#অদ্ভুত ভালোবাসা#সিজন৩
পর্বঃ২৪
writer:অন্না
,
নীরা নেতিয়ে পড়ে নিলয়ের বুকে।নিলয় নীরাকে বুকের সাথে লাগিয়ে নিয়ে পাগলের মতো করতে থাকে। "এই নীর, নীর কথা বলো প্লিজ। নীর পাখি কি হলো তোমার বলো তো। নীর পাখি প্লিজ কথা বলো"
নীরা আস্তে আস্তে মাথা তুলে নিলয়কে এক নজর দেখে আবার মাথা গুজে দেয় নিলয়ের বুকে।
"তুমি ঠিক আছো নীরু? এমন পাগলামু কে করে বলো তো। জান বেরিয়ে আসছিলো আমার। আমাকে কি মানুষ বলে মনে হয় না তোমার?খবরদার বলছি ফেরদার যদি তুমি এমন কাজ করেছো তো আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না কিন্তুু"
নীরা আস্তে করে নিলয়কে ছাড়িয়ে সিটে বসতে লাগে।"কি হচ্ছে টা কি নীর?এমন করছো কেনো?"
"আ,,,আমাকে নিচে বসিয়ে দিন।আমার ভার আপনার নিতে হবেনা।ঠিক আছি আমি।"
ক্লান্ত স্বরে কথাটা বলে নীরা।
"না আমার এখানেই থাকতে হবে। চুপচাপ আমার বুকে থাকো। আমার কাছে থাকবা। একদম নড়াচড়াও করবা না। আমাকে শান্তিতে থাকতে দাও নীর"
"দ,,দুলাভাই ছাড়েন আমায়।ঠিক আছি আমি, আর আপনি ও। "
নীরার কথা শুনে নিলয় নীরককে আরও শক্ত করে জরীয়ে নেয়।
"ভুলে যেওনা আমার অধিকার আছে তোমার ওপর। তোমাকে নিয়ে আমি যা ইচ্ছে করতে পারি।বড্ড ভালোবাসি তোমাকে নীর। বুঝোনা কেনো? তেমার কিছু হলে আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারি না। ভাবতে পারছো একটু তোমার অবস্থা দেখে আমার কোথায় ফিল হয়েছে? শ্বাস আটকে আসছিলো আমার। "
নিলয়ের কথা শোনার সাথে সাথেই নীরা নিলয়কে জরীয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। দুহাতে নিলয়ের শার্ট মুঠো করে টেনে ধরে।
"তুমি ভালোবাসো আমাকে,? একটুও ভালোবাসোনা। তুমি কি করে এটা করতে পারলে নিলয়? তোমার কি আমার কথা একটা বারের জন্যও মনে পড়ে নি। তুমি কি করে পারলে অন্য কাউকে জীবনে জরিয়ে নিতে। অন্য কাউকে বিয়ে করতে। তুমি না আমাকে ভালোবাসো। তাহলে কি করে অন্য কাউকে টাচ্ করলে। বলো কিভাবে?"
-" তুমি বিলিভ করো নীর,আমার ভালোবাসার কসম। আমি আমার নীরপাখি ছাড়া অন্য কাউকে কোনোদিন সেচোখে দেখিনি। আর তাকে ছাড়া কেনো মেয়েকে টাচ্ ও করিনি। "
-"তাহলে তোমার গাড়িতে ওর স্কার্ফ কেনো?"
-"হয়তো আমার নীরকে কাঁদানোর জন্য"
-"আমি কাঁদবো এমন জিনিস তুমি আসতে দিচ্ছো কেনো আমার কাছে? আমি চাই না , আমি চাইনা ওকে। "
-"কিন্তুু আমি ওকে চাই।"
-"মমানে?"
-"বিয়েটা আমি করছি নীর পাখি।"
নিলয়ের কথা শুনে নীরা থমকে গেলো। নীরা কাঁন্না বন্ধ করে দেয়। হাতের বাঁধনটা হালকা করে দেয়। ঝট করেই নিলয়ের কোল থেকে নেমে আসে।
-"নীর পাখি, "
-" আমাকে মেইন রোডে নামিয়ে দিন দুলাভাই"
নিলয় কিছু বলতে গিয়েও পারে না। রাগের মাথায় হাতটা গাড়ির স্টেয়ারিং এর সাথে বারি মেরে গাড়ি স্টার্ট দেয়।
নীরার কানে নিলয়ের কথা টা বারি খাচ্ছে "আমার ওকে চাই"। তাহলে এসব কি আবেগের বসে করছে ও। মুনিরা আপুকেই ভালোবাসে ও। আসলে আমাকে এভাবে দেখে ও নিজের আবেগটা কন্ট্রোল করতে পারছে না। তাই তো, আমি কেনো ভুলে যাই, কালো মেয়েদের কেউ ভালোবাসেনা। সবাই মোহে পড়ে।
"গাড়ি থামান দুলাভাই, ক্ষুদা লেগেছে আমার , আমার জন্য কিছু নিয়ে আসুন"।
নিলয় সাথে সাথে গাড়ি ব্রেক করে। তারাতারি গাড়ি সাইড করে পাশের দোকানে চলে যায়। নীরার জন্য অনেক খাবার নিয়ে এসে গাড়ি খুলতেই দেখে নীরা নেই। নিলয়ের হাত থেকে প্যাকেটগুলো পড়ে যায়। পাগলের মতো নীরাকে চারিদিকে খুঁজতে থাকে। তখন নিলয়ের ফোনে ম্যাসেজ টোন বেজে ওঠে।
"বাসায় চলে যান দুলাভাই। আপনার হবু বউ অপেক্ষা করছে আপনার জন্য।"
নিলয় রাগের চোটে ফোনটা রাস্তায় ছুরে মারে।
,
নিলয় সেই কখন থেকে নীরার রুমে বসে পায়চারি করছে। এখন ও নীরা বাসায় ফিরে নি। নিলয়ের অস্থিরতা দেখে টিয়া মুচকি হাসছে। তবে সেটা কিসের হাসি টিয়া ভালো জানে।
-"আপনি চাইলে আমি আপুকে ডেকে আনতে পারি দুলাভাই।"
নিলয় হুরমুর করে টিয়ার সামনে বসে।
-"টিয়া বেপি তুমি না বললে নীরের খবর তুমি জানোনা। তাহলে? "
-"হুম নীরপুর কথা তো আমি জানিনা দুলাভাই। কিন্তুু আপনার ফ্রিয়ন্সির খবর তো জানি।সে তো জানেনা আপনি লুকিয়ে এখানে বসে আছেন। তাও নিজের শালির জন্য। "
-"এভাবে প্রতিশোধ নিচ্ছো তোমরা আমার ওপর?"
-"আপনারা বিয়ে করছেন কবে দুলাভাই?"
-"খুব শিঘ্রই ".
মুনিরাকে দেখে টিয়া নিলয়ের দিকে তাকায়।
-"হুম তারাতারি করে নাও।নীর পুর ও বিয়ে হবে। দুটো দুলাভাই হবে আমার।কি বলেন দুলাভাই?"
মুনিরা এগিয়ে গিয়ে নিলয়ের এক হাত জরীয়ে ধরে।
-"হুম দুইটা দুলাভাই তোর। বাট নিলয় বেস্ট দুলাভাই হবে দেখিস। নীরা তো আর আমার মতো সুন্দরী নয়। ওর আর কি রকম হাসবেন্ড হবে। "
মুনিরার কথা শুনে নিলয়ের মাথা গরম হয়ে যায়। আর টিয়াও রেগে যায়।
-"মুনিপু এটা বেশি বেশি বললে। এমন একজন আছে যে আমার নীরপু কে মাথায় করে রাখবে। বুকে আগলে রাখবে। "
-" সে স্বপ্নই দেখ। "
-"স্বপ্ন দেখা ছাড়া আর কি করবো বলো তো। কালো মেয়েদের কেউ ভালো বাসেনা জানো তো। আমার সেই যোগ্যতাই নেই।কালো বলে সবাই দয়া করতে আসে। তোমার মতো সুন্দরী হলে তো কথাই ছিলো না, কেউ দু দিনের ভালোবাসা দেখাতো না"
,
নীরার কথা শুনে নিলয়ের বুকে মোচর দিয়ে ওঠে। বুকের বাম পাশ টায় চিনচিনে ব্যাথা অনুভব করছে। নীরা নিজেকে এমন মনে করছে।
-"নীরপু আমি কিন্তুু বাসায় চলে যাবো। আর একদিন আমাকে না নিয়ে কোথাও গেলে। তখন থেকো তুমি একা একা।"
টিয়ার কথা শুনে নীরা মুচকি হেসে টিয়ার চুল টেনে ধরে।
-"বজ্জাত মাইয়া। কই যাবি হ্যা? চুল টেনে কেটে দিবো। আয় আমার সাথে। দুলাভাই প্রথম আসলো আমাদের বাসায়। একটু অ্যাপ্যায়ন করতে হবে না? মুনিরা আপু, তোমরা বসো আমি ডিনার রেডি করছি।এখন আমরা কাবাব মে হাড্ডি হবো না। "
নীরা হেসে হেসে কথা গুলো বলে টিয়ার চুল টেনে বের করে নিয়ে আসে।
-" নীরপু,এসব কি হচ্ছে? তুমি মুখ বুজে সব সহ্য করছো? ভুলে যেওনা তুমি বউ উনার। তোমার জোর আছে উনার ওপর। নিজের অধিকার টেনে নাও।"
-" তোর কি ধারনা আমি রোম্যান্স করার জন্যওদের রেখে আসলাম? দেখ কি করি।এটা তো আমি জানি গুন্ডাটা আমাকেই ভালোবাসে। কিন্তুু তোর বোন পেত্নীটা কি করে আমাদের মধ্যে ঢুকলো সেটা আমাকে বের করতে হবে। বজ্জাতটার পেট থেকে বের করতেই হবে। "
-"বাহ্ এই না হলে আমার বোন।"
নীরা হঠাৎ ই টিয়াকে জরীয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করে। নীরার হঠাৎ এমন ভাবে কাঁদতে দেখে টিয়া হতদম্ভ হয়ে যায়।
-"টিয়া বেপি দরজার পাশে তোর দুলাভাই দাড়িয়ে আছে। "
নীরার ফিসফিসিয়ে কথা শুনে টিয়া মুখটিপে হেসে সেও ন্যাকাকান্না করতে শুরু করে। দরজার এপাড় থেকে ওদের কান্না নিলয়ের মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে।
-"বজ্জাত মাইয়া। মরাকান্না কাদছিস কেনো? আমাকে শান্তনা না দিয়ে অভিনয় করছো মাইয়া?"
-"(ওহ্ সরি সরি।) এই আপু কি হয়েছে? কাঁদছো কেনো? "
-"ওই,,, ছেলেটা আজ আমাকে আবার প্রপোজ করেছে "
নীরাকে কথা শেষ করতে না দিয়ে নিলয় হুরমুর করে কিচেনে ঢুকে পড়ে।
-"ছেলেটা মানে?কোন ছেলে? কে কি বলেছে তোমাকে নীর পাখি? আমাকে বলো ওর কলিজা ছিঁরে নিবো আমি এতো বড় সাহস কার, "
-"টিয়া বেপি খাবার টেবিল সাজাও। আমাদের দুলাভাই এর খুদা লেগেছে মনে হচ্ছে।
-" আরেহ নিলয় বেপি তুমি এখানে? আমাকে ছেড়ে চলে এসেছো কেনো? সেই কখন থেকে খুঁজছি তোমায়। "
-"(বেপি? দাড়াও তোমার বেপির গুষ্টির ষষ্টিপুজো করছি আমি) আরে আপু তোমার বেপির খুদা লেগেছে মনে হয়। আর দুলাভাই বলছিলো আজ নাকি তোমার হাতে খাবে।"
-"্ওয়াও, বেপি সত্যি বলছো?"
নীরা আর টিয়া একসাথে"হ্যা,,,,, তোমার বেপি সত্যি বলছে। তাই না দুলাভাই"
নিলয় রাগি চোখে নীরার দিকে তাকিয়ে হনহনকরে বের হয়ে আসে। মুনিরাও পিছে পিছে আসে।
নীরা আর টিয়া মুচকি হাসছে।
ডাইনিং টেবিলে একপাশে টিয়া আর নীরা। অন্য পাশে মুনিরা। নিলয় ফ্রেস হয়ে আসছে। মুনিরা নিজের পাশে চেয়ার টেনে দেয়। নিলয় এগিয়ে বসতে যাবে তার আগে টিয়া নিলয়ের পা এর সাথে পা বাঁধিয়ে দেয়। আর নিলয় মুনিরার কোলে ধপ করে বসে পরে।
মুনিরাতে নিলয়কে জরীয়ে ধরে দুহাতে। আচমকা এমন হওয়াতে নিলয়ও মুনিরার দু বাহু চেপে ধরে। ব্যাপারটা নীরা বেশ বুঝতে পারে। নীরা রাগি চোখে টিয়ার দিকে তাকায়।
-"আ,,,আমি তো ভেবেছিলাম দুলাভাই তোমার ওপরে পড়বে। কিন্তুু কে জানতো গাড়ির ব্রেকফেইল হয়ে যাবে। "
-" তোকে আমি উস্টা মারমু বিয়াদপ মেয়ে। মনে হচ্ছে একটা লাথি মেরে দুটাকে বাসা থেকে বের করে দেই। "
নীরার ধমকে টিয়া সামনে থেকে একটা প্লেট তুলে মুখ ঢেকে নেয়।
-" নীরা একটা প্লেট ফ্লোরে আছাড় মেরে গটগট করে ভেতরে চলে যায়। কাঁচ ভাঙার শব্দে নিলয়ের হুস হয় চট করে মুনিরার ওপর থেকে উঠে টিয়ার দিকে রাগি লুকে তাকায়। বেচারি টিয়ার তো করুণ দশা। ইনোসেন্ট ফেস করে নিলয়ের দিকে তাকায়। নীরার হাসির শব্দে নিলয় ভ্রু কুচকে সেদিকে তাকায়। নীরা কারও সাথে ফোনে কথা বলতে বলতে এগিয়ে আসছে। নীরা অঝথাই সেই হেসে হেসে কথা বলছে।
-"আরেহ নীরা কার সাথে এতো কথা বলছিস রে?
-"নিউ বি এফ আপু"
,নিলয় সবে মাত্র খাবার মুখে তুলেছে।
নীরার কথা শুনে নিলয়ের বিষম লেগে যায়। নিলয় চট করে উঠে নীরার ফোনটা টেনে নিয়ে ফ্লোরে ছুরে মারে।
,"আমি কারো হলে,
তোমার কেনো জ্বলেরে সখি
তোমার কেনো জ্বলে,,
নীরা সুরসুর করে চেয়ার থেকে উঠে আস্তে আস্তে গানটা বলতে বলতে রুমে চলে আসে।
,
,
,
, be continue ♥♥♥

পর্বঃ২৪
writer:অন্না
,
নীরা নেতিয়ে পড়ে নিলয়ের বুকে।নিলয় নীরাকে বুকের সাথে লাগিয়ে নিয়ে পাগলের মতো করতে থাকে। "এই নীর, নীর কথা বলো প্লিজ। নীর পাখি কি হলো তোমার বলো তো। নীর পাখি প্লিজ কথা বলো"
নীরা আস্তে আস্তে মাথা তুলে নিলয়কে এক নজর দেখে আবার মাথা গুজে দেয় নিলয়ের বুকে।
"তুমি ঠিক আছো নীরু? এমন পাগলামু কে করে বলো তো। জান বেরিয়ে আসছিলো আমার। আমাকে কি মানুষ বলে মনে হয় না তোমার?খবরদার বলছি ফেরদার যদি তুমি এমন কাজ করেছো তো আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না কিন্তুু"
-"মমানে?"
-"বিয়েটা আমি করছি নীর পাখি।"
নীরার কানে নিলয়ের কথা টা বারি খাচ্ছে "আমার ওকে চাই"। তাহলে এসব কি আবেগের বসে করছে ও। মুনিরা আপুকেই ভালোবাসে ও। আসলে আমাকে এভাবে দেখে ও নিজের আবেগটা কন্ট্রোল করতে পারছে না। তাই তো, আমি কেনো ভুলে যাই, কালো মেয়েদের কেউ ভালোবাসেনা। সবাই মোহে পড়ে।
নিলয় রাগের চোটে ফোনটা রাস্তায় ছুরে মারে।
,
নিলয় সেই কখন থেকে নীরার রুমে বসে পায়চারি করছে। এখন ও নীরা বাসায় ফিরে নি। নিলয়ের অস্থিরতা দেখে টিয়া মুচকি হাসছে। তবে সেটা কিসের হাসি টিয়া ভালো জানে।
-"আপনারা বিয়ে করছেন কবে দুলাভাই?"
-"খুব শিঘ্রই ".
-"হুম দুইটা দুলাভাই তোর। বাট নিলয় বেস্ট দুলাভাই হবে দেখিস। নীরা তো আর আমার মতো সুন্দরী নয়। ওর আর কি রকম হাসবেন্ড হবে। "
,
নীরার কথা শুনে নিলয়ের বুকে মোচর দিয়ে ওঠে। বুকের বাম পাশ টায় চিনচিনে ব্যাথা অনুভব করছে। নীরা নিজেকে এমন মনে করছে।
নীরা হেসে হেসে কথা গুলো বলে টিয়ার চুল টেনে বের করে নিয়ে আসে।
-"টিয়া বেপি দরজার পাশে তোর দুলাভাই দাড়িয়ে আছে। "
নীরার ফিসফিসিয়ে কথা শুনে টিয়া মুখটিপে হেসে সেও ন্যাকাকান্না করতে শুরু করে। দরজার এপাড় থেকে ওদের কান্না নিলয়ের মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে।
-"বজ্জাত মাইয়া। মরাকান্না কাদছিস কেনো? আমাকে শান্তনা না দিয়ে অভিনয় করছো মাইয়া?"
-"(ওহ্ সরি সরি।) এই আপু কি হয়েছে? কাঁদছো কেনো? "
-"ওই,,, ছেলেটা আজ আমাকে আবার প্রপোজ করেছে "
নীরাকে কথা শেষ করতে না দিয়ে নিলয় হুরমুর করে কিচেনে ঢুকে পড়ে।
-"ছেলেটা মানে?কোন ছেলে? কে কি বলেছে তোমাকে নীর পাখি? আমাকে বলো ওর কলিজা ছিঁরে নিবো আমি এতো বড় সাহস কার, "
-"টিয়া বেপি খাবার টেবিল সাজাও। আমাদের দুলাভাই এর খুদা লেগেছে মনে হচ্ছে।
-" আরেহ নিলয় বেপি তুমি এখানে? আমাকে ছেড়ে চলে এসেছো কেনো? সেই কখন থেকে খুঁজছি তোমায়। "
-"(বেপি? দাড়াও তোমার বেপির গুষ্টির ষষ্টিপুজো করছি আমি) আরে আপু তোমার বেপির খুদা লেগেছে মনে হয়। আর দুলাভাই বলছিলো আজ নাকি তোমার হাতে খাবে।"
-"্ওয়াও, বেপি সত্যি বলছো?"
নীরা আর টিয়া একসাথে"হ্যা,,,,, তোমার বেপি সত্যি বলছে। তাই না দুলাভাই"
নিলয় রাগি চোখে নীরার দিকে তাকিয়ে হনহনকরে বের হয়ে আসে। মুনিরাও পিছে পিছে আসে।
নীরা আর টিয়া মুচকি হাসছে।
ডাইনিং টেবিলে একপাশে টিয়া আর নীরা। অন্য পাশে মুনিরা। নিলয় ফ্রেস হয়ে আসছে। মুনিরা নিজের পাশে চেয়ার টেনে দেয়। নিলয় এগিয়ে বসতে যাবে তার আগে টিয়া নিলয়ের পা এর সাথে পা বাঁধিয়ে দেয়। আর নিলয় মুনিরার কোলে ধপ করে বসে পরে।
মুনিরাতে নিলয়কে জরীয়ে ধরে দুহাতে। আচমকা এমন হওয়াতে নিলয়ও মুনিরার দু বাহু চেপে ধরে। ব্যাপারটা নীরা বেশ বুঝতে পারে। নীরা রাগি চোখে টিয়ার দিকে তাকায়।
-"আ,,,আমি তো ভেবেছিলাম দুলাভাই তোমার ওপরে পড়বে। কিন্তুু কে জানতো গাড়ির ব্রেকফেইল হয়ে যাবে। "
-" তোকে আমি উস্টা মারমু বিয়াদপ মেয়ে। মনে হচ্ছে একটা লাথি মেরে দুটাকে বাসা থেকে বের করে দেই। "
নীরার ধমকে টিয়া সামনে থেকে একটা প্লেট তুলে মুখ ঢেকে নেয়।
-" নীরা একটা প্লেট ফ্লোরে আছাড় মেরে গটগট করে ভেতরে চলে যায়। কাঁচ ভাঙার শব্দে নিলয়ের হুস হয় চট করে মুনিরার ওপর থেকে উঠে টিয়ার দিকে রাগি লুকে তাকায়। বেচারি টিয়ার তো করুণ দশা। ইনোসেন্ট ফেস করে নিলয়ের দিকে তাকায়। নীরার হাসির শব্দে নিলয় ভ্রু কুচকে সেদিকে তাকায়। নীরা কারও সাথে ফোনে কথা বলতে বলতে এগিয়ে আসছে। নীরা অঝথাই সেই হেসে হেসে কথা বলছে।
-"আরেহ নীরা কার সাথে এতো কথা বলছিস রে?
,নিলয় সবে মাত্র খাবার মুখে তুলেছে।
নীরার কথা শুনে নিলয়ের বিষম লেগে যায়। নিলয় চট করে উঠে নীরার ফোনটা টেনে নিয়ে ফ্লোরে ছুরে মারে।
তোমার কেনো জ্বলেরে সখি
তোমার কেনো জ্বলে,,
নীরা সুরসুর করে চেয়ার থেকে উঠে আস্তে আস্তে গানটা বলতে বলতে রুমে চলে আসে।
,
,
,
, be continue ♥♥♥






No comments:
Post a Comment