Joy Bhaiya Youtube Channel

প্রেমের কবিতা

বাংলা কবিতা, প্রেমের কবিতা, দেশের কবিতা, বাংলা গল্প । Bd Golpo


প্রেমের কবিতা নংঃ ১

কবিতার নামঃ আজকাল আমি কিছুই বলি না!

আমি আজকাল কেবল কিছুই বলি না,

কিন্তু আমি শুনি—

দু’কান পেতে হাহাকার শুনি,

অভিযোগ শুনি, অনুনয় শুনি,

ফুটপাথে ভাসা কান্না শুনি,

মশারি জয় করা মশার গানও শুনি;

কেবল— মুখে বলি না কিছুই।

আমি আজকাল কেবল কিছুই বলি না,

কিন্তু আমি দেখি—

সড়কে লাল-খয়েরি খুন দেখি,

নেতা দেখি, সহমত ভাই দেখি,

পথগোলাপের হাতে থালা দেখি,

নেটফ্লিক্সে হরর-থ্রিলার জনরাও দেখি;

কেবল— মুখে বলি না কিছুই।


আমার ওষ্ঠ-অধর রাত-দুপুরে প্রেমিকার উষ্ণতা নেয়,

আমার কণ্ঠতন্ত্রী ভিখারির সাথে সারমেয়-কর্কশ বাজে,

আমার উদ্ধত গলা এলান করে প্রেমসর্বস্ব সুখের ইশতেহার,

আমার জিহ্বা তিনবেলা লেহন করে হাজারে হরেক হারাম!


কেবল আমি আজকাল মুখে বলি না কিছুই;

আমি সুনাগরিক সংবিধানপ্রেমী,

ধারা ঊনচল্লিশ উপধারা এক মানি,

বিবেক ধরি, চিন্তা করি শর্তহীন;

তবে—

কেবল এবং কেবলমাত্র—

আজকাল আমি কিছুই বলি না!


প্রেমের কবিতা নাম্বার ২

প্রেমিকা ও নেইলকাটার

মৌমিতা তাসরিন প্রত্যয়

গেলবার আমার মৃত্যুর ক'দিন আগে সুকণ্যা ফোন করে বলল,

ওর একটা নেইলকাটার চাই।

নিউ মার্কেটের সবচেয়ে ভালো দোকান থেকে একটা নেইলকাটার কিনে ওকে দিতেই

রিটার্ন গিফট হিসেবে আমার হাতে একটা ইরেজার ধরিয়ে দিয়ে বলেছিল,

এবারে যাই; এজন্মের প্রেম মুছে দিও- পরের জন্মে তোমার প্রেমিকা নয় বৌ হবো।


আমি বুঝে গিয়েছিলাম, ওর নখের ডগায় 

যতটা প্রেম জমিয়েছি ততটা প্রেমের ভার বইতে ওর কষ্ট হচ্ছে।


এরপর তিন তিনটে শুক্রবার কেটে গেছে।

ল্যাবরেটরিতে সায়ানাইড এর সংকট ছিল।

উপায়ন্তর না পেয়ে চলে গেলাম শান্তিপুর স্টেশনে।

ট্রেনটা আমার বুকের ওপর দিয়ে যাওয়ার আগে আবছা আলোয় দেখেছিলাম,

ভিআইপি কামরায় স্বামীর বুকে মাথা রেখে ও হানিমুনে যাচ্ছে।


পুরুষের কবিতা ৩

পুরুষ মানুষ

-রুমিজ উদ্দীন খাঁন

নারী জন্মালে রহমত আসে

বরকত হয় পরিবারের ।

অনেক প্রার্থনার জন্ম হয় পুরুষের 

দায়িত্ব থাকে সংসারের।


ছোট থেকেই বোঝানো হয়

দায়িত্ব কর্তব্য পালনে।

অর্ধেক বয়স কেটেই যাই

দায়িত্ব গুলো নেভাতে।


মা বলে ডাকার সাথেই

চাপলো পিঠে বইয়ের বোঝা?

লেখা পড়া শেষ হতে না হতে

চাকরি পিছনে ছোটা!


এসবের মধ্যে একটা দুটো

প্রেমের গল্প আঁকি!

গাড়ি বাড়ি টাকার লোভে

তারাও দেয় ফাঁকি।


তবুও আমারা পুরুষ মানুষ

বলে কষ্ট নাকি পায় না?

মা বাদে সকলই হাসে

কেউই বুঝতে চায় না!


বয়স বাড়ার সাথে সাথে

দায়িত্ব চাপে বুকে!

বৃদ্ধ বয়সেও ছুটি পায় না

কেউ থাকে না সাথে।


ছেলে হয়েও নেভাতে হয়

বাবার দায়িত্ব কখনো?

নিজের স্বপ্ন কেউ শোনে না

হাত রাখে মাথায় কখনো।


বাবার দোষ নেই এখানে

সেও একজন পুরুষ।

সমাজের বুকে লড়তে না পারলে

তুমি একটা কাপুরুষ।


না খাবার বায়না করতাম

ছোটবেলায় মায়ের কাছে!

খেতে চাইলে এখন খেতে পাই না

মা যে নেই আর কাছে।


মায়ের কোলে ঘুমের অভ্যাস

বড়ো আদরের যে ছিলাম!

দায়িত্বর বিছানায় ঘুম আসে না

নিজের কাছেই  নিলাম।


এতো কষ্ট হবার পরে

শুনতে হয় নানান কথা?

কেউ আপন হবে না কখনো

বুঝবে নাকি ব্যথা?


কবিতা ৪

"মধুমেহ..."

✍🏻 শুভজিৎ (ছদ্মবেশী)

সেদিন আমাদের যখন বাড়ি ফেরার পালা, আমি তোমার গলা জড়িয়ে বলেছিলাম, 

"আবার কবে আসবে আমার কাছে?"

তুমি বলেছিলে "আসবো ঠিক, একদিন হঠাৎ করেই!"

আমি বলেছিলাম "যদি কখনো আমায় একটিবার দেখার জন্য মন কেঁদে ওঠে, যদি ইচ্ছে হয় আমার সাথে বিরহ সুরে ভাসতে, চলে এসো সেদিনই!"

তুমি মুচকি হেসে বলেছিলে "কথা দিলাম।"


আজ বিকালে হঠাৎ দরজায় টোকা দেওয়ার শব্দে তোমায় দেখতে পেলাম।

জানতে চাইলাম, দীর্ঘ পাঁচটা বছরে যখন মনে পড়েনি, আজ কেনো হঠাৎ মনে পড়লো!

তুমি সেই একই হাসি হেসে বললে, "তোমায় দেখার জন্য মন কেঁদে উঠেছিলো আজ হঠাতই!"

তুমি যে বড্ড দেরি করে ফেলেছো, আর যে হাতে সময় নেই, অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো আমার বিয়ে ঠিক হওয়া দিয়ে। 

কাল যে আমার বাড়ি সেজে উঠবে সানাইয়ের সুরে, আলোর বাহারে।

ফিরে যাও তুমি, আর এসো না ফিরে,

আমার যে আর সহ্য হবে না তোমার এই চাহনি, তোমার কণ্ঠস্বর!

চলে গেলে তুমি, আমি আজ তাকিয়ে দেখলাম শেষটা।


আজ বিয়ে আমার, বর সেজে যেইনা বেরোতে যাবো, তুমি এলে আবার।

হাতে দুটি গোলাপের মালা।

আমার গলার রজনীগন্ধার মালা খুলে নিজের হাতে গোলাপের মালা পড়িয়ে দিয়ে বললে "গোলাপ পছন্দ না বুঝি তোমার!"

উত্তর দিই নি, বুঝেছিলাম আমার বিদায় প্রহরে শেষ ছোঁয়া টুকু দিতে এসেছিলে তুমি।

কিন্তু থেমে গেলে, ছুঁলে না, বুঝলাম, আজ ছুঁতে চেয়েও ছোঁয়া বারণ। 

অবশেষে খানিক দুর থেকে চোখাচুখি হলো, ঈশারায় বললে, "ভালো থেকো!"

আমিও সম্মতিতে বলেছিলাম তুমিও ভালো থেকো।

আর কিছু বলনি তুমি, শুধু সেই পুরোনো হাসি ছিল তোমার মুখে।

বুঝেছিলাম, এই শহরে চলার পথে হয়তো আর কখনো দেখা হবে না, তবু তুমি আর তোমার মুখের শেষ দেখা হাসিটা থেকে যাবে আমার মনে।


ভালোবাসার কবিতা ৫

একলা পাগল মন

বর্ণালী চক্রবর্তী

আমার একলা পাগল মন 

আমার একান্ত আপন,

    আমায় ছুটিয়ে বেড়ায় বুঝি।

আমার হারিয়ে যাওয়া প্রাণ 

যেন শব্দহীন এক গান,

 আমি হারিয়ে ফেলে তাকেই আবার খুঁজি।


গভীর শাল পিয়ালের বন 

নিবিড় পাতার আলাপন

        আমায় ডাক দিয়ে যায় ফিরে।

আমি নিশ্চুপে যাই মিশে 

আমার ভাবনা হারায় দিশে

ফিসফিসিয়ে বলি আমার বন্ধু হবি কিরে?


ওরে পাহাড়ি এক নদী 

আমায় ভাসিয়ে নিলি যদি

                 তবে বৃথাই বৈঠা বাওয়া।

ঝিরঝির ঝির ঝর্ণা তালে 

জল থৈথৈ মাদল ব'লে

মিঠে হাওয়ার একতারাতে ভাটিয়ালি গাওয়া।


আমার 'তুই' পাগলা মন 

আমার একার আপনজন,

         কেন নীল নীলিমায় ভাসিস!

আমি তোকেই পেতে চাই

 তাই পথেই ছুটে  যাই

অনেক ভালোবাসবো যদি একটু কাছে আসিস।


আমায় কাঁদাস নারে আর

আমি প্রেমের ছন্দ কবিতার

       বাউল মন বাঁধবে নারে ঘর।

আমায় কেন রাখিস দূরে

আমি যে উদাস ভবঘুরে,

তোর জোছনার আদর মেখে হব নদীর চর।


সেই চরে তুই বাঁধবি বাসা

 আমার প্রাণে গোপন আশা,

         অপেক্ষাতে আকাশ তলে বসি।

তুই আয়না অসীম নীল

জানি তোর হৃদয় পদ্ম বিল।

পদ্মপাতার শিশির হয়ে বলবো ভালোবাসি।


কবিতা ৬

সায়মা টুনি 

অধিকার নেই কী আমার

নতুন করে বাঁচবার,

স্বপ্ন দেখবার অধিকার,

কী নেই আমার!


রঙ তুলি দিয়ে 

জীবনকে রঙিন 

করে তোলার সেই

সুযোগ কী নেই আমার!


সুরের মাধুর্য নিয়ে,

গুণ গুণ করবার মতন।

কলতান শোনার সেই,

অধিকার কী নেই আমার!


ভোরের শুভ্র বেলী ফুলের

মালা গাঁথার সেই লগ্ন কী!

হবে না ভাগ্যে দেখবার।

অধিকার কী নেই আমার!


মিষ্টি পরশে হাত দুটো 

ধরে কাছে আসবার ...

মানুষটির মুখে প্রিয়তমা 

ডাকটি শোনবার সেই 

অধিকার কী নেই আমার!


সংসার নামের সেই ঘরটি,

যেন ছিল পুতুল খেলার মতন।

সব কিছু বুঝে ওঠার আগেই ... 

ভেঁঙে গেছে অভিনব কায়দায়।


দোষ কী হবে আমার,

যদি নতুন করে বাঁচার

স্বপ্ন দেখি, নতুন করে 

বাঁচবার আশা বুনি!


এবার না হয় একটুখানি 

নিজের জন্য ভাবি, নিজেকে 

নিয়েই ভাবি। তবে, দোষ কী 

হবে বেশী! অধিকার নেই কী আমারও ...

Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Recent Posts

Label