আমি আবারও দৌড়ে আমার রুমে চলে আসলাম। ডয়ের টা খুলতেই চিঠি টা দেখতে পেলাম। চিঠি টার ভাজটা খুলে পড়তে শুরু করলাম,,,,,,
সুমাইয়া অরিন অরু!
________________
প্রিয়,
আজিজ
কেমন আছেন, জানি আপনি ভালো নেই! আর ভালো থাকবেনই বা কি করে, যে কাউকে বিশ্বাস করে ঠকে সে যে ভালো থাকতে পারে না তা আমার অজানা নয়। আপনি একটা মানুষ কে বিশ্বাস করে থাকতে দিলেন আর সে আপনার বিশ্বাস এর অমর্যাদা করে আপনারই ঘরে চুরি করে চলে গেলো।
জানেন আমিও ভালো নেই! আমি আপনার বাড়ি থেকে এতগুলো টাকা চুরি করে নিয়ে গিয়েও আমার বাবাকে বাচিয়ে তুলতে পারলাম। বাচিয়ে তুলতে পারলাম না বললে হয়তো ভুল হবে। মহান আল্লাহ তাআলা হয়তো চান নাই চুরির টাকা দিয়ে আমার বাবা সুস্থ হোক।
জানেন আমার বাবা কোনো দিন কোনো অন্যায় কাজ করে নাই। কারোর কোনো ক্ষতি করে নাই। সারাজীবন মানুষের সেবা করে গেছেন, অন্যের বিপদে আগে গিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু আমাদের বিপদের সময় কেউ আমাদের পাশে এসে দাঁড়ালেন না।
পারলে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আপনাদের একটা টাকাও আমি নষ্ট করি নাই। যা নিয়ে গিয়েছিলাম সব আছে এই বক্সের মধ্যে। আমার জন্য আপনাদের অনেক ঝামেলায় পরতে হয়েছে নিশ্চয়ই। কিন্তু বিশ্বাস করেন আমার পক্ষে করার কিছু ছিলো না। আমার বাবা কে বাচিয়ে তুলবার জন্য পাগল হয়ে গিয়েছিলাম আমি, তারপরও আমার বাবা কে বাচিয়ে তুলতে পারলাম না। যখন টাকাগুলো নিয়ে হসপিটাল এ উপস্থিত হলাম তখন ডাক্তার বললেন আমি নাকি দেরি করে ফেলেছি।
বাবার কেবিনে দৌড়ে গিয়ে দেখি ওনারা আমার বাবা কে সাদা কাপড় পড়িয়ে শুইয়ে রাখছেন। নাকের মধ্যে তুলো গুঁজে দিয়ে রাখছেন। আমার বাবা কে এমন অবস্থায় দেখে আমি স্থির ভাবে থাকতে পারিনি।
জানেন আমি তখন ডাক্তার এর কলার দুই হাতের মুঠো করে ধরে বলেছিলাম "ওই ডাক্তার আমার বাবার নাকের মধ্যে তুলো গুঁজে দিয়ে রাখছেন কেনো? আমার বাবার তো শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। ওই ডাক্তার আমার বাবার নাকের মধ্যে থেকে তুলো বের করে দেন না। দেখছেন না আমার বাবা শ্বাস নিতে পারছে না।
ডাক্তার তখন বললেন আমার বাবা নাকি আর এই পৃথিবীতে নেই। ডাক্তার এর কথা শুনে আমার নিজের কান কে বিশ্বাস করতে পারি নাই। আমার বাবা যে আর বেঁচে নাই এই কথা টা আমার ভাবতেও এখন আমার নিজেরই দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
দেখছেন কি সব আবোল তাবোল কথা বলে যাচ্ছি আপনাকে। আপনাকে কেনো বলছি এগুলো আমি নিজেও জানি না। হয়তো আর এই পৃথিবীতে আমার কেউ নাই তাই আপনাকে আমার সব কথা গুলো বললাম।
পারলে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন, আর আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন, তিনি যেনো জান্নাত বাসি হতে পারে। আল্লাহ যেনো তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।("আমিন") আর আমার জন্যেও দোয়া করবেন, আমিও যেনো আমার বাবার মতো মানুষের সেবা করে যেতে পারি। আর আমার বাবার অপূর্ণ থাকা স্বপ্ন টা পূর্ণ করতে পারি। ভালো থাকবেন।
ইতি,
অচেনা সেই মেয়েটি
সুমাইয়া।
চিঠি টা পড়ে আমার চোখের জলগুলো কে আর ধরে রাখতে পারলাম না। চোখের জল যেনো আপনাআপনি তার আপন গতিতে গড়িয়ে পরতে লাগলো। চিঠিতে এত কিছু লেখা থাকলেও আমার শুধু একটা কথায় মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগলো, " আমার বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন টা পূর্ণ করতে পারি।
হঠাৎ মাথার উপর কারো হাতের ছোঁয়া অনুভব করলাম। তাকিয়ে দেখি আম্মু পাশে বসে আছে। তার সাথে ভাবী, জীম, আর বুলবুল,। আমি নিজেকে আর সামাল দিতে পারলাম না, আম্মুকে জরিয়ে ধরে কান্না করে দিলাম।
আমি-- আম্মু!
আম্মু-- ধুর পাগল কি হয়েছে কান্না করার কি আছে হুম। আমিও চিঠি টা পড়েছি,! আর আমি চাই তুই ওই মেয়েটার পাশে দাঁড়া, ওর বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন টাকে সত্যি করে তোল।
আমি-- আম্মু?
আম্মু-- হুম, আমি তোর পাশে সবসময় আছি! আর বুলবুল আমাকে সব বলেছেন।
ভাবী-- হুম আজিজ আম্মা ঠিকই বলছেন, তুমি আজ থেকেই কাজে নেমে পরো।
বুলবুল-- হুম আজিজ আমি সবসময় তোর সাথেই থাকবো।
আমি-- কিন্তু সুমাইয়া কে এখন কোথায় খুঁজবো? আমি তো আর ওর ঠিকানা জানিনা।
জীম-- ভাইয়া তুই কি বলছিস এসব? এখন হলো ইন্টারনেট এর যুগ। আর বুলবুল ভাইয়া বললো তোরা নাকি ভাবীর ছবি একে নিয়ে এসেছিস। তাহলে এত কিসের টেনশন হুম?
আমি-- ভাবী কেরে?
ভাবী-- কেনো দেবর জ্বী হুম। বুলবুল আমাদের সব কিছু বলছে বুঝছেন।
আমি-- ওহ (শালা বুলবুল তোর পেটে যে কিছু থাকে না তা তো আমার মনে ছিলো না। আম্মুর দিকে তাকিয়ে দেখি আম্মু মিটমিট করে হাসছে।)
জীম-- ইশশশ আমার ভাইয়াটা দেখছি লজ্জা পেয়েছে। থাক ভাইয়া আর লজ্জা পেতে হবে না।
আম্মু-- ওই তোরা থামবি,! আজিজ যা তো বাবা আগে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে বুলবুল তুমিও ওর সাথে যাও। আর তোরা আমার সাথে আয়।
ভাবী-- হুম আম্মা চলেন।
তারপর আম্মু ভাবী আর জীম চলে গেল, আর এদিকে আমি আর বুলবুল ফ্রেশ নিলাম। তারপর খাওয়া দাওয়া করে বিকালের দিকে আমি আর বুলবুল বেরিয়ে পরলাম! উদ্দেশ্য সুমাইয়ার ঠিকানা খোঁজ করা।
বিকাল ৩টা
প্রায় পুরো শহর খোঁজ করা শেষ, কিন্তু কোথাও, অচেনা সেই মেয়েটির খোঁজ পেলাম না। খোঁজ করতে করতে একটা চাঁ এর দোকানে বসলাম,
আমি-- চাঁ খাবি?
বুলবুল-- হুম খাওয়া যায়।
আমি-- মামা দুই কাপ চা আর দুইটা বিস্কিট দিয়েন।
দোকানী-- জ্বি মামা। এই নিন।
চাঁ খাওয়া শেষ করে চাঁ এর দাম টা দিয়ে চলে আসতে গিয়েও থেমে গেলাম। তারপর ঘুরে আবার দোকানীর কাছে গিয়ে সুমাইয়ার ছবি টা বের করে দোকানী কে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,,,,
আমি-- মামা দেখেন তো এই ছবি টার মেয়ে কে চেনেন কি না?
দোকানী-- দেখি দেখি,,, আরে এটাতো হুবহু আমাদের অরু এর মতো দেখতে। আচ্ছা মামা আপনি ছবির পরিচালক নাকি মামা। আমাদের অরুকে নায়িকা বানাবেন নাকি মামা?
আমি-- আপনি কি সত্যি এই মেয়েটাকে চিনেন?
দোকানী-- হ মামা চিনুম না কেন, দ্যহো দেহি মামা কি কয়?
আমি-- ওনাকে আপনি কি ভাবে চিনেন মামা?
দোকানী-- আরে এত আমাগো মাষ্টার কাকার মেয়ে অরু। মাইয়াডার পোরা কপাল গো মামা, কালকে ওর বাপডা মইরা গেছে,। বাপ মরা মেয়ে দুই কুলে আর ওর কেউ রইলো না গো মামা।
আমি-- আচ্ছা মামা আপনি কি ওর বাড়ির ঠিকানার খোঁজ দিতে পারবেন?
দোকানী-- দ্যহো দেহি মামা কয় কি? খোঁজ দিবের পারুম না কেন?
আমি-- তাহলে যদি একটু বলতেন।
দোকানী-- মামা আপনি পোথোমে এই হোজা যাবেন, তারপর একখান গলি বাজবি, গোলিডো পার দিয়ে ডানের যে বাড়ি ওই বাড়ির পাশের বাড়িটার পিছনের বাড়ি টাই অরু দের বাড়ি।
আমি-- ধন্যবাদ মামা! এই নিন কিছু টাকা এইটা আপনার বকশিস। ওই বুলবুল তারাতাড়ি চল।
বিকাল ৫টা
সুমাইয়া এর দরজায় ঠকঠক আওয়াজ শুনতে পায় সুমাইয়া। সুমাইয়া এসে দরজা টা খুলতেই দেখতে পায় দুইটা মেয়ে আর একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে।
সুমাইয়া দরজা টা খুলতেই তারা হনহন করে ঘরের মধ্যে ডুকে পরেন। সুমাইয়া অবাক হয়ে তাদের কে জিজ্ঞেস করলেন,,,
সুমাইয়া-- আপনাদের তো ঠিক চিনতে পারলাম না?
একটা মেয়ে-- আমরা ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা, আমাদের কাছে ইনফরমেশন আছে, আপনি নাকি একটা বাড়িতে লুটপাট করেছেন?
সুমাইয়া-- চুপ করে আছে।
ছেলে টা-- আমরা বেশি কথা বাড়াতে চাই না, যা কথা হবার সব থানাতেই হবে। মিস. নাদিয়া
অন্য মেয়ে টি-- ইয়েস স্যার!
ছেলেটি-- ওনার হাত ও চোখ বেঁধে ফেলুন।
মেয়েটি-- ইয়েস স্যার।
সুমাইয়া-- স্যার যদি আমার কিছু কথা শুনতেন?
ছেলেটা-- এখন কোনো শোনা শুনি নাই! যা হবে সব থানাতেই হবে।
তারপর সুমাইয়া কে বেধে ফেলা হলো চোখ টা কালো কাপের বেধে দিয়ে একটা গাড়িতে বসিয়ে দেয়া হলো সুমাইয়া কে। গাড়ি চলছে তার আপন গতিতে, হঠাৎ,,,,,,,,?
চলবে,,,,,,,,,,,
বিঃদ্রঃ ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
আমি আবারও দৌড়ে আমার রুমে চলে আসলাম। ডয়ের টা খুলতেই চিঠি টা দেখতে পেলাম। চিঠি টার ভাজটা খুলে পড়তে শুরু করলাম,,,,,,
সুমাইয়া অরিন অরু!
________________
প্রিয়,
আজিজ
কেমন আছেন, জানি আপনি ভালো নেই! আর ভালো থাকবেনই বা কি করে, যে কাউকে বিশ্বাস করে ঠকে সে যে ভালো থাকতে পারে না তা আমার অজানা নয়। আপনি একটা মানুষ কে বিশ্বাস করে থাকতে দিলেন আর সে আপনার বিশ্বাস এর অমর্যাদা করে আপনারই ঘরে চুরি করে চলে গেলো।
জানেন আমিও ভালো নেই! আমি আপনার বাড়ি থেকে এতগুলো টাকা চুরি করে নিয়ে গিয়েও আমার বাবাকে বাচিয়ে তুলতে পারলাম। বাচিয়ে তুলতে পারলাম না বললে হয়তো ভুল হবে। মহান আল্লাহ তাআলা হয়তো চান নাই চুরির টাকা দিয়ে আমার বাবা সুস্থ হোক।
জানেন আমার বাবা কোনো দিন কোনো অন্যায় কাজ করে নাই। কারোর কোনো ক্ষতি করে নাই। সারাজীবন মানুষের সেবা করে গেছেন, অন্যের বিপদে আগে গিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু আমাদের বিপদের সময় কেউ আমাদের পাশে এসে দাঁড়ালেন না।
পারলে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আপনাদের একটা টাকাও আমি নষ্ট করি নাই। যা নিয়ে গিয়েছিলাম সব আছে এই বক্সের মধ্যে। আমার জন্য আপনাদের অনেক ঝামেলায় পরতে হয়েছে নিশ্চয়ই। কিন্তু বিশ্বাস করেন আমার পক্ষে করার কিছু ছিলো না। আমার বাবা কে বাচিয়ে তুলবার জন্য পাগল হয়ে গিয়েছিলাম আমি, তারপরও আমার বাবা কে বাচিয়ে তুলতে পারলাম না। যখন টাকাগুলো নিয়ে হসপিটাল এ উপস্থিত হলাম তখন ডাক্তার বললেন আমি নাকি দেরি করে ফেলেছি।
বাবার কেবিনে দৌড়ে গিয়ে দেখি ওনারা আমার বাবা কে সাদা কাপড় পড়িয়ে শুইয়ে রাখছেন। নাকের মধ্যে তুলো গুঁজে দিয়ে রাখছেন। আমার বাবা কে এমন অবস্থায় দেখে আমি স্থির ভাবে থাকতে পারিনি।
জানেন আমি তখন ডাক্তার এর কলার দুই হাতের মুঠো করে ধরে বলেছিলাম "ওই ডাক্তার আমার বাবার নাকের মধ্যে তুলো গুঁজে দিয়ে রাখছেন কেনো? আমার বাবার তো শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। ওই ডাক্তার আমার বাবার নাকের মধ্যে থেকে তুলো বের করে দেন না। দেখছেন না আমার বাবা শ্বাস নিতে পারছে না।
ডাক্তার তখন বললেন আমার বাবা নাকি আর এই পৃথিবীতে নেই। ডাক্তার এর কথা শুনে আমার নিজের কান কে বিশ্বাস করতে পারি নাই। আমার বাবা যে আর বেঁচে নাই এই কথা টা আমার ভাবতেও এখন আমার নিজেরই দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
দেখছেন কি সব আবোল তাবোল কথা বলে যাচ্ছি আপনাকে। আপনাকে কেনো বলছি এগুলো আমি নিজেও জানি না। হয়তো আর এই পৃথিবীতে আমার কেউ নাই তাই আপনাকে আমার সব কথা গুলো বললাম।
পারলে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন, আর আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন, তিনি যেনো জান্নাত বাসি হতে পারে। আল্লাহ যেনো তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।("আমিন") আর আমার জন্যেও দোয়া করবেন, আমিও যেনো আমার বাবার মতো মানুষের সেবা করে যেতে পারি। আর আমার বাবার অপূর্ণ থাকা স্বপ্ন টা পূর্ণ করতে পারি। ভালো থাকবেন।
ইতি,
অচেনা সেই মেয়েটি
সুমাইয়া।
চিঠি টা পড়ে আমার চোখের জলগুলো কে আর ধরে রাখতে পারলাম না। চোখের জল যেনো আপনাআপনি তার আপন গতিতে গড়িয়ে পরতে লাগলো। চিঠিতে এত কিছু লেখা থাকলেও আমার শুধু একটা কথায় মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগলো, " আমার বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন টা পূর্ণ করতে পারি।
হঠাৎ মাথার উপর কারো হাতের ছোঁয়া অনুভব করলাম। তাকিয়ে দেখি আম্মু পাশে বসে আছে। তার সাথে ভাবী, জীম, আর বুলবুল,। আমি নিজেকে আর সামাল দিতে পারলাম না, আম্মুকে জরিয়ে ধরে কান্না করে দিলাম।
আমি-- আম্মু!
আম্মু-- ধুর পাগল কি হয়েছে কান্না করার কি আছে হুম। আমিও চিঠি টা পড়েছি,! আর আমি চাই তুই ওই মেয়েটার পাশে দাঁড়া, ওর বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন টাকে সত্যি করে তোল।
আমি-- আম্মু?
আম্মু-- হুম, আমি তোর পাশে সবসময় আছি! আর বুলবুল আমাকে সব বলেছেন।
ভাবী-- হুম আজিজ আম্মা ঠিকই বলছেন, তুমি আজ থেকেই কাজে নেমে পরো।
বুলবুল-- হুম আজিজ আমি সবসময় তোর সাথেই থাকবো।
আমি-- কিন্তু সুমাইয়া কে এখন কোথায় খুঁজবো? আমি তো আর ওর ঠিকানা জানিনা।
জীম-- ভাইয়া তুই কি বলছিস এসব? এখন হলো ইন্টারনেট এর যুগ। আর বুলবুল ভাইয়া বললো তোরা নাকি ভাবীর ছবি একে নিয়ে এসেছিস। তাহলে এত কিসের টেনশন হুম?
আমি-- ভাবী কেরে?
ভাবী-- কেনো দেবর জ্বী হুম। বুলবুল আমাদের সব কিছু বলছে বুঝছেন।
আমি-- ওহ (শালা বুলবুল তোর পেটে যে কিছু থাকে না তা তো আমার মনে ছিলো না। আম্মুর দিকে তাকিয়ে দেখি আম্মু মিটমিট করে হাসছে।)
জীম-- ইশশশ আমার ভাইয়াটা দেখছি লজ্জা পেয়েছে। থাক ভাইয়া আর লজ্জা পেতে হবে না।
আম্মু-- ওই তোরা থামবি,! আজিজ যা তো বাবা আগে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে বুলবুল তুমিও ওর সাথে যাও। আর তোরা আমার সাথে আয়।
ভাবী-- হুম আম্মা চলেন।
তারপর আম্মু ভাবী আর জীম চলে গেল, আর এদিকে আমি আর বুলবুল ফ্রেশ নিলাম। তারপর খাওয়া দাওয়া করে বিকালের দিকে আমি আর বুলবুল বেরিয়ে পরলাম! উদ্দেশ্য সুমাইয়ার ঠিকানা খোঁজ করা।
বিকাল ৩টা
প্রায় পুরো শহর খোঁজ করা শেষ, কিন্তু কোথাও, অচেনা সেই মেয়েটির খোঁজ পেলাম না। খোঁজ করতে করতে একটা চাঁ এর দোকানে বসলাম,
আমি-- চাঁ খাবি?
বুলবুল-- হুম খাওয়া যায়।
আমি-- মামা দুই কাপ চা আর দুইটা বিস্কিট দিয়েন।
দোকানী-- জ্বি মামা। এই নিন।
চাঁ খাওয়া শেষ করে চাঁ এর দাম টা দিয়ে চলে আসতে গিয়েও থেমে গেলাম। তারপর ঘুরে আবার দোকানীর কাছে গিয়ে সুমাইয়ার ছবি টা বের করে দোকানী কে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,,,,
আমি-- মামা দেখেন তো এই ছবি টার মেয়ে কে চেনেন কি না?
দোকানী-- দেখি দেখি,,, আরে এটাতো হুবহু আমাদের অরু এর মতো দেখতে। আচ্ছা মামা আপনি ছবির পরিচালক নাকি মামা। আমাদের অরুকে নায়িকা বানাবেন নাকি মামা?
আমি-- আপনি কি সত্যি এই মেয়েটাকে চিনেন?
দোকানী-- হ মামা চিনুম না কেন, দ্যহো দেহি মামা কি কয়?
আমি-- ওনাকে আপনি কি ভাবে চিনেন মামা?
দোকানী-- আরে এত আমাগো মাষ্টার কাকার মেয়ে অরু। মাইয়াডার পোরা কপাল গো মামা, কালকে ওর বাপডা মইরা গেছে,। বাপ মরা মেয়ে দুই কুলে আর ওর কেউ রইলো না গো মামা।
আমি-- আচ্ছা মামা আপনি কি ওর বাড়ির ঠিকানার খোঁজ দিতে পারবেন?
দোকানী-- দ্যহো দেহি মামা কয় কি? খোঁজ দিবের পারুম না কেন?
আমি-- তাহলে যদি একটু বলতেন।
দোকানী-- মামা আপনি পোথোমে এই হোজা যাবেন, তারপর একখান গলি বাজবি, গোলিডো পার দিয়ে ডানের যে বাড়ি ওই বাড়ির পাশের বাড়িটার পিছনের বাড়ি টাই অরু দের বাড়ি।
আমি-- ধন্যবাদ মামা! এই নিন কিছু টাকা এইটা আপনার বকশিস। ওই বুলবুল তারাতাড়ি চল।
বিকাল ৫টা
সুমাইয়া এর দরজায় ঠকঠক আওয়াজ শুনতে পায় সুমাইয়া। সুমাইয়া এসে দরজা টা খুলতেই দেখতে পায় দুইটা মেয়ে আর একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে।
সুমাইয়া দরজা টা খুলতেই তারা হনহন করে ঘরের মধ্যে ডুকে পরেন। সুমাইয়া অবাক হয়ে তাদের কে জিজ্ঞেস করলেন,,,
সুমাইয়া-- আপনাদের তো ঠিক চিনতে পারলাম না?
একটা মেয়ে-- আমরা ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা, আমাদের কাছে ইনফরমেশন আছে, আপনি নাকি একটা বাড়িতে লুটপাট করেছেন?
সুমাইয়া-- চুপ করে আছে।
ছেলে টা-- আমরা বেশি কথা বাড়াতে চাই না, যা কথা হবার সব থানাতেই হবে। মিস. নাদিয়া
অন্য মেয়ে টি-- ইয়েস স্যার!
ছেলেটি-- ওনার হাত ও চোখ বেঁধে ফেলুন।
মেয়েটি-- ইয়েস স্যার।
সুমাইয়া-- স্যার যদি আমার কিছু কথা শুনতেন?
ছেলেটা-- এখন কোনো শোনা শুনি নাই! যা হবে সব থানাতেই হবে।
তারপর সুমাইয়া কে বেধে ফেলা হলো চোখ টা কালো কাপের বেধে দিয়ে একটা গাড়িতে বসিয়ে দেয়া হলো সুমাইয়া কে। গাড়ি চলছে তার আপন গতিতে, হঠাৎ,,,,,,,,?
চলবে,,,,,,,,,,,
বিঃদ্রঃ ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।














