অবহেলা অতঃপর ভালোবাসা😭😭😭
.
(2nd part or end)
.
লেখকঃতারেক মাসুদ
.
.
কিছুক্ষনপর নিলয়ের অনুষ্টান শুরু হলো..অধরাও শুনতে লাগলো।
..
.
=>Hi frnds আমি নিলয় প্রতিদিনের মতো আজো এসে গেছি তোমাদের মাঝে নতুন এক ভালোবাসার গল্প নিয়ে..কিন্তু আজকের গল্পটা কোনো মিথ্যা নয় কারো লাইফে ঘটে যাওয়া সত্যিকার একটা গল্প..
.
=>বলা শুরু করার আগে বলে নেই..অবশ্যই আপনারা জানাতে ভুলবেন না যে গল্পটা কেমন হয়েছে।(নিলয়)
.
.
(আমার আগের পার্ট টাই ঐ গল্পটা)
ছেলেটা মেয়েটাকে অনেক ভালোবাসতো কিন্তু ছেলেটার দোষ ছিলো ছেলেটা গাইয়া আনস্মার্ট..তবে কি জানেন ছেলেটা মেয়েটাকে ভালোবাসে বড্ড বেশিই ভালোবাসে…তাই সে কারো জীবনে অবহেলার পাত্র হয়ে থাকতে চায়নি…
.
নিলয়ের চোখের কোনে পানি চলে এসেছে..এমনকি যতোগুলো শ্রোতা ছিলো তাদের চোখও ভীজে উঠেছে আর অধরা সে তো ফুফিঁয়ে ফুফিঁয়ে কাদঁছে..😭😭😭
.
নিলয়ের গলার স্বর ভারী হয়ে আসছে..একটু থেমে আবার বলতে শুরু করলো।।।
..
.
হ্যাঁ ছেলেটা চলে যাচ্ছে অনেক দূরে মেয়েটাকে ছেড়ে কারন মেয়েটা যে সেটাই চেয়েছিলো…ভালো থাকুক ভালোবাসা।
.
.
কান্না জড়িত কন্ঠে নিলয় বলছে..ছেলেটা সত্যিই বড্ড ভালোবাসতো মেয়েটাকে।
.😭😭😭
.
.
নিলয় কমেন্ট বক্সের দিকে তাকিয়ে আছে…আর পড়ছে..
.
নীলাবতীর চুপকথা লিখেছেন ভাইয়া ছেলেটা কি সত্যিই চলে যাবে।
.
নিয়মের অন্তহীনা লিখেছেন ভাইয়া ছেলেটা কি আর মেয়েটার কাছে আসবেনা।
.
নীল আহসান লিখেছেন ছেলেরা এমনি হাজারো কষ্ট সজ্জ কষ্ট করে হলেও তার ভালোবাসার মানুষটা কে সুখে রাখতে চায়।
.
মোনালিসা মুন লিখেছেন ভাইয়া ছেলেটা কে?
.
.
এমন আরো অনেক কমেন্ট আছে..সবগুলা নিলয় পড়ে নি কারন সে তো অধরার কমেন্ট টার জন্য অপেক্ষা করছিলো…😭😭😭
.
.
অধরাও কমেন্ট করেছিলো কিন্তু ততক্ষনে অনেক দেড়িঁ হয়ে গেছিলো..কারন নিলয় তখন ফ্লাইট এর জন্য দাড়িঁয়ে আছে বিমান বন্দরে…
.
.
পরের আরজে এসে বলতে লাগলো…
.
আপনারা শুনতে চান তো যে ছেলেটা কে ছিলো…
.
একটা কল আসলো।।
=>আমি রাকিব বলছি..বলুন..কী বলবেন?
.
=>ভাইয়া নিলয় ভাইয়া কোথায় এখনো তো ওর শো শেষ হয়নি..😡😡😡😡😡
.
একের পর এক কল আসতে লাগলো..রাকিব কি বলবে বুজতে পারলো না..তাই সে বলতে লাগলো।।
.
প্লিজ ভাইয়া এবং আপুরা কেউ কল দিবেন না আমি সবকিছুই আপনাদের বলতেছি.,
.
.
.
ভাইয়া এবং আপুরা ছেলেটা আর কেউ নাহ..আপনাদের আমাদের সবার প্রিয় নিলয়..
.
তবে সে আর এখন নেই সে চলে গেছে অনেক দূরে…আমাদের সবাইকে ছেড়ে বহু দূরে…😭😭😭
.
সে শেষ কথাটি কি বলেছিলো জানেন.??
সে অধরাকে ভালোবাসে আর ভালোবেসে যাবে..😘😘
.
সে কোনো ছোট ঘরের সন্তান না..সে বিশাল সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান…সে শুধু ঘৃনা করতো বড়লোকীপনা টাকে..তাই সে সবসময় সাধারন ভাবে থাকতেই পছন্দ করতো…😍😍
.
.
এরি মাঝে একটা কল আসলো..রাকিব সেটা ধরে বললো।.
=>Hlw আমি রাকিব বলছি।।।
.
কল এর অপর পাশে একটা মেয়ে কাদঁছে…পাঠক রা হয়তো বুঝে গেছেন মেয়েটা কে..হ্যাঁ ঐটাই অধরা।😭😭😭
.
=>আরে আপু আপনি কাদঁছেন কেন?আপনি আপনার নামটা বলে কি জানতে চান বলুন?(রাকিব)
.
=>আমার নাম অধরা।😭😭😭😭
.
নামটা শুনে শুধু রাকিব নাহ..সারা রেডিও স্টেশন এ পিন পিন নিরবতা বিরাজ করছে..এমনকি যারা শুনছিলো তাদেরও বুক ধরফরানি শুরু হয়ে গেছে..
.
=>সত্যি বলছেন তো?(রাকিব)
.
=>জ্বী ভাইয়া আমিই সেই অধরা..(কাদঁতে কাদঁতে বললো)
.
=>তাহলে কাদঁছেন কেন ও চলে যাওয়াতে তো আপনার খুশি হওয়ার কথা।(রাকিব)😡😡😡
.
.
=>না ভাইয়া এমন করে বলবেন না..ওকেও যে আমি ভালোবাসি অনেক বেশি ভালোবাসি।।(অধরা)❤❤❤
.
=>তাহলে এভাবে ওকে কষ্ট দিলেন কেন?(রাকিব)
.
=>ও যে আমার কাছে ছিলো তখন তাই বুজতে পারিনি যে ও আমার কী ছিলো..কিন্তু আজ ও চলে যাওয়ার পর থেকে আমার পৃথীবিটা অন্ধকার হয়ে গেছে..ওকে ভালোবেসে ফেলছি অনেক বেশি ভালোবেসে ফেলছি..জানেন ভাইয়া ওর প্রতিটা কথা প্রতিটা পাগলামি সবকিছুই আমায় ভীষন ভাবে ভাবায়..ওর প্রতিটা কথা আজ আমার বুকে বিধেঁ আছে..সত্যি বলছি ভাইয়া ওর ভালোবাসাটা আমি তখন বুজতে পারিনি তবে আজ বুজতে পারছি অনেক বেশি ভাবে বুজতে পারছি..(সবগুলা কথাই অধরা কাদঁতে কাদঁতে বললো)
.
হঠাৎ অধরা ঢুকরে ঢুকরে কেদেঁ উঠলো।।।😭😭😭
.
এবার সারা রেডিও স্টেশন কেদেঁ দিলো..প্রতিটা শ্রোতার চোখ বেয়ে অশ্রু পরতে লাগলো।।
নিলয় এয়ারপোর্টে বসে বসে অধরার কথা ভাবছে..আর তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পরছে…😭😭😭
.
অধরা দৌড়ে ঐ রেডিও স্টেশনে গেলো কিন্তু ঐখানে গিয়ে সে নিলয়কে কে পেলোনা…তাই সে আবার তরিঘড়ি করে এয়ারপোর্টের দিকে গেলো…
.
.
না এটা অন্যগল্পের মতো নাহ…সমাপ্তি টা যে এখানেই হতে পারেনা।
.😞😞
.
না সে নিলয়কে পেলোনা নিলয় চলেগেলো দেশ ছেড়ে আর অধরা চিৎকার করে কাদঁছে..হয়তো এই কান্না আজ আর নিলয়ের পর্যন্ত পৌছাবে নাহ…আটাকাতে পারবেনা আর নিলয়কে..😭😭😭
.
.
আর এদিকে নিলয় মনে মনে ভাবছে..অধরা হয়তো খুশিই হয়েছে তার চলে যাওয়াতে।
.
অধরা এখন একদম একা..সে কারো সাথে কথা বলেনা..খায়না ঠিকমতো..ঘর থেকে সে বের ও হয়না…
.
অধরার চোখ মুখটা অনেক শুকিয়ে গেছে..
.
একদিন তার এক কাজিন তাকে জোড় করে বাহিরে ঘুরতে নিয়ে যায়…সেদিন রাকিব তাকে পায়..
=>আরে অধরা আপু যে..কেমন আছেন..শরীরের এই অবস্থা কেন?(রাকিব)
.
=>ভাইয়া নিলয় কোথায়?(অধরা এটুকু বলে অসহায়ের মতো রাকিব এর দিকে তাকিয়ে আছে)
.
.
রাকিব যেন অবাক..এ কোন অধরাকে দেখছে সে?😞😞😞
.
অধরার কাজিন বিষয়টা বুজতে পেরে রাকিব কে নিয়ে একটা কফিশপ এ ঢুকে আর অধরাকে কে বাসায় পাঠিয়ে দেয়…
.
=>ভাইয়া প্লিজ যদি নিলয় ভাইয়া এর নাম্বারটা আর তার বাসার এড্রেসটা দেন তাহলে খুব ভালো হতো।(তিথি অধরার কাজিন)
.
=>আপু ওর এড্রেস দিয়ে কী করবেন?(রাকিব)
.
=>ভাইয়া আপনি তো জানেন না যেদিন নিলয় ভাইয়া চলে যায়..সেদিনের পর থেকে আমি অধরার মুখে হাসি দেখি নাই..দেখলেনই তো ওর অবস্থা(তিথি)
.
=>হুম(রাকিব)
.
=>মেয়েটার ঘরে শুধু নিলয় এরই ছবি..সারাদিন কিছু খায়না শুধু এই ছবি গুলোর সাথে কথা বলে…অনেক কষ্ট লাগে ওরে দেখলে..প্লিজ ভাইয়া নিলয় ভাইয়ার নাম্বারটা দিন।(তিথি)
.
=>আচ্ছা আপু..আমি দিতেছি..আমি জানতাম না যে অধরা নিলয়কে কখনো এতোটাও ভালোবাসতে পারবে?(রাকিব)
.
অবশেষে নিলয় এর নাম্বারটা দিলো..কিন্তু অধরাকে দিতে না করলো।
.
=>এই নাম্বার অধরাকে দিও না(রাকিব)
.
=>কেন?(তিথি)
.
=>তুমি অধরাকে নিয়ে কাল বিকেলে নিলয়দের বাড়ীতে আসবা বুজলা..পরেরটা আসলেই বুজতে পারবা..(রাকিব)
.
=>ওকে(তিথি)
.
.
.
রাকিব গিয়ে নিলয় এর বাবা মা কে কথা গুলো বলার পর তারাও অবাক..তবে খুশি ছিলো এটা ভেবে যে ছেলেটা তার ভালোবাসার মানুষটাকে পাবে..
.
পরের দিন অধরা আসলে…
=>কী গো আমার ছেলেটার পছন্দ আছে বলতে হবে?(মা)
.
=>বলতে হবেনা কার ছেলে?(বাবা)
.
এসব কথা শুনে অধরা বলে উঠলো..
=>কী বলছেন এসব কে আপনাদের ছেলে?(অধরা)
.
=>নিলয়(মা)
.
নামটা শুনেই অধরার চোখ জুড়ে পানির বন্যা শুরু হলো।
.
=>এমা পাগলি মেয়ে কাদঁছো কেন?(মা)
.
অধরা মা কে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো..
.
=>আন্টি সরি আমাকে মাফ করে দেন আমি নিলয়কে অনেক কষ্ট দিছি..আমি ওকে ছাড়া থাকতে পারবোনা।(অধরা)
.
=>এমা আমার ছেলে তো তোমারই..আর মা কে আন্টি ডাকো কেন?মা বলে ডাকবা এখন থেকে?(মা)
.
কথাটা শুনে যেন অধরার দেহে প্রান ফিরে এলো..আবার লজ্জাও পেল
.
=>আর আমাকেও বাবা বলে ডাকবা..(বাবা)
.
এখন তো অধরা অসম্ভব লজ্জা পেলো..
.
=>ওগো দেখছো আমাদের বৌমা লজ্জায় লাল হয়ে গেছে..(মা)
.
=>তাই তো দেখছি।।(বাবা)
.
=>মা নিলয় কোথায়..?(অধরা)
.
=>পাগলটা কাল সকালে বাংলাদেশে আসবে..(মা)
.
কথাটা শুনে অধরা খুশি আটকায় কে…দৌড়ে গিয়ে জাপটে ধরলো মাকে..
.
=>মা thank u thank u &thank u so so much(অধরা).
. 😘😘
.
.
=>এবার থাম চেহারার কী অবস্থা করছিস যা ফ্রেস হয়ে আয়(মা)
.
=>কিন্তু এখানে তো আমার কোনো ড্রেস নাই..(অধরা)
.
=>নিলয়ের রুম এ গিয়ে ওর আলমারিটা খুলে দেখ তো তোর ড্রেস এর প্রবলেম হবে কিনা?(মা)
.
অধরা গিয়ে আলমারিটা খুলে দেখে ওর মাপের অনেক জামা কাপর..এবার আরো ভালো করে নিলয়ের ঘরটা দেখে বুজতে পারলো যে নিলয় তাকে কতো ভালোবাসতো..
.
অধরা এখানে বসেই কেদেঁ দিলো..
.😭😭😭
.
সকালে নিলয় বাংলাদেশে পৌছেই অধরার কথা মনে করে কাদঁতে লাগলো..তবে বাবা মা এর সামনে কান্নাটা লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করলো..
.
.
বাসায় চলে আসলো..ফ্রেশ হয়ে ছাদে গেলো নিলয়..ছাদে উঠে সে দেখতে পেলো ছাদের উপরে এক কোনে একটা মেয়ে নীল একটা শাড়ী পরে দাড়িয়ে আছে..নিলয় শুধু পেছনেরটা দেখতে পেলো…*
.
.
নিলয় ভাবছে…মেয়েটা কে…??
.
হঠাৎ মেয়েটা তার দিকে ফিরতেই..নিলয় শকড্ কারন এ যে তার স্বপ্নের রাজকন্যা অধরা..
.
নিলয় হাত দুটি বাড়ীয়ে দিলো..কারন সে সব জানে তার মা তাকে সব বলেছে..
.☺☺
.
নিলয় হাত বাড়ানো দেখে অধরা দৌড়ে এসে ঝাপটে ধরলো নিলয়কে..অধরা হয়তো ভেবেছিলো নিলয় তাকে ঘৃনা করবে..কিন্তু সত্য তো এটাই সত্যিকার ভালোবাসাতে ঘৃনা বলতে কিছু নেই..
.
ভালো থাকুক ভালোবাসা😘😘
.
.
সমাপ্ত😘😘






No comments:
Post a Comment