সিনিয়র বউ
।পর্ব_০৫
লেখক-নাঈম আহাম্মেদ হৃদয়
ছেলেটার সামনে গিয়েই ওর শার্টের কলার ছেপে ধরে ঠাসস ঠাসস ২ টা চড় বসিয়ে দেয়, ছেলেটা রাগি দৃষ্টিতে তামান্নার দিকে তাকায়, তামান্না বলতে থাকে?
তামান্নাঃ ছিহ! তোর লজ্জা করে না আমার সাথে রিলেশন করে এখন অন্য মেয়ের সাথে টাংকি মারতে?
ছেলেঃ তুমি যা ভাবছো তা নয়, আমার কথাটা একটু শুনো....
তামান্নাঃ কি শুনবো তোর কথা যা দেখার তা তো নিজের চোখেই দেখলাম।
তামান্নার কথা শুনে ছেলেটার পাশে থাকা মেয়েটা রেগে যায় তারপর সেও ছেলেটা একটা চড় দিয়ে চলে যায়। আমি আর ফাহাদ বসে বসে হাসতেছি। শালা প্লে বয় এবার ঠ্যালা সামলা,,,
মেয়েটা চলে যাওয়ার পর ছেলেটা তামান্নার গালে একটা চড় বসিয়ে দেয়। সাথে সাথে আমার মাথা খারাপ হয়ে গেলো, ইচ্ছা করছিলো ছেলেটাকে মেরে পুতে ফেলি।
কিন্তু না, তামান্নাও আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে, এবার বুঝুক ভালোবাসার মানুষ কষ্ট দিলে কেমন লাগে, বেশি আলগা পিরিত দেখালে এমনটাই হয়।
ছেলেটা তামান্নাকে বলতে লাগলো....
ছেলেঃ এই তুই আমাকে ফারিয়ার (মেয়েটা) সামনে অপমান করলি কেন?
তামান্নাঃ বেশ করেছি, তুই আমার সাথে রিলেশনে থেকে আবার অন্য মেয়ের সাথে কি?
ছেলেঃ কিহ! তোর সাথে রিলেশন? হা হা হা,,, কি করে ভাবলি আমি তোর সাথে প্রেম করতেছি?
তামান্নাঃ মানে?
ছেলেঃ মানে আমি তোর সাথে কোনো রিলেশন করিনি, যা ছিলো সেটা হচ্ছে টাইমপাস। আর তোর মতো মেয়েকে আমি আমার স্ত্রী বানাবো সেটা ভাবলি কি করে?
তামান্নাঃ কেন আমি কি করছি? পারবি না কেন?
ছেলেঃ যে মেয়ে বাসায় স্বামীর সাথে খারাপ ব্যবহার করে, বিয়ের পরও অন্য ছেলের সাথে রিলেশন করে তাকে আমার বউ বানাবো, এটা জীবনেও সম্ভব নয়।
তামান্নাঃ প্রপোজ করার সময় এটা মনে ছিলো না?
ছেলেঃ সব ছিলো, তোর সাথে জাস্ট টাইমপাস করেছি, টাকা নেওয়ার জন্য আর তোর শরীর ভোগ করার জন্য, টাকা তো খেয়েছি কিন্তু শরীরটা এখনো বাকী আছে। আর আমি বিয়ে করবো ফারিয়াকে। ওর বাবার অনেক টাকা। তোর বাবার কি আছে,,,
তামান্না সাথে সাথেই ছেলেটাকে আরো একটা চড় মারে, তারপর কান্না করতে করতে বলে...
তামান্নাঃ তোর মতো বাটপার আমি কখনো দেখিনি, তোর জন্য আমি জুয়েলকে অনেক কষ্ট দিয়েছি। আজ থেকে তোর আর আমার সম্পর্ক এখানেই শেষ। আর কখনো আমার সামনে আসবি না।
এ কথা গুলো বলে তামান্না কাঁদতে কাঁদতে চলে যায়, ছেলেটা গালে হাত দিয়ে আবুলের মতো দাঁড়িয়ে থাকে।
তামান্নার কথা ভেবে খারাপ লাগছে, বেচারি সত্যিই অনেক ভালোবাসতো ছেকেটাকে। আবার অনেক আনন্দও লাগছে যে ফকিন্নি আমার সাথে অনেক বাজে বিহেভ করেছে। এবার ঠ্যালা বুঝ। আর কিছুদিন আমিও তোরে ডিভোর্স দিবো। তখন বুঝবি তোর জীবনে এই জুয়েলের গুরুত্ব কি পরিমাণ ছিলো।
যাইহোক ফাহাদকে একটা ধন্যবাদ দিলাম, সে ছেলেটাকে না দেখলে হয়তো ছেলেটা তামান্নার সাথে শারীরিক রিলেশনও করে ফেলতো। আল্লাহ বাঁচাইছে।
আমি মোবাইলটা বের করে আমাদের বন্ধুদের মেসেঞ্জার গ্রুপে একটা মেসেজ লিখলাম,, " দুপুরে সবাই সিজলার রেস্টুরেন্ট এ আসিস, আমি ট্রিট দিবো"
মেসেজ পেয়ে সবাই লেজ উঠিয়ে ট্রাংক রোড় চলে আসলো, সবাই সেখান থেকে সিজলারে গেলাম। আমি, সানি, আয়মান, হাকিম আর ফাহাদ। সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া করলাম।
আয়মান আমাকে জিজ্ঞেস করলো, "হঠ্যাৎ ট্রিট কেন? আমি সব ঘটনা খুলে বললাম। সবাই মোটামুটি খুশি। সানিকে জিজ্ঞেস করলাম ডিভোর্স লেটার ঠিক হতে আর কয়দিন লাগবে সে বললো আর কিছু দিনের মধ্যে হয়ে যাবে।
বিকালে আর বাসায় গেলাম না। সবাই মিলে আড্ডা দিলাম, রাতে বাসায় গেলাম।
আম্মুঃ কিরে সারা দিন কই ছিলি?
আমিঃ এইতো বন্ধুদের সাথে।
আম্মুঃ এই অসুস্থ শরীর নিয়ে বন্ধুদের সাথে কি? এই তোর সাথে কি তামান্নার কিছু হইছে?
আমিঃ না, কেন?
আম্মুঃ দুপুরে এসে না খেয়ে শুয়ে আছে, অনেকবার ডেকেছি, খাবে না বলেছে, রুম থেকে বের হচ্ছে না।
আমিঃ আমি কিছু জানি না (যদিও সব জানি তবুও কিছু বললাম না)
আম্মুঃ দেখতো বাবা! মেয়েটা কিছু খাচ্ছে না। এভাবে না খেয়ে থাকলে তো অসুস্থ হয়ে যাবে। (নিজের ছেলে যে না খেয়ে আছে সেদিকে খেয়াল নেই)
আমিঃ আচ্ছা দেখতেছি।
আম্মুঃ হুম, যা ডেকে নিয়ে আয়। দুজনে একসাথে খেতে আয়।
তারপর রুমে গেলাম, দেখি তামান্না উলটো হয়ে শুয়ে আছে, আমাকে দেখেই উঠে বসলো। আমি কিছু না বলে ওয়াশরুমে চলে গেলাম, ফ্রেশ হয়ে এসে বললাম...
আমিঃ আম্মু খাওয়ার জন্য ডেকেছে, খেতে চলেন।
তামান্নাঃ আমি খাবো না, তুমি খেয়ে নাও।
আমি তো অবাক হয়ে গেলাম, যে মেয়ে আমাকে তুই ছাড়া কথা বলতো না আর সেই আমাকে তুমি করে ডাকছে।
আমিঃ খাবেন না কেন? দুপুরেও তো কিছু খাননি, আম্মু বললো। আপনার মুখে এগুলো কিসের দাগ? (যদিও সব জানি)
তামান্নাঃ কিছু মশা মারতে গিয়ে।
আমিঃ খেতে আসেন, সবাই বসে আছে,,,
আর কিছু না বলে খেতে চলে গেলাম, খাওয়া শুরু করে দিলাম কিন্তু সে আসছে না।
আমিঃ কিরে তামান্না আসছে না?
আমিঃ না।
আম্মুঃ কেন, কিছু হইছে?
আমিঃ শরীর খারাপ মনে হয়।
আম্মুঃ ও আল্লাহ! কি বলিস। ডাক্তারকে কল দে।
আমিঃ আরে ধুর তেমন অসুস্থ না, ঘুমালে ঠিক হয়ে যাবে।
আমি আর আম্মু খেয়ে নিলাম, চলে যাওয়ার সময় আম্মু বললো...
আম্মুঃ জুয়েল!
আমিঃ কিছু বলবে?
আম্মুঃ বলছিলাম কি, তুই খাওয়ারটা রুমে নিয়ে যা, ওর খিদা লাগলে খেয়ে নিবে। প্লিজ বাবা না করিস না।
কি আর করা ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও খাওয়ার গুলো রুমে নিয়ে গেলাম।
খাওয়ার গুলো টেবিলের উপর রাখলাম, তামান্নাকে বললাম...
আমিঃ ভাত নিয়ে আসছি। খেয়ে নিন।
তামান্নাঃ খাবো না, খিদা নেই।
আমিঃ না খেলে শরীর খারাপ করবে, খেয়ে নিন।
আর কিছু না বলে বালিশটা নিয়ে সোফায় শুয়ে পড়লাম, তামান্না কিছু একটা বলতে গিয়েও বললো না।
রাতের বেলা হঠ্যাৎ কিছু একটার শব্দ শুনে ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো, তাকিয়ে দেখি তামান্না পাগলের মতো খাওয়ার গুলো খাচ্ছে। আমি মুছকি হেসে মনে মনে বললাম "গরিবের কথা বাসি হলেও মিষ্টি হয়" আমি না জাগার ভান ধরে শুয়ে আছি। তামান্না একবার খাওয়ারের দিকে তাকায় আরেকবার আমার দিকে তাকায়।
তারপর ঘুমিয়ে পড়লাম, ঘুম থেকে উঠে দেখি তামান্না নিজের কম্বল টা আমার গায়ে জড়িয়ে দিয়ে কোথায় যেন চলে গেছে।
উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম, খাওয়ার টেবিলে গিয়ে দেখি পছন্দের সব খাবার, ঘটনা কি, আজকে তো বিশেষ কোনো দিন না, আম্মুকে জিজ্ঞেস করলাম আজকে এগুলো কেন? আম্মু হেসে বললো তামান্না নাকি আমার জন্য নিজের হাতে বানিয়েছে। আসলেই মেয়েদের মন বোঝা জীবনেও সম্ভব নয়, এরা কখন কি করে নিজেও জানে না।
কিছু না বলে খেয়ে নিলাম, তারপর রেড়ি হয়ে বাইরে চলে গেলাম, আজকে আড্ডা দেওয়ার জন্য যাচ্ছি না, একটা চাকরীর জন্য ইন্টার্ভিউ দিতে যাচ্ছি। বসে বসে তো অনেক খাইলাম এবার ফ্যামিলির পাশে দাঁড়ানো উচিত।
ইন্টার্ভিউ দিয়ে বন্ধুদের সাথে কিছুক্ষন আড্ডা দিয়ে রাতে বাসায় আসলাম। সবাই একসাথে খেয়ে নিলাম।
রুমে গিয়ে শুয়ে শুয়ে মোবাইল টিপতেছি এমন সময় তামান্না রুমে আসলো, আমি উঠে ছাদে চলে গেলাম, কিছুক্ষণ সেখানে বসে বসে গান শুমলাম।।
তারপর রুমে এসে দেখলাম তামান্না এখনো বসে আছে,,,,
আমিঃ কি ব্যাপার আপনি এখনো ঘুমান নি?
তামান্নাঃ ঘুমাবো পরে। একটা কথা বলতাম,,,,
আমিঃ হুম বলেন।
তামান্নাঃ আমাকে আর আপনি করে বলবে না।
আমিঃ তো কি বলবো?
তামান্নাঃ তুমি করে বলিও।
আমিঃ No Thanks (একটা হাসি দিয়ে)
তারপর খাট থেকে বালিশটা নিয়ে সোফায় ঘুমাতে যাবো, এমন সময় তামান্না আবারও বললো...
তামান্নাঃ সোফায় না ঘুমালে হয় না?
আমিঃ তো কোথায় ঘুমাবো?
তামান্নাঃ তুই এবার থেকে খাটে ঘুমাবে।
আমিঃ কেন আপনার চড় খাওয়ার জন্য নাকি অপমানিত হওয়ার জন্য? দেখেন আমারও একটা পার্সোনালিটি আছে।
তামান্নাঃ আগের সব কিছুর জন্য সরি।
আমি কিছু না বলে সোফায় ঘুমিয়ে পড়লাম, তুই কি ভাবছিস তোর নরম কথায় আমি পটে যাবো? তুই এখনো জুয়েলকে ছিনিস নি, আমিও তোকে অনেক ভালোবাসতাম কিন্তু যখনই তোর কাছে যেতাম অপমান ছাড়া আর কিছুই পাইনি?
যাক এতো কিছু ভেবে লাভ নেই, ঘুমিয়ে পড়ি। রাতের বেলা কারো গোঙ্গানির শব্দে ঘুম ভাঙ্গলো, ড্রিম লাইটের আলোয় রুমের সব কিছু হালকা ভাবে দেখা যাচ্ছে।
দেখলাম তামান্না শুয়ে শুয়ে কান্না করতেছে, কাঁদুক তাতে আমার কি? কানের মধ্যে কাঁথা চাপ দিয়ে আবারও ঘুমিয়ে পড়লাম।
সকালবেলা কারো নরম হাতের স্পর্শে ঘুম ভাঙ্গলো, হালকা চোখ খুলে দেখি তামান্না আমার মাথায় হাত বুলাচ্ছে, আমিও না জানার ভান করে শুয়ে আছি।
একটু পর সে উঠে গোসল করতে চলে গেলো, গোসল করে এসে আমাকে ডাকতে লাগলো, উঠে আমিও ফ্রেশ হয়ে নিলাম।
সকালবেলা নাস্তা করে শুয়ে শুয়ে ফেসবুকিং করছি এমন সময় আয়মান কল দিয়ে বললো, আমার চাকরিটা হয়ে গেছে। আমিও মহা খুশি। যাক অবশেষে পরিবারের হাল ধরতে পারবো।
আম্মুকে খবরটা দিলাম, আম্মুও অনেক খুশি, তামান্নাকে কিছু বললাম না। সেদিন রাতে সানি আর আয়মানের সাথে আড্ডা দিয়ে রাতে বাসায় আসলাম, তামান্না আমাকে বললো...
তামান্নাঃ Congratulation.
আমিঃ Thanks but why???
তামান্নাঃ নতুন চাকরি পাওয়ার জন্য।
আমিঃ ও আচ্ছা।
পরেরদিন তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলাম, রেড়ি হয়ে অফিসে চলে গেলাম। প্রথমদিন ভালোই লাগলো,,
এভাবে আরো ১০ দিনের মতো চলে গেলো, তামান্না আমার কাছে আসতে চায় বাট আমি তেমন একটা কথা বলি না। কারণ আগের দিন গুলোর কথা আমি এখনো ভুলি নি। তামান্নার জন্য আমি এখন প্রায় কলেজে যায় না বললেই চলে। সেদিন সবার সামনে অপমার করার পর থেকে কারো সামনে যাই না। শুধু পরীক্ষাটা দিয়ে আসি।
পরের দিন অফিসে যাচ্ছি এমন সময় আম্মু এসে বললো...
আম্মুঃ অফিসে যাচ্ছিস?
আমিঃ হুম, কিছু বলবে?
আম্মুঃ বলছিলাম কি তামান্নার আম্মু কল দিছে, সে নাকি অসুস্থ। তামান্নাকে যেতে বলেছে।
আমিঃ তো যাক।
আম্মুঃ না মানে তুই যদি দিয়ে আসতি!
তারপরেই....
চলবে....










