#সেই_পিচ্চি_মেয়েটা
#আরিয়ান_ইসলাম_নাইম
#পর্বঃ২
আরিয়ান পরীর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
-এই পরী দরজা খোল?
- দরজা খোলা আছে,কেউ চাইলে ভিতরে আসতে পারে।
আরিয়ান দরজা ধাক্কা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলো।
- নাস্তা খেতে আয়।
-আগে সরি বলো,মুখটা বাকা করে বললো।
-সরি,বিরক্ত ভাব নিয়ে আরিয়ান ও মুখটা বেঁকে বললো।
- এইভাবে না সুন্দরভাবে বলো।
- কিরকম ভাবে বলতে হবে, পরী আমি না খুব সরি, তোমার সাথে আর খারাপ ব্যবহার করবো না, তুমি না খুব ভালো মেয়ে, মুখটা বাকিয়ে অভিনয় করতে করতে আরিয়ান কথাগুলো বললো।
পরী কিছুটা খুশি হয়ে বলল,এইত এখন ঠিক আছে।
-আচ্ছা ভাইয়া শোনো?
- হুম বল, কি বলবি? বিরক্ত ভাব নিয়ে বললো।
- তুমি না দেখতে খুব কিউট। অনেক সুন্দর তুমি,তোমার দিকে তাকিয়ে থাকতে ভালো লাগে।
তোমার নাকটা না খুব সুন্দর! কিরকম বোচা বোচা নাকটা। মনটা চায় ইচ্ছে মতো টিপে দেই।
পরীর কথা শুনে না হেসে পারলো না।জোরে জোরে হাসতে হাসতে বললো, তোর কপালটা সামনে আনতো দেখি, আবার জ্বর আসে নাইত।
-তুমি হাসতেছ কেনো?আর আমার জ্বর আসবো কেন?
- তোর কথা শুনে হাসতেছি। তুই এইটুকু একটা পিচ্চি মেয়ে তোর এত আবেগ কোথা থেকে আসে আল্লাহ ভালো জানেন।
আয় নাস্তা করতি আয়?তাড়াতাড়ি কথাটা বলে চলে আসলো আরিয়ান।
ভাইয়া কেন তুমি বুঝনা, তোমায় আমি কতটা ভালোবাসি কতটা পরিমাণের পছন্দ করি তা তোমাকে বলে বুঝাতে পারব না। মনে মনে পরী বলতে লাগলো।
নাস্তা খাওয়ার পর........
অনন্যা বেগম ও আফজাল সাহেব দুজনেরি আদেশ পরীকে প্রতিদিন স্কুলে দিয়ে আসা।
কিছুক্ষণ পর......
- এই পরী রেডি হয়েছিস?
-এইতো হয়ে গেছি ফুফু আম্মু।
-হুম তাড়াতাড়ি আয়।
-ফুফু আম্মু আমি আসি।
-যা দেখে শুনে যাস,কথাটা বলে অনন্যা বেগম পরীর কপালে আলতো ভাবে চুমু খেল।
-আম্মু ফুফা কই?
- অফিসে চলে গেছে।
- এই পরী তাড়াতাড়ি কর না আমার ভার্সিটিতে যেতে দেরী হয়ে যাবে। আরিয়ান জোর গলায় কথাটা বলে উঠলো।
- হুম চলো।
বাইকটা স্টার্ট দেয়ার পর পরী পিছে বসে পড়লো।হঠাৎ করে পরী আরিয়ানকে জোরে জড়িয়ে ধরল।
-কিরে এভাবে জড়িয়ে দরলি কেন?
- আমার ভয় করেনা বুঝি, একটু বনিতা করে বললো।
- তোর আবার ভয়?কিছুটা আশ্চর্য হয়ে বললো।
আরিয়ান জানে এখন যদি তার সাথে আরো কথা বলে তাহলে আরও কথা পেঁচাবে বদ মেয়েটা ।পরীর এটা একটা বাজে অভ্যাস। তাই আরিয়ান আর কথা না বলে বাইক চালাতে লাগলো।
পরীকে স্কুলের গেটের সামনে নামিয়ে দিয়ে আরিয়ান চলে আসল তার ভার্সিটিতে।
-কিরে পরী কেমন আছিস?
- খুব ভালো।তা তোর কি খবর?
- হুম তা তো দেখতেই পাড়ছি। পরী একটা কথা বলি মাইন্ড করবি না তো?
-না বল।
-তোর বরটা কিন্তু অনেক জোস রে।আমার ও স্বপ্ন তোর বরের মতো একটা রাজকুমার পাওয়া।
পরী ভাব নিয়ে একটু হাসি দিয়ে বললো,
দেখতে হবে না বর টা কার...
-আচ্ছা পরী এটা সিক্রেট কথা বলি?
-হুম বল।
-তোরা কি প্রত্যেকদিন ওইগুলো কিছু করছ? দুস্টমির হাসি দিয়ে বললো।
পরী কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল,তুই কি বুঝাতে চেয়েছিস?
- আরে বুঝস না, ওই যে বিয়ের পর সবার যেটা হয় আর কি!!!!!!
পরী সায়মার মাথায় একটা বাড়ি মারলো,
তোর এত কিছু জেনে শুনে লাভ কি? এটা আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপার, বেশি কথা না বলে চল ক্লাসে যাই।
এতক্ষণ পরীর সাথে যার কথা হলো সে হলো পরীর বেস্ট ফ্রেন্ড সায়মা। সায়মা জানে যে পরী ও আরিয়ান স্বামী-স্ত্রী।
আর এই কথাটা পরী নিজেই সায়মা কে বলেছে।
পরী আরিয়ানকে পাগলের মতো ভালোবাসে এটা ও জানে সায়মা। কারণ সারাদিন আরিয়ানের কথা নিয়ে তার কানের কাছে ঘ্যানঘ্যান করবো।
ভার্সিটিতে এসে মেঘা কে খুজতে লাগলো আরিয়ান। মেয়েটা গেল কই? এখানে তো থাকার কথা...
যাই পুকুর পাড়ের আম গাছটার নিছে দেখে আসি। ওই তো মেঘা বসে আছে।
মেঘার পাশে গিয়ে বসলো আরিয়ান। মেঘা আরিয়ানের দিকে একবার তাকালো।আরিয়ান ওর আরো পাশ ঘেসে বসলো।
মেঘা আরিয়ানের পাশ থেকে একটু দূরে গিয়ে বসলো। কি ব্যাপার মেঘা দূরে চলে গেলে কেনো? মনে হয় রাগ করেছে কারণ আমি প্রায় আধা ঘণ্টা লেইট। আরিয়ান মনে মনে কথা গুলো বললো।
মেঘা গাল মুখ ফুলিয়ে বসে আছে। মনে হয় অভিমান করেছে।বড্ড অভিমান মেয়েটার।
আরিয়ান আরো পাশ ঘেসে এসে বসলো। মেঘা বসা থেকে উঠে চলে যেতে লাগল তখন আরিয়ান ওর হাতটা ধরে ফেললো।
- কি ব্যাপার এমন করছো কেন? সরি তো.... আর কখনো লেইট হবে না।এই দেখো কানে ধরছি(দুই হাত কানে ধরে)।
-হইছে আর কানে ধরতে হবে না একটু হেসে দিয়ে বললো।এখন আমার চকলেট দেও?আমার চকলেট কই?
- এইতো এই নাও চকলেট,চকলেটা বাড়িয়ে দিল।
মেঘা চকলেট টা হাতে নিয়ে খেতে লাগলো। আর আরিয়ান ওর খাওয়া দেখছে।কি রকম বাচ্চা মেয়েদের মত করে খাচ্ছে পাগলি মেয়েটা । শুধু তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে.....
-এইভাবে তাকিয়ে থেকো না নজর লেগে যাবে।
তাহলে একটু দিলেই তো পারো।
এ্যা...... উনি আইসে আমার চকলেটের ভাগ বসাইতে।
আমি আমার চকলেটের ভাগ কাউকে দিই না।
চকলেটা টা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিয়ে বললো।
-প্লিজ এমন করো কেন? দাওনা।
-আর তো নাই, সব খেয়ে ফেলেছি। শুধু মুখে আছে খাবে।
-ওয়াক ছিঃ ছিঃ ছিঃ কি বলে!!!!!!
-এই তুমি ছিঃ ছিঃ বললা কেনো? দাঁড়াও দেখাচ্ছি মজা।
মেঘা আশে পাশে একটু চেয়ে নিল,কেউ আছে কিনা। তারপর দুই হাত দিয়ে আরিয়ানের মাথাটা ধরে তার মুখে ওর ঠোঁট দুটো ঢুকিয়ে দিলো।
তারপর ওর মুখের ভেতর যে চকলেট গুলো ছিল সেগুলো আরিয়ানের মুখের ভিতর জোর করে দিয়ে দিলো। কি আর করা উপায় না পেয়ে খেয়ে নিলো। সাথে করে ওর কাছ থেকে মিষ্টি ও খেয়ে নিলো,এটা আরিয়ানের টেকনিক। ওকে বোকা বানিয়ে চুমু খাওয়া........
চলবে.....






No comments:
Post a Comment