Joy Bhaiya Youtube Channel

#অচেনা_সেই_মেয়েটি #পর্ব_৫ #লেখক_মোঃ_আঃ_আজিজ

আমি আবারও দৌড়ে আমার রুমে চলে আসলাম। ডয়ের টা খুলতেই চিঠি টা দেখতে পেলাম। চিঠি টার ভাজটা খুলে পড়তে শুরু করলাম,,,,,,
সুমাইয়া অরিন অরু!
________________
প্রিয়,
আজিজ
কেমন আছেন, জানি আপনি ভালো নেই! আর ভালো থাকবেনই বা কি করে, যে কাউকে বিশ্বাস করে ঠকে সে যে ভালো থাকতে পারে না তা আমার অজানা নয়। আপনি একটা মানুষ কে বিশ্বাস করে থাকতে দিলেন আর সে আপনার বিশ্বাস এর অমর্যাদা করে আপনারই ঘরে চুরি করে চলে গেলো।
জানেন আমিও ভালো নেই! আমি আপনার বাড়ি থেকে এতগুলো টাকা চুরি করে নিয়ে গিয়েও আমার বাবাকে বাচিয়ে তুলতে পারলাম। বাচিয়ে তুলতে পারলাম না বললে হয়তো ভুল হবে। মহান আল্লাহ তাআলা হয়তো চান নাই চুরির টাকা দিয়ে আমার বাবা সুস্থ হোক।
জানেন আমার বাবা কোনো দিন কোনো অন্যায় কাজ করে নাই। কারোর কোনো ক্ষতি করে নাই। সারাজীবন মানুষের সেবা করে গেছেন, অন্যের বিপদে আগে গিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু আমাদের বিপদের সময় কেউ আমাদের পাশে এসে দাঁড়ালেন না।
পারলে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আপনাদের একটা টাকাও আমি নষ্ট করি নাই। যা নিয়ে গিয়েছিলাম সব আছে এই বক্সের মধ্যে। আমার জন্য আপনাদের অনেক ঝামেলায় পরতে হয়েছে নিশ্চয়ই। কিন্তু বিশ্বাস করেন আমার পক্ষে করার কিছু ছিলো না। আমার বাবা কে বাচিয়ে তুলবার জন্য পাগল হয়ে গিয়েছিলাম আমি, তারপরও আমার বাবা কে বাচিয়ে তুলতে পারলাম না। যখন টাকাগুলো নিয়ে হসপিটাল এ উপস্থিত হলাম তখন ডাক্তার বললেন আমি নাকি দেরি করে ফেলেছি।
বাবার কেবিনে দৌড়ে গিয়ে দেখি ওনারা আমার বাবা কে সাদা কাপড় পড়িয়ে শুইয়ে রাখছেন। নাকের মধ্যে তুলো গুঁজে দিয়ে রাখছেন। আমার বাবা কে এমন অবস্থায় দেখে আমি স্থির ভাবে থাকতে পারিনি।
জানেন আমি তখন ডাক্তার এর কলার দুই হাতের মুঠো করে ধরে বলেছিলাম "ওই ডাক্তার আমার বাবার নাকের মধ্যে তুলো গুঁজে দিয়ে রাখছেন কেনো? আমার বাবার তো শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। ওই ডাক্তার আমার বাবার নাকের মধ্যে থেকে তুলো বের করে দেন না। দেখছেন না আমার বাবা শ্বাস নিতে পারছে না।
ডাক্তার তখন বললেন আমার বাবা নাকি আর এই পৃথিবীতে নেই। ডাক্তার এর কথা শুনে আমার নিজের কান কে বিশ্বাস করতে পারি নাই। আমার বাবা যে আর বেঁচে নাই এই কথা টা আমার ভাবতেও এখন আমার নিজেরই দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
দেখছেন কি সব আবোল তাবোল কথা বলে যাচ্ছি আপনাকে। আপনাকে কেনো বলছি এগুলো আমি নিজেও জানি না। হয়তো আর এই পৃথিবীতে আমার কেউ নাই তাই আপনাকে আমার সব কথা গুলো বললাম।
পারলে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন, আর আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন, তিনি যেনো জান্নাত বাসি হতে পারে। আল্লাহ যেনো তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।("আমিন") আর আমার জন্যেও দোয়া করবেন, আমিও যেনো আমার বাবার মতো মানুষের সেবা করে যেতে পারি। আর আমার বাবার অপূর্ণ থাকা স্বপ্ন টা পূর্ণ করতে পারি। ভালো থাকবেন।
ইতি,
অচেনা সেই মেয়েটি
সুমাইয়া।
চিঠি টা পড়ে আমার চোখের জলগুলো কে আর ধরে রাখতে পারলাম না। চোখের জল যেনো আপনাআপনি তার আপন গতিতে গড়িয়ে পরতে লাগলো। চিঠিতে এত কিছু লেখা থাকলেও আমার শুধু একটা কথায় মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগলো, " আমার বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন টা পূর্ণ করতে পারি।
হঠাৎ মাথার উপর কারো হাতের ছোঁয়া অনুভব করলাম। তাকিয়ে দেখি আম্মু পাশে বসে আছে। তার সাথে ভাবী, জীম, আর বুলবুল,। আমি নিজেকে আর সামাল দিতে পারলাম না, আম্মুকে জরিয়ে ধরে কান্না করে দিলাম।
আমি-- আম্মু!
আম্মু-- ধুর পাগল কি হয়েছে কান্না করার কি আছে হুম। আমিও চিঠি টা পড়েছি,! আর আমি চাই তুই ওই মেয়েটার পাশে দাঁড়া, ওর বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন টাকে সত্যি করে তোল।
আমি-- আম্মু?
আম্মু-- হুম, আমি তোর পাশে সবসময় আছি! আর বুলবুল আমাকে সব বলেছেন।
ভাবী-- হুম আজিজ আম্মা ঠিকই বলছেন, তুমি আজ থেকেই কাজে নেমে পরো।
বুলবুল-- হুম আজিজ আমি সবসময় তোর সাথেই থাকবো।
আমি-- কিন্তু সুমাইয়া কে এখন কোথায় খুঁজবো? আমি তো আর ওর ঠিকানা জানিনা।
জীম-- ভাইয়া তুই কি বলছিস এসব? এখন হলো ইন্টারনেট এর যুগ। আর বুলবুল ভাইয়া বললো তোরা নাকি ভাবীর ছবি একে নিয়ে এসেছিস। তাহলে এত কিসের টেনশন হুম?
আমি-- ভাবী কেরে?
ভাবী-- কেনো দেবর জ্বী হুম। বুলবুল আমাদের সব কিছু বলছে বুঝছেন।
আমি-- ওহ (শালা বুলবুল তোর পেটে যে কিছু থাকে না তা তো আমার মনে ছিলো না। আম্মুর দিকে তাকিয়ে দেখি আম্মু মিটমিট করে হাসছে।)
জীম-- ইশশশ আমার ভাইয়াটা দেখছি লজ্জা পেয়েছে। থাক ভাইয়া আর লজ্জা পেতে হবে না।
আম্মু-- ওই তোরা থামবি,! আজিজ যা তো বাবা আগে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে বুলবুল তুমিও ওর সাথে যাও। আর তোরা আমার সাথে আয়।
ভাবী-- হুম আম্মা চলেন।
তারপর আম্মু ভাবী আর জীম চলে গেল, আর এদিকে আমি আর বুলবুল ফ্রেশ নিলাম। তারপর খাওয়া দাওয়া করে বিকালের দিকে আমি আর বুলবুল বেরিয়ে পরলাম! উদ্দেশ্য সুমাইয়ার ঠিকানা খোঁজ করা।
বিকাল ৩টা
প্রায় পুরো শহর খোঁজ করা শেষ, কিন্তু কোথাও, অচেনা সেই মেয়েটির খোঁজ পেলাম না। খোঁজ করতে করতে একটা চাঁ এর দোকানে বসলাম,
আমি-- চাঁ খাবি?
বুলবুল-- হুম খাওয়া যায়।
আমি-- মামা দুই কাপ চা আর দুইটা বিস্কিট দিয়েন।
দোকানী-- জ্বি মামা। এই নিন।
চাঁ খাওয়া শেষ করে চাঁ এর দাম টা দিয়ে চলে আসতে গিয়েও থেমে গেলাম। তারপর ঘুরে আবার দোকানীর কাছে গিয়ে সুমাইয়ার ছবি টা বের করে দোকানী কে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,,,,
আমি-- মামা দেখেন তো এই ছবি টার মেয়ে কে চেনেন কি না?
দোকানী-- দেখি দেখি,,, আরে এটাতো হুবহু আমাদের অরু এর মতো দেখতে। আচ্ছা মামা আপনি ছবির পরিচালক নাকি মামা। আমাদের অরুকে নায়িকা বানাবেন নাকি মামা?
আমি-- আপনি কি সত্যি এই মেয়েটাকে চিনেন?
দোকানী-- হ মামা চিনুম না কেন, দ্যহো দেহি মামা কি কয়?
আমি-- ওনাকে আপনি কি ভাবে চিনেন মামা?
দোকানী-- আরে এত আমাগো মাষ্টার কাকার মেয়ে অরু। মাইয়াডার পোরা কপাল গো মামা, কালকে ওর বাপডা মইরা গেছে,। বাপ মরা মেয়ে দুই কুলে আর ওর কেউ রইলো না গো মামা।
আমি-- আচ্ছা মামা আপনি কি ওর বাড়ির ঠিকানার খোঁজ দিতে পারবেন?
দোকানী-- দ্যহো দেহি মামা কয় কি? খোঁজ দিবের পারুম না কেন?
আমি-- তাহলে যদি একটু বলতেন।
দোকানী-- মামা আপনি পোথোমে এই হোজা যাবেন, তারপর একখান গলি বাজবি, গোলিডো পার দিয়ে ডানের যে বাড়ি ওই বাড়ির পাশের বাড়িটার পিছনের বাড়ি টাই অরু দের বাড়ি।
আমি-- ধন্যবাদ মামা! এই নিন কিছু টাকা এইটা আপনার বকশিস। ওই বুলবুল তারাতাড়ি চল।
বিকাল ৫টা
সুমাইয়া এর দরজায় ঠকঠক আওয়াজ শুনতে পায় সুমাইয়া। সুমাইয়া এসে দরজা টা খুলতেই দেখতে পায় দুইটা মেয়ে আর একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে।
সুমাইয়া দরজা টা খুলতেই তারা হনহন করে ঘরের মধ্যে ডুকে পরেন। সুমাইয়া অবাক হয়ে তাদের কে জিজ্ঞেস করলেন,,,
সুমাইয়া-- আপনাদের তো ঠিক চিনতে পারলাম না?
একটা মেয়ে-- আমরা ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা, আমাদের কাছে ইনফরমেশন আছে, আপনি নাকি একটা বাড়িতে লুটপাট করেছেন?
সুমাইয়া-- চুপ করে আছে।
ছেলে টা-- আমরা বেশি কথা বাড়াতে চাই না, যা কথা হবার সব থানাতেই হবে। মিস. নাদিয়া
অন্য মেয়ে টি-- ইয়েস স্যার!
ছেলেটি-- ওনার হাত ও চোখ বেঁধে ফেলুন।
মেয়েটি-- ইয়েস স্যার।
সুমাইয়া-- স্যার যদি আমার কিছু কথা শুনতেন?
ছেলেটা-- এখন কোনো শোনা শুনি নাই! যা হবে সব থানাতেই হবে।
তারপর সুমাইয়া কে বেধে ফেলা হলো চোখ টা কালো কাপের বেধে দিয়ে একটা গাড়িতে বসিয়ে দেয়া হলো সুমাইয়া কে। গাড়ি চলছে তার আপন গতিতে, হঠাৎ,,,,,,,,?
চলবে,,,,,,,,,,,
বিঃদ্রঃ ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

Share:

বাসর_রাতে_খাট_ভাংগা # দ্বিতীয়_পর্ব(funny episond)

 alobasargolpo.xyz
বাসর_রাতে_খাট_ভাংগা
# দ্বিতীয়_পর্ব(funny episond)
.
সাদিয়ার চিৎকার আর খাট ভাঙার শব্দে বিয়ে
বাড়ির সবাই এসে আমাদের দরজায় খট খট
আওয়াজ করছে আর জিজ্ঞাস করতেছে কি
হয়েছে,,,,
সাদিয়া পরে গিয়ে কোমরে খুব ব্যথা পেয়েছে
তাই ইশশশ,,,,,ও বাবা,,,,,,কি ব্যথা,,,,,মরে
গেলাম,,,
এসব বলে চিৎকার করতেছে,,,
আমিও কোমরে ব্যথা পেয়েছি,,, তাও উঠে
গিয়ে দরজা খুললাম।দরজা খুলতেই একে
একে সবাই এসে রুমে ঢুকে পড়ল।
কিভাবে এমন হল তা জিজ্ঞাস না করে
সবাই মিট মিট করে হাঁসছে।এটা দেখে
আমি অবাক হলাম।
এসবের ভিতর দিয়ে হঠাৎ চোখ চলে গল
বাবার দিকে।চেয়ে দেখি বাবা আমার
দিকে রাগী একটা লুক নিয়ে তাকিয়ে
আছে।আমার চোখ বাবার চোখে পড়তেই।
বাবা বলল,,,,
"রাম ছাগল একটা"
এটা বলেই বাবা এখান থেকে চলে গেল।
বাবার সাথে সাথে 'মা'ও এখান থেকে চলে
গেল।কিন্তু মা কিছু বলেনি।
ঠিক তখনেই আমার বড় দুলাভাই 'মানে
আমার বড় আপুর জামাই আমার কানে কানে
এসে বলল সবকিছুই রয়ে সয়ে করতে হয়
তারাহুরা করলে এমনই হয😜😜়।
যাহ্ বাবা আমি আবার কি করলাম😳😳
বড় দুলাভাই বলে শেষ না করতেই ছোট
দুলাভাই বলল,,,
এটা কি করলা,,,,প্রথম দিনেই খাট ভেঙে
দিলা😀😀।এটা কি ক্রিকেট খেলা নাকি,যে যত
ইচ্ছা তত গতিতে বল করবা😁😁
এখানে ক্রিকেট খেলার কথা আসলো
কোথায় থেকে।ওনার কথা আমি কিছুই
বুঝলাম না😕😕
সবাই চলে যেতেই বিছানাটা ফ্লোরে
করলাম।আজকে রাতে নিচেই থাকবো,,,ছোট
বোন বলেছিল তার রুমে চলে যেতে।সে
মায়ের সাথে থাকবে।কিন্তু আমিই যাই
নি।
বিছানাটা করে,বিছানায় শুতেই সাদিয়া আবার
বলল,,,
--আমি ওয়াশ রুমে যাবো।
--না ওয়াশ রুমে যাওয়ার দরকার নেই।
--কেন ?
--একবার ওয়াশ রুমে যাওয়াতেই এই অবস্থা
হয়েছে।আবার গেলে যে কি হবে ওটা আমি
এখন কল্পনাও করতে চাই না।
--তাই বলে আমি এখন ওয়াশ রুমে যাব না।
--তা তো ঠিকই ওয়াশ রুমে যাওয়া ছাড়া কি
থাকা যায় নাকি,,,, ওকে যাও তাহলে
সাদিয়া ওয়াশ রুমে যতেই আমি কানে হেড ফোন
লাগিয়ে আমার পছেন্দর গান মিলে হো তুম৷ হামকো বারি নাসিবো সে........টা শুনতে শুরু
করলাম।
একটু মন দিয়ে পড়ুন--
পরবর্তী অংশ অর্থাৎ শেষ পর্ব ওই গ্রুপে দেয়া আছে, পুরো গল্পটি পরতে (See More) ক্লিক বা টাচ করুন,তারপর গ্রুপে জয়েন করে পড়েনিন।
ধন্যবাদ।
এই গ্রুপে দেয়া আছে, জয়েন করে পড়েনিন।
গানটা এক এক করে চারবার শুনলাম।কিন্তু
সাদিয়া তো এখনো বের হচ্ছে না।এতক্ষণ তো
লাগার কথা না,,,,
বাথরুমের দরজায় গিয়ে নক করতেই ???😱😱
.চলবে।।।

Share:

#অবহেলার শেষে #লেখক- সালাহউদ্দীন তারিক #পার্ট- ১

 alobasargolpo.xyz
#লেখক- সালাহউদ্দীন তারিক
[ বিদ্রো:গল্পটা আসাধারন সুন্দর একটি গল্প। গল্পটি শেষ পর্যন্ত পড়লে হয়তো চোখের জল আটকায়ে রাখতে পারবেন না]
"যেদিন আমার বিয়ে হয় ঐ দিন রাতেই আমি ওনাকে বলে দিই যে আমি অন্য কাউকে ভালোবাসি।' উনি চুপ করে সোফায় বসে পড়েছিল। একটি বারও এসে বিছানায় আমার পাশে বসে নি। এক বার জিজ্ঞেসও করেনি, তবে কেন তার ঘরের বউ হয়ে আসলাম। আমিই আবার বলেছিলাম ঘুমের মাঝেও আমাকে টাচ করার চেষ্টা করবেন না। উনি মনে হয় কথাটিতে রেগে যান। উঠে এসে আমার সামনে দাঁড়ান, ওনার চোখ গুলো লাল হয়ে আছে। আমি ভয় পেয়ে যাই। হটাৎ ই উনি বিছানায় হাটু গেড়ে বসে বলতে শুরু করে
-- ' ওই আপনি কি মনে করেছেন আমাকে,আমাকে কি মাতাল অভদ্র মনে হয়,ঘুমের মাঝেও যেন আপনাকে না স্পর্শ করি, এর মানে কি? আমি কি হিংস্র পশু যে রাতের আধারে আপনার উপরে ঝাঁপিয়ে পরব?'
তারপর আরো কিছু কথা শুনিয়ে দিয়ে নিজের চোখ মুছতে মুছতে ঘর থেকেই বের হয়ে যায়। আমি বিছানা ছেড়ে উঠে গিয়ে জানালা দিয়ে বারান্দার দিকে তাকাই, দেখি উনি নিরবে বসে আছেন। আর একটু পর পর চোখ মুছতে ব্যস্ত।
বিয়ে ঠিক হওয়ার পরে ভাবীর মুখে শুনেছিলাম। 'ছেলেটা খুব ভালো অবন্তী দেখো তোমাকে অনেক আগলে রাখবে, জীবনে অনেক সুখে থাকবে।'
তখন ভাবীর কথাটা তেমন আমলে নেই নি। কিন্তু যখন ওনাকে কাঁদতে দেখি তখন ভাবতে থাকি একটা ছেলে মানুষও এভাবে কাঁদতে পারে? আমি যতটুকু জানতাম বিয়েটা ওনার মায়ের পছন্দেই হয়েছে। হয়তো ভাবছে, আমার যে ওকে পছন্দ নয় এটা যদি ওনার মা জানতে পারেন, তবে খুবই কষ্ট পাবেন। ওনার মা ক্যান্সার এর সাথে লড়ছিল কবে মারা যায় কোন ঠিক নেই। তাই সব সময় আমাকে বলতো, ' আমাকে আপনার পছন্দ না এটা ঠিক আছে তবে প্লিজ যত দিন আমার মা বেঁচে আছে আমার মায়ের খেয়াল রাখবেন। কখনো মায়ের অযত্ন করবেন না।'
.
উনি কথাটা এতো করুণ ভাবে বলছিল যে আমার নিজেরই কান্না পাচ্ছিল। উনার চোখেও বেদনার জল ঝলমল করছিল। চোখের পানি আড়াল করতে উনি আমার সামনে থেকে চলে যায়। আড়ালে গিয়ে চোখ মুছতে থাকেন।
.
একদিন উনি তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে আসেন। আমি তখন আমার বয়ফ্রেন্ড এর সাথে ফোনে কথা বলতে ছিলাম। উনি এতো তারাতাড়ি দৌড়ে ঘরে ঢুকেন যে আমি আর ফোন টা রাখার সুযোগ পাইনি। উনি রুমে ঢুকেই আমার হাত থেকে ফোনটা টান দিয়ে নিয়ে যায়।তারপর স্কৃনে কল রানিং দেখে ফোনটা এতো জোড়ে আছাড় দেন যে ডিসপ্লে গুঁড়া হয়ে যায়। তারপর প্রচুর রাগে বলতে শুরু করেন, "আপনার বাবা আপনাকে বিনে টাকায় এ বাড়িতে পাঠায় নি। দেনমোহর এর ২ লাখ টাকা দিতে হয়েছে,বিয়ের গয়না আর অন্য খরচ বাবদ প্রায় ৪-৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ১০ বছরের সব জমানো ভালোবাসা আর টাকা দিয়ে তারপর আপনাকে এই বাড়িতে এনেছিলাম। এর কোন শুকরিয়া আপনি আদায় করেছেন হুম! কি চেয়েছিলাম আপনার কাছে, মোহরানার টাকা পরিশোধ করার পর আপনার উপরে আমার সম্পূর্ণ হক ছিল তবুও এক মুহুর্তের জন্য আপনাকে স্পর্শ করিনি।বিয়ে করে আনার পর এ বাড়ির ছোট বড় কাজ গুলো করাও আপনার দ্বায়িত্ব ছিল কিন্তু তাও কোন দিন আপনাকে কিছু বলিনি। শুধু বলেছিলাম মাকে একটু দেখে রাখবেন। আর মা ১ ঘন্টা আগে তার খারাপ লাগার কথা বলেছে আমাকে ফোন দিয়ে। আমি অফিস থেকে চলে আসছি আর আপনি একটু পাশের রুমে গিয়েও দেখতে পারেন নি আমার মা কেমন আছে।আর দেখতেও হবে না আপনাকে। দেনমোহর এর অর্ধেক টাকা ফিরিয়ে দিয়ে চলে যাবেন এখান থেকে আপনাকে আমার প্রয়োজন নেই"।
.
.
তারপর উনি হনহন করে চলে যায়। আমি কখনো এতো কষ্ট পাইনি ওনার কথায় যতোটা কষ্ট পাই। আসলেই তো এই বাড়িতে আমার হাজার টা দ্বায়িত্ব আর আমি কিনা ওনার একটা আবদার পূরণ করতে পারলাম না! আর কি যেন বলেছিল ১০ টা বছরের জমানো ভালোবাসা। মানে কি আসলে!
.
যেদিন থেকে যৌবনে প্রদার্পন করেন তখন থেকেই যে ব্যক্তি অনাগত স্ত্রীকে ভালোবাসাতে পারেন,আমি কিনা তাকে একটি বারের জন্য ও ভালোবাসতে পারিনি! তার একটা আবদার ও পূরন করতে পারিনি। ধপাস করে ফ্লোরে বসে পড়ি, আমার চোখ দিয়ে তখন অবিরাম পানি ঝরছিল। সেই প্রথম আমি মন ভরে কান্না করি। হটাৎ করে মাইক্রোবাস এর দরজা টানার আওয়াজে আমার হুস ফিরে। তারাতাড়ি ঘর থেকে বের হই। দেখি উঠানে একটা মাইক্রোবাস দাড়িয়ে আছে। আর উনি আম্মা(শাশুড়ী মা) কে কোলে নিয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছেন। কি হয়েছে দেখার জন্য দৌড়ে যাই। দেখি আমার শাশুড়ীর জ্ঞান নেই। বুঝতে বাকি রইল না যে উনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমি উনাকে কেবল "আমিও যাব" কথাটা বলেই দৌড়ে রুমে চলে আসি। তারাতাড়ি বোরকাটা পরে রুম থেকে বের হই। আম্মাকে গাড়ির পিছনের বড় সিট টাতে লম্বা করে শোয়ানো হয়েছে আর মাথাটা আমার স্বামীর উরুর(রানের) উপরে রাখা। আমি ও গাড়িতে উঠে পরি। গিয়ে ওনার পাশে বসে বলি "আপনি সামনে চলে যান আম্মার মাথাটা আমার কোলে দিন"।
উনি কোন কিছু না বলে আমার দিকে রক্ত চোখে তাকান। উনার চাওয়াতে নিষেধ স্পষ্ট। বাধ্য হয়ে আমি পিছনের সিটে গিয়ে বসে পরি। আম্মাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকানো হয়। আর উনি পুরো বারান্দা জুড়ে পায়চারি করছেন। আমি বসে থাকতে পারছিনা কেননা উনি হাটতেছেন, এই অবস্থায় যদি আমি বসে বসে আরাম করি তবে উনি হয়ত আবারও কষ্ট পাবেন। আমি এগিয়ে গিয়ে উনাকে বসতে বলি। এতে উনি বড় বড় চোখ করে আমার দিকে তাকান আমি ভয়ে আর কিছুই বলিনি। দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাড়িয়ে থাকি। উনি কিছুক্ষন পরে লোহার লম্বা চেয়ারটাতে গিয়ে বসেন।আমিও ওনার পাশে গিয়ে বসি।
.
হাতটা এগিয়ে ওনার কাঁধে রাখতে মন চাইছে কিন্তু ভয়ে এগোতে পারছিলাম না। মন চাইছিল ওনার বুকে মাথা রেখে কতোক্ষন কান্না করি হয়তো উনি এতে কিছু টা ভরসা পাবেন, আর আমারও একটু ভালো লাগবে। কিন্তু অতটা সাহস আমার তখন নেই। তবুও কাচুমাচু করে ওনার পাশের চেয়ার টাতে গিয়ে বসি। মনে মনে ভাবতে থাকি আমার এহেন কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাওয়া অনেক জরুরি। কিন্তু হাসপাতালে তো আর পায়ে ধরে মাফ চাওয়া যায় না। আর স্বামীর কাছে স্ত্রী ক্ষমা চাইতে হলে পায়েও ধরতে হয় না। আলতো করে হাতটা ধরে দু’ফোটা চোখের জল ফেলা'ই যথেষ্ট। অথবা ছোট্ট বিড়াল ছানার মতো করে স্বামীর বুকে মুখ লুকিয়ে নিলেই হয়। হয়তো প্রথমে স্বামী, স্ত্রীর দিকে একটু গরম নজরে তাকাবে। তবে তখন স্বামীর চোখের দিকে অসহায়ের মতো তাকালেই হয়ে যায়। একটা লম্বা সময় নিতে কোন মেয়ে যদি তার প্রিয় মানুষটার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে তবে সেই ছেলেটা যত রাগি হোক না কেন সে অবশ্যই গলে যাবে। অতঃপর শক্ত করে জড়িয়ে বুকের সাথে মিলিয়ে গেলেই সব শেষ।
.
কিন্তু আমার ক্ষেত্রে মোটেই এমন সুযোগ ছিল না। কেননা ওনার সাথে আমার স্বামী-স্ত্রীর কোন সম্পর্কই ছিল না। কোনদিন একটু সময় নিয়ে ওনার সাথে কথাও বলিনি। তবে ভাবলাম একটু চেষ্টা করতে ক্ষতি কী! ওনার ডান হাতটা টেনে আমার দুই হাতের মধ্যে নিলাম। উনি কিছুই বল্লেন না। একদৃষ্টিতে অন্য দিকে তাকিয়ে আছে। আমি বুঝতে পারি চিন্তায় উনি এই বিষয়টি খেয়াল পর্যন্ত করেন নি। আমি ওনার দৃষ্টি আমার দিকে ফেরাতে চেষ্টা করলাম। ওনার হাতটা শক্ত করে আমার দু'হাতের তালুর মধ্যে নিলাম। তাতেও কোন কাজ হয়নি দেখে আমি নিজেকে ওনার একদম কাছে নিয়ে গেলাম। ওনার কাঁধে মাথা রেখে ওনার বাহুটা জড়িয়ে ধরলাম। এবার উনি আমার দিকে তাকালো। আমিও ওনার চোখের দিকে তাকিয়ে নিজের ঠোঁট গুলো বারবার বাঁকাতে লাগলাম আর ঘনঘন ঠোকর গিলতে গিলতে একটা করুণ দৃষ্টিতে ওনার দিকে তাকিয়ে রইলাম। উনি কি ভাবলো জানি না। একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে চোখের পাতা দু'টো এক করতেই কয়েকটি ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল। উনি বাম হাতে চোখ মুছে নিয়ে আমার হাতের তালুর পিঠটা চেপে ধরে রাখল। আমার কাছে তখন কেমন লাগছিল সেটা আমি আজও কল্পনা করতে পারি না। কোন একটা অজানা অনুভূতি এসে গ্রাস করছিল আমাকে। ওটাই ছিল ওনার প্রথম স্পর্শ। প্রিয় মানুষটার কাছে প্রতিটা নারীই হয়তো এমন একটা স্পর্শের আশায় থাকে। তবে আমদের মধ্যে একে অপরের প্রিয় হওয়ার মতো কোন সম্পর্কই তখন নেই। তাই ঐ সব কিছু মিলিয়ে এক অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছিল আমার। কিন্তু সেটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পরক্ষণেই উনি আমার কাছে থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলেন। চেয়ার ছেড়ে উঠে সামনে চলে গেলেন। আমি অবাক চোখে ওনার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। উনি একবারের জন্যও আর আমার দিকে ফিরে তাকায়নি।
.
.
একটু পর ডাক্তার রুম থেকে গোমড়া মুখে বেড়িয়ে আসে। আমার স্বামী দৌড়ে ওনার কাছে যান। উৎসুক দৃষ্টি তাকিয়ে থাকেন ওনার দিকে। ওনার সেই করুণ দু’চোখের দৃষ্টি আজও আমার চোখে ভেসে উঠে। অতঃপর ডাক্তার ওনার কাঁধে হাত রেখে কিছুক্ষণ সময় নিয়ে আস্তে আস্তে কিছু একটা বলতে থাকে। আমিও উঠে সেখানে যাই শোনার জন্য। কিন্তু ডাক্তারের যা বলল তা শোনার জন্য আমরা কেউ প্রস্তুত ছিলাম না।
( চলবে.......... ইনশা আল্লাহ)
[ সালাহউদ্দীন ভাইয়ের আনুমতি বাতীত কপি করা নিষেধ]

Share:

মামাতো বোনকে বিয়ে পর্বঃ৬ লেখক: জায়েদ

 alobasargolpo.xyz
মামাতো বোনকে বিয়ে
পর্বঃ৬
লেখক: জায়েদ
অনিকা চলে গেছে অনেকক্ষণ হয়ে গেছে...আমি অই খানেই বসে ছিলাম।অনিকার চলে যাওয়া আমি মেনে নিতে পারছি না..আমি অনিকাকে অনেক ভালোবাসি😭😭
প্রায় অনেকক্ষণ ধরে বসে ছিলাম।তারপর নিলার কথা মনে হলো মেয়েটা একা আছে বাসায় না জানি আবার কিছু করে বসলে...আমি সেখান থেকে তাড়াতাড়ি বের হয়ে গেলাম।
রিক্সাতে করে বাসায় আসলাম,যদিও ইচ্ছা করছিলো হেটে হেটে বাসায় আসবো কিন্তু নিলার কথা ভেবে একটু তাড়াতাড়ি এলাম।এসে দেখি ঘুমাচ্ছে আর বোতল দুইটা মেঝেতে পড়ে আছে...
আমি নিলাকে আর জাগাইলাম না।পাশের রুমে চলে গেলাম।খুব কান্না পাচ্ছে কিন্তু আপনাদের সামনে কান্না করতে পারতাছি না।।অন্য সময় কান্না করে নিমু..শুয়ে থাকতেও ভালো লাগছিলো না।আমি গিয়ে গোসল করে নিলাম।
জানিনা অনিকার কি অবস্থা মেয়েটা নিজের কোনো ক্ষতি করে দেই নাই তো??
বারবার ফোন দিচ্ছি কিন্তু ফোন বন্ধ করে রেখে দিছে।
গোসল করে বের হয়ে দেখি নিলা ঘুম থেকে উঠে গেছে...
আমাকে দেখেই
নিলাঃঅই আমি আরো খাবো আমাকে এনে দাও?
আমি;আজ আর হবে না,,আবার কালকে এনে দিবো?
নিলাঃনাহ আমি আজকেই খাবো..
আমিঃবলছি তো আজ আর হবে না..যাও এখন ফ্রেশ হয়ে আসো,,,একটু ধমকের সুরেই বললাম।
নিলা আমার কথা শুনে ফ্রেশ হতে চলে গেলো..আমি পাগল হয়ে যাবো,,একদিন নিলা অন্যদিকে অনিকা
আর আছে মামাকে দেওয়া কথা...
কেনো যে বিয়ে খেতে গেছিলাম না গেলেই অনেক ভালো হতো..অন্তত আমার আর অনিকার সম্পর্ক ঠিক থাকতো...মামার মান সম্মান গেলে আমারর কি?
আর আম্মুও কেনো অই রকম একটা কছম দিতে হবে।নিজের ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে...
কোনো আব্বু আম্মু চাইনা তার ছেলে একটা মাতালি মেয়েকে বিয়ে করুক,,কিন্তু আমার আব্বু আম্মু সব জেনেও কেনো যে বিয়ে দিলো??আর আমি একটা পিচ্চি এখনো কি আমার বিয়ের বয়স হয়েছে😭😭😭
এইসব ভাবতে ভাবতে দেখি নিলা বের
হলো..
আমিঃযাও এইবার মাথার চুল গুলো ঠিক করো যাও..
নিলাঃআমি যেমন আছি তেমনি থাকবো আমাকে পরিবর্তন করতে আসবা না।আর তোমার সাথে কেনো ভালো ব্যাবহার করছি জানো তুমি আমাকে প্রিয় জিনিস এনে দিবে তাই,,না হলে আমি এখানে তো কোনো দিন থাকতাম না।আর তোমার সাথে ভালো ব্যাবহার তো দূরে থাক কোনো কথাই বলতাম না..
আমি;সেটা তো আর এখন করতে পারছো না,,তাই যাও মাথার চুল গুলো ঠিক করে এসো আমরা খেতে বসবো..
নিলাঃআমি খাবো না,,আমার খিদে নাই..
আমি;সেটা বললে তো হবে না,,তোমাকে খেতেই হবে..তোমাকে যেহেতু আমাদ দায়িত্বে এখানে নিয়ে এসেছি তাই তোমার সব কিছুএ দায়িত্ব আমার যাও যেটা বলছি সেটাই করো।
এখন নিলা একদম নিজের জ্ঞানে আছে কারন নেশা করেছে সকালে আর এখন বিকাল....
নিলা হঠাৎ করেই আমার শার্টের কলার ধরে বললো অই তুই পেয়েছিস কি?আর তুই কে? যে তুই যা বলবি আমাকে তাই করতে হবে.দেখ আমাকে বেশি রাগাবি না,আমি তোর ইচ্ছাতে এখানে আসি নাই।আমি এখানে এসেছি নিজের ইচ্ছাতে তাই তোর কোনো ইচ্ছা আমার উপর জোড় করে চাপিয়ে দেবার কোনো চেষ্টা কখনো করবি না এই বলে দিচ্ছি।।
আমি নিলার কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বললাম তোমার যা ইচ্ছা করো আমি আর কখনো তোমাকে কিছু করতে জোড় করবো না।
এই মেয়ের জন্য আমার এতোদিনের ভালোবাসা শেষ হবার পথে..আবার বড় বড় কথা বলে মনটাই চাইতেছে থাপ্পড়াইয়া দাত সব ফেলে দেই...
আমি আমার রুমে চলে গেলাম।
এমনিতেই খেতে ইচ্ছা করছিলো না,শুধু নিলাকে খাওয়ানোর জন্য বলছিলাম..
কিন্তু মেয়ে তো খেলোই না...উল্টা আমাকে কতগুলো কথা শুনিয়ে দিলো।মামাতো বোন বলে কিছু বললাম না।আমি আমার রুমে যাবার পর আবার শুয়ে পড়ি...
নিলা কি করছে না করছে সেটা আমার জানার কোনো দরকার নেই..ও থাকুক ওর মতন আমি আর কিছু বলতে যাবো না...
আমি শুয়ে আছি ঠিক সেই সময় আমার ফোন কেপে উঠলো আমি ফোন হাতে
নিয়ে দেখি অনিকা ফোন করেছে..আমি কিছুটা অবাক হলাম,,আর অনেক খুশি হলাম
কল রিছিভ করলাম
হ্যালো………………>
অনিকাঃঅই তুই আমাকে ভালোবাসিস?জানিন আমি অনেক ভেবে দেখলাম আমি তোকে ছাড়া থাকতে পাড়বো না...
আমি;হ্যা আমিওও তোমাকে ছাড়া থাকতে পাড়বো না...
অনিকাঃথাকতেই যখন পাড়বি না,,তাহলে আমাকে ছেড়ে অন্য কাওকে বিয়ে কেনো করলি হারামি(চিৎকার দিয়ে))
আমি তো তোমাকেই বলেইছি আমি এই বিয়ে করতে চাইনি,,
অনিকাঃআচ্ছা আমার জন্য কি করতে পাড়বি??
আমিঃতুমি যা করতে বলবে আমি তাই করবো...
অনিকাঃতুই তোর বউকে ডিভৌস দিতে পাড়বি??
আমিঃসেটা তোমাকে বলতে হবে না..ও ঠিক হোক আর না হোক ৫মাস পর আমি এমনিতেই ডিভৌস দিয়ে দিবো...
অনিকাঃসত্যি তো??
আমি;হ্যারে বাবা সত্যি আমি অই মাতালির সাথে সংসার করতে পাড়বো না।
অনিকাঃতাহলে আমাকে কথা দে তুই অই মেয়ের কাছে একদম যাবি না..
আমিঃহ্যা যাবো না,,যতটুকু দরকার শুধু আমি ততটুকু যাবো....
অনিকাঃআচ্ছা ঠিক আচে,,আর অই মেয়েকেও তোর কাছে কিন্তু একদম আসতে দিবি না..
আমিঃআরে অই মেয়ে আমার কাছে এমনিতেও আসে না...
অনিকাঃতাহলে তো খুব ভালো হলো।শুন যদি কেও তোর অধিকার পাই তাহলে সেটা আমি অন্য কাওকে তুই সেই অধিকার দিতে পাড়বি না বলে দিলাম...
অনিকার কথা শুনে আমার অনেক ভালো লাগছে।তাহলে পাগলিটা আমাকে বুঝতে পেরেছে তাই তো আমাকে ছেড়ে কোথাও যায়নি।
আমি;এই তুমি আমাকে ভালোবাসো তো??
অনিকাঃভালো না বাসলো এতোগুলো কথা বলতাম নাকি??আসলে আমি তখন সত্যি সব শেষ করে দিতে চাইছিলাম,,বাসায় এসে নিজেকে অনেক বুঝাতে চেয়েছি কিন্তু কিছুতেই পাড়ছিলাম না বার বার শুধু তোর কথাই মনে হচ্ছিলো..শুন আমি কিন্ত তোকে ছাড়া থাকতে পাড়বো না এই বলে দিলাম..
আমিও থাকতে পাড়বো না..
অনিকাঃএই তুমি তো মনে হয় কিছু খাওনি তাই না???
আমিঃহ্যা কিন্তু তুমি জানলে কি করে??
অনিকাঃআমি জানবো
না তো কি তোর মাতালি বউ জানবে??
আমিঃএই তুমি আবার রাগ করছো কেনো??
অনিকা;যাও এখন খেতে যাও তাহলে আর রাগ করবো না...
আমিঃতুমি খেয়েছো?
অনিকাঃনাহ তবে তুমি খেলে খেয়ে নিবো??
আমিঃআচ্ছা যাও খেতে যাও আমিও খেয়ে নিচ্ছি
এই বলে আমি কল কেটে দিলাম।আমার খুব আনন্দ হচ্ছে,,আমার অনিকা আমার থেকে দূরে যাবে না এটা ভাবলেই ড্যান্স দিতে ইচ্ছা করছে...কিন্তু ভালো কোনো গানের নাম মনে পড়ছিলো না তার জন্য আর ড্যান্স দিতে পাড়লাম না দুঃখের বিষয়।
আমি উঠে খেতে চলে গেলাম।
নিলাকে আর ডাকলাম না।আমার পাগলিটা বলেছে নিলার থেকে দূরে দূরে থাকতে..
আমি খেতে বসে আবার অনিকাকে ফোন দিলাম
অনিকা;কি হলো আবার কেনো ফোন দিলে??
আমিঃতুমি খেয়েছো??
অনিকাঃহ্যা হাতটা একটু পরিষ্কার করেই খেতে বসবো..
আমিঃকেনো হাতে কি হয়েছে??
অনিকাঃকিছুনা কিছুনা তুমি খেয়েছো
অনিকার কথা শুনে খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেড়েছি পাগলি টা কি করেছে??
আমিঃঅই কাওকে খেতে হবে না,,তুমি যত তাড়াতাড়ি পারো আমার সাথে দেখা করো,,আমি এখুনি বের হচ্ছি...
অনিকাঃকিন্তু কেনো?
পরে বলবো আগে আমার সাথে দেখা করবা
অনিকাঃআচ্ছা আমি তাহলে এখুনি বের হচ্ছি..
আমিও বাসা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম।আমাদের দেখা করার জন্য সুন্দর একটা যায়গা আছে নাম বলমু না তাহলে আপনারা আবার ডিস্টার্ব করতে পারেন...
আমি পৌছানোর আগেই দেখি অনিকা এসে দাঁড়িয়ে আছে।আমি কোনো বার এই মেয়ের আগে আসতে পারি না।আমাকে কখনো অনিকার জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি..অনিকা সব সময় আমার জন্য অপেক্ষা করেছে।
আমাকে দেখে অনিকা বললো কি ব্যাপার এতো জরুরি তলব কেনো করলে??
আমি শুধু রাগে ফুঁসছি
কি হলো বললে না আমাকে কেনো ডাকলে..
এইবার আর নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পাড়লাম না।
ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিলাম।নতুন কিছু না মাঝে মধ্যে চড় দিতে হয়...
অনিকাঃকি হলো আমাকে মারলে কেনো?
আমি;তুমি আবার হাত কেটেছো কেনো??
অনিকাঃআমার ইচ্ছা হয়েছিলো তাই...
আমিঃসত্যি বলো কেনো কেটেছো??
অনিকাঃতুমি কেটেছো তাই কেটেছি..
আমিঃদেখি হাত দেখি..
অনিকা হাত বাড়িয়ে দিলো আমার থেকে অনেক বেশি কেটেছে...
আমি আর কান্না আটকেকে রাখতে পাড়লাম না।
চোখ দিয়ে পানি পড়ছে...
অনিকাঃএই তুমি কাঁদছো কেনো?
নিশ্চুপ………………………
অনিকাঃএই তুমি কেদো না প্লিজ..
আমি কিছুতেই কান্না থামিয়ে রাখতে পারছি না...
শেষমেশ অনিকা আর কোনো উপায় না পেয়ে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো..
অনিকাঃএই তুমি এইভাবে কেদো না,,আমার যে আরো বেশি কষ্ট হচ্ছে।জানো যখন শুনলাম তুমি আমাকে ছেড়ে অন্য কাওকে বিয়ে করেছে আমি নিজেকে শেষ করে দিতে চেয়েছিলাম।কিন্তু পরেই ভাবলাম বিয়ে করেছো সেটা তো আমার কাছে লুকিয়ে রাখতে পারতে..রিলেশন চালিয়ে যেতে পাড়তে..কিন্তু তুমি তো সব সত্যি বলে দিয়েছো,,এটাও বলেছিলে তোমার বউকে ডিভৌস দিয়ে দিবে..তুমি শুধু আমাকে চাও এই সব ভেবেই আমি আবার তোমারর কাছে ফিরে গেছি।।সত্যি তো তোমার তো কোনো দোষ ছিলো না।
অনিকার কথা শুনে আমি ভেতর থেকে অদ্ভুত ধরনের একটা শক্তি পাচ্ছি..
অনিকা তখনো আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ছিলো...
আমার কান্না থেমে গেছে অনেক আগেই।অনিকার স্পর্শ পেলে আমি সব কিছু ভুলে যাই..
আজ এই পর্যন্তই,,সবাই ভালো থাকবেন,, সুস্থ থাকবেন,,এবং লাইক কমেন্ট করে সাথেই থাকবেন,,,

Share:

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label