Joy Bhaiya Youtube Channel

অবহেলিত #পর্ব ২+৩

Sumaya | Beautiful girl indian, Beautiful girl face, Indian girl ...
#অবহেলিত
#পর্ব ২+৩
আপনার প্রেমিকা গতকাল রাতে কল দিয়েছে। রাসেদ তার স্ত্রী থেকে এই কথা শুনে থতমত খেয়ে যায়। কিছুক্ষণ স্তব্ধ থেকে রাগী স্বরে জবাব দিলো,,,
- আপনাকে বলেছি আমার মোবাইল ধরতে?
- আমি তো মোবাইল ধরি নাই আপনি যখন ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তখন ওই কলটা আসে।
- বুজছি,,, গতকাল আকাশ বিজলি চমকানোর কারনে আমি একটু ভয় পেয়ে ছিলাম। আপনার সাথে একটু ভালোভাবে কথা বলেছি সেইটা ভেবে আমার কাছে আসার চিন্তা ও করবেন না।
মায়া চুপ করে রুম থেকে বের হয়ে গেলো। মায়ার চোখে টলমল করছে জলে।
রাসেদ মেবাইল হাতে নিয়ে সুহাদা কে কল দিলো। কল দেওয়ার সাথে সাথে ওই পাশ থেকে।
- গতকাল রাত্রে তোমাকে কল দিছি কোথায় ছিলা?
- বাড়িতে ছিলাম মোবাইল সাইলেন্ট করা ছিলো।
- ঠিক আছে আমি তোমাদের বাড়িতে আসতেছি তুমি রেডি হও তোমাকে নিয়ে এক জায়গা যাবো।
- এই না না
- কি না না?
রাসেদ ভীত স্বরে বলল,,
- তোমার আসতে হবে না আমি তৈরি হয়ে রেস্টুরেন্ট চলে এসেছি।
- এতো সকাল সকাল রেস্টুরেন্ট কি করো?
- নাস্তা করতে এসেছি।
- আন্টি কি নাস্তা করে না?
- আম্মু শরীর টা তেমন ভালো না তাই।
- তাহলে আমি কয়েকদিন তোমাদের বাসায় এসে সাহায্য করি আন্টি কে।
- আরে বললাম তো লাগবে না বাড়িতে বুয়া আছে।
- রাসেদ তোমার কি হয়েছে এইভাবে কেনে কথা বলতেছ?
- কিছুই হয় নাই তুমি না বলল কোথায় যাবা জলদি আসো।
- ঠিক আছে।
রাসেদ ফোনটা রেখে এক গ্লাস পানি খেয়ে বের হয়ে পড়লো। মায়া কতবার করে বলল খাবার টা খেয়ে যান কিন্তু তার একটা জবাব দেওয়ার সময়টুকু তার কাছে ছিলো না। মায়া মন খারাপ করে ঘরের কোনায় বসে থাকা ছাড়া আর কিছু করার নাই। রাসেদ বের হয়ে যাওয়ার পর পর মায়ার বাবা আসে। কলিং বেল বাজতে মায়া মনে করলো হয়তো রাসেদ এসেছে দৌড়ে গিয়ে দরজা টা খুলে দেয়। দরজা খুলে দেখে বাবা এসেছে মায়ার মুখে কৃত্রিম একটা হাসি বিরাজ করে এতোটা সুন্দর দেখাচ্ছিল হাসির জন্য কিন্তু মায়ার কপাল টা খারাপ এতো সুন্দর হাসি হয়তো রাসেদকে দেখানোর সৌভাগ্য হয় নাই। বাবা এসেছে অনেক টা কষ্ট দূর হয়ে যায় মায়ার। রাসেদের আম্মু যখন দেখলো বেয়াই সাহেব এসেছে তা দেখে একটু বিচলিত হয়ে যায় কারন তার ছেলে যে বাসায় নেই যদি মায়া বলে দেয় তার বাবা কে যে রাসেদ তাঁকে কষ্ট দেয়। রাসেদের আম্মু বেয়াই নিকটে গিয়ে,,,
- বেয়াইসাহেব কেমন আছেন?
- আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি মেয়েকে দেখে আরো ভালো হয়ে গেছি।
- আপনি কেমন আছেন?
- আপনাদের দোয়া আল্লাহ রাখছে ভালো।
- জামাই বাবাজী কোথায়.? দেখি না যে?
মায়া ভিজে স্বরে বলল,,
- বাবা উনার তো অনেক কাজ হয়তো সেইটা করতে গিয়েছে।
- জামাই বাবাজীর আবার কিসের কাজ এখনতো চাকরি তে যোগদান করে নাই।
- বাবা তুমি ও না কিছুই বুঝো না উনার বন্ধু বান্ধব আছে তাদেরকে দাওয়াত দিবে বাসায় আসার জন্য হুটহাট করে বিয়ে টা হয়ে গেছে কেউ তো জানেই না।
- ওহ
ঠিক তখনই রাসেদের আম্মু রাসেদকে কল দিচ্ছে অথচ কল উঠানোর কোনো নাম ওই নাই। কোনো কিছু ভেবে না পেয়ে মায়া কে ডাকলো। মায়ার হাত জোর করে বলল,,
- মা তুমি আজকে তোমার বাবার থেকে অনেক কথা লুকিয়েছ তোমার কাছে আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো আর একটা সাহায্য করবা প্লিজ?
- মা কি বলছেন এইসব এইটা আমার দায়িত্ব আপনি আমার মায়ের মতো আমি আপনার মেয়ে আপনি অনুরোধ করবেন না শুধু আদেশ দিবেন।
মায়ার কথা শুনে মায়ের চোখে টলমল করছে চোখের পানি। মায়া কাপড়ের আঁচল দিয়ে মায়ের চোখের পানি মুছে দেয়,,
- মা বলেন কি করতে হবে?
- তুমি একটু রাসেদকে কল দিয়ে দেখো।
- আচ্ছা আপনি চিন্তা করবেন না।
মায়া তার রুমে গিয়ে মোবাইল হাতে নিয়ে ভয়ে ভয়ে কলটা দিলো। রাসেদ অপরিচিত নাম্বার থেকে কল পেয়ে কলটা উঠিয়ে,,,
- হ্যালো কে?
- আমি?
- আমি কে?
- মায়া।
- মায়া কে?
- মানে আমি আপনার স্ত্রী।
- ওহ,, সরি আমি চিনতে পারিনি কারন আপনার নাম আমি যানি না। আচ্ছা কল দিয়েছেন কেনো?
- বাবা এসেছে,, আপনাকে না দেখে জিজ্ঞেস করেছে আপনি কোথায়?
- তো আমি কি করবো?
- বাবা হয়তো কোনো কাজেই এসেছে আপনার চাকরি ব্যাপারে কিছু বলার জন্য। আপনি সামনে থাকলে ভালো হতো।
- আচ্ছা দেখি জলদি আসার চেষ্টা করব।
মায়া কল কেটে মায়ের কাছে গেলেন মুখের মধ্যে উৎফুল্ল একটা হাসি নিয়ে। মায়ার হাসির কারন হচ্ছে রাসেদ। রাসেদ ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় কথা তো বলেছে মায়ার সাথে তাতে মেয়েটার মুখে হাজার রকমের আনন্দ বিরাজ করছে। মায়ার একটা ইচ্ছে সারাদিনে ২ বার কথা বলুক সেইটা হোক না রাগী স্বরে ভালোবাস সুবাস খুঁজে পাওয়ার দায়িত্ব টা না হয় আমার। মা রান্না ঘরে রান্না করছে তখন মায়া গিয়ে,,
- মা উনি আমার সাথে কথা বলেছে, উনি বলেছে আসবে একটু পর।
- সত্যি?
মাথা নিচু করে লজ্জা স্বরে,,
- জ্বি মা।
- মা দেখবা একদিন রাসেদ তোমাকে অনেক ভালোবাসবে আর না বেসে যাবে কোথায় এমন একটা মিষ্টি মেয়ে।
মায়া মাথা নিচু করে মুচকি একটা হাসি দিয়ে বাবার কাছে চলে গেলো। বাবা একা বসে আছে গিয়ে তারা দু'জন গল্প করা শুরু করল।
বাবা মেয়েটাকে কাছে পেয়ে কপালে একটা চুমু দিয়ে বলল,,
- মা একটা কথা বলি?
- জ্বি বাবা
- তোর এইখানে কোনো সমস্যা হয়?
- বাবা আমাকে দেখে কি তা মনে হয়? দেখো আমি কতোটা হাসিখুশি ভাবে আছি।
- মা আমি সবসময় দোয়া করি সারাজীবন এইভাবে হাসিখুশি যানি থাকতে পারিস।
হঠাৎ কলিং বেলের শব্দ মায়ার কানে ভেসে আসে। মায়া তা শুনে জলদি করে বাবাকে ছেড়ে দরজার সামনে যায় হয়তো রাসেদ এসেছে। দরজা খুলে দেখে একটা ছেলে। ছেলেটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,,
- কে আপনি?
- মায়া।
- এই বাড়িতে আপনি আন্টি কোথায়?
- মা রান্না ঘরে।
- কি বললেন?
- বলছি মা রান্না ঘরে রান্না করে। আপনি রুমে আসেন আমি মা কে ডেকে দিচ্ছি।
ছেলেটা রুমে এসে বসলো মায়া মা কে ডেকে নিয়ে এলো। মা দেখে বলল,,
- কি রে সৃজন তুই হঠাৎ?
- আন্টি এইটা কিন্তু ঠিক না?
- কি?
- রাসেদ ও কখনো বললো না আর আপনি ও তো কখনো বললেন না আমাদের ছোট বোন আছে।
- কিভাবে বলবো তোমাদের ছোট বোন তো কিছুদিন হয়েছে তোমাদের বোন হয়েছে।
- কি বললেন আন্টি সব মাথার উপর দিয়ে গেলো।
- এইটা রাসেদের স্ত্রী।
- কি,, উনি আমাদের ভাবি?
- হুম।
- মাশাল্লাহ ভাবি কতো সুন্দর কিন্তু এইটা বেইমানী হয়ে গেলো রাসেদ বলে নাই আপনি তো বলতে পারতেন।
- বাবা হঠাৎ করে সবকিছু হয়ে গেছে সবাইকে একদিন দাওয়াত দিবো।
- আচ্ছা আন্টি আমি তাহলে যাই পরে কথা হবে।
সৃজন চলে যাওয়ার পর দরজা বন্ধ করে দিয়ে মায়া সোজা রান্না ঘরে চলে গেলো মা কে সাহায্য করার জন্য। সৃজন রুম থেকে বের হয়ে পথে তার পরিচিত যাকে পাচ্ছে তাঁকে বলে যাচ্ছে রাসেদ বিয়ে করেছে। অন্য দিক দিয়ে রাসেদ আর সুহাদা রেস্টুরেন্ট বসে কফি খাচ্ছে,,,, রাসেদ সকালের কথা মনে করে বলল,,
- সকালে কি যানি বলল কোথায় নিয়ে যাবে?
- আজকে বাবার সাথে পরিচয় করাবো তোমাকে।
- হঠাৎ?
- বাবা কে অনেক আগে বলে রেখেছি।
- কিন্তু আজকে দেখা করতে পারবো না।
- কেনো?
- বাড়িতে অনেক কাজ আছে। আমাকে একটু পর চলে যেতে হবে।
- বাবাকে আমি কি বলবো?
- কিছু একটা বলে দিয়ো প্লিজ।
হঠাৎ সৃজন দেখলো রাসেদ রেস্টুরেন্ট বসা।
রেস্টুরেন্ট ঢুকে,,,,
- কিরে শালা তুই তো লুকানোর জন্য ওস্তাদ হয়ে গেলি।
সুহাদা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো সৃজনের দিক। তারা সবাই ক্লাসমেট সৃজন কে সুহাদা আগে থেকে চিনে। সৃজনের কথা আগামাথা কিছু বুজে নাই বিধায়,,সুহাদা বলল
- কি রে কি লুকিয়েছে?
- তুই যানস না?
- না
- তুই বেস্ট ফ্রেন্ড তোকে বলে নাই তাহলে সেখানে তো আমরা কিছুই না।
রাসেদ আর সুহাদা যে সম্পর্কে আছে সেইটা কেউই জানতো তাদের বন্ধুদের মধ্যে। সবাই জানে তারা খুব বন্ধু। তাই সৃজন বন্ধু মনে করে বলল,,,
- শালায় তো কাজের কাজটা করে ফেলেছে..
- কি করছে?
- ঘরে এতো সুন্দর একটা বউ নিয়ে এসেছে আর আমাদের কে জানানো মনে করে নাই।
এই কথা শুনে রাসেদ বসা থেকে দাঁড়িয়ে যায়। রাসেদ ভেবেছিলো হয়তো সৃজন অন্য কিছু বলবে কিন্তু সৃজন জানলো কি করে? সুহাদা রাসেদের দিক তাকিয়ে নাক ফুলিয়ে রাগী স্বরে,,,
- রাসেদ সৃজন যা বলছে তা কি সত্যি?
- আমার ইচ্ছায় হয় নাই বিয়ে টা কিছুদিন যাওয়ার পর ওরে Divorc দিয়ে দিবো। আমি ঠিক মতো ওর নাম যানি,,,,,,,(কথাটা শেষ করতে না করতে)
ঠাসসসসসসসসসসসসসস
পুরো রেস্টুরেন্ট সব মানুষগুলো তাকিয়ে আছে রাসেদের দিকে। রাসেদ বার বার সুহাদাকে বলল আমি ওরে divorce দিয়ে দিবো প্লিজ আমাকে ভুল ভেবো না বিশ্বাস কর। এইটা বলার পর আবার আর একটা দিলো গালে,,,
- তুই আর কখনো আমাকে কল দিবি না ।
- সুহাদা,,,,
সুহাদা রেস্টুরেন্ট থেকে সোজা বের হয়ে গেলো। সৃজন চুপ করে দাড়িয়ে বলল।
- বন্ধু আমি জানতাম না তোরা দু'জন সম্পর্কে আছিস।
- সমস্যা নাই, এইটা হওয়ার বাকি ছিল আজ না কাল সুহাদা জানতে পারতো।
চলবে.......
পুরো রেস্টুরেন্ট ভিতরে অনেকগুলো মানুষের সামনে সুহাদা রাসেদ কে থাপ্পড় দিলো। সুহাদা থাপ্পড় দিয়ে সাথে সাথে বের হয়ে গেলো। রাসেদ মাথা নিচু করে রেস্টুরেন্ট থেকে চলে আসলো। রাসেদ কে দেখে মনে হচ্ছিল সে খুব রেগে আছে হয়তো বাসায় গিয়ে কিছু একটা করবে। রাসেদ বাসার উদ্দেশ্য পা টা বাড়াবে ঠিক তখনই একটা গাড়ি সাথে ধাক্কা লেগে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। আশেপাশে অনেক মানুষ ভীড় জমিয়ে ফেলে। কয়েকজন মোবাইল হাতে নিয়ে সরাসরি ফেসবুকে চলে গেলো অথচ রাসেদকে কেউ বাঁচানোর চেষ্টাটুকু করলো না ঠিক তখনই একটা ছেলে ছুটে আসে রাসেদকে নিয়ে একটা CNG তে বসিয়ে হাসপাতালে চলল।
- ডাক্তার সাহেব ইমারজেন্সি।
- আপনি এখানে বসেন আমরা দেখছি।
- ওকে।
রাসেদের পকেট থেকে মোবাইলটা হাতে নিয়ে ছেলেটা কল দিলো সর্বশেষ যে নাম্বার টা কথা হয়েছে,,, যখনই রাসেদের মোবাইল থেকে কল আসে মায়ার কাছে তা দেখে মায়া কৃত্রিম একটা হাসি দিয়ে বলল,,
- কোথায় আপনি?
- উনি এখন হাসপাতালে আছে।
ছেলেটা হাসপাতালের নাম বলে কল টা কেটে দেয়। মায়া এইটা শুনে দৌড়ে মায়ের কাছে গেলো আর কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল,,
- মা উনার নাকি এক্সিডেন্ট হয়েছে।
- কি বলো।
মায়া আর রাসেদের মা রওনা দিবে ঠিক তখনই মায়ার বাবা বলল কি হয়েছে? মায়ার মা জবাবে বলল রাসেদের এক্সিডেন্ট হয়েছে।
তারা তিনজন হাসপাতালে চলে গেলো গিয়ে দেখে রাসেদকে ইমার্জেন্সি তে রাখা হয়েছে।
একটা ছেলের হাতে রাসেদের মোবাইল টা ঠিকমতো চেহারা দেখা যাচ্ছে না। ছেলেটা যখনই মাথা টা উচু করল ঠিক তখনই মায়া অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। মায়া যাকে দেখে স্তব্ধ হয়ে যায় সেই ছেলে আর কেউ না মায়ার এক্স। মায়া ধর্ষণের শিকার হয়েছে শুধু শিমুলের জন্য। মায়া শিমুল কে দেখে কিছুটা বিস্মিত হয় তার চেয়ে বেশী ঘৃণা হচ্ছে তার মুখটা দেখে। কারন সে ওইদিনের কথা কোনোদিন ভুলতে পারবে না। ডাক্তার সাহেব যখন বের হয় তখন দৌড়ে গিয়ে মায়া জিজ্ঞেস করে,,
- উনি এখন কেমন আছে?
- আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছে কিন্তু সে এখন ঘুমাচ্ছে উনাকে কেউ বিরক্ত করার চেষ্টা করবেন না।
- ধন্যবাদ ডাক্তার সাহেব।
- ধন্যবাদ টা আমাকে পরে দিলে হবে ওইখানে বসে থাকা লোকটার জন্য হয়তো আজ উনি বেঁচে আছে।
মায়া ডাক্তার মুখে যখন শুনতে পারে যে শিমুলের জন্য আজ মায়ার স্বামী বেঁচে আছে সে কাঁদো স্বরে শিমুলের কাছে যায়। শিমুল তা দেখে বসার থেকে উঠে দাঁড়ায়।
- ধন্যবাদ শিমুল তুমি যদি আজ না থাকতা তাহলে হয়তো!
- টেনশন করো না ইনশাল্লাহ সব ঠিক হয়ে যাবে।
ঠিক তখনই পিছন থেকে রাসেদের মা শুনে শিমুলের কাছে যায় আর বলল বাবা তোমাকে আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখুক। তোমার মতো ভালো মানুষ আদ্ব হয়তো পৃথিবীতে খুব কম আছে।
বাবা তোমরা কি একে অপরকে চিনো? এই প্রশ্ন শুনে দু'জনে বিচলিত হয়ে যায়। শিমুল মাথাটা নিচ করে নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।
মায়া বলে উঠলো,,,
- মা ওর নাম শিমুল। সে আমার কলেজের বন্ধু।
- ওহ তাই তাহলে তো ভালোই হলো বাবা একদিন সময় করে আমাদের বাসায় এসো।
- ঠিক আছে আন্টি।
মা চলে যাওয়ার পর মায়া এক নজর তাকিয়ে রইলো শিমুলের দিক। শিমুলের মুখে কোনো জবাব নাই চুপ করে আছে কারন শিমুল যানে মায়া তাঁকে কোনোদিন ক্ষমা করবে না। রাসেদ ঘুমাচ্ছে যে যার মতে বসে আছে। মায়া বসে আছে শিমুলের সাথে, দু'জনে শব্দবিহীন হাজারো কথা বলে যাচ্ছে। হয়তো কারো সাহস হচ্ছে না কিভাবে শুরু টা করবে,,মায়া সহ্য করতে না পেরে বলল,,
- তুমি যদি ওইদিন সময়মতো আসতে তাহলে হয়তো আমাকে আজ এতটা অবহেলা সহ্য করতে হতো না।
- মায়া সত্যি বলছি আমি ওইদিন এসেছিলাম কিন্তু তোমাকে দেখতে পাই নাই তাই বারবার কল দিলাম, ভাবলাম হয়তো দেরি করে আসার জন্য রাগ করে মোবাইল বন্ধ করে চলে গেছো।
- তুমি যদি একটু আগে আসতা তাহলে হয়তো ওই জানোয়ার গুলো থেকে আমি রেহাই পেতাম। সেদিন খুব একা মনে হয়েছিল যখন আমাকে গাড়িতে করে কোনো এক অপরিচিত একটা জায়গা নিয়ে যায় চিৎকার করাে সময়টুকু পায় নাই। খুব অসহায় মনে হচ্ছিল তখন তারা আমাকে নির্যাতন করে চলে যাবে ঠিক ওই সময় একজন বলে উঠলো ভাই মেয়েটা বেঁচে থাকলে হয়তে আমাদের জন্য খুব খারাপ এর চেয়ে ভালো মেরে ফেলি। এই কথাটা কান অব্দি যখন পৌঁছায় তখন বারবার প্রত্যেক কথা মনে পড়ছিল। তাদের পা ধরে আমার জীবন ভিক্ষা চেয়েছি তারপর তারা ওই জায়গা আমাকে রেখে চলে যায়। সবাই হয়তো ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর পর মরে যেতে ইচ্ছে করে কিন্তু আমি শুধু একবার বেঁচে থাকতে চেয়েছি শুনতে চেয়েছি সমাজের কটুক্তি কথা। কিন্তু দিন শেষে বুজতে পারলাম সমাজের কটুক্তি কথা শুনে ও বেঁচে থাকা যায় যদি বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা থাকে। আমি আমার জন্য বাঁচতে চেয়েছি সমাজের জন্য নয়। পৃথিবীটা অনেক বড় মানুষ চাইলে অনেক জায়গা অনেক ভাবে জীবনযাপন করতে পারে যদি তার ভিতরে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা থাকে। আজকে আমি স্বামীর কাছে অবহেলিত যেদিন আমি স্বামীর কাছে ভালোবাসা পাবো সেদিন সমাজের হাজারো মানুষের কথা কানে নেওয়ার সময়টুকু থাকবে না আমার। এই অবহেলিত শব্দ টা আমরা নিজেরাই গড়ায় চাইলে মুছে ফেলতে পারি শুধু তার জন্য মানুষের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করতে হবে।
- মায়া তুমি হয়তো আমাকে কোনোদিন ক্ষমা করতে পারবা না আমি সত্যি খুব লজ্জিত।
- শিমুল তোমার জন্য আমি সবসময় অপেক্ষা করতাম এইটা সত্য কিন্তু তুমি আমাকে উপেক্ষা করতা। কে বলেছে আমি তোমাকে ক্ষমা করব না। আমি মন থেকে তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। কারন তুমি আমার এই মনে ঘৃণাকারী একজন মানুষ ছিলা কিন্তু এখন এই মনে আমার স্বামী থাকে,, আজ তুমি তাঁকে বাঁচিয়ে আমার ভালোবাসা কে রক্ষা করলে। তোমাকে আমি ক্ষমা করে দিয়েছি।
- সত্যি বলতেছ?
- হুম।
শিমুল কৃত্রিম একটা হাসি দিয়ে মুখ সড়িয়ে নেয়। শিমুলের একটা জরুরি কাজ থাকাতে জলদি করে চলে গেলো যাওয়ার আগে বলে গেলো ইনশাআল্লাহ আবার দেখা হবে।
মায়া তার স্বামীর সাথে দেখা করতে চলে যায়। মায়া রাসেদের পাশে বসা যখন রাসেদের ঘুম থেকে জাগলো মায়া জলদি করে খাবার গুলো ঔষধ গুলো নিয়ে পাশে আসে। খাবার গুলো হাতে নিয়ে রাসেদকে খাওয়াতে যাবে,,,
- কি হচ্ছে এইটা?
- আপনি অসুস্থ ডাক্তার সাহেব বলছে সময়মতো করে ঔষধ গুলো খেতে হবে তার আগে হালকা কিছু খেয়ে নিতে।
- আপনি আমার সামনে থেকে যান আপনার জন্য আজ আমার এই অবস্থা।
মায়ার মুখের হাসিটা ক্ষণিকের মধ্যে লুকিয়ে গেলো অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো স্বামীর দিক। মায়া এতো ভালোবাসার চেষ্টা করছে অথচ রাসেদ এই অবস্থার জন্য দায়ী করছে মায়াকে। মায়া জবাবে বলল...
- আমি তো আপনাকে শুধু বলেছি বাড়িতে আসার জন্য।
- কিন্তু আপনি আমাদের বাড়িতে আসার পর থেকে আমি ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারছি না এক কথায় আপনাকে আমার সহ্য হয় না।
- আপনি যেইভাবে বলবেন আমি সেইভাবে চলবো এখন হালকা কিছু খেয়ে নেন প্লিজ।
- আপনি আমার চোখের সামনে থেকে চলে যান,,আর হে আপনাকে আমি লাস্ট বার বলে দিচ্ছি আমি সুহাদা কে ভালোবাসি সুহাদা কে বিয়ে করব।
মায়া মাথা নিচু করে চুপ করে রইলো মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না বাকশক্তি হয়তো হারিয়ে ফেলে স্তব্ধ থেকে অনেকক্ষণ পর জবাবে বলল,,,
- আপনি সুহাদাকে ভালোবাসেন সমস্যা নাই আমি না হয় বাড়ির থেকে চলে যাবো আপনি আগে সুস্থ হয়ে যান।
রাসেদ মায়ার মুখ থেকে যখন এই কথা শুনলো অবাক হয়ে মেয়েটার দিক তাকিয়ে রইলো। মেয়েটা এই কথা বলে চুপ করে রইলো। খাবার টা হাতে নিয়ে রাসেদ কে দিলো মায়া চলে আসলো। তার কিছুক্ষণ পরই সৃজন খবর পেয়ে রাসেদের সাথে দেখা করতে চলে আসে। সৃজন এসে যখন দেখে রাসেদ একটা হাত একটা পা পুঙ্গ হয়ে যায় সে আর সহ্য করতে না পেরে কেঁদে দিলো। সৃজন কে দেখে রাসেদ কৃত্রিম একটা হাসি দিয়ে বলল,,
- তুই এসেছিস ভালো হয়েছে। সুহাদার কি খবর? মেয়েটা হয়তো রাগ করে চলে গেছে আমাকে হয়তো অনেকবার কল দিয়েছে কিন্তু আমার মোবাইল তো আর আমার পাশে ছিলো না তাই কল টা উঠাতে পারি নাই।
- তুই এখনো সুহাদাকে নিয়ে পরে আছিস এতো সুন্দর একটা বউ থাকতে তুই বারবার সুহাদা সুহাদা করছিস তোর একটু খারাপ লাগে না।
- না লাগে না কারন আমি উনাকে ভালোবাসি না।
- ভালোবাসতে হয় না সেইটা ধীরে ধীরে হয়ে যায়। তুই চেষ্টা কর।
- কি আবল তাবোল বলছিস সুহাদাকে ছেড়ে আমি কাউকে ভালোবাসতে পারবো না।
- সুহাদা তো আর তোকে ভালোবাসে না।
- মেজাজ খারাপ করিস না অযথা কথা বলে।
- বিশ্বাস হচ্ছে না তাহলে আমার মোবাইল দিয়ে কল দে সুহাদা কে।
সৃজন থেকে মোবাইল টা নিয়ে সুহাদা কে কল দিতে সুহাদা,,,
- কি রে সৃজন তোরে কতবার বলছি ওই বেইমানের জন্য তুই আমাকে কল দিবি না। আর একবার কল দিলে খুব খারাপ হবে।
- আমি রাসেদ।
- তুমি আমাকে কল দিছো কেনো? ওই নাম্বার ব্লক করে দেওয়াতে সৃজন নাম্বার দিয়ে কল দিছো। Ok fine,,আমার সিম পরিবর্তন করে ফেলবো তখন কিভাবে কল দিবা দেখবো।
- একবার আমার কথা টা শুনো।
- তোমার অযথা কথা শুনার সময় আমার নাই।
- আমি মায়া কে divorce দিয়ে দিবো যদি তুমি রাজি থাকো।
- ওহ পরে আবার আমাকে Divorce দিয়ে অন্যকে বিয়ে করবি এই হচ্ছে তোদের ছেলেদের স্বভাব।
কল টা কেটে দেয় সাথে সাথে সৃজন নাম্বার ব্লকলিস্ট ফেলে দেয়। রাসেদ বারবার কল দেয় অথচ কল উঠানোর কোনো নাম নিচ্ছে না। অন্য দিক দিয়ে মায়া বাহির থেকে সব শুনতে পায় চোখ গুলো লাল হয়ে আছে পানিতে টলমল করছে। এতো ভালোবাসার পর যখন কারো কাছে এইভাবে অবহেলিত হতে হয়। সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কষ্ট টা হচ্ছে কাউকে ভালোবেসে তার প্রতিদান হিসেবে অবহেলিত হওয়া। মায়ার মোবাইল হঠাৎ একটা কল আসে তার বান্ধবীর,,
- তুই এইটা কি এস এম এস পাঠাইলি?
- যা লিখেছি তা সত্য।
চলবে...

Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label