গল্প:#ডেঞ্জারেস_লাভ।
লেখক:-মোঃ মেহেদী হাসান শাওন।
পার্ট-৬ এবং শেষ।
(আগের সব পার্ট গ্রুপ এ দেওয়া আছে)
নীলিমা কি জানে আসল কাহিনী তো সামনে শুরু হবে।
নীলিমার সাথে সেখানে বসে ছিলাম কিছুক্ষণ নীরব,চুপচাপ।
কিছুক্ষণ আমি বললাম।
-আচ্ছা,এবার আমি যাই।
নীলিমা আমার দিকে তাকালো।
-সোমবার আমি আসিবো।প্রস্তুত থেকো। (আমি)
-মানে আমার বিয়ের দুদিন আগে।
-হ্যা।
-কেনো?
আমি শুধু তার উত্তরে হাসলাম।এরপর চলে গেলাম।
নীলিমাও তার বাসায় চলে যায়।
সোমবার সকালে,
আমি তাকে কল করলাম
নীলিমার ফোন রিং হল।
-হ্যালো।(নীলিমা)
-ওকে বেড়িয়ে পড়ো। (আমি)
-মানে,কোথায়?
-রেডি হয়ে নেও আজকে ঘুরবো।
-কোথায়?
-যেখানে ইচ্ছে করে আসবে নাকি?
-....হুমমম আচ্ছা আসছি।
-তোমার বাসার সামনে অপেক্ষা করছি।
নীলিমা রেডি হয়ে বাসা থেকে বেড়িয়ে রাস্তায় এসে দাড়ালো।
কিছুক্ষণ পর দেখলো আমি দূর থেকে আমি হেটে আসছি।
হেটে তার কাছে এসে দাড়ালাম।
-কি ব্যাপার হেটে আসলা যে?
-কিছু না দাঁড়াও একটা রিকশা নেই।
-রিকশা!
-হুম! রিকশা দিয়ে ঘুরবো।
আমি নীলিমাকে রেখে একটা রিকশা ডেকে নিয়ে আসলাম।
-উঠে পড়।
নীলিমা আমার সাথে রিকশা নিয়ে উঠে পড়লো।
নীলিমা রিকশাতে আমার পাশেই বসা।নীলিমার চুলগুলো খোলা,ছেড়ে দেয়া ছিলো তাই বাতাসের কারণে চুল গুলো বারবার আমার মুখে এসে পড়ছিল।চুলগুলো এভাবে মুখে আসাতে অবশ্য আমার বিরক্ত হবার কথা ছিল কিন্তু না তেমন কিছুই হচ্ছে না। চুলগুলো থেকে আলাদা সুবাস আসছিলো।
নীলিমা কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারে যে তার চুলগুলো উড়ে আমার মুখে লাগছে।এই নিয়ে নীলিমা চুল বাধতে গেলে।
আমি নীলিমাকে আটকে বলি।
-থাক না আমি তো বলছি না আমার সমস্যা হচ্ছে।
নীলিমা আর কিছু বললো না।
নীলিমা এখন ভাবছে,কি থেকে কি হল।পাশের মানুষটা যে আসলেই যে সেই আগের মেহেদী। বিশ্বাস করতে একটু কষ্ট হচ্ছে।
নীলিমাকে অনেক জায়গায় ঘুরে বেড়ালাতে থাকি।
এখন, নীলিমা আমার সামনে বসে ফুচকা খাচ্ছে। আমি শুধু তাকিয়েই আছি।
এমন তাকিয়ে থাকা দেখে নীলিমা খাওয়া থামিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললো
-এই তোমার সমস্যাটা কি?
-আমার!না,আমার তো কোনো সমস্যা নেই।
-যদি খেতে ইচ্ছে করে তাহলে খাও। এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো?এভাবে তাকিয়ে থাকলে কি খাওয়া যায়।
-না,জাস্ট দেখছিলাম শাকচুন্নিরা কিভাবে খায়?
নীলিমা আমার দিকে রাগী চোখে তাকাল।
-না,না। জাস্ট মজা করছিলাম আমি অন্যদিকে তাকাচ্ছি তুমি খাও।কন্টিনিউ কর।
নীলিমার খাওয়া শেষ হলে এবার তাকে নিয়ে নদীর পাশে রাস্তায় নিয়ে গেলাম।রাস্তাটা চারপাশটা প্রচন্ড সুন্দর।মানুষও কম।
বিকাল হয়ে গেছে,
রাস্তার মাঝ দিয়ে দুজনে হাটতে থাকি।আর কথা বলছিলাম।
হঠাৎ মুখে এক ফোটা পানি পড়লো।আমি উপরে তাকালাম আকাশটা মেঘলা।
মনে ভাবতে নিচ্ছিলাম বৃষ্টি হবে তার আগেই ধুম করে বৃষ্টি নেমে পড়লো।
-সমস্যা নেই আমার কাছে ছাতা আছে (নীলিমা)
নীলিমা তার ব্যাগ থেকে ছাতা বের করলো।
নীলিমা আমার ধরে নিয়ে রাস্তার পাশে একটা গাছে নিচে গিয়ে
ছাতাটা আমার মাথার উপর ধরলো।নীলিমা আর আমি একি ছাতার নিচে।নীলিমা আর আমি হালকা ভিছে গেছি।আমি শুধু মুগ্ধ হয়ে নীলিমা আমার দিকে তাকিয়ে আছি।নীলিমা যখন বুঝলো তার দিকে তাকিয়ে আছি।তখন আমার দিকে তাকিয়ে ভ্রু উঠিয়ে চোখের ইশারায় জানতে চাইলো,"কি হয়েছে?"
আমি হাসি দিয়ে মাথা নাড়িয়ে বোঝালাম কিছু না।
হঠাৎ একটা ধমকা বাতাস এলো।সেই বাতাসে ছাতাটা উড়ে যেতে চাচ্ছিলো।একপর্যায়ে ছাতাটা ভেঙ্গে নিচে পড়ে গেল বাতাসের ধাক্কায়।
আমি আকাশের দিকে তাকালাম।আমার মুখে এক ফোটা এক ফোটা করে বৃষ্টি পড়তে শুরু করে।
আস্তে ভিজতে শুরু করি।নীলিমার দিকে তাকালাম সে ভিজে গেছে।আশে পাশে হয়ত কোথাও বৃষ্টিতে আশ্রয় পাবার জন্য জায়গায় ছিলো।কিন্তু আমি বা নীলিমা কেউ ই যাই নি বা আগ্রহ দেখাই নি।
বৃষ্টির পানি নীলিমার মুখ থেকে বেয়ে পড়ছে।চুলগুলো ভিজা।
নীলিমার দিকে চোখটা আটকে গেছে।নীলিমাকে কত সুন্দর লাগছিলো, সেটা আর ব্যাখ্যা করছি না।ক্রমাগত বৃষ্টিতে ভিজে চলেছি।
হঠাৎ বজ্রপাত হল।বজ্রপাত টা বিকট ছিল।নীলিমা বজ্রপাতে ভয় পায়।বুঝতে পারলাম ।
বজ্রপাত পরার সাথে নীলিমা আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ভয়ে।
আমি নীলিমার মাথায় হাত রাখলাম।নীলিমা আমার বুক থেকে মাথা উঠিয়ে আমার দিকে তাকালো।আমার দুহাত নীলিমার দু-গাল স্পর্শ করলাম।
নীলিমা মুখের আরো কাচাকাছি যাচ্ছিলাম।নীলিমা চোখ বন্ধ করে ফেলে।আরো কাছে গিয়ে নীলিমার কপালে একটা চুমু দিয়ে দেই।
নীলিমা চোখ খুলে তাকালো।আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে আমার থেকে দূরে সড়ে গিয়ে দাড়ালো।আমার বিপরীত দিকে মুখ করে দাড়ালো।
কোনো কারনে নীলিমা যদি এই বৃষ্টিতে কাদেও তবে সেটা বোঝা যাবে না।কারণ তা অচিরেই বৃষ্টির পানির সাথে মিশে যাবে।
বৃষ্টি থেমে গেলো।আমি সাথে সাথে ড্রাইবারকে ফোন করলাম গাড়িটা নিয়ে আসতে।ততক্ষণ নীলিমা কে নিয়ে নদীর পাশে বসে ছিলাম।
নীলিমার চেহারায় ক্লান্তির ছাপ দেখা যাচ্ছিলো।
গাড়ির হর্ণ শুনতে পেলাম।
বুঝলাম গাড়ি এসে গেছে।
-------
এখন প্রায় সন্ধ্যা,পশ্চিমে শেষ প্রান্তে একবারে লাল আভা।সূর্যের ডুবন্ত রূপ।
আসলে বৃষ্টির সন্ধ্যের আকাশটা চমৎকারই হয়।
ড্রাইবার কাছ থেকে তয়ালে নিয়ে নীলিমাকে দিলাম।নীলিমা মাথা মুচে নিল।গাড়িতে নীলিমাকে উঠিয়ে নিলাম।
এবার নিজে গাড়িতে উঠার পূর্বে চারপাশ একবার দেখে নিলাম।
গাড়ি নিয়ে প্রথমে নীলিমার বাসার দিকে রওয়ানা দিলাম।
নীলিমা গাড়িতে বসেই শরীর টা হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে।
গাড়ি চলছে।আমি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম।
হঠাৎ কেউ একজন মনে হল কাধে মাথা রেখেছে।বামদিকে তাকিয়ে দেখি নীলিমা ঘুমিয়ে পড়েছে।আর আমার কাধে মাথা রেখেছে।
যাক!ব্যাপার না।
এরপর কিছুক্ষণ নীলিমা সোজা আমার কোলে মাথা রেখে পা উঠিয়ে শুয়ে পড়ে।
নীলিমা অনেক ক্লান্ত বোঝা গেল।
ঘুমাচ্ছে ঘুমাক।
-------------
নীলিমার বাসার সামনে আসলে নীলিমাকে ডাক দিয়ে উঠাতে থাকি।
-নীলিমা,উঠ।
নীলিমা নড়ে উঠে বসলো।
-কি?
-এসে পড়েছি।
নীলিমা বাইরের দিকে তাকালো।
এবার আমার দিকে তাকালো।
গাড়ি থেকে নেমে পড়লো।
আমিও তার সাথে নামলাম।
-তাহলে আমি যাচ্ছি।
-পরশু তোমার বিয়ে।
নীলিমা নিচে তাকিয়ে থাকে,কিছু বলে না।
-আমি কি আসবো?
-ইচ্ছে হলে আসতে পারো।
-আসবো তো অবশ্যই।
-আচ্ছা,আমি যাচ্ছি।
এই বলে নীলিমা চলে যেতেই থাকে।
আমি জানি নীলিমার মনে কি চলছে।
আমি সেখানে বেশিক্ষণ দাড়ালাম না।
গাড়ি তে উঠে চলে গেলাম।
আমি চলে গেলেও নীলিমা ঠিকই দেখছিলো আমার চলে যাওয়া।
------------------------------------
পরদিন,
নীলিমা সকাল থেকেই ভেবে যাচ্ছে, যা হচ্ছে কি ঠিক হচ্ছে।
বিয়ে করাটা কি আসলেই ঠিক হচ্ছে।নীলিমা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছে যে কি করবে।কিছু একটা
হারানো ভয় অনুভব করতে পারছে।
বারান্ধায় বসে রয়েছে নীলিমা।হাতে শুধুমাত্র একটা দিন তার কাছে।এরপর জীবন টা সম্পূর্ণ পালটে যাবে।
নীলিমার এক এক করে মনে আমার সাথে তার ঘটে যাওয়া স্মৃতিগুলো।
প্রথম দেখা দেখা হতেই কিস।জোর করে নিয়ে যাওয়া।নীলিমা এসব মনে করে আনমনেই হেসে দিল।
--------------
নীলিমার বিয়ের কাজ শুরু হয়ে গেছে।
তার হবু জামাই তার সামনে বসে আছে।আর কাজিও বসে আছে।আশপাশে আত্মীয়-স্বজন।তাদের মাঝে নীলিমা আমাকে দেখতে পারছে, হলুদ পাঞ্জাবী পড়ে দাঁড়িয়ে আছি।
সবার মাঝে আমি যেনো তার কাছে সবচেয়ে কাছে
নীলিমা আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
ওপাশ থেকে শুনতে পেল সবাই বলছে নীলিমাকে কবুল বলতে।নীলিমা কাজির দিকে তাকালো।
-মামনি,কবুল বলো (কাজি)
নীলিমা এবার আমার দিকে তাকালো।নীলিমার চোখ দুটো যেনো জানতে চাইছে, মেহেদী আমি করব?আমাকে ফেরাও।
আমি একটা হাসি দিয়ে কবুল বলার জন্য ইশারায় সম্মতি দিলাম।
-কি হল বলো মামনি। (নীলিমার বাবা)
নীলিমা মাথা নিচে ঝুকিয়ে বলে ফেললো
-কবুল।
-মাশাল্লাহ (কাজি)।আরেকবার বলো কবুল।
এবার নীলিমা আমার দিকে তাকালো।
কিন্তু এবার নীলিমার চোখদুটো ছিল ভিজা।অশ্রু যেনো ঝড়ে পড়বে এখনি।
আমি নীলিমাকে আবারও ইশারায় বললাম।
কবুল বলতে।
- বলো,কবুল। (কাজি)
নীলিমা আমার দিকেই তাকিয়ে বলল, কবুল।
-আলহামদুলিল্লাহ।এবার শেষ বারের মত কবুল বলো।
নীলিমার চোখ থেকে দু-ফোটা অশ্রু ঝড়েই পড়লো।। চোখ বন্ধ করে, কবুল বলে ফেলে।চোখ খুলে দেখে আমি আর নেই।চারপাশ তাকায় কিন্তু আমায় আর খুজে পায় না।নীলিমা সেখান থেকে নেমে আমায় খুজতে থাকে।কোথায় পায় না।
-মেহেদী কোথায় তুমি?আমি তোমাকে ভালোবাসি।আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না। প্লিজ।
(নীলিমা) এই বলে কাদতে থাকে।
কোথা থেকে এক কন্ঠস্বর শুনতে পেল।
"আমি হারিয়ে যাচ্ছি দূর পথে।তুমি আমায় আর পাবে না।ভালো থেকো"
-না না মেহেদী তুমি যেয়ো না।
এই নীলিমা ঘুম থেকে উঠে পড়ে।
নীলিমা চারপাশ তাকালো।না সে ঘরেই আছে।তার মানে এতক্ষণ এটা স্বপ্ন ছিল।নীলিমা তারিখ দেখলো।আজ তার বিয়ের দিন।নীলিমা একটা লম্বা শ্বাস ছাড়লো।
-উফফ!বাচা গেলো।....কিন্তু না।আমি বুঝতে পেরেছি আমার মেহেদীকে প্রয়োজন।আমি তাকে ভালোবাসি আমি এখনই তার কাছে যাবো।এখনি যেতে হবে।
নীলিমা বাসা থেকে বেড়িয়ে পড়ে।কাউকে কিছু না বলে।একটা রিকশা নেয়।
রিকশাতে উঠেই আমাকে কল করে।
-হ্যালো। (আমি)
-এখনি তোমার বাসার সামনে আসো।আমি তোমার বাসার সামনে আসছি।
-কেনো?
-দরকার আছে।
নীলিমা ফোন কেটে দিল।
আমি নীলিমার কথামতো বাসার সামনে এসে দাড়ালাম।
কিছুক্ষণ পর নীলিমাও আসলো।রিকশা থেকে নেমে আমার কাছে এসে দাড়ালো।
আমি নীলিমা জিজ্ঞেস করলাম,
-কেনো ডেকেছো?
প্রশ্নটা করার সাথে সাথে নীলিমা আমাকে জড়িয়ে ধরলো।আমিতো পুরাই অবাক।
-নীলিমা এসব কি হচ্ছে?
-মেহেদী,আমি তোমাকে ভালোবাসি।আই লাভ ইউ। আমি বিয়ে করলে জাস্ট তোমাকেই করবো।প্লিজ তুমি আমাকে তোমার কাছে রেখে দেও।
-নীলিমা এসব কি বলছো আজ তোমার বিয়ে।
-আমি বুঝতে পেরেছি।আমার মনে মনে একটু করে অনেক জায়গা হয়ে গেছে তোমার জন্য।প্লিজ।
-দেখো,এখন দেরি হয়ে গেছে।এখন আর কিছু সম্ভব না।
-না,সম্ভব তুমি বাবাকে বল। চেষ্টা করতে পারো।
-তুমি ফিরে যাও।
-কেনো যাবো?আচ্ছা, তুমি কি আমাকে ভালোবাসো না।
আমি কিছু বলছি না।
-আমি জানি।তুমি আমাকে ভালোবাসো।আমি যাবো না।তোমার কাছেই পড়ে রইবো।
আমি নীলিমাকে আমার থেকে ছাডিয়ে নিজের বাসার দিকে যেতে লাগলাম।
নীলিমাও আমার পেছন পেছন যেতে লাগলো।
আমি বাসায় গিয়ে নিজের রুমের সোফাতে গিয়ে বসলাম।
নীলিমা আমার পায়ের কাছে এসে বসে,অনবরত কান্না করেই যাচ্ছে।আর বলে যাচ্ছে,যেনো আমি তাকেই বিয়ে করি।
নীলিমা কান্না করে বলছিলো বলছিলো হঠাৎ চিৎকারের একটা আওয়াজ পেলো।নীলিমা চোখ খুলে দেখে আমার আম্মু আমাকে কান ধরে টেনে রেখেছে।
-আম্মু,ছাড়ো তো।
-ব্যস,অনেক্ষণ থেকে দেখছি তোর এই ড্রামা।আর কত শুনি একটা মেয়েরে এত কষ্ট দিতে এত ভালো লাগে। অভিনয়ের তো একটা সীমা আছো।
-দেখো তো,বাজিয়ে দিলে তো আমার প্ল্যানের বারোটা। কয় ভাবছিলাম সারপ্রাইজ দেবো।সব মাটি।
নীলিমা কিছুই বুঝতে পারছে না।
-এখন সব তুই বলবি না,আমি বলবো।
-তুমিই বল।
আম্মু নীলিমা নিচ থেকে উঠিয়ে সোফায় বসায়।
-দেখো,বউমা চোখের জল মুছো।
নীলিমা এবার তো কিছুই বুঝতে পারছে না।
-তোমার সাথে মেহেদীর বিয়েই ঠিক করা হয়েছে।যেদিন তুমি আমাদের বাসায় এসেছিলে।তখন তোমরা যখন কথা বলছিলে আমি সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় সব শুনি।
এরপর মেহেদীকে সব জিজ্ঞেস করি মেহেদীর চোখ বলছিলো সে সত্যিই তোমায় ভালোবাসে।তাই আমি দ্রুত তোমার বাসায় গিয়ে সব বলি।আর এই বিয়েটা ঠিক করি।তোমার পরিবার সবাই মেনেও নেয়।এসব কিন্তু হাদারাম টা তোমায় আগে বলতে পারতো।
এই বলে আবার কান ধরে টান দেয়।।
-উফফ,ছাড়ো তো।
-কিন্তু সে বলেনি।সে চাইলো তোমায় বিয়ের আগে গভীর ভাবে প্রেমে ফেলিয়ে তারপর একটু দেবদাসের মত অভিনয় করবে আর বোঝাবে তার ভালোবাসার মূল্য শেষে। বিয়ের দিন সারপ্রাইজ দেবে। এই ছিল তার প্ল্যান।
আচ্ছা,আমি যাই।প্রচন্ড কাজ এটাও তো বিয়ের বাড়ি বলে কথা।
নীলিমা এসব কথা শুনে সোজা আকাশ থেকে পড়ল।নিজের কান কে যেনো বিশ্বাস ই করতে পারছে না।একদিকে যেমন অনেক খুশি হয় তেমনি প্রচন্ড রাগ হতে থাকে তার।নীলিমা আমার দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকায়।আমার দিকে তাকানোর সাথে সাথে অন্য মুখ ঘুরিয়ে এমন ভাব নেই যেনো কিছু হয়ই নেই।
নীলিমা সোফা ছেড়ে দাড়ালো।আমার কাছে এসে আমার উপর চড়ে বসে গলা টিপে ধরল।
-শয়তানের বাচ্চা,শুধু শুধু আমাকে এত কষ্ট দিলি।
-আ আ আমাকে ছাড়ো।মরে যাবো তো।
-মর তুই।আমি এদিকে কেদে মরি তোর জন্য আর এইদিকে.....
-মরে গেলে তুমি বিয়ে করবে কাকে?
-রাখ তোর বিয়ে গুষ্টি কিলাই।
এবার কিছু না পেরে নীলিমাকে ধরে সোফাতে শুয়েই দেই।এবার আমি তার উপর চড়ে বসি।
নীলিমার মুখ আমার মুখের কাছাকাছি।নীলিমার নিঃস্বাস আমার উপর পড়ছে।নীলিমার চুলগুলো তার মুখের উপর পড়ে রয়েছিল।সেইগুলো আংগুল দিয়ে তার কানের পেছনে গুজে দেই।
-তো,কি বলছিলে বিয়ে করবে না।
-আমি সেটা বলি নি।
-কিন্তু মারার জন্য তো ঠিকই উঠে পড়ে লেগেছো।
-কেনো করেছো এমন?
-এমনি।
-এমনি মানে
আর কিছু বলতে যাবে আম্মু ডাকাডাকি শুরু করেছে। কাহিনি শেষ।
----------
শেষ পর্যন্ত নীলিমা আমার সামনে বসে তিনবার কবুল বলেই বিয়ে করলো।
বাসররাতে,
আমি দরজা টেলে ভেতরে গেলাম।ভেতরে রুম অন্ধকার, বাতি নেভানো।আমি রুমের ভেতরে গিয়েই দরজাটা লাগিয়ে দিলাম।নীলিমাকে রুমে পেলাম না।তার মানে নিশ্চয়ই বারান্ধায়।
আমি বারান্ধায় গেলাম।হুম,নীলিমা সেখানেই দাঁড়িয়ে।গিয়ে তার পেছনে দাড়ালাম।তাকে কোমড় ধরে আমার দিকে ঘুরিয়ে সাথে সাথে কিস করা শুরু করি।
নীলিমা এবারও আবার অবাক।
৫ মিনিট পর ছেড়ে দিলাম।
কোমড় ধরে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম।
-এবার,আর কিস করতে কোনো প্রবলেম আছে?
-নাই।কিন্তু তবু যদি না দেই করতে?
-জোর করে নেবো।
-যদি কাছে আসতেই না দেই।
-পকেটে রুমাল আছে না।নাকে চেপে ধরে অজ্ঞান করে নিয়ে তার কাছে টেনে নেবো।
নীলিমা রাগী দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালো।কিন্তু পরক্ষণেই আবার হালকা হাসি দিয়ে আমায় জড়িয়ে ধরলো।
আমার বুকে মাথা রেখে বলতে লাগলো।
-এভাবে সব সময় কাছে রাখবে তো?
-হুম।
-যদি কোনো দিন চলে যাই?
-জোর করে আটকে রাখবো।
এবার নীলিমাকে কোলে তুলে নিলাম।
কোলে নিয়ে রুমের দিকে যেতে থাকি।
-এই এই কোথায় নিয়ে যাচ্ছো?
-কোথায় আবার রুমে।আমি কি বলদের মত সারারাত বারান্দায় থাকবো।রুমে গিয়ে বাসর রাত পালন করবো।
-ধ্যাৎ,
এই বলে নীলিমা আমার বুকের মাঝে মুখ লুকিয়ে রাখলো।
চলতে থাকুকু এভাবেই এই সম্পর্ক ।
(সমাপ্ত)
যাওয়ার আগে বলে যান কেমন হয়েছে, আর শেষ পর্যন্ত থাকার জন্য ধন্যবাদ।
পার্ট-৬ এবং শেষ।
নীলিমার সাথে সেখানে বসে ছিলাম কিছুক্ষণ নীরব,চুপচাপ।
-আচ্ছা,এবার আমি যাই।
-সোমবার আমি আসিবো।প্রস্তুত থেকো। (আমি)
-মানে আমার বিয়ের দুদিন আগে।
-হ্যা।
নীলিমাও তার বাসায় চলে যায়।
নীলিমার ফোন রিং হল।
-ওকে বেড়িয়ে পড়ো। (আমি)
-মানে,কোথায়?
-রেডি হয়ে নেও আজকে ঘুরবো।
-কোথায়?
-যেখানে ইচ্ছে করে আসবে নাকি?
-....হুমমম আচ্ছা আসছি।
-তোমার বাসার সামনে অপেক্ষা করছি।
নীলিমা রেডি হয়ে বাসা থেকে বেড়িয়ে রাস্তায় এসে দাড়ালো।
হেটে তার কাছে এসে দাড়ালাম।
-কিছু না দাঁড়াও একটা রিকশা নেই।
-রিকশা!
-হুম! রিকশা দিয়ে ঘুরবো।
আমি নীলিমাকে আটকে বলি।
-থাক না আমি তো বলছি না আমার সমস্যা হচ্ছে।
নীলিমা আর কিছু বললো না।
এমন তাকিয়ে থাকা দেখে নীলিমা খাওয়া থামিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললো
-এই তোমার সমস্যাটা কি?
-আমার!না,আমার তো কোনো সমস্যা নেই।
-যদি খেতে ইচ্ছে করে তাহলে খাও। এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো?এভাবে তাকিয়ে থাকলে কি খাওয়া যায়।
-না,জাস্ট দেখছিলাম শাকচুন্নিরা কিভাবে খায়?
নীলিমা আমার দিকে রাগী চোখে তাকাল।
-না,না। জাস্ট মজা করছিলাম আমি অন্যদিকে তাকাচ্ছি তুমি খাও।কন্টিনিউ কর।
ছাতাটা আমার মাথার উপর ধরলো।নীলিমা আর আমি একি ছাতার নিচে।নীলিমা আর আমি হালকা ভিছে গেছি।আমি শুধু মুগ্ধ হয়ে নীলিমা আমার দিকে তাকিয়ে আছি।নীলিমা যখন বুঝলো তার দিকে তাকিয়ে আছি।তখন আমার দিকে তাকিয়ে ভ্রু উঠিয়ে চোখের ইশারায় জানতে চাইলো,"কি হয়েছে?"
আমি হাসি দিয়ে মাথা নাড়িয়ে বোঝালাম কিছু না।
নীলিমার দিকে চোখটা আটকে গেছে।নীলিমাকে কত সুন্দর লাগছিলো, সেটা আর ব্যাখ্যা করছি না।ক্রমাগত বৃষ্টিতে ভিজে চলেছি।
বুঝলাম গাড়ি এসে গেছে।
এবার নিজে গাড়িতে উঠার পূর্বে চারপাশ একবার দেখে নিলাম।
ঘুমাচ্ছে ঘুমাক।
-কি?
-এসে পড়েছি।
এবার আমার দিকে তাকালো।
আমিও তার সাথে নামলাম।
-পরশু তোমার বিয়ে।
নীলিমা নিচে তাকিয়ে থাকে,কিছু বলে না।
-আমি কি আসবো?
-ইচ্ছে হলে আসতে পারো।
-আসবো তো অবশ্যই।
-আচ্ছা,আমি যাচ্ছি।
আমি জানি নীলিমার মনে কি চলছে।
গাড়ি তে উঠে চলে গেলাম।
পরদিন,
বিয়ে করাটা কি আসলেই ঠিক হচ্ছে।নীলিমা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছে যে কি করবে।কিছু একটা
হারানো ভয় অনুভব করতে পারছে।
তার হবু জামাই তার সামনে বসে আছে।আর কাজিও বসে আছে।আশপাশে আত্মীয়-স্বজন।তাদের মাঝে নীলিমা আমাকে দেখতে পারছে, হলুদ পাঞ্জাবী পড়ে দাঁড়িয়ে আছি।
সবার মাঝে আমি যেনো তার কাছে সবচেয়ে কাছে
নীলিমা আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
-মামনি,কবুল বলো (কাজি)
-কি হল বলো মামনি। (নীলিমার বাবা)
নীলিমা মাথা নিচে ঝুকিয়ে বলে ফেললো
-কবুল।
-মাশাল্লাহ (কাজি)।আরেকবার বলো কবুল।
এবার নীলিমা আমার দিকে তাকালো।
কিন্তু এবার নীলিমার চোখদুটো ছিল ভিজা।অশ্রু যেনো ঝড়ে পড়বে এখনি।
আমি নীলিমাকে আবারও ইশারায় বললাম।
কবুল বলতে।
নীলিমা আমার দিকেই তাকিয়ে বলল, কবুল।
-আলহামদুলিল্লাহ।এবার শেষ বারের মত কবুল বলো।
নীলিমার চোখ থেকে দু-ফোটা অশ্রু ঝড়েই পড়লো।। চোখ বন্ধ করে, কবুল বলে ফেলে।চোখ খুলে দেখে আমি আর নেই।চারপাশ তাকায় কিন্তু আমায় আর খুজে পায় না।নীলিমা সেখান থেকে নেমে আমায় খুজতে থাকে।কোথায় পায় না।
(নীলিমা) এই বলে কাদতে থাকে।
এই নীলিমা ঘুম থেকে উঠে পড়ে।
নীলিমা চারপাশ তাকালো।না সে ঘরেই আছে।তার মানে এতক্ষণ এটা স্বপ্ন ছিল।নীলিমা তারিখ দেখলো।আজ তার বিয়ের দিন।নীলিমা একটা লম্বা শ্বাস ছাড়লো।
-উফফ!বাচা গেলো।....কিন্তু না।আমি বুঝতে পেরেছি আমার মেহেদীকে প্রয়োজন।আমি তাকে ভালোবাসি আমি এখনই তার কাছে যাবো।এখনি যেতে হবে।
রিকশাতে উঠেই আমাকে কল করে।
-হ্যালো। (আমি)
-এখনি তোমার বাসার সামনে আসো।আমি তোমার বাসার সামনে আসছি।
-কেনো?
-দরকার আছে।
-কেনো ডেকেছো?
প্রশ্নটা করার সাথে সাথে নীলিমা আমাকে জড়িয়ে ধরলো।আমিতো পুরাই অবাক।
-মেহেদী,আমি তোমাকে ভালোবাসি।আই লাভ ইউ। আমি বিয়ে করলে জাস্ট তোমাকেই করবো।প্লিজ তুমি আমাকে তোমার কাছে রেখে দেও।
-নীলিমা এসব কি বলছো আজ তোমার বিয়ে।
-আমি বুঝতে পেরেছি।আমার মনে মনে একটু করে অনেক জায়গা হয়ে গেছে তোমার জন্য।প্লিজ।
-দেখো,এখন দেরি হয়ে গেছে।এখন আর কিছু সম্ভব না।
-না,সম্ভব তুমি বাবাকে বল। চেষ্টা করতে পারো।
-তুমি ফিরে যাও।
-কেনো যাবো?আচ্ছা, তুমি কি আমাকে ভালোবাসো না।
আমি কিছু বলছি না।
-আমি জানি।তুমি আমাকে ভালোবাসো।আমি যাবো না।তোমার কাছেই পড়ে রইবো।
আমি বাসায় গিয়ে নিজের রুমের সোফাতে গিয়ে বসলাম।
নীলিমা আমার পায়ের কাছে এসে বসে,অনবরত কান্না করেই যাচ্ছে।আর বলে যাচ্ছে,যেনো আমি তাকেই বিয়ে করি।
নীলিমা কান্না করে বলছিলো বলছিলো হঠাৎ চিৎকারের একটা আওয়াজ পেলো।নীলিমা চোখ খুলে দেখে আমার আম্মু আমাকে কান ধরে টেনে রেখেছে।
-আম্মু,ছাড়ো তো।
-ব্যস,অনেক্ষণ থেকে দেখছি তোর এই ড্রামা।আর কত শুনি একটা মেয়েরে এত কষ্ট দিতে এত ভালো লাগে। অভিনয়ের তো একটা সীমা আছো।
-দেখো তো,বাজিয়ে দিলে তো আমার প্ল্যানের বারোটা। কয় ভাবছিলাম সারপ্রাইজ দেবো।সব মাটি।
-এখন সব তুই বলবি না,আমি বলবো।
-তুমিই বল।
-দেখো,বউমা চোখের জল মুছো।
নীলিমা এবার তো কিছুই বুঝতে পারছে না।
-তোমার সাথে মেহেদীর বিয়েই ঠিক করা হয়েছে।যেদিন তুমি আমাদের বাসায় এসেছিলে।তখন তোমরা যখন কথা বলছিলে আমি সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় সব শুনি।
-উফফ,ছাড়ো তো।
-কিন্তু সে বলেনি।সে চাইলো তোমায় বিয়ের আগে গভীর ভাবে প্রেমে ফেলিয়ে তারপর একটু দেবদাসের মত অভিনয় করবে আর বোঝাবে তার ভালোবাসার মূল্য শেষে। বিয়ের দিন সারপ্রাইজ দেবে। এই ছিল তার প্ল্যান।
আচ্ছা,আমি যাই।প্রচন্ড কাজ এটাও তো বিয়ের বাড়ি বলে কথা।
-শয়তানের বাচ্চা,শুধু শুধু আমাকে এত কষ্ট দিলি।
-আ আ আমাকে ছাড়ো।মরে যাবো তো।
-মর তুই।আমি এদিকে কেদে মরি তোর জন্য আর এইদিকে.....
-মরে গেলে তুমি বিয়ে করবে কাকে?
-রাখ তোর বিয়ে গুষ্টি কিলাই।
নীলিমার মুখ আমার মুখের কাছাকাছি।নীলিমার নিঃস্বাস আমার উপর পড়ছে।নীলিমার চুলগুলো তার মুখের উপর পড়ে রয়েছিল।সেইগুলো আংগুল দিয়ে তার কানের পেছনে গুজে দেই।
-আমি সেটা বলি নি।
-কিন্তু মারার জন্য তো ঠিকই উঠে পড়ে লেগেছো।
-কেনো করেছো এমন?
-এমনি।
-এমনি মানে
আর কিছু বলতে যাবে আম্মু ডাকাডাকি শুরু করেছে। কাহিনি শেষ।
শেষ পর্যন্ত নীলিমা আমার সামনে বসে তিনবার কবুল বলেই বিয়ে করলো।
কোমড় ধরে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম।
-নাই।কিন্তু তবু যদি না দেই করতে?
-জোর করে নেবো।
-যদি কাছে আসতেই না দেই।
-পকেটে রুমাল আছে না।নাকে চেপে ধরে অজ্ঞান করে নিয়ে তার কাছে টেনে নেবো।
আমার বুকে মাথা রেখে বলতে লাগলো।
-এভাবে সব সময় কাছে রাখবে তো?
-হুম।
-যদি কোনো দিন চলে যাই?
-জোর করে আটকে রাখবো।
কোলে নিয়ে রুমের দিকে যেতে থাকি।
-কোথায় আবার রুমে।আমি কি বলদের মত সারারাত বারান্দায় থাকবো।রুমে গিয়ে বাসর রাত পালন করবো।
-ধ্যাৎ,






No comments:
Post a Comment