Joy Bhaiya Youtube Channel

What's on your mind?গল্পঃ*মাইশা* লেখকঃRaj KhAn (পর্বঃ০৫)

What's on your mind?গল্পঃ*মাইশা*
লেখকঃRaj KhAn
(পর্বঃ০৫)
৪র্থ পর্বের পরে থেকে শুরু...
সারা রাত ভেবেও কোনো কুল-কিনারা পেলাম না।
আমার কি এটা করা সত্যিই উচিত হয়েছে?
এই সময় নিজেকে খুব অসহায় লাগছে।
ভালো লাগছে না কিছুই।
ইচ্ছে করছে চিৎকার করে কাঁদতে।
দরজা খুলে বাহিরে চলে গেলাম একটু মন খুলে কাঁদবো বলে।
নিজের মধ্যে এসব যন্ত্রণা আর ধরে রাখতে পারছি না।
হাটতে হাটতে ছোট্ট পুকুরের ঘাটে এসে বসলাম।
আজকের চাঁদটায় কোনো উজ্জ্বল আলো নেই,
ক্ষীণ আলোতে সব কিছু আরো অন্ধকার লাগছে।
মেঘের সাথে কাটানো দিন গুলোর স্মৃতি মনে পড়ছে।
কত তাড়াতাড়ি আপন হয়ে গিয়ে ছিলো ও,
আবার কত দ্রুতই না দূরে চলে গেলো।
হঠাৎ পুকুরের অপর পাড় থেকে কারো পানিতে নামার শব্দ পেলাম।
পদ্ম ফুলের কলি আর পাতা গুলো কেমন জানি নড়ে উঠলো,
মাছ গুলো খুব তড়পাচ্ছে মনে হলো।
ধ্যান ভঙ্গ করে চিৎকার করে উঠলাম,
-- কে ওখানে?
সাথে সাথে শব্দ থেমে গেলো।
কেউ পিছন থেকে আমার গলাটা শক্ত করে চেঁপে ধরলো।
আমি বারবার ছাড়ানোর চেষ্টা করছিলাম,
আর চিৎকার করছিলাম।
হঠাৎ কানে ফিসফিস আওয়াজ এলো মিনমিনে গলার,
-- একদম শব্দ করবি না।
তাহলে কিন্তু ছাড়নো না।
-- কে আপনি?
এত রাতে এখানে কি করছেন?
এত বড় সাহস হয় কি করে আপনার?
কথা গুলো শুনে খ্যাক খ্যাক করে একটা বিশ্রী হাসি দিলো ওটা।
-- আমি আসবো নাতো কে আসবে?
আহ,তোর চুলের আর শরীরের ঘ্রাণ আমায় বড্ড টানে।
তোর এতটা কাছে আসার কত চেষ্টাই না করেছি আমি।
আজ তুই নিজেই আমাকে সেই সুযোগ করে দিলি।
-- আপনি আমাকে ছাড়ুন বলছি,
নাহলে আমি চিৎকার করবো।
আমার বোন তানিশা যদি জানে,
আপনি কিছুতেই রেহাই পাবেন না।
নিজের ভালো চান তো,
আমাকে ছেড়ে দিন।
এইবারও সে তার বিশ্রী হাসিটা হাসলো।
তার গায়ে থেকে প্রচন্ড আশটে গন্ধ আসছে,
আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে তার হাতের চাঁপে।
-- কেউ আমার কিচ্ছু করতে পারবে না। কেউ না.....
-- ছাড়ুন বলছি।
তানি...?
বুড়ি মা...?
এত জোরে জোরে চিৎকার করছি,
কিন্তু কেউ মনে হয় শুনতেই পাচ্ছে না।
এমন সময় হাতটা নিজে থেকে আমার গলা ছেড়ে দিলো,
ছায়া মানবটা ছুঁড়ে পড়লো পুকুরে।
দেখে আমি বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে রইলাম।
মেঘ ফিরে এসেছে!
মেঘ এক দৃষ্টিতে পুকুরের দিকে তাঁকিয়ে আছে।
খুব জোরে শ্বাস নিচ্ছে,
মনে হচ্ছে প্রচন্ড রেগে আছে সে।
পুকুর থেকে সে ছায়া মানবটা এক লাফে উঠে আসলো আবার।
আর খুব বিশ্রী ভাবে হাসতে লাগলো।
মেঘ হাতে কিছুটা মাটি নিয়ে কি জানি পড়ে,
তার দিকে ছুঁড়ে মারলো।
সাথে সাথে ছায়া মানবটা আর্তনাদ করে গায়েব হয়ে গেলো।
মেঘ এসে আমার সামনে দাঁড়ালো,
জানি না কিসের বশে আমি ওকে জড়িয়ে ধরে বললাম,
-- মেঘ?
আমি আপনার সাথে যেতে চাই।
দয়া করে আমাকে নিয়ে চলুন।
আমি আপনার সব শর্তে রাজি,
সব মেনে চলবো।
তাও আপনি আমাকে একা করে যাবেন না।
নিয়ে চলুন আপনার সাথে।
মেঘ শুধু একটা কথাই বললো,
-- কথার নড়চড় করবেন না।
আর হ্যা,
ওই জগত আপনার জন্য মোটেও সহজ হবে না।
খুব কঠিন হবে ওখানে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে আপনার।
-- সব পারবো আমি,
ইনশা'আল্লাহ।
শুধু আপনি আমার পাশে থাকবেন।
-- ঠিক আছে,
কাল রাতে আমি আপনাকে এসে নিয়ে যাবো।
তৈরী থাকবেন।
এখন বাসায় যান,
এখানে আপনার থাকাটা নিরাপদ নয়।
মেঘের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রুমে চলে এলাম।
এখন শুধু ভাবছি কিভাবে জ্বীন জগতে নিজেকে টিকিয়ে রাখবো।
এটা একদমই সহজ হবে না আমার জন্য,
সেটা বুঝতে পারছি।
সারাদিন নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলাম।
কোনো রকম উদ্বেগ বা অস্বাভাবিক দুশ্চিন্তা করতে চাইলাম না,
তানিশার চোখকে ফাঁকি দেওয়া বড্ড কঠিন।
ও যদি একবার বুঝে ফেলে মেঘকে তো হারাবোই,
সেই সাথে আমার বিয়ের দিন এগিয়ে আসবে।
তানিশাকে চা দিয়ে আসার সময় সে আমাকে ডাকলো।
-- কিছু বলবি তানি?
-- হুম বলবো।
তুই কি কোনো ভাবে আমাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিস?
সকাল থেকে লক্ষ করলাম,
তুই আমার সামনে খুব একটা আসছিস না,
দুই-তিন বার ডাকলে তবে একবার আসিস।
কি হয়েছে তোর?
-- কই তেমন কিছুই না।
-- শোন?
এসব রাগ-অভিমান যতই করিস।
তোর বিয়েটা আমি দেবোই।
অতএব, নিজেকে তৈরী কর।
সব মেনে নিতে শিখ,
আমি তো তোকে নদীতে ভাসিয়ে দিচ্ছি না।
আর মেরেও ফেলছি না।
বুড়ি মা?
আপনি তো একটু বুঝাতে পারেন।
সংসার জীবনে সবারই যেতে হয়,
আজীবন এভাবে থাকবে কি করে ও?
দয়া করে ওকে আপনি একটু ভালো করে বলে দিন,
আমি যা করছি মুশুর ভালোর জন্যই।
বলে তানিশা বাহিরে চলে গেলো।
বুড়ি মা আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে,
আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো,
-- আমি তোকে এসব নিয়ে কিছু বলতে চাই না।
আমি জানি তুই আজীবন তোর বোনের মতকেই প্রাধান্য দিয়ে এসেছিস।
সেটা তোর জন্য কতটা ভালো হয়েছে,
সেটা তুইই ভালো জানিস।
শুধু এই টুকুই বলবো,
এইবার নিজের মনের কথা শোন।
যেটা তোর মনে আছে সেটাকে চেঁপে রেখে,
সব কিছু মেনে নিস না।
অনেক হয়েছে মুশু,
এবার অন্তত নিজের ভালোটা নিজে বুঝতে শিখ।
নিজের জীবনে অন্য কারো হস্তক্ষেপ আর কত বল?
যা করবি ভেবে চিনতেই করিস।
আল্লাহ তোর সহায় হোক।
বুড়ি মার কথা শুনে অনেকটা জোর পেলাম।
মনে হচ্ছিলো আমি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি,
সেটা ভুল নয়।
এবার মন যেটা বলে সেটাই শুনবো।
বারবার ঘড়ির দিকে তাঁকাচ্ছিলাম,
১২টার উপরে বাজতে চললো।
এখনো মেঘ এলো না,
তবে কি উনি আজ আসবেন না?
নিজের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে গেলো নাতো উনি?
ভাবতে ভাবতে কখন যে চোখ লেগে গেলো,
টেরই পেলাম না।
উনি আমাকে ডাকলেন,
-- মাইশা...???
আমি ধড়পড়িয়ে উঠে চারিদিকে তাঁকালাম,
কিন্তু কোথাও উনি নেই।
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
-- কোথায় আপনি?
আপনাকে কোথাও দেখতে পাচ্ছি না কেনো?
-- আমি আয়নার ভিতরেই আছি।
-- আয়নার ভিতরে?
আপনি বেরিয়ে আসছেন না কেনো?
আমাকে আপনার সাথে নিবেন কি করে তাহলে?
-- আপনি আমার সাথে আসতে পারবেন না।
আপনাকে একাই জ্বীন জগতে আসতে হবে।
-- আমি একা চিনবো কি করে?
আর জ্বীনরাজ্যে আমাকে ঢুকতেই দিবে বা কেনো?
-- আমি আপনাকে যেভাবে বলছি সেভাবে আসুন।
এটা আপনার জন্য ১ম এবং কঠিন এক পরীক্ষা।
জ্বীনরাজ্যে যদি একবার ঢুকতে পারেন,
কেউ আপনাকে কিচ্ছু বলতে পারবে না।
-- কিন্তু আমি কি করে যাবো?
-- একটু বাদেই আয়নায় একটা তীক্ষ্ণ রেখা ফুঁটে উঠবে,
সেটায় বিসমিল্লাহ বলে আঙ্গুল রাখার সাথে সাথে,
আপনি আয়না জগতে প্রবেশ করতে পারবেন।
এর জন্য আপনাকে সময় দেওয়া হবে মাত্র ১২ সেকেন্ড।
এর মধ্যে না পারলে আর কখনোই আপনি ঢুকতে পারবেন না।
তারপরের গুলো আপনাকে আমি সময় করে বলে দেবো।
আর একটা কথা,
যতই যা হোক, পিছনে ফিরে তাঁকাবেন না।
মেঘের কথা শেষ হতেই,
আমার দরজায় কেউ কড়া নাড়লো।
বাহিরে থেকে বোনের গলা শুনলাম,
-- মুশু?
দরজাটা খোল।
তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে।
আয়নার দিকে তাঁকিয়ে দেখলাম,
লাল রঙ্গের রেখা ফুঁটে উঠেছে।
এদিকে তানিশাও খুব জোরে জোরে কড়া নাড়ছে,
ওর হয়তো খুব বেশী জরুরী আমার সাথে কথা বলাটা।
দরজা খুলবো নাকি রেখায় হাত রাখবো বুঝতে পারছিলাম না।
তানিশা এত জোরে ধাক্কাচ্ছে,
যে মনে হচ্ছে দরজাটাই ভেঙ্গে ফেলবে।
হাতে সময়ও বেশী নেই,
এক্ষুনি রেখাটায় আঙ্গুল না রাখতে না পারলে,
আমি আর আয়না জগতে প্রবেশ করতে পারবো না।
তানিশা বাহির থেকে চিৎকার করছে,
-- মুশু?
কোথায় তুই?
এত জোরে ধাক্কাচ্ছি,
শুনতে পাচ্ছিস না?
তুই দরজা খুলবি?
নাকি আমি দরজাটা ভাঙ্গবো?
আমাকে যদি দরজা ভাঙ্গতে হয়,
তাহলে তোর কপালে অনেক দুঃখ আছে।
কয়েক বার জোরে ধাক্কা দেওয়ার সাথে সাথে,
দরজাটার ছিটকানিটা ভেঙ্গে গেলো।
তানিশা সাথে সাথে আমার রুমে ঢুকে পড়লো।
এদিকে আঙ্গুল রাখার সাথে সাথে,
কি যেনো আমাকে টেনে আয়নার ভিতরের দিকে নিয়ে গেলো,
তখন মনে হচ্ছিলো আয়নাটা এক ধরণের পাতলা পর্দা।
যাই হোক,
ভিতরে প্রবেশ করার সাথে সাথে,
তীব্র আলোর ঝলকানি আমার চোখে লাগলো।
আমি তাঁকাতেই পারছিলাম না।
একটু বাদে আস্তে আস্তে আলো ক্ষীণ হয়ে উঠলো।
ভালো করে চারপাশটা তাঁকিয়ে দেখলাম,
চারদিকে ছোট-বড় আয়না দেয়ালে গেথে আছে।
মেঝেটা পর্যন্ত স্বচ্ছ আয়না।
মনে হচ্ছে এটা কোনো আয়না ঘর।
এখন আমি কি করবো ঠিক বুঝতে পারছি না।
মেঘের পরবর্তী নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করবো?
নাকি নিজেই সামনের দিকে এগিয়ে যাবো?
পরক্ষণেই ভাবলাম,
না উনার নির্দেশ ছাড়া এক পাও এগোনো ঠিক হবে না।
উনি আমাকে যেহেতু বারবার সর্তক করেছেন,
সেহেতু এখানে কোনো না কোনো বিপদ ঠিক-ই আছে।
এমন সময় মেঘের ক্ষীণ কন্ঠ শুনতে পেলাম,
কথা গুলো এত অস্পষ্ট ভাবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিলো,
যে আমার বুঝতে কষ্ট হচ্ছে।
তাও মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করলাম।
অস্পষ্ট ভাবে যা শুনতে পেলাম তা হচ্ছে,
-- খুব সাবধানে বুঝে শুনে পা ফেলবেন।
এখানের শেষ সীমানায় দুটো দরজা দেখবেন,
বুদ্ধি-বিবেচনা করে বেছে নিবেন সঠিক দরজাটা।
এরপর আর উনার কন্ঠস্বর শুনতে পেলাম না।
আল্লাহর নাম নিয়ে সামনের দিকে পা বাড়ালাম।
তার আগে গায়ের ওড়না দিয়ে চোখ-মুখ ভালো করে ঢেকে নিলাম।
যত সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি,
ততই ক্ষীণ আলো প্রখর হচ্ছে।
চোখ ঝলসে যাওয়ার মত অবস্থা।
আগে থেকে চোখ ঢেকে ভালোই করেছি,
নতুবা চোখ ঝলসে যেত।
যদিও হাটতে একটু কষ্ট হচ্ছে।
অনেকটা আসার পর আলোর ঝলকানি কমে এলো।
দেখা গেলো দুটি দরজা।
একটা খুবই সুন্দর এবং পরিষ্কার ,
আরেকটা খুবই জীর্ণ,
জায়গায় জায়গায় দাগ এবং শ্যাওলায় ভর্তি।
দুটোর উপরেই আরবিতে লেখা আছে,
এখানে প্রবেশ করো।
কনফিউজড হয়ে গেলাম কোনটায় ঢুকবো?
বাহিরে থেকে বোঝার উপায় নেই কোনটা কেমন।
একবার ভাবলাম,
জ্বীনরাজ্য হয়ত অনেক সুন্দর হবে,
অতএব সুন্দর দরজাটার পিছনেই,
জ্বীনরাজ্যে যাওয়ার পথ থাকতে পারে।
এই ভেবেই যেই দরজা খুলতে যাবো,
অন্য একটা চিন্তা মাথায় এলো।
উপরের আরবি লেখাটার দিকে তাঁকালাম।
দুটো মিলানোর চেষ্টা করলাম,
সুন্দর দরজাটার উপরের লেখাটায় ভুল রয়েছে।
আর বুঝতে বাকি রইলো না,
কোনটায় প্রবেশ করা ঠিক হবে আমার পক্ষে।
আল্লাহর নামে দরজাটা খুলে প্রবেশ করতেই,
ঝাকে ঝাকে বাদুর এসে আমার উপর ঝাপিয়ে পড়লো।
ক্রমান্বয়ে খামচি দিতে লাগলো আমার শরীরের বিভিন্ন অংশে।
ওড়নাটা ঝেড়ে ঝেড়ে তাড়াতে চেষ্টা করলাম,
কিন্তু কাজ হচ্ছে না।
একটাকে তাড়ালে আরো তিনটা এসে ঘিরে ধরছে।
উপায়ান্তর না দেখে সামনের দিকে ছুটতে লাগলাম।
এরা কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না,
ছুটতে ছুটতে খোলা প্রান্তরে চলে এলাম।
এখানে ঘাসের ডগায় ডগায়,
বড় বড় জোঁকের দল আস্তানা গেড়ে আছে।
কি এক উভয় সংকটে পড়লাম?
পিছনে বাদুর আর সামনে জোঁক।
আমি কি ভুল দরজায় প্রবেশ করেছি?
কিন্তু সেটা কি করে হয়?
আল্লাহ আপনি আমার সহায় হোন।
বাদুর গুলো তেড়ে আসছে।
দুটো রাস্তা আমার জন্য খোলা আছে।
হয়ত পিছু হটে বাদুরের সাথে লড়াই করা,
নতুবা জোঁক ভর্তি খোলা মাঠে নেমে যাওয়া।
কোনোটাতেই বাঁচার উপায় নেই।
বাদুরের ঝাক যেভাবে তেড়ে আসছে,
আমি কিছুতেই এদের সাথে পারবো না।
জোঁকে ধরলেও সেটাকে পড়ে ছাড়ানো যাবে হয়তবা।
আর দেরী না করে খোলা মাঠে নেমে গেলাম।
জোঁক গুলো যেনো আমার নামার অপেক্ষা করছিলো।
চারদিক থেকে ঘিরে ধরে এগিয়ে আসছে আমার দিকে।
পিছনে তাঁকিয়ে দেখলাম,
বাদুর গুলো সব এক লাইনে বসে আছে আমার অপেক্ষায়।
কি করবো মাথায় ধরছে না!
-- নাহ থামলে চলবে না,
হয়ত জানে বাঁচবো,
নয়ত এদের হাতেই মরবো।
যা থাকে কপালে,
আল্লাহ রক্ষা করুন।
সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি,
জোঁক গুলোকে পা দিয়ে সরাতে সরাতে। দু-একটা কামড় ইতিমধ্যে পায়ে পড়ে গেছে,
এত যন্ত্রণা হচ্ছে।
তাও থামছি না,
জোরে জোরে পা চালিয়ে খোলা প্রান্তর পেরিয়ে,
উচু ঢালুতে উঠে বসলাম।
পা থেকে রক্ত বের হচ্ছে,
দু-একটা জোঁক এখনো কামড়ে ধরে আছে।
ব্যথায় দাঁতে দাঁত চেঁপে আছি।
চারিদিকে তাঁকিয়ে দেখি,
এখানে অসংখ্য কাঁটাগাছ রয়েছে।
কয়েকটা ভাঙ্গা ডাল জড়ো করে নিয়ে,
জোকের পেটের ধরে সজোড়ে টান দিলাম।
মূহুর্তে দ্বিখন্ডিত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলো জোঁক গুলো।
রক্ত পড়া জায়গা গুলোতে মাটি লাগিয়ে,
ওড়নার টুকরো দিয়ে বেঁধে নিলাম।
এখানেই লক্ষ্যে পৌছার লড়াই শেষ হয়নি বলে ধারণা করছি।
এবার কোন দিকে যাবো বুঝতে পারছি না,
এটাও নিশ্চিত হতে পারছি না যে,
আদৌ আমি সঠিক পথে এসেছি নাকি?
এতক্ষণে মেঘের সাথে আমার একবারো যোগাযোগ হয়নি,
উনি কি আমার অবস্থান সম্পর্কে অবগত নন?
তবে কি আমার জ্বীনরাজ্যে যাওয়া হবে না?
এসব ভাবতে ভাবতে হেটে চলেছি,
কাঁটা গাছ গুলো কোনো রকমে সরিয়ে।
নিজের পুরো শরীরকে ক্ষত-বিক্ষত লাশ মনে হচ্ছে।
ব্যথায় হাটার জোরও পাচ্ছি না,
গলাটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।
অদূরে একটা ঝর্ণা দেখতে পেয়ে বেশ খুশিই হলাম।
ঝর্ণার কাছে এসে যেই এর পানি পান করতে গেলাম,
প্রচন্ড তান্ডবে সব কিছু কাঁপতে লাগলো।
বেশ ভয় পেয়ে গেলাম,
আবার কোন বিপদ ডেকে আনলাম আমি?
ঝর্ণার পানির ভিতর থেকে বেশ বড় বড় পা ফেলে,
এক থুড়থুড়ে অদ্ভুত চেহারার বুড়ি আমার সামনে এসে দাঁড়ালো।
এর গায়ে সাদা কাপড় এলোমেলো ভাবে পেঁচানো।
চেহারায় বেশ রাগ রাগ ভাব,
শরীর এতটাই পাতলা যে বাতাসের সাথে মিশে যেতে পারবে।
রাগান্বিত কন্ঠে বললো,
-- তুই কে?
এত বড় সাহস তোর কি করে হয়,
যে তুই আমার পানি স্পর্শ করিস?
-- ভুল মার্জনা করবেন বুড়ি মা।
আমি ইচ্ছে করে করিনি,
তেষ্টায় বড্ড কাহিল হয়ে এসে ছিলাম।
নিষেধাজ্ঞা আছে জানলে আমি স্পর্শ করতাম না।
বুড়ি আমার দিকে ভালো করে তাঁকিয়ে বললো,
-- তুই কে?
এখানে কিভাবে এলি?
-- আমি একজন মনুষ্য কন্যা,
নাম মাইশা।
আমি জ্বীনরাজ্যের উদ্দেশ্যে এসেছি।
বুড়ি বিকট শব্দে হেসে উঠে বললো,
-- মানুষ হয়ে জ্বীনরাজ্যে যেতে চাস?
নিজের মৃত্যু ডেকে আনার খুব শখ হয়েছে?
জানিস এর ফল কি হতে পারে?
-- জানি বুড়ি মা।
কিন্তু নিজের ভালোবাসার জন্য সব করতে রাজি আমি।
-- জ্বীন আর মানুষের মিলন কখনোই সম্ভব না জেনেও এখানে এসেছিস?
এক ধাপে না হয় বেঁচে গেলি,
কিন্তু কয়বার বেঁচে ফিরবি এভাবে?
-- জীবন-মরণ আল্লাহর হাতে।
তার ভরসায় আমার এতদূর আসা।
আপনি আমাকে বলতে পারবেন,
আমি সঠিক রাস্তায় এসেছি কি না?
বুড়ি একটু নরম হয়ে বললো,
-- হুম,
সঠিক রাস্তায়ই এসেছিস।
তোর মনের জোর অনেক বেশী বটে।
-- আমি বুঝতে পারছি না আমি কোনদিকে কিভাবে এগোবো?
অসহায় হয়ে পড়েছি বড্ড।
-- আমি তোকে জ্বীনরাজ্যে পৌছানোর পথ দেখিয়ে দিতে পারি।
-- সত্যিই দেখাবেন বুড়ি মা?
-- হুম,
তবে এর বিনিময়ে আমার কিছু প্রাপ্য রয়েছে।
-- কি প্রাপ্য চান আপনি?
আমার কাছে তো কিছুই নেই,
তবে আমার সাধ্যের মধ্যে থাকলে অবশ্যই দেবো।
-- ঠিক আছে।
আমি সময়মত ঠিক চেয়ে নেবো।
নিজের অঙ্গীকার ভুলে যাস না কিন্তু।
-- না বুড়ি মা।
কথা দিচ্ছি আপনাকে,
আপনি যা চান আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করবো,
আপনাকে সেটা দেওয়ার।
বুড়ি মা তার হাসি প্রসারিত করে পথ দেখিয়ে দিলেন।
বুড়ি মার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আবার হাটতে লাগলাম।
হাটতে হাটতে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন সংকীর্ণ গুহাতে ঢুকে পড়লাম।
কোনো রকম হাতড়ে হাতড়ে পথ চলছি,
এমন সময় পিছন থেকে তানিশার গলায় ডাক এলো,
-- "মুশু"
জবাব দিয়ে যেই পিছনে ফিরতে যাবো,
তখনই মেঘের সর্তকবাণী মনে পড়ে গেলো।
-- নাহ,
কোনো ভাবেই পিছনে তাঁকানো যাবে না।
মনে হচ্ছে কেউ আমার পিছু পিছু আসছে,
চারপাশ থেকে বিশ্রী গন্ধ আর হাড় চিবানোর শব্দ আসছে।
ভয় লাগছে খুব,
খুব ভয়ংকর গলায় আমার নাম ধরে ডাকছে কেউ।
দেয়ালে হাতড়ে হাতড়ে হাটতে হাটতে,
হঠাৎ কিছু একটা হাতে উঠে এলো।
স্বল্প আলোয় দেখলাম এটা একটা কাঁটা মাথা,
যার চোখ গুলো ঠেলে বের হয়ে এসেছে,
সাথে জিহবা ঝুলে পড়েছে।
চিৎকার দিয়ে সেটা ফেলে দৌড়াতে লাগলাম।
ভয়ে প্রায় আধমরা হয়ে গেছি,
পদে পদে হোচট খেয়ে পড়ে যাচ্ছি।
তাও উঠে ছুটে চলেছি।
ভয়ংকর শব্দ গুলো আমার পিছু পিছু আসছে।
অনেকটা দৌড়ে একটা আলোকিত জায়গায় এলাম।
এখানে চারিদিকে মশাল জ্বলছে,
সামনে বিশাল একটা দরজা।
তাতে চোখ ধাঁধানো সজ্জা।
সম্ভবত এটাই জ্বীনরাজ্যের প্রবেশদ্বার।
উপরে আরবিতে কিছু লেখা আছে।
যার অর্থ আমার ঠিক জানা নেই।
কিন্তু আমি এই দরজা দিয়ে ঢুকবো কি করে?
কয়েক বার ধাক্কা দিলাম দরজায়।
কিন্তু কোনো ভাবেই খুললো না।
বিকট হাসির শব্দ শুনে পিছনে তাঁকালাম,
অনেক গুলো ভয়ংকর কাটা মাথা,
লাফাতে লাফাতে আমার দিকে তেড়ে আসছে।
একটা আরেকটার চেয়েও বিভৎস দেখতে।
এখন দরজা না খুললে আমি এদের হাতেই মারা পড়বো।
আরো কয়েকবার দরজা ধাক্কালাম,
কিন্তু কোনো লাভ হলো না।
উপায়ান্তর না দেখে আল্লাহর নাম জপতে লাগলাম।
হঠাৎ বুড়ি মার বলা একটা কথা মনে পড়ে গেলো।
সেখানে ঢুকতে হলে সেখানকার সম্পর্কিত আয়াত তোকে জানা লাগবে।
কিন্তু কোনো আয়াত বা কি?
সেটা আমাকে বিস্তারিত বলেননি।
এখন আমি কি করবো?
কোনো সূরা বা কোন আয়াত পড়বো?
কিছুটা সময় ভেবেও কিছু মনে করতে পারলাম না।
হঠাৎ আল্লাহর রহমতে আমার মাথায় একটা ধারণা এলো,
এটা যেহেতু জ্বীনরাজ্য,
জ্বীনের জগৎ,
তাহলে এটার সম্পর্কিত কেবল সূরা জ্বীনই আছে।
ঝটপট সূরা জ্বীন এর প্রথম কয়েকটি আয়াত পড়তেই,
হাট করে দ্বার খুলে গেলো।
চারিদিক থেকে সূরা তিলওয়াত কানে আসতে লাগলো,
যা শুনে কাটা মাথা গুলো পালিয়ে গেলো।
আল্লাহর নাম নিয়ে নির্বিঘ্নে দ্বারের ভিতর প্রবেশ করলাম।
অবশেষে আমি সক্ষম হলাম জ্বীনরাজ্যে ঢুকতে।
কিন্তু মেঘ কোথায় আছেন?
.
(চলবে)
গল্পটা কেমন লাগছে সবাই না জানালে,
গল্পই আর লিখবো না...
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label