#আত্মত্যাগ
#পর্ব_০৩
লেখাঃ আবির
>একটা কথা বলব??
>হুমম বলো
>আপনার পারফিউম টা অনেক সুন্দর
>সরি আমি তো পারফিউম ব্যবহার করি না এটা আমার নিজস্ব সুবাস।
>omg কি বলেন?? হুমম অনেক সুন্দর
>সত্যি নাকি
>হুমম
মেঘলা আমার ঘাড়ের কাছে এসে কয়েকবার সুবাস নিচ্ছিলো আর ওর কড়া নিঃশ্বাস আমার কাধে ফেলছিলো। একটা অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করলো কিন্তু কিছু বললাম না হয়তো এটা বলা ঠিক হবে না।
কিছু সময়ের মধ্যে আমি ওদের বাসায় পৌঁছে গেলাম গেটের সামনে মেঘলাকে নামিয়ে দিয়ে চলে গেলাম চেয়ারম্যান কাকার বাড়ি। তবে যাবার সময় একবার পিছনে তাকিয়ে দেখি মেঘলা একনজরে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। কেন তাকালো জানিনা আর জানতেও চাইনা।
চেয়ারম্যান কাকার বাড়ি গিয়ে কাকাকে বললাম সবকিছু। তখন কাকা বললেন
>আবির যা করছো ভালো করছো। বাইকটা আমার বাড়িতে রেখে যাও। কেউ এলে আমি ব্যবস্থা করে নিব।
>আচ্ছা কাকা আর বলে দিয়েন যেন ছেলেদের কে সঠিক শিক্ষা দেয়। মেয়েদের সম্মান দিলে সম্মান পাবে আর নাহলে আমার মত কেউ পিটিয়ে শিক্ষা দিবে।
>আচ্ছা আমি বুঝিয়ে দিব। আর হ্যা তোমার একটা কাজ করতে হবে
>কি কাজ কাকা
>আমার বন্ধুর মেয়ে আর তার কিছু বান্ধবী শহর থেকে আসবে কাল। আমার মেয়ের সাথে পড়তো আগে। কাল তুমি ওদেরকে আমাদের গ্রামটা ঘুরিয়ে দেখাবে। তোমার সাথে ওরা বের হলে কোন ঝামেলা হবে না।
>ওহ আচ্ছা কাকা তাহলে আমি বিকেলে আসব। মুন্নিকে (চেয়ারম্যান কাকার মেয়ে) বলে রাখবেন।
>আচ্ছা ঠিক আছে বাবা।
>আমি তাহলে এখন আসি।
>আচ্ছা এসো
কাকার থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলাম আমাদের আস্তানায়। গিয়ে দেখি সব কয়টা হাজির। আজ তো আমাদের রাতে ডাব খাওয়ার কথা। গ্রামের শেষ প্রান্তে ফাঁকা মাঠের পাশে কিছু নারকেল গাছ আছে। মালিকানা হিসেবে যারা ছিল তারা গতমাসে গ্রাম থেকে শহরে চলে গেছে। তাই আপাতত মালিকানা এখন 7 star দলের। চার পাচটা গাছে খাওয়ার মত অনেক ডাব আছে। তাই আজকের টার্গেট ডাব চুরি। চারজন খুব ভালো গাছ চড়তে পারে। একসাথে চারজন চারটা গাছে উঠবে তাতে সময় ও কম লাগবে।
প্ল্যান মোতাবেক আমরা রাত ১২ টার দিকে চলে গেলাম। আশেপাশে তাকালে অন্ধকার ছাড়া কিছু চোখে আসে না। তাড়াতাড়ি উঠে গেলো চারজন। মিনিট পনেরোর মধ্যে প্রায় ২৭-৩২ টা ডাব পেড়ে নেমে এলো আমার দল। কিন্তু আমাদের একটা রুলস আছে। চুরির মাল একাই খাইনা আমরা। যার গাছ তার ও কিছু শেয়ার থাকে। দুজনকে দুটো ডাব দিয়ে ওদের বাড়িতে রেখে আসতে বললাম। বাড়িটা একটু পথ পেরিয়ে। যেহেতু বাড়িতে কেউ নাই তাই মাচার ঘরে ওরা ডাব দুটো রেখে এলো। সাথে একটা চিরকুট লিখে রেখে এলো।
"" শ্রদ্ধেয় চাচা, আপনার গাছের ডাব অন্য কারো হাত লেগে যাতে ফলন নষ্ট না হয় সেজন্য 7 star দল নিজ দায়িত্বে পেড়ে খেয়েছে এবং দোয়া রাখছে ভবিষ্যতে যাতে আরো বেশি ফলন হয়। তৃপ্তির সহিত খেয়েছি। আর আপনার জন্য দুটো ডাব রেখে গেলাম, ঢাকা থেকে ফিরে একটা মিলাদের আয়োজন করবেন ""
ওরা দুজন ফিরে এলো আমাদের আস্তানায়। সবাই মিলে খাওয়া শুরু করলাম। পনেরোটা ডাবের পানি বোতলে করে নিলাম আর বাকিগুলো খেয়ে খোসাগুলো ফেলে দিলাম খালে। পেট একেবারে টাবুটুবু করছে নারকেল আর পানিতে। ভোর হবার আগে যে যার বাড়িতে চলে গেলাম।
পরদিন সকালে উঠে হাটতে বের হইছি খবর পেলাম আমাদের চুরির বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেছে। ডাব চুরি করে খেয়েছে 7 star দল। আজ আবার শালিষ না বসে। তাহলে তো আমার ই পেরা বাড়বে।
এসব ভাবছি আর হাটছি হটাৎ দেখি মেঘলা আর মুন্নি একসাথে স্কুলে যাচ্ছে। ওরা একসাথে পড়ে। আমাকে দেখেই মুন্নি ডাক দিলো
>আবির ভাই শুনো
>দুই জনকে খুব সুন্দর লাগছে একদম বয়লার মুরগীর মত
>কি বললেন ভাইয়া এত বড় কথা?? (মেঘলা)
>মেয়েদের কে বয়লারের মত লাগে?? (মুন্নি)
>মানে সাদা জামা পড়ছো তো তাই বললাম
>এর শোধ নিব পরে। এখন শুনেন ২ টার মধ্যে আমার বান্ধবী রা চলে আসবে আপনি ৪ টার দিকে আমাদের কে নিতে আসবেন। (মুন্নি)
>আচ্ছা ঠিক আছে,, এখন তোমরা স্কুলে যাও আমি বাসায় গিয়ে একটু রেস্ট নিব রাতে ঘুম হয়নি তো
>কেন মিঃ সাহসী ভাইয়া কি রাতভর চুরি করেছে নাকি (মেঘলা)
মেঘলার কথায় কিছু টা ভড়কে গেলাম
>চচচুরি ককককেন করব হুমম সামনে পরীক্ষা তো তাই রাত জেগে পড়ছি।
>ওওওও আচ্ছা
>ঠিক আছে তোমরা যাও
মুন্নি আর মেঘলা দুজন চলে গেলো আমি বাসায় গিয়ে ঘুম দিলাম।
যেতে যেতে ওদের দুজনের মধ্যে কথা হচ্ছে
>এই কারা আসবে রে
>আরে মনে আছে ক্লাস ফাইভে থাকতে আমাদের সাথে রিয়া পড়তো তারপর ওরা শহরে চলে যায় ওর বাবার চাকরির জন্য। রিয়া আর ওর কয়েকটা বান্ধবী আসবে আজ। থাকবে ২/৩ দিন। আর আবির ভাইয়া বিকেলে আমাদের নিয়ে ঘুরবে যাতে কোন সমস্যা না হয়।
>ওহহ ভালো তো অনেকদিন পর তাহলে রিয়ার সাথে দেখা হবে। ওদের কে নিয়ে আমাদের বাড়িতে আসবি কিন্তু।
>আসব মানে কি তুইও আমাদের সাথে থাকবি। যাবার সময় তোকেও সাথে নিয়ে যাব বুঝলি অনেক মজা হবে।
>সত্যি??
>হুমম সত্যি সত্যি সত্যি
>আচ্ছা ঠিক আছে
>চল চল দেরী হয়ে যাচ্ছে
>হুম চল
দুপুরের দিক গ্রামে একটা গাড়ি ঢুকেছে বেশ ঝকমকে আর দামি গাড়ি। হ্যা এটাতেই রিয়া এসেছে সাথে ওর তিন বান্ধবী। যদিও শহরের মেয়ে তবুও অশালীন নয়। তবে একজন জিন্স টপ পরা। খবরটা ফোন করে জানালো আরিফ। সালা একটা গোয়েন্দা। যাই ঘটুক ও আগেই কেমন করে জানি খবর পায়। যাই হোক বিকেলে চলে গেলাম মুন্নিদের বাসায়। দুর থেকে হইচই শোনা যাচ্ছে। আমি গেটের সামনে গিয়ে মুন্নি কে ডাকলাম। ও এলো আমার হাত ধরে নিয়ে গেল ভিতরে। ওরা সবাই গাছের নিচে ছায়ায় চেয়ার পেতে বসা। লাল কালো জামা পরা মেয়েটার দিকে তাকাতে চিনতে অসুবিধা হলো না এটাই সেই রিয়া। হায় আল্লাহ কোন বিপদে পড়লাম আজ। ক্লাস আটে থাকতে তো এই মেয়েকে হাতে কামড় দিছিলাম আমি। তখন ওরা ফাইভে পড়ে। ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে বিকেলে স্কুল থেকে ফিরছিলাম তখন রিয়া আর ওর কয়েকটা কাজিন রাস্তায় খেলছিলো। আমাকে দেখে ওরা ঢিল ছুড়ছিল। তারপর রাগারাগি করে রিয়ার হাতে কামড় দিয়ে চলে এসেছিলাম আর ও ডাক ছেড়ে কান্না করেছিল। তারপর আর ওর সাথে দেখা হয়নি কখনো। কিন্তু ওর চেহারার মাঝে সেই ছাপটা এখনো আছে।
রিয়ার দিকে তাকাতেই হাত দিয়ে মুখ কিছু টা ঢেকে নিলাম। রিয়া বারবার দেখছিল আমাকে। মুন্নিকে বললো
>মুন্নি উনি সেই আবির ভাই না
>সেই আবির ভাই মানে কি
>মানে স্কুলের সেই ভাল ছেলেটা
>হুমম ঠিক ধরছিস মনে আছে তাহলে
>হা হা মনে তো থাকতেই হবে ( একটা ভিলেন মার্কা হাসি দিলো)
>কেন কেন
[বাচ্চা মেয়ে পেয়ে হাতে কামড় দেয়ার শোধ তুলতে হবে আজ। আজ কোথায় যাবা চান্দু?? শিকার আজ নিজেই ফাঁদে পড়েছে। চলো একবার বাইরে। কথা গুলো মনে মনে বললো রিয়া ]
কি রে চুপ করে আছিস কেন
>না মানে ভাইয়া যখন আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে যেত তখন দেখতাম তো তাই
>ওহ তাই বল
এদিকে আমার গলা শুকিয়ে গেছে তার মানে রিয়া এখনো ভুলে নাই সেই কামড়ের কথা তাই সেই কথারই ইঙ্গিত দিল। আল্লাহ পার করো আমারে আজকের দিন টা।
>কেমন আছেন ভাইয়া
>এইতো ভালো আছি তুমি কেমন আছো
>খুব ভালো আছি আর আপনার সাথে দেখা হয়ে তো আরো ভালো লাগলো
>হুমমম আমার ও। (একটুও ভালো লাগে নি) ভয়ে আছি।
>ও আমার বান্ধবী এলভিন, ফারিয়া, জেরিন আর দোস্ত উনি আবির ভাই এলাকার ভালো ছেলে
>হাই আপু কেমন আছো তোমরা??
>হ্যালো গুড বয় আমরা সবাই ভালো আছি
(সবাই মিলে একসাথে বললো)
>তোমাদের আসতে কোন সমস্যা হয়নি তো এতদূর
>না ভাইয়া খুব ইনজয় করেছি।
>তো চলো আমরা বের হই
>কিন্তু এতজন গাড়িতে কি করে যাব
>গাড়ি তে ঘুরলে গ্রামের আসল মজাটাই মিস করবে। পায়ে হেটে ঘুরব আমরা খুব মজা হবে কথা দিচ্ছি
>ওকে লেটস গো
>হুমম
আমরা সবাই বের হয়ে মেঘলাকে আনতে ওদের বাসায় গেলাম। মুন্নি আর রিয়া গিয়ে মেঘলাকে ডাকতেই বের হলো মেঘলা। বাইরে এসে রিয়াকে দেখেই জোরে চিল্লানি দিয়ে জড়িয়ে ধরলো মেঘলা।স্বভাবতই মেয়েরা যা করে আরকি। ওদের ওই ঢংগি সুরের কথা শুনে কেমন কেমন জানি লাগছে আমার। বাপরে পারেও বটে মেয়েরা।
মেঘলা আজ নীল সাদা জামা পরাতে খুব সুন্দরী লাগছে ওকে। আজ প্রথম ওকে অন্য রকম ভালো লাগতে শুরু করলো। কিন্তু কেন সেটা বুঝতে পারছিনা। রিয়ার সাথে কথা বলতে বলতেই কয়েকবার আমার দিকে তাকালো মেঘলা আমিও তাকায় আছি।
এরপর সবার সাথে মেঘলাকেও প্যাকেট করে নিয়ে চললাম গ্রাম ঘুরতে...... #চলবে






No comments:
Post a Comment