ইসলামের দৃষ্টিতে যে কোন ধরনের দিবস পালন করা কী জায়েজ কি জেনে নিন?
ইসলামী শরীয়ত যদি দিবস পালন করা সমর্থন করতো তাহলে ৩৬৫ দিনের কোন না কোন একটা দিন দিবস হিসেবে পালন করা হতো, কারন ইসলামী ইতিহাস তালাশ করলে দেখতে পাবেন কত শত স্বরণীয় দিন আছে যেগুলো বর্তমান দিবসের তুলনায় শত শত গুন বেশী মর্যদাসম্পূন্ন।
অথচ, নবীযুগ থেকে সাহাবাদের যুগ অর্থাত যে যুগকে সর্বশ্রেষ্টযুগ বলা হয় তাদের কোন যুগে এমন ইতিহাস নাই যে তারা দিবস পালন করেছেন।
আজ কত ধরনের দিবস পালন করত ইসলাম বিরুধী কাজ তথা হারাম কাজে লিপ্ত হচ্ছি সে খবর কি আমাদের আছে?
আসুন জেনে নেই দিবস পালন করা কেন হারাম।
দিবস পালন করা হারাম হওয়ার অনেকগুলো কারন আছে।
প্রথম কারনঃ
ইসলামে দুটি দিবস ব্যতীত অন্য তৃতীয় কোন দিবস
অর্থ, আনাস (রা) বলেন, “রাসুল (সা) মদীনায় আগমন করে দেখলেন যে, মদীনাবাসীরা দুটি ঈদ (আনন্দের দিন) পালন করছে ৷ তা দেখে রাসূল (সা)বললেন, জাহীলিয়াতের যুগে তোমাদের দুটি দিন ছিল যাতে তোমরা খেলাধূলা, আনন্দ-ফুর্তি করতে এখন ঐ দিনগুলির পরিবর্তে আল্লাহ্তো মাদেরকে দুটি উত্তম দিন প্রদান করেছেন, ঈদুল ফিৎর ও ঈদুল আযহার দিন। ( নাসাই: ৩/১৯৯ হাদীস নং ১৫৫৫ হাদীস সহীহ আবূ দাউদ: ১০০৪,)
এই হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেছেন ঐ দুটি দিনের পরিবর্তে আল্লাহ্ তোমাদেরকে দুটি উত্তম দিন প্রদান করেছেন। এখানে যদি আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলতেন তোমাদের ছিল দুটি দিন, আর আল্লাহ্ তোমাদেরকে দিয়েছেন আরো দুটি দিন। তাহলে মুসলিমরা ১৪০০ বছর যাবৎ ৪টি উৎসবের দিন পালন করে আসতো।
যেহেতু আল্লাহর রাসুল (সাঃ) অন্য মানব রচিত গুলো পরিবর্তন করে আল্লাহর পক্ষ থেকে দুটি উত্তম দিন প্রদান করেছেন তাই অন্য যে কোন দিবস পালন করা এমনেতেই বাতিল হয়ে যায়।
তাই কোন মুসলিমদের জন্য অন্য কোন প্রকার দিবস পালন করা বৈধ নয়, হোক সেটা জন্মদিন, শোক দিবস, মাতৃভাষা দিবস, বিজয় দিবস, নববর্ষ ইত্যাদি যা-ই হোক না কেন, তা পালন করা যাবে না।
দ্বিতীয় কারনঃ
এই ধরণের যত প্রকার দিবস রয়েছে সেগুলোর কোনটাই মুসলিমদের সংস্কৃতি নয়। যদি এগুলো মুসলিমদের সংস্কৃতি হত তবে এগুলো সাহাবাদের যুগ থেকেই পালিত হয়ে আসতো।
তাই যেহেতু এগুলো মুসলিমদের সংস্কৃতি নয় তাহলে বুঝাই যাচ্ছে যে এগুলো কাফের-মুশরিক বিজাতীয়দের সংস্কৃতি থেকে এসেছে।
আর এ প্রসঙ্গে রাসূল ﷺ বলেছেন,
অর্থ, যে ব্যক্তি যে জাতির অনুকরণ করবে, সে ব্যক্তি সেই জাতিরই একজন বলে গণ্য হবে’ ( আবূ দাঊদ হা/৪০৩১) ।
অন্য হাদীসে নবী মুহাম্মাদ (ﷺ ) বলেন, “যে ব্যক্তি বিজাতির তরীকা অনুযায়ী আমল করে, সে আমাদের কেউ নয়।”(ত্বাবারানী, সিলসিলাহ সহীহাহ ২১৯৪নং)
আর সব চেয়ে বড় কারন যেটা সেটা হলো, এই দিন সমূহকে কেন্দ্র করে অনেক ধরনের শিরিকী কাজ করে থাকে।
যেমন, শহীদ মিনারে ফুল দেয়া ইত্যাদি।
তাই অনেক উলামায়ে কিরাম কিছু কিছু দিবস পালন করাকে শিরিকও বলেছে।
এরপরেও কি আমরা সতর্ক হবো না?
তাই আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বিজাতীয়দের সংস্কৃতি বর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ওয়াজিব।
অতএব মুসলিমরা যদি জান্নাতের আশা করে এবং জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে চায় তবে তারা আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসুলের দিকে ফিরে আসুক।
আল্লাহ পাক আমাদের বুঝার তাওফীক দান করুক।
আমীন।
শায়েখ মাওলানা মুহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম (মিরসরাই)






No comments:
Post a Comment