Joy Bhaiya Youtube Channel

#_____সার্টিফিকেট____ Ayesha Ariya Afiya পর্ব ২ .

#_____সার্টিফিকেট____
Ayesha Ariya Afiya
পর্ব ২
.
মনে মনে একটাই প্রতিজ্ঞা,,,,,
" ফিরে আসব একদিন আমি এই কিশোরগঞ্জ শহরে,,, সেদিন আমি একা থাকব না,,,, আমার সাথে থাকবে আমার সার্টিফিকেট"
,
,
একজোড়া পা দেখতে পেল আরিয়া,,, চোখ তুলে তাকিয়ে একটু ভয় পেল,,,,কতগুলো বখাটে খারাপ দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে,,,,
আরিয়াঃ কি চাই এখানে ( ভয়ে ভয়ে)
,
বখাটেঃ কি চাই তুমি জানো না,,,, টিয়া পাখি তোমাকে চাই।
বলেই বাজে ভাবে হাসতে লাগল,,,রাত আনুমানিক নয়টা,,, তার উপর একলা একটা মেয়ে,,,,, আরিয়া আস্তে আস্তে পাশ কাটিয়ে যেতে নিলেই,,, হাত সামনে ধরে আটকিয়ে দেই,,,,,
,
বখাটেঃ টিয়া পাখি কোথায় যাচ্ছ,,, উফফফ এত ভয় পেলে চলে,,, চলো আমাদের সাথে।
আরিয়ার হাতটা ধরতে গেলেই কেউ একজন বখাটের হাত ধরে ফেলে,,,,,
,
নিলয়ঃ এতই যখন টিয়া পাখির শখ তো বিয়ে করে,,, নিজের প্রিয়তমাকে টিয়া পাখি ডাকিস।
অগ্নি মূর্তি ধারণ করে দাড়িয়ে আছে নিলয়,,,আরিয়া নিলয় কে দেখে আরও ভয় পাচ্ছে,,,
,
বখাটঃ এখান থেকে চুপচাপ কেটে পর তা না হলে জান নিয়ে ফিরতে পারবি না।
,
নিলয়ঃ তাই নাকি।
,
,
পিটাতে শুরু করল নিলয়,,,, নিলয় একা আর বখাটে গুলো চারটা কেউ পারছে না,,, তার উপর আবার সবগুলো ড্রিংক করা অবস্থায় কিভাবে পারবে,,, মেরে একেবারে তক্তা বানিয়ে ফেলেছে সবগুলো কে,,,নিলয়কে একটা পাঞ্চ দিয়েছে নাক বরাবর রক্ত পড়ছে নাক দিয়ে,,,,,
,
,
আরিয়ার কাছে নিলয় গিয়ে দাঁড়াল,,, ভয়ে কাচুমাচু হয়ে দাড়িয়ে আছে,,,,
নিলয়ঃ ভালোবাসি তো তোমাকে তাই একা ছেড়ে দিতে পারলাম না,,, চলো আমার সাথে।
,
আরিয়াঃ আ,,মি,,,,,যা,,ব,,,, না।
,
নিলয়ঃ কেন তুমি এখন এত রাতে কোথায় যাবে।
,
আরিয়াঃ যেদিকে দুই চোখ যায় সেদিকেই যাব আপনি চলে যান।
,
নিলয়ঃ আমি তোমাকে একা রেখে যাব না প্লিজ আমার সাথে আমার বাড়িতে চল।
,
আরিয়াঃ আমি ঢাকা চলে যাব,,, আপনি যেতে পারেন,,,আমাকে নিয়ে যদি আপনি আপনার বাড়ি তে যান তাহলে লোকে মন্দ বলবে,,, একটা অবিবাহিত মেয়ে আমি ,,,,,, আপনি যান আমার কথা আপনাকে চিন্তা করতে হবে না।
,
নিলয়ঃ তুমি যদি রাজি থাক তাহলে আমি এখনই তোমাকে বিয়ে করতে রাজি আছি।
,
আরিয়া চোখ বড় বড় করে নিলয়ের দিকে তাকাল,,,তাচ্ছিল্যের একটা হাসি দিল,,,,
,
আরিয়াঃ বিয়ে করবেন আপনি আমাকে,,,যেখানে নিজের মা বাবাই আমাকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার সময় আঁটকায়নি,,,,অবশ্য ওনারা তো আর আমার নিজের বাবা মা না।
,
নিলয়ঃ আরিয়া প্লিজ এসব কথা বাদ দাও তুমি আমার সাথে চলো কেউ কিচ্ছু বলবে না।
,
আরিয়াঃ আমি যাব না।
,
নিলয়ঃ যাবে না ঠিক আছে।
বলেই কুলে তুলে নিল,,,
আরিয়াঃ আরে কি করছেন নামান আমাকে,,, নামান বলছি।
,
নিলয়ঃ আমি ধরলে ভালো লাগে না,,, সুমিত ধরলে তো ঠিক ই ভালো লাগে,,,, নামানোর কথা বললে নিচে ফেলে দিব তখন নিশ্চয়ই ভালো হবে না।
,
আরিয়াঃ আচ্ছা ঠিক আছে নামান,,,আমি আপনার সাথে যাব।
,
নিলয় নামিয়ে দিল,,,, ব্যাগটা নিয়ে আরিয়াকে বলল,,পেছনে পেছনে আসতে,,,, আরিয়া বাধ্য মেয়ের মতো নিলয়কে ফলো করছে,,,,,,,
,
,
নিলয়ঃ মা দরজা টা খুল,,, তানহা।
তানহা দরজা টা খুলে দিল,,, নিলয়ের সাথে আরিয়াকে দেখে অবাক হলো তানহা,,,
,
নিলয়ঃ মা মা দেখ ভাইয়া কাকে নিয়ে এসেছে।
,
নিলয়ের এসে নিলয়ের সাথে বোরকা পড়া,,, আরিয়া কে দেখে এক প্রকার রেগে গেল,,,,,
,
নিলয়ের মাঃ এটা কে নিলয় কাকে নিয়ে এসেছিস তুই,,,,আমাদের না জানিয়ে বিয়ে করে ফেললি,,, এটা কি হলো গো আল্লাহ গো।
,
নিলয়ঃ মা মা আমার কথাটা শুন।
নিলয়কে কিছু বলতে না দিয়ে,,,,,,, ঠাসসসসস
,
নিলয়ের মাঃ কি শুনব বল একটা মেয়ে কে বিয়ে করে নিয়ে এসেছিস,,,আবার বলছিস তোর কথা শুনতে,,, কোন অপয়্যা মেয়ে এল গো আমার সংসারে।
,
নিলয় গালে হাত দিয়ে আরিয়ার দিকে তাকাল,,,,মেয়েটা নিঃশব্দে কাঁদছে,,,,, চলে আসতে নিলেই হাত ধরে ফেলে নিলয়,,,,,
,
নিলয়ঃ মা না বুঝে শুনে কথা বলাটা তোমার ঠিক হয়নি,,,ও আরিয়া তানহার বান্ধবী,, বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে ওর মা বাবা এত রাতে কোথায় যাবে তাই আমি নিয়ে এসেছি,, আর তুমি যা নয় তাই বলছ।
,
তানহাঃ আরে আরিয়া তুমি আমি তো তোমাকে চিনতেই পারিনি,,, আস আস ভিতরে আস,,,মা ও আমার বান্ধবী আরিয়া আমরা একই ক্লাসে পড়তাম।
,
নিলয়ের মার আহজারি একটু কমল,,,,, মহিলা যা শুরু করে দিয়েছিল,,,,আরিয়াকে নিয়ে তানহা নিজের রুমে গেল,,, টিনের ঘরটায় তিনটা রুম,,,,, বাবা মা বোন তানহা কে নিয়ে নিলয়ের পরিবার,,,,, কোন রকমে চলাফেরা করে তারা,,,,আশেপাশের মানুষ এসে হাজির কি হয়েছে এটা দেখতে,,, আরিয়াকে দেখে কত কথাই না শুনাল,,,,,
,
আরিয়া বিছানার উপর বসে আছে,,, তানহা এক প্লেট খাবার এনে দিল আরিয়াকে খেতে,,, প্রচন্ড খিদা ছিল আরিয়ার তাই সাত পেচ না ভেবে খেয়ে নিল,,,,নিলয় অনেক বার উঁকি ঝুকি দিয়েছে আরিয়ার সাথে কথা বলতে কিন্ত সেই সুযোগ আর হয়নি,,,,অনেক রাতে বাড়ি ফিরল নিলয়ের বাবা,,,, নিলয়ের মায়ের কাছ থেকে সব কথা শুনে প্রথমে রাগ হলেও পরে কিছু বলেনি,,,
,
,
তানহার সাথে ঘুমিয়েছে আরিয়া,,, বালিশটা অর্ধেক চোখের পানিতে,,, নিলয় এবার অনার্স কমপ্লিট করে মাস্টার্সে এডমিশন নিয়েছে,,,, তানহা অনার্স ফাস্ট ইয়ারে পড়ে,,, এবং আরিয়ার ক্লাস মেট,,,,
,
,
সকালে চারদিকে আযান পড়ছে,,, ঘুটঘুটে অন্ধকার আরিয়া দুইটা চিঠি লিখে ব্যাগটা নিয়ে বোরকা পড়ে বেরিয়ে পড়ল,,,, অজানার উদ্দেশ্য কোথায় যাবে কি করবে কিছুই তার জানা নেই,,,একটা চিঠি তানহার ওড়নায় বেঁধে রেখে এসেছে,, আরেকটা দরজার নিচ দিয়ে নিলয়ের রুমে রেখে এসেছে,,,,, কিশোরগঞ্জ থেকে উঠে পড়ল বাসে,,,, মাত্র পাঁচ টা বাজে ফিরে তাকাল একবার মনে মনে বলল,,,,,
" এই পরিবেশ এই শহর ছেড়ে যেতে চাইনি আমি,,, কিন্ত যেতে হচ্ছে আমাকে,,, কেননা আমি একজন ফেইলার,,, তবে ভয় নেই ফিরে আসব একদিন খুব শিঘ্রী "
বাস চলতে শুরু করল,,,অজানার উদ্দেশ্য দীর্ঘ একটা নিঃশব্দ ছেড়ে সিটে হেলান দিয়ে দুচোখ বন্ধ করে রাখল আরিয়া।
,
,
সারা রাত ঘুমায়নি নিলয় আরিয়াকে নিয়ে হাজার হাজার স্বপ্ন বুনেছে,,,, দ্রুত ঘুম থেকে উঠে পড়ল,,,তানহার রুমে উঁকি দিল বাট দরজা ভেতর থেকে বন্ধ,,,,আবারও নিজের রুমে ফিরে গেল,,,,পায়ের নিচে কিছু একটা খচখচ করছে দেখে নিচে তাকাল,,,একটা চিরকুট নিলয়ের কেমন জানি লাগছে,,, চিঠি টা খুলে পড়তে শুরু করল,,,,
,
,
আপনাকে কি বলন বা কি বলা উচিত বুঝতে পারছি না,,,, কেন এত ভালোবাসেন আমাকে,,, আপনাকে আমি কত অপমান করেছি,,, কিন্ত বিশ্বাস করুন শুধুমাত্র সুমিতের কথা শুনে নিজের মন থেকে করিনি,,,, হ্যা এটা ঠিক আমি আপনাকে দেখতে পারি না,,, তবে কালকের ব্যবহারেই বুঝলাম আপনি আমাকে কতটা ভালোবাসেন,,,, আমার অবস্থা দেখে আপনার উপহাস করা উচিত ছিল,,কিন্ত সেটা না করে আরও উল্টো বিয়ে করতে রাজি হয়ে গেলেন,,, বিশ্বাস করবেন কি না জানি না,,, কালকের ব্যবহারেই আপনাকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছি,,, অসহায়ের সময় যে পাশে দাঁড়ায় তার কথাই মানুষ মনে রাখে,,, আমিও ভুলব না আপনার কথা,,,,,,চলে যাচ্ছি অজানার উদ্দেশ্য কেননা আপনাদের ঘরেই তো" নুন আনতে পান্তা ফুরাই" ফিরে আসব একদিন আমি সেদিন আপনার কাছেই ফিরব "
ভালো থাকবেন
ইতি
( আরিয়া)
,
নিলয় কি বলবে বুঝতে পারছে না এখন ছয়টা বাজে দ্রুত এক দৌড়ে বাসস্ট্যান্ডে গেল,,,,, কাউন্টারের লোককে জিজ্ঞাসা করল,,,,,,,
নিলয়ঃ আচ্ছা একটা মধ্য বয়সী মেয়ে বোরকা পড়া এমন কেউ কি এখানে এসেছিল( উত্তেজিত হয়ে)
,
কাউন্টারের লোকঃ জি একটা মেয়ে বোরকা পড়া হাতে একটা ব্যাগ সকাল পাঁচটার বাসে উঠে চলে গেছে।
,
নিলয়ঃ কিহহহ চলে গেছে,,,, আচ্ছা এই বাসটা লাস্ট কোথায় গিয়ে থামবে।
,
কাউন্টারের লোকঃ কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকা।
,
নিলয়ঃ ঢাকা তুমি চলে গেলে আরিয়া,,,, এত কাছে থেকেও তোমায় আমার করতে পারলাম না,,,, চিঠিটার দিকে তাকাল স্পস্ট করে লেখা" ফিরব একদিন আমি সেদিন আপনার কাছেই ফিরব"
,
,
ফিরে এল বাড়ি তে আগে তো আরিয়াকে দূর থেকে দেখত তাও ভালো ছিল,,,দেখতে পারত কিন্তু এখন তো আর কোন দিন দেখতে পারবে কি না সেটাও সন্দেহ,,,,,,, বিছানায় ধপ করে শুয়ে পড়ল,,,,, চোখ দিয়ে পানি পড়ছে না কিন্তু ভিতর টা কষ্টে জ্বলে যাচ্ছে।
,
,
তানহা ঘুম থেকে উঠে আরিয়াকে পাশে না পেয়ে ভাবল মায়ের কাছে নিশ্চয়ই কিন্ত ব্যাগটাও নেই বোরকা নেই,,, ওরনাটা কেমন যেন বলা বলা লাগছে,,, কিছু একটা বাঁধা তাড়াতাড়ি জটটা খুলল,,,,
প্রিয় বোন
তানহা তোমাকে কি বলব বল,,, যেখানে নিজের বোনই আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে নিজে খেয়েছে অথচ আমাকে একবার জিজ্ঞেস করেনি আপু তুই খাবি,,,সেখানে তুমি নিজে না খেয়ে তোমার খাবারটা আমাকে দিয়ে দিয়েছ খেতে,,,,,,, আসলে আমি সারাদিন কিছু খাইনি তো তাই তোমাকে আর জিজ্ঞেস করিনি তুমি খেয়েছ কিনা,,,,,,তুমি আমার বান্ধবী তুমি আমার বোন আমি তোমাকে বোন বলেই ডাকলাম,,, চলে যাচ্ছি খুব কষ্ট দিলাম তোমাদের একদিন,,, পাড়া প্রতিবেশী অনেক কথা আমার জন্য তোমাদের শুনিয়েছে,,,সেজন্য আমি খুবই দুঃখিত,,,,, আমার জীবনে একটাই কষ্ট আমার মা বাবা নেই,,, আর যাদেরকে মা বাবা ডাকি তারাই আমাকে একবার বুঝতে চেষ্টা করল না,,, তোমার মায়ের প্রতি আমার কোন অভিযোগ নেই,,,, ওনার জায়গায় আমি থাকলেও এটাই করতাম,,,,,,যাই হোক অনেক কথাই বললাম তোমার ভাইয়া কে দেখে রেখ আর তুমি ভালোভাবে পড়াশোনা কর,,,,, এই দুনিয়াতে একটা পাশের সার্টিফিকেট ছাড়া কোন দাম নেই,,,, ভালো থেক বোন"
( আরিয়া)
,
তানহা না চাইতে ও কেঁদে দিল,,,,আসলে রাতে তানহা না খেয়ে আরিয়াকে তার খাবারটা খেতে দিয়েছে,,, সেটা আরিয়া দেখেছে কিন্ত কিছু বলেনি তার প্রচুর খিদা ছিল,,,,,,
,
,
সকাল নয়টা
বাস এসে থামল এয়ারপোর্টের সামনে,,, একে একে সকল যাত্রীরা নেমে পড়ল আরিয়াও বাসের টাকা দিয়ে নেমে পড়ল,,,,,নেমে তো পড়েছে কিন্ত এখন যাবে কোথায় ব্যাগটা নিয়ে হাঁটতে শুরু করল,,,,যার কেউ নেই তার আল্লাহই আছে,,,, সন্ধ্যা হয়ে আসছে এখনও হাঁটছে আরিয়া,,,, রাস্তা পাড় হওয়ার সময় এক মাইক্রোর সামনে এসে ছিটকে পড়ে আরিয়া,,,,,,,সাথে সাথে ব্যাগটা হাত থেকে পড়ে যায় আরিয়া সেন্সলেস হয়ে পড়ে,,, কার থেকে একজন ভদ্র লোক আর ভদ্র মহিলা বেরিয়ে এসে তাড়াতাড়ি করে হসপিটালে নেই আরিয়াকে,,, ডাক্তাররা ড্রেসিং করে বেন্ডেজ করে দিয়েছে,,,
,
সেন্স ফিরে নিজেকে হসপিটালের বেডে আবিষ্কার করল আরিয়া মাথায় প্রচন্ড ব্যাথা,,,, এক ভদ্র লোক আর এক ভদ্র মহিলা এসে আরিয়াকে নাম ঠিকানা জিজ্ঞেস করল,,,,, আরিয়া সবকিছু খুলে বলল,,,,,
,
ভদ্রলোকঃ এখন তুমি কোথায় যাবে।
,
আরিয়াঃ যেখানে দুই চোখ যায় সেখানেই যাব।
,
ভদ্রমহিলাঃ তা আর দরকার হবে না,, আমাদের বাড়িতেই তুমি থাকতে পারবে।
,
আরিয়াঃ আমাকে শুধু আপনাদের বাড়িতে থাকতে দিবেন তাহলেই চলবে,,, আমি সব কাজ করতে পারি,,, মাস মাসে বেতন দেওয়া লাগবে না।
,
,
আরিয়াকে ভদ্রলোক বাড়িতে নিয়ে গেল,,,,,বাড়িতে ওনার একটা দুই ছেলে আর দুইটা মেয়ে,,, একটা মেয়ে শুধু থেকে পড়ে ওদের ফুফাত বোন,,,,
আরিয়াকে কাজ দিয়েছে শুধু বাগানে পানি দিবে আর রান্নার কাজে ভদ্র মহিলাকে একটু সাহায্য করবে এতটুকু ই,,,, ছোট ছেলে টা শুধু আরিয়াকে দিয়ে নিজের কাজ করায়,,,, ছেলেটার ভালো লাগতে শুরু করেছে আরিয়াকে,,, খারাপ নজরে নই ভালো নজরেই তাকিয়ে থাকে আরিয়ার দিকে,,,,, এভাবেই কেটে গেল ছয়টা মাস,,,,,কিন্ত কে জানত এটাই হবে তার কাল,,,,,
,
ভদ্র মহিলাঃ আরিয়া আরিয়া ( জোরে জোরে চিল্লিয়ে)
,
আরিয়াঃ হ্যা খালাম্মা কন।
,
ভদ্র মহিলাঃ আমার চেইনটা কোথায় রেখেছিস তাড়াতাড়ি বের করে দে( রেগে)
,
আরিয়াঃ খালাম্মা আপনার চেইন কোথায় আমি কেমনে কমু ( অবাক হয়ে)
,
বাড়িতে পড়তে এসেছে এই মেয়ে টা বলল,,,,মামি আপনি ওর ব্যাগ চ্যাক করেন তাহলেই হবে এই মেয়ে এমনি এমনি স্বীকার করবে না।
,
ভদ্র মহিলা এটাই করল আর কাকতালীয় ভাবে পেয়ে ও গেল,,,,,, ঠাসস ঠাসস
গালে হাত দিয়ে দাড়িয়ে আছে আরিয়া,,,,,, ঐ মেয়ে টা হাসছে ও নিজেই রেখেছে আরিয়ার ব্যাগে যাতে চোর সাজিয়ে বাড়ি থেকে বের করা যায়,,,
,
ভদ্র মহিলাঃ তুই তো একটা ছোট লোক আমার আগেই বুঝা উচিত ছিল,,,, তোদের কাজই এরকম কতদিন ভালো নাটক করে তারপর বাড়ি থেকে জিনিস নিয়ে পালিয়ে।
,
আরিয়াঃ খালাম্মা আপনি এসব কি বলছেন,,, আমি চুরি করিনি বিশ্বাস করুন।
,
ভদ্র মহিলাঃ বিশ্বাস আবার তোকে এখনই আমার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যা বলছি,,,এই দাড়য়ান ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন।
,
আরিয়াঃ খালাম্মা তার আর দরকার পড়বে না,,, আমি এখনই চলে যাচ্ছি,,,, তবে একটা কথা বলি আমি চুরি করিনি।
,
ভদ্রমহিলাঃ কি প্রমাণ আছে যে তুই চুরি করিসনি,,, হাতে নাতে ধরা পড়েছিস তুই এখনই চলে যা বলছি।
,
আরিয়াঃ হ্যা ঠিকই কোন প্রমাণ নেই তবে আমার ঘাড়ে দুজন ফেরেশতা আছে তারাত ঠিকই লিখে রাখবে,,, আজকে আমি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারলাম না ঠিকই কিন্ত আপনার সাথে আমার হাশরের ময়দানে দেখা হবে,,, সেদিন সবার সামনে আল্লাহ তায়ালা প্রমান করে দিবে আমি চুরি করিনি।
,
,
আরিয়া বেরিয়ে পড়ল,,, গেটের বাহিরে এসে বোরকা টা পড়ে ফেলল,,,হাঁটছে মনে মনে মা বাবা কে মনে পড়ছে তারা থাকলে আজ গমনটা হত টা,,,, রাত সাতটা বাজে আরিয়া এখনও হাঁটছে কোথায় যাচ্ছে তার কোনো ঠিক নেই,,,, হাটতে হাটতে চলে এসেছে নির্জন স্থানে ভয় পাচ্ছে আরিয়া,,,,,,একদল মাতাল ছেলে ড্রিংক করে হেলতে দুলতে এগিয়ে আসছে,,, আরিয়াকে এখনও দেখেনি তারা,,,,আরিয়া ভয়ে কাচুমাচু হয়ে দেওয়ার সাথে প্রায় লেপ্টে গেছে,,,, মাতাল গুলা আরিয়া কে দেখার আগেই,,,,,,,
"পেছন থেকে কে যেন আরিয়ার মুখ চেপে ধরে রুমের ভিতরে নিয়ে গিয়ে দরজাটা খট করে লাগিয়ে দিল"
#চলবে___
পরের পর্ব গুলো শুধু পেজে পোস্ট করা হবে তাই পরের পর্ব গুলো পেতে অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পেজটিতে এখনি লাইক করে ফেলুন
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label