Joy Bhaiya Youtube Channel

বস্তির ছেলের ভালোবাসা পার্ট 4 নাম্বার লেখক মোহাম্মদ

Indian Girl Images - My Images
বস্তির ছেলের ভালোবাসা
পার্ট 4 নাম্বার
লেখক মোহাম্মদ
এদিকে ক্লাসের সবাই বলাবলি করতেছে যে প্রিন্সিপালের রুমে একজন যে ছাত্র কিংবা ছাত্রী যায় তাকে নাকি কলেজ থেকে পরিষ্কার করে দেওয়া হয় আমারতো টেনসনে মাথা পুরা হট হয়ে আছে সবাইকে অবাক করে দিয়ে তানভীর ক্লাস এ আসলো সবাই ভাবতেছে হয়তো তাড়িয়ে দিল
তানভীর আমার কাছে এসে আমার পাশে বসল বসে হাসতে শুরু করলো
তখন আমি বললাম প্রিন্সিপাল স্যার তোকে কি বললো
তানভীর
সব পরে বলছি আগে ক্লাসটা শেষ করে নেই
ওকে
ক্লাস টা শেষ করে আমি আর তানভীর বাহিরে গেলাম তখন আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম
এবার তো বল কি হয়েছে
তানভীর
শোন তাহলে
( তানভীর আমার কাছে সবকিছু খুলে বলল আমি তখন তার দিকে তাকিয়ে খুশি মনে বললাম)
ভাইরে তোর সাহস কে আমি স্যালুট জানাই..
তানভীর
হয়েছে হয়েছে তুই এখন বাড়িতে যা
আমি
কেন কেন ক্লাস গুলা করবি না
তানভীর
না দোস্ত আজকে ভালো লাগতেছে না
আমি
আচ্ছা দোস্ত আমার ক্লাস গুলা করার দরকার আছে তুই যা
( তানভীর কে বিদায় জানিয়ে আমি ক্লাসে চলে আসলাম এসে দেখি মারিয়া তার বান্ধবীদের সাথে হাসি-ঠাট্টা করতেছে ঐদিকে আর মন দিলাম না আমি কি আমার সিটে বসলাম তখন মারিয়া ঠিক আগের মত আমাকে নিয়ে বাজে কমেন্ট করা শুরু করল)
( আমি কোন কথা না বলে চুপচাপ ক্লাস গুলা করলাম ক্লাস করা শেষে বস্তির দিকে রওনা দিলাম আমি ক্যাম্পাস থেকে বাইর হওয়ার সময় তাকিয়ে দেখলাম মারিয়া আমার দিকে আসতেছে আমি দেখেও না দেখার ভান করে চলে যাচ্ছিলাম
হঠাৎ সে নিজের ইচ্ছে করে আমার গায়ের সাথে ধাক্কা খায় ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যায় মাটি থেকে উঠে)
মারিয়া
তোর সাহস কিভাবে হলো তুই আমাকে ধাক্কা দিলি আবার (এই কথা বলে আমাকে দুইটা থাপ্পড় দিল)
আমি
আমি তো ইচ্ছে করে ধাক্কা দেই নাই আপনি তো দেখলাম ইচ্ছে করে ধাক্কা দিয়ে পড়ে গেলে এখানে আমার দোষ কি বলেন
মারিয়া
তোর এত বড় সাহস তুই আমার মুখে মুখে তর্ক করস ছোটলোক( এই কথা বলে আমাকে আরো দুইটা থাপ্পড় দিল)
( থাপ্পড় খেয়ে মনে হলো আমার ঠোঁট ফেটে গেছে কারণ অনেক জ্বলছে তারপরও আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম কিছু বললাম না)
মারিয়া
একদিন তোকে শিক্ষা দিয়েছিলাম তোর মনে নাই
( এমন সময় মারিয়ার বান্ধবীরা ওর কাছে আসলো এসে মারিয়া কে নিয়ে চলে গেল তারপর আমি রওনা হলাম বস্তির দিকে বস্তিতে ঢোকার সময় রহমত চাচার সাথে দেখা হল)
রহমত চাচা
কিরে তোর এই অবস্থা কেন..?
কি হয়েছে আমার..?
রহমত চাচা
তোর মুখে রক্ত কিসের..?
ও ও রক্ত ইয়ে মানে...
রহমত চাচা
বল কি হয়েছে ( রেগে গিয়ে)
একটা গাড়ির সাথে ধাক্কা খেয়েছিলাম তো তাই এমন হয়েছে( মিথ্যে বললাম)
রহমত চাচা
দেখেশুনে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করতে পারোস না অনেকখানি কেটে গেছে তো
ওকে আমি ঠিক আছি তুমি এখন কই যাচ্ছ..?
রহমত চাচা
আর কই যাব রিক্সা নিয়ে বের হবো
ওকে তুমি যাও
( আমি ঘরে গিয়ে শেষ হয় খাবার খাওয়ার চেষ্টা করলাম কিন্তু যেতে পারলাম না কাটা জায়গায় জ্বলছে তাই না খেয়ে শুয়ে রইলাম আর তানভীরের দেওয়া মোবাইলটা একটু টিপতে শুরু করলাম হঠাৎ করে তানভীর কল দিল)
হ্যালো কে বলছেন..?
তানভীর
এই আমি বলছি রে তানভীর..
কিরে তুই কি মোবাইল এর ভিতরে সিম কার্ড দিলি নাকি
তানভীর
হ্যাঁ দিয়েছিলাম তো কেন দেখস নাই..?
এইমাত্র মোবাইলটা ধরলাম আর এই মাত্র জানতে পারলাম এর ভিতরে সিম কার্ড আছে
তানভীর
ও আচ্ছা তো কি করস এখন..?
শুয়ে আছি কি আর করব
তানভীর
খাবার খেয়েছিস
হ্যাঁ এইমাত্র খেলাম তুই খাবার খাইলি তো
( আমি খাবার না খেয়ে মিথ্যা কথা বললাম)
তানভীর
খাইছি দোস্ত
হ্যাঁ গুড
তানভীর
ওকে বাই পরে কথা হবে
মাত্র কল দিলি এখনই কেটে দিবি..?
তানভীর
না তোর খোঁজ খবর নেওয়ার প্রয়োজন ছিল তাই কল দিলাম কেন তুই কি কিছু বলবি..?
না কি করব ওকে বাই
তানভীর
Bye
( ফোনটা কেটে দিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু ঘুম পাচ্ছে না পেটের খুদায় তাই ব্যথাকে উপেক্ষা করে কিছু খাবার খেয়ে নিলাম তারপর একটা ঘুম দিলাম ঘুম থেকে উঠে মায়ের কবরের কাছে গেলাম অজু করে মায়ের কবরটা জিয়ারত করা শুরু করলাম তখন পেছন থেকে রহমত চাচা বলে উঠল হঠাৎ করে)
রহমত চাচা
কিরে কবর জিয়ারত করস বুঝি..?
জি চাচা
রহমত চাচা
তোর মা বাবার দোয়া এবং আমাদের ভালোবাসা তোর সাথে আছে আগেও ছিল এবং থাকবে ইনশাআল্লাহ
জি চাচা জানি আমি কিন্তু তুমি আজকে রিক্সা নিয়ে বের হও নাই
রহমত চাচা
গিয়েছিলাম হঠাৎ করে শরীরটা খারাপ লাগতেছে তাই আজকে আর রিকশা চালাবো না
কেন কি হয়েছে তোমার..?
রহমত চাচা
হঠাৎ করে মাথাটা ঘুরাচ্ছে
এখন ঠিক আছো তো..?
রহমত চাচা
হ্যাঁ এখন আগের থেকেও একটু বেটার আছি
বেশি খারাপ লাগলে রিক্সা চালানোর দরকার নাই
রহমত চাচা
সন্ধ্যা হয়ে এসেছে একটু পর রাত হয়ে যাবে তুই এখন ঘরে গিয়ে পড়তে বস যা
আচ্ছা ঠিক আছে চাচা
( আমি ঘরে গিয়ে পড়তে বসলাম পড়ার সময় একজন আমাকে ডাক দিয়ে বলল একজন লোক নাকি বাসা পাল্টাচ্ছে ওইখানে লেবার লাগবে পড়া বাদ দিয়ে ওইখানে চলে গেলাম গিয়ে কাজ শুরু করলাম কাজ করতে করতে অনেক রাত হয়ে গেছে তাই তারা আমাদেরকে খাবার দিয়েছিল ওইখান থেকে কাজ শেষ করে আসার সময় তারা আমাদেরকে কিছু পারিশ্রমিক দিয়েছিল ঘরে এসে ফ্রেশ হয়ে আবারো পড়তে বসলাম পড়তে পড়তে গভীর রাত হয়ে গেছে তাই আর দেরি না করে ঘুমিয়ে গেলাম
সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে হালকা কিছু নাস্তা খেয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম কলেজে গিয়ে তানভীর সাথে দেখা হলো তানভীর আর আমি কলেজের ক্যাম্পাসে হাটতেছি তখন মারিয়া আর তার বান্ধবীরা আমাকে ডাক দিল তখন তানভীর বলে উঠলো আমাকে)
দেখেছিস কতটা বিয়াদব বেহায়া হলে এই কাজ করতে পারেন তোকে আবার কোন মুখে ডাক দিল
তুই চুপ থাক একবার আমাকে বাঁচাতে গিয়ে অনেক অপমানিত হয়েছি আমি চাই আমার এই বিষয়ে তুই নিজেকে আড়াল করে থাকবি
তানভীর
দোস্ত আমি এগুলা তোকে অপমান করবে আর আমি নিচে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখব..?
এটা আমার ব্যাপার তুই এখন ক্লাসে যান আমি দেখি তারা কি বলে
তানভীর
না আমি যাব না
তুই এখন ক্লাসে না গেলে তোর মোবাইল আর তোর সাথে ফ্রেন্ডশিপ এখানেই শেষ
তানভীর
দোস্ত তুই আমাকে এই কথা বলতে পারলি..?
প্লিজ দোস্ত ক্লাসে যা না
( তানভীর আর কিছু না বলে সোজা বাসায় চলে গেল তারপর আমি মারিয়া এবং তার বান্ধবীদের কাছে গেলাম)
আমি
জি কেন ডাক দিলেন বলুন
মারিয়া
তোকে তানভীর কি বলেছিল..?
সেটা আপনার না জানলেও চলবে..
( মারিয়ার পাশে দাঁড়ানো তার বান্ধবী হঠাৎ করে বলে উঠলো দেখেছিস ছোটলোকের কি তেজ কথার)
মারিয়া
হ্যাঁ তা তো দেখতেই পারছি তো আমাকে দেবে কালকে ধাক্কা দিছিলি ওইটার কি হবে..?
আমাকে তো কালকে মেরেছেন অপমান করছেন আর কি লাগবে আপনাদের..?
মারিয়া
আচ্ছা তোকে আমরা মারি অপমান করি কত কথা বলি তবু কেন পড়ে আছিস এখানে..?
( তখন মারিয়ার বান্ধবি বলে উঠলো আরে তুই জানিস না একবার বলেছিল ছোটলোকের মায়ের নাকি শখ ছিল এই কলেজে পড়ার)
মারিয়া
দেখেছিস ও শরীর থেকে কত গন্ধ বেরোচ্ছে আমার তো বমি আসতেছে...
তুই ঠিকই বলেছিস দেখছিস না একটা শার্ট পড়ে বারবার কলেজে আসে
( মারিয়ার বান্ধবী কথাগুলো বলল)
মারিয়া
হ্যাঁ সেটাই ওকে দেখলে আমার শরীরটা ঘিনঘিন করে
যা তোকে আজকে কিছু করলাম না তুই ক্লাসে যা
( মারিয়ার বান্ধবী)
( আমি নিচের দিকে তাকিয়ে ওদের কাছ থেকে চলে আসলাম আর ভাবতেছি পৃথিবীতে যদি টাকা টাকা নেই তার কিছু নেই আজ আমি অনেক অসহায় এতিম বলে আমাকে সবাই নানা ভাবে অপমান বাজে কমেন্ট করে আর যদি আমার মা-বাবা বেঁচে থাকত আমাকে কেউ এতিম বলে কমেন্ট করতে পারত না মা বাবার কথা মনে পড়তেই চোখের কোনে পানি চলে আসলো চোখের পানি নিয়ে ক্লাসে ঢুকলাম)
তখন তানভীর বলে উঠলো
কিরে কাঁদছিস কেন..?
না তা নয়
তানভীর
দোষ তোর ছিল তুই গেলি কেন ওদের কাছে..?
না গেলে যে তারা আমাকে প্রতিনিয়ত অপমান করে যেত
তানভীর
যাওয়ার পর তারা কি তোকে অপমান করে নাকি আদর করে.
আচ্ছা বাদ দে তারপর আর তানভীর কিছু বলল না আমি আর তানভীর চুপচাপ বসে রইলাম হঠাৎ করে মারিয়া মারিয়া আর বান্ধবীর আসলো এসে আমাকে নিয়ে নানা ধরনের বাজে মন্তব্য করা শুরু করল
তানভীর হঠাৎ করে আমাকে বলে উঠল
চল বাহির থেকে ঘুরে আসি এখানে ভালো লাগতেছে না
আমি আর তানভীর বাইরে চলে গেলাম দুই মিনিট বাইরে থাকার পর স্যার ক্লাসে আসার কয়েক সেকেন্ড আগে ক্লাসে ঢুকলাম তারপর ক্লাস শুরু করলাম হঠাৎ করে মারিয়া দাঁড়িয়ে বলতে শুরু করল
মারিয়া
স্যার আমার একটা কথা বলার ছিল
স্যার
হ্যাঁ বল তাড়াতাড়ি
মারিয়া
স্যার আমার ব্যাগে টাকা ছিল এখন তা ভাবছি না
( সবাইতো মারিয়ার এই কথা শুনে অবাক সবাই ক্লাসের মধ্যে বলাবলি শুরু করল যে ক্লাসের মধ্যে টাকা চুরি করবে কে আমি আর তানভীর শুনেও না শোনার ভান করে বসে রইলাম)
____________চলবে_______
গল্পের পরের পার্ট খুব তারাতাড়ি আসবে সবাই গ্রুপের সাথেই থাকুন ততক্ষণ ভালো থাকুন এই দোয়া করি

Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label