জেনো না আসে "
"ও তো ছোটো বাচ্চা, তোমার সন্তান তাহলে ওর সাথে কেনো খারাপ ব্যবহার করো? "
"তোর এতো কথা শুনতে আমার ভালো লাগে না। যা গিয়ে আমার জন্য চা বানিয়ে নিয়ে আয়"
"হুম"

আমি চা বানিয়ে টেবিলের উপর রেখে দিলাম তখন কলিং বেল বাজে। আমি দরজা খোলার আগে রোহান দরজা খুললো। ডেলিভারি ম্যান একটা পার্সেল নিয়ে এসে বললো,
-ইভা ইসলামের নামে একটা পার্সেল এসেছে, উনাকে ডেকে দিবেন।
-জ্বি আমি ওর হ্যাসবেন্ড আমাকে পার্সেলটা দিতে পারেন
-আচ্ছা

পার্সেলটা নিয়ে দরজা লাগিয়ে দিয়ে আমাকে বললো,
"আজকাল তোর অনেক লোক হয়েছে বাসায় পার্সেল পর্যন্ত পাঠিয়েছে "
"ওটা আমি অনলাইন ওর্ডার করেছি"
"আমাকে একদম মিথ্যা বলবি না তোর যে আরও প্রেমিক পুরুষ আছে তা জানি "
"আমার প্রেমিক পুরুষ থাকলে তোমার কি? তুমি তো ডিভোর্স পেপার সিগনেচার করে দিয়েছো শুধু আমার সিগনেচার করা বাকি তারপর তো আমাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই "
"তুই আমার বাড়িতে থেকে আমার সাথে মুখে মুখে তর্ক করবি এটা হতে পারে না খুব বার বেড়েছিস "
"দুটো দিন আমাকে সহ্য করে নেও তারপর তো আমি চলে যাবো "

রাফিসা দরজার কোনায় দাঁড়িয়ে আমাদের কথা শুনে বললো,
"আম্মু আমার দু দিন পর কোথায় যাবো "
"সুখের দেশে যাবো "
"তুই আর তোর মেয়ে আমার চোখের সামনে থেকে সরে যা "

রাফিসা নিয়ে অন্য রুমে চলে গেলাম। চার মাস ধরে আমরা আলাদা ঘুমাই। মাঝে মাঝে রোহান আমার রুমে এসে ওর শারীরিক চাহিদা মিটিয়ে চলে যেতো। এখন পর্যন্ত জানতে পারি নি কেনো রোহান পাল্টে গেলো? আমাকে সন্দেহ করে মারধর করা শুরু করলো তখন থেকে প্রতিবাদ করা শুরু করি কিন্তু প্রতিবাদ করতে গেলে বেশি মারধর করে তাই নিরবে সহ্য করি। বেশি মারধর করা শুরু করে দ্বিতীয় সন্তানের কথা শুনে। আগে ও বলতো আল্লাহ চাইলে আমি চার সন্তানের বাবা হতে চাই আর এখন কোনো সন্তানই চায় না।
মেয়েটা আমাকে জড়িয়ে ধরে চুপ করে শুয়ে আছে। আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললাম,
-তুমি কি তোমার বাবার সাথে থাকতে চাও নাকি আমার সাথে থাকতে চাও?
-দুজনের সাথে থাকতে চাই
-সেটা তো হবে না মা যে কেনো একজনের সাথে থাকতে হবে।
-তাহলে আমি তোমার সাথে থাকবো। আব্বু আমাকে একটুও ভালোবাসে না শুধু বকে
-বাবা মা সব সময় সন্তানদের ভালোবাসে। বাবা সারাদিন অফিস থেকে কষ্ট করে তো তাই একটু রাগ দেখায়
-পাশের বাসার ইরার বাবাও তো অফিসে যায় তাও ওকে কতো ভালোবাসে চকলেট কিনে দেয়
-তোমার বাবাও দিবে।

বাইরে চিৎকার চেচামেচির শব্দ শুনে গিয়ে দেখি রোহান একটা গ্লাস ভেঙ্গেছে। আর হাতে একটা কাগজ নিয়ে আরেক হাত দিয়ে আমার চুলের মুঠো ধরে বললো,
"আমাকে ডিভোর্স দিতে না দিতে অন্য কারো জন্য লেখালিখি শুরু করেছিস এতো প্রেম "
"আমার চুলে ব্যাথা লাগছে ছাড়ো "
"না বল তোর প্রেমিক কে?"
"সত্যি বলছি কেউ নেই "
"তাহলে এসব কি?"
"আমি তোমার জন্য তোমাকে নিয়ে লিখেছি "

রাফিসা দৌড়ে এসে রোহানের হাতে কামড় দিলো তাতে রোহানের রাগ আরও বেড়ে গেলো। রাফিসাকে দুটো থাপ্পড় দিলো।
"তুই যেমন ডাইনি রাক্ষসী তোর মেয়েও তেমন। এখন তো মনে হয় এটা অন্যের পাপ আমার ঘাড়ে চাপিয়েছিস "
"ছিঃ নিজের সন্তানকে নিয়ে এই নোংরা কথাটা বলতে মুখে বাজলো না "
"না না না তোরা যতোদিন আমার বাসা থেকে না যাবি ততোদিনে আমার শান্তি হবে না আর তোরাও শান্তি পাবি না "
"দয়া করে দুটো দিন আমাকে ভিক্ষা দেও দুটো দিন আমাকে শান্তি দেও "

ওর সামনে যতো থাকবো ততো আমাকে কষ্ট দিবে তাই রুমে চলে যাবার জন্য পা বাড়ালাম কিন্তু আমাকে আটকে দিয়ে বললো,
-টেবিলে খাবার দে
-হুম দিচ্ছি

রোহানের খাওয়া শেষে কোনো মতে রাফিসাকে খাইয়ে দিলাম। আমার খাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই তাই শুয়ে পরলাম । অনেক ঘুমানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু কিছুতে ঘুম এলো না তাই রোহানের রুমের কাছে গিয়ে দাড়াতে শুনে পেলাম কার সাথে যেনো হেসে হেসে কথা বলছে।

[গল্পটা কেমন হচ্ছে তা গঠন মূলক কমেন্ট করে জানাবেন এবং ভুলত্রুটি হলে দুঃখিত ]

চলবে,,,,,
#ভালোবাসার_পরিনত

#পার্ট_৩

আমি বুঝতে পেরেছি আমার ভালোবাসার মানুষটি আর আমার নেই সে অন্য জনের হয়ে গেছে।কেনো আমাকে ঠকালো? আমি তো ভালোবাসার কমতি রাখি নি। সব সময় ওকে খুশি করার জন্য যা করতে হয় তাই করেছি তাহলে কেনো এমন করলো?একটা বারও কি আমাদের সন্তানের কথা ভাবলো না?
মনের মধ্যে হাজারো প্রশ্ন কথা ঘুরপাক খাচ্ছে, কোনো কিছুর হিসেব মেলাতে পারছি না। কেঁদে কেঁদে সারারাত পাড় করলাম।
সকালে রান্নাঘরে বসে রুটি বানাচ্ছি তখন কলিং বেলের আওয়াজ শুনে দরজা খুলে দেখি অনেক সুন্দরী একটা মেয়ে।
"রোহান কোথায়?"
"ও ঘুমাচ্ছে কিন্তু আপনি কে? "
"আমি ওর হবু বৌ"
আমাদের কথা শুনে রোহন এসে বললো,
"নিশিতা তুমি আজকে আমার বাসায় আসবে তা জানিয়ে আসবে তো"?
" ভাবলাম তোমাকে সারপ্রাইজ দেই তাই না জানিয়ে চলে এসেছি "
"আচ্ছা ভিতরে এসে "
"হুম, এই মেয়েটি কে?"
"ও আমাদের বাসার কাজের লোক, বাবা মা কিছু দিন পরে আসবে তাই পরিচিত মেয়েটিকে আগে পাঠিয়ে দিয়েছে "
"মেয়েটি বেশ সুন্দরী কিন্তু "
"তোমার থেকে বেশি সুন্দরী না"
"হাহাহাহা"
"ইভা তুই গিয়ে আমাদের জন্য নাস্তা নিয়ে আয়"

নিজের কানকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে, আমি কি ঠিক শুনেছি যে আমার স্বামী আমাকে কাজের লোক বানিয়ে দিলো। এতোটা কিভাবে পরিবর্তন হলো? শুধু মাত্র মেয়েটা সুন্দরী বলে ও সুন্দরের পূজারী হয়ে গেলো? ভালোবাসার পরিনতি কি এমন কষ্টের হয়? আমি ঠায় দাঁড়িয়ে আছি হেঁটে রান্না ঘরে যাবো তার শক্তিটুকু পাচ্ছি না।
রোহান এসে বললো,
"তোকে সেই কখন থেকে ডেকেছি কথা কি কানে যায়?"
"না মানে আর কি, বলো কি লাগবে?"
"নিশিতার সামনে আমাকে তুমি করে বলবি না আপনি বলবি, তুই আমার বৌ ছিলি এখন আর না। তুই ডিভোর্স পেপারে সিগনেচার করে বিদায় হ্ "
"কালকেই চলে যাবো আর তুমি নিশ্চিত থাকো নিশিতা আমাদের সম্পর্কে কিছু জানতে পারবে না"
"হ্যাঁ বিদায় হলে ভালো, এখন যা নাস্তা রেডি কর"
"হুম"

নাস্তা রেডি করে টেবিলে রেখে রোহানের রুমের দরজায় টোকা দিলাম। নিশিতা বিরক্তি নিয়ে বললো,
"প্রাইভেট টাইমে কাউকে ডিসটার্ব করতে হয় না তা জানো না?"
"নাস্তা রেডি করেছি তাই আপনাদের ডেকেছি"
"হ্যাঁ যাও আসছি কিন্তু আর নেক্সট টাইম আমাদের রুমে নক দিবে না, প্রয়োজন হলে আমি তোমাকে ডেকে নিবো"
"আচ্ছা "

দৌড়ে নিজের রুমে এসো কান্না করতে লাগলাম। মেয়েরা আর যাই হোক নিজের স্বামীর সঙ্গে অন্য কোনো মেয়েকে সহ্য করতে পারে না। রোহানের এতো টা নিচে নামতে একটুও রুচিতে বাঁধলো না, ঘরে বৌ বাচ্চা থাকতে অন্য মেয়েকে নিয়ে রুমে সময় কাটায়। রাফিসা ঘুম থেকে উঠে আমাকে কাঁদতে দেখে বললো,
-আম্মু তুমি কাঁদছো কেনো? কি হয়েছে?
-কিছু হয় নি
-ও আম্মু বলো না কি হয়েছে? তুমি তো বলেছিলে আমরা সুখের দেশে যাবো তাহলে এখন কেনো কাঁদছো?
-সুখের দেশে গেলে আর কাঁদতে পারবো না তাই এখন একটু কেঁদে নিচ্ছি

রোহান আমাকে ডাকছে,
-ইভা এই ইভা, খাবার টেবিলে আয়
-আসছি
-খাবার টেবিলে রেখে দিয়ে চলে গিয়েছিস কেনো?খাবার বেড়ে দিবে কে?
-আপনারা এখানে ছিলেন না তো তাই আর কি
-কথা কম বলে প্লেটে খাবার দে।
-হুম।
রাফিসা এসে বললো,
-আব্বু আমাকে একটু খাইয়ে দেও।

রোহান রাফিসাকে ধাক্কা মেরে ফ্লোরে ফেলে দিয়ে বললো,

-তোকে কতো দিন বলেছি তোর মেয়ে আমাকে যেনো আব্বু না বলে।
- আহ্ রোহান ও বাচ্চা মানুষ না বুঝে বলে ফেলেছে (নিশিতা)
-বাচ্চা বলে তো অন্যায় মেনে নেওয়া যায় না

আমি রাফিসাকে কোলে নিয়ে বললাম,

-স্যার ও ভুল করে বলে ফেলেছে, ক্ষমা করবেন
-আম্মু আমি ভুল কিছু বলি নি তো (রাফিসার)

আমি রাফিসার গালে একটা থাপ্পড় দিয়ে বললাম,

-তোর বাবা মরে গিয়েছে, উনি তোর বাবা না আর কোনোদিন কাউকে বাবা বলবি না
-উফফফ্ রোহান তোমার বাসায় তো একটুও শান্তি নেই, ওদের কাজে রাখতে হবে না (নিশিতা)
-আচ্ছা তুমি না চাইলে ওদের রাখবো না
-কিন্তু মেয়েটার রান্না খুব ভালো করে
-এমন ভালো রান্না অনেকে করতে জানে, তুমি চিন্তা করো না নতুন কাজের লোক রাখবো।
-হুম

রোহান, নিশিতা খেয়েদেয়ে বাইরে চলে গেলো। সারাদিন মা,মেয়ে মিলে অনেক কেঁদেছি। চোখের পানি একটা বেইমানের জন্য কেনো পরে? কেনো আমি ওর মতো ভালো থাকতে পারি না? উফফ ওর কথা ভাবতে ভাবতে মাথা ব্যাথা হয়ে গেছে।

রাতে রোহান ড্রিংক করে বাসায় ফিরে এসে আমাকে খুব মারলো তার কারন কেনো রাফিসা ওকে বাবা বলেছে? নিশিতার নাকি একটু সন্দেহ হয়েছে যে আমাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না? এতো মার খাওয়ার পরও আমি সকালে উঠে রোহানের জন্য ওর সব পছন্দের রান্না করেছি।

[গল্পটা কেমন হচ্ছে তা গঠন মূলক কমেন্ট করে জানাবেন। আপনাদের কমেন্টে লেখার আগ্রহ পাই ]

চলবে,,,,
#ভালোবাসার_পরিনতি
#
#পার্ট_৪

আজ রোহানের জন্মদিনে ওর বেস্ট গিফট হবে ডিভোর্স। দুটো দিন সময় চাওয়ার কারন ছিলো ওর জন্মদিনে শেষ বারের মতো নিজে ওর পছন্দ মতো সব রান্না করে খাওয়াবো আর কোনোদিন তো সুযোগ পাবো না । বরাবর ও যা চেয়েছে তাই দিয়েছি ওর সুখে আমি সুখ পেয়েছি কিন্তু ও আমাকে নিয়ে কোনোদিন সুখী হতে পারবে না । প্রিয় মানুষটি যে আমার নেই।রোহান দ্বিতীয় সন্তান কেনো চাইছে না তা এখন আমার কাছে স্পষ্ট। আমি যদি এখন ডিভোর্স না দিয়ে দেই তাহলে যেকোনো মূল্যে আমার সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখতে দিবে না, মা হয়ে সন্তানকে মেরে ফেলতে পারবো না। যাই হোক আমার ভালোবাসার মানুষ তো আমার সন্তানদের বাবা তো তাই রোহানের পছন্দের একটা শাড়ি পরলাম। ও রুমের দরজা লক করে ঘুমায় যাতে আমি বা রাফিসা কেউ ডিসটার্ব করে না পারি কিন্তু আজকে দরজা লক করে নি রাতে ড্রিংক করে এসেছিলো তাই আমি রুমে ঢুকে ডাক দিলাম,
-রোহান এই রোহান উঠো
-সাতসকালে তোর হয়েছে কি? চিল্লাছিস কেনো?
-Many Many Happy Returns Of The day Happy BirthDay To U Rohan
কথাটা শুনে রোহান আমার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে রইল তারপর বললো,
-এভাবে রংচং লাগিয়ে সেজে দাড়িয়ে আছিস কেনো? তোকে কে বলেছে আমার জন্মদিনে উইস করতে? তোর মুখ দেখলে এমনি দিন খারাপ যায় আজকে না জানি কি হবে?
- আমাদের এতো দিনের ভালোবাসা আর সন্তানদের জন্য কি আমরা একসাথে থাকতে পারি না? তুমি চাইলে সব হবে।
-না না না পারি না তোকে চাই না,আমি ডিভোর্স চাই।

কিছু না বলে রোহানের রুম থেকে বেরিয়ে গেলাম।আমার রুমে এসে নিজেকে আয়নায় ভালো করে দেখতে লাগলাম, যে আমি দেখতে খুব খারাপ তাই স্বামীর মন পাই নি।এর মধ্যে রাফিসা ঘুম থেকে উঠে আমাকে বলে,
"আম্মু তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে, প্রতিদিন তুমি এমন সুন্দর শাড়ি পরবে।
" হ্যাঁ মা পড়বো, তুমি এখন যাও ব্রাশ করে এসো তারপর একটা জায়গায় নিয়ে যাবো"
"আচ্ছা "

রাফিসাকে রেডি করে নিজে রেডি হয়ে রোহানের রুমের কাছে গিয়ে বললাম,
"টেবিলে খাবার বেড়ে রেখেছি খেতে এসো "
"যা আসছি"

রোহান ডাইনিং টেবিলে এসে বললো,
"তুই যতোই আমার মন পাওয়ার জন্য এসব নেকামি করিস কোনো লাভ হবে না, আমি নিশিতাকে বিয়ে করবো। তুই আজকে ডিভোর্স পেপারে সিগনেচার করে বিদায় হ্"

রোহানের সামনে ডিভোর্স পেপার এনে সিগনেচার করে দিলাম৷ সিগনেচার করার সময় ভেবেছিলাম রোহান বলবে সিগনেচার করো না, আমাকে ক্ষমা করে দেও আবার নতুন করে সব শুরু করবো। কিন্তু না আমি বার বার ভুল করি।
"সিগনেচার করে দিয়েছি এবার খুশি তো?"
"হুম "
"এখন তোমাকে কিছু কথা বলি,মনে আছে আমি ফুল কিনতে গিয়েছিলাম সেদিন আমাকে নষ্টা মেয়ে বলেছো কিন্তু সেটা আমি তোমার জন্য হয়েছি। তোমাকে আজকের দিনে ফুলেরতোড়া দিবো তাই সেদিন ওই ছেলেটাকে বলেছিলাম আজকে যেনো বাসায় ফুলেরতোড়া দিয়ে যায়।
আবার ডেলিভারি ম্যান বাসায় পার্সেল দিয়ে গিয়েছিলো সেটা আমি তোমার জন্য কয়েকটা জিনিস অনলাইনে ওর্ডার দিয়েছিলাম কিন্তু তুমি আমাকে বললে আমার প্রেমিক দিয়েছে একটা বার যদি পার্সেলটা খুলে দেখতে তাহলে আমাকে খারাপ কথা বলতে রুচিতে বাজতো। আর দুটো দিন সময় চাওয়ার কারন ছিলো আজ তোমার জন্মদিনে তোমার বেস্ট গিফট দিবো দেখো তোমার বেস্ট গিফট দিয়ে দিয়েছি "
"ইভা তুমি আমার জন্য এতোকিছু করেছো আর আমি তোমার সাথে কি না খারাপ ব্যবহার করেছি হাহাহাহা তুই কি ভাবলি আমি এখন তোকে মেনে নিবো? তা কখনো ভাবিস না। "
রোহানের কথা শুনে চোখের পানি পড়তে লাগলো। প্রিয় মানুষের খারাপ রুপ সহ্য করা যায় না।
"আমাকে ভোলানোর জন্য এসব নাটক করার কোনো দরকার নেই, এখন তোরা মা মেয়ে আমার বাসা থেকে চলে যা"
"হুম চলে যাবো, এখন তুমি খেয়ে নেও "
"তোদের যতো যা কিছু আছে সব নিয়ে যাস "
"আচ্ছা "

আমার আর রাফিসার সব কিছু প্যাক করে নিলাম। আড়াল থেকে দেখলাম রোহান তৃপ্তি সহকারে আমার রান্না করা খাবার খাচ্ছে। ঘুম থেকে উঠে মেয়েটা কিছু খায় নি তাই আমাকে বললো,
-আম্মু আমার ক্ষিদে পেয়েছে
-বাইয়ে গিয়ে খেয়ে নিবে এখন চলো।
-আচ্ছা

রোহানের খাওয়া শেষ তখন আমি গিয়ে বললাম,
-আমরা চলে যাচ্ছি, তুমি নিজের খেয়াল রেখো
-হুম যা
রাফিসা রোহানের হাত ধরে বললো,
-আব্বু তোমাকে আমি খুব জ্বালিয়েছি এখন থেকে আর কেউ তোমাকে জ্বালাবে না কিন্তু আব্বু তোমাকে ছেড়ে থাকতে আমার খুব কষ্ট হবে। তুমি আমাদের সাথে থাকো
-তোদের মা, মেয়ের নাটক আর সহ্য হচ্ছে না
-ও বাচ্চা মানুষ ওর কথায় রাগ করো না আমরা চলে যাচ্ছি।

পাঁচ বছরের সংসার শেষ করে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলাম। ছোটো মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি যাওয়া ছাড়া আর কোনো জায়গা নেই তাই বাবার বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দিলাম। রাফিসাকে পথে খাওয়ানোর জন্য কেক,কলা পানি কিনে নিয়েছি। মেয়েটা বাসে উঠলে ঘুমিয়ে পড়ে কিন্তু আমার যে ঘুম আসে না। পুরোনো স্মৃতি বার বার মনে পড়ে যায়। রোহানের সাথে বিয়ের পর থেকে আমি বাবার বাড়িতে দু তিনদিনের বেশি থাকতে পারতাম না। একবার ও আমাকে বাসস্টপে পৌঁছে দিতে কান্না শুরু করলো আমাকে ছাড়া থাকতে পারবে না তাই ও আমার সাথে বাবা বাড়ি এলো। একটু চোখের আড়াল হলে ইভা ইভা বলে চিল্লাপাল্লা শুরু করতো আর আজ সারাজীবনের জন্য ওকে ছেড়ে চলে এলাম তাও কষ্ট পেলো না ভালোবাসার পরিনতি কি শুধু একতরফা কষ্ট পায়, অন্য জন সুখে থাকে এটা কেমন নিয়তি?
ওর হাজারো স্মৃতি ভাবতে ভাবতে বাবার বাসায় পৌঁছে গেলাম । কলিং বেল বাজাতে মা দরজা খুললো, মাকে দেখে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি নি। মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলাম।
-কি হয়েছে মা তোর? তুই কাঁদছিস কেনো?
বাবা এসে রাফিসাকে কোলে নিয়ে বললো,
-নানু ভাই তোমার আম্মু এতো কাঁদছে কেনো?
-আমরা বাবাকে ছেড়ে চলে এসেছি
মা আমাকে ভিতরে নিয়ে গিয়ে সোফায় বসালো। আমি শুধু কেঁদে যাচ্ছি কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই। মা এক গ্লাস পানি খাইয়ে বললো,
-একটু শান্ত হ্ মা তারপর খুলে বল তোর কি হয়েছে?
নিজেকে একটু শান্ত করে রাফিসাকে বললাম,
-তুমি একটু নানুর রুমে গিয়ে শুয়ে থাকো নয়তো ক্লান্ত হয়ে পরবে
রাফিসা বাধ্য মেয়ের মতো চলে গেলো তারপর মা বাবাকে সবকিছু বললাম৷ বাবা মা দুজনেই খুব কষ্ট পেয়েছে আমি তাদের আদরের একমাত্র মেয়ে আমার সব কথা শুনেছে কোনো দিন আমার অমতে কিছু করে নি এবং আমিও তাদের সব কথা শুনে -মেনে চলেছি আর আমি আজ সুখী হতে পারি নি। আমার দু ভাই আছে তারাও বিয়ে করে সুখী আছে। আমার বাবা মায়ের সাথে থাকে। একজন শশুড় বাড়িতে গিয়েছে আর অন্য জন আমার ফুপির বাসায় গিয়েছে আমি এসেছি শুনে ওরা কালকে চলে আসবে কিন্তু আমি ভাবতেছি কি করে দুটো সন্তান নিয়ে থাকবো? কি করে খরচ চালাবো? সারাদিন রাত বাবা মা আমাকে অনেক বুঝিয়েছে তারা আমার পাশে আছে। পরের দিন ভাইয়া ভাবিরা বাসায় আসলো।

[গল্পটির মধ্যে তুলে ধরা হয়েছে আমাদের দেশে এখনও হাজার হাজার নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তারপরও তারা সন্তানদের কথা ভেবে সহ্য করার ক্ষমতা রাখে এবং সমাজেরহীন দৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য স্বামীর সংসার করে যায় কিন্তু শেষ রক্ষা হয় না।

যাদের গল্পটা ভালো লাগবে না তারা ইগনোর করুন। ভুলত্রুটি হলে দুঃখিত]]

চলবে

#ভালোবাসার_পরিনতি
#
#পার্ট_৫

"তোদের সংসারে এতো ঝামেলা হয়েছে যে শেষ পর্যন্ত ডিভোর্স দিয়ে দিয়েছিস আর আমাদের জানানোর প্রয়োজন বোধ মনে করিস নি" (বড় ভাই)
"হ্যাঁ আমরা সবাই বুঝিয়ে বললে হয়তো রোহান তোর সাথে থাকতো " (ছোট ভাই)
"কম চেষ্টা তো করি নি ওর সাথে থাকার জন্য আর তোমরা যেনো ওর সাথে এসব নিয়ে কথা না বলো তা আমাকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে তাই তোমাদের অপমান করতে চাই নি" (ইভা)
"একমাত্র আদরের বোন তোকে কোনো দিন একটা থাপ্পড় পর্যন্ত দেই নি আর ও তোর সাথে এতো নিষ্ঠ ব্যবহার করেছে আর তুই আমাদের অপমানের কথা চিন্তা করে কিছু না জানিয়ে ভুল করেছিস " (বড় ভাই)
"আমি মনে করি ইভা তোমাদের না জানিয়ে কোনো ভুল করে নি কারন কোনো মেয়ে চায় না তার বাবার বাড়ির লোকজনকে শশুড় বাড়ির কেউ অপমান করুক " (বড় ভাবি)
"তোমাদের কিছু বলতে গেলে আমার উপর, রাফিসার উপর নির্যাতন বেশি হতো। তোমার ভাবতে পারবে না রোহানের খারাপ রুপ কতোটা ভয়ানক " (ইভা)
"রোহানের বাবা মায়ের সাথে কথা বললো, ওনার ছেলের এতো সাহস হয় কিভাবে যে আমার মেয়ের গায়ে হাত তুলে এমন কি দুধের বাচ্চার গায়ে হাত তুলতেও ছাড়ে নি(বাবা)
" না বাবা ওর বাবা মা এসব কিছু জানে না আর ওনারা খুব ভালো। তাদের ছেলে খারাপ হয়ে থাকলে তাদের তো কোনো দোষ নেই (ইভা)
"ওদের তো ডিভোর্স হয়ে গেছে এখন আমাদের কোনো অধিকার নেই রোহান ভাইয়ের সাথে এসব বিষয়ে কথা বলার আর যে নিজে থেকে সংসার করতে চায় না তাকে হাজার বার বুঝিয়ে কোনো লাভ হয় না। এখন থেকে ইভা শুধু ওর সন্তানদের কথা ভেবে নিজেকে শক্ত করবে (ছোট ভাবি)"

আমি ওদের কথা শুনে কান্না করে দিলাম, আল্লাহ বোধহয় আমাকে পুরোপুরি একা করে দেয় নি আমার পরিবার আমার পাশে আছে। মা আমাকে বুকে জড়িয়ে বললো,

"মা তুই কোনো চিন্তা করিস না আল্লাহ যা করে ভালো জন্যই করে, আমরা সবাই তোর সাথে আছি "
"সকাল থেকে এসে শুধু কথা শুনে যাচ্ছি, খাওয়া দাওয়া যে করতে হবে তা কি কারো মনে আছে? সবাই খেতে এসো " (বড় ভাবি)
"আমি কিছু খাবো না এখন একটু ঘুমাবে " (ইভা)
"শোনো বাপু আমাদের বাসায় থাকতে হলে আমাদের কথা শুনে চলতে হবে, এখন খেতে চলো (ছোট ভাবি)
" তুই বিকেলে রেডি হয়ে থাকিস ডক্টরের কাছে নিয়ে যাবো "(ছোট ভাই)
" না ভাইয়া দু দিন পরে যাবো মন মেজাজ একদম ভালো লাগছে না "(ইভা)
" এবার তোর কথা শুনলাম এর পরে আর না "(ছোট ভাই)

আমার খাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই তাও মা জোর করে খাইয়ে দিলো।

রাফিসার খেলার সাথী তিন্নি, তিয়াসকে পেয়ে খুব খুশি। ও ভাবে ওর বাবা কিছু দিন পরে আমাদের নিতে আসবে কিন্তু ওর ভাবনা যে সত্যি হওয়ার না।
তিন্নি বড় ভাইয়ের মেয়ে, চতুর্থ শ্রেনীতে পড়ে আর তিয়াস ছোট ভাইয়ের ছেলে, দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়ে।

আমি শুয়ে শুয়ে ভাবতেছি রোহানের সাথে প্রথম দেখা। ওর বাবা- মা, কাকা- কাকি, মামা-মামি, বন্ধুরা, কাজিনরা আর ও আমাকে দেখতে এসে এনগেজমেন্ট হলো। বাবা-মাকে বলেছিলাম তাদের পছন্দ করা ছেলেকে বিয়ে করবো তাই দেখতে এসে এনগেজমেন্টে কোনো আপত্তি করি নি। সেদিন আমি লাল রংয়ের শাড়ি পরে ছিলাম আর ও কালো রংয়ের শার্ট। সুন্দর মানুষদের কালো রংয়ে বেশি সুন্দর লাগে।
দুজনে আলাদা ভাবে কথা বলতে গেলাম তখন ও বললো,
-আপনি পরিবারের চাপে পড়ে বিয়ে করবে না, যদি নিজের ইচ্ছে থেকে বিয়ে করতে চান তাহলে আমার সাথে বিয়ে হবে নয়তো না।
-না আমি কারো চাপে পড়ে বিয়ে করতে যাচ্ছি না। নিজের ইচ্ছে
-তাহলে আমারও বিয়ে করতে সমস্যা নেই।
-আপনার পছন্দের কেউ আছে নাকি?
-আরে না না আপনাকে পছন্দ করে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছি
-আমাকে আপনি আগে থেকে চিনেন কিভাবে?
-আপনি কলেজ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তখন আপনাকে দেখে ভালো লাগে তারপর আপনি যে রিকশায় ছিলেন ওটা ফলো করে আপনার বাড়ির ঠিকানা পেয়ে যায়।
-হাহাহাহ্ হতেও তো পারতো আমি বাসায় না এসে অন্য কোথাও গেলাম সেখানেও কি আপনি আমাকে ফলো করে যেতেন??
-যাওয়ার দরকার হতে অবশ্যই যেতাম।
-ওহ্ আচ্ছা (একটু মুচকি হেসে)
-ওভাবে হাসবেন না বুকে লাগে, এতো সুন্দর হাসি
-হাহাহাহ্
দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ওর একটা বন্ধু বললো,
-আর কতো কথা বলবি, বাসার রাতের জন্য কিছু কথা তুলে রেখে এখন চল। সবাই তোদের জন্য অপেক্ষা করছে।
-হুম চল।

কয়েক দিনের মধ্যে আমাদের বিয়ে হয়ে গেলো। কতো সুন্দর ছিলো পাঁচ বছরের স্মৃতিগুলো, ভালোবাসাও কোনো কমতি ছিলো না। একে অপরের ছায়া হয়ে থাকতাম সব সময়। বাসর রাতে ও আমাকে একটা ব্রেসলেট দিয়ে বলেছিলো সারাজীবন যেনো হাতে রাখি। আমার হাতে এখনও আছে শুধু মানুষটি নেই ।
রাফিসা আমার কাছে এসে বললো,
-আম্মু দেখো আমাকে এতোগুলো চকলেট, চিপ দিয়েছে
-কে দিয়েছে?
-তাকে চিনি না তো
-তোমাকে বলেছি না যে অপরিচিত কেউ কিছু দিলে নিবে না
-উনি তো নানাদের বাসায় এসেছে তারপর আমাকে দেখে এসব দিয়েছে
-এমন কে এসেছে, চলো তো গিয়ে দেখি।

চলবে,,,,,

Share:

অদ্ভুত-তিনি

 

বাসর ঘরে একটি গোলাকার আধুনিক কারুকাজের বিছানায় বসে আছি আমি।ঘরে তেমন আলো নাই টিপ টিপ লাইটের আলো আবছা দেখা যাচ্ছে সবকিছু। শুনতে শোনা যাচ্ছে এটা বাসর ঘর কিন্তু এটা কি আদও বাসর ঘর এটা ভেবে আমি অস্থির। আসলে এই ঘরে কোন ফুল নেই ঘরটা এক দমি সাধারন ভাবে আছে। সাধারন যেমন একটা ঘর সাজানো থাকে ঠিক তেমন। আমার পরনেও সাধারন একটা লাল রং এর কাতানের সারি৷ কোন রকম সাজ। বাসর রাতে মেয়েদের যেমন সাজ থাকে তেমন নয়।আমি আবছা আলোতে কিছুটা ভয় পাচ্ছি কিন্তু বুঝতে পারছি যে, অবিশ্বাস ভাবে এই ঘরের প্রতিটা জিনিস আধুনিক আমার কথা শুনে অবাক হবেন না এই জিনিস গুলো একটু অত্যধুনিক বলা যায়। দেখেই বোঝা যাচ্ছে আমার স্বামীর আপডেট জীবনের সাথে গভীর সম্পর্ক।তাইতো সব অত্যাধুনিক আসবার পত্র।
কিন্তু এতকিছুর মধ্যে আমার বাসর ঘরে কোন রকম সাজ নেই,
অবশ্য তাতে কোন রকম অনুভুতি হচ্ছে না আমার কারন বিয়েটা আমার কাছে একটা অপ্রতাশিত ঘটনা।
চমার বিয়ের ৫ মিনিট আগে অবদি আমি জানতাম না আজ আমার বিয়ে।
আমি এখনো তাকে দেখিনি সে কেমন দেখতে আমি কিছু জানি না।
জিনি আমার স্বামী তিনি সাকাল পর্যন্ত আমার হবু দুলাভাই ছিলো। শুনতে অবাক শোনালেও এটাই সত্যি আজ আমার স্বামীর সাথে আমার ফুপাত বোনের বিয়ে হবার কথা ছিলো৷ আমার একমাত্র ফুপাতো বোন। আমিও বাবর এক মাত্র মেয়ে, ছোট থেকে এক সাথে বড়ো হয়েছি। আমার আব্বু আর ফুপি দুই ভাই বোন। আর আমি আর বন্যা আপুও দুই বোন। আমার ফুপাতো বোনের নাম বন্যা। আজ সকালে আমি বাবা মা ফুপি বাসায় আসি বোনের বিয়েতে, আমি বোনের বিয়েতে যেভাবে সাজতে হয় তেমনি করে সেজেচিলাম।
আমি বন্যা আপুকে সাজিয়ে দি নিজের হাতে আমি খুব ভালে সাজাতে পারি তাই পার্লার এর লোক না আমি নিজে আপুকে সাজাি৷ এরি মধ্যে বরের গাড়ি চলে আসে সবাই বর দেখতে ব্যাস্ত তখনি আমি আপুকে রেখে একটু পানি খেতে যায়৷ আমি খেয়ে আসার সময় আম্মু বলেন আপুকে নিয়ে নিচে নামতে আমি আপুর রুমে গিয়ে অবাক, আপু নেই ওখানে কই গেল মেয়েটা আমি সারা বাড়ি তন্ন তন্ন করে খুঁজি কোথাও নেই আজব আপু কই গেল। আপুর তো কোন রিলেশন ছিলো না, না ওর জীবনের সবটা আমার জানা। কিন্তু গেল কই আমি আম্মু, বাব, ফুপি, ফুপাকে ডাক দিয়ে ঘরে আনি,
-আমি আপুকে খুঁজে পাচ্ছি না কোথাও।
ফুপি আমার কথা শুনে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছে।
ফুপা বললেন,
-যা ভেবেচিলাম তাই হলো। আপজাল আমি কি করি এখন। (আফজাল রহমান আমার বাবা)
-চিন্তা করবেন না। আমার মেয়ে এই বিয়ে করবে।
আমি বাবার দিকে হা করে তাকিয়ে আছি কি বলছে বাবা আপু চলে গেছে কোথায় তাকে খুজবে আর কিসের ভয় পেয়েছিলো আমি কি বলবো ভাষা নেই৷ হটাৎ ফুপা আমার হাতটা ধরে বলতে লাগলেন,
-মারে আমি জীবনে তোর কাছে কিছু চায় নি। আমি জানি হাজারো প্রশ্ন তোর মনে। কিন্তু এখন তুই একটা প্রশ্নও করিস না বিয়েটা করে নে মা। (আমার হাতটা ধরে ফ্লোরে বসে পরলেন ফুপা)
আমি কি বলবো মনে তো হাজারটা প্রশ্ন কিন্তু ফুপার কথাটা শুনে শরীরটা কেমন অবস হয়ে আসলো মাইন্ড কাজ করা ওফ করে দিসে জেন মাথায় শুধু একটা কথা ফুপা বলেছে বিয়েটা করতে হবে।
আমি চুপচাপ কথা না বাড়িয়ে বিয়েটা করে নিলাম।
আমি জেন নিজের মধ্যে নাই।আমার বিয়ে ঠিকই হলো ওনার সাথে কিন্তু ওনাকে দেখার সৌভাগ্য টা হলো না কারন আমাকে যে যা বলছে আমি সেটাি অক্ষরে অক্ষরে আদেশের মতো পালন করে যাচ্ছি। আমি বিয়ে করে এই বাড়িতে আসার পর আমাকে এই টিপ টিপ আলোর রুমে এনে রাখা হলো। আমাকে এি বিছনায় বসানোর পর আমার শরীরটা ছেড়ে দিলো আমার মাইন্ড কাজ করতে লাগলো । আমার এসব ভাবনার আবসান ঘটল, হটাৎ মনে হচ্ছে এক হিম সিতল বাতাস বয়ে চলেছে কিন্তু এ ঘরে যতোটা বোঝা যাচ্ছে তাতে জানলা দরজা সব তো দেওয়া৷ তাও ঠান্ডা একটা বাতাস আর অসম্ভব সুন্দর একটা ঘ্রান আমার নাকে আসছে মাতাল করা ঘ্রান। দরজায় শব্দ হতে আমি পাশে তাকায় আৃার চোখদুটো আটকে গেছে,
তিনি দরজা দিয়ে আমার কাছে আসতে লাগলো,
অসম্ভব সুন্দর তিনি৷ এই অন্ধকার ঘরে জেন আলোকিত হয়ে গেলো তার পা পরতে তিনিতো লাইট জ্বালান নি। তাও ঘরটা আলোকিত। তির শরীর গ্লো করছে এতো সুন্দর পুরুষ আমি জীবনে দেখিনি পৃথিবীর সমস্তটা সৌন্দর্য আল্লাহ -তায়লা যেন তাকে দিয়েছে। এরকম মানুষ আমি আগে কখনো দেখিনি চোখটা যেন কোন স্বপ্ন দেখছে।
আমার ভাবনায় আবার অবসান ঘটিয়ে তিনি শুকনো কাশি দিলেন,
-খুহুম। আমি আমান খান। আমার নাম।আপনার নামটা?
-জী আমি মেঘ, জন্নাতুল মেঘ।
-মাসআল্লহ খুব সুন্দর নাম।
দেখুন আমি জানি এভাবে হটাৎ করে বিয়েটা হলো, আপনি অপ্রস্তুত ছিলেন। আপনার নিজেকে সামলে আমাকে মেনে নিতে সময় লাগবে। তাই তো।
আমি মাথা নিচু করে আছি তার কথায় হ্যা সুচোক ভাবে মাতা নারালাম।
-হ্যা আমাদের দুজনেরই কিছুটা সময় প্রয়োজন। তো আপনি কি আমার সাথে নামাজ আদায় করবেন। বাসর রাতে নফল নামাজ পরতে হয় স্বামী -স্ত্রী এর।
-জী আমি ওজু করে আসছি।
আমি উঠে যেতে গেলে খেলাম বাড়ি খাটের কোনায়। তিনি আস্থির হয়ে বললেন,
-ব্যাথা পান নি তো ক্ষমা করবেন আমারি লাইট টা জ্বালিয়ে দেওয়া উচিত ছিলো। আমারি ভুল
ওনি বেশ উত্তেজিত হয়ে পরছেন৷
-আমার লাগে নি আপনি হাইপার হবেন না।
-কই লাগছে তো। একটু মন দিয়ে পড়ুন--পরবর্তী পর্ব অর্থাৎ শেষ পর্ব অন্য আরেকটি গ্রুপে দেয়া আছে, পুরো গল্পটি পড়তে চাইলে নিচের (See More) এ ক্লিক করে ওই গ্রুপে জয়েন হয়ে পড়েনিন-ধন্যবাদ.....See More
অতি ভদ্র পোলাপাইন😊এই গ্রুপে দেয়া আছে, জয়েন হয়ে পড়েনিন।-আমি ঠিক আছি আপনি লাইটা জ্বালিয়ে দিন। (কি করে বলবো ওনার শরীরের অদ্ভুত আলোতে আমি সবটা বুঝতে পারছি কিন্তু ওনাকে দেখতে গিয়ে গুতা খাইছি)
উনি গিয়ে লাইটা জ্বালিয়ে দেয়।
আমি গিয়ে ওজু করে ফ্রেস হয়ে আসি৷
ওনার সাথে নামাজ পরে নি।
তার পর উনি বলেন,
-আপনাকে তুমি করে বলতে পারি।
-জী।
-আচ্ছা চলে শোবে চলো।
-কি।
-না মানে ঘুমাবা না। তাই বলছি।
উনি আমাকে নিয়ে শুয়ে পরলেন।
অনেকটা কাছাকাছি আমরা, কেমন একটা পাগল করা ঘ্রান পাচ্ছি আমি সাথে শীতল করা অনুভুতি।
তিনি আমাকে প্রশ্ন করে উঠলেন।
-আচ্ছা মেঘ তুমি কিসে পরো।
-জী অনার্স ১ম বর্ষে।
-ভালো তোমার ঘুম আসছে না।
-জী একটু ক্লান্ত
-ঘুমাও।
আমি কেমন যেন ওনার কথাটা শুনা মাত্র ঘুমিয়ে পরলাম৷
মঝ রাতে মনে হচ্ছে কেমন একটা শীতল স্পর্শ আমার পেটে পরেছে। চোখ খুলতে দেখি,

চলবে,
#অদ্ভুত-তিনি
পর্টঃ01
Megh La
(এটা একটা রহস্যময় ভুতুড়ে টাইপের গল্প। গল্পে থাকছে রহস্য, ফুল রোমাঞ্চ, ভয়, ইমোসন।
ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
ধন্যবাদ)
Share:

রাগী_বউয়ের_মধুর_প্যারা😖😖

 

#রাগী_বউয়ের_মধুর_প্যারা😖😖

#পর্বঃ সপ্তম এবং অষ্টম 🥀💝🥀

রুমি আমাকে পিছনে থেকে জড়িয়ে ধরে আমার ঘাড়ে অনবরত চুমু দিয়েই যাচ্ছে... আমি প্রথমে ভেবেছিলাম এটা হয়তো জারা ছিলো কিন্তু যখন পিছন থেকে টেনে সামনে আনি দেখি এটা রুমি....



আমার যেনো মুহূর্তেই রাগ উঠে গেলো... আমি রুমির গালে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলাম... থাপ্পড় টা এত জোরে দিলাম যে রুমি নিজেকে সামলাতে না পেরে বিছানায় লুটিয়ে পড়লো...আমি বললাম




- রুমি তোকে বার বার বলছি আমার বিয়ে হয়ে গেছে.. আর তুই এখনো সেই ছোট রসনি... আমি আমার জারাকে নিয়েই খুব ভালো আছি বুঝেছিস....




রুমি আমার কথা গুলো শুনে চুপ করে চলে গেলো... আর এদিকে কেউ এসব হয়তো এখনো জানতে পারেনি.... নাহলে কেলেঙ্কারি হয়ে যেতো.... তাই ভাবলাম যেহেতু কেউ জানে না তাই নিজ থেকে কাউকে এসব বলার দরকার নেই......
এসব ভাবনা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি... তখনই পিছন থেকে জারা বলে উঠলো





- কি হলো এইভাবে দাঁড়িয়ে কি ভাবছো? রেডি হয়ে অফিস যেতে হবে না?



- হ্যাঁ তাই তো... আমিও না? .. হাহাহাহা.... কখন যে কোথায় হারিয়ে যাই?



- আমি একটু আগে কিসের যেনো শব্দ পেলাম?



- কো কোথায়? তুমি কাজের চাপে ভুল শুনেছো হয়তো...




- তাই হবে হয়তো ...



জারা চলে গেলো..আমিও কিছুটা হাব ছেড়ে উঠলাম.... কিছুই জানতে পারে নি.... সব কিছু বাদ দিয়ে যেনো আমি রেডি হয়ে বাহিরে গেলাম.... আগে যেখানে সব বন্ধুরা বসে আড্ডা দিতাম সেই করিম চাচার দোকানে আজকেও বসে আছি আর চা খাচ্ছি... এটা যেনো নেশা তে পরিনত হয়েছে... এই জায়গায় টায় না আসলে যেনো ভালোই লাগে না....
একটু পর সবাই মানে বন্ধুরা দল বেঁধে চলে আসলো..আমার পাশে বসলো... সবাই মিলে চা-এ চুমুক দিচ্ছি আর গল্প গুজব এ হারিয়ে যাচ্ছি...কিন্তু হঠাৎ শিশির একটা শয়তানী রূপের হাসি দিয়ে বললো



- তোরা সবাই একটা জিনিস খেয়াল করেছিস... বিয়ে করলে কেউ রুম থেকে বউ কে রেখে বের হতে চায় না... কিন্তু বিপ্লব তো আমাদের সাথে বেশ সময় কাটাচ্ছে....



- হ্যাঁ... তাই তো... তোদের ছাড়া থাকি কি করে বল



- যতোই ইমোশনাল কথা বলো না কেন মামা সত্যি টা আমি জেনে গেছি?



- কিসের সত্যি? আর তুই কি বা জানলি?



- এই যে তুই বিছানায় কাচা খেলোয়াড় তাই বউয়ের ভয়ে আমাদের সাথে সময় কাটাস...




শিশির এর কথা শুনে সবাই অট্ট হাসিতেতে মেতে উঠলো.. সাথে আমিও... পুরোনো দিনের সেই স্মৃতি গুলো jeno পুনরায় উজ্জীবিত হতে লাগলো....
হঠাৎ শাকিল বলে উঠলো



- আচ্ছা আজকে একটা পার্টি এরেন্জ করলে কি হয়? কতদিন হয়ে গেলো সবাই মিলে কোনো পার্টি করি না


- হ্যাঁ তাই তো.... ভালো বুদ্ধি বের করেছিস.... চল আজকেই করব...




সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে পার্টির আয়োজন করলাম... সারাদিন বাসায় ও যায়নি... হয়তো খুব চিন্তা করছে সবাই... ব্যস্ততার কারণে বাসায় ফোন দিয়ে জানানোও হয়নি... এখন তো সন্ধ্যা ও হয়ে গেছে... ভাবলাম একটু পর ফোন দিবো এই কাজটা শেষ করে....



বলতে না বলতেই আমার শান্ত ফোন টা কেঁপে উঠলো ফোন টা হাতে নিয়ে দেখি আম্মু ফোন দিয়েছে.. ফোন টা তুলে বললাম




- হ্যাঁ মা বলো...




- কোথায় তুই



- মা আজকে বাড়ি ফিরতে দেরি দেরি হবে.. বন্ধুরা আজকে একটা পার্টির আয়োজন করেছে তাই.... তোমরা খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ো..




- আমরা তো বাসায় থাকবো না... আমাদের আজকে একজনের বিয়ের দাওয়াত এ যেতে হবে... তোর বাবার অফিসের কলিগ এর মেয়ের বিয়ে... বউ মা কেও সাথে নিয়ে যাচ্ছি কিন্তু.... তুই বাসায় এসে খেয়ে শুয়ে পড়িস....



- ঠিক আছে



ফোন টা কেটে দিলাম.... আমি বন্ধুদের পার্টিতে আবার যোগ দিলাম... এদিকে বাসায় মা সবাইকে জানিয়ে দিলো যে আমি আজকে


খাওয়া দাওয়া বেশ জম জমাট ছিলো.... পার্টি তে থাকতে থাকতে কখন যে রাত গভীর হয়ে গেলো বুঝতেই পারলাম না... সবাই বললো এবার বাসায় ফেরা যাক রাত অনেক হয়েছে... সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় এসে পড়লাম....




গেট আগে থেকেই খোলা ছিলো... আমি একটু ধাক্কা দিতেই গেট খুলে গেলো... আমি ভিতরে গিয়ে আমার রুমের ভিতর ঢুকে পড়লাম.... কাপড় গুলো খুলে শুয়ে পড়ব....



হঠাৎ মনে হচ্ছে পিছে কেউ দাঁড়িয়ে আছে... বাড়িতে তো এখন কারো থাকার কথা না... আর ভূত টুথ ও তো হবে না...জলদি করে পিছনে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি রুমি দাঁড়িয়ে আছে..... আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম কিছুক্ষণের জন্য.... সবাই তো বিয়েতে গেছে তাহলে রুমি একাই এই বাড়িতে কি করছে... ব্যপার টা কিছুটা হজম হলো না... আমি এর মূল রহস্য জানার জন্য বললাম





- কি ব্যাপার রুমি.? তুমি সবার সাথে বিয়েতে যাওনি?




- না... খালা মণি আমাকে যেতে বলেছিলো কিন্তু আমি তাদেরকে মিথ্যে বলি যে আমার শরীর খারাপ....



- তাদের কে মিথ্যে বলার দরকার কি ছিলো এমনিতে বললেই তো কেউ আর জোর করত না....




- সত্যি বললে যে আর তোমাকে পাওয়া হতো না আমার জান.... সেই কতদিন ধরে এই রাত টার অপেক্ষা করছি...




- রুমি আবার কি পাগলামি শুরু করলি?




রুমি আমার কথা কানে না নিয়ে নিজের গায়ের কাপড় সব খুলে ফেলছে.... আমি ওকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছি কিন্তু শুনছে না... আমি উল্টো দিকে মুখ ফিরিয়ে ওকে অনবরত না করেই যাচ্ছি....
হঠাৎ ও আমার উপর হুমরী খেয়ে পড়ে... জবরদস্তি শুরু করে... সিনেমায় যেমনটা হয় আর কি.... আমার কোনো বাধা যেনো সে মানছে না... নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে কেউ যখন নিজের শরীর টা চায় তখন বুঝি এমনি লাগে... যেটা হতে চলেছে এটাকেই বুঝি ধর্ষন বলে..... না জানি একটা মেয়ে এর চেয়ে আরো কত বেশি কষ্ট সহ্য করে....




হঠাৎ দরজায় কলিং বেল এর আওয়াজ পড়লো... রুমি যেনো আচমকা চমকে উঠলো... আমি যেনো এবার কিছুটা ভরসা পেলাম... মা বাবা আর জারা হয়তো এসে গেছে.... এদেরকে আজ সব খুলে বলবো... আমি দরজা খুলতে বাহিরে যাবো.... তার আগেই রুমি আমার আগে দরজা খুলে দিয়ে ওর মাকে জড়িয়ে ধরে ন্যাকা কান্না শুরু করে দেয়... আর বলে



- মা তোমরা বাসায় ছিলে না এই সুযোগে বিপ্লব আমার সাথে 😭😭😭





এমনিতেই তখন রুমি উপরিপৃষ্ঠে কাপড় ছিলো না বলা যায়... তার উপর আমিও বাড়িতে একাই ছিলাম... বাঁছ সবার যা বুঝার বুঝে নিলো.... আমি বাবা কে গিয়ে বলবো যে "না বাবা এটা মিথ্যে কথা " তার আগেই বাবা রুমে ঢুকে আমার কলার টেনে হিসরে দরজার সামনে আনল...
দরজার সামনে এনে আমার গালে দিলো একটা থাপ্পড়....



থাপ্পড় এর আঘাতে আমি বাহিরে গিয়ে পড়লাম.... আমার চোখ বেয়ে অনবরত টপ টপ করে অশ্রু ঝড়ছে... আমি জারা দিকে তাকালাম.. ও নিজেও কান্না করছে.... ওর চোখে মুখে ঘৃণার ছাপ স্পষ্ট.... আমি ওর সামনে গিয়ে বললাম




- জারা অন্তত তুমি তো আমাকে একটু বিশ্বাস করো... আমাকে একবার কথা বলার সুযোগ দেও.... আমার কোনো দোষ নেই.. 😭



বাবা আমাকে বললো


- আজকে খুব কষ্ট হচ্ছে এটা জেনে যে তুই আমার সন্তান..... তোকে জন্ম দিয়ে আমি সবচেয়ে বড় ভুল করেছি...এখান থেকে চলে যা আমি কিছুই বলব না. কিন্তু যদি আর কোনোদিন এই বাড়ির ত্রিশ সীমানায় আশিস তাহলে তোকে আমি খুন করব....




বাবার রাগ করাটা খুব স্বাভাবিক... কোনো পিতাই তার সন্তানের এমন অধঃপতন দেখতে পারবে না.. কিন্তু অন্তত আমাকে কথাটা বলার তো সুযোগ দিবে.... আঘাত তখনই পেলাম যখন জারা বললো




- বাবা ওকে চলে যেতে বলুন... আমি কোনো চরিত্রহীন এর সাথে কথা বলতে চাই না.



বলেই কাঁদতে কাঁদতে জারা হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়লো... আমি দৌড়ে ওকে তুলতে যাবো... তার আগেই বাবা আমাকে কঠিন সুরে বললেন




- খবরদার তোর মতো কুলাঙ্গার যেনো আমার ফুলের মতো বউ মা কে না ধরে...



আমি চাইতেও যেনো আমার জারা কে স্পর্শ করতে পারলাম না... ভাবতেও পারছি না আজকে আমার বাবা আমার সাথে এমন করলো.... রুমির কথা মনে পড়তেই আমার অশ্রু ঝড়া দু চোখ যেনো রক্ত লালে পরিনত হলো...




আমি চলে আসলাম বাহিরে..... এই রাতে কোথায় থাকবো চিন্তায় পড়ে গেলাম.. কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে নুরু কে ফোন দিলাম.... সে বললো ওর বাসায় যেতে....
রাত টা ওর বাসায় কাটালাম.... অনেক চেষ্টা করেছি ঘুমানোর কিন্তু কিছুতেই ঘুমাতে পারছি না.... দুচোখ যেনো এক হচ্ছে না... শুধু পানি পড়ছে.... সবার কথাও খুব মনে পড়ছে.....নুরুর কাছ থেকে কয়েকটা ঘুমের ট্যাবলেট নিয়ে খেতেই যেনো ঘুম আমার দুনয়নে ভর করলো....


এদিকে মা বাবা সবাই চিন্তিত... জারাও ভাবতে পারছে না আমি তাকে এভাবে ধোকা দিবো.. হঠাৎ মা বললো বাবাকে





- ওগো আমার মনে হচ্ছে আমার ছেলে নির্দোষ... ও এই কাজ করতে পারে না... প্লিজ তুমি ওর সাথে একটু কথা বলে দেখো... তুমি তো ওকে কিছু বলার সুযোগ ই দিলে না....



- চুপ করো.... ওর দোষ না থাকলে কি রুমি এসব এর নাটক করছে? কোনো মেয়ে নিজের ইজ্জত নিয়ে নিজেই কেনো ছিনিমিনি করবে...




- তাও তো ঠিক... কিন্তু আমার কেনো মন বলছে আমার ছেলে এসব করবে না... আচ্ছা তুমি এখানে বসো আমি বউ মা কে দেখে আসি... এমনিতেও কাল রাত থেকেই কিছুই খায়নি..




বউমার রুমে গেলাম কিন্তু পেলাম না.. ভাবলাম মন খারাপ তাই হয়তো বাড়ির পিছন টায় দাঁড়িয়ে আছে... বাড়ির পিছনে গেলাম কিন্তু বউ মা কে পেলাম না... কিন্তু কিছু আওয়াজ পাচ্ছি.. খুব আস্তে আওয়াজ গুলো তবুও যেনো কিছুটা হলেও শুনতে পাচ্ছি.. আওয়াজ টার কিছুটা কাছে যেতেই দেখলাম সামনে আমার বোন আর ভাগ্নি রুমি.. আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো ওদের কথা গুলো শুনে.... আমার বোন বলছে



- তুই একদম ঠিক মতো কাজ টা করেছিস মা.... কারো কোনো সন্দেহ হয় নি যে এসব আমাদের প্ল্যান ছিলো... কিন্তু আমি ভেবেছিলাম বিপ্লব দুলাভাই বিপ্লব এর এই পরিস্থিতির দেখে তোর সাথে ওর বিয়ে দিয়ে দিবে আর আমিও আমার সেই সারাজীবন এর পরিকল্পনা মতো ওদের সকল সম্পত্তি পেয়ে যাবো.... কিন্তু এরা তো সবাই মিলে বিপ্লব কে বাড়ি থেকে বের করে দিলো...




- তা এখন কি করব মা?


- আমি এখন গিয়ে দুলাভাই কে বলবো যে তোর সাথে এই ঘটনার পর কোন ছেলে আর তোকে বিয়ে করতে চাইবে না... যদি বিপ্লব ওকে বিয়ে না করে তাহলে তুই সুইসাইড করবি.... আর এতেই আমরা আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে...




আমার বোনের এসব কথা যেনো আমি বিশ্বাস ই করতে পারছিলাম না.... তার মানে আমার ছেলে একদম নির্দোষ... আমরা শুধু শুধু তাকে ভুল বুঝেছি.... ওদের কথা শুনে আমি ওদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম.... এতে যেনো আমার বোন কিছুটা চমকে উঠছে... আর আমাকে বলে



- আ আ আপু তুই এখানে?



- হ্যাঁ রে ডাইনি... তবে তুই যে পরিকল্পনা করেছিস তা কোনোদিন পূরণ হবে না...




এই বউমা, বিপ্লব এর বাবা কোথায় তোমরা এদিকে আসো... আমার কথা শুনে দুইজনই এসে হাজির.. আমায় জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে... আমি ওদের কে সব কিছু খুলে বললাম... বউ মা এবার যেনো আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যুতপাত এর মতো ফেটে উঠলো....



আর রীতি মতো আমাকে অবাক করে দিয়ে রুমির চুলে টেনে ধরে ওকে অনবরত থাপ্পড় দিতে লাগলো.. আর আমি যেনো বউ মার এমন রূপ দেখে নিজেই ভয় পেয়ে গেছি... আসলে যেকোনো মেয়ে হলেই এটা করত... কোনো মেয়েই তো আর চাইবে না তার স্বামী অন্য কারো হোক.... রুমি মার খাচ্ছে এটা দেখে আমার বোন আমাকে বলে



- আপু আমার মেয়েকে বাচা... ওই ডাইনি মেয়েটা আমার মেয়েকে মেরে ফেলবে...



- আমার বউ মা ডাইনি নারে... ডাইনি হচ্ছিস তুই আর তোর মেয়ে...



এই বলে আমিও আমার ছোটো বোনকে কয়েকটা থাপ্পড় মারলাম... ওদের বাড়ি থেকে বের করে দিলাম.... বউ মা এবার আমাকে এসে বললো




- মা ওনাকে একটু ফোন দিন না.. আমার খুব কষ্ট হচ্ছে ওনাকে না দেখে থাকতে...



- হ্যাঁ মা এখনই দিচ্ছি....



বলেই আমার ছেলে কে ফোন দিয়ে ডাকলাম...



এদিকে আমি প্রায় আধমরা হয়ে ছিলাম ঘুমে তখনই আমার ফোন টা বেজে উঠলো... দেখি মা ফোন করেছে... জলদি করে ফোনটা ধরে বললাম



- মা বিশ্বাস করো আমি এসব কিছুই করি নি.. এসব কিছু ওই রুমির কারসাজি..



- হ্যাঁ বাবা আমি আমি সব জানতে পেরেছি তুই চলে আয় এখনই ...



আমি তাড়াতাড়ি করে বাসায় চলে আসলাম... দেখি বাবা সামনে আমি বাবাকে কিছু বলার আগেই বাবা বলা শুরু করলো




- বাবা তুই আমাকে ক্ষমা করে দে... আমি অনেক বড় ভুল করেছি... আমার উচিত ছিলো এই বিষয়ে তোর সাথে কথা বলার...



- ঠিক আছে বাবা... জারা কোথায়



- বউ মা ভিতরে... তোর জন্য অপেক্ষা করছে..

[ আগের পর্ব গুলো এই গ্রুপে আছে, যারা পড়েন নাই রিকোয়েস্ট দিয়ে ইনবক্স করুন, লিঙ্ক দিয়ে দেব]



আমি ভিতরে গিয়ে দেখি দেখি জারা দাঁড়িয়ে আছে... আমি পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলাম... কিন্তু ও কোনো রিয়েক্ট করছে না... ওকে ঘুরিয়ে আমার দিকে করলাম দেখি কান্না করছে... আমি বললাম



- কি হলো আবার কেনো কাঁদছো



- আমাকে তুমি ক্ষমা করে দেও..আমি তোমাকে ভুল বুঝেছি..



- এসব বাদ দেও... চলো না এখন একটু রোমাঞ্চ করি... আমার না ভীষণ জোর পাচ্ছে....



- যাহ দুষ্টু... আমার বুঝি লজ্জা করে না


বলেই জড়িয়ে ধরলাম..



সমাপ্ত_______🖤🥀🖤

Share:

Prostitute_girlfriend (পতিতা প্রেমিকা)

 

# Prostitute_girlfriend (পতিতা প্রেমিকা)
,
# লেখক_স্বপ্নীল !

# পর্ব_1
/
,-বুকের উপর থেকে কাপড় সরাতেই মেয়েটার চোখ দিয়ে টপাটপ পানি ঝরে পরতে থাকে!!
কিন্তু কেঁদে কী হবে? তাঁকে তো কিনে নেওয়া হয়েছে এক রাতের জন্য! কাদলে হবেনা তার তাঁকে সব মেনে নিতেই হবে!! সব সহ্য করতেই হবে তাঁকে!
,,,
,-হুম আমি স্বপ! বড়লোক বাবা মা এর একমাত্র বিগড়ে যাওয়া সন্তান!!
আমি নিজেই বুঝি আমি যা করি ঠিক করিনা কিন্তু এসব নিতী কথা আমার সহ্য হয়না নিজে বুঝলেও আমার এসব কথা মানতে ইচ্ছা করেনা!!
,-আর আজকে যে মেয়ে কে আমি ভাড়া করেছি সে দেখতে এক কথায় অসাধারণ!
মেয়েটার চোখ এর মণি বাদামি !! ভ্রুগুলো সুন্দর টানা টানা!!
ঠোটগুলো লাল টূকটুকে,,,,
গা এর রং ধবধবে ফর্সা একদম দুধের মতো!!
,-আমি রুমে বসে আছি!! রুমের এক কোণে আপনমনে সিগারেট টানছি!!
এই রুমটা আজকের ভাড়া নিয়েছি সারারাত এর জন্য!
আর এই মেয়ে কে একরাতে 15 হাজার টাকায় ঠিক করেছি!!
,-মেয়েটার ঠোঁটে আঙুল এর স্পর্শ করতেই পাশে কী যেন বেজে উঠলো!!
চমকে গেলাম কী হলো?
পাশে তাকিয়ে দেখি মেয়েটার ফোন বাজছে!!
,-আমি রেগেই বললাম কী রে? আজকের রাতে আরো কতোজনকে ঠিক করে রাখছিস? যা আমি তোর সাথে থাকবোইনা!!
,-মেয়েটি: প্লিজ আপনি এমন করবেন না,,,, আপনি আমাকে ছেড়ে দিলে আমি কোথায় যাবো এতো রাতে?
নতুন কাস্টমার তো পাবোনা এতো রাতে আর আমার টাকার খুব দরকার!
,-আমি : তোর কী মনে হয় আমি এসব মানবো? আজকের রাত তোকে আমার সাথেই থাকতে হবে মানতে পারলে আমার সাথে থাক না হলে এখুনি বেরিয়ে যা!!
,-মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে বলছে: আমি কাউকে ঠিক করিনি আমার মা ফোন করেছে,,,
আপনি যদি অনুমতি দেন আমি একটু কথা বলতাম তা হলে যদি না দেন তাহলে থাক লাগবেনা!!
,-আমি অবাক হয়ে গেলাম,,,,এর মা মানে? তোর মা আছে?
তুই তাহলে এই রাস্তায় কেন?
,-মেয়েটি:পরে বলি? একটু কথা বলি প্লিজ?
বলবো,,,?
,-আমি :হুমম বলে নে !!
,-মেয়েটি:হ্যালো মা!!
,-মা তুই কোথায়? এতো রাত হলো বাড়ি ফিরবি কখন,,,?
আমি তোর জন্য অপেক্ষা করছি তো!!
,-মেয়েটি :মা আমি আজ রাতে বাড়ি ফিরতে পারবোনা,,,
আজকে পার্ট টাঈম কাজ করছি কাজের অনেক চাপ তোমরা খেয়ে ঘুমিয়ে পরো!! আর সোনিয়াকে বলো খেয়ে ঘুমিয়ে পরতে!!
,-সোনিয়া কী তোকে ছাড়া কখনও খাবার খায়,,,!
ও তো তোকে না পেলে ঘুমায়না আমি কী করবো মা?
,-মেয়েটি: মা ওকে বুঝিয়ে ঘুম পাড়িয়া দাও আর তুমিও ঘুমিয়ে পরো,,,
আচ্ছা মা রাখছি আমি পরে কথা বলবোনি!!
টুট টুট টুট!!!,,,,
,-আমি সত্য অবাক,, এরকম মেয়ের ও পরিবারের সাথে সম্পর্ক থাকতে পারে? আবার সেই মা রাতে মেয়ের খবর নিচ্ছে সেই মেয়ে কোথায় আছে? এখনো বাসায় ফিরছেনা কেন?
,-আমি বিস্ময় নিয়ে মেয়েটিকে জিঙ্গাসা করলাম তুমি এইপথে কেন এসেছো?
,-মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে বলল: আমি আগে এমন ছিলাম না টাকার প্রোয়োজনে বাধ্য হয়ে এই রাস্তায় নেমে এসেছি!!
আমি আগে টিউশনি করে যে টাকা পেতাম তা দিয়ে কোনোমতে আমাদের সংসারটা ভালোই চলে যেত!!
কিন্তু ইদানীং এসে মা খুব অসুস্থ থাকতো তাই আমি একদিন মা কে নিয়ে ডক্টর এর কাছে যাই!!
সেখানে গিয়ে জানতে পারি আমার মা এর দুটো কিডনি ড্যামেজ হয়ে গেছে!!
ইমার্জেন্সি একটা কিডনী রিপ্লেস না করতে পারলে মা বাচবেনা আর তাই আমার অনেক টাকার দরকার পরে গেল!!
আমি একটা সংস্থা থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ঝৃণ করি কিন্তু আমাদের এমন সামর্থ্য ছিলোনা যে আমি সেই টাকা সুদে আসলে পরিশোধ করতে পারবো!!
দিন যেতে থাকে আমাদের ঝৃণের বোঝা বাড়তে থাকে!!
একদিন ওনারা পুলিশ নিয়ে আসেন আর বলেন,, ওনাদের টাকা পরিশোধ না করলে ওনারা আমাদেরই বাড়ি ঘর সব নিজেদের দখলে নিয়ে নেবেন,,,
আমাকে প্রতিসপ্তাহে দশ হাজার টাকা করে জমা দিতে হবে তাঁদের তাই আমি বাধ্য হয়ে এই পথে এসেছি আমার কাছে কোনো উপায় ছিলোনা,,,,
আপনিই প্রথম যার কাছে আমি আমার সর্বম্ম আজ বিলিয়ে দেবো,,,
মেয়েটি কথা বলছে আর নিজের শাড়ির ভাঁজ খুলছে সাথে অজস্র অদেখা বেদনার কান্না যা সে কাউকে বলতে পারছেনা!!
,-স্বপ্ন রাগান্বিত হয়ে বলল আমি তোমার সাথে রাত কাটাবোনা তাই বলেই বাহিরে যেতে লাগলো,,,
মেয়ে টি এসে সোজা স্বপ্নের পা এ ধরলো,,,
কান্না কারতে করতে বলতে লাগলো,,
প্লিজ আমাকে রেখে যাবেন না !! আমি এতো রাতে নতুন কাকে পাবো,,?
আমিতো কাউকেই পাবোনা আর আমি এখনো ভার্জিন!!
আপনি আমাকে যা চান করতে পারেন আমি আপনাকে বাধা দেবোনা,, কিন্তু আমার টাকাটা লাগবে!!
,-স্বপ্ন: তুমি চিন্তা কর না আমি তোমাকে টাকা দিয়ে দেবো,,,
বলে বেলকুনিতে চলে গেল স্বপ্ন!!
স্বপ্ন একটা সিগারেট জ্বালিয়ে ভাবছে,,,
কতোটা না অসহায় হলে এমন হতে পারে একটা মেয়ে যে নিজের সবকিছু একটা ছেলেকে দেওয়ার জন্য পা ধরছে!!
আমিতো আগে এমন ছিলাম না আমি এমন কী করে হলাম,,,??
,-স্বপ্ন সিগারেট শেষ করে রুমে এসে দেখে মেয়েটি এখনো শাড়ি ওমনি অর্ধেক পরে বিছানার উপরে পা তুলে বসে বসে কাঁদছে! হাঁটুতে মুখ গুঁজে রেখেছে যেন সেই কান্নার আওয়াজ কেঊ শূনতে না পারে,,, তার গা এ আজকে রাতে একটা নতুন নাম লেগে গেল একটা কলঙ্কিত নাম তার গা এ লেগে গেল পতিতা!!
তাঁকে সবাই এইনামেই চিনবে আজ হয়তো আমি ওকে কিছূ করবোনা কিন্তু কালকে? ও তো টাকার জন্য আরেকজনের কাছে ঠিকি যাবে!!
,-আমি আমার বোনকে তো হারিয়েছী আমার সামনে আর কারো বোন কে কষ্ট দিচ্ছি আমি!!
বোনের কথাটা মনে আসতেই স্বপ্ন কষ্ট আটকে রাখতে পারলোনা চোখ দিয়ে ঝরঝর করে পানি পরছে তার!! কি করে সহ্য করবে সে এই যন্ত্রণা!
চোখে হাত দিয়ে চোখের পানি মুছছে স্বপ্ন এমন সময় কে যেন গা এ হাত রেখেছে!!
মাথা উঁচু করে তাকিয়ে দেখি মেয়েটি আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে আছে!!
আমি বললাম: শাড়ি ঠিক করে পরে নাও আমি তোমাকে কিছু করবোনা,,, তুমি ফ্রেশ হয়ে এসো আমরা আজ গল্প করবো সারারাত!!
,-আমার কথা শুনে মেয়েটা হতভম্ব হয়ে গেল আমি জানি সে এমন কোনো কথার সামনে পরতে পারে সেটি সে কল্পনা করেনি কখনও কিন্তু এমনি হলো,,,,
মেয়েটির মুখের কোণে এক চিলতি হাসি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম,,,,
,-মেয়েটি ফ্রেশ হয়ে এসেছে,,, শাড়ি পরেছে তাকে এতো সুন্দর লাগছে এতো সুন্দর লাগছে বুঝাইতে পারবোনা,,,
এমনিতেই তার চোখ গুলো দেখলে সব ছেলেই হাজার বার মরতে রাজি হয়ে যাবে তার জন্য!!
(ইসসহ যদি কোনো এমন মেয়ে আমি পেতাম)
,-মেয়েটি: আপনাকে একটা কথা বলতে পারি?
(আমার ভাবনার ছেদ ঘটিয়ে কথাটি বলল মেয়ে টা)
,-আমি: হুমম বলো কী বলবে?
,-মেয়েটি:আপনার মতো ধনী ছেলের কীসের কষ্ট?
আপনি কাদছিলেন কেন তখন?
,-স্বপ্ন :টাকা দিয়ে কী সুখ কেনা যায়? আমার টাকা আছে কিন্তু ভালোবাসার কেঊ নেই!!
,-মেয়েটী: মানে আপনার বাবা মা তারা কোথায়?
,-স্বপ্ন: আছে কিন্তু আলাদা,,, আমি যখন বুঝতে শিখলাম আমার বাবা মা বলল তারা আলাদা থাকতে চান,,, তাদের নাকি একসাথে থাকা সম্ভব না!
যদিও তারা ভালোবেসে বিয়ে করেছিল একে অপরকে,,,
পরিবারের সম্মতি ছাড়া আর তারাও সবার সাথে সব শেষ করে এসেই এই বিয়ে করেছে আমাদের কোনো আত্মীয় স্বজন ছিলোনা,,, আমার একটা ছোট্ট বোন ছিল মাহিয়া!!
তাঁকেও হারিয়ে ফেলেছি আমি!!
,-মেয়েটি:কীভাবে হারালেন আপনি আপনার বোনকে?
,-আমি: হুহ!! এক লোক একদিন আমার বোনকে বাবা মা এর কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে নিয়ে যায় আর পতিতাদের মাঝে বীক্রি করে দেয়!!
তারপরে তাঁকে আর আমি কোথাও খুঁজে পাইনি হয়তো সে আর বেঁচে নেই!!
কথা বলতেই চোখ থেকে অঝোরে পানি পরছে আমার!!
বূঝতেই পারিনি আর মেয়ে টা তাক লাগিয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে!!
তাই আমি এমন হয়ে যায় আর আমার মন এ এখন পতিতারাই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ অপরাধী তার জন্য আমি মেয়েদের কিনে নিয়ে এসে শাস্তি দেবো ঠিক করি!! তাদের সাথে আমি রাত কাটাতে এখানে নিয়ে আসিনা!!
,-মেয়েটি: মানে কী বলছেন আপনি,,, আপনি কী করেন তাদের সাথে,,,?
,
,
,
,
,
,
,
চলবে?
প্রথম পর্ব দিলাম জানিনা কেমন হলো!! কিছু ভুল বললে সরি!

Share:

কিছু কিছু ছেলে আছে যারা মেয়েদের ভালোবাসে

 

কিছু কিছু ছেলে আছে যারা মেয়েদের ভালোবাসে
তাদের দেহটার জন্যে। দেহটা পাওয়া হয়ে গেলে
আস্তে করে সেই মেয়ের কাছ থেকে সরে যায়...
আবার কিছু মেয়ে আছে যারা ছেলেদের ভারী
মানিব্যাগটাকে ভালোবাসে, যখন ভারী মানিব্যাগটা
হালকা হয়ে যায় তখন মেয়ের ভালোবাসাটাও
ফুরিয়ে যায়, ভালোবাসা ফুরিয়ে যায় বললে ভুল
হবে, তখন তাদের অভিনীত ভালোবাসা নামক
নাটকের সমাপ্তি ঘটে...
.
এই ধরনের ছেলে,মেয়ে কিন্তু সবাই না,
সবার মনোভাব কিন্তু এমন না,
এমন অনেক ছেলে আছে যারা ভালোবাসার
মানুষটার হাত ধরতে গেলেও হাত কাঁপাকাপি
শুরু হয়ে যায়, তারা সব সময় চায় ভালোবাসার
মানুষটা থেকে ভালোবাসা পেতে,
দেহটা তাদের কাছে কিছুই না...
আবার এমন অনেক মেয়ে আছে যারা
ভালোবাসা মানুষটার মানিব্যাগ
আছে কি নেই সেইটা নিয়ে মাথাই ঘামায় না,
বরং ছেলেটাকে প্রায়ই একই টি- শার্ট
পরে আসতে দেখে একদিন নিজেই
একটা টি-শার্ট কিনে এনে বলে দেখিতো
আমার বাবুটাকে কেমন মানায়
তাদের কাছে মানিব্যাগ হালকা না
ভারী সেটা মূখ্য নয়, তারা সব সময় চায়
ভালোবাসাটা যেন সব সময় ভারী থাকে,
এই ভালোবাসার হালকা হয়ে যাওয়া
তাদের কাছে নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার মতো..
.
তাই ভাইয়া ও আপুদের প্রতি অনুরোধ,
আর কখনো বলবেন না "সব ছেলেরা
এমন অথবা সব মেয়েরাই এক রকম"
সবাই এক রকম না,সবাই যে যার মতন

Share:

ছোট কবিতা

মশা মাছির মতো ভন ভন না করে জোনাকির

মতো জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া অতি উত্যাম।-

                               _____

                       মাহাতাব উদ্দিন

Share:

বোরকওয়ালি পতিতা

বোরকওয়ালি পতিতা

মেয়েটা চোখ বন্ধ করে শুয়ে

আছে । তার গোলাপি ঠোট

জোড়া কাপছে ।

আমি আর নিজেকে সামলাতে

পারলাম না ।

আমার ঠোট জোড়া

মেয়েটার ঠোট জোড়ার

সাথে চুবিয়ে চুসতে

লাগলাম ।

এবার গল্পে আসা যাক,,,,,,,,,

আজ অনেক রাত হয়ে গেছে

আজকে মনে হয় বাসায়

পৌছাতে পৌছাতে ভোর

হয়ে যাবে ।

আশে পাশে কোনো গাড়ি ও

দেখতে পারছি না ।

ধুর কেনো যে বন্ধুদের সাথে

আড্ডা মারতে গেলাম ..!!

এখন নিজের ই পস্তাতে হচ্ছে

আর হারামি বন্ধুগুলাও

ছারতে চায়না ।

এসব ভাবছি আর হাটতে

হাটতে একটা বাসষ্টান্ডের

সামনে এসে পড়ছি ।

দেখি এখানে কিছুক্ষন

দারাই ।

কোনো গাড়ি পাওয়া যায়

কি না ।

ওও

আপনাদের ত পরিচয়টাই

দিলাম না । আমার নাম

আলোক । বখাটে ছেলে ।

বাবার টাকা উরাই আর

বন্ধুদের সাথে আড্ডা মেরে

খাই ।

উচ্চমাধ্যমিক পাস করছি ।

যাক আর কিছু বলার প্রয়োজন

মনে করি না । গল্পে আসা

যাক ।

||

||

||

বাসষ্টান্ড দাড়িয়ে

অপেক্ষা করছি বাসের জন্য ।

এমন সময় চোখ পরলো একটা

মেয়ের উপর । একটু অবাক হলাম

। কারন এত রাতে একটা

মেয়ে তাও আবার একা

দারিয়ে আছে । অবাক করা

বিষয় হলো মেয়েটা

বোরকা পরে সুন্দর ভাবে

নাকাব করেছে । দেখে মনে

হয় কোনো ভদ্র ঘরের মেয়ে

কিন্ত এত রাতে কোন ভদ্র

ঘরের মেয়ে টা বাইরে

থাকবে ।

ধুর. দাড়িয়ে থাক তাতে

আমার কি । আমি পকেট থেকে

মোবাইল টা বের করে

টিপাছিলাম । আর

মেয়েটার দিকে আড় চোখে

তাকাচ্ছিলাম ।

অনেকক্ষন হয়ে গেলো

মেয়েটা দারিয়ে আছে ।

এখন প্রায় রাত দুইটা বাজে ।

এত ক্ষন. কার জন্য. দারিয়ে

আছে মেয়েটা ।

এই বিষয় টা আমাকে

ভাবাচ্ছে ।

না আর ভেবে কাজ নেই.

গিয়ে জিজ্ঞেস করি কি

হয়েছে ।

হয়তো বা কোনো বিপদ এ

পরছে ।

ধীর গতিতে পা বাড়িয়ে

মেয়েটার কাছে গিয়ে

দারালাম । অবাক হয়ে

গেলাম ।

কারন মেয়েটা আমাকে

দেখে একটু ও চমকালো না ।

উল্টো আমি তার চোখের

দিকে তাকিয়ে এক অজানা

রাজ্যে হারিয়ে গেছি ।

কি মায়া ভরা সেই

মায়াবি চোখ । আমি ত তার

চোখ দেখেই প্রেমে পড়ে

গেছি ।

হঠাৎ. মেয়েটার কন্টে গোড়

ভাঙলো ।

মেয়েটা : ও হেলো এইভাবে

তাকিয়ে আছেন কেনো..??

আমি: না মানে...... আপনি কি

কোনো প্রবলেম. এ ফেসে

গেছেন । যদি আমাকে বলেন

সাহায্য করতে পারি ।

মেয়েটা : না কোনো

প্রবলেম নেই ।

আমি : তাহলে এত রাতে

এখানে দাড়িয়ে আছেন

কেনো..??

মেয়েটা : কাস্টমার খুজছি..!

আমি : কি... ??

( আমি ত থ মেরে গেলাম

কিছুই বুজলাম না কি বলছে

মেয়েটা)

মেয়েটা : শুনতে পান না

কাষ্টমার খুজছি..??

মেয়েটার কথা শুনে আমি

আমার কান কে বিস্বাস করতে

পারছি না । কিছুক্ষনের জন্য

একেবারে নিস্তব্দ হয়ে

গেলাম ।

কি বলছে মেয়েটা ...??

তাহলে কি মেয়েটা.... ।

না না ছি ছি এ কি করে হয়

এমন বোরকাওয়ালি মেয়ে

কোনোদিন এসব করতে

পারেনা । মনে হয় ভুল শুনছি ।

তাই মেয়েটা জিজ্ঞেস

করলাম ...

আমি : কি বলছেন এসব বুজতাসী

না ..

মেয়েটা : আরে বললাম না

কাষ্টমার খুজতাসি.. ।

( রেগে)

আমি : এত রাতে কিসের

কাষ্টমার ..!! তারমানে কি

আমি যা ভাবছি আপনার

সম্পকে আপনি.....

(কিছু বলার আগেই মেয়েটা

বলল)

মেয়েটা : জ্বি তাই । করবেন

নাকি । আপনি ।

মেয়েটার কথা শুনে মনের

মধ্য কেমন যেনো একটা

অনুভুতি কাজ করছে মেয়েটা

দেখার জন্য । এত সুন্দর নাকাব

করা মেয়ে কি করে এসব কাজ..

না না আর ভাবতে পারছি

না মাথা টা কেমন জানি

গুলিয়ে যাচ্ছে মেয়েটার

কথা শুনে আবার বাস্তবে

ফিরে এলাম ।

মেয়েটা : কি হলো করবেন. ।

যদি করেন তাহলে বলেন. না

হলে বিদায় হন । আমাকে

কাষ্টমার খুজতে হবে ।

আমি: __________ (কোনো কথাই

মুখ থেকে বের হচ্ছে না কি

বলবো বুজতে পারছি না চুপ

করে আসি)

মেয়েটা দেখি অন্যদিকে

ফিরে হাটা শুরু করলো ।

আমি পিছন থেকে

ডাকদিলাম ।

আমি : এইযে আপু দারান...!!

মেয়েটা : যা বলার

তারাতারি বলেন আমার

কাছে এত সময় নাই (উতেজিত

হয়ে)

আমি : আপনি কি সত্যি এসব

করেন ।

মেয়েটা : হে করি ..!! আপনি

করবেন কিনা বলেন না হলে

আমি যাই ।

আমি: এর আগে কারো সাথে

করছেন..??

মেয়েটা : না আ্জকেই প্রথম ।

আমি : কেনো..??

( অবাকহয়ে যাচ্ছি এর আগে

কারো সাথেই করে নাই

তাহলে শুধু শুধু কেন নিজের

মুল্যবান জিনিস টা বিকরি

করছে)

মেয়েটা : এত কইফিয়ত আমি

আপনাকে দিতে পারবো না

। যদি করেন তাহলে বলেন

না হলে গেলাম ।

আমি কি বলবো বুজতে পারছি

না । দেখতে এত সুন্দর লাগছে

মেয়েটা কে বোরকা পড়ে

যে তার প্রেমে পড়ে গেলাম

। কিন্ত মেয়েটার চরিত্ত ত

মাসআল্লাহ...

আমার ও মেয়েটাকে দেখে

কেমন জানি লাগছে

নিজেকে সামলাতে

পারছিনা । তার আর কিছু না

ভেবে মেয়েটাকে জিজ্ঞেস

করলাম

আমি : কত নিবেন .. এক রাতের

মেয়েটা : দশহাজার..!!

আমি : ওকে ডান আমি রাজি ।

মেয়েটা : আগে পেমেন্ড

করেন...!!

আমি কিছুটা অবাক হয়ে

গেলাম একে বারে পাক্কা

পতিতাদের মতো কথা

বলতাছে ।

যাক আর কিছু না ভেবে পকেট

থেকে মানিব্যাগ টা বের

করে চকচকে দশটা এক হাজার

টাকার নোট দিলাম ।

যেহেতু আমি বড়লোক বাবার

একমাতরো সন্তান তাই

টাকার. কোনো অভাব নাই ।

মেয়েটা কে নিয়ে হাটা

শুরু করলাম ।.

এক সাথে হাটছি নিরব

রাস্তা টা যেনো আমার আর

মেয়েটার দিকে তাকিয়ে

হাসছে । আমার মনের মধ্যে

মেয়েটাকে দেখার জন্য

অস্তিরতা কাজ করছে না

জানি কেমন দেখতে । যেমন

ই দেখতে হোক চোখ গুলো

আমার ক্রাস. । কিন্ত মেয়েটা

কে তো আর পাবো না

আজকের পর তাই আজকেই ভোগ

করে সাধ মিটিয়ে নেই ।

আর ওইদিকে মেয়েটা মনে

মনে হয়তো অনেক কিছু

ভাবছে । কি ভাবছে তা

আমার অ্জানা । কিন্ত

মেয়েটা অনেক ভয় পেয়ে

আছে । সত্যি কি মেয়েটা আজ

প্রথম এমন কাজ করতে যাচ্ছে ।

মনের মধ্যে হাজারো

প্রশ্নের পাহাড় তৈরি হতে

থাকে ।

তখন ই মেয়েটা আমাকে বলল

ওইদিকে যেতে ।

আমি কিছুটা অবাক হয়ে

বললাম কোন দিকে..??

তারপর মেয়েটা বলল

তার সাথে যেতে ।

আমি মেয়েটার পিছন পিছন

হাটা শুরু করলাম । কিছুদুর

হাটতেই নিজেকে একটা

ঘরে আবিষ্কার করলাম ।

বুজতে বাকি রইলো না যে

এই বাসাটাতে মেয়েটা

থাকে ।

অন্ধকার দেখা যাচ্ছে কারন

ঘরের লাইট টা ওফ ছিলো ।

পরে মেয়েটা গিয়ে লাইট

ওন. করলো ।

তাকিয়ে দেখলাম কত সুন্দর

করে সাজানো পরিপাটি

একটা রুম । মনে হয় মেয়েটা

একাই থাকে ।

মেয়েটা দরজা লাগিয়ে

বলল...

মেয়েটা : শুরু করতে

পারেন..?? (ভয়েভয়ে)

আমার ও আর তর সইছে না

মেয়েটা কে দেখার জন্য

তাই বললাম

আমি : আপনার চেহারাটা

দেখান..!! মুখের কাপর টা

সরান একটু

(গলা দিয়ে যেনো কথা

বের হচ্ছিলো না)

মেয়েটা নিজের মুখের

কাপর সরাতেই

আমি যেনো এক অন্য জগতে

হারিয়ে গেলাম ।

একি মানুষ নাকি পরি । এত

সুন্দর ও মানুষ হতে পারে ।

আগে জানা ছিলো না ।

মেয়েটার কাজল কালো

চোখগুলো দেখেই আমি

আগেই তার প্রেমে

পড়েগেসিলাম. আর এখন তার এত

সুন্দর অপরূপ চেহারা । আর

ঠোটের নিচে একটা তিল ।

হালকা মেকাপ আর ঠোটে

হালকা গোলাপি লিপস্টিক

। আমি ত. আর লোভ. সামলাতে

পারছি না ।

তার সোনার বরন শরির আর

চুলের গ্রান এ আমি মাতাল

হয়ে গেলাম ।

ধীরে ধীরে মেয়েটার

দিকে অগ্রসর হলাম ।

মেয়েটা একটু একটু করে পিছু

পা হচ্ছে । মেয়েটা

বিছানায় পড়ে যায় ।

আমি ও তারওপর পাগলা কুত্তার

মত ঝাপিয়ে পড়ি নিজের

যৈবিক চাহিদা

মিটানোর জন্য ।

মেয়েটা চোখ বন্ধ করে শুয়ে

আছে । তার গোলাপি ঠোট

জোড়া কাপছে ।

আমি আর নিজেকে সামলাতে

পারলাম না ।

আমার ঠোট জোড়া

মেয়েটার ঠোট জোড়ার

সাথে চুবিয়ে চুসতে

লাগলাম ।

নিজেকে এক অন্যজগতে

হারিয়ে ফেলছি ।

হঠাৎ একটা বিকট শব্দে আমার

ধ্যান কাটলো....

চলবে.......

আমি এত ভালো করে লিখতে

পারিনি তাই পাঠকদের

কাছে অন্য গল্পের মত ভাল

নাও লাগতে পারে ! এ জন্য

ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি

আর যদি ভালো লাগলে অবশ্যই

অবশ্যই লাইক কমেন্ট করে

জানাবেন আর এড দিয়ে

পাশে থাকবেন আশা করি !

আপনিও গল্প পড়েন আপনার

ফ্রেন্ডদের গ্রুপে এড দিয়ে

তাদেরকেও গল্প পড়ার সুযোগ

করে দিন!

নেক্সট পার্ট পড়ার জন্য রিকুয়েস্ট দিয়া ঝুইলা থাকেন🤣

ইনবক্স করলে আগে আগে পাবেন😊😍

- ধন্যবাদ আমার

গল্প পড়ার জন্য সবাইকে

Share:

দুইমুখী

#দুইমুখী
#লেখক : ঐশী
,
,
আমি প্রেগনেন্ট ,ফাহিম।আমার মাঝেও একজন বেড়ে উঠছে,,,".
.
তিন বছরের সম্পর্ক আমাদের ।কখনো তাকে জড়িয়ে পর্যন্ত ধরিনি আর সে কি না এখন বলছে সে মা হতে চেলেছে ।সে নিশ্চই মজা করছে হয়তো ।তাই বললাম,,
--এ কেমন মজা ,প্রীতি ?সব কিছুর একটা লিমিট থাকে ।আর এসব বিষয়ে ফাজলামো করার তো প্রশ্ন ই উঠে না তাই না ?(ফাহিম)
--এটা একদম সত্য ।বিশ্বাস না হলে এই যে রিপোর্ট গুলো ধরো ।আর এই যে উপরে দেখো আমার নাম টা ই লেখা ।(প্রীতি)
প্রীতির সব কাগজ পত্র দেখে মাথা ঘুরাতে শুরু করলো ।এ কিভাবে সম্ভব ?ওর সাথে তো আমি শারীরিক কোনো সম্পর্ক করিনি ।তার মানে কি সে অন্য কারো সাথে,,।এসব ভাবতে ভাবতেই বললাম,,
--তা আমার সাথে টাইম পাস করে কি মজা পেলে ?(ফাহিম)
প্রীতি একদম নিশ্চুপ ।আমি ভালো মতো খেয়াল করলাম সে কাদঁছে ।জানি এই কথার কোনো উওর আসবে না ।আমি একগাল হাসি দিয়ে বললাম,,,
--কি সমস্যা ?কাদঁছো কেনো ?তোমার বফ তোমাকে রেখে চলে গেছে তাই না ?কোনো চিন্তা করো না ।এই গরীব ছেলেটাই তোমাকে বিয়ে করবে ।আর তুমি তো তাকে বিশ্বাস করেছিলে তাই না ?ঠকেছো তো কি হইছে আমি তো আছি না ?এই একবার বিশ্বাস রাখো আমার উপর তোমার সব ঠিক হয়ে যাবে ।(ফাহিম)
--ফাহিম,তুমি এটা মোটেও আশা করোনি তাই না ।তুমি না বুঝেই এমন করছো ।আগে আমার পুরো কথাটা শুনো ,,,,(প্রীতি)
--আমার অতীত শুনতে ভালো লাগে না ।আমি তোমাকে নিয়েই থাকবো ।চিন্তা করো না ।শুধু তোমার বাবা মা কে একটু ম্যানেজ করো ।আমার পরিবার আমি নিজেই বুঝবো ।(ফাহিম)
--তুমি সব কথা না শুনেই এমন সমস্যায় কেনো জড়াচ্ছো ?(প্রীতি)
--তুমি বাসায় যাও তো এখন সব ঠিক হয়ে যাবে ।(ফাহিম)
এভাবেই দিন যাচ্ছিলো ।আমি প্রীতিকে এতো ই ভালোবাসতাম যে তার সকল কিছু ই মেনে নিয়েছি ।সে তার সেই প্রেমিক এর কথা বলবে ,কিন্তু সেটা শুনতে চাই না ।আমি নতুন করেই সব কিছু সাজাতে চাই ।প্রীতি তার ফ্যামিলিকে বুঝাতে পেরেছিলো ।সে তার পরিবারকে বলেছিলো যে এটাই ফাহিমের বাচ্চা ।দুই পরিবারের কেউ ই মেনে নেয়নি ।সবাই তাদের সম্মানের কথা ভেবে ই বিয়েটা দিয়ে দেয় ।সব কিছু ভালো ই চলছিলো তাদের ।কিন্তু ফাহিম বিয়ের কয়েকদিন পর থেকেই প্রীতির সাথে খুব একটা কথা বলে না ।অফিস যায় আসে ।দরকার ছাড়া কেউ কথা ই বলে না ।এভাবে কি থাকা যায় ?বিয়ের প্রায় দুই মাস পর এক রাতে দুজনেই ঘুমাচ্ছিলো হঠাৎ প্রীতি চোখ মেলে দেখে ফাহিম নেই ।সে ভাবে হয়তো ওয়াশ রুম গেছে কিন্তু অনেকক্ষন হলো ফিরছে না ।সে একটা অজানা চিন্তায় পড়ে যায় ।সে বিছানা থেকে উঠে ধীর পায়ে বারান্দায় যায় ।যেয়ে দেখে ফাহিম কার সাথে যেনো ফোন এ কথা বলছে ।প্রীতি ফাহিম এর একটা কথা শুনে পুরো থমকে গেলো ।সে বলছিলো,,
--মামুনি,তোমার পরিক্ষা ভালো করে দিও ।ভালো রিজাল্ট করলে চকলেট কিনে দিবো,,
প্রীতি এই কথাটা একদম ই মেনে নিতে পারেনি ।তার মানে কি ফাহিম এর আগেও বিয়ে করেছে ?তাহলে কি সে আমাকেও পন্য হিসেবে ব্যাবহার করছে ?প্রীতির মনে হাজার প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে ।কিন্তু কোনো কিছুর সমাধান পাচ্ছে না ।প্রীতি তারাতারি ঘুমিয়ে যায় ।সকালে শুধু তার মাথায় এই একটা কথা ই আসছে ।কি করবে এখন সে ভেবে ই পাচ্ছে না ।সেদিন সকালে প্রীতি ফাহিমকে বললো,,
--তুমি কি আমার কাছে কোনো কিছু লুকাচ্ছো ?
এটেনশ : নেক্সট পেতে রিকু এবং ফলো করে রাখবেন! আইডিতে পেজ শেয়ার করা আছে নেক্সট পেজে দেয়া হবে!!
--কই না তো ।তোমাকে আবার কি লুকাবো ?এত কিছুর পরও তোমাকে ভালোবাসি বলেই তো বিয়ে করেছি তাই না ?
প্রীতি ভাবে আসলেই তো এটা তো ঠিক ।কিন্তু সে এমনও করতে পারে যে ভুগ করার জন্য আমাকে ব্যাবহার করছে ।প্রীতির প্রশ্নের সমাধান খুজেঁ পায় না ।সেদিন সন্ধায় ফাহিম ফোন বাসায় রেখে বাহিরে গেছিলো ।হঠাৎ একটা কল আসে তাতে লিখা তাসফিয়া,,।প্রীত
ি ভেবেছিলো হয়তো সে অফিসের কোনো পরিচিত কেউ ।কিন্তু কল রিসিভ করতেই সে যা শুনলো তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলো না ।তার মানে প্রীতির সব ধারনাই ঠিক ।ফাহিম আগেও বিয়ে করেছে ,তার আরেকটা পরিবার আছে ।সে যা শুনলো তা হলো,,,
--আব্বু,আমি ভালো পরিক্ষা দিয়েছি চকলেট কিনে দিতেই হবে ।কবে আসবে আব্বু?
প্রীতি কোনো কিছুর সমীকরন মেলাতে পারছিলো না ।সে ভাবছিলো ফাহিম এমন বেঈমানিটা কিভাবে করলো ?সে শুধু এটাই ভাবছিলো সমাজে হয়তো বেচেঁ থাকার কোনো রাস্তা নেই ।এসব ভাবতে ভাবতেই সে অনবরত কান্না করছিলো ।তখন ই ফাহিম এসে বলে,,
--তুমি আমার ফোন ধরলে কেনো ?
প্রীতি ভয়ে একদম নিশ্চুপ হয়ে গেলো,,,



গল্প #দুইমুখী
#পর্ব_০২

কল রিসিভ করতেই সে যা শুনলো তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলো না। তার মানে প্রীতির সব ধারনাই ঠিক। ফাহিম আগেও বিয়ে করেছে ,তার আরেকটা পরিবার আছে। সে যা শুনলো তা হলো,,,
--আব্বু,আমি ভালো পরিক্ষা দিয়েছি চকলেট কিনে দিতেই হবে। কবে আসবে আব্বু?
প্রীতি কোনো কিছুর সমীকরন মেলাতে পারছিলো না। সে ভাবছিলো ফাহিম এমন বেঈমানিটা কিভাবে করলো? সে শুধু এটাই ভাবছিলো সমাজে হয়তো বেচেঁ থাকার কোনো রাস্তা নেই। এসব ভাবতে ভাবতেই সে অনবরত কান্না করছিলো। তখন ই ফাহিম এসে বলে,,
--তুমি আমার ফোন ধরলে কেনো ?
প্রীতি ভয়ে একদম নিশ্চুপ হয়ে গেলো....

কি বলবে এখন কিছুই বুঝতে পারছে না। ফাহিম একটানে তার ফোনটা টেনে নিলো। প্রীতি চুপচাপ এক জায়গায় বসে রইলো। ফাহিম কোনো কিছু না বলেই ঘর থেকেই বেরিয়ে গেলো।ফাহিমের কোনো আচরন ই প্রীতির একদম ই ভালো লাগছে না। প্রীতির এখন অনেক খারাপ লাগছে কিন্তু কোনো কিছু ই সে প্রকাশ করছে না।

সে ভাবছে এই ভাবে আর কত? নিজে তো এর আগেই শেষ হয়েছি এখন ই কেনো আবার এমন হবে। সবাই প্রতারক, কেউ ভালো না। ঠিক তখন ই ফাহিম রুমে প্রবেশ করলো। প্রবেশ করেই বলতে শুরু করলো...
--কার সাথে কথা বলেছো জানো?

বিয়েতে একটা সুন্দর মেয়ে এসেছিলো না? দেখেছিলে না?
--হ্যা,সে তোমার মেয়ে হয়।এর থেকে বেশি কিছু জানার ইচ্ছা আমার নেই।

তোর মতো শয়তান কে বিয়ে করে অনেক বড় ভুল করেছি। তুই ও সেই নরপিশাচটার মতো ই। তুই ও খারাপ।আমার অসহায় এর সুযোগ নিয়েছিস।

এই কথা বলেই প্রীতি তার সমস্ত শক্তি দিয়ে ফাহিম কে চর মারলো। চর মেরেই প্রীতি রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।

ফাহিম কোনো কিছু ই বুঝতে পারছে না। ফাহিম শুধু ভাবছে সে কি এমন অপরাধ করলো যে এমন ভাবে তাকে চর মারলো? ফাহিম কোনো কিছু না ভেবেই বারান্দায় চলে গেলো। ফাহিম ভাবছে সেদিনকার কথা যেদিন তাদের প্রথম প্রেম শুরু হয়। এভাবেই দুই বছর প্রেম করে তারা হঠাৎ একদিন প্রীতি তার সাথে দেখা করবে বলেছিলো কিন্তু সেদিন সে আসেনি এরপর থেকেই প্রীতির পরিবর্তন ঘটে। মন খারাপ করেই থাকতো সব সময়। এমন কি তিন মাস তাদের দেখা বা কথা পর্যন্ত হয়নি। ফাহিম এই দিন গুলোতে একদম পাগল হয়েই যাচ্ছিলো। তারপর তারা দেখা করে, সব আগের মতো ই চলছিলো। তবে সে যে এই ক দিনে অন্য একটি রিলেশনে জড়িয়েছে তা ভাবতেও পারেনি। আর তার ভালোবাসা তো মাথ্যা ছিলো না তবুও তাকে বিতারিত হতে হচ্ছে। সেই প্রতারনার এক বিশেষ চিহ্ন তার গর্ভে পাচঁ মাসের বাচ্চা। তবুও তাকে ফাহিম ভালোবেসে বিয়ে করেছিলো। সব কিছু ভুলে এক সাথে থাকতে চেয়েছিলো।

কিন্তু কি কারনে তাকে এভাবে প্রীতি চর মারলো এটাই বুঝতে পারছে না ।ফাহিম এক রকম একা ই ঠাই দাড়িয়ে এগুলো ই ভাবছে। সেদিন রাতে তারা ঘুমিয়েছে ঠিক ই কিন্তু কেউ কারো সাথে একটা কথাও বলেনি।

এরপর দিন সকালে প্রীতি ব্যাগ গোছিয়ে চলে যাচ্ছিলো। হঠাৎ ফাহিম বলে উঠলো,,
--কোথায় যাচ্ছো? এত বড় ব্যাগ গুছিয়ে ?
--তুমি কি ভেবেছো বলোতো? আমি নষ্টা? এই পেটে কি পাপের ফল ?হ্যা,আমি তাই ই,,সবাই তো আমার চরিত্র নিয়েই কথা বলবে। তুমিও তো সেই সুযোগ নিয়েছো। আমাকে বিয়ে করেছো দয়া দেখানোর জন্য। তোমার বউ,সন্তান আছে সেটা আমি জেনে গেছি। তুমি সুধু আমাকেই ধোকা দাও নি তোমার পরিবারকেও দিয়েছো।তোমার সাথে থাকতে আমার ঘৃনা করছে এখন। দয়া করে আমার মতো পাপি কে আর শেষ করে দিয়ো না।
এই কথা বলেই প্রীতি হনহন করেই চলে যায়।

ফাহিম কত রিকুয়েষ্ট করলো সেদিন সে ফিরেও তাকায়নি সেদিন। এর মাঝেই ফাহিম তার বাসায়ও যায় তার বাবা মাও তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে। কিছু দিন পর ফাহিম অফিসের কাজে ছয় মাসের জন্য চলে যায় বিদেশ। 
#নোটঃ গল্পগুলো আপনার টাইমলাইনে দ্রুত পেতে "#following_see_first" দিয়ে রাখুন।
আর সবাই গঠন মূলক মন্তব্য করবেন।আপনাদের গঠনমূলক মন্তব্য আমাদেরকে উৎসাহ দেয়। এমন আরো অনেক সুন্দর সুন্দর গল্প পাবেন #Relationship_Goals_Bd এই পেইজে।
ধন্যবাদ ইতিঃ (#তানিম_চৌধুরী)গল্পের মাঝে বিরক্ত করার জন্য দুঃক্ষিত।
প্রীতির সাথে কথা দেখা কোনো কিছু ই হয় না তার। প্রীতিও একা একা ই থাকতো। একদিন প্রীতি ওর খালার বাসায় যাচ্ছিলো হঠাৎ আচমকা তার সামনে চলে আসে শাকিল। প্রীতির সাথে অনেক কথা বলার চেষ্টা করে কিন্তু সে কোনো কথা না বলেই চুপচাপ চলে যায়। 
শাকিলঃ  ফাহিম আর প্রীতির সব বিষয় ই জেনে যায়। প্রীতিকে তার পরিবার থেকে সবাই অকথ্য বাসায় কথা শুনতে হয়। এভাবে আরো বেশ  কিছুদিন কেটে যায় প্রীতির ,শাকিলও ফলো করতে থাকে।

এর মাঝেই একদিন প্রীতির প্রসব বেদনা উঠে। ভাগ্যের এক পরিহাস তার একটা মৃত মেয়ে জন্ম হয়। প্রীতি সামান্য তমও মন খারাপ করেনি।কারণ এই বেবির জন্য অনেক কথা শুনতে হয় তার। না জানি জন্ম নিলে আরো কত কিছু শুনতে হত। তাই সে একটুও মন খারাফ করেনি বেবি মৃত হওয়াতে।

প্রীতি বাসায় একা একা ই থাকতো।পরিবারের সবার উপর আর ভালোবাসার উপর তার বিশ্বাস একদম ই চলে গেছে। সে শুধু ভাবে জীবনটা কিভাবে যাবে। কিন্তু শাকিল এর মাঝে ঘটালো এক অঘটন। সে তার পরিবার নিয়ে প্রীতির বাসায় প্রস্তাব পাঠালো।প্রীতি সবার সামনেই এসব বিয়ে ভেঙে দেয়। সে তার বাবা মায়ের সাথে সিলেট চলে যায়। সিলেটে এসে একা একা ই থাকতো আর ভাবতো ফাহিম তাকে এই দিন গুলোতে একবার ও খোজ নেয়নি।তার জীবনটা এমন হয়ে যাবে সে কল্পনাও করতে পারেনি। ফাহিমের উপর শুধু তার ঘৃনা হচ্ছে। সেও নিজে আরেক বিয়ে করলো কিভাবে। এসব ভেবেই তার কান্না আসে। সে ভাবে তার এই কর্মের জন্য তো সে একদম ই দায়ী না। তার ভাগ্য ই তো তাকে এমন করেছে। কিন্তু বিপত্তি ঘটলো সেখানেও শাকিল যেয়ে উপস্থিত। প্রীতি তার সাথে মোটেও কথা বলতো না। কিন্তু সে প্রতিদিন প্রীতিদের বাসায় আসা যাওয়া করতো। প্রীতির বাবা মা এর মন ঠিক ই জয় করে নিয়েছে শাকিল। অবশেষে বাবা মা এর জোড়ে বিয়ে ঠিক হয় শাকিল এর সাথে প্রীতির।

প্রীতি শুধু কান্না করতে করতে বলেছিলো,এখনো আমার আর ফাহিমের ডিভোর্স হয়নি। প্লিজ এসব বন্ধ করো।একা ই জীবন কাটিয়ে দিবো,, কিন্তু কেউ শোনেনি তাদের কথা। বিয়ের কার্ড পাঠানো হয় ফাহিমের বাসায়। ফাহিম এর পরের দিন ই বাসায় এসেই কার্ড দেখে কেদেঁ উঠে। সিলেট ময়মনসিংহ হতে অনেক দূরের পথ। তবুও ফাহিম বিদেশ থেকে ফিরেই চলে যায় সিলেটে। প্রীতিদের বাসায় অপমান ছাড়া কিছুই পায়নি ফাহিম।

যখন সে বাসা থেকে বের হয় তখন ই দেখতে পায় শাকিল প্রীতির হাত ধরে হেটে আসছে ।ফাহিম শুধু সামনে যেয়ে একটা কথাই বলেছিলো,,
--১০ মিনিট কথা বলার সময় হবে?
শাকিল এই কথায় ই ফাহিম এর উপরে হাত তুলে।প্রীতি যান্ত্রিক রোবটের মতো সেই সব দেখছিলো। হঠাৎ বলে উঠলো ঠিক আছে,,,,
এখন ফাহিম আর প্রীতি ছাদে দাড়িয়ে আছে। ঠান্ডা বাতাসে ফাহিম বলে উঠলো,,,
নিয়ম মতো update পেতে- #Relationship_GoalsBd -পেইজটি লাইক দিয়ে রাখুন।
--যেই হাত আমার ধরে থাকার কথা সেই হাত অন্য কেউ ধরে রেখেছে। মূল কথায় আসি। আমার একটা বন্ধু ছিলো সে বিয়ে করেছিলো ঠিক ই কিন্তু তার সন্তান হচ্ছিলো না। প্রথম বউ চলে যায় ,দ্বীতিয় বার বিয়েটা অনেক জোড় করে দেই। যখন বন্ধুর বউ এর বাবু হবে ঠিক তিন মাস আগেই বন্ধু গাড়ি দূর্ঘটনায় মারা যায়। বাচ্চা টা হয় ঠিক ওর মারা যাওয়ার ঠিক এক বছর পর।আর এই দিকে ওর মাও ক্যান্সার এ আক্রান্ত হয়। তার বউ একদিন বাসায় এসে বললো,আপনার বন্ধুর খুব সখ ছিলো একটা মেয়ে হওয়ার।কিন্তু আমিও হয়তো থাকবো না। আপনি উনার প্রিয় বন্ধু আমি চাই না আমার মেয়ে অনাথ হিসেবে বড় হোক। যদি বেচেঁ না থাকি আপনি দেখে রাখবেন।

বছর ২ পরে চলে গেলো ভাবী। আমি ঢাকায় থাকার সময় মেয়েটাকে নিয়েই থাকতাম। যখন সে ক্লাস টু তে পড়ে তখন ই আমাদের বিয়ে ঠিক হয়। তাকে ঢাকায় পাশের বাসার এক আন্টির কাছে রেখে এসেছিলাম। সে প্রতিদিন কল দিতো। কান্না করতো অনেক। আব্বু ই ডাকে আমাকে। তুমি সেদিন কলটা ধরে ছিলে ঠিক ই কিন্তু কোনো কিছু বলার সুযোগ দাওনি আমাকে।

ঠিক তখন ই একটা সুন্দর মেয়ে আমাদের সামনে এলো।প্রীতি কিছু বুঝে উঠার আগেই ফাহিম বলে উঠলো,এই সেই মেয়ে তাসফিয়া।
--আব্বু,এটাই তো আম্মু তাই না?(তাসফিয়া)

--হ্যা,তুমি একবার দেখতে চেয়েছিলে তাই এই একবার ই শেষ। আর কখনো বলবে না।(ফাহিম)
প্রীতি কোনো কিছুর জন্যই প্রস্তুত ছিলো না। তাসফিয়া এক দৌড়ে প্রীতিকে জড়িয়ে ধরে। আর কেদেঁ কেদেঁ বলতে থাকে,,,
--আম্মু তুমি যেয়ো না। আমি অনেক কান্না করি তোমার জন্য। তোমাকে নিয়ে যাবো ক্লাসের সবাইকে দেখাবো যে আমারও আম্মু আছে।

প্রীতি একটু শব্দও করেনি।তাসফিয়াকে গাড়িতে বসিয়ে রেখে আবার তারা হাটতে থাকে।প্রীতি এর মাঝেই বলতে শুরু করে,,,
--তুমি কি জানো আমার জীবনের কেনো এমন পরিনতি? আমি তোমাকে ছাড়া আর কাউকেই ভালোবাসিনি বিশ্বাস করো একবার,আর বাচ্চাটাও নষ্ট হয়ছে।এতে খুশি হয়েছি ঠিক ই কিন্তু তোমাকে তো হারালাম,,

--তুমি অন্য কাউকে ভালোবাসতে সেটা প্রমান এর জন্য ই তো তার কাছে গিয়েছিলে কিন্তু সে ধোকা দিয়েছে,,,
তখন ই শাকিল বলে উঠলো পিছন থেকে ১০ মিনিট তো অনেক হলো।এবার তুই যাবি এখান থেকে?

প্রীতি কর্নপাত না করেই বলতে শুরু করলো,,
--আমার সব কথা শোনো আমি সব সত্যি বলছি ,,

কিন্তু ততোক্ষনে ফাহিম কে আবার মারতে থাকে শাকিল। কথা বলা হয়ে উঠেনা প্রীতির। ফাহিম চলে যায়।গাড়িতে উঠতেই তাসফিয়া বল উঠলো,,
--দাড়াও আম্মুকে নিয়ে আসি ,,
ফাহিম তাকে একটা ধমক দেয়।সে কান্না করতে করতে একটা কথাই বলছিলো,,,
--আম্মুকে আর একবার দেখবো ,আর একবার। নিয়ে যাবো আমাদের সাথে।আমি যাবো না তোমার সাথে।
কিন্তু গাড়ি থামে না। চলছে তার মতো ই.....

ফাহিম ভাবছে হোক না সব কিছু আগের মতো। সুখী থাকুক প্রিয় মানুষ।কত দূরে নিয়ে যাবো এই স্বপ্ন গুলো থাক না অপূর্ন। তাসফিয়া কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে যায়। ফাহিম ভাবছে সত্য কথা তো বলতে পেরেছে এটাই শান্তি।

হয়তো আজকেই হবে তাদের সুখী জীবনের শুরু।হয়তো আর কখনই দেখা হবে না,,,
আজকে সবাই কমেন্ট করেছেন তাই ২ পর্ব দিলাম। কমেন্ট না করলে আবারও দেরি করে গল্প পাবেন।একজনে ২/৪ টা কমেন্ট করলে অনেক গুলা কমেন্ট হয়ে যায়।কমেন্ট করলে ৩য় পর্ব তারাতাড়ি পাবেন।


#দুইমুখী
#শেষ_পর্ব
#
--আম্মুকে আর একবার দেখবো ,আর একবার ।নিয়ে যাবো আমাদের সাথে ।আমি যাবো না তোমার সাথে ।(তাসফিয়া)
কিন্তু গাড়ি থামে না ।চলছে তার মতো ই ।ফাহিম ভাবছে হোক না সব কিছু আগের মতো ।সুখী থাকুক প্রিয় মানুষ ।কত দূরে নিয়ে যাবো এই স্বপ্ন গুলো থাক না অপূর্ন ।তাসফিয়া কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে যায় ।ফাহিম ভাবছে সত্য কথা তো বলতে পেরেছে এটাই শান্তি ।হয়তো আজকেই হবে তাদের সুখী জীবনের শুরু ।হয়তো আর কখনই দেখা হবে না,,,।এই রাতেও যেনো ঘুম নেই ফাহিমের ।কি ভেবেচিলো আর কি হলো এটা ভাবতেই তার কান্না পাচ্ছে ।কিন্তু সে নিশ্চুপ দাড়িয়ে আছে ।অন্য দিকে আজ রাতেই বিয়ের জন্য প্রস্তুত শাকিল ।প্রীতির কোনো কথা ই সে শুনবে না ।প্রীতি তার বাবা মাকে বুঝানোর চেষ্টা করেছে তবে পারেনি ।বিয়ের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে,এখন শুধু সময়ের পালা কখন হবে সেই শুভ সময় ।চারদিকে মানুষের আনা গোনা আর আনন্দের উল্লাস ।তবুও যেনো যার জন্য এতো আয়োজন সে ই চুপ রয়ে গেলো ।অনেক কিছুর পরও কোনো কিছুর সমীকরন মিলাতে পারছে না ।প্রীতি নিজেই ভাবছে সে একটা দুইমুখী মানুষ ।সাপ যেমন দুইমুখী হয় সেও তেমন ই ।তা না হলে একবার বিয়ে হওয়া সত্তেও সে আবার শাকিলকে বিয়ে করছে ?আর সেই নিষ্পাপ মেয়েটার আর্তনাদ বার বার তার চোখে ভেসে উঠছে ।বিয়ে শুরু হওয়ার আগে সবাই যেমন আনন্দে ছিলো এখন সে তেমন নেই ।কারন প্রীতি তো এসবের কিছুতে তাই তার মত নেই ।সে এখনও ফাহিম নামক ছেলেটিকেই ভালোবাসে ।প্রীতিকে এক প্রকার জোড় করেই বিয়ের আসরে বসানো হয় ।সে চুপ করেই বসে আছে ঠিক ই অনবরত তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে ।হঠাৎ শোনা গেলো কোনো সমস্যার কথা ।বিয়েটা ভেঙে গেছে ,কারন সবার মুখে একটাই কথা ছিলো শাকিল একটা ধর্ষক ।প্রীতি এই কথা শোনা মাত্র ই সেখান থেকে উঠেই চলে যায় শাকিল এর কাছে ।যেয়েই একদম মুখে থুথু ছুড়ে দেয় ।শাকিল মাথা নিচুঁ করেই আছে ।পিছন থেকে প্রীতির বাবা বলে উঠলো কি কারনে ওকে ধরে নিচ্ছেন ?
--আপনার মেয়ে নিজেই তো মামলা করেছে ।সমাজে এমন পশু অনেক আছে ।আমরা তাকে ধরতেই পারতাম না ।আপনার মেয়ের সাথে যেটা হয়েছে সেটার কোনো প্রমান ই পাচ্ছিলাম না ।শুধু একটা চিঠি পেয়েছিলাম ওখানে কিন্তু কার হাতের লেখা বুঝতে পারিনি ।গতকাল ই শাকিল এর আরেক প্রেমিকা সুসাইড করেছে ।তার কাছে এই হাতের লেখার চিঠি পেয়েছি ।হয়তো ও যেদিন আপনার মেয়ের সাথে এমন করবে ঐ দিন ই সে এই চিঠিটা ঐ মেয়েকে দিতে চেয়েছিলো কিন্তু ভুল বসতো সেটা ফেলে আসে ।আর বাকি কাজ টা তো একদম স্পষ্ট ই হয়ে গেলো,,(পুলিশ)
চারদিকে মানুষজন চুপ করে রয়েছে ।প্রীতি শাকিলকে চর মেরেছে চিৎকার করে বলছিলো,তুই জানোয়ার,তোর শিক্ষা যেনো আল্লাহ ই করে ।এখন কি জন্য এখানে এসেছিস ?
--কি জন্য আবার আপনার বাবার অর্থ সম্পওি ,,,সব প্রমান নিয়েই এসেছি ।(পুলিশ)
গতকাল ফেসবুক এ সুসাইডের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ।সবার ই একটাই কথা এমন পশুর মৃত্যু চাই ।কিন্তু প্রীতি সে তো কিছু ই করেনি ?কেনো ই বা সে এমন পরিস্থিতির শিকার হবে ?সমাজের মানুষ গুলোও এখন যেনে যাবে ।সমাজ তাকে কখনই মেনে নেবে না ।বিয়ের এই চুপ থাকার মাঝেও কেউ একজন পিছন থেকে বলে উঠলো "ধর্ষিতা" ।প্রীতি অনবরত কাদঁছে ,এখন তার বাবা মাও চুপ রয়েছে ।শাকিলের ক্রাস ফায়ার ওয়ারন্ট করা হয়েছে ।প্রীতি কি করবে এখন ?বিয়ের মজলিস সব খালি হয়ে গেলো ।
--
মাঝ পথে গাড়ি নষ্ট হওয়ায় কি করবে ফাহিম বুঝে উঠতে পারে না ।ভাবনায় সে এখনো ডুবে আছে ।এই গভীর রাতেও সুধু প্রীতির কথাই শুধু মনে পড়ছে ।প্রীতির কান্না দেখে তার বাবা কাছে এলো ।কাছে এসে বললো,,
--সময় টা এখন ই,,(একটু হেসে)
প্রীতি কোনো কথা না বলেই ।গাড়ি নিয়ে তার বাবা মা এর সাথে দ্রুত রওনা দিলো ।এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা কখন মিলবে তাদের দুজনের ভালোবাসা ।রাতে রাস্তা খালি থাকায় দ্রুত গাড়ি চলছে ।গন্তব্যে পৌছে চলে গেলো বাসায় ।যেয়েই দেখলো ফাহিম উপরের এক পাশের বাসার রুম থেকে বের হচ্ছে ।প্রীতি কাদতে কদতে বললো,,
--এই তুমি ঐখানে কি করো ?বউ রেখে অন্য ঘরে যাও ?ছি: ছি: ,,,তুমিও শেষ পর্যন্ত এমন করলে ?এতো দূর থেকে আসলাম আর তুমি কি না ,,(কাদতে কদতে প্রীতি)
--আরে তেমন কিছু না,,(ফাহিম)
--মিথ্যা কেনো বলো ?নিজের চোখেই তো দেখলাম,,(প্রীতি)
--ভুল দেখেছো ,,সে ওখানেই থাকে ওর বান্ধুবির বাসা ঐটা আমি যখন থাকি না তখন সে ওখানেই থাকে ।আর আজকে তার আম্মুকে ফেলে এসেছি তাই সে আর আমার সাথে থাকবে না ।বিশ্বাস না হলে গিয়ে দেখো যাও,,(ফাহিম)
--দরকার নেই,,,
--তুমি এখানে কেনো ?বিয়ে করেই এসে পড়েছো ?কাল ই হানিমুন যাবে তাই এই রাতটা এখানে থাকবে নাকি ?শাকিল কোথায় দেখছি না যে,,(ফাহিম)
প্রীতি কোনো কিছু না বলে ফাহিম এর হাত ধরে ছাদঁ এ গেলো ।প্রীতি ফাহিমের হাতটা শক্ত করে ধরতে চেয়েছিলো কিন্তু ফাহিম ছেড়ে দিয়েছিলো ।হঠাৎ প্রীতি বলতে শুরু করলো,,,
--তোমার সাথে তিন মাস দেখা করিনি ।যেদিন তোমার সাথে দেখা করার কথা সেদিন যাচ্ছিলাম তোমার কাছেই কিন্তু সেদিন শাকিল নামক পশু আমাকে ক্লোরোফ্রম দিয়ে অচেতন করে ফেলে ।তার মুখে রোমাল ছিলো তাই চিনতে পারিনি ।তবে পুলিশ তাকে ঠিক ই ধরেছে তবে সেটা আজ ই ।সে জন্যই তোমার সাথে তিন মাস কথা বলিনি ।ভেবেছিলাম মরে যাবো কিন্তু পারিনি ।বিশ্বাস করো আমার কোনো দোষ নেই ।আমাকে সমাজ মেনে নেবে না তাই কাউকে জানাই নি ।বাবা মা জানতো ।এখন তুমি ফিরিয়ে দিলে আমার মৃত্যু ছাড়া কোনো উপায় নেই ।আমি সত্যি ই তোমাকে ভালোবাসি ফাহিম,,,(প্রীতি)
ফাহিম একদম চুপ ।প্রীতি কোনো সারা পাচ্ছিলো না ,ভেবেছিলো হয়তো ফাহিম তাকে মেনে নেবে না ।নেবে ই বা কেনো তার পরিবারও মানবে না এমন ধর্ষিতাকে ।ফাহিম চুপ হয়েই রইলো ,যখন ফিরে আসবো তখন ই সে বলে উঠলো,,
আমার আগের আইডি অনেকে ছিনেন নীল আলোর ধ্রুবক ইমন।এটা ডিজেবল।তাই এই আইডি খুললাম সবাই ফলোয়িন করে সাথে থাকুন।
--দুনিয়ার সব কিছু কি শরীর দিয়ে হয় ?আমি জানি না তোমাকে কতটা ভালোবাসি ।তবে তোমাকে হারালে যে আমি কতটা একা হয়ে যাবো সেটা হয়তো বুঝাতে পারবো না ।তোমার সাথে যা হয়েছে অনেক খারাপ হয়েছে ।তবুও তোমাকে হারাতে পারবো না ।আমি এখনও সেই ঠান্ডা হাত গুলো ধরে হাটতে চাই ।আমি চাই তোমাকেই ,,,,(ফাহিম)
আমি ফাহিম দুজনের মাঝেই এখন নিরবতা ।তবুও কান্না করে প্রীতি বলতে লাগলো,,
--এই ধর্ষিতা মেয়েকে বিয়ে করবে ?(প্রীতি)
--শরীর দেখে প্রেম করলে তো কবেই করতে পারতাম ।আমি চাই একজন ভালো মনের মানুষ ।তুমি যদি ভাবো যে তুমি অপবিত্র তবে আমার ভালোবাসার স্পর্ষেই না হয় হলে পবিত্র,,,হারাতে পারবো না কখনই,,,(ফাহিম)
প্রীতি কোনো কথা না বলেই ফাহিমকে জড়িয়ে ধরেছে ।দুজনেই কান্না করছে ।
---
ফাহিম যেয়ে তাসফিয়াকে নিয়ে আসলো ।কিন্তু সে কোনো ভাবেই আসে না ,তার একটাই কথা"আম্মু না আসলে যাবো না" ।ফাহিম তবুও ঘরে নিয়ে আসতেই দেখে তাসফিয়া দেখে যে তার আম্মু বসে আছে ।তাসফিয়া কোনো কথা না বলেই জড়িয়ে ধরলো প্রীতিকে ।সারা রাত আর ঘুমাতে পারেনি প্রীতি ।তাসফিয়া একটার পর একটা কথা বলেই চলেছে,প্রীতিরও বিরক্তি নেই ।
 সকালে উঠে তাসফিয়া তার আম্মুকে নিয়ে টিভি দেখছে ।হঠাৎ টিভিতে ভেসে উঠলো,,"ব্রেকিং নিউজ,শাকিল নামক এক ধর্ষক ও তিন মেয়েকে অপহরন করার কারনে জনসম্মুখে ক্রস ফায়ার করেছে পুলিশ এর একটি দল" ।প্রীতি যেনো একটু শান্তি পেলো ।পেছনে ফাহিমও ছিলো,,।প্রীতি তাকে দেখেই বলে উঠলো,,
--আমি তো তোমাকে কিছু ই দিতে পারলাম না ,,(প্রীতি)
--ভালোবাসা দিচ্ছো এতেই হবে আর কিছুই লাগবে না,,(ফাহিম)
সারাদিন ঘুরেছে তারা,সকলের মুখেই ভালোবাসা পাওয়ার হাসি ।দুজনের মাঝখানে হাত ধরে হাটছিলো তাসফিয়া ।সে বল উঠলো,,
--বাবা,আম্মুর দিকে তাকায় থাকো কেনো ?আমি কি দেখতে একটুও সুন্দর না ?(তাসফিয়া)
এই কথা বলেই তাসফিয়া কাদঁতে শুরু করলো ।প্রীতি তাকে আদর করে বললো,,
--আমার মেয়েটাই বেশি সুন্দর ,,(প্রীতি)
আজও তাদের মুখে পূর্নতার হাসি,,,
 """"সমাপ্ত"""
লেখক💖ইরফাত হোসেন ইমন।
Share:

Search This Blog

Labels

Recent Posts

Label