Joy Bhaiya Youtube Channel

ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা Valobasar Golpo Bhalo laga Thake Balobasa

ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা
Valobasar Golpo Bhalo laga Thake Balobasa
দীপ্তি (রিদ্র)
দিব্যকে নিজের জীবনে পেয়ে আজ আমি অনেক সুখি,, কিন্তু এই সুখটা পেতে আমাদের অনেক বাধা পার করতে হয়ছে,, ভালোবাসা সত্যি হলে সেই ভালোবাসার জোরে সব বাধা ভেঙে যায়..তাই আজ আমরা এক সাথে বিয়ের ৬ বছর পালন করছি.. আমাদের ভালোবাসার শুরুটা ভালো লাগা থেকে এক অদ্ভুত ভাবে.. কিভাবে চলুন সেটা দেখে আসি..

আমি তখন কলেজে ফাস্ট ইয়ারে পড়ি.. কলেজে, কোচিং আর পড়া লেখা নিয়ে খুব ব্যস্ত.. দিব্যর সাথে আমার পরিচয়টা হয় কোচিং এ.. মোটামোটি ভালো ছাত্রদের খাতায় নাম ছিল তার.. কিন্তু ছেলেদের সাথে কথা বলা আমি পছন্দ করতাম না তাই কখনও তার সাথে কথা বলা হয় নাই.. আর কথা না বলার আরেটা কারণ ছিল সেটা হলো আমি খুব ভালোভাবে জানতাম সে আমাকে পছন্দ করে.. কিন্তু আমি কখনও তাকে বুঝতে দেয় নাই যে আমি জানি সে আমাকে পছন্দ করে আর কখনও আকৃষ্ট করার ও চেষ্টা করিনি..
কিন্তু একটা বিষয় আমার খুব বিরক্ত লাগতো সে পুরো ক্লাস আমার দিকে তাকিয়ে থাকতো আর এজন্য কোন পড়ায় মনযোগ দিত না এতে প্রায় বকা খেত ক্লাসে..
একদিন হঠাৎ সে আমার সাথে কথা বলে
দিব্য: কেমন আছ
আমি: ভালো.. আপনি
দিব্য : ভালো..
আরো গল্প পড়ুন গল্পঃ বেস্টফ্রেন্ড যখন বউ Balobasar Golpo Bestfriend Jokhon Bow
এমন ভাবে কথা শুরু হয়.. আমার বাসা কোথায়.. কে কে আছে বাসায়.. তার বাসা সম্পর্কে.. এমন অনেক কথা..
সেদিন থেকে শুরু হয় কথা এবং সেটা বন্ধুত্বের রূপ নিয়ে নেয়..
আমার কোন ফোন না থাকায় তার সাথে আমার ফোনে কথা হতো না শুধু দেখা হলেয় কথা হতো.. যার কারণ আগ্রহটা কাজ করতো..
দিন যায় আমাদের বন্ধুত্বের গভীরতা বাড়ে.. আমরা HSC পরীক্ষা শেষ করি.. তারপর এডমিশনের জন্য আবার সেই একই কচিং এ ভর্তি হয়..

দিব্য : দোস্ত আমি আদ্রিতা কে ভালোবাসে ফেলছি
দোস্ত : তো বলে দে ওকে
দিব্য : কি বলিস যদি রাগ করে
দোস্ত : করবে না..
দিব্য: আচ্ছা ঠিক আছে দেখি কি করা যায়
দোস্ত : বেশি ভাবতে গিয়ে দেখবি আদ্রিতা অন্য কারো হয় গেছে
দিব্য:কি বলিস ফালতু কথা..
রাতের বেলা অনেক ভাবার পর ঠিক করে আমকে প্রোপজ করবে.. তাই পরের দিন সকাল সকাল যায় সেলুনে চুল কাটতে আর সেভ করতে.. প্রথম বার ভালোবাসার কথা জানাবে তাই একটু পরিপাটি হওয়া দরকার এই মনে করে..
তারপর সেখান থেকে একটা দোকানে গিয়ে একটা গোলাপ কিনে কোচিং এর বাইরে দাঁড়ায় থাকে.. আমি বের হওয়ার সাথে সাথে ফ্লিম স্টাইলে প্রোপজ করে..
কিন্তু আমি তাকে দেখেই পাগলের মতো জোরে জোরে হাসতে থাকি.. কিছুতেই হাসি থামাতে পারি না.. সে আমাকে বলে কেন হাসছি আমি.. কিন্তু কিছুই বলি না শুধু হাসতে থাকি..
পাশ থেকে ওর এক বন্ধু বলে..
বন্ধু :কিরে মামুন তোর একি অবস্থা
দিব্য : কি হয়ছে
বন্ধু :তুই কি আসার আগে আয়না দেখিস নায়
দিব্য :না কেন কি হয়ছে
বন্ধু : তাড়াতাড়ি বাড়ি যা আর আয়না দেখ
দিব্য : কি হয়ছে বলবি তো
আমি: সেভ করছো ভালো কথা কিন্তু অর্ধেক কেন!!
আমার কথা শুনে সে এদিক ওদিক না দেখে দিল এক দৌড়..
বাসায় যাওয়ার পর আয়নার সামনে দাড়াতে সে রাগ আর লজ্জায় শেষ.. অর্ধেক মোজ রাখে বাকি সেভ করা
সাথে সাথে সে সেলুনে যায় আর বলে
দিব্য :আপনি আমাকে বলেন নায় কেন যে আমার অর্ধেক মোজ কেটে ফেলছেন
মামা: ভয়ে
আরো গল্প পড়ুন গল্পঃ বেস্টফ্রেন্ড যখন বউ Balobasar Golpo Bestfriend Jokhon Bow
দিব্য : আপনার ভয়ের জন্য আমার মান সন্মান শেষ.. এখন বাকিটা কাটেন..
সেদিন আর দিব্যর সাথে আমার কথা হয় নায়..
পরের দিন আবার প্রোপজ করবে বলে বাসা থেকে বের হয় কিন্তু এবার বার বার আয়না দেখছে.. আজ যেন কিছু ভুল না হয় ..
অবশেষে আবার প্রোপজ করে.. আমি গতকাল হাসলেও এটা বিষয় নিয়ে অনেক ভেবেছিলাম আর বুঝতে পারছি তার প্রতি আমার ভালোলাগা সৃষ্টি হয়ছে অনেক আগেয়..
কিন্তু তাকে কি বলব সেটা ঠিক করতে না পারায় তার থেকে সময় চায়ছিলাম..
সেদিন বিকালে আমার এক বান্ধবিকে বলি
আমি:কি করবো বুঝছি না
বান্ধবি: আমি দিব্যকে অনেক আগে থেকে চিনি.. সে এর আগে কোন মেয়ের সাথে এমন করে নি.. ওই অনেক ভালো.. তোকে অনেক ভালোবাসে আমরা সবাই সেটা জানি..
আমি: তবে এখন
বান্ধবি: তোর জীবন তোর ডিসিশন
সারা রাত অনেক ভাবার পর পরের দিন দিব্যর সাথে দেখা হলে বলি তোমাকে আমার অনেক ভালোলাগে কিন্তু ভালোবাসতে পারবো না
দিব্য আমার কথা শুনে বলে কেন
আমার পরিবার কোন দিন মেনে নিবে না..
আরে এতো কেন আমি তো আছি.. আমি কথা বলব
দিব্য তুমি চিনো না তাদের তারা মানবে না..
তুমি কেন এতো ভাবছো আল্লার ইচ্ছায় যখন তোমাকে পেয়েছি তখন আল্লার ইচ্ছায় সব ঠিক হবে..
তার কথা আমি মেনে নিলাম
শুরু হলো আমাদের জীবনের নতুন অধ্যায়.. ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা..
কিন্তু এই বিষয়টা কিভাবে যেন আমার পরিবার জেনে যায় আর সাথে সাথে আমাকে ঘর ব্ন্ধ করে দেয়.. ফোন না থাকায় দিব্যকে জানাতেও পারছিলাম না.. বান্ধবিদের সাথেও যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিল তাই তাদের ও জানাতে পারছিলাম না.. HSC পরীক্ষা শেষ হওয়ায় বাইরে যাওয়ার ও কোন রাস্তা নাই..
হঠাৎ একদি জানতে পারি বাবা মা আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলছে.. ঠিক এক সপ্তাহ পর বিয়ে..
কোন কিছুই ভেবে না পেয়ে সব কিছু মেনে নেয়ার ভান করলাম.. বিয়ের তোরজোর শুরু করেছে সবাই খুব ব্যস্ত..
এই সুযোগে মায়ের ফোন থেকে দিব্য কে মেসেজ করলাম
"এক সপ্তাহ পর আমার বিয়ে বাবা ঠিক করেছে কিছু করো তাড়াতাড়ি "
দিব্য: কি বলছো
আমি: প্লিজ কিছু করো
দিব্য:আমি কি তোমার বাসায় বলব
আমি: বলে লাভ নায়. আগেয় বলছিলাম তারা মানবে না..
দিব্য : তাহলে চলো পালায়
আমি: কিহ
দিব্য : এছাড়া আর উপায় কি বল
আমি : ঠিক আছে.. কিন্তু কেমনে
দিব্য: তুমি যে করে হোক বাসা থেকে বের হও তারপর কারো ফোন থেকে আমাকে কল দিও আমি যাব
আমি: ওকে
এরপর মাকে বললাম মা যেহেতু আমার বিয়ে তো একটু পার্লার যায়তাম
মা: দরকার নাই
আমি: প্লিজ মা দেখ আমি যাবো আর আসবো
বাবা: ঠিক আছে যা
মা: না যাইতে হবে না.. কোথায় যাবে কে জানে
বাবা: আহা কোথাও যাবে না.. যা তুই বাইরে কিন্তু সাথে তোর ভাই যাবে
আমি : ভাইয়া কেন
বাবা: যেটা বলছি সেটায়.. তা না হলে যেতে হবে নস
আমি : ঠিক আছে
এরপর আমি আমার ভাইয়া বের হয়
পার্লারে ছেলেরা ঢুকতে পারে না বলে ভাইয়া পাশের দোকানে বসে থাকে
আমি এক আপুকে রিকুুয়েষ্ট করি তার ফোন টা দিতে.. আপু ফোন দিলে আমি দিব্যকে ফোন দিয়ে বলি আমি কোথায় আছি আর সাথে ভাইয়া আছে.. সে বলে ঠিক আছে
কিছুক্ষন পর একটা ছেলে ভাইয়ার সাথে আজাইরা ঝগড়া শুরু করে.. আর দিব্য আমাকে ইশারা করে..
আমি তাড়াতাড়ি বের হয়ে যায়.. তারপর আমরা পালিয়ে যায়
সেদিন আমরা দিব্যর এক ফ্রেন্ডের বাসায় থাকি..
আমাকে খোজার জন্য বাবা থানা পুলিশ করে..
কিন্তু কোন লাভ হয় নাই কারণ যখন পুলিশ আমাদের খুঁজে পেয়েছে তখন আমরা বিবাহিত..
যদিও বাবা জোর করে আমকে নিয়ে যেতে চায় কিন্তু পারে না..
আর সেই থেকে আমরা এক সাথে..এরপর আমি আমার শশুড় বাসি.. তারা আমাকে মেনে নেয়..আমাকে অনেক ভালোবাসে.. তবুও খুব কষ্ট হয় মা বাবা আমার সাথে সেদিনের পর আর কথা বলেন না.. আর মনে হয়না কোন দিন বলবে.. কিন্তু তবুও আফসোস হয় না কারণ যারা মেয়ে আর তার বর কে মারার পরিকল্পনা এক বার না দুই বার না ছয় বার করছে তারা যে কতটা নিষ্ঠুর তা বোঝার বাকি নেই..
সেদিন যদি ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা না হতো তাহলে হয়তো আজ এতো সুখি হতাম না..
ওই তো দিব্য ডাকছে কেক কাটার জন্য..
দিব্য : কি হলো তোমার চোখে পানি কেন
আমি: আসলে তোমার আমার ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা কাহিনিটা ডাইরি থেকে পড়ছিলাম
দিব্য :কেন যে লেখে রাখছো আর প্রতিদিন পড়ে কি আনন্দ পাও আমি বুঝি না
আমি: বুঝতেও হবে না.. চলো সবাই অপেক্ষা করছে
দিব্য: হুমম চলো..
সমাপ্ত
[কারো বাস্তব জীবন থেকে অনুপ্রানিত হয়ে লেখা প্রথম কাহিনি..]
 আরো গল্প পড়ুন গল্পঃ বেস্টফ্রেন্ড যখন বউ Balobasar Golpo Bestfriend Jokhon Bow
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label