Joy Bhaiya Youtube Channel

বিয়ে ছাড়া বউ

 বিয়ে ছাড়া বউ

# _পর্ব ..6



.

আপনারা যা ভাবছেন তার কিছুই হয়নি।

দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। বিরক্ত নিয়ে

চোখ

খুললাম। ইরা হাসছে। কুনই দিয়ে গুতো

মেরে দরজা খুলতে চলে গেলো। দরজা খুলল।

বাড়িওয়ালী পেত্নি এসেছেন।

ইরাঃ - আরে আন্টি। এতো সকালে কোনো

সমস্যা?

আন্টিঃ - আরে ইরা মা সমস্যা কেনো হবে?

তোদের জন্য সকালের নাস্তা নিয়ে এলাম।

ইরাঃ - না, আন্টি আমরা খেয়ে নিয়েছি।

আন্টিঃ - এমা,কখন?

ইরাঃ - এইতো একটু আগে।

আন্টিঃ -তোমরা খাবার কোথায় পেলে?

বাইরে থেকে আনিয়েছো তাই না। আমরা

থাকতে বাইরে থেকে এনে খেতে হবে

কেনো?

ইরাঃ - আরে না আন্টি। আমি আর জয় দুজন

মিলে নাস্তা তৈরি করে খেয়ে নিয়েছি।

আন্টিঃ - কি ভালো একটা ছেলে তোমাকে

ও কাজে সাহায্য করে। আর আমার স্বামি

টাকলু আমার কাজে সাহায্য করাতো দূরের

কথা ও তো আমি কাজ করে ক্লান্ত হয়েছি

কিনা সেটাও জিজ্ঞেস করে না। সাথে

সাথেই আংকেলের আগমন।

আংকেলঃ - কি আমি টাকলু তোমার কাজে

সাহায্য করি না।

আন্টিঃ - না করো নাতো।

আংকেলঃ - করি না। করবোও না। আমি যে

বাজার করে আনি তুমি কি আমাকে বাজার

করতে সাহায্য করো।

আন্টিঃ - আমি কেনো তোমার বাজার

করায় সাহায্য করবো।

আংকেলঃ - তাহলে আমিও করবো না।

আন্টি - আংকেল

ঝগড়া করতে করতে চলে গেলেন। ইরা আন্টি

আংকেলের ঝগড়া দেখে হাসতে হাসতে

শেষ। আমিও

হাসছি।

আমিঃ - দেখলে আন্টি আমার কেমন

প্রশংসা করলেন।

ইরাঃ - এহ!! ওটাতো তোমাকে পাম

দিয়েছেন।

আমিঃ - আমি টায়ার নাকি যে, আমাকে

পাম দিতে হবে।

ইরাঃ - তাইতো মনে হয়।

আমিঃ - তোমাকে আমি!!!

ইরাঃ,-কি করবে কিছুই করতে পারবে না।

আমিঃ - পারবো না তাই না। বলে ইরার

দিকে এগিয়ে যেতেই। ইরা তার ব্যাগ

থেকে একটা পিন বের করে বলল,

ইরাঃ - কাছে আসার চেষ্টা করবে না। পিন

দিয়ে ফুটো করে ফেলবো বললাম।আমি আর

ইরার দিকে পা বাড়ালাম না।

ইরাঃ - চলো এখন।

আমিঃ - হুম চলো। তবে তুমি কিন্তু কথা

দিয়ে কথা রাখনি।

ইরাঃ - আচ্ছা,তাহলে এদিকে আসো। ইরা

পিন ব্যাগে ডুকিয়ে দিয়েছে। তাই খুব খুশি

হয়ে সামনে যেতেই।

ইরাঃ - এখন চোখ বন্ধ করো। আমি চোখ বন্ধ

করলাম। সাথে সাথে আমি............

আয়ায়ায়াহ

ও মাগো এটা মাইয়া নাকি ডাকাত। না না

তুক্কু ডাকাতনি।

ইরাঃ - কি বাবু কেমন লেগেছে?

আমিঃ - কাঁদো কাঁদো হয়ে বললাম আবার।

এমন ডাকাত তুক্কু ডাকাতনি মেয়ে আমি

জীবনেই দেখিনি।

ইরাঃ - উহু, খুব ব্যাথা পেয়েছো। সরি

আসলে বুঝতে পারি নি। কাদে না সোনা

আমার।

আমিঃ -সরো বলে ধাক্কা দিলাম।

ইরাঃ - প্লিজ রাগ করো না। আসলে বিয়ের

আগে ওসব করা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম।

আমিঃ - তার মানে আমরা বিয়ের পর ওসব

করবো।

ইরাঃ - এহ!! আমরা মানে।তোমাকে কে

বিয়ে করছে?

আমিঃ - কেনো এইতো বললে।

ইরাঃ - আরে গাধারাম ওটাতো উদাহরণ

দিলাম।

আমিঃ - ওও,

ইরাঃ - হুম, এখনতো চলো।

আমিঃ - হিম, চলো। আমি আর ইরা রাস্তায়

বের হলাম।

আমিঃ - রিক্সা ডাকি।ইরা চোখ বড়ো

বড়ো করে বলল,

ইরাঃ - রিক্সা মানে। রিক্সায় যাবো

কেনো?

আমিঃ - তাহলে কি দিয়ে যাবো?

ইরাঃ - কেনো অটোতে?

আমিঃ - মন খারাপ করে বললাম, ওও

অটোতে যাবে।

ইরাঃ - হুম, কোনো সমস্যা?

আমিঃ - নাহ। দাঁড়িয়ে আছি অটো ডাকতে

গেলাম।

ইরাঃ - এই শুনো। আমি পিছনে তাকিয়ে

বললাম,

আমিঃ - কি?

ইরাঃ - রিক্সাই ডাকো। আমি খুশি হয়ে

বললাম,

আমিঃ - আচ্ছা।

ইরাঃ - এতো খুশি হওয়ার প্রয়োজন নেই।

রিক্সায় গেলে গায়ে বাতাস লাগিয়ে

যেতে পারবো।

আমিঃ - ওওও। রিক্সা ডেকে আনলাম। খুব

খুশি হলাম ইরার পাশে বসে রিক্সায় চড়বো

কিন্তু সেটা আর বেশিক্ষণ সইলো না।

আমাদের

মাঝে ইরার ব্যাগ দিয়ে বর্ডার

দেয়া। আমার নিমিষেই মন খারাপ হয়ে

গেলো।

দূর

ব্যাগটা সরিয়ে দিলেই কি? আমিঃ - ইরা!!

ইরা আমার দিকে এক চোখে তাকিয়ে,

ইরাঃ - কি?

আমিঃ - ব্যাগটা সরিয়ে দিই।

ইরা চোখ বড়ো বড়ো করে বলল,

ইরাঃ - কেনো?

আমিঃ - না মানে। কেমন যেনো পর পর

লাগে। আমাদের স্বামি স্ত্রী লাগেনা।

ইরাঃ - আমরাতো স্বামী স্ত্রী না।

আমিঃ - কে বলল?

ইরাঃ - কে বলবে আবার? এটা তো তোমার

আমার জানা ই যে আমরা স্বামী - স্ত্রী

না।

আমিঃ - তবুও। সরিয়ে দিলেই বা কি।

ইরাঃ - থাকলেই বা কি? আমি আর কিছুই

বললাম না। কিছুক্ষণ পর,

ইরাঃ - এই যে রিক্সা থামান।

আমিঃ - কেনো? কেনো?

ইরাঃ - কেনো আবার আমার অফিসে চলে

এসেছি।

আমিঃ - ওও। আচ্ছা, টাটা।

ইরাঃ - হাত নাড়িয়ে বলল,টাটা। আমি মন

খারাপ করে রিক্সাওয়ালা মামাকে

বললাম,

আমিঃ - মামা, চলুন। রিক্সা ওয়ালা মামা

চলতে শুরু করলেন। ইরা অফিসে ডুকলো। ওর

বান্ধবি ইপ্সিতা।

ইপ্সিতাঃ - কিরে ছেলেটা কেরে? তকে বউ

বলল। ইরা চোখ বড়ো বড়ো করে বলল,

ইরাঃ - না,না। বউ বলবে কেনো?তুই ভুল

শুনেছিস।

ইপ্সিতাঃ - ভুল শুনেছি মানে। আর যাই

হোক ছেলেটা আমার সেই লেগেছে।

আমাকে কি প্রেম করিয়ে দিবি। ইরা

আবার চোখ বড়ো বড়ো করে থাকালো।

ইপ্সিতাঃ - আরে বাবা, এভাবে

থাকাচ্ছিস কেনো?

ইরাঃ - তুই কি এখানে অফিসে এসেছিস

নাকি প্রেম করতে।

ইপ্সিতাঃ - আরে তুই এতো রেগে যাচ্ছিস

কেনো?

ইরাঃ - রাগবো কেনো? তকে কোলে তুলে

নাচবো। ইপ্সিতা আর কোনো কথা

বাড়ালো না।

রিক্সাওয়ালা মামা আমাকে নিয়ে

অফিসে চলে এলেন। আমি নেমে অফিসে

গেলাম। অফিসের কাজে মন বসাতে পারছি

না। আমি ইরাকে এক রাতের মধ্যেই

ভালোবেসে ফেলেছি। মেয়েটা কি সুন্দর।

মায়াবী। ইশ!! ওও সত্যিই যদি আমার বউ

হতো। কলিগের ডাকে ধ্যান ভাঙলো,

রহমানঃ - কি ব্যাপার জয় সাহেব? কার

কথা ভাবছে। আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে

বললাম,

আমিঃ - কার কথা মানে?

রহমানঃ - তাহলে মিঠ মিঠ করে

হাসছিলেন যে।।

আমিঃ - না না, কই।

রহমানঃ - সব বুঝি জয় সাহেব। আমি কিছুই

বললাম না। দুপুরে ইরার সাথে কথা বললাম।

লাঞ্চ করেছে কিনা জিজ্ঞেস করলাম।

অফিস শেষে বিকেলে রিক্সা নিয়ে ইরার

অফিসের সামনে এসে দেখলাম ইরা

দাঁড়িয়ে আছে।

আমিঃ - কি ব্যাপার তুমি এখনো এখানে

দাঁড়িয়ে? অফিস ছুটি হয়েছে কটায়।

ইরাঃ - তোমাকে সব কিছুর কৈয়ফত দিতে

হবে নাকি? দেখি সরে বসো। বসে ধুম করে

রিক্সায় উঠলো। কি ব্যাপার ইরা রেগে

আছে মনে হয়। এবারও ইরা ব্যাগটা দিয়ে

বর্ডার করে দিলো। আমি ভয়ে ভয়ে বললাম,

আমিঃ - ইরা ব্যাগটা।ইরা আমার দিকে

চোখ লাল করে থাকিয়ে বলল,

ইরাঃ - কি?

আমিঃ - সরানো যায়না।

ইরাঃ -চুপ!! ব্যাগে হাত দিবে না। আমি

ধমক খেয়ে আর কিছু বললাম না।

রিক্সাওয়ালা মামা হাসছেন। 

আমিঃ - কি হলো মামা হাসছেন কেনো?

রিক্সাওয়ালাঃ - তোমরা দুজন স্বামী-

স্ত্রী তাই না। আমি আর ইরা একসাথে বলে

উঠলাম,

আমিঃ - হ্যা। আর

ইরাঃ - না। রিক্সাওয়ালা মামা হা হা

করে হেসে উঠলেন।

ইরাঃ - ঐ আমি তোমার কোন জন্মের বউ

হ্যা। বল ( চিৎকার

দিয়ে উঠলো)

আমিঃ - আরে চিৎকার করছো কেনো?

ইরাঃ - চিৎকার করবো নাতো কি করবো।

হ্যা।আমি ইরাকে আরোও রাগিয়ে তোলার

জন্য বললাম,

আমিঃ - হ্যা, মামা আমরা স্বামী- স্ত্রী।

ইরাঃ - না, আঙ্কেল আমরা স্বামী স্ত্রী

না।

আমিঃ - হ্যা মামা আমি ওর স্বামী।

ইরাঃ - না আঙ্কেল।

রিক্সাওয়ালা মামাঃ - বুঝেছি তোমরা

বাড়িতে ঝগড়া করেছো তাই না।

আমিঃ - এইতো এটাই। সকালে ঝগড়া

করেছি বলে আমার বউটা এখনো রেগে

আছে।

ইরাঃ - কক্ষনো না।

রিক্সাওয়ালা মামাঃ - বুঝেছি বুঝেছি

মা। আসলে তোমরাতো এখনো ছোট নতুন

বিবাহিতা এগুলো মাঝে মাঝে হবেই। আর

আমিইতো আমার বউয়ের সাথে ঝগড়া করি।

তবে সেটা আনন্দ ঝগড়া। বউকে রাগীয়ে

মজা পাওয়া যায়। তবে এসব ছোট ছোট

ঝগড়া নিয়ে তোমরা খুব বেশী অভিমান

আবার যেনোকরে না

না ফেলো সেদিকে খেয়াল রেখো। ইরা

অন্যদিকে মুখ করে আছে। আমি মুখ চেপে

ধরেছি হাসি আঠকাতে পারছি না।

আমিঃ - হ্যা, মামা আমার বউটা বড্ড

অভিমানী। সাথে সাথে ইরা অগ্নিমুখ

দর্শন করলাম। আমি ভয় পেয়ে গেলাম।

ইরার মুখ লাল হয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পর মনে

হয় সবুজ হয়ে যাবে। এখন আর বেশী রাগানো

যাবে না। না হয় মুখটা ফেটে যাবে।

আমিঃ - আরে এমন ভাবে থাকিয়ে আছো

কেনো? আমি আবার কি করলাম। ইরা কিছু

না বলে ফুসছে। এটাতো সাপের মতো ফনা

তুলছেরে বাবা। কেউ আমাকে বাচান। এই

মাইয়াকে আর রাগানো যাবে না। না হয়

কোন সময় ছোবল মারবে কে জানে?

আমিঃ - ইরা জানু, বাবু, সোনা। ইরা আমার

দিকে থাকাতেই ভয়ে বললাম,

আমিঃ - আরে বলতে তো দিবে নাকি।

পুরোটা বলে ফেলি তারপর থাকাবে।

বুঝলে। না হয়তো ভয়ে বলতে পারবো না।

আমি আবার বলা শুরু করলাম,

আমিঃ - ইরা বাবু, সোনা,লক্ষি বউ আমার

রাগ করে না প্লিজ।

পরবর্তী পর্ব খুব শীঘ্রই দিবো অপেক্ষা

করুন।

(চলবে.............)

Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Recent Posts

Label