গল্পঃগালফ্রেন্ড_মানেই_প্যারা
#পর্বঃ২
#লেখকঃShamil_Yasar_Ongkur
ইশ মা সামান্য বিষয় নিয়ে ওই ডাইনি কে ফোন দেওয়ার কি আছে।
একটা ঝাঁঝালো গলায় জবাব এলো ওই কুত্তা কে ডাইনি রে.....?
এই যা কাম সারছে ডাইনির নাম নিয়েছি আর ডাইনি হাজির। ছোঁয়া যে রাগী মেয়ে এখন সত্যি সত্যি আমার প্যান্ট খুলে পুরো বগুড়া শহর না ঘোরাই।
ছোঁয়া মা এবার তুই সামলা এই বেয়াদব টাকে।ঐ হারামজাদা দরজা খোল মা চিৎকার করে বলল।
না আমি এখন ঘুমাচ্ছি সো আমাকে কেউ ডিস্টার্ব করোনা তো।
ছোঁয়া ঝাঁঝালো কন্ঠে বলল তোর ঘুমের গুষ্টির আমি ষষ্ঠী মারি দরজা খুলবি না আমি দরজা ভাঙবো।
আমাকে কি পাগলা কুত্তা কামড়াইছে যে সকাল সকাল মার খাওয়ার জন্য দরজা খুলব।আর দরজা ভাঙ্গলে তোমার শ্বশুরের ভাঙ্গবে আমার কি😂।
সামিল ভালো করে বলতেছি দরজা খোলা।যাও আজ কিছু বলবনা।
আমি তোমার কথা বিশ্বাস করিনা । মায়ের মাথায় হাত রেখে বলো আজ কিছু বলবা না।
আচ্ছা মার মাথায় হাত রেখেই বলছি আজ কিছু বলবনা। এখন দরজা খোলো।
কেমনে বিশ্বাস করবো তুমি মায়ের মাথায় হাত রেখেই বলতিছ একটা ছবি তুলে মেসেঞ্জারে আমাকে দাও।
তখনি মা চিৎকার করে বলল ঐ হারামজাদা দরজা না খুললে কিন্তু আজ তোর ভাত বন্ধ বলে দিলাম।
ওকে কোনো সমস্যা নাই বগুড়ায় হোটেল কি কম পড়ছে নাকি। হোটেলে গিয়ে খাবো।
তখনি আমার শয়তান বোন মনি বলল ভাবি কথায় আছে না সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুল বাঁকা করতে হয়।
হুম ছোঁয়া বলল
তাহলে তুমিও আঙ্গুল টা বাঁকা করে ফেল। জানালা খোলাই আছে এই নাও পানি ভিজিয়ে দাও ওর খাট তাহলে ও উঠবে না ওর বাপ উঠবে।
দেখছেন কেমন শয়তান বোন আমার । এখন ছোঁয়ার হাত আমি মার খাব আর ওই শাকচুন্নী বসে বসে মজা নিবে।
অবশ্য মনির করণেই আমার আর ছোঁয়ার প্রেম টা সম্ভব হয়েছে। মনি যদি না থাকতো তাহলে হয়তো আমি ছোঁয়ার ধারে কাছেও যেতে পারতাম না। সেই ইতিহাস না হয় অন্য একদিন বলবো। এখন দরজাটা আগে খুলি।
আমি দরজা খুলে দিয়েই একদম খাটের নিচে চলে গেলাম এটাই একমাত্র সুরক্ষিত জায়গা ছোঁয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া জন্য। ছোঁয়া রুমে ঢুকে আমাকে না পেয়ে প্রথমে বাথরুমে দেখবে আর ঐ সুযোগে আমি রুম থেকে বেরিয়ে যাব ।আর একবার রুম থেকে বেরোতে পারলে তখন আমাকে আর পায় কে😂😂।
যেমনটা ভেবেছিলাম ঠিক তেমনটাই হলো ছোঁয়া আমাকে বেডের উপর না পেয়ে সোজা বাথরুমে গেল । বাথরুমের দরজা খুলে ভিতরে ঢুকতেই আমি খাটের নিচ থেকে বের হয়ে রুম থেকে বের হতে যাবো। কিন্তু হায় হায় একি সর্বনাশ দরজা খোলে না। তারমানে দরজাটা বাইরে থেকে লেগে দিয়েছে। হায় হায় এখন কি হবে ও আল্লাহ বাচাও আমারে।
পেছনদিকে ঘুরতে দেখলাম ছোঁয়া কোমরে ওড়না পেঁচিয়ে ঝাড়ু হাতে দাঁড়িয়ে আছে। আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই ধাপাধাপি মার শুরু করে দিল। অবশ্য ঝাড়ু দিয়ে মার খেতে মজাই লাগতেছিল।
কিন্তু তখনই মা বললেন ছোঁয়া মা ওই হেমান টাকে ঝাড়ু দিয়ে মারলে কিছুই হবেনা বরংচ ও আর মজা পাবে। তুই একটু দরজা খুলে লাঠিটা নিয়ে যা। আর জানিস ওই হারামজাদা আজকে ফজরের নামাজ পড়েনি। ভালো মতো শিক্ষা দে আজকে যেতে আর এই ভুল দ্বিতীয়বার না হয়।
হায় হায় এ কেমন মা বলেন। হবু বউ এর কাছে নালিশ দিয়া আমারে মার খেওইয়া নিচ্ছে। সবই কপাল।
ছোঁয়া মায়ের কাছে লাঠি নেওয়ার জন্য দরজা খুলল। মা দেখি তার হাতে চোরকে মারার লাঠিটা ধরাইয়া দিল।
হায় হায় এই লাঠির যদি একটা বাড়ি খায় তাহলে তো আমি শেষ।
মা তুমি কি চাচ্ছ আমি আজকেই পটল তুলি..?
চুপ হারামজাদা একদম কথা বলবি না মা চিৎকার করে বলল।
কি আর করা খাটের উপর উঠে বালিস হাতে নিয়ে মার খাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলাম।
ভালোমতো শিক্ষা দিবি ওকে হারামজাদা যেনো কখনোই নামাজ মিস না করে। দরজাটা ভিতর থেকে ভালোমতো লাগিয়ে দে ঐ বদমাশ যেন বেরোতে না পারে।
দরজা লাগিয়ে দেওয়ার কথা শুনে তো আমি অবাক। কারণ ছোঁয়া আমার রুমে ঢুকলে মা কখনই দরজা লাগাতে দিত না। এর অবশ্য একটা কারণ আছে তাহলে ছোট্ট করে বলি আপনাদের।
অনেকদিন আগে কথা আমি অসুস্থ ছিলাম। ছোঁয়ার কোলে মাথা রেখে আমি শুয়ে ছিলাম আর ছোঁয়া আমার চুলে বিলি কেটে দিচ্ছিলাম। মা রুম থেকে বের হতেই আমি ছোঁয়া কে বললাম একটা কিস করার জন্য। কিন্তু ওই তো হিটলার মেয়ে ফিটলার সে কিছুতেই কিস করবে না। কেরে ভাই কিস করলে কি মানুষ প্রেগনেন্ট হয়ে যায় নাকি।একটা কিস করলে কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু না সে কিছুতেই কিস করবেনা। আমিও কম কিসের ছোঁয়াকে জোর করে কিস করার চেষ্টা করছিলাম। এমন সময় হুট করে মা রুমে ঢুকে পড়ে। ছোঁয়া তো লজ্জায় শেষ। আমার অবশ্য লজ্জা টজ্জা ওতো নাই। সেদিন ছোঁয়া যতক্ষণ আমার রুমে ছিল মা এক পাও নড়েনি রুম থেকে।
ঠাস করে দরজা লাগিয়ে ছোঁয়া আমার দিকে লাঠি হাতে এগিয়ে আসছে।
ছোঁয়া হই লাঠি দিয়ে যদি তুমি আমায় মারো তাহলে বিয়ে হওয়ার আগে তুমি বিধবা হয়ে যাবে।
চুপ কুত্তা একদম বাজে কথা বলবি না। বলে দিল একটা বাড়ি ভাগ্য ভালো যে আমার লাগেনি। এই বাড়িটা আমারে লাগলে নির্ঘাত মেডিকেল।
ছোঁয়া কে ইমোশনাল করার জন্য বললাম তুমি যখন আমাকে মারতে চাও তাহলে এই নাও আমি শুয়ে পরলাম কত মারবে মারো।
সোয়া লাঠি ফেলে দিয়ে আমার বুকের উপর উঠে বসলো। এরপর শার্টের কলার ধরে ঝাকাতে ঝাকাতে বললো কি বলেছিলি আমি ডাইনি না আমি ডাইনি।
তুমি কেন ডাইনি হবে যাবে ডাইনি তো হবে তোমার সতীন।
সতীন মানে কি হুম সতীন ওহ তার মানে তুই আরো একটা বিয়ে করতে চাচ্ছিস। আমাকে দিয়ে তোর হচ্ছে না তোর আরেকটা লাগবে। শালা লুচ্চা তোর আজকে আমি বারোটা বাজাবো।
ও মোর খোদা এদিকে হিতে-বিপরীত।
#গল্পঃগার্লফ্রেন্ড_মানেই_প্যারা
#পর্বঃ২
#লেখকঃShamil_Yasar_Ongkur
চলবে .....
আমার হিটলার ফ্রেন্ডের সতীনের নাম লাবণ্য 😂😂 তাই নামটা চেঞ্জ করতে হয়েছে কেউ কিছু মনে করবেন না। 😂😂😂
বিশেষ দ্রষ্টব্য ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন সবাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বেন।






No comments:
Post a Comment