Joy Bhaiya Youtube Channel

গল্প: কি সে রহস্য লেখা: শাহরিয়ার ইমরোজ পর্ব: ০১

- আপনার মেয়ে তো প্রেগনেন্ট।
- কি যা তা বলছেন। 10 বছরের মেয়েকে কিভাবে হবে। আপনি কি নেশা করেছেন।
- আমি সত্যিই বলছি। তাছাড়া আপনার মেয়ের গর্ভে একটি সাপের বাচ্চা রয়েছে ।
- আমার মনে হয় আপনি পুরো পাগল হয়ে গেছেন।
- আমি পাগল হইনি । আপনার মেয়ের আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট তো এটাই বলছে।
- আপনার মেশিন মনে হয় নষ্ট হয়ে গেছে। আমি অন্য ডাক্তার দেখাবো ।
এ কথা বলে লোকটি চলে গেল।
কিছু না বুঝে থাকলে ফ্লাশব্যাক পড়ে আসুন।
ফ্লাশব্যাক
সামিয়া তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। বাবা-মায়ের খুব আদরের সন্তান । একদিন সামিয়া তার বাবা-মায়ের কাছে এসে বললো আমার প্রায়ই মাথা ব্যাথা করে । মাথা ঘুরায় । এছাড়া মনে হয় পেটে যেন কি নড়াচড়া করছে । একথা বলার কিছুক্ষণ পর সামিয়া তার বাবা মায়ের রুমে অজ্ঞান হয়ে পড়ে । তারপর সামিয়ার বাবা-মা তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসে ।
প্রথমে ডাক্তার সামিয়া কে প্রথমে হাসপাতালে ভর্তি করে। ডাক্তার সামান্য কিছু ওষুধ দিয়ে সামিয়াকে রেখে যায়। কিন্তু পরের দিন সামিয়ার অবস্থা কিছুটা খারাপ হয়ে পড়ে। আর সামিয়া শুধু বলতে থাকে: পেটে যেন কিছু নড়ছে । পেটে ব্যথা করছে।
তাই ডাক্তার সামিয়া কে আলট্রাসনোগ্রাফি করলেন।
কিছুক্ষণের মধ্যে আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট পেয়ে গেলেন।
তারপর ডাক্তার সামিয়ার বাবার কাছে এসে বললেন: আপনি আমার সাথে আমার চেম্বারে চলুন। আর সামিয়ার মাকে উদ্দেশ্য করে বললেন : আপনি আপনার মেয়ের কাছে থাকুন।
সামিয়ার বাবা ডাক্তারের পিছু পিছু চেম্বারে পৌঁছালেন।
তারপর ডাক্তার বললেন: আপনার মেয়ে প্রেগনেন্ট।
বাকি কথাগুলো তো উপরে বলা আছে ।
তারপর সামিয়ার বাবা তার সন্তানকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি চলে আসলেন ।
বাড়ি আসার পর থেকে সামিয়ার অবস্থা আরো খারাপ হতে লাগল ।
পরের দিন সকালে সামিয়ার বাবা সামিয়াকে নিয়ে একজন মহিলা ডাক্তারের কাছে গেলেন ।
মহিলা ডাক্তার সামিয়ার পেট চোখ-মুখ দেখলেন ।
ডাক্তার বলল: আপনার মেয়ের তেমন কিছু সমস্যা নেই ।
আমি কয়েকটা ওষুধ লিখে দিচ্ছি। সেগুলো খাওয়ালে আপনার মেয়ে ঠিক হয়ে যাবে।
সামিয়ার বাবা : ধন্যবাদ।
তবে সামিয়াকে আপনার আগে অন্য এক ডাক্তারকে দেখিয়ে ছিলাম। ডাক্তার আলট্রাসনোগ্রাফি করে বললেন: আমার মেয়ে নাকি প্রেগন্যান্ট । আমার মেয়ের পেটে নাকি একটা সাপের বাচ্চা রয়েছে।
ডাক্তার: হাহাহা । ওই ডাক্তার মনে হয় পাগল হয়ে গেছে।
সামিয়ার বাবা: আমারও তাই মনে হয়।
ডাক্তার: তা আপনি কোন ডাক্তারকে দেখালেন ।
সামিয়ার বাবা: ডাক্তার মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমরোজ।
ডাক্তার: কি । তিনি একথা বলেছেন।
সামিয়ার বাবা: হ্যাঁ । কিন্তু কি হয়েছে ?
ডাক্তার: তিনি এ কথা কেন বলবেন । তিনি কিছুদিন আগে লন্ডন থেকে ডাক্তারি কোর্স সম্পন্ন করে এলেন। তাছাড়া আমি ডাক্তারি শিখেছি তার কাছ থেকে। তিনি তো এরকম কথা বলার কথা না। কিছু তো গন্ডগোল রয়েছে।
তাই ডাক্তার সামিয়ার আলট্রাসনোগ্রাফি করালেন ।
রিপোর্ট দেখার পর
ডাক্তার : ও মাই গড । শাহরিয়ার স্যার তো ঠিকই বলেছেন। এর পেটে সাপের বাচ্চা রয়েছে।
কিন্তু এত অল্প বয়সে তো কোন মেয়ে প্রেগন্যান্ট হয় না। তাছাড়া মেয়েদের পেটে সাপের বাচ্চা কোথা থেকে আসলো।
আর এইদিকে শাহরিয়ার সামিয়ার রিপোর্টটি গবেষণা করতে লাগলেন । তার মনে হতে লাগল এখানে কোন রহস্য আছে। আর রহস্যের সমাধান করা শাহরিয়ারের খুব প্রিয় কাজ। এককথায় নেশা বলতে পারেন ।
ডাক্তারি পেশায় নিযুক্ত হওয়ার আগে শাহরিয়ার গোয়েন্দার কাজ করতেন।
তাই শাহরিয়ার মনে মনে ভাবছেন: রহস্য তো একটা পেয়ে গেলাম। এখন নেমে পড়ি রহস্য সমাধানের জন্য ।
চলবে.............
গল্প: কি সে রহস্য
লেখা: শাহরিয়ার ইমরোজ
পর্ব: ০১
Share:

No comments:

Post a Comment

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label