রোবট প্রেম ...
পর্ব : ৫
লেখক : শিশির আহমেদ (নীল)
-পরের দিন শিশির ঘুম থেকে উঠতে উঠতে দেরি করে ফেলল। সব আলসেমি যেন ওকে ঘিরে ধরল।। তারপর সব জড়তা নিয়ে রেডি হয়ে ইউনিভার্সিটি তে চলে গেলো। ওর মনে হচ্ছিলো কিছুদিন ছুটি নিয়ে মারিয়ার সাথে অবকাশ যাপন করা যায়। তাই ও পাঁচ দিনের ছুটি নিয়ে নিল। সারাটাক্ষন ভাবছিলো কোথায় ঘুরতে যেতে পারে, মারিয়া কে নিয়ে কি কি করবে। এরকম হাজারটা প্লান ওর মধ্যে ভিড় করল। বাসায় যাওয়ার আগে সেই ছোট্ট মেয়েটার খোজ নিল। মেয়েটা একটি নার্সিংহোমে আছে। এখনও কোন কিছু জানার চেষ্টা করে নি পুলিশেরা। তবে তারা আশ্বাস দিল ওকে তাড়াতাড়ি খোঁজখবর নেয়ার চেষ্টা করবে। ও বাসায় এসে পড়ল। ওর মধ্যে যাওয়ার একটা আনন্দ প্রকাশ করছে। মারিয়া ওর ছটফটানি দেখে বলল: কি হয়েছে? খরগোশ এর মতো এমন করতাছো কেনো? শিশির : কি খরগোশ!! খরগোশ কখনও দেখছো? মারিয়া : না দেখেনি
শিশির : হুম, এবার দেখাবো।
মারিয়া : তুমি আমাকে খরগোশ দেখাবা????
শিশির : হুম, ইউনিভার্সিটি থেকে পাঁচ দিনের ছুটি নিয়েছি। মারিয়া : কি!! তুমি খরগোশ দেখার জন্য এত দিন ছুটি নিয়েছো!!!???
শিশির : আরে না,এই ছুটিতে চিন্তা করছি তোমাকে নিয়ে যেদিকে চোখ যায় সেদিকে চলে যাবো। মারিয়া : তারপর এখানে আবার আসতে পারবো তো? শিশির : হুম পারবো..কেনো এই বাসা ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করে না? মারিয়া : না তুমি যেখানে নিয়ে যাবা সেখানেই যাবো। কিন্তুু এইখানে ও অনেক ভালো লাগে।
শিশির : আসলে আমরা সিলেট যাবো। আর সেখানে গেলে সেটাই তোমার ভালো লাগবে। আসতেই চাইবে না।
মারিয়া :‘না আসবো ..’এরপর মারিয়া কে শিশির বুঝাতেই পারছে না সিলেট কী!!ও এটার মানে কি সেটা জানতে চায়। ও কিছুই বুঝতে পারছে না ।
-শিশির : তোমার আর বুঝা লাগবে না। তোমাকে যেই লিস্ট দিব সেই অনুযায়ী আমার সব কিছু গুছিয়ে দিবা। মারিয়া : নিজে পারো না?? শিশির: না পারি না, আপনার গুলা তো আমি গুছিয়ে দিবো। এই বলে শিশির নিজের রুমে চলে গেলো। আসলে সব কিছু সহজ ভাবে ভাবলেও ব্যাপার একদমই সহজ না। কারন সেখানে মারিয়ার চার্জে সমস্যা হবে। তাই ওর জন্য একটা সেভিংস চার্জার বানাতে হবে। যেটার কার্যক্ষমতা অনেকক্ষন থাকবে। যেকোনো সময় ওটার সাহায্যে মারিয়া কে চার্জ করা যাবে। ও সারা দিন ভেবে চিন্তে রাতে কাজ শুরু করে দিলো। ও একটু কাজ শেষ করার পর দেখতে গেলো মারিয়া কি করছে। শিশির মারিয়ার পিছনে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগল ওর কাজকর্ম। মারিয়া লিস্ট দেখে এটা সেটা নেয় আবার রাখে আবার নেয়। বিরতিহীন ভাবে এরকম করছে। ওর এমন অবস্থা দেখে শিশিরের অনেক হাসি পেলো। বলে দিলো কিভাবে রাখবে এবং গুছাবে। মারিয়া সেভাবেই করা শেষ করল। পরের দিন শিশির সেভিংস চার্জারের বাকি কাজ শেষ করে ফেলল। এখান থেকেই শিশির বাংলোর ব্যবস্থা করে ফেলছে। আর সেখানে ইনফর্ম করে দিল যে ওরা আজ রাতের মধ্যে সেখানে পৌছাবে। আর মারিয়ার জন্য বাংলো সবচেয়ে ভালো জায়গা। কারন শিশিরের গোপনীয় প্রেম তো।
- এরপর মারিয়ার প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র শিশির গুছিয়ে নিলো। দুপুরের খাওয়াদাওয়া করেই শিশির ওর গাড়িতে সব ব্যাগ-ট্যাগ উঠালো। ও নিজেই ড্রাইভ করবে। এরপর মারিয়াকে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হলো।
শিশির : অবশেষে আমরা যাচ্ছি। যাওয়ার পর সেখানে দুষ্টামি করবানা। মারিয়া : আমি দুষ্টুমি করি!! আর সেটা আমি জানি না!!
শিশির : তুমি জানবা কি করে, তুমি তো পিচ্চি, কিছুই জানো না। মারিয়া : নিজে যে শিশু সেটা কে বলবে।!!? আর তুমিই বেশি দুষ্টুমি করো..তুমিই বেশি সব কাজে দেরি করো। শিশির : এখন সব আমার দোষ। দেখা যাবে কে বেশি দুষ্টামি করে!! মারিয়া : আমিই জিতবো.. কারন তুমি অনেক দুষ্ট.. পচা। শিশির : হুম..আর এই ঘুরতে যাওয়ার সময়ে আমরা ঝগড়া করতাছি। এই বলে দুজনেই হেসে দিলো। তারপর...
বিঃদ্রঃ পরবর্তী পর্ব যথাসময়ে পাবেন। আর গল্প এগিয়ে নিতে আপনাদের উৎসাহ প্রয়োজন! গল্প পড়ে চলে না গিয়ে গল্প কেমন হচ্ছে? কিরকম হচ্ছে বলে যাবেন এতে উৎসাহ বাড়বে ভালো করে লিখার। "ধন্যবাদ "।






No comments:
Post a Comment