#দুইমুখী
#লেখক : ঐশী
,
,
আমি প্রেগনেন্ট ,ফাহিম।আমার মাঝেও একজন বেড়ে উঠছে,,,".
.
তিন বছরের সম্পর্ক আমাদের ।কখনো তাকে জড়িয়ে পর্যন্ত ধরিনি আর সে কি না এখন বলছে সে মা হতে চেলেছে ।সে নিশ্চই মজা করছে হয়তো ।তাই বললাম,,
--এ কেমন মজা ,প্রীতি ?সব কিছুর একটা লিমিট থাকে ।আর এসব বিষয়ে ফাজলামো করার তো প্রশ্ন ই উঠে না তাই না ?(ফাহিম)
--এটা একদম সত্য ।বিশ্বাস না হলে এই যে রিপোর্ট গুলো ধরো ।আর এই যে উপরে দেখো আমার নাম টা ই লেখা ।(প্রীতি)
প্রীতির সব কাগজ পত্র দেখে মাথা ঘুরাতে শুরু করলো ।এ কিভাবে সম্ভব ?ওর সাথে তো আমি শারীরিক কোনো সম্পর্ক করিনি ।তার মানে কি সে অন্য কারো সাথে,,।এসব ভাবতে ভাবতেই বললাম,,
--তা আমার সাথে টাইম পাস করে কি মজা পেলে ?(ফাহিম)
প্রীতি একদম নিশ্চুপ ।আমি ভালো মতো খেয়াল করলাম সে কাদঁছে ।জানি এই কথার কোনো উওর আসবে না ।আমি একগাল হাসি দিয়ে বললাম,,,
--কি সমস্যা ?কাদঁছো কেনো ?তোমার বফ তোমাকে রেখে চলে গেছে তাই না ?কোনো চিন্তা করো না ।এই গরীব ছেলেটাই তোমাকে বিয়ে করবে ।আর তুমি তো তাকে বিশ্বাস করেছিলে তাই না ?ঠকেছো তো কি হইছে আমি তো আছি না ?এই একবার বিশ্বাস রাখো আমার উপর তোমার সব ঠিক হয়ে যাবে ।(ফাহিম)
--ফাহিম,তুমি এটা মোটেও আশা করোনি তাই না ।তুমি না বুঝেই এমন করছো ।আগে আমার পুরো কথাটা শুনো ,,,,(প্রীতি)
--আমার অতীত শুনতে ভালো লাগে না ।আমি তোমাকে নিয়েই থাকবো ।চিন্তা করো না ।শুধু তোমার বাবা মা কে একটু ম্যানেজ করো ।আমার পরিবার আমি নিজেই বুঝবো ।(ফাহিম)
--তুমি সব কথা না শুনেই এমন সমস্যায় কেনো জড়াচ্ছো ?(প্রীতি)
--তুমি বাসায় যাও তো এখন সব ঠিক হয়ে যাবে ।(ফাহিম)
এভাবেই দিন যাচ্ছিলো ।আমি প্রীতিকে এতো ই ভালোবাসতাম যে তার সকল কিছু ই মেনে নিয়েছি ।সে তার সেই প্রেমিক এর কথা বলবে ,কিন্তু সেটা শুনতে চাই না ।আমি নতুন করেই সব কিছু সাজাতে চাই ।প্রীতি তার ফ্যামিলিকে বুঝাতে পেরেছিলো ।সে তার পরিবারকে বলেছিলো যে এটাই ফাহিমের বাচ্চা ।দুই পরিবারের কেউ ই মেনে নেয়নি ।সবাই তাদের সম্মানের কথা ভেবে ই বিয়েটা দিয়ে দেয় ।সব কিছু ভালো ই চলছিলো তাদের ।কিন্তু ফাহিম বিয়ের কয়েকদিন পর থেকেই প্রীতির সাথে খুব একটা কথা বলে না ।অফিস যায় আসে ।দরকার ছাড়া কেউ কথা ই বলে না ।এভাবে কি থাকা যায় ?বিয়ের প্রায় দুই মাস পর এক রাতে দুজনেই ঘুমাচ্ছিলো হঠাৎ প্রীতি চোখ মেলে দেখে ফাহিম নেই ।সে ভাবে হয়তো ওয়াশ রুম গেছে কিন্তু অনেকক্ষন হলো ফিরছে না ।সে একটা অজানা চিন্তায় পড়ে যায় ।সে বিছানা থেকে উঠে ধীর পায়ে বারান্দায় যায় ।যেয়ে দেখে ফাহিম কার সাথে যেনো ফোন এ কথা বলছে ।প্রীতি ফাহিম এর একটা কথা শুনে পুরো থমকে গেলো ।সে বলছিলো,,
--মামুনি,তোমার পরিক্ষা ভালো করে দিও ।ভালো রিজাল্ট করলে চকলেট কিনে দিবো,,
প্রীতি এই কথাটা একদম ই মেনে নিতে পারেনি ।তার মানে কি ফাহিম এর আগেও বিয়ে করেছে ?তাহলে কি সে আমাকেও পন্য হিসেবে ব্যাবহার করছে ?প্রীতির মনে হাজার প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে ।কিন্তু কোনো কিছুর সমাধান পাচ্ছে না ।প্রীতি তারাতারি ঘুমিয়ে যায় ।সকালে শুধু তার মাথায় এই একটা কথা ই আসছে ।কি করবে এখন সে ভেবে ই পাচ্ছে না ।সেদিন সকালে প্রীতি ফাহিমকে বললো,,
--তুমি কি আমার কাছে কোনো কিছু লুকাচ্ছো ?
এটেনশ : নেক্সট পেতে রিকু এবং ফলো করে রাখবেন! আইডিতে পেজ শেয়ার করা আছে নেক্সট পেজে দেয়া হবে!!
--কই না তো ।তোমাকে আবার কি লুকাবো ?এত কিছুর পরও তোমাকে ভালোবাসি বলেই তো বিয়ে করেছি তাই না ?
প্রীতি ভাবে আসলেই তো এটা তো ঠিক ।কিন্তু সে এমনও করতে পারে যে ভুগ করার জন্য আমাকে ব্যাবহার করছে ।প্রীতির প্রশ্নের সমাধান খুজেঁ পায় না ।সেদিন সন্ধায় ফাহিম ফোন বাসায় রেখে বাহিরে গেছিলো ।হঠাৎ একটা কল আসে তাতে লিখা তাসফিয়া,,।প্রীত
ি ভেবেছিলো হয়তো সে অফিসের কোনো পরিচিত কেউ ।কিন্তু কল রিসিভ করতেই সে যা শুনলো তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলো না ।তার মানে প্রীতির সব ধারনাই ঠিক ।ফাহিম আগেও বিয়ে করেছে ,তার আরেকটা পরিবার আছে ।সে যা শুনলো তা হলো,,,
--আব্বু,আমি ভালো পরিক্ষা দিয়েছি চকলেট কিনে দিতেই হবে ।কবে আসবে আব্বু?
প্রীতি কোনো কিছুর সমীকরন মেলাতে পারছিলো না ।সে ভাবছিলো ফাহিম এমন বেঈমানিটা কিভাবে করলো ?সে শুধু এটাই ভাবছিলো সমাজে হয়তো বেচেঁ থাকার কোনো রাস্তা নেই ।এসব ভাবতে ভাবতেই সে অনবরত কান্না করছিলো ।তখন ই ফাহিম এসে বলে,,
--তুমি আমার ফোন ধরলে কেনো ?
প্রীতি ভয়ে একদম নিশ্চুপ হয়ে গেলো,,,
গল্প #দুইমুখী
#পর্ব_০২
কল রিসিভ করতেই সে যা শুনলো তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলো না। তার মানে প্রীতির সব ধারনাই ঠিক। ফাহিম আগেও বিয়ে করেছে ,তার আরেকটা পরিবার আছে। সে যা শুনলো তা হলো,,,
--আব্বু,আমি ভালো পরিক্ষা দিয়েছি চকলেট কিনে দিতেই হবে। কবে আসবে আব্বু?
প্রীতি কোনো কিছুর সমীকরন মেলাতে পারছিলো না। সে ভাবছিলো ফাহিম এমন বেঈমানিটা কিভাবে করলো? সে শুধু এটাই ভাবছিলো সমাজে হয়তো বেচেঁ থাকার কোনো রাস্তা নেই। এসব ভাবতে ভাবতেই সে অনবরত কান্না করছিলো। তখন ই ফাহিম এসে বলে,,
--তুমি আমার ফোন ধরলে কেনো ?
প্রীতি ভয়ে একদম নিশ্চুপ হয়ে গেলো....
কি বলবে এখন কিছুই বুঝতে পারছে না। ফাহিম একটানে তার ফোনটা টেনে নিলো। প্রীতি চুপচাপ এক জায়গায় বসে রইলো। ফাহিম কোনো কিছু না বলেই ঘর থেকেই বেরিয়ে গেলো।ফাহিমের কোনো আচরন ই প্রীতির একদম ই ভালো লাগছে না। প্রীতির এখন অনেক খারাপ লাগছে কিন্তু কোনো কিছু ই সে প্রকাশ করছে না।
সে ভাবছে এই ভাবে আর কত? নিজে তো এর আগেই শেষ হয়েছি এখন ই কেনো আবার এমন হবে। সবাই প্রতারক, কেউ ভালো না। ঠিক তখন ই ফাহিম রুমে প্রবেশ করলো। প্রবেশ করেই বলতে শুরু করলো...
--কার সাথে কথা বলেছো জানো?
বিয়েতে একটা সুন্দর মেয়ে এসেছিলো না? দেখেছিলে না?
--হ্যা,সে তোমার মেয়ে হয়।এর থেকে বেশি কিছু জানার ইচ্ছা আমার নেই।
তোর মতো শয়তান কে বিয়ে করে অনেক বড় ভুল করেছি। তুই ও সেই নরপিশাচটার মতো ই। তুই ও খারাপ।আমার অসহায় এর সুযোগ নিয়েছিস।
এই কথা বলেই প্রীতি তার সমস্ত শক্তি দিয়ে ফাহিম কে চর মারলো। চর মেরেই প্রীতি রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।
ফাহিম কোনো কিছু ই বুঝতে পারছে না। ফাহিম শুধু ভাবছে সে কি এমন অপরাধ করলো যে এমন ভাবে তাকে চর মারলো? ফাহিম কোনো কিছু না ভেবেই বারান্দায় চলে গেলো। ফাহিম ভাবছে সেদিনকার কথা যেদিন তাদের প্রথম প্রেম শুরু হয়। এভাবেই দুই বছর প্রেম করে তারা হঠাৎ একদিন প্রীতি তার সাথে দেখা করবে বলেছিলো কিন্তু সেদিন সে আসেনি এরপর থেকেই প্রীতির পরিবর্তন ঘটে। মন খারাপ করেই থাকতো সব সময়। এমন কি তিন মাস তাদের দেখা বা কথা পর্যন্ত হয়নি। ফাহিম এই দিন গুলোতে একদম পাগল হয়েই যাচ্ছিলো। তারপর তারা দেখা করে, সব আগের মতো ই চলছিলো। তবে সে যে এই ক দিনে অন্য একটি রিলেশনে জড়িয়েছে তা ভাবতেও পারেনি। আর তার ভালোবাসা তো মাথ্যা ছিলো না তবুও তাকে বিতারিত হতে হচ্ছে। সেই প্রতারনার এক বিশেষ চিহ্ন তার গর্ভে পাচঁ মাসের বাচ্চা। তবুও তাকে ফাহিম ভালোবেসে বিয়ে করেছিলো। সব কিছু ভুলে এক সাথে থাকতে চেয়েছিলো।
কিন্তু কি কারনে তাকে এভাবে প্রীতি চর মারলো এটাই বুঝতে পারছে না ।ফাহিম এক রকম একা ই ঠাই দাড়িয়ে এগুলো ই ভাবছে। সেদিন রাতে তারা ঘুমিয়েছে ঠিক ই কিন্তু কেউ কারো সাথে একটা কথাও বলেনি।
এরপর দিন সকালে প্রীতি ব্যাগ গোছিয়ে চলে যাচ্ছিলো। হঠাৎ ফাহিম বলে উঠলো,,
--কোথায় যাচ্ছো? এত বড় ব্যাগ গুছিয়ে ?
--তুমি কি ভেবেছো বলোতো? আমি নষ্টা? এই পেটে কি পাপের ফল ?হ্যা,আমি তাই ই,,সবাই তো আমার চরিত্র নিয়েই কথা বলবে। তুমিও তো সেই সুযোগ নিয়েছো। আমাকে বিয়ে করেছো দয়া দেখানোর জন্য। তোমার বউ,সন্তান আছে সেটা আমি জেনে গেছি। তুমি সুধু আমাকেই ধোকা দাও নি তোমার পরিবারকেও দিয়েছো।তোমার সাথে থাকতে আমার ঘৃনা করছে এখন। দয়া করে আমার মতো পাপি কে আর শেষ করে দিয়ো না।
এই কথা বলেই প্রীতি হনহন করেই চলে যায়।
ফাহিম কত রিকুয়েষ্ট করলো সেদিন সে ফিরেও তাকায়নি সেদিন। এর মাঝেই ফাহিম তার বাসায়ও যায় তার বাবা মাও তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে। কিছু দিন পর ফাহিম অফিসের কাজে ছয় মাসের জন্য চলে যায় বিদেশ।
#নোটঃ গল্পগুলো আপনার টাইমলাইনে দ্রুত পেতে "#following_see_first" দিয়ে রাখুন।
আর সবাই গঠন মূলক মন্তব্য করবেন।আপনাদের গঠনমূলক মন্তব্য আমাদেরকে উৎসাহ দেয়। এমন আরো অনেক সুন্দর সুন্দর গল্প পাবেন #Relationship_Goals_Bd এই পেইজে।
ধন্যবাদ ইতিঃ (#তানিম_চৌধুরী)গল্পের মাঝে বিরক্ত করার জন্য দুঃক্ষিত।
প্রীতির সাথে কথা দেখা কোনো কিছু ই হয় না তার। প্রীতিও একা একা ই থাকতো। একদিন প্রীতি ওর খালার বাসায় যাচ্ছিলো হঠাৎ আচমকা তার সামনে চলে আসে শাকিল। প্রীতির সাথে অনেক কথা বলার চেষ্টা করে কিন্তু সে কোনো কথা না বলেই চুপচাপ চলে যায়।
শাকিলঃ ফাহিম আর প্রীতির সব বিষয় ই জেনে যায়। প্রীতিকে তার পরিবার থেকে সবাই অকথ্য বাসায় কথা শুনতে হয়। এভাবে আরো বেশ কিছুদিন কেটে যায় প্রীতির ,শাকিলও ফলো করতে থাকে।
এর মাঝেই একদিন প্রীতির প্রসব বেদনা উঠে। ভাগ্যের এক পরিহাস তার একটা মৃত মেয়ে জন্ম হয়। প্রীতি সামান্য তমও মন খারাপ করেনি।কারণ এই বেবির জন্য অনেক কথা শুনতে হয় তার। না জানি জন্ম নিলে আরো কত কিছু শুনতে হত। তাই সে একটুও মন খারাফ করেনি বেবি মৃত হওয়াতে।
প্রীতি বাসায় একা একা ই থাকতো।পরিবারের সবার উপর আর ভালোবাসার উপর তার বিশ্বাস একদম ই চলে গেছে। সে শুধু ভাবে জীবনটা কিভাবে যাবে। কিন্তু শাকিল এর মাঝে ঘটালো এক অঘটন। সে তার পরিবার নিয়ে প্রীতির বাসায় প্রস্তাব পাঠালো।প্রীতি সবার সামনেই এসব বিয়ে ভেঙে দেয়। সে তার বাবা মায়ের সাথে সিলেট চলে যায়। সিলেটে এসে একা একা ই থাকতো আর ভাবতো ফাহিম তাকে এই দিন গুলোতে একবার ও খোজ নেয়নি।তার জীবনটা এমন হয়ে যাবে সে কল্পনাও করতে পারেনি। ফাহিমের উপর শুধু তার ঘৃনা হচ্ছে। সেও নিজে আরেক বিয়ে করলো কিভাবে। এসব ভেবেই তার কান্না আসে। সে ভাবে তার এই কর্মের জন্য তো সে একদম ই দায়ী না। তার ভাগ্য ই তো তাকে এমন করেছে। কিন্তু বিপত্তি ঘটলো সেখানেও শাকিল যেয়ে উপস্থিত। প্রীতি তার সাথে মোটেও কথা বলতো না। কিন্তু সে প্রতিদিন প্রীতিদের বাসায় আসা যাওয়া করতো। প্রীতির বাবা মা এর মন ঠিক ই জয় করে নিয়েছে শাকিল। অবশেষে বাবা মা এর জোড়ে বিয়ে ঠিক হয় শাকিল এর সাথে প্রীতির।
প্রীতি শুধু কান্না করতে করতে বলেছিলো,এখনো আমার আর ফাহিমের ডিভোর্স হয়নি। প্লিজ এসব বন্ধ করো।একা ই জীবন কাটিয়ে দিবো,, কিন্তু কেউ শোনেনি তাদের কথা। বিয়ের কার্ড পাঠানো হয় ফাহিমের বাসায়। ফাহিম এর পরের দিন ই বাসায় এসেই কার্ড দেখে কেদেঁ উঠে। সিলেট ময়মনসিংহ হতে অনেক দূরের পথ। তবুও ফাহিম বিদেশ থেকে ফিরেই চলে যায় সিলেটে। প্রীতিদের বাসায় অপমান ছাড়া কিছুই পায়নি ফাহিম।
যখন সে বাসা থেকে বের হয় তখন ই দেখতে পায় শাকিল প্রীতির হাত ধরে হেটে আসছে ।ফাহিম শুধু সামনে যেয়ে একটা কথাই বলেছিলো,,
--১০ মিনিট কথা বলার সময় হবে?
শাকিল এই কথায় ই ফাহিম এর উপরে হাত তুলে।প্রীতি যান্ত্রিক রোবটের মতো সেই সব দেখছিলো। হঠাৎ বলে উঠলো ঠিক আছে,,,,
এখন ফাহিম আর প্রীতি ছাদে দাড়িয়ে আছে। ঠান্ডা বাতাসে ফাহিম বলে উঠলো,,,
নিয়ম মতো update পেতে- #Relationship_GoalsBd -পেইজটি লাইক দিয়ে রাখুন।
--যেই হাত আমার ধরে থাকার কথা সেই হাত অন্য কেউ ধরে রেখেছে। মূল কথায় আসি। আমার একটা বন্ধু ছিলো সে বিয়ে করেছিলো ঠিক ই কিন্তু তার সন্তান হচ্ছিলো না। প্রথম বউ চলে যায় ,দ্বীতিয় বার বিয়েটা অনেক জোড় করে দেই। যখন বন্ধুর বউ এর বাবু হবে ঠিক তিন মাস আগেই বন্ধু গাড়ি দূর্ঘটনায় মারা যায়। বাচ্চা টা হয় ঠিক ওর মারা যাওয়ার ঠিক এক বছর পর।আর এই দিকে ওর মাও ক্যান্সার এ আক্রান্ত হয়। তার বউ একদিন বাসায় এসে বললো,আপনার বন্ধুর খুব সখ ছিলো একটা মেয়ে হওয়ার।কিন্তু আমিও হয়তো থাকবো না। আপনি উনার প্রিয় বন্ধু আমি চাই না আমার মেয়ে অনাথ হিসেবে বড় হোক। যদি বেচেঁ না থাকি আপনি দেখে রাখবেন।
বছর ২ পরে চলে গেলো ভাবী। আমি ঢাকায় থাকার সময় মেয়েটাকে নিয়েই থাকতাম। যখন সে ক্লাস টু তে পড়ে তখন ই আমাদের বিয়ে ঠিক হয়। তাকে ঢাকায় পাশের বাসার এক আন্টির কাছে রেখে এসেছিলাম। সে প্রতিদিন কল দিতো। কান্না করতো অনেক। আব্বু ই ডাকে আমাকে। তুমি সেদিন কলটা ধরে ছিলে ঠিক ই কিন্তু কোনো কিছু বলার সুযোগ দাওনি আমাকে।
ঠিক তখন ই একটা সুন্দর মেয়ে আমাদের সামনে এলো।প্রীতি কিছু বুঝে উঠার আগেই ফাহিম বলে উঠলো,এই সেই মেয়ে তাসফিয়া।
--আব্বু,এটাই তো আম্মু তাই না?(তাসফিয়া)
--হ্যা,তুমি একবার দেখতে চেয়েছিলে তাই এই একবার ই শেষ। আর কখনো বলবে না।(ফাহিম)
প্রীতি কোনো কিছুর জন্যই প্রস্তুত ছিলো না। তাসফিয়া এক দৌড়ে প্রীতিকে জড়িয়ে ধরে। আর কেদেঁ কেদেঁ বলতে থাকে,,,
--আম্মু তুমি যেয়ো না। আমি অনেক কান্না করি তোমার জন্য। তোমাকে নিয়ে যাবো ক্লাসের সবাইকে দেখাবো যে আমারও আম্মু আছে।
প্রীতি একটু শব্দও করেনি।তাসফিয়াকে গাড়িতে বসিয়ে রেখে আবার তারা হাটতে থাকে।প্রীতি এর মাঝেই বলতে শুরু করে,,,
--তুমি কি জানো আমার জীবনের কেনো এমন পরিনতি? আমি তোমাকে ছাড়া আর কাউকেই ভালোবাসিনি বিশ্বাস করো একবার,আর বাচ্চাটাও নষ্ট হয়ছে।এতে খুশি হয়েছি ঠিক ই কিন্তু তোমাকে তো হারালাম,,
--তুমি অন্য কাউকে ভালোবাসতে সেটা প্রমান এর জন্য ই তো তার কাছে গিয়েছিলে কিন্তু সে ধোকা দিয়েছে,,,
তখন ই শাকিল বলে উঠলো পিছন থেকে ১০ মিনিট তো অনেক হলো।এবার তুই যাবি এখান থেকে?
প্রীতি কর্নপাত না করেই বলতে শুরু করলো,,
--আমার সব কথা শোনো আমি সব সত্যি বলছি ,,
কিন্তু ততোক্ষনে ফাহিম কে আবার মারতে থাকে শাকিল। কথা বলা হয়ে উঠেনা প্রীতির। ফাহিম চলে যায়।গাড়িতে উঠতেই তাসফিয়া বল উঠলো,,
--দাড়াও আম্মুকে নিয়ে আসি ,,
ফাহিম তাকে একটা ধমক দেয়।সে কান্না করতে করতে একটা কথাই বলছিলো,,,
--আম্মুকে আর একবার দেখবো ,আর একবার। নিয়ে যাবো আমাদের সাথে।আমি যাবো না তোমার সাথে।
কিন্তু গাড়ি থামে না। চলছে তার মতো ই.....
ফাহিম ভাবছে হোক না সব কিছু আগের মতো। সুখী থাকুক প্রিয় মানুষ।কত দূরে নিয়ে যাবো এই স্বপ্ন গুলো থাক না অপূর্ন। তাসফিয়া কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে যায়। ফাহিম ভাবছে সত্য কথা তো বলতে পেরেছে এটাই শান্তি।
হয়তো আজকেই হবে তাদের সুখী জীবনের শুরু।হয়তো আর কখনই দেখা হবে না,,,
আজকে সবাই কমেন্ট করেছেন তাই ২ পর্ব দিলাম। কমেন্ট না করলে আবারও দেরি করে গল্প পাবেন।একজনে ২/৪ টা কমেন্ট করলে অনেক গুলা কমেন্ট হয়ে যায়।কমেন্ট করলে ৩য় পর্ব তারাতাড়ি পাবেন।
#দুইমুখী
#শেষ_পর্ব
#
--আম্মুকে আর একবার দেখবো ,আর একবার ।নিয়ে যাবো আমাদের সাথে ।আমি যাবো না তোমার সাথে ।(তাসফিয়া)
কিন্তু গাড়ি থামে না ।চলছে তার মতো ই ।ফাহিম ভাবছে হোক না সব কিছু আগের মতো ।সুখী থাকুক প্রিয় মানুষ ।কত দূরে নিয়ে যাবো এই স্বপ্ন গুলো থাক না অপূর্ন ।তাসফিয়া কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে যায় ।ফাহিম ভাবছে সত্য কথা তো বলতে পেরেছে এটাই শান্তি ।হয়তো আজকেই হবে তাদের সুখী জীবনের শুরু ।হয়তো আর কখনই দেখা হবে না,,,।এই রাতেও যেনো ঘুম নেই ফাহিমের ।কি ভেবেচিলো আর কি হলো এটা ভাবতেই তার কান্না পাচ্ছে ।কিন্তু সে নিশ্চুপ দাড়িয়ে আছে ।অন্য দিকে আজ রাতেই বিয়ের জন্য প্রস্তুত শাকিল ।প্রীতির কোনো কথা ই সে শুনবে না ।প্রীতি তার বাবা মাকে বুঝানোর চেষ্টা করেছে তবে পারেনি ।বিয়ের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে,এখন শুধু সময়ের পালা কখন হবে সেই শুভ সময় ।চারদিকে মানুষের আনা গোনা আর আনন্দের উল্লাস ।তবুও যেনো যার জন্য এতো আয়োজন সে ই চুপ রয়ে গেলো ।অনেক কিছুর পরও কোনো কিছুর সমীকরন মিলাতে পারছে না ।প্রীতি নিজেই ভাবছে সে একটা দুইমুখী মানুষ ।সাপ যেমন দুইমুখী হয় সেও তেমন ই ।তা না হলে একবার বিয়ে হওয়া সত্তেও সে আবার শাকিলকে বিয়ে করছে ?আর সেই নিষ্পাপ মেয়েটার আর্তনাদ বার বার তার চোখে ভেসে উঠছে ।বিয়ে শুরু হওয়ার আগে সবাই যেমন আনন্দে ছিলো এখন সে তেমন নেই ।কারন প্রীতি তো এসবের কিছুতে তাই তার মত নেই ।সে এখনও ফাহিম নামক ছেলেটিকেই ভালোবাসে ।প্রীতিকে এক প্রকার জোড় করেই বিয়ের আসরে বসানো হয় ।সে চুপ করেই বসে আছে ঠিক ই অনবরত তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে ।হঠাৎ শোনা গেলো কোনো সমস্যার কথা ।বিয়েটা ভেঙে গেছে ,কারন সবার মুখে একটাই কথা ছিলো শাকিল একটা ধর্ষক ।প্রীতি এই কথা শোনা মাত্র ই সেখান থেকে উঠেই চলে যায় শাকিল এর কাছে ।যেয়েই একদম মুখে থুথু ছুড়ে দেয় ।শাকিল মাথা নিচুঁ করেই আছে ।পিছন থেকে প্রীতির বাবা বলে উঠলো কি কারনে ওকে ধরে নিচ্ছেন ?
--আপনার মেয়ে নিজেই তো মামলা করেছে ।সমাজে এমন পশু অনেক আছে ।আমরা তাকে ধরতেই পারতাম না ।আপনার মেয়ের সাথে যেটা হয়েছে সেটার কোনো প্রমান ই পাচ্ছিলাম না ।শুধু একটা চিঠি পেয়েছিলাম ওখানে কিন্তু কার হাতের লেখা বুঝতে পারিনি ।গতকাল ই শাকিল এর আরেক প্রেমিকা সুসাইড করেছে ।তার কাছে এই হাতের লেখার চিঠি পেয়েছি ।হয়তো ও যেদিন আপনার মেয়ের সাথে এমন করবে ঐ দিন ই সে এই চিঠিটা ঐ মেয়েকে দিতে চেয়েছিলো কিন্তু ভুল বসতো সেটা ফেলে আসে ।আর বাকি কাজ টা তো একদম স্পষ্ট ই হয়ে গেলো,,(পুলিশ)
চারদিকে মানুষজন চুপ করে রয়েছে ।প্রীতি শাকিলকে চর মেরেছে চিৎকার করে বলছিলো,তুই জানোয়ার,তোর শিক্ষা যেনো আল্লাহ ই করে ।এখন কি জন্য এখানে এসেছিস ?
--কি জন্য আবার আপনার বাবার অর্থ সম্পওি ,,,সব প্রমান নিয়েই এসেছি ।(পুলিশ)
গতকাল ফেসবুক এ সুসাইডের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ।সবার ই একটাই কথা এমন পশুর মৃত্যু চাই ।কিন্তু প্রীতি সে তো কিছু ই করেনি ?কেনো ই বা সে এমন পরিস্থিতির শিকার হবে ?সমাজের মানুষ গুলোও এখন যেনে যাবে ।সমাজ তাকে কখনই মেনে নেবে না ।বিয়ের এই চুপ থাকার মাঝেও কেউ একজন পিছন থেকে বলে উঠলো "ধর্ষিতা" ।প্রীতি অনবরত কাদঁছে ,এখন তার বাবা মাও চুপ রয়েছে ।শাকিলের ক্রাস ফায়ার ওয়ারন্ট করা হয়েছে ।প্রীতি কি করবে এখন ?বিয়ের মজলিস সব খালি হয়ে গেলো ।
--
মাঝ পথে গাড়ি নষ্ট হওয়ায় কি করবে ফাহিম বুঝে উঠতে পারে না ।ভাবনায় সে এখনো ডুবে আছে ।এই গভীর রাতেও সুধু প্রীতির কথাই শুধু মনে পড়ছে ।প্রীতির কান্না দেখে তার বাবা কাছে এলো ।কাছে এসে বললো,,
--সময় টা এখন ই,,(একটু হেসে)
প্রীতি কোনো কথা না বলেই ।গাড়ি নিয়ে তার বাবা মা এর সাথে দ্রুত রওনা দিলো ।এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা কখন মিলবে তাদের দুজনের ভালোবাসা ।রাতে রাস্তা খালি থাকায় দ্রুত গাড়ি চলছে ।গন্তব্যে পৌছে চলে গেলো বাসায় ।যেয়েই দেখলো ফাহিম উপরের এক পাশের বাসার রুম থেকে বের হচ্ছে ।প্রীতি কাদতে কদতে বললো,,
--এই তুমি ঐখানে কি করো ?বউ রেখে অন্য ঘরে যাও ?ছি: ছি: ,,,তুমিও শেষ পর্যন্ত এমন করলে ?এতো দূর থেকে আসলাম আর তুমি কি না ,,(কাদতে কদতে প্রীতি)
--আরে তেমন কিছু না,,(ফাহিম)
--মিথ্যা কেনো বলো ?নিজের চোখেই তো দেখলাম,,(প্রীতি)
--ভুল দেখেছো ,,সে ওখানেই থাকে ওর বান্ধুবির বাসা ঐটা আমি যখন থাকি না তখন সে ওখানেই থাকে ।আর আজকে তার আম্মুকে ফেলে এসেছি তাই সে আর আমার সাথে থাকবে না ।বিশ্বাস না হলে গিয়ে দেখো যাও,,(ফাহিম)
--দরকার নেই,,,
--তুমি এখানে কেনো ?বিয়ে করেই এসে পড়েছো ?কাল ই হানিমুন যাবে তাই এই রাতটা এখানে থাকবে নাকি ?শাকিল কোথায় দেখছি না যে,,(ফাহিম)
প্রীতি কোনো কিছু না বলে ফাহিম এর হাত ধরে ছাদঁ এ গেলো ।প্রীতি ফাহিমের হাতটা শক্ত করে ধরতে চেয়েছিলো কিন্তু ফাহিম ছেড়ে দিয়েছিলো ।হঠাৎ প্রীতি বলতে শুরু করলো,,,
--তোমার সাথে তিন মাস দেখা করিনি ।যেদিন তোমার সাথে দেখা করার কথা সেদিন যাচ্ছিলাম তোমার কাছেই কিন্তু সেদিন শাকিল নামক পশু আমাকে ক্লোরোফ্রম দিয়ে অচেতন করে ফেলে ।তার মুখে রোমাল ছিলো তাই চিনতে পারিনি ।তবে পুলিশ তাকে ঠিক ই ধরেছে তবে সেটা আজ ই ।সে জন্যই তোমার সাথে তিন মাস কথা বলিনি ।ভেবেছিলাম মরে যাবো কিন্তু পারিনি ।বিশ্বাস করো আমার কোনো দোষ নেই ।আমাকে সমাজ মেনে নেবে না তাই কাউকে জানাই নি ।বাবা মা জানতো ।এখন তুমি ফিরিয়ে দিলে আমার মৃত্যু ছাড়া কোনো উপায় নেই ।আমি সত্যি ই তোমাকে ভালোবাসি ফাহিম,,,(প্রীতি)
ফাহিম একদম চুপ ।প্রীতি কোনো সারা পাচ্ছিলো না ,ভেবেছিলো হয়তো ফাহিম তাকে মেনে নেবে না ।নেবে ই বা কেনো তার পরিবারও মানবে না এমন ধর্ষিতাকে ।ফাহিম চুপ হয়েই রইলো ,যখন ফিরে আসবো তখন ই সে বলে উঠলো,,
আমার আগের আইডি অনেকে ছিনেন নীল আলোর ধ্রুবক ইমন।এটা ডিজেবল।তাই এই আইডি খুললাম সবাই ফলোয়িন করে সাথে থাকুন।
--দুনিয়ার সব কিছু কি শরীর দিয়ে হয় ?আমি জানি না তোমাকে কতটা ভালোবাসি ।তবে তোমাকে হারালে যে আমি কতটা একা হয়ে যাবো সেটা হয়তো বুঝাতে পারবো না ।তোমার সাথে যা হয়েছে অনেক খারাপ হয়েছে ।তবুও তোমাকে হারাতে পারবো না ।আমি এখনও সেই ঠান্ডা হাত গুলো ধরে হাটতে চাই ।আমি চাই তোমাকেই ,,,,(ফাহিম)
আমি ফাহিম দুজনের মাঝেই এখন নিরবতা ।তবুও কান্না করে প্রীতি বলতে লাগলো,,
--এই ধর্ষিতা মেয়েকে বিয়ে করবে ?(প্রীতি)
--শরীর দেখে প্রেম করলে তো কবেই করতে পারতাম ।আমি চাই একজন ভালো মনের মানুষ ।তুমি যদি ভাবো যে তুমি অপবিত্র তবে আমার ভালোবাসার স্পর্ষেই না হয় হলে পবিত্র,,,হারাতে পারবো না কখনই,,,(ফাহিম)
প্রীতি কোনো কথা না বলেই ফাহিমকে জড়িয়ে ধরেছে ।দুজনেই কান্না করছে ।
---
ফাহিম যেয়ে তাসফিয়াকে নিয়ে আসলো ।কিন্তু সে কোনো ভাবেই আসে না ,তার একটাই কথা"আম্মু না আসলে যাবো না" ।ফাহিম তবুও ঘরে নিয়ে আসতেই দেখে তাসফিয়া দেখে যে তার আম্মু বসে আছে ।তাসফিয়া কোনো কথা না বলেই জড়িয়ে ধরলো প্রীতিকে ।সারা রাত আর ঘুমাতে পারেনি প্রীতি ।তাসফিয়া একটার পর একটা কথা বলেই চলেছে,প্রীতিরও বিরক্তি নেই ।
সকালে উঠে তাসফিয়া তার আম্মুকে নিয়ে টিভি দেখছে ।হঠাৎ টিভিতে ভেসে উঠলো,,"ব্রেকিং নিউজ,শাকিল নামক এক ধর্ষক ও তিন মেয়েকে অপহরন করার কারনে জনসম্মুখে ক্রস ফায়ার করেছে পুলিশ এর একটি দল" ।প্রীতি যেনো একটু শান্তি পেলো ।পেছনে ফাহিমও ছিলো,,।প্রীতি তাকে দেখেই বলে উঠলো,,
--আমি তো তোমাকে কিছু ই দিতে পারলাম না ,,(প্রীতি)
--ভালোবাসা দিচ্ছো এতেই হবে আর কিছুই লাগবে না,,(ফাহিম)
সারাদিন ঘুরেছে তারা,সকলের মুখেই ভালোবাসা পাওয়ার হাসি ।দুজনের মাঝখানে হাত ধরে হাটছিলো তাসফিয়া ।সে বল উঠলো,,
--বাবা,আম্মুর দিকে তাকায় থাকো কেনো ?আমি কি দেখতে একটুও সুন্দর না ?(তাসফিয়া)
এই কথা বলেই তাসফিয়া কাদঁতে শুরু করলো ।প্রীতি তাকে আদর করে বললো,,
--আমার মেয়েটাই বেশি সুন্দর ,,(প্রীতি)
আজও তাদের মুখে পূর্নতার হাসি,,,
""""সমাপ্ত"""
লেখক💖ইরফাত হোসেন ইমন।






No comments:
Post a Comment