#আত্মার ভালোবাসা
.
লিখা: Prince Taj
তৃতীয় পর্ব
..
অফিসে বসে তাজ একটা কথাই চিন্তা করছে। আজ তাকে হয় দেখে ছাড়বে নয়তো পরিচয় জেনে ছাড়বে। এসব চিন্তা করতে করতে অফিসেরর সময় কখন চলে গেছে তাজ বুঝতেই পারি নি। অফিস ছুটির পর তাজ বাসায় এসে খাওয়া দাওয়া শেষ করে অপেক্ষা করছে কখন সে আসবে। তারপর রাত ১২টায় জানালায় কাল রাতের সেই ছায়া মূর্তি এসে হাজির হয়। তাকে জানালায় দেখেই তাজ বললো.....
--এসেছেন তাহলে?
-- আমার অপেক্ষাইই করছিলেন মনে হয়? (একটু হেসে)
--হুম, আপনার অপেক্ষায় ই ছিলাম।
-- হুম, আমিও জানি আপনি আমার ই অপেক্ষা করছিলেন। এবং আপনি কি ভাবছেন সেটাও জানি?
-- তাই নাকি! বলেন তো আমি কি ভাবছি?
-- আপনি ভাবছেন, আমি কে! আমি আপনার কোন পরিচিত মানুষ! আর ভাবছেন আমি একটে আত্মা।
-- আপনি জানলেন কি করে?
-- কারণ আপনি যা ভাবছেন আমি তাই। (একটু কান্না ভেজা কন্ঠে)
-- মানে? আপনি কি আত্মা?
-- হুম, আমি আত্মা।
-- কিন্তু, আমার পরিচিত কেউ তো মারা যায় নেই! তাহলে আপনি কে? ( একটু ভয় ভয় কন্ঠে)
-- ভেবে দেখেন হয়তো পেয়ে যাবেন।
-- আমি ভাবতে পারছি না। প্লিজ আপনি আমার সামনে আসুন।
-- আমি আসতে পারবো কিন্তু আপনি হয়তো ভয় পাবেন?
-- আমি ভয় পাই না! আর আত্মা যেএ জগতে থাকতে পারে সেটা আমার জানাই ছিলো না।
-- মানুষের চিন্তার বাইরেও এ জগতে অনেক কিছুি ঘটে। যা মানুষ এর ভাবনার বাইরে!
-- জ্বি, এবার আমার সামনে আসুন প্লিজ।
-- আচ্ছা আমি আসবো, কিন্তু আপনি হয়তো ভয় পাবেন।
-- আরে আমি একটুও ভয় পাবো না। আসেন তো!
-- আচ্ছা। আমি আসবো তবে আজকে অনেক রাত হয়েছে। আমি কাল আসবো। আর আপনি আপনার রুমে কাল একটা ডিমলাইট জ্বালাবেন। এখন ঘুমান।
বলেই ছায়া মূর্তিটা চলে যায়। পিছনে তাজ,, শুনুন শুনন করে ডাক দেয় কিন্তু তার দেখা আর পায় না।
সারারাত তাজের ঘুম আসে না। তাজের খুব অস্থির লাগছে। কারন, প্রথমত জীবনের প্রথম সে আত্মা নিজ চোখে দেখবে।
আর দ্বীতিয়ত, সেই আত্মা বলেছে তার পরিচিত। কিন্তু কে হতে পারে। এসব ভাবতে ভাতবে তাজ শেষ রাতের দিকে ঘুমিয়ে যায়। প্রতিদিনের মত সকালে বাড়িওয়ালার দরজায় ঠক ঠক শব্দে ঘুমম ভাঙে। উঠে দরজা খুলে দেয়। বাড়িয়ালা প্রতিদিন এসে কিছুক্ষন অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বাহির থেকেই কিছু জিজ্ঞাসা করে চলে যায়। আজও ওনি এসে সেই অভাক চোখে তাজের দিকে তাকিয়ে আছে। তাই তাজ বলে....
-- আঙ্কেল! আপনি প্রতিদিন এসে এমন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকেন কেনো?
-- কই না তো! (আমতা আমতা করে)
-- মিথ্যে বলছেন আঙ্কেল,। আপনার চোখের দিকে তাকিয়ে আমি প্রতিদিন ই বুঝি যে এসেই অবাক হন।
-- বাবা, আসলে আমার একটা মেয়ে ছিলো, সে একটা দুর্ঘটনায় এ বাড়িতে মারা যায়। তার পর থেকে লোকেরা বলা বলি করি, এ বাড়িতে নাকি আমার মেয়ের আত্মা ঘুরাঘুরি করে। কিছু ভাড়াটি এসে এক রাতের মধ্যেই চলে গেছে। কিন্তু তুমি এসে এখন পর্যন্ত কিছু বুঝো নি তাই। এখন আমি বুঝতে পারছি, লোকাদের কথা গুলো স্রেপ বানোয়াট ছিলো।
তাজ এবার পুরোপুরি বুঝতে পারলো সে যার সাথে ২দিন ধরে কথা বলছে সে আসলেই আত্মা। কিন্তু তাজ মনে মনে ভাবে, এই আঙ্কেল কে চারি না, তবে ওনার মেয়ের আত্মা বলছে আমি তাকে চিনি। তাজকে চুপ করে থাকতে দেখে বাড়িয়ালা আবার বলে...
-- কি বাবা! চুপ করে আছো যে? তোমার কি আজ অফিস নেই।
-- জ্বি আঙ্কেল আছে, আর আমি আসছি থেকে আমার সাথে তেমন কিছু ঘটে নি।
-- আচ্ছা বাবা, রাতে আমাদের ঘরেই খেয়ো। তোমার বাহির থেকে আনতে হবে না।
-- আচ্ছা।
বলতেই বাড়িয়ালা চলে যায়, তাজ ভাবে আজকে তো সেই আত্মাকে দেখবেই তাই আর আঙ্কেলকে কিছু বলার প্রয়োজন নেই। তাজ ফ্রেস হয়ে অফিসের দিকে রওনা দেয়।
আজ তাজের অফিসের একদমই মন বসছে না। তাজ শুধু মনে মনে ভাবছে, কখন রাত হবে আর কখন সে এই রহস্য জানতে পারবে। কে এই আত্মাটা। তাজের এসন অস্থির অবস্তা দেখে তার বস বুঝতে পারে। তাই তাকে জিজ্ঞাসা করলে, তাজ শরীর খারাপ বলে কাটিয়ে দেয়। তাই তার বস আজ তাজ কে ৩ঘন্টা আগে ছুটি দিয়ে দেয়। তাজ মনে মনে খুশি হয়। বাসায় এসে সেই আত্মার কথা মত ঘরে একটা ডিম লাইট জ্বালিয়ে দেয়। তারপর রাত ১০টায় রাড়িয়ালার ঘর থেকে খেয়ে এসে শুয়ে অপেক্ষা করতে থাকে সেই আত্মার। যত সয়ম যাচ্ছে তাজের অস্থিরতা তত বাড়ছে। রাত ১২টায় সেই ছায়া মূর্তি জানালায় এসে টোকা দেয়। তাজ তাকে দেখে মনে হয় অনেক টা খুশি হয়। তাই তাকে বলে....
__________চলবে
[বিঃদ্রঃ যারা ২য় পর্ব পড়েন নি তাদের জন্য কমেন্ট বক্সে লিংক দেওয়া থাকবে, আর ব্যস্ততার জন্য হয়তো এই পর্বটা একটু ছোট হয়েছে তাই ক্ষমা করবেন]






No comments:
Post a Comment