
#পার্ট_১
"রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছেলেদের সাথে নষ্টামি করতে লজ্জা লাগে না,তোর এতোটা অধপতন হয়েছে। আজকে তুই বাড়ি চল তারপর দেখবি তোর হাল কি করি "
"স্যার আপনি ম্যাডামকে ভুল বুঝছেন, উনি তো ফুল কিনতে এসেছে "
"কতো টাকায় তোর ম্যাডামকে কিনেছিস যে দরদ উথলায় পড়ে "
"না স্যার এমন কিছু না, সত্যি উনি ফুল কিনতে এসেছে "
আমার হাত টেনে নিয়ে রিকশা উঠালো। আমি ভয়ে ভয়ে বললাম,
-তুমি আমাকে যা বলার বাসায় এসে বলতে বা কি হয়েছে যেটা জেনে নিয়ে,,,,,,,
-একদম চুপ তোর মতো মেয়েকে আমি খুব ভালো করে চিনি।
আমি সাহস করে আর কিছু বলতে পারলাম না। বাসায় এসে রোহন ওর প্যান্টের বেল্ট
খুলে আমাকে খুব মারলো। রুমের একটা কোনায় শুয়ে রয়েছি, ব্যাথার যন্ত্রণায়
নড়তে পারিনি।
আমার চার বছরের পিচ্চি মেয়েটা আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে,"
আম্মু আমি দুষ্টুমি করি বলে আব্বু তোমাকে মেরেছে তাই না? আমি আর দুষ্টুমি
করবো না। "
মেয়েটাকে শক্ত করে বুক জড়িয়ে বললাম,
"না মা তুমি তো আমার লক্ষী সোনা, চলো এখন খেয়ে নিবে"
"না আম্মু আামার ক্ষুধা নেই, আমি ঘুমাই"
"না একটু খেতে হবে"
মেয়েটাকে খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিলাম। রোহানকে খেতে ডাকার জন্য ওর কাছে গিয়ে বললাম,
-খেতে এসো।
-তুই যা আমি আসছি
-আচ্ছা
রোহানকে খেতে দিয়ে আমি টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে আছি।
-তুই কি এবোয়শন করবি না?
-না
-তোকে ভালো মতো বলেছি এবোয়শন কর নয়তো বাঁচতে পারবি না।
-মরে যাবো তাও আমার সন্তানকে মেরে ফেলতে দিবো না।
-অন্যের সন্তান আমার নামে চালিয়ে দিবি সেটা আমি মেনে নিবো না
-নিজের সন্তানকে অন্যের সন্তান বলতে লজ্জা লাগে না? কেমন বাবা তুমি?
-মুখে মুখে এতো কথা বলে খাওয়া ছেড়ে রোহান আমার গালে ঠাসসসস্ ঠাসসস্ কয়েকটা থাপ্পড় মেরে চলে গেলো।
রাতে আমার খাওয়া হলো না। ব্যাথার যন্ত্রণায় জ্বর খুব জ্বর হলো।
সকালে এক গ্লাস পানি আমার মুখের উপর ছুঁড়ে মারলো।
-নবাবজাদী তুই এখনও ঘুমাস? রাতে কি অন্য কারো কাছে গিয়েছিলি
আমার মেয়ে "রাফিসা" বললো,
-আব্বু দেখো আম্মু গায়ে অনেক জ্বর, ডক্টরের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
-ওসব জ্বর টর কিছু না, যত্তসব ঢং।
আমার হাত ধরে টেনে উঠিয়ে বললো,
-যা গিয়ে আমার জন্য নাস্তা রেডি কর।
আমি কিছু বলতে পারলাম না শুধু চোখ থেকে পানি পরতে থাকলো। কোনো মতো রুটি আর ডিম ভেজে দিলাম। রোহান খেয়ে অফিসে যাওয়ার আগে বললো,
-সন্ধ্যা রেডি থাকিস তোকে হসপিটালে নিয়ে যাবো।
-এবোয়শন করবো না
দরজায় লাথি মেরে রোহান চলে গেলো।
মনে পরে গেলো পাঁচ বছর আগে আমি প্রথম মা হওয়ার খরব রোহানকে দেই তখন ও
খুশিতে সারা বাড়ি আমাকে কোলে তুলে নিয়ে ঘুরছে। আমার মা-বাবা, শশুড়-শাশুড়ি
তাদেরকে আমার কাছে এনে রেখেছে। ওর একটাই কথা ছিলো যে "পুরো একবছর আমাদের
সাথে থাকতে হবে "। আমার বাবা মা রোহানকে খুব ভালোবাসতো তাই ওর কথা ফেলতে
পারে নি৷ আর ওর বাবা মা গ্রামে থাকতে পছন্দ করে তাও ছেলের খুশির জন্য
থেকেছে।
রোহান অফিসে গেলে একটু পর পর কল করে বলতো, আমার অসুস্থ লাগছে
কি না?খাবার খেয়েছি কি না? বাবু নড়াচড়া করছে কি না?আরও কতো কিছু। আবার
ভিডিও কল দিতো। অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময় খাবার নিয়ে আসতো৷
প্রতিদিন
আমার পছন্দের খাবার রান্না করতো আমার মা আর শাশুড়ী। আমাকে রান্না ঘরে যেতে
দিতো না। আমি ওয়াস রুমে গেলে রোহান বাইরে দাড়িয়ে থাকতো। এমন কি সকালে আমাকে
ঘুৃম থেকে তুলে ব্রাশ করিয়ে দিতো। আমি কিছু চাওয়ার আগে আমার সামনে হাজির
করতো। সবাই আমাকে বলতো আমি অনেক ভাগ্য করে রোহানের মতো স্বামী পেয়েছি ।
এখন রোহান কেনো এমন করছে? কেনো আমাদের সন্তানকে পৃথিবীতে আসতে দিতে চায়
না? যে রোহান আগে কখনও আমারকে ঝাড়ি মেরে কথা বলে নি আর সে এখন আমার গায়ে
হাত তুলে।
পুরোনো কথা মনে পরায় বেশ কিছুক্ষণ কেঁদে মন হাল্কা করলাম।
রাফিসা আমাকে এসে বলে,
-আম্মু তুমি কেঁদো না। আমি বড় হয়ে ডাক্তার হবো তখন তোমার জ্বর হলে আমি ওষুধ দিবো
-হ্যাঁ মা তুই বড় হলে আমার আর কোনো কষ্ট থাকবে না।
-আচ্ছা আম্মু জ্বর হলে কি ওষুধ জেনে খায়?
-কেনো? তুই জেনে কি করবি?
-আহ্ এতো কথা বলো না তো, যা জিজ্ঞেস করছি তা বলো।
-নাপা ওষুধ
রাফিসা দৌড়ে গিয়ে ফাস্টবক্স এনে বললো,
-N A P A. নাপা ওষুধ তাই না
-হুম
আবার দৌড়ে গিয়ে বিস্কুট আর কলা এনে বললো,
-আম্মু এগুলো খেয়ে নেও তারপর ওষুধ খেতে হবে
মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরে বললাম,
-তুই অনেক বড় হয়ে গিয়েছিস
-হুম। আমার জ্বর হলে তুমি তো আমাকে কিছু খাইয়ে দিয়ে ওষুধ খাওয়াও।
-হুম।
রাফিসাকে রুটি কলা খাইয়ে দিলাম তারপর নিজে একটু খেয়ে ওষুধ খেয়ে দুপুরের
জন্য রান্না করলাম। মাথাটা প্রচন্ড ব্যাথা করছে তাই গোসল করেছি।
রাফিসা আগের মতো আর দুষ্টুমি করে না। অনেক শান্ত হয়ে গেছে। সারাক্ষণ বই নিয়ে থাকতে পছন্দ করে।
সন্ধ্যায় রোহান বাসায় এসে আমাকে বললো,
-এই কাগজ টা দেখ।
#ভালোবাসার_পরিনত
#পার্ট_২
"তুই আমাকে ডিভোর্স দিবি নয়তো এবোয়শন করবি, এখন তুই ডিসিশন নে কি করবি"
"তুমি কেনো এমন করো? কি সমস্যা আমাকে খুলে বলো?
" আমার সমস্যা তুই। তোকে আমার ভালো লাগে না "
"সত্যি কি আমাকে ভালো লাগে না আমাকে ভালোবাসো না? "
"তোকে আর কতো বার বলবো, যে তোকে আমি ভালোবাসি না "
"আচ্ছা, আমি তোমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবো তাও এবোয়শন করবো না "
"রাফিসার দায়িত্ব আমি নিতে পারবো না যাওয়ার সময় ওকে ও নিয়ে যাবি। তোর দুটা বাচ্চার দায়িত্ব কে নিবে?"
"আমার বাচ্চাদের দায়িত্ব আমি নিতে পারবো "
"ডিভোর্স পেপারে সিগনেচার করে এখনই আমার বাসা থেকে বের হ্ "
"দুটো দিন তোমার কাছে সময় চাই তারপর আমি চলে যাবো "
"দুটো দিন পরে আবার কোনো যাবে না করবি না "?
" কথা দিচ্ছি কোনো ঝামেলা করবো না, তুমি শুধু মেয়েটার সামনে কোনো খারাপ আচরণ করো না। "
"তোর মেয়েকে তুই সামলে রাখবি আমার কাছে জেনো না আসে "
"ও তো ছোটো বাচ্চা, তোমার সন্তান তাহলে ওর সাথে কেনো খারাপ ব্যবহার করো? "
"তোর এতো কথা শুনতে আমার ভালো লাগে না। যা গিয়ে আমার জন্য চা বানিয়ে নিয়ে আয়"
"হুম"
আমি চা বানিয়ে টেবিলের উপর রেখে দিলাম তখন কলিং বেল বাজে। আমি দরজা খোলার
আগে রোহান দরজা খুললো। ডেলিভারি ম্যান একটা পার্সেল নিয়ে এসে বললো,
-ইভা ইসলামের নামে একটা পার্সেল এসেছে, উনাকে ডেকে দিবেন।
-জ্বি আমি ওর হ্যাসবেন্ড আমাকে পার্সেলটা দিতে পারেন
-আচ্ছা
পার্সেলটা নিয়ে দরজা লাগিয়ে দিয়ে আমাকে বললো,
"আজকাল তোর অনেক লোক হয়েছে বাসায় পার্সেল পর্যন্ত পাঠিয়েছে "
"ওটা আমি অনলাইন ওর্ডার করেছি"
"আমাকে একদম মিথ্যা বলবি না তোর যে আরও প্রেমিক পুরুষ আছে তা জানি "
"আমার প্রেমিক পুরুষ থাকলে তোমার কি? তুমি তো ডিভোর্স পেপার সিগনেচার করে
দিয়েছো শুধু আমার সিগনেচার করা বাকি তারপর তো আমাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক
নেই "
"তুই আমার বাড়িতে থেকে আমার সাথে মুখে মুখে তর্ক করবি এটা হতে পারে না খুব বার বেড়েছিস "
"দুটো দিন আমাকে সহ্য করে নেও তারপর তো আমি চলে যাবো "
রাফিসা দরজার কোনায় দাঁড়িয়ে আমাদের কথা শুনে বললো,
"আম্মু আমার দু দিন পর কোথায় যাবো "
"সুখের দেশে যাবো "
"তুই আর তোর মেয়ে আমার চোখের সামনে থেকে সরে যা "
রাফিসা নিয়ে অন্য রুমে চলে গেলাম। চার মাস ধরে আমরা আলাদা ঘুমাই। মাঝে
মাঝে রোহান আমার রুমে এসে ওর শারীরিক চাহিদা মিটিয়ে চলে যেতো। এখন পর্যন্ত
জানতে পারি নি কেনো রোহান পাল্টে গেলো? আমাকে সন্দেহ করে মারধর করা শুরু
করলো তখন থেকে প্রতিবাদ করা শুরু করি কিন্তু প্রতিবাদ করতে গেলে বেশি মারধর
করে তাই নিরবে সহ্য করি। বেশি মারধর করা শুরু করে দ্বিতীয় সন্তানের কথা
শুনে। আগে ও বলতো আল্লাহ চাইলে আমি চার সন্তানের বাবা হতে চাই আর এখন কোনো
সন্তানই চায় না।
মেয়েটা আমাকে জড়িয়ে ধরে চুপ করে শুয়ে আছে। আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললাম,
-তুমি কি তোমার বাবার সাথে থাকতে চাও নাকি আমার সাথে থাকতে চাও?
-দুজনের সাথে থাকতে চাই
-সেটা তো হবে না মা যে কেনো একজনের সাথে থাকতে হবে।
-তাহলে আমি তোমার সাথে থাকবো। আব্বু আমাকে একটুও ভালোবাসে না শুধু বকে
-বাবা মা সব সময় সন্তানদের ভালোবাসে। বাবা সারাদিন অফিস থেকে কষ্ট করে তো তাই একটু রাগ দেখায়
-পাশের বাসার ইরার বাবাও তো অফিসে যায় তাও ওকে কতো ভালোবাসে চকলেট কিনে দেয়
-তোমার বাবাও দিবে।
বাইরে চিৎকার চেচামেচির শব্দ শুনে গিয়ে দেখি রোহান একটা গ্লাস ভেঙ্গেছে।
আর হাতে একটা কাগজ নিয়ে আরেক হাত দিয়ে আমার চুলের মুঠো ধরে বললো,
"আমাকে ডিভোর্স দিতে না দিতে অন্য কারো জন্য লেখালিখি শুরু করেছিস এতো প্রেম "
"আমার চুলে ব্যাথা লাগছে ছাড়ো "
"না বল তোর প্রেমিক কে?"
"সত্যি বলছি কেউ নেই "
"তাহলে এসব কি?"
"আমি তোমার জন্য তোমাকে নিয়ে লিখেছি "
রাফিসা দৌড়ে এসে রোহানের হাতে কামড় দিলো তাতে রোহানের রাগ আরও বেড়ে গেলো। রাফিসাকে দুটো থাপ্পড় দিলো।
"তুই যেমন ডাইনি রাক্ষসী তোর মেয়েও তেমন। এখন তো মনে হয় এটা অন্যের পাপ আমার ঘাড়ে চাপিয়েছিস "
"ছিঃ নিজের সন্তানকে নিয়ে এই নোংরা কথাটা বলতে মুখে বাজলো না "
"না না না তোরা যতোদিন আমার বাসা থেকে না যাবি ততোদিনে আমার শান্তি হবে না আর তোরাও শান্তি পাবি না "
"দয়া করে দুটো দিন আমাকে ভিক্ষা দেও দুটো দিন আমাকে শান্তি দেও "
ওর সামনে যতো থাকবো ততো আমাকে কষ্ট দিবে তাই রুমে চলে যাবার জন্য পা বাড়ালাম কিন্তু আমাকে আটকে দিয়ে বললো,
-টেবিলে খাবার দে
-হুম দিচ্ছি
রোহানের খাওয়া শেষে কোনো মতে রাফিসাকে খাইয়ে দিলাম। আমার খাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই তাই শুয়ে পরলাম । অনেক ঘুমানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু কিছুতে ঘুম এলো না তাই রোহানের রুমের কাছে গিয়ে দাড়াতে শুনে পেলাম কার সাথে যেনো হেসে হেসে কথা বলছে।
[গল্পটা কেমন হচ্ছে তা গঠন মূলক কমেন্ট করে জানাবেন এবং ভুলত্রুটি হলে দুঃখিত ]
চলবে,,,,,
#ভালোবাসার_পরিনত
আমি বুঝতে পেরেছি আমার ভালোবাসার মানুষটি আর আমার নেই সে অন্য জনের হয়ে
গেছে।কেনো আমাকে ঠকালো? আমি তো ভালোবাসার কমতি রাখি নি। সব সময় ওকে খুশি
করার জন্য যা করতে হয় তাই করেছি তাহলে কেনো এমন করলো?একটা বারও কি আমাদের
সন্তানের কথা ভাবলো না?
মনের মধ্যে হাজারো প্রশ্ন কথা ঘুরপাক খাচ্ছে, কোনো কিছুর হিসেব মেলাতে পারছি না। কেঁদে কেঁদে সারারাত পাড় করলাম।
সকালে রান্নাঘরে বসে রুটি বানাচ্ছি তখন কলিং বেলের আওয়াজ শুনে দরজা খুলে দেখি অনেক সুন্দরী একটা মেয়ে।
"রোহান কোথায়?"
"ও ঘুমাচ্ছে কিন্তু আপনি কে? "
"আমি ওর হবু বৌ"
আমাদের কথা শুনে রোহন এসে বললো,
"নিশিতা তুমি আজকে আমার বাসায় আসবে তা জানিয়ে আসবে তো"?
" ভাবলাম তোমাকে সারপ্রাইজ দেই তাই না জানিয়ে চলে এসেছি "
"আচ্ছা ভিতরে এসে "
"হুম, এই মেয়েটি কে?"
"ও আমাদের বাসার কাজের লোক, বাবা মা কিছু দিন পরে আসবে তাই পরিচিত মেয়েটিকে আগে পাঠিয়ে দিয়েছে "
"মেয়েটি বেশ সুন্দরী কিন্তু "
"তোমার থেকে বেশি সুন্দরী না"
"হাহাহাহা"
"ইভা তুই গিয়ে আমাদের জন্য নাস্তা নিয়ে আয়"
নিজের কানকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে, আমি কি ঠিক শুনেছি যে আমার স্বামী
আমাকে কাজের লোক বানিয়ে দিলো। এতোটা কিভাবে পরিবর্তন হলো? শুধু মাত্র
মেয়েটা সুন্দরী বলে ও সুন্দরের পূজারী হয়ে গেলো? ভালোবাসার পরিনতি কি এমন
কষ্টের হয়? আমি ঠায় দাঁড়িয়ে আছি হেঁটে রান্না ঘরে যাবো তার শক্তিটুকু
পাচ্ছি না।
রোহান এসে বললো,
"তোকে সেই কখন থেকে ডেকেছি কথা কি কানে যায়?"
"না মানে আর কি, বলো কি লাগবে?"
"নিশিতার সামনে আমাকে তুমি করে বলবি না আপনি বলবি, তুই আমার বৌ ছিলি এখন আর না। তুই ডিভোর্স পেপারে সিগনেচার করে বিদায় হ্ "
"কালকেই চলে যাবো আর তুমি নিশ্চিত থাকো নিশিতা আমাদের সম্পর্কে কিছু জানতে পারবে না"
"হ্যাঁ বিদায় হলে ভালো, এখন যা নাস্তা রেডি কর"
"হুম"
নাস্তা রেডি করে টেবিলে রেখে রোহানের রুমের দরজায় টোকা দিলাম। নিশিতা বিরক্তি নিয়ে বললো,
"প্রাইভেট টাইমে কাউকে ডিসটার্ব করতে হয় না তা জানো না?"
"নাস্তা রেডি করেছি তাই আপনাদের ডেকেছি"
"হ্যাঁ যাও আসছি কিন্তু আর নেক্সট টাইম আমাদের রুমে নক দিবে না, প্রয়োজন হলে আমি তোমাকে ডেকে নিবো"
"আচ্ছা "
দৌড়ে নিজের রুমে এসো কান্না করতে লাগলাম। মেয়েরা আর যাই হোক নিজের স্বামীর
সঙ্গে অন্য কোনো মেয়েকে সহ্য করতে পারে না। রোহানের এতো টা নিচে নামতে
একটুও রুচিতে বাঁধলো না, ঘরে বৌ বাচ্চা থাকতে অন্য মেয়েকে নিয়ে রুমে সময়
কাটায়। রাফিসা ঘুম থেকে উঠে আমাকে কাঁদতে দেখে বললো,
-আম্মু তুমি কাঁদছো কেনো? কি হয়েছে?
-কিছু হয় নি
-ও আম্মু বলো না কি হয়েছে? তুমি তো বলেছিলে আমরা সুখের দেশে যাবো তাহলে এখন কেনো কাঁদছো?
-সুখের দেশে গেলে আর কাঁদতে পারবো না তাই এখন একটু কেঁদে নিচ্ছি
রোহান আমাকে ডাকছে,
-ইভা এই ইভা, খাবার টেবিলে আয়
-আসছি
-খাবার টেবিলে রেখে দিয়ে চলে গিয়েছিস কেনো?খাবার বেড়ে দিবে কে?
-আপনারা এখানে ছিলেন না তো তাই আর কি
-কথা কম বলে প্লেটে খাবার দে।
-হুম।
রাফিসা এসে বললো,
-আব্বু আমাকে একটু খাইয়ে দেও।
রোহান রাফিসাকে ধাক্কা মেরে ফ্লোরে ফেলে দিয়ে বললো,
-তোকে কতো দিন বলেছি তোর মেয়ে আমাকে যেনো আব্বু না বলে।
- আহ্ রোহান ও বাচ্চা মানুষ না বুঝে বলে ফেলেছে (নিশিতা)
-বাচ্চা বলে তো অন্যায় মেনে নেওয়া যায় না
আমি রাফিসাকে কোলে নিয়ে বললাম,
-স্যার ও ভুল করে বলে ফেলেছে, ক্ষমা করবেন
-আম্মু আমি ভুল কিছু বলি নি তো (রাফিসার)
আমি রাফিসার গালে একটা থাপ্পড় দিয়ে বললাম,
-তোর বাবা মরে গিয়েছে, উনি তোর বাবা না আর কোনোদিন কাউকে বাবা বলবি না
-উফফফ্ রোহান তোমার বাসায় তো একটুও শান্তি নেই, ওদের কাজে রাখতে হবে না (নিশিতা)
-আচ্ছা তুমি না চাইলে ওদের রাখবো না
-কিন্তু মেয়েটার রান্না খুব ভালো করে
-এমন ভালো রান্না অনেকে করতে জানে, তুমি চিন্তা করো না নতুন কাজের লোক রাখবো।
-হুম
রোহান, নিশিতা খেয়েদেয়ে বাইরে চলে গেলো। সারাদিন মা,মেয়ে মিলে অনেক কেঁদেছি। চোখের পানি একটা বেইমানের জন্য কেনো পরে? কেনো আমি ওর মতো ভালো থাকতে পারি না? উফফ ওর কথা ভাবতে ভাবতে মাথা ব্যাথা হয়ে গেছে।
রাতে রোহান ড্রিংক করে বাসায় ফিরে এসে আমাকে খুব মারলো তার কারন কেনো রাফিসা ওকে বাবা বলেছে? নিশিতার নাকি একটু সন্দেহ হয়েছে যে আমাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না? এতো মার খাওয়ার পরও আমি সকালে উঠে রোহানের জন্য ওর সব পছন্দের রান্না করেছি।
[গল্পটা কেমন হচ্ছে তা গঠন মূলক কমেন্ট করে জানাবেন। আপনাদের কমেন্টে লেখার আগ্রহ পাই ]
চলবে,,,,
#ভালোবাসার_পরিনতি
#
#পার্ট_৪
আজ রোহানের জন্মদিনে ওর বেস্ট গিফট হবে ডিভোর্স। দুটো দিন সময় চাওয়ার কারন
ছিলো ওর জন্মদিনে শেষ বারের মতো নিজে ওর পছন্দ মতো সব রান্না করে খাওয়াবো
আর কোনোদিন তো সুযোগ পাবো না । বরাবর ও যা চেয়েছে তাই দিয়েছি ওর সুখে আমি
সুখ পেয়েছি কিন্তু ও আমাকে নিয়ে কোনোদিন সুখী হতে পারবে না । প্রিয় মানুষটি
যে আমার নেই।রোহান দ্বিতীয় সন্তান কেনো চাইছে না তা এখন আমার কাছে স্পষ্ট।
আমি যদি এখন ডিভোর্স না দিয়ে দেই তাহলে যেকোনো মূল্যে আমার সন্তানকে
পৃথিবীর আলো দেখতে দিবে না, মা হয়ে সন্তানকে মেরে ফেলতে পারবো না। যাই হোক
আমার ভালোবাসার মানুষ তো আমার সন্তানদের বাবা তো তাই রোহানের পছন্দের একটা
শাড়ি পরলাম। ও রুমের দরজা লক করে ঘুমায় যাতে আমি বা রাফিসা কেউ ডিসটার্ব
করে না পারি কিন্তু আজকে দরজা লক করে নি রাতে ড্রিংক করে এসেছিলো তাই আমি
রুমে ঢুকে ডাক দিলাম,
-রোহান এই রোহান উঠো
-সাতসকালে তোর হয়েছে কি? চিল্লাছিস কেনো?
-Many Many Happy Returns Of The day Happy BirthDay To U Rohan
কথাটা শুনে রোহান আমার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে রইল তারপর বললো,
-এভাবে রংচং লাগিয়ে সেজে দাড়িয়ে আছিস কেনো? তোকে কে বলেছে আমার জন্মদিনে
উইস করতে? তোর মুখ দেখলে এমনি দিন খারাপ যায় আজকে না জানি কি হবে?
- আমাদের এতো দিনের ভালোবাসা আর সন্তানদের জন্য কি আমরা একসাথে থাকতে পারি না? তুমি চাইলে সব হবে।
-না না না পারি না তোকে চাই না,আমি ডিভোর্স চাই।
কিছু না বলে রোহানের রুম থেকে বেরিয়ে গেলাম।আমার রুমে এসে নিজেকে আয়নায়
ভালো করে দেখতে লাগলাম, যে আমি দেখতে খুব খারাপ তাই স্বামীর মন পাই নি।এর
মধ্যে রাফিসা ঘুম থেকে উঠে আমাকে বলে,
"আম্মু তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে, প্রতিদিন তুমি এমন সুন্দর শাড়ি পরবে।
" হ্যাঁ মা পড়বো, তুমি এখন যাও ব্রাশ করে এসো তারপর একটা জায়গায় নিয়ে যাবো"
"আচ্ছা "
রাফিসাকে রেডি করে নিজে রেডি হয়ে রোহানের রুমের কাছে গিয়ে বললাম,
"টেবিলে খাবার বেড়ে রেখেছি খেতে এসো "
"যা আসছি"
রোহান ডাইনিং টেবিলে এসে বললো,
"তুই যতোই আমার মন পাওয়ার জন্য এসব নেকামি করিস কোনো লাভ হবে না, আমি
নিশিতাকে বিয়ে করবো। তুই আজকে ডিভোর্স পেপারে সিগনেচার করে বিদায় হ্"
রোহানের সামনে ডিভোর্স পেপার এনে সিগনেচার করে দিলাম৷ সিগনেচার করার সময়
ভেবেছিলাম রোহান বলবে সিগনেচার করো না, আমাকে ক্ষমা করে দেও আবার নতুন করে
সব শুরু করবো। কিন্তু না আমি বার বার ভুল করি।
"সিগনেচার করে দিয়েছি এবার খুশি তো?"
"হুম "
"এখন তোমাকে কিছু কথা বলি,মনে আছে আমি ফুল কিনতে গিয়েছিলাম সেদিন আমাকে
নষ্টা মেয়ে বলেছো কিন্তু সেটা আমি তোমার জন্য হয়েছি। তোমাকে আজকের দিনে
ফুলেরতোড়া দিবো তাই সেদিন ওই ছেলেটাকে বলেছিলাম আজকে যেনো বাসায় ফুলেরতোড়া
দিয়ে যায়।
আবার ডেলিভারি ম্যান বাসায় পার্সেল দিয়ে গিয়েছিলো সেটা আমি
তোমার জন্য কয়েকটা জিনিস অনলাইনে ওর্ডার দিয়েছিলাম কিন্তু তুমি আমাকে বললে
আমার প্রেমিক দিয়েছে একটা বার যদি পার্সেলটা খুলে দেখতে তাহলে আমাকে খারাপ
কথা বলতে রুচিতে বাজতো। আর দুটো দিন সময় চাওয়ার কারন ছিলো আজ তোমার
জন্মদিনে তোমার বেস্ট গিফট দিবো দেখো তোমার বেস্ট গিফট দিয়ে দিয়েছি "
"ইভা তুমি আমার জন্য এতোকিছু করেছো আর আমি তোমার সাথে কি না খারাপ ব্যবহার
করেছি হাহাহাহা তুই কি ভাবলি আমি এখন তোকে মেনে নিবো? তা কখনো ভাবিস না। "
রোহানের কথা শুনে চোখের পানি পড়তে লাগলো। প্রিয় মানুষের খারাপ রুপ সহ্য করা যায় না।
"আমাকে ভোলানোর জন্য এসব নাটক করার কোনো দরকার নেই, এখন তোরা মা মেয়ে আমার বাসা থেকে চলে যা"
"হুম চলে যাবো, এখন তুমি খেয়ে নেও "
"তোদের যতো যা কিছু আছে সব নিয়ে যাস "
"আচ্ছা "
আমার আর রাফিসার সব কিছু প্যাক করে নিলাম। আড়াল থেকে দেখলাম রোহান তৃপ্তি
সহকারে আমার রান্না করা খাবার খাচ্ছে। ঘুম থেকে উঠে মেয়েটা কিছু খায় নি তাই
আমাকে বললো,
-আম্মু আমার ক্ষিদে পেয়েছে
-বাইয়ে গিয়ে খেয়ে নিবে এখন চলো।
-আচ্ছা
রোহানের খাওয়া শেষ তখন আমি গিয়ে বললাম,
-আমরা চলে যাচ্ছি, তুমি নিজের খেয়াল রেখো
-হুম যা
রাফিসা রোহানের হাত ধরে বললো,
-আব্বু তোমাকে আমি খুব জ্বালিয়েছি এখন থেকে আর কেউ তোমাকে জ্বালাবে না
কিন্তু আব্বু তোমাকে ছেড়ে থাকতে আমার খুব কষ্ট হবে। তুমি আমাদের সাথে থাকো
-তোদের মা, মেয়ের নাটক আর সহ্য হচ্ছে না
-ও বাচ্চা মানুষ ওর কথায় রাগ করো না আমরা চলে যাচ্ছি।
পাঁচ বছরের সংসার শেষ করে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলাম। ছোটো মেয়েকে নিয়ে বাবার
বাড়ি যাওয়া ছাড়া আর কোনো জায়গা নেই তাই বাবার বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দিলাম।
রাফিসাকে পথে খাওয়ানোর জন্য কেক,কলা পানি কিনে নিয়েছি। মেয়েটা বাসে উঠলে
ঘুমিয়ে পড়ে কিন্তু আমার যে ঘুম আসে না। পুরোনো স্মৃতি বার বার মনে পড়ে যায়।
রোহানের সাথে বিয়ের পর থেকে আমি বাবার বাড়িতে দু তিনদিনের বেশি থাকতে
পারতাম না। একবার ও আমাকে বাসস্টপে পৌঁছে দিতে কান্না শুরু করলো আমাকে ছাড়া
থাকতে পারবে না তাই ও আমার সাথে বাবা বাড়ি এলো। একটু চোখের আড়াল হলে ইভা
ইভা বলে চিল্লাপাল্লা শুরু করতো আর আজ সারাজীবনের জন্য ওকে ছেড়ে চলে এলাম
তাও কষ্ট পেলো না ভালোবাসার পরিনতি কি শুধু একতরফা কষ্ট পায়, অন্য জন সুখে
থাকে এটা কেমন নিয়তি?
ওর হাজারো স্মৃতি ভাবতে ভাবতে বাবার বাসায় পৌঁছে
গেলাম । কলিং বেল বাজাতে মা দরজা খুললো, মাকে দেখে নিজেকে কন্ট্রোল করতে
পারি নি। মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলাম।
-কি হয়েছে মা তোর? তুই কাঁদছিস কেনো?
বাবা এসে রাফিসাকে কোলে নিয়ে বললো,
-নানু ভাই তোমার আম্মু এতো কাঁদছে কেনো?
-আমরা বাবাকে ছেড়ে চলে এসেছি
মা আমাকে ভিতরে নিয়ে গিয়ে সোফায় বসালো। আমি শুধু কেঁদে যাচ্ছি কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই। মা এক গ্লাস পানি খাইয়ে বললো,
-একটু শান্ত হ্ মা তারপর খুলে বল তোর কি হয়েছে?
নিজেকে একটু শান্ত করে রাফিসাকে বললাম,
-তুমি একটু নানুর রুমে গিয়ে শুয়ে থাকো নয়তো ক্লান্ত হয়ে পরবে
রাফিসা বাধ্য মেয়ের মতো চলে গেলো তারপর মা বাবাকে সবকিছু বললাম৷ বাবা মা
দুজনেই খুব কষ্ট পেয়েছে আমি তাদের আদরের একমাত্র মেয়ে আমার সব কথা শুনেছে
কোনো দিন আমার অমতে কিছু করে নি এবং আমিও তাদের সব কথা শুনে -মেনে চলেছি আর
আমি আজ সুখী হতে পারি নি। আমার দু ভাই আছে তারাও বিয়ে করে সুখী আছে। আমার
বাবা মায়ের সাথে থাকে। একজন শশুড় বাড়িতে গিয়েছে আর অন্য জন আমার ফুপির
বাসায় গিয়েছে আমি এসেছি শুনে ওরা কালকে চলে আসবে কিন্তু আমি ভাবতেছি কি করে
দুটো সন্তান নিয়ে থাকবো? কি করে খরচ চালাবো? সারাদিন রাত বাবা মা আমাকে
অনেক বুঝিয়েছে তারা আমার পাশে আছে। পরের দিন ভাইয়া ভাবিরা বাসায় আসলো।
[গল্পটির মধ্যে তুলে ধরা হয়েছে আমাদের দেশে এখনও হাজার হাজার নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তারপরও তারা সন্তানদের কথা ভেবে সহ্য করার ক্ষমতা রাখে এবং সমাজেরহীন দৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য স্বামীর সংসার করে যায় কিন্তু শেষ রক্ষা হয় না।
যাদের গল্পটা ভালো লাগবে না তারা ইগনোর করুন। ভুলত্রুটি হলে দুঃখিত]]
চলবে
"তোদের সংসারে এতো ঝামেলা হয়েছে যে শেষ পর্যন্ত ডিভোর্স দিয়ে দিয়েছিস আর আমাদের জানানোর প্রয়োজন বোধ মনে করিস নি" (বড় ভাই)
"হ্যাঁ আমরা সবাই বুঝিয়ে বললে হয়তো রোহান তোর সাথে থাকতো " (ছোট ভাই)
"কম চেষ্টা তো করি নি ওর সাথে থাকার জন্য আর তোমরা যেনো ওর সাথে এসব নিয়ে
কথা না বলো তা আমাকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে তাই তোমাদের অপমান করতে চাই
নি" (ইভা)
"একমাত্র আদরের বোন তোকে কোনো দিন একটা থাপ্পড় পর্যন্ত দেই
নি আর ও তোর সাথে এতো নিষ্ঠ ব্যবহার করেছে আর তুই আমাদের অপমানের কথা
চিন্তা করে কিছু না জানিয়ে ভুল করেছিস " (বড় ভাই)
"আমি মনে করি ইভা
তোমাদের না জানিয়ে কোনো ভুল করে নি কারন কোনো মেয়ে চায় না তার বাবার বাড়ির
লোকজনকে শশুড় বাড়ির কেউ অপমান করুক " (বড় ভাবি)
"তোমাদের কিছু বলতে গেলে আমার উপর, রাফিসার উপর নির্যাতন বেশি হতো। তোমার ভাবতে পারবে না রোহানের খারাপ রুপ কতোটা ভয়ানক " (ইভা)
"রোহানের বাবা মায়ের সাথে কথা বললো, ওনার ছেলের এতো সাহস হয় কিভাবে যে
আমার মেয়ের গায়ে হাত তুলে এমন কি দুধের বাচ্চার গায়ে হাত তুলতেও ছাড়ে
নি(বাবা)
" না বাবা ওর বাবা মা এসব কিছু জানে না আর ওনারা খুব ভালো। তাদের ছেলে খারাপ হয়ে থাকলে তাদের তো কোনো দোষ নেই (ইভা)
"ওদের তো ডিভোর্স হয়ে গেছে এখন আমাদের কোনো অধিকার নেই রোহান ভাইয়ের সাথে
এসব বিষয়ে কথা বলার আর যে নিজে থেকে সংসার করতে চায় না তাকে হাজার বার
বুঝিয়ে কোনো লাভ হয় না। এখন থেকে ইভা শুধু ওর সন্তানদের কথা ভেবে নিজেকে
শক্ত করবে (ছোট ভাবি)"
আমি ওদের কথা শুনে কান্না করে দিলাম, আল্লাহ বোধহয় আমাকে পুরোপুরি একা করে দেয় নি আমার পরিবার আমার পাশে আছে। মা আমাকে বুকে জড়িয়ে বললো,
"মা তুই কোনো চিন্তা করিস না আল্লাহ যা করে ভালো জন্যই করে, আমরা সবাই তোর সাথে আছি "
"সকাল থেকে এসে শুধু কথা শুনে যাচ্ছি, খাওয়া দাওয়া যে করতে হবে তা কি কারো মনে আছে? সবাই খেতে এসো " (বড় ভাবি)
"আমি কিছু খাবো না এখন একটু ঘুমাবে " (ইভা)
"শোনো বাপু আমাদের বাসায় থাকতে হলে আমাদের কথা শুনে চলতে হবে, এখন খেতে চলো (ছোট ভাবি)
" তুই বিকেলে রেডি হয়ে থাকিস ডক্টরের কাছে নিয়ে যাবো "(ছোট ভাই)
" না ভাইয়া দু দিন পরে যাবো মন মেজাজ একদম ভালো লাগছে না "(ইভা)
" এবার তোর কথা শুনলাম এর পরে আর না "(ছোট ভাই)
আমার খাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই তাও মা জোর করে খাইয়ে দিলো।
রাফিসার খেলার সাথী তিন্নি, তিয়াসকে পেয়ে খুব খুশি। ও ভাবে ওর বাবা কিছু
দিন পরে আমাদের নিতে আসবে কিন্তু ওর ভাবনা যে সত্যি হওয়ার না।
তিন্নি বড় ভাইয়ের মেয়ে, চতুর্থ শ্রেনীতে পড়ে আর তিয়াস ছোট ভাইয়ের ছেলে, দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়ে।
আমি শুয়ে শুয়ে ভাবতেছি রোহানের সাথে প্রথম দেখা। ওর বাবা- মা, কাকা- কাকি,
মামা-মামি, বন্ধুরা, কাজিনরা আর ও আমাকে দেখতে এসে এনগেজমেন্ট হলো।
বাবা-মাকে বলেছিলাম তাদের পছন্দ করা ছেলেকে বিয়ে করবো তাই দেখতে এসে
এনগেজমেন্টে কোনো আপত্তি করি নি। সেদিন আমি লাল রংয়ের শাড়ি পরে ছিলাম আর ও
কালো রংয়ের শার্ট। সুন্দর মানুষদের কালো রংয়ে বেশি সুন্দর লাগে।
দুজনে আলাদা ভাবে কথা বলতে গেলাম তখন ও বললো,
-আপনি পরিবারের চাপে পড়ে বিয়ে করবে না, যদি নিজের ইচ্ছে থেকে বিয়ে করতে চান তাহলে আমার সাথে বিয়ে হবে নয়তো না।
-না আমি কারো চাপে পড়ে বিয়ে করতে যাচ্ছি না। নিজের ইচ্ছে
-তাহলে আমারও বিয়ে করতে সমস্যা নেই।
-আপনার পছন্দের কেউ আছে নাকি?
-আরে না না আপনাকে পছন্দ করে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছি
-আমাকে আপনি আগে থেকে চিনেন কিভাবে?
-আপনি কলেজ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তখন আপনাকে দেখে ভালো লাগে তারপর আপনি যে রিকশায় ছিলেন ওটা ফলো করে আপনার বাড়ির ঠিকানা পেয়ে যায়।
-হাহাহাহ্ হতেও তো পারতো আমি বাসায় না এসে অন্য কোথাও গেলাম সেখানেও কি আপনি আমাকে ফলো করে যেতেন??
-যাওয়ার দরকার হতে অবশ্যই যেতাম।
-ওহ্ আচ্ছা (একটু মুচকি হেসে)
-ওভাবে হাসবেন না বুকে লাগে, এতো সুন্দর হাসি
-হাহাহাহ্
দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ওর একটা বন্ধু বললো,
-আর কতো কথা বলবি, বাসার রাতের জন্য কিছু কথা তুলে রেখে এখন চল। সবাই তোদের জন্য অপেক্ষা করছে।
-হুম চল।
কয়েক দিনের মধ্যে আমাদের বিয়ে হয়ে গেলো। কতো সুন্দর ছিলো পাঁচ বছরের
স্মৃতিগুলো, ভালোবাসাও কোনো কমতি ছিলো না। একে অপরের ছায়া হয়ে থাকতাম সব
সময়। বাসর রাতে ও আমাকে একটা ব্রেসলেট দিয়ে বলেছিলো সারাজীবন যেনো হাতে
রাখি। আমার হাতে এখনও আছে শুধু মানুষটি নেই ।
রাফিসা আমার কাছে এসে বললো,
-আম্মু দেখো আমাকে এতোগুলো চকলেট, চিপ দিয়েছে
-কে দিয়েছে?
-তাকে চিনি না তো
-তোমাকে বলেছি না যে অপরিচিত কেউ কিছু দিলে নিবে না
-উনি তো নানাদের বাসায় এসেছে তারপর আমাকে দেখে এসব দিয়েছে
-এমন কে এসেছে, চলো তো গিয়ে দেখি।
চলবে,,,,,






No comments:
Post a Comment