Joy Bhaiya Youtube Channel

** গল্প ** ফুটন্ত ফুলের বাসর ** পর্ব ৮

How to Get 100+ Girls Phone Numbers For Free in 2020 - Girls 2020
** গল্প
** ফুটন্ত ফুলের বাসর
** পর্ব ৮
আমি নাআআআ বলে একটা চিৎকার দিয়ে ছুটে হৃদের কাছে এলাম।হৃদ নিজের গলাটা চেপে ধরে ওয়াক টানতে থাকলো।খালাম্মা এখনো থ হয়ে আছে।সে বুঝে উঠতে পারছে না কি করবে তাই ওখানেই দাড়িয়ে আছে।হৃদ ওয়াক টেনে বমি করতে থাকলো।আর আমি চিৎকার দিয়ে খালাম্মা, খালুকে ডেকে চলেছি।খালু নিজের রুম থেকে ছুটে আসে।
কি হলো? কি হলো ফুল? ওভাবে চিৎকার কেন করছিস?
আমি কান্না করতে করতে উত্তর দিলাম হৃদ বিষ খেয়ে নিয়েছে।আমার উপর রাগ করে বিষ খেয়েছে হৃদ।💔
খালু ছুটে হৃদকে এসে ধরে।ওর অবস্থা দেখে কেঁদে দেয়। আর কাঁদতে কাঁদতে বলে, এটা তুই কি করলি হৃদ?
খালাম্মা নিজেকে সামলে উঠে দাড়ায়। আর হৃদের কাছে এসে কেঁদে উঠে বলে, তোরা এখনো কেন বসে আছিস? ওকে হসপিটালে নিয়ে চল।আমার ছেলেটাকে বাঁচা।💘💘💘
খালু এ্যাম্বুলেন্সে ফোন দিতে যায় খালাম্মা দিতে দেয় না।খালাম্মা বলে, এখন যে অপক্ষা করার সময় নেই।যতো দ্রুত সম্ভব ওকে হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে।নইলে যদি আমার বোনটার মতো ছেলেটাও....তারপর কান্নায় ভেঙে পরে খালাম্মা।💓💓💓
আমি, খালু ধরে হৃদকে গাড়িতে নিয়ে বসায়।আর খালাম্মা কাঁদতে কাঁদতে আমাদের পেছনে পেছনে আসে।গাড়িতে উঠে হসপিটালে যাচ্ছি।সারাটা রাস্তা হৃদ বমি করেছে।এখন হৃদ ও.টি তে আছে।খুব টেনশন হচ্ছে আমাদের।আবার কান্নাও আসছে।কান্নার মাঝে মাঝে পেটে হাত রেখে ভাবছি, হৃদের কিছু হয়ে গেলে ওর সন্তানটার কি হবে? নাহ! শুধু ওর সন্তানের জন্য না আমারও যে ওকে খুব প্রয়োজন।আমি ওকে ভালোবেসে ফেলেছি।কিন্তু ভালোবাসার তো কথা ছিলো না।কেন হৃদ আমাকে এতোটা ভালোবাসলো? ও যদি আমায় ভালো না বাসতো। এতো পাগলামি না করতো তাহলে তো আজ আমিও ওকে ভালোবাসতাম না।💔💔💔💔
দু'ঘন্টা পর,,, ও.টি থেকে ডাক্তার বের হয়ে আসে।ডাক্তার বলে অপারেশন সাকসেসফুল বাট প্রেশেন্টের এখন একটু বিশ্রামের প্রয়োজন।কেবিনে শিফট করা হচ্ছে কেউ প্রেশেন্টের কাছে আপাতত জাবেন না।
হৃদকে কেবিনে শিফট করার পর একজন নার্স হৃদের কাছে সব সময় আছে।হৃদের সেবা করছে আর আমাদেরকে হৃদের থেকে দূরে রাখছে।

ডাক্তারের সাথে কথা বলেও কাজ হয় নি।ডাক্তার, নার্স কেউ আমাদেরকে ভেতরে যেতে দিচ্ছে না।আমরা অনেক চেস্টা করি কিন্তু হৃদ চাই না আমাদের সাথে দেখা করতে।💚💚💚
আজ তিনদিন হতে চললো হৃদের সাথে একটু দেখাও হলো না।ওর কেবিনের সামনে বসে তিনটা দিন শুধুই অপেক্ষা করেছি।💜
প্রতিবারের মতোন খালু এবারও খাবার কিনে এনেছে আমাদের জন্য।💔💔
না খালু আজ আমার গলা থেকে খাবার নামবে না।হৃদকে না দেখলে।
পাগলামি করিস না মা বাচ্চাটার জন্য তোকে খেতে হবে।💛💛
আমি ভেবে দেখি, এটা যে হৃদের সন্তান।এর অযত্ন করা চলবে না।তাই না চাইতেও আমাকে খেতে হলো।
খাওয়ার শেষে চোখ তুলে দেখি সামনে হৃদ দাড়ানো।আমি খুব অপলক দৃষ্টিতে হৃদকে দেখে যায়।তারপর এক দু'পা করে ওর কাছে আগায়। ওর সামনে গিয়ে দাড়ানোর পর আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই আমার পাশ কেটে হৃদ চলে যেতে লাগে।আমি হৃদের পেছনে পেছনে যায় আর হৃদকে ডাকি।হৃদ ঘুরে তাকায় তারপর আমি ওকে কিছু বলতে যাবো তার আগেই ও আমার গালে ঠাসসসস! করে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দেয়।💛💛💛
সঙ্গে সঙ্গে আমি হৃদের পা জড়িয়ে ধরি আর ওর কাছে ক্ষমা চায়। ওকে বলি, আমি ভুল করেছি প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও।হৃদ আমার কোনো কথার গুরুত্ব দেয় না।আমার থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে পাশ কাটিয়ে হসপিটাল থেকে বেড়িয়ে যায়।💜💜💜
খালাম্মা এতোক্ষণ ঘুম ছিলো।হৃদের কেবিনের সামনের বেঞ্চটাতে ঘুমিয়ে ছিলো।ঘুম ভাঙতে খালাম্মা আমাকে নিচে বসে কাঁদতে দেখে ছুটে আসে।আর বলে, কি হয়েছে ফুল এরকম করছিস কেন?💓💓
চলে গেছে হৃদ।ও হয়তো আমাকে কখনো ক্ষমা করবে না।আমার সাথে কথাও বলবে না।
কথাটা শুনে খালাম্মাও ভেঙে পরে।অনেকক্ষণ আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে। তারপর খালু এসে আমাদের উঠিয়ে বুঝিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে।💓💓
বাড়ি ফিরে এসে দেখি দরজাটা খোলা।ভেতরে গিয়েই আমরা সবাই অবাক হই।
হৃদ সোফায় বসে চিপস খেতে খেতে টিভি দেখছে।ওকে বাড়িতে দেখে আমরা খুশি হই।খালাম্মা এগিয়ে গিয়ে হৃদকে জড়িয়ে ধরে বলে, তুই এসেছিস বাবা? জানতাম আমাদের উপরে রাগ করে থাকতে পারবি না।💜💜💜
হৃদ খালাম্মাকে আচমকা ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দেয় আর বলে, তোমাদেরকে আমি কখনো ক্ষমা করবো না।যতোটা কস্ট আমাকে দিয়েছো তার কোনো ক্ষমা নেয়।আর আজ যদি আমি মরে যেতাম তাহলে তো তোমরা খুব খুশি হতে তাই না?💚💚
খালাম্মা এগিয়ে হৃদের মুখটা ধরে বলে, কিসব বলছিস তুই হৃদ?
চুপ করো।তোমার মুখে আর আমার নাম নিও না।ভেবেছিলাম আর এবাড়িতে, তোমাদের কাছে আসবো না।কিন্তু না আসতে হলো।যদিও তোমরা আমার পর হয়ে গেছো কিন্তু আমার সন্তানটাতো আছে।ওর তো কোনো দোষ না।তাই ওর জন্যই চলে এলাম।কথাটা বলে হুর মুর করে হৃদ আমার হাতটা ধরে টানতে টানতে রুমে নিয়ে আসে।💙💙
রুমের দরজাটা ভেতর থেকে লাগিয়ে দিয়ে আমার সামনে দাড়িয়ে কিছু একটা ভাবতে থাকে।
কি ভাবছো?💓💓
কিছু না।ওওও হ্যাঁ মনে পরেছে।তুই আমাকে তুমি করে বলার সাহশ কোথায় পেলি? তোকে সেই অধিকার কে দিয়েছে?
এটা কেমন কথা? ছোটবেলায় তোমাকে তো আমি তুমি করেই বলতাম।💜💜💜
আবার তুমি বলছিস? তুই কি বুঝিস না? ছোটবেলা আর এখনের মধ্যে কতো পরিবর্তন হয়েছে? যাই হোক বার বছর আগের মতোই তুই বলদা বয়ে গেছিস।
বলদা মানে? যান ভুল হয়েছে আমার।আমি আর কখনো আপনাকে তুমি বলবো না।
আবার? যা মন চাই তাই বলে ডাকবি? কেন? নিজেকে কি মনে করিস? আমার অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন মনে করিস না?💓💓
আমি চুপ করে আছি।আমার উত্তর না পেয়ে হৃদ ঘুরে গিয়ে টেবিলের উপর থেকে জগটা উঠিয়ে জোড়ে ফ্লোরে ছুরে মারে আর ভেঙে গুরোগুরো হয়ে নিচে কাচের টুকরোগুলো ছড়িয়ে থাকে। হৃদ আমাকে এসে বলে, এগুলো পরিষ্কার কর।
আমি হৃদের মুখের দিকে হা হয়ে তাকিয়ে থাকি।হৃদ এমন কেন করছে?
শুনতে পাস নি আমি কি বলেছি? কাচের টুকরোগুলো হাত দিয়ে উঠিয়ে পরিষ্কার কর। কথাটা হৃদ চিৎকার দিয়ে বলে।হৃদের চিৎকারে আমি কেঁপে উঠি আর ভয়ে ভয়ে নিচে পরিষ্কার করি।তারপর হৃদের সামনে এসে দাড়িয়ে বলি, হয়ে গেছে।💚💚💚
( যারা কোনো পর্ব নাও পেয়েছো ইনবোক্স নিও)

Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label